
জয়ের ধারায় ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। সান্ডারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে টানা আট ম্যাচে জয় ছিল সিটির। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতে ফিরে আসার আভাস দিচ্ছিল অল রেডরা। তবে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খেয়েই নতুন বছরটা শুরু হলো দুই দলের।
লিগ জয়ের দৌড়ে আর্সেনালের সঙ্গে সমানতালে লড়ছিল ম্যান সিটি। তবে সান্ডারল্যান্ডের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা গানারদের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে ব্যর্থ হয় পেপ গার্দিওলার দল। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণভাগ আর অসাধারণ গোলকিপিং হতাশ করে সিটিজেনদের।
এই ড্রয়ের পর ১৯ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। ৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে এক নম্বরে আর্সেনাল। সমান ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে সান্ডারল্যান্ড। প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার ধারা ধরে রাখল দ্বিতীয় সারির লিগ থেকে উঠে আসা ক্লাবটি।
আরও পড়ুন
| মাঝপথে মুজাফফরভকেও হারাল মোহামেডান |
|
বছরের শুরুর দিনের ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। তবে শুধু জালে বল পাঠাতেই ব্যর্থ হয় সিটি-সান্ডারল্যান্ড। অবশ্য ৬ মিনিটেই লিড নেওয়ার উদযাপনে মেতে উঠেছিল সিটি। রায়ান চেরকির কর্নার থেকে আর্লিং হলান্ডের হালকা ছোঁয়ায় বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বার্নার্দো সিলভা। তবে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারির পতাকা তুলে জানিয়ে দেয়, অফসাইড ছিলেন সিটির অধিনায়ক।
প্রতি-আক্রমণে সিটির রক্ষণে বেশ ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল সান্ডারল্যান্ড। এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগও এসেছিল স্বাগতিকদের। তবে দুর্দান্ত সেভ করে সিটিকে সে দফা বাঁচান জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।
ম্যাচে মোট ১৪টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখা ম্যান সিটির হোঁচট খাওয়ার রাতে নিষ্প্রভ ছিলেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে সান্ডারল্যান্ডই সিটির নম্বর নাইনকে গোলবিহীন রাখতে পেরেছে। প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হওয়া বাকি ২৩ দলের বিপক্ষেই জাল খুঁজে পেয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। সান্ডারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণভাগ হলান্ডকে কোনো সুযোগই দেয়নি।
সিটির বিপক্ষে মোট চারটি সেভ করেন রবিন রোয়েফস। এতে চলতি মৌসুমে লিগে তাঁর মোট সেভ দাঁড়াল ৬৭। এ মৌসুমে কেবল বার্নলির গোলকিপার মার্টিন দুব্রাভকা (৬৯) তাঁর চেয়ে বেশি সেভ করেছেন।
রাতের আরেক ম্যাচে ঘরের মাঠ এনফিল্ডে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকের দল লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে আর্নে স্লটের দলের টানা চার ম্যাচের জয়যাত্রা থেমে যায়। একই সঙ্গে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রেডসদের ২০ ম্যাচের গোল করার ধারাও শেষ হলো।
চরম হতাশাজনক মৌসুম শুরুর পর ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া লিভারপুল এই ড্রয়ের পর ১৯ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে লিডস।
গোলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টাই চালায় লিভারপুল। অল রেডরা ১৯টি শট নিয়ে চারটি গোলমুখে রাখে। যেখানে প্রতিপক্ষ লিডসের শট ছিল মাত্র চারটি।
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ প্রায় জট খুলে দিচ্ছিলেন। হুগো একিতিকের শট লিডসের গোলকিপার লুকাস পেরির হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। তবে সফরকারীদের পাঁচজনের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচজুড়েই দৃঢ়তা দেখায়।
লিডস সোনালি সুযোগ পায়, যখন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার আলিসন বেকারের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স গিয়ে পড়ে ইথান আম্পাদুর পায়ে। কিন্তু পুরো গোলপোস্ট খালি পেয়েও দুর্বল শট নেন তিনি, শেষ পর্যন্ত সহজেই ঠেকান আলিসন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ছন্দ কমে যায়। দুই দলের জন্যই স্পষ্ট সুযোগ ছিল হাতে গোনা। ভার্জিল ফন ডাইকের একটি হেডার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর শেষদিকে একিতিকে ও কোডি গাকপো চারটি সেভ করা লিডসের গোলকিপারকে তেমন কোনো সমস্যায় ফেলতে পারেননি। এক প্রান্তে জেরেমি ফ্রিমপংয়ের সঙ্গে ইলিয়া গ্রুয়েভ ও অন্য প্রান্তে অ্যান্ড্রু রবার্টসনের সঙ্গে জেমস জাস্টিনের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো।
অ্যান ফিল্ডের পুরো গ্যালারি এক মুহূর্তের জন্য হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়, যখন লিডসের বদলি নামা ক্যালভার্ট-লুইন বল জালে জড়ান। তবে অফসাইডের পতাকা লিভারপুলকে স্বস্তি দেয়। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকতের ডেরা থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিডস। বিপরীতে নতুন বছরের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক হলো না লিভারপুলের।
No posts available.

