১৪ আগস্ট ২০২৫, ৬:২১ পিএম

গত জুনে অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফের আসর বসে ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। চার দলের অংশগ্রহণে হওয়া ওই টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এবার আরেকটি সাফের মিশন শুরু হচ্ছে মেয়েদের। অনূর্ধ্ব-১৭ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে শুক্রবার ভুটান যাবে বাংলাদেশ।
সাফ মিশনের আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে টুর্নামেন্টের জন্য ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৬ সাফে খেলা ১৫ জনই আছেন এই দলে।
আরও পড়ুন
| জতার পরিবারকেও ক্লাব বিশ্বকাপের বোনাস দেবে চেলসি |
|
নতুন আটজন হলেন- রিয়া, প্রতিমা রানী, জবা রানী, সুরভী রানী, মামনী চাকমা, ঈশিতা ত্রিপুরা, পূর্ণিমা মারমা, আমেনা খাতুন। এই দলে আছেন সিনিয়র দলে অভিষেক হওয়া ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি। তবে দলটির অধিনায়ক করা হয়েছে অর্পিতা বিশ্বাসকে।
নারী দলের কোচ পিটার বাটলার গত ১১ আগস্ট লাওসে অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলা শেষে ছুটিতে গেছেন। আগস্টের বাকি সময় তিনি ছুটিতে থাকবেন। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সঙ্গে কোচ হিসেবে ভুটান যাবেন মাহবুবুর রহমান লিটু।
বাংলাদেশসহ চার দেশ অংশ নেবে সাফের এই আসরে- ভারত, ভুটান ও নেপাল বাকি তিন দল। ২০ থেকে ৩১ আগস্ট থিম্পুর সবগুলো ম্যাচ থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে হবে খেলা। রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে দুটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর সর্বোচ্চ পয়েন্টধারীর হাতে উঠবে ট্রফি।
২০ আগস্ট ভুটান ম্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করবে বাংলাদেশের মেয়েরা। একদিন বিরতি দিয়ে ২২ আগস্ট দলটির প্রতিপক্ষ ভারত। ২৪ ও ২৭ আগস্ট পরপর দুই ম্যাচে নেপালকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। ২৯ আগস্ট ভুটান এবং ৩১ আগস্ট শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।
আরও পড়ুন
| ইউয়েফার জোরালো বার্তা, ‘শিশু ও বেসামরিক হত্যা বন্ধ করো’ |
|
এই টুর্নামেন্টের দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সমান দুবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতও।
২৩ সদস্যের বাংলাদেশ স্কোয়াড: ইয়ারজান বেগম, মেঘলা রানী, মমিতা খাতুন, শিউলি রায়, তানিয়া আক্তার, অর্পিতা বিশ্বাস (অধিনায়ক), ফাতেমা আক্তার, উম্মে কুলসুম, আরিফা আক্তার, মোসাম্মত আলমিনা, রেশমি আক্তার, থুইনুয়া মারমা, সুরভী আকন্দ প্রীতি, ক্