
একজন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা করে নিলেও অন্যজন পারেননি। তবে ঢাকা ক্যাপিটাসের হয়ে দিনটা একসাথেই আলোকিত করলেন লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম। দুর্বার রাজশাহীর বোলারদের রীতিমতো পাড়ার বোলার বানিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করলেন দুজন মিলে। রেকর্ড গড়া ওপেনিং জুটিতে দুই ব্যাটারই করলেন সেঞ্চুরি, আর নতুন করে লিখলেন ইতিহাসও।
শুরুটা করা যাক লিটনকে দিয়েই। সাদা বলের ক্রিকেটে গত বছর একেবারেই ছিলনে না ছন্দে। এই বিপিএলে প্রথম চার ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর বাদ পড়েন এক ম্যাচে। গত ম্যাচে ফিরেই করেন বিস্ফোরক ফিফটি। তবে জায়গা মেলেনি রোববার ঘোষিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে। সেই হতাশাই যেন মেটালেন প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর।
আরও পড়ুন
| লিটন-তানজিদের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ঢাকা পেল প্রথম জয় |
|
অন্যপ্রান্তে তানজিদও কম যাননি। এই তাদের খুনে ব্যাটিংয়ে ৯ ওভারেই হয়ে যায় দলীয় শতক। ছক্কা মেরে মাত্র ২৪ বলে ফিফটি করেন লিটন। ছয় মেরে পঞ্চাশে পা রাখেন তানজিদও।
৪৪ বলে সেঞ্চুরি করেন লিটন, যা এখন বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। ২০তম ওভারে গিয়ে শতকের দেখা পান তানজিদও। এর দুই বল বাদে যখন আউট হন, বোর্ডে রান ২৪১। বিপিএলের ইতিহাসে যেকোনো জুটিতেই এটিই সর্বোচ্চ রান। আগেরটি ছিল রংপুর রাইডার্সের ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (দ্বিতীয় উইকেটে ২০১ রান)।
আরও পড়ুন
| সহ-অধিনায়ক কেন নেই, জানেন না প্রধান নির্বাচক |
|
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটেই লিটন-তানজিদের ২৪১ এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শীর্ষে আছে জাপানের ইয়ামামোটো-লেক ও কে কাদোওয়াকি-ফ্লেমিংয়ের ২৫৮। ওপেনিং জুটিতে চীনের বিপক্ষে তারা এই রান করেছিলেন ২০২৪ সালে। তালিকায় তিনে নেমে গেছে আফগানিস্তানের হজরতউল্লাহ জাজাই ও উসমান গনির ২৩৬ রানের জুটি। প্রথম উইকেটে তাদের এই জুটিটি ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৯ সালে।
No posts available.
৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

শুরু থেকে একের পর এক সুযোগ পেল দুই দল। তবে কাজে লাগাতে পারল না কেউই। দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন এঙ্গেল থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নিলেন ব্রাহিম দিয়াজ। তানজানিয়াকে হারাল মরক্কো। আফকন ইতিহাসে উঠে গেল তারকা ফরোয়ার্ডের নাম।
আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে (আফকন) রোববার রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে তানজানিয়াকে ১-০ গোলে হারায় মরক্কো। জয়সূচক গোলটি আসে দিয়াজের পা থেকে। এই জয়ে সেরা আটে উঠে গেল মরক্কো। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ক্যামেরন।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির কাছ থেকে বল পেয়ে বাইলাইনের সামনে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান দিয়াজ।
চলতি আফকনে এ নিয়ে টানা চার ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মরক্কোর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোল করলেন তিনি। ১৯৭৬ সালে মরক্কোর প্রয়াত ফুটবলার আহমেদ ফারাস টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন।
এছাড়া ৪ গোল নিয়ে চলতি আফকনের গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন দিয়াজ। পেছনে পড়ে গেছেন তার সতীর্থ আইয়ুব এল কাবি ও আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ।
আগামী শুক্রবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে ক্যামেরনের মুখোমুখি হবে মরক্কো।

