
দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে লিভারপুল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েই দিলেন ক্লাবের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় ৩৩ বছর বয়সী এই মিশরীয় তারকা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৭ সালের জুনে ইতালিয়ান ক্লাব রোমা থেকে লিভারপুলে যোগ দেওয়া সালাহ বলেন,
‘দুর্ভাগ্যবশত সেই দিনটি চলে এসেছে। এটি আমার বিদায় বার্তার প্রথম অংশ। আমি এই মৌসুম শেষে লিভারপুল ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’
গত ডিসেম্বরে সালাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। টানা তিন ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকায় কোচ আর্নে স্লট ও ক্লাবের সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সে সময় দলের খারাপ পারফরম্যান্সের মাঝে তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন সালাহ।
কোচের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকার আভাসে জানুয়ারির দলবদলে ক্লাব ছাড়ার প্রেক্ষাপটও তৈরি হয়েছিল। তবে শীতকালীন বিরতিতে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (আফকন) থেকে ফেরার পর আবারও নিয়মিত একাদশে সুযোগ পান তিনি।
লিভারপুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আগাম ঘোষণা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সালাহ। যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।
গত এপ্রিলে ২০২৬-২৭ মৌসুম পর্যন্ত দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছিলেন সালাহ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এক বছর আগেই ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় সালাহ বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি এই ক্লাব, এই শহর, এখানকার মানুষগুলো আমার জীবনের কতটা গভীরে মিশে যাবে। লিভারপুল শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি একটি আবেগ, একটি ইতিহাস। আমরা একসঙ্গে জয় উদযাপন করেছি, আবার জীবনের কঠিনতম সময়েও একে অপরের পাশে থেকে লড়াই করেছি।’
ভক্তদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আমাকে আমার জীবনের সেরা সময় উপহার দিয়েছেন। আমি সবসময় আপনাদেরই একজন হয়ে থাকব। লিভারপুল সবসময় আমার ও আমার পরিবারের ঘর হয়ে থাকবে। আপনাদের সবার জন্যই, আমি কখনও একা চলব না।’
লিভারপুলের হয়ে ৪৩৫ ম্যাচে ২৫৫ গোল করেছেন সালাহ। ক্লাবের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন এই মিশরীয় তারকা।
সালাহর হাত ধরে লিভারপুল জিতেছে দুটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, ইউয়েফা সুপার কাপ, এফএ কাপ, দুটি ইএফএল কাপ এবং কমিউনিটি শিল্ড শিরোপা। ব্যক্তিগত অর্জনে চারবার জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট এবং তিনবার (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৫) হয়েছেন পিএফএ প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার।
No posts available.

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেইমার জুনিয়রকে ছাড়াই দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেলেসাওদের সর্বোচ্চ স্কোরারের উপেক্ষিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
বস্টনে ফ্রান্স ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নেইমারকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন আনচেলত্তি। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও সান্তোস ফরোয়ার্ডকে দলে ডাকেননি এই ইতালিয়ান কোচ। তবে আনচেলত্তি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য দলগত পারফরম্যান্স।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটার হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে আনচেলত্তি বলেন,
“আমি সব দেখি, সবকিছু শুনি। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়াই আমার কাজ। সবাই মতামত দিতে পারে—এটাই স্বাভাবিক। ফুটবল কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ফুটবল কোনো নির্ভুল বিজ্ঞানও নয়। সবার মতামতকে সম্মান করতে হবে।”
