
জয়ের ধারায় ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। সান্ডারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে টানা আট ম্যাচে জয় ছিল সিটির। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতে ফিরে আসার আভাস দিচ্ছিল অল রেডরা। তবে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খেয়েই নতুন বছরটা শুরু হলো দুই দলের।
লিগ জয়ের দৌড়ে আর্সেনালের সঙ্গে সমানতালে লড়ছিল ম্যান সিটি। তবে সান্ডারল্যান্ডের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা গানারদের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে ব্যর্থ হয় পেপ গার্দিওলার দল। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণভাগ আর অসাধারণ গোলকিপিং হতাশ করে সিটিজেনদের।
এই ড্রয়ের পর ১৯ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। ৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে এক নম্বরে আর্সেনাল। সমান ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে সান্ডারল্যান্ড। প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার ধারা ধরে রাখল দ্বিতীয় সারির লিগ থেকে উঠে আসা ক্লাবটি।
আরও পড়ুন
| মাঝপথে মুজাফফরভকেও হারাল মোহামেডান |
|
বছরের শুরুর দিনের ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। তবে শুধু জালে বল পাঠাতেই ব্যর্থ হয় সিটি-সান্ডারল্যান্ড। অবশ্য ৬ মিনিটেই লিড নেওয়ার উদযাপনে মেতে উঠেছিল সিটি। রায়ান চেরকির কর্নার থেকে আর্লিং হলান্ডের হালকা ছোঁয়ায় বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বার্নার্দো সিলভা। তবে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারির পতাকা তুলে জানিয়ে দেয়, অফসাইড ছিলেন সিটির অধিনায়ক।
প্রতি-আক্রমণে সিটির রক্ষণে বেশ ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল সান্ডারল্যান্ড। এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগও এসেছিল স্বাগতিকদের। তবে দুর্দান্ত সেভ করে সিটিকে সে দফা বাঁচান জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।
ম্যাচে মোট ১৪টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখা ম্যান সিটির হোঁচট খাওয়ার রাতে নিষ্প্রভ ছিলেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে সান্ডারল্যান্ডই সিটির নম্বর নাইনকে গোলবিহীন রাখতে পেরেছে। প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হওয়া বাকি ২৩ দলের বিপক্ষেই জাল খুঁজে পেয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। সান্ডারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণভাগ হলান্ডকে কোনো সুযোগই দেয়নি।
সিটির বিপক্ষে মোট চারটি সেভ করেন রবিন রোয়েফস। এতে চলতি মৌসুমে লিগে তাঁর মোট সেভ দাঁড়াল ৬৭। এ মৌসুমে কেবল বার্নলির গোলকিপার মার্টিন দুব্রাভকা (৬৯) তাঁর চেয়ে বেশি সেভ করেছেন।
রাতের আরেক ম্যাচে ঘরের মাঠ এনফিল্ডে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকের দল লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে আর্নে স্লটের দলের টানা চার ম্যাচের জয়যাত্রা থেমে যায়। একই সঙ্গে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রেডসদের ২০ ম্যাচের গোল করার ধারাও শেষ হলো।
চরম হতাশাজনক মৌসুম শুরুর পর ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া লিভারপুল এই ড্রয়ের পর ১৯ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে লিডস।
গোলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টাই চালায় লিভারপুল। অল রেডরা ১৯টি শট নিয়ে চারটি গোলমুখে রাখে। যেখানে প্রতিপক্ষ লিডসের শট ছিল মাত্র চারটি।
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ প্রায় জট খুলে দিচ্ছিলেন। হুগো একিতিকের শট লিডসের গোলকিপার লুকাস পেরির হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। তবে সফরকারীদের পাঁচজনের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচজুড়েই দৃঢ়তা দেখায়।