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে যেন খুঁজেই পাওয়া গেল না চেলসিকে। কিন্তু অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে হুট করেই আবির্ভুত হলেন এনসো ফার্নান্দেস। ম্যানচেস্টার সিটির জালে গোল করে চেলসিকে এক পয়েন্ট এনে দিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোববার রাতের ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসির ম্যাচ। ঘরের মাঠে সিটিজেনদের হয়ে একমাত্র গোল করেন টিজানি রেইন্ডার্স।
পরপর দুই ড্রয়ে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া করল পেপ গার্দিওলার দল। ২০ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে তারা। সমান ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। আর ৩১ পয়েন্ট পাওয়া চেলসির অবস্থান পঞ্চম।
টানা ব্যর্থতা ও মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় নতুন বছরের প্রথম দিন চাকরি হারান চেলসির প্রধান কোচ মারেস্কা। তাই ইতিহাদে প্রধান কোচ ছাড়াই খেলতে যায় চেলসি। আগের তিন ম্যাচের মত এদিনও তারা জিততে পারেনি।
ম্যাচের শুরুর থেকেই দাপট দেখিয়ে খেলতে থাকে ম্যান সিটি। বেশ কিছু সুযোগ পেলেও জালের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেই অপেক্ষার ইতি টানেন রেইন্ডার্স।
৪২ মিনিটে বল এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল আর্লিং হলান্ডের উদ্দেশ্যে। তবে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে পেয়ে যান রেইন্ডার্স। ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে জাল কাঁপান ডাচ মিডফিল্ডার।
এরপর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া চেষ্টা চালায় সিটি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দুইবারের চেষ্টায় বল জালে জড়ান এনসো ফার্নান্দেস। তার শট প্রথম ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন সিটি গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা। ফিরতি শটে চেলসিকে আনন্দে ভাসান আর্জেন্টাইন তারকা।

আনপ্রিডেক্টবল হয়ে পড়েছে প্রিমিয়ার লিগ। বড়-ছোট কিংবা তারকা ঠাসা দল নিয়েও স্বস্তিতে থাকার জো নেই ক্লাবগুলোর। অন্তত রবিবার রাতের বেশ কয়েকটি ম্যাচ পর্যালোচনায় তা আর স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।
পয়েন্ট টেবিলে তলানিতে থাকা লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে পেরে ওঠেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১-১ ব্যবধানে শেষ হওয়া ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রুবেন আমোরিমের দলের। ফুলহামের মাঠে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। ২-২ ব্যবধানে মিমাংসা হয়েছে নাটকীয় এই ম্যাচ। টটেনহ্যাম-সান্ডারল্যান্ড মধ্যকার ম্যাচটিও নিষ্পত্তি হয়েছে ১-১ সমতায়।
নিউক্যাসেলের ঘরের মাঠে গিয়ে পয়েন্ট খুইয়ে এসেছে ক্রাস্টেল প্যালেসের কাছে। অলিভার গ্লাসনারের দল ২-০ গোলে হেরেছে এডি হাউয়ের শিষ্যদের কাছে। ব্রেন্টফোর্ড-এভারটন ম্যাচ হয়েছে হাইস্কোরিং। ৬ গোলের ম্যাচের ৪টিই ছিল স্বাগতিক এভারটনের বিপক্ষে।
রাত সাড়ে এগারটায় শুরু হয়েছে ম্যানসিটি-চেলসি ম্যাচ। এই ম্যাচের ফলের পর পয়েন্ট টেবিলে আলোকপাত করা সহজ হবে। তবে সিটি যদি চেলসির বিপক্ষে জিতে, তারপরও আর্সেনাল থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে থাকবে পেপ গার্দিওলার দল। হারলে আখের লাভ অ্যাস্টল ভিলার।
উনাই এমেরির দল দ্বিতীয়তে উঠার বড় সুযোগ পাবে। ফুলহামের সঙ্গে ড্র করাতে আর্নে স্লটের দলের বর্তমান পয়েন্ট ৩৪। সমান ২০ ম্যাচে ভিলা পার্কের দলের অর্জন ৪২। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ৪৮।
এই মুর্হূতে তালিকায় ব্রেন্টফোর্ড সপ্তমে।অষ্টমে সান্ডারল্যান্ড এবং নিউক্যাসেল নবম স্থানে। সমান ২০ ম্যাচ করে খেলা ব্রেন্টফোর্ড ও সান্ডারল্যান্ডের পয়েন্ট ৩০। নিউ ক্যাসেলের ২৯।
আবারও ‘ড্র’ লিভারপুলের: গত ম্যাচে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল অল রেডসরা। রেসে টিকে থাকার ম্যাচে আজ ক্যারাভেন কটেজে নাটকীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় লিভারপুলকে।