নেইমারকে দলে না নেওয়ার বিষয়ে চাপ আরও বেড়েছে ব্রাজিলের কোচের মন্তব্যে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“তারকা খেলোয়াড়দের খেলতেই হবে। জাতীয় দলে সেরা ও সবচেয়ে প্রতিভাবানদের জায়গা হওয়া উচিত। বিশ্বকাপের আগে এক মাস প্রস্তুতির সময়ই যথেষ্ট—এই সময়ে একজন খেলোয়াড় ফিটনেস ও ছন্দ ফিরে পেতে পারে। ১০০ শতাংশ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো তারকা থাকা অন্য কারও চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
আরেক ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও বলেন,
“নেইমার যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, আমি অবশ্যই তাকে বিশ্বকাপে নিতাম। আশা করি সে ফিট থাকবে। যদি থাকে, আমি নিশ্চিত আনচেলত্তিও তাকে নেবেন। সে দলের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে।”
ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচগু দিয়েই বিশ্বকাপের দল গঠনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন আনচেলত্তি। নেইমার যেহেতু এই দুই ম্যাচে নেই, সেহেতু বিশ্বকাপে তার সুযোগ নেই বললেই চলে। বিশ্বকাপের আগে সান্তোসের হয়ে তার হাতে আছে আর মাত্র ৮টি ম্যাচ, যার প্রথমটি ২ এপ্রিল রেমো-পিএর বিপক্ষে। এই সময়ের পারফরম্যান্সই অনেকটাই নির্ধারণ করবে তার বিশ্বকাপ ভাগ্য।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দলটি বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘ সময় নিজেদের ছায়া হয়ে আছে। প্রায় দুই যুগ অধরা ‘হেক্সার’ খোঁজে আছে ব্রাজিল। এরমধ্যে কত রথী-মহারথীরা হলদে জার্সি গায়ে চড়ালেন, তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ষষ্ঠবারের মতো সোনালী এই ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হলো না।
খরা ঘোচাতে সেলেসাওরা এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবাররের মতো ডাগ-আউটে এনেছেন বিদেশী কোচও। দলটির একঝাঁক তরুণ ফুটবলার দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিশ্বসেরা সব লিগে। এরপরও বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে ব্রাজিলকে গোনায় ধরছেন না দলটিরই অন্যতম বড় তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি নেই আর তিন মাসও। এরমধ্যে দলগুলো শেষ সময়ের প্রস্তুতি সেরে নিতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। কার্লো আনচেলোত্তির দল আগামীকাল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। সাম্বাদের পরের ম্যাচ ১ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
আরও পড়ুন
| রিয়ালের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় রোনালদো জুনিয়র |
|
গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সে বিবেচনায় ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে দেখছেন না। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার বলেন,
‘সাম্প্রতিক ফলাফলগুলো দেখলে আমি মনে করি আমরা ফেভারিট নই।’
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে যে ঐক্যবদ্ধ দলের কোনো বিকল্প নেই সেটা ভালো করেই জানা আছে ভিনির। কিংবদন্তি কোচ আনচেলোত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাজিল এখন অনেকটাই নির্ভার হয়ে খেলছে বলে মনে করেন তিনি,
‘জাতীয় দলের জার্সির ভার এবং আমাদের এখানে থাকা খেলোয়াড়রা—আমাদের শুধু একতা দরকার। আনচেলোত্তির আগমনের পর আমরা খেলার ধরন আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। এটি আমাদের উপর অনেক চাপ কমিয়েছে।’
আরও পড়ুন
| কোচিং জগতে প্রবেশের দ্বার খুলল ডি মারিয়ার |
|
ভিনিসিয়ুস আরও যোগ করেন,
‘ব্রাজিলকে শীর্ষে ফেরাতে আমরা যা কিছু পারি সব করব। ফেভারিট হওয়া নয়, বরং ব্রাজিলকে শীর্ষ অবস্থানে ফেরানোই আমাদের লক্ষ্য ‘
১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে আছে ব্রাজিল। এই গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি, মরক্কো ও স্কটল্যান্ড।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এ সময় ক্লাবটির একাডেমিতে (লা ফাব্রিকা) ছিলেন তাঁর বড় ছেলে রোনালদো জুনিয়র। রোনালদো জুনিয়রের ভবিষ্যৎ আবারও রিয়ালের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। মঙ্গলবার তিনি রিয়ালের যুব একাডেমিতে অনুশীলন করেছেন।