লিডস সোনালি সুযোগ পায়, যখন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার আলিসন বেকারের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স গিয়ে পড়ে ইথান আম্পাদুর পায়ে। কিন্তু পুরো গোলপোস্ট খালি পেয়েও দুর্বল শট নেন তিনি, শেষ পর্যন্ত সহজেই ঠেকান আলিসন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ছন্দ কমে যায়। দুই দলের জন্যই স্পষ্ট সুযোগ ছিল হাতে গোনা। ভার্জিল ফন ডাইকের একটি হেডার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর শেষদিকে একিতিকে ও কোডি গাকপো চারটি সেভ করা লিডসের গোলকিপারকে তেমন কোনো সমস্যায় ফেলতে পারেননি। এক প্রান্তে জেরেমি ফ্রিমপংয়ের সঙ্গে ইলিয়া গ্রুয়েভ ও অন্য প্রান্তে অ্যান্ড্রু রবার্টসনের সঙ্গে জেমস জাস্টিনের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো।
অ্যান ফিল্ডের পুরো গ্যালারি এক মুহূর্তের জন্য হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়, যখন লিডসের বদলি নামা ক্যালভার্ট-লুইন বল জালে জড়ান। তবে অফসাইডের পতাকা লিভারপুলকে স্বস্তি দেয়। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকতের ডেরা থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিডস। বিপরীতে নতুন বছরের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক হলো না লিভারপুলের।
No posts available.
২ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৯ পিএম
২ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:১৪ পিএম
২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:০৩ পিএম

শুরু হলো নতুন বছর, তবে চিত্র বদলায়নি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। পয়েন্ট খুইয়ে বছর শুরু করেছে আলফাজ আহমেদের দল। বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) প্রথম পর্ব পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে থেকে শেষ করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচের দশম মিনিটে স্যামুয়েল বোয়াটেংয়ের পাসে হাফিজুর রহমান পা ছোঁয়ানোর আগেই ছুটে এসে বল তালুবন্দী করেন ব্রাদার্স গোলকিপার ইশাক আকন্দ।
১৫ মিনিটে অঞ্জন বিস্তার গোলে ব্রাদার্সের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ দ্রুত হাওয়ায় মিশে যায় লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুললে। ৪৩ মিনিটে মোহামেডানের হয়ে বল জালে জড়ান মোহামেডানের বোয়াটেংও। কিন্তু তার আগেই অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
৭২ মিনিটে জটলার ভেতর বোয়াটেংয়ের নিচু শট পা দিয়ে আটকান ইশাক। ৭৯ মিনিটে পোস্ট ছেড়ে অনেকটাই বেরিয়ে আসেন মোহামেডান গোলকিপার সুজন হোসেন। তাঁকে কাটিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রাদার্সের মার্কোস রুদওয়ের ও আরিক বিস্তা।
৮২ মিনিটে শফিউল হাসাইনের শট খুঁজে পায়নি লক্ষ্য। তিন মিনিট পর তাঁর কোনাকুনি পাসে বোয়াটেং ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে পারলেই এগিয়ে যেত মোহামেডান। কিন্তু শেষ সুযোগটাও হারায় মোহামেডান। তাতে গোলশূন্য ড্র মেনে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
এ নিয়ে লিগে টানা তিন ম্যাচে ড্র করল সাদা-কালোরা। ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে অবস্থান ছয়ে। এক পয়েন্ট কম নিয়ে সাতে আছে ব্রাদার্স। আর ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস। দুই ও তিনে থাকা ফর্টিস এফসি এবং রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির পয়েন্ট যথাক্রমে ১৫ ও ১৪।

গত ডিসেম্বরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডকে ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে হারায় ম্যানচেস্টার সিটি। ফিরতি লেগে অবশ্য পেপ গার্দিওলার দলকে রুখে দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার রাতে গোলশূন্য ড্র করেছে দুই দল। ১৯ রাউন্ড শেষে লিগ টপার আর্সেনালের সঙ্গে ম্যানসিটির ব্যবধান এখনও ৪ পয়েন্টের। গানারদের সংগ্রহ ৪৫ পয়েন্ট।