তারকা ফুটবলের কোনো কমতি নেই। ইউরোপের জায়ান্ট সব ক্লাবে সেলেসাও তারকাদের ছড়াছড়ি। মাঠে নিয়মিত দূত্যিও ছড়ান তাঁরা। সবমিলিয়ে বিশ্বসেরা হওয়ার মতো সবকিছুই আছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ালেই যেন অনেকেই খেলা ভুলে যান।
একসময় বিশ্বকাঁপানো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটির সাফল্যে এখন শুধুই গল্প। পেলে থেকে রোনালদো-রোনালদিনহো-রোমারিওর সোনালি সেই ব্রাজিলকে কি আর ফিরে পাওয়া যাবে? দীর্ঘ দুই যুগ বিশ্বকাপের শিরোপার স্বাদ না পাওয়া এই দলের সমস্যা আসলে কোথায়? দলীয় রসায়নের অভাব, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নাকি মাত্রাতিরিক্ত চাপ?
বিশ্বকাপের দুই মাস আগে ব্রাজিল কিংবদন্তি রোমারিও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের ক্রমাগত পিছিয়ে পড়া নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ’কে ব্রাজিলের পিছিয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরেন ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড।
রোমরিওর মুখ থেকেই শুনে নেওয়া যাক ব্রাজিলের সমস্যাটা আসলে কোথায়, ‘কারিগরি দিক থেকে ব্রাজিল সত্যিই অনেকটা পিছিয়ে গেছে। রোনালদো, রোনালদিনহো আর রিভালদোর প্রজন্মের পর থেকেই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
রোমারিও যোগ করেন, ‘এরপর আমরা পুরোপুরি একজন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লাম — নেইমার। আর আমাদের তরুণরা অনেক আগেই ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে, ছোট ছোট ক্লাবে গিয়ে নিজেদের ডিএনএ-ই হারিয়ে ফেলছে।’
রোমারিও আরও জানান, ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে জাতীয় দলের প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনাও আগের মতো আর নেই। তবে হতাশার মাঝেও আশার কথা শোনালেন তিনি। রোমারিওর মতে, ‘ব্রাজিল এখনও চ্যাম্পিয়ন হতে পারে — তাদের ইতিহাস আছে, অভিজ্ঞতা আছে। আর নেইমার যদি আবার ফর্মে ফিরে আসে, তাহলে তো কথাই নেই।’
ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে রোমারিও ১৯৯৪ সালের ব্যালন ডি'অর না পাওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করেন। সেবার ইউরোপীয়রাই কেবল পুরস্কারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন, ফলে পুরস্কারটি তাঁর বার্সেলোনা সতীর্থ ক্রিস্টো স্তোইচকভের হাতে যায়, ‘আমি জানি না ১৯৯৪-এর ব্যালন ডি'অর সহজেই জিততাম কি না। তবে আমি যে একজন খুব শক্তিশালী দাবিদার হতাম, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
তবে স্তোইচকভের প্রতি কোনো বিরক্তি নেই রোমারিওর। তাঁর ভাষায়, ‘স্তোইচকভও সেটা পাওয়ার যোগ্য ছিল’ — আর আজও তিনি তাঁর আজীবনের বন্ধু।

ক্লাবের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্পোর্টিং ডিরেক্টর পদ পুনরায় চালুর যে খবর স্পেনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে দাবি করেছে ক্লাবটি।
গত বৃহস্পতিবার স্পেনের একটি জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। সেখানে স্পোর্টিং ডিরেক্টর পদটি আবার চালু করার পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজতে একটি বহিরাগত সংস্থাও কাজ শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী মৌসুমকে সামনে রেখে দলবদলের বাজারে নতুন একজন মিডফিল্ডার এবং সম্ভব হলে একজন মানসম্পন্ন সেন্টার-ব্যাক দলে ভেড়াতে পারে রিয়াল। তবে এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক পর্যায়েও বড় রদবদলের সম্ভাবনার কথা শোনা যায়।
রিপোর্টে দাবি করা হয়, ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নেতৃত্বে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যেখানে হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ, জুনি কালাফাত ও সান্তিয়াগো সোলারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে এসব গুঞ্জনের জবাবে শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানে ক্লাবটি স্পষ্টভাবে জানায়, স্পোর্টিং ডিরেক্টর নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, এ সংক্রান্ত সব খবরই ভিত্তিহীন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার কাজকে ক্লাব অত্যন্ত মূল্যায়ন করে। এই কাঠামোর কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটি ইতিহাসের অন্যতম সফল সময় পার করেছে। গত এক দশকে ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের কথাও তুলে ধরে ক্লাবটি জানায়, তারা কোনো পরিবর্তনের কথা ভাবছে না।