রোনালদো জুনিয়রের অনুশীলনের খবর প্রথমে প্রকাশ করে দ্য আথলেটিক। পরে মার্কার নিশ্চিত করা তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই রিয়ালে যোগ দিতে পারেন তিনি।
১৫ বছর বয়সী রোনালদো রিয়ালের ক্যাডেটে ‘এ’ দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। জানা গেছে, তাকে উইঙ্গার পজিশনে খেলিয়ে দেখা হয়েছে এবং আরও কয়েকদিন সেখানে তিনি অনুশীলন করবেন।
আরও পড়ুন
| কোচিং জগতে প্রবেশের দ্বার খুলল ডি মারিয়ার |
|
বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের একাডেমিতে রয়েছেন রোনালদো জুনিয়র। যেখানে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যোগ দেওয়ার পর থেকেই রয়েছেন। এই ট্রান্সফার হলে, বাবার পথই অনুসরণ করবে ছেলে। এর আগে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্টাসের যুব দলে খেলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হলেও রোনালদো জুনিয়র পর্তুগালের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বছরের মে মাসে প্রথম ডাক পান এবং অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে জাপানের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে পর্তুগালের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আগামী জুনে তার বয়স হবে ১৬, এরপর থেকে তিনি পুরোপুরি যুব পর্যায়ে খেলার যোগ্য হয়ে উঠবেন।
ছেলের সম্ভাব্য রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এনেছে বাবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও। বর্তমানে আল নাসরের সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি তার। ৪১ বছর বয়সেও তিনি এক হাজার পেশাদার গোলের লক্ষ্য নিয়ে খেলছেন (এখন পর্যন্ত তার গোল ৯৬৪টি)।

৩৮ বছর বয়সেও থামার কোনো লক্ষণ নেই অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার। মাঠে সাফল্যমন্ডিত ক্যারিয়ারের পর এবার ডাগআউটের দিকেও চোখ পড়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার। রোজারিওতে কোচিং কোর্স সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন ডি মারিয়া। ভবিষ্যতে রোজারিও সেন্ট্রালের ফুটবলারকে দেখা যেতে পারে দলের কৌশল নির্ধারণের দায়িত্বে।
রোজারিও সেন্ট্রালের ইনডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদাভিয়ার ম্যাচের আগে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের স্কুল তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে ডি মারিয়ার কোচের সার্টিফিকেট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা লিখেছে,
‘অভিনন্দন, কোচ! আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ডি মারিয়া-কে তার সার্টিফিকেশন অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং আমাদের উপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে আমাদের ছাত্র হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত।’
জবাবে ‘এল ফিদিও’ তাঁর ইনস্টাগ্রামে বলেন, ‘সবকিছুর জন্য অনেক ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন
| ইতালিয়ান লিগে সবচেয়ে দামি ফুটবলার লাউতারো |
|
ডি মারিয়া কোচের লাইসেন্স পাওয়ার আগে তাঁর সাবেক আর্জেন্টাইন সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস একসঙ্গে কোচিং স্টাফে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’কে এই মিডফিল্ডার বলেন,
‘আমি সবসময় বলেছি, অবসরের পরে আমি ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই না। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, ইচ্ছে তত বাড়ছে। আমি জানি না কোচিং করব কি না, কিন্তু অবশ্যই কোচিং স্টাফের অংশ হব। ফিদে কোচ হতে চায়, তাই হয়তো সেটা তার সঙ্গে হবে। আমরা এটা অনেক আগে প্যারিসে আলোচনা করেছিলাম; সে উৎসাহী। অবশ্যই, আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
সঙ্গী হিসেবে সতীর্থ ও প্রিয় বন্ধু পারেদেসকে পাশে রাখার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন ডি মারিয়া। ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া বলেন,
‘আমরা একসঙ্গে কোচিং করানোর চেষ্টা করব। পারেদেস আমার ছোট ভাইয়ের মতো, আমাদের পরিবারগুলোর মধ্যেও দারুণ সম্পর্ক। আমরা অনেকবার এই বিষয়ে কথা বলেছি।’