আগামী রোববার রাতে আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ম্যানচেস্টার সিটি। ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পাঁচে থাকা চেলসিকে মোকাবিলা করবে সিটিজেনরা। ম্যাচটি নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদে হওয়ায় কিছুটা এগিয়ে থাকবে আকাশি-নীলরা। সর্বশেষ ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ে অস্বস্তিতে আর্লিং হলান্ড, ফিল ফোডেন, বের্নার্দো সিলভারা। চেলসি ম্যাচের আগে দলটির প্রধান কোচ গার্দিওলা অবশ্য খেলোয়াড়দের মাথা উঁচু রাখতে বলেছেন।
আরও পড়ুন
| নতুন ক্লাবে এন্দ্রিককে সতর্কবার্তা, সবুজ রঙ ব্যবহারে বারণ |
|
লন্ডনের ক্লাব চেলসির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে গার্দিওলা বলেন, ‘ছেলেরা কিছুটা হতাশ। কিন্তু তিন দিনের মধ্যে যখন আমাদের চেলসির বিরুদ্ধে কঠিন খেলায় লড়তে হবে তখন আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, মাথা উঁচু রাখতে হবে।’
বৃহস্পতিবার রাতে ‘স্টেডিয়াম অব লাইট’-এ স্বাগতিক সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৮ শতাংশ বল দখলে রেখে এবং ১৪টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি ম্যানসিটি। একাধিক সুযোগ মিসের হতাশায় ডুবেছে তারা।
ম্যাচ শেষে সান্ডারল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিয়েছেন গার্দিওলা, ‘সান্ডারল্যান্ড সত্যিই ভালো দল। বিশেষ করে শারীরিকভাবে তারা অনেক শক্তিশালী। প্রথমার্ধে আমরা তাদের প্রেসিংয়ে চাপের মুখে পড়েছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধ আমাদের জন্য দুর্দান্ত ছিল। তবে বক্সে আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। ফিনিশিং টাচ মিস করেছি।’

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এন্দ্রিকের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে ইউরোপের আরেক শীর্ষ লিগে। নিয়মিত খেলার সুযোগের খোঁজে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ফরাসি ক্লাব লিওঁতে যোগ দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ফুটবলার।
শীতকালীন দলবদলের শুরুতেই এন্দ্রিককে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে লিওঁ। ক্লাবটি একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে এন্দ্রিকের মেডিকেল পরীক্ষা, ক্লাবের অনুশীলন কেন্দ্র ঘুরে দেখা এবং নতুন সতীর্থদের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে কয়েকটি ফরাসি শব্দও বলার চেষ্টা করেন তিনি।
লিওঁতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক কথোপকথনে এন্দ্রিক নিজের উচ্ছ্বাস লুকাননি। ক্লাবের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মাতিয়ু লুই-জাঁর সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াটাই তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। এন্দ্রিক বলেন, ‘আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। অনুশীলন করতে ও খেলতে মুখিয়ে আছি। সত্যি বলতে আমি খুব খুশি।’
আলাপের এক পর্যায়ে মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও কথা হয়। নতুন শহর ও বাসস্থান নিয়ে খোঁজ নেন লুই-জাঁ। এন্দ্রিক তখন জানান, তার পরিবার এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট। হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী খুশি, তাই আমিও খুশি।’
লিওঁর প্রকাশিত ভিডিওতে ছিল আরও একটি মজার মুহূর্ত। মোবাইল ফোনে একটি বার্তা দেখিয়ে এন্দ্রিক জানান, রিয়াল মাদ্রিদের সতীর্থ এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা তাকে বিশেষ একটি পরামর্শ দিয়েছেন। ফরাসি ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সতর্ক করে কামাভিঙ্গা বার্তায় লেখেন, লিওঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সাঁত-এতিয়েন, তাই কখনো সবুজ রঙের কিছু না পরার কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