এরই মধ্যে মাঠের লড়াইয়েও ব্যস্ত সময় পার করছে রিয়াল মাদ্রিদ। আজ রাতে স্প্যানিশ লিগে নিজেদের মাঠে জিরোনার মুখোমুখি হবে তারা। তারপর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে জার্মানিতে গিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে খেলবে দলটি।

তীব্র বিতর্কের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আফ্রিকান ফুটবল সংস্থার সভাপতি প্যাট্রিস মোৎসেপে। সেনেগালের সরকারের তোলা অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেছেন, সংস্থার কিছুই লুকানোর নেই।
সম্প্রতি এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শিরোপা সেনেগালের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সেনেগাল, এমনকি সংস্থাটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানায় দেশটির সরকার।
মরক্কোয় অবস্থানকালে মোৎসেপে বলেন, কেউ যদি দুর্নীতির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিতে চান, সেটিকে তিনি স্বাগতই জানান। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কিছুই লুকানোর নেই। আফ্রিকার ৫৪টি দেশের বিচারিক সার্বভৌমত্বকে আমরা সম্মান করি।’
মোৎসেপে আরও জানান, ক্রীড়া সালিসি আদালত যে সিদ্ধান্তই দিক না কেন, তা মেনে নেওয়া হবে এবং বাস্তবায়ন করা হবে। ঘটনার সূত্রপাত আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ফাইনালকে ঘিরে। গত ১৮ জানুয়ারি মরক্কোর বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল সেনেগাল। তবে পরে সেই ফল বাতিল করে মরক্কোকে ৩-০ গোলে বিজয়ী ঘোষণা করে সংস্থাটি।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ম্যাচ চলাকালে মাঠ ত্যাগের নিয়ম ভঙ্গ করায় এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফাইনালের শেষ দিকে মরক্কোকে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি দেওয়া হলে ক্ষোভে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান সেনেগালের খেলোয়াড়েরা, প্রধান কোচ পাপে থিয়াও এবং তাঁর সহকারীরা।
যদিও সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মরক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ, তবুও ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ত্যাগ করায় সেনেগালের বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় সংস্থাটি।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিসি আদালতে আপিল করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। ফলে আফ্রিকান ফুটবলের এই বিতর্ক এখন আইনি লড়াইয়ের দিকেই গড়াচ্ছে।

মোহাম্মদ সালাহর বিদায় বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন অ্যান্ডি রবার্টসন। চলতি মৌসুমের পর অ্যানফিল্ডে আর দেখা যাবে না এই স্কটিশ ডিফেন্ডারকে।
এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় ৩২ বছর বয়সী রবার্টসন বলেন,
‘আমার মনে হয় সরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। গত ৯ বছরের দিকে তাকালে আমার মুখে বড় হাসি ফুটে ওঠে। এই ক্লাব, সমর্থক এবং ক্লাবের সাথে যুক্ত প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সবকিছু।‘
২০১৭ সালে হাল সিটি থেকে মাত্র ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে পাড়ি জমান রবার্টসন। ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৩৭৩টি ম্যাচ। হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুটি প্রিমিয়ার লিগসহ ৯টি বড় শিরোপা।