আরও পড়ুন
| রিয়ালের জার্সিতে কখনও খেলবেন না সিমেওনে |
|
২০২৪ সালে টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ের পর আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দেন ডি মারিয়া। বর্তমানে আর্জেন্টিনায় শৈশবের ক্লাব রোজারিওর হয়ে খেলছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার। ২০২৫ সালে তিনি সেই ক্লাবে ফিরে এসেছিলেন যেখানে শুরু হয়েছিল তাঁর ফুটবলের হাতেখড়ি।
বর্তমানে রোজারিও সেন্ট্রালের হয়ে ‘তর্নিও আপারতুরা’ লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডি মারিয়া। জোন বি-র শীর্ষস্থানে ওঠার লড়াইয়ে ইন্ডিপেনডিয়েন্ট রিভাদাভিয়ার মুখোমুখি হবে দি মারিয়ার দল। বর্তমানে জর্জ আলমিরোনের অধীনে থাকা রোজারিও সেন্ট্রাল ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ওপরের দিকেই আছে।
এছাড়া সামনেই ডি মারিয়াদের রয়েছে কোপা লিবার্তাদোরেসের চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ ‘এইচ’-এ ইকুয়েডরের ইন্ডিপেনডিয়েন্ট দেল ভালে, প্যারাগুয়ের লিবের্তাদ এবং ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে লড়বে রোজারিও। আগামী ৯ এপ্রিল ঘরের মাঠে ইকুয়েডরের ক্লাবের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে অভিষেক হবে ডি মারিয়াদের।

বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, আর্জেন্টাইন ফুটবলাররাও রুদ্ররূপে ফিরছেন। সব লিগেই জাতীয় দলের ফুটবলাররা সুসময় পার করছেন। হুলিয়ান আলভারেজের পাশাপাশি দারুণ ছন্দে রয়েছেন আরেক স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ।
চলতি মৌসুমে ইন্টার মিলানের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৫ ম্যাচে ১৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট লাউতারোর। সব মিলিয়ে ২২ গোলে রেখেছেন অবদান। এর মধ্যে সিরি-আয় ২৫ ম্যাচে ১৪ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। ইতালিয়ান লিগে ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর চেয়ে বেশি গোল নেই কারো।
স্পেশালাইজড ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেটের সবশেষ হিসেব অনুযায়ী, উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে লাউতারো এখন ইতালিয়ান লিগের সবচেয়ে দামি ফুটবলরও। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের বাজারমূল্য ৮৫ মিলিয়ন ইউরো।
সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের শীর্ষ ত্রিশে লাউতারের পরে রয়েছেন জুভেন্টাসের কেনান ইয়িলদিজ। এই তুর্কি উইঙ্গারের বাজারমূল্য ৭৫ মিলিয়ন ইউরো। ৭০ মিলিয়ন তিন নম্বরে থাকা লাউতারোর সতীর্থ আলেসান্দ্রো বাস্তোনি।
সিরি-আয় শীর্ষ ৩০ খেলোয়াড়ের তালিকা (২০২৫–২৬)
৩০) মাতিয়াস সোল (রোমা, ডান উইঙ্গার) – ৩৫ মিলিয়ন (ইউরো)
২৯) গ্লেইসন ব্রেমার (জুভেন্টাস, সেন্টার-ব্যাক) – ৩৫ মিলিয়ন
২৮) ইভান নডিকা (রোমা, সেন্টার-ব্যাক) – ৩৫ মিলিয়ন মিলিয়ন)
২৭) জোনাথন ডেভিড (জুভেন্টাস, সেন্ট্রাল ফরওয়ার্ড) – ৩৫ মিলিয়ন
২৬) মাইল স্ভিলার (রোমা, গোলকিপার) – ৩৫ মিলিয়ন
২৫) দনিলে মালেন (রোমা, সেন্ট্রাল ফরওয়ার্ড) – ৩৫ মিলিয়ন
২৪) দুসান ভ্লাহোভিক (জুভেন্টাস, সেন্ট্রাল ফরওয়ার্ড) – ৩৫ মিলিয়ন
২৩) আঞ্জে-ইয়ন বননি (ইন্টার, সেন্ট্রাল ফরওয়ার্ড) – ৩৫ মিলিয়ন
২২) স্ট্রাহিনজা পাভলোভিচ (মিলান, সেন্টার-ব্যাক) – ৩৫ মিলিয়ন
২১) চার্লস ডে কেটেলার (আটালান্তা, এট্যাকিং মিডফিল্ডার) – ৩৫ মিলিয়ন
২০ থেকে ১১
২০) আলেসান্দ্রো বুয়ংগিয়র্নো (নাপোলি, সেন্টার-ব্যাক) – ৩৫ মিলিয়ন (-€১০ মিলিয়ন)
১৯) স্যানটিয়াগো ক্যাস্ট্রো (বোলোনিয়া, সেন্ট্রাল ফরওয়ার্ড)– ৩৫ মিলিয়ন
১৮) ওয়েসলি (রোমা, রাইট-ব্যাক) – ৪০ মিলিয়ন
১৭) মোইসে কিয়ান (ফিওরেন্টিনা, সেন্ট্রাল ফরওয়ার্ড) – ৪০ মিলিয়ন (-€৫ মিলিয়ন)
১৬) ইয়ান বিসেক (ইন্টার, সেন্টার-ব্যাক) – ৪০ মিলিয়ন
১৫) কেফরেন থুরাম (জুভেন্টাস, মিডফিল্ডার) – ৪০ মিলিয়ন
১৪) এডারসন (আটালান্তা, মিডফিল্ডার) – ৪০ মিলিয়ন
১৩) পিও এসপোসিটো (ইন্টার, সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড) – ৪৫
১২) স্কট ম্যাকটোমিনে (নাপোলি, মিডফিল্ডার) – ৪৫ মিলিয়ন
১১) মানু কনে (রোমা, মিডফিল্ডার) – ৫০ মিলিয়ন