আরও পড়ুন
| কাঠমিস্ত্রি থেকে বাইসাইকেল কিক 'কিং' মরক্কোর আয়ুব |
|
এটা মূলত ফরাসি ফুটবলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে এসেছে। লিওঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব হলো সাঁত-এতিয়েন। এই ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী জার্সির রং সবুজ। ফ্রান্সে এই দুই ক্লাবের দ্বন্দ্বকে বলা হয় 'লে দার্বি রোনালপাঁ', যা দেশটির সবচেয়ে তীব্র ও আবেগপূর্ণ ডার্বিগুলোর একটি।
এই কারণেই কামাভিঙ্গা মজার-ছলে সতর্ক করে এন্দ্রিককে বলেছেন—লিওঁর খেলোয়াড় হিসেবে সবুজ রঙের কোনো পোশাক বা জিনিস না পরাই ভালো। সবুজ রং দেখলেই লিওঁ সমর্থকদের মনে সাঁত-এতিয়েনের কথা আসে। নতুন খেলোয়াড় হিসেবে এমন ছোট বিষয়েও সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
রিয়াল মাদ্রিদে এন্দ্রিকের সময়টা প্রত্যাশামতো হয়নি। ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও পরে জাবি আলোনসোর অধীনে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য। ম্যাচে মিনিট পাওয়ার অভাবে হতাশ এই তরুণ ফরোয়ার্ড শেষ পর্যন্ত নতুন পথ বেছে নেন।
দীর্ঘ আলোচনা ও অনিশ্চয়তার পর জুন পর্যন্ত ধারের চুক্তিতে লিওঁতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। লিওঁ তাকে যে সুযোগ দিতে পারছে, সেটাই রিয়াল মাদ্রিদে সম্ভব হচ্ছিল না—নিয়মিত শুরুর একাদশে খেলার সুযোগ। নতুন এই অধ্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করাই এখন এন্দ্রিকের মূল লক্ষ্য।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোর প্রথম দিনেই চমকে দিয়েছে। ব্রাজিলের ক্লাব গ্রেমিও থেকে ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আলিসনের সঙ্গে চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই গ্রেমিওর সঙ্গে আলিসনকে নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল ভিলা। ডিসেম্বরেই দুই ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হলেও শীতকালীন দলবদলের প্রথম দিনেই তা ঘোষণা করা হলো। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, এই ট্রান্সফারে ভিলার খরচ হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ পাউন্ড। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৮৭ লাখ পাউন্ড এবং পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস হিসেবে আরও ১৮ লাখ পাউন্ড দেওয়ার শর্ত রয়েছে। চুক্তিতে ভবিষ্যতে বিক্রির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সেল-অন ক্লজও রেখেছে গ্রেমিও।
ডান প্রান্তে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা আলিসন মূলত উইঙ্গার হলেও আক্রমণের কেন্দ্রে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে আক্রমণ গড়তে পছন্দ করেন। পোর্তো আলেগ্রেভিত্তিক গ্রেমিওর একাডেমি থেকেই উঠে আসা এই তরুণ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করেন। এরপর দ্রুতই নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন। গত মৌসুমে ব্রাজিলিয়ান লিগে ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
চলতি বছরে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৩ ম্যাচে আলিসনের নামের পাশে আছে ২টি গোল ও ৫টি অ্যাসিস্ট। ভিলায় যোগ দিয়ে তিনি অলিভি ওয়াটকিন্স, মর্গান রজার্স, জাডন সানচো, ডোনিয়েল মালেন ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবেন।
তবে আলিসনকে সঙ্গে সঙ্গে উনাই এমেরির মূল দলে রাখা হবে কি না, নাকি ধারে অন্য ক্লাবে পাঠানো হবে অথবা যুব দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি অ্যাস্টন ভিলা।
এর আগে আর্সেনালের কাছে ৪-১ গোলের হারের পর জানুয়ারি উইন্ডোতে আরও খেলোয়াড় আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কোচ উনাই এমেরি। তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে দলকে শক্তিশালী করতে নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে প্রস্তুত রয়েছে ক্লাব।