চলতি মৌসুমে আর্নে স্লটের অধীনে রবার্টসনের সুযোগ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বোর্নমাউথ থেকে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা হাঙ্গেরিয়ান ডিফেন্ডার মিলোস কারকেজ এখন স্লটের প্রথম পছন্দ। সবমিলিয়ে এই লেফট-ব্যাক ১৫ ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন চলতি মৌসুমে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে টটেনহাম হটস্পারের সঙ্গে রবার্টসনের দলবদলের বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। তবে কোস্টাস সিমিকাসকে রোমা থেকে লোন থেকে ফেরানোয় শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি বাতিল করে দেয়।
ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের সঙ্গে রবার্টসনের ফুল-ব্যাক জুটি ইউরোপের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হতো। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রিমিয়ার লিগে ৫৬টি অ্যাসিস্ট করে তিনি এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন।
রবার্টসন বলেন,
‘আমি প্রথম মিনিট থেকেই সফল হতে চেয়েছিলাম এবং ক্লাবকে তার প্রাপ্য জায়গায় পৌঁছে দিতে চেয়েছি। আমি গর্বিত যে আমি সেই দলগুলোর অংশ ছিলাম যারা এটা করতে পেরেছে।‘
লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে রয়েছে। গত সপ্তাহে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪-০ গোলে বিদায় নিয়েছে গানাররা। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের প্রথম লেগে পিএসজির সঙ্গে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে লিভারপুল। শনিবার অ্যানফিল্ডে ফুলহামের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্নে স্লটের দল।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। দীর্ঘ তিন বছরের যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এই তালিকাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত রেফারি প্যানেল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি ও ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়াল। সব মিলিয়ে ৫০টি সদস্য দেশ এবং ছয়টি মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকছে এই দলে।
ফিফা জানিয়েছে, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া পর্যায়ের ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও ফিটনেস—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘গুণগত মানই প্রথম অগ্রাধিকার’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ‘নির্বাচিত রেফারিরা বিশ্বের সেরা। ৩ বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ মান ধরে রাখতে পারেন।
কলিনা জানান, এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট—৪৮ দল অংশ নেবে এবং ১০৪টি ম্যাচ হবে। তাই এবার রেফারিদের দলও সবচেয়ে বড়, গত কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় আরও বিস্তৃত।
ফিফা আরও জানিয়েছে, এই দলে ছয়জন নারী ম্যাচ অফিশিয়ালও রয়েছেন, যা নারী রেফারিংয়ের অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নেবে।
ম্যাচ পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহারও থাকবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। গোললাইন প্রযুক্তি, উন্নত ভার্সনের সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেম এবং কানেক্টেড বল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রথমবার রেফারির চোখে দেখা লাইভ ফুটেজও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ফিফা রেফারিং বিভাগের পরিচালক মাস্সিমো বুসাক্কা বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু হয়। ধারাবাহিক সেমিনার, কর্মশালা এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মায়ামিতে বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্প হবে, যেখানে রেফারিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হবে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এবারের বিশ্বকাপে রেফারিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভুল করার লক্ষ্য নিয়েছে ফিফা।