১৭ মিনিটে উইলসনের গোলে এগিয়ে যায় ফুলহাম। দ্বিতীয়ার্ধে (৫৭ মিনিট) ফ্লোরিয়ান ভির্টজ দলকে সমতায় ফেরান। বাকি গোল দুটো হয়েছে ৯০ মিনিট শেষে, যোগ করা সময়ে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কোডি গোকপোর গোলে লিড নেয় সফরকারিরা। সপ্তম মিনিটে রেডের গোলে নিশ্চিত হার এড়ায় ফুলহাম।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দলেরও ‘ড্র’ ভাগ্য: অ্যালান্ড রোডে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে তিন মিনিটে। ৬২ থেকে ৬৫ মিনেট— এসময় গোল হয়েছে দুটি। লিডসের হয়ে গোলটি করেন ব্রেন্ডন অ্যান্ডারসন এবং ইউনাইটেডের হয়ে কুনহা।
ম্যাচ ঘড়ির ৬২ মিনিটে লিড নেয় লিডস। বাঁ পায়ের জাদুতে ম্যান ইউনাইটেডের জালে লক্ষ্যবেদ করেন ব্রেন্ডন অ্যান্ডারসন। প্রিমিয়ার লিগে এটি তৃতীয় গোল যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ডের।
এগিয়ে থেকে স্বস্তিতে থাকতে পারেনি ম্যান ইউনাইটেড। তবে মিনিট তিনেকের মাথায় ম্যান ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরান কুনহা। মিডফিল্ড থেকে বল রিসিভ করে সোজা ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রাজিল লেফট উইঙ্গার। লিডসের দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে জালে জড়ান বল।
জেমস পার্ক ছিল নিউ ক্যাসেলের দখলে: ঘরের মাঠ। হাতের তালুর মতো চিরচেনা। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে এডি হাউয়ের শিষ্যরা। সুযোগ বুঝে লিগে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায় করে নেন স্বাগতিকরা।
নিউ ক্যাসেলের হয়ে গোল দুটি করেন গুইমারেস ও মালিক থিয়াও।

লা লিগায় আগের রাতে এস্পানিওলকে হারিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে নিজেদের সাত পয়েন্ট উচ্চতায় নিয়ে যায় বার্সেলোনা। তারপরও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি রিয়াল। আজ রিয়াল বেতিসকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বার্সা থেকে দুরুত্ব কমালো লস ব্লাঙ্কোসরা।
রবিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধে একটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে বাকি পাঁচটি গোল হয়েছে। আসরে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড গঞ্জালো গার্সিয়া।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙে ২০ মিনিটে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর মাদ্রিদকে এগিয়ে নেন গার্সিয়া। ফ্রি-কিকে বলটি ব্যাক পোস্টের দিকে পাঠান রদ্রিগো। আগেই অবস্থান নেওয়া গার্সিয়া দারুণ হেডারে জালে পাঠান বল। প্রথমার্ধে একাধিক চেষ্টা চালালেও ১-০ গোলে সন্তুষ্টি নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লিড দ্বিগুণ করেন গঞ্জালো। ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস প্রথমে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন স্পেন ফরোয়ার্ড। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচের কর্ণারে জালে বল পাঠান। তাতেই স্বস্তি বিরাজ করে গ্যালারিজুড়ে। খেলা দেখতে মাঠে আসা কিলিয়ান এমবাপে এক্রোবেটিক শট দেখে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন। চোটের কারণে দলের বাইরে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড ছাড়াও মাঠে উপস্থিত ছিলেন ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড ও এদার মিলিতাও।
৫৬ মিনিটে লিড তিনগুণ করে রিয়াল। এই গোলটিও আসে রদ্রিগোর সহায়তায়। দূরের কর্নার থেকে আউটসুইং স্টাইলে বল ক্রস করেন রদ্রিগো। তা রাউল আসেনসিও দারুণ হেডারে জালে লক্ষ্যবেদ করেন। তাতেই ৩-০ লিড আদায় করে স্বাগতিক দল।
রিয়ালের তৃতীয় গোলের পর একটি শোধ করে অতিথি দল। ভ্যালেসের লং পাস নিয়ন্ত্রণে নেন রুইবাল। এরপর হার্নান্দেসসে পাস দেন। রাউল আসেনসিওর পরিস্থিতি সামলাতে পারতেন, কিন্তু বল গড়িয়ে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের দিকে চলে যায়। সুযোগ কাজে লাগান হার্নান্দেস। থিবো কোর্তোয়াকে কাটিয়ে জোরালো শটে জাল কাঁপান। একই সঙ্গে বেটিসকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান।
৭৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উঠিয়ে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোকে নামানো হয়। একই সময় উঠিয়ে নেওয়া হয় ম্যাচের অন্যতম নায়ক রদ্রিগোকেও। আরদা গুলের নামেন তার পরিবর্তে। এরপরই আসল ম্যাজিক দেখান তুর্কী মিডফিল্ডার।
৮২ মিনিটে গঞ্জালোকে দারুণ এক পাস দেন দেন। বক্সের কয়েকগজ দূরে থাকা সে পাস ব্যাকহিলে শট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। লা লিগায় ২১ বর্ষী স্পেন তরুণের এটি পঞ্চম গোল। আর মৌসুমে প্রথম হ্যাটট্রিক।
আদতে এখানে ম্যাচ হয়ে গেছে ভাবলে ভুল হবে। যোগ করা সময়েও অতিথিদের জালে আরও একবার বল জালে জড়ায় রিয়াল। গঞ্জালোর বদলি হিসেবে নেমে ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া দলের হয়ে শেষ গোলটি করেন।
৫-১ ফলের মতোই ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল রিয়ালের। ৬১ শতাংশ বল তাদের দখলে ছিল। ১৯টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখে জাবি আলোনসোর শিষ্যরা। বিপরীতে ১৩টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে বেতিস। অতিথিরা বড় সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে মাত্র ১টি। বিপরীতে পাঁচটি সুযোগ তৈরি করে রিয়াল।

নারী ফুটবল লিগে আরও একটি একপেশে ম্যাচ হলো আজ। ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব রীতিমত ছেলে-খেলা করল জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশকে নিয়ে। তবে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ালো প্রথমার্ধে দুই দলের হাতাহাতি এবং জোড়া লাল কার্ডে। এরপর খেলা শুরু হলে আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন শামসুন্নাহার, মারিয়া মান্দারা। রেকর্ড জয় উদযাপন করলেন তাঁরা। ঘটনাবহুল ম্যাচে তহুরা খাতুনের কাছ থেকে দেখা গেল ওভার হেড কিক গোল।
রোববার এবারের নারী ফুটবল লিগের দশম ম্যাচে ২৩-০ গোলের রেকর্ড জয় পেয়েছে ফরাশগঞ্জ। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং অধিনায়ক মারিয়া মান্দা করেন জোড়া হ্যাটট্রিক। দুজনের নামের পাশেই যোগ হয়েছে ৬টি করে গোল। ঢাকা রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৪ গোল করেছিলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। সেদিন এক গোল পেয়েছিলেন মারিয়া।
এদিন হ্যাটট্রিক পেয়েছেন তহুরা খাতুনও। আগের ম্যাচে চার গোল করা জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড আজ করেছেন আরও তিন গোল। জোড়া গোল করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন মনিকা চাকমা, সামিক্ষা ঘিমিরে, অনামিকা ত্রিপুরা, মানুচিং মারমা, প্রীতি ও তৃষা।
২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে ২১-০ গোলে জয়ের রেকর্ড ছিল চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। সেবার তারা হারিয়েছিল নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে। এরপর ২০২৪ সালে এই কাচারিপাড়া একাদশকেই ১৯-০ গোলে হারায় নাসরিন। এবার আরও বড় লজ্জার মুখে পড়ল জামালপুরের ক্লাব কাচারিপাড়া একাদশ।
এদিন কিক অফের পর ৩৮ সেকেন্ডে প্রথম গোলের দেখা পায় ফরাশগঞ্জ। ম্যাচ শুরুর পর তহুরা খাতুনের প্রথম অ্যাটাকেই কর্নার তুলে নেয় দলটি। সেখান থেকে গোল করেন মনিকা।
ষষ্ঠ মিনিটে শামসুন্নাহার সিনিয়রের ক্রস থেকে বক্সে বল রিসিভ করে বা পায়ের জোরালো শটে মারিয়া ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
১৩ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গতিময় শট যায় পোস্টের উপর দিয়ে। পরের মিনিটে ভুল করেননি তহুরা। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের মাপা শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। চার মিনিট পর প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে মারিয়ার ডান পায়ের শট ক্রসবারে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে।
এ সময় মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশাহারা যেন কাচারিপাড়া একাদশের মেয়েরা। ১৮ মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন সাফা মারওয়া।
২১ মিনিটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে মাঠে। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। আহত হয়ে মাঠে শুশ্রুষা নেন ফরাশগঞ্জের নেপালি ডিফেন্ডার পূজা রানা।
ঘটনার পর রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে বেশ। কয়েক দফায় ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন মাঠের রেফারিরা। এরপর ফরাশগঞ্জের মনিকা এবং কাচারিপাড়ার চাবেত্রী ত্রিপুরাকে দেখানো হয় লাল কার্ড। ফরাশগঞ্জ অধিনায়ক মারিয়া দেখেনে হলুদ কার্ড।
১৫ মিনিটেরেও বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। আর দ্বিতীয় শুরুর পর গোল পেতে ফরাশগঞ্জের লাগে মাত্র এক মিনিট। ৩৭ মিনিটে নেপালের আরেক ডিফেন্ডার সামিক্ষার গোলে লিড ৫-০ করে পুরাণ ঢাকার ক্লাবটি।
৪২ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের চমৎকার গোলে আরও এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। যদিও এই গোলে বেশি অবদান ছিল তহুরার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন এই ফরোয়ার্ড। গোলকিপার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এল কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।
যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহারের ব্যাক পাস থেকে দূরের কোনা দিয়ে মাটি কামরানো শটে গোল করেন মারিয়া। সেই সঙ্গে নিজের হ্যাটট্রিকও পুরোন করেন তিনি।
খানিক পর শামসুন্নাহার সিনিয়রের গতিময় শট ফিরিয়ে দিলে গোলমুখের সামনে আলতো টোকায় জালে বল জড়ান অনামিকা ত্রিপুরা। ৮-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফরাশগঞ্জ।
বিরতির পর এবার আরও দ্রুত সময়ে গোল করে ফরাশগঞ্জ। গোলের খাতায় নাম লেখান বদলি খেলোয়াড় মানুচিং মারমা।
৪৭ মনিট তহুরা থ্রু বলে বলে বক্সে ঢুকে পড়েন ছোট শামসুন্নাহার। তাঁকে অবশ্য পেছন থেকে ফেলে দেওয়া হয়, পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিক নেন শামসুন্নাহার সিয়ির।
৫৪ মিনিটে রক্ষণচেড়া পাস ধরে প্রতিপক্ষের গোলকিপারের সঙ্গে ওয়ান ওয়ান সিচুয়েশনে কোনো ভুল করেননি তহুরা। ১১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। চার মিনিট পর বক্সের একটু সামনে থেকে ডান পায়ের সোজা শটে লক্ষ্যভেদে করেন মারিয়া। পরের মিনিটে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ছোট শামসুন্নাহার। তবে ৬০ মিনিটে আর ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড। অনামিকর দারুণ একটা ক্রসে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।
৬১ মিনিটে প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে জাল কাাঁপান মারিয়া। ৭০ মিনিটে মারিয়ার সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোলকিপারকে পরাস্ত করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। সেই সঙ্গে পর পর দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ হলো তাঁর। হ্যাটট্রিকে উদযাপন সারতে না সারতে আবারও তিনি। এবার হেড থেকে জাল কাঁপান ২১ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড।
খানিক পর বক্সে ঢুকে ব্যাক পাস দেন মারিয়া। অনেকটা বাইরে থেকে প্রীতির জোরালো শটে আরও এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। ৭৪ মিনিটে আবারও গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। পরের মিনিটে ওভারহেড কিক থেকে গোল করেন তহুরা। সেই সঙ্গে জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডও করেন হ্যাটট্রিক।
বল নিয়ে যখন কাচারিপাড়ার বক্সের সামনেই ঘুরপাক করছিলেন ফরাশগঞ্জের ফুটবলাররা তখনই আরেকটি গোলে হতাশায় ডোবান কাচারিপাড়াকে।
৭৯ মিনিটে ফাঁকা জালে অনায়েস গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান ২২-০ করেন বিপাশা আক্তার তৃষা। চার মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান শামসুন্নাহার সিনিয়র। শেষ পর্যন্ত ২৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাশগঞ্জ।