এদিকে ভিলাকে ইতালির ক্লাব বোলোনিয়ার ফরোয়ার্ড সান্তিয়াগো কাস্ত্রোর সঙ্গেও জড়িয়ে খবর প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম। সব মিলিয়ে জানুয়ারির দলবদলে অ্যাস্টন ভিলার আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি চোটের কারণে এখনো পুরোপুরি মাঠে নামতে না পারায় আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফুটবলে স্বাগতিক মরক্কোর নতুন নায়ক হয়ে উঠেছেন আয়ুব এল কাবি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে তাঁর নৈপুণ্য ও বিশেষ করে চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিক গোল মরক্কোর সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত করেছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আলো কেড়ে নিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
আফকনের উদ্বোধনী ম্যাচে কোমোরোসের বিপক্ষে মরক্কোর ২-০ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে নেমে এল কাবির করা দুর্দান্ত ওভারহেড কিক গোলই বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। সেই গোলের সুবাদেই পরের ম্যাচে মালির বিপক্ষে শুরুর একাদশে জায়গা পান তিনি। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও এল কাবির পারফরম্যান্সে ভর করে আক্রমণভাগে আত্মবিশ্বাস পায় অ্যাটলাস লায়নসরা।
এরপর জাম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে আবারও বড় ভূমিকা রাখেন এল কাবি। ম্যাচের শুরুতে হেডে গোল করার পর জয় নিশ্চিত করেন আরেকটি বাইসাইকেল কিকের মাধ্যমে। এই জয়ের ফলে 'এ' গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে মরক্কো, শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হয় তানজানিয়া।
এই পারফরম্যান্সের পর মরক্কোজুড়ে এল কাবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বাইসাইকেল কিক অনুকরণ করে ভক্তদের নানা ভিডিও, যেগুলো ইতিমধ্যে কোটি ভিউ পেয়েছে। কাসাব্লাঙ্কার আকাশে ড্রোন শোতেও দেখা গেছে এল কাবির সেই বিখ্যাত গোলের দৃশ্য।
ওভারহেড কিক এল কাবির কাছে নতুন কিছু নয়। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগেও এই কৌশলে একাধিক গোল করেছেন তিনি। ২০২০-২১ মৌসুমে মরক্কোর ক্লাব উইদাদ কাসাব্লাঙ্কার হয়ে চারটি বাইসাইকেল কিক গোল করেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতেও আফকনের আগে বেনিনের বিপক্ষে এমন একটি গোল নজর কেড়েছিল।
মাঠের বাইরে এল কাবির জীবনসংগ্রামও অনেককে অনুপ্রাণিত করছে। কাসাব্লাঙ্কার এক দরিদ্র এলাকায় বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার একসময় জীবিকা নির্বাহের জন্য কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। ২১ বছর বয়সে রেসিং কাসাব্লাঙ্কার হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক তাঁর।
তারপর রেনেসাঁস বারকেন, চীন ও তুরস্কে খেলে শেষ পর্যন্ত গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে যোগ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেন। সেখানে দুই মৌসুমে ৭৫টির বেশি গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে ২০২৪ সালে উয়েফা কনফারেন্স লিগের ফাইনালে ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে করা জয়সূচক গোলও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এল কাবির অর্জন কম নয়। ২০১৮ সালে আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে মরক্কোর শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে মূল আফকনে এবারই প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন এই স্ট্রাইকার।
হাকিমির অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়ে এল কাবি এখন মরক্কোর বড় ভরসা। শেষ ষোলোতে তানজানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকদের সমর্থকরা। বাইসাইকেল কিকের রাজা হিসেবে পরিচিত এই ফরোয়ার্ড কি মরক্কোকে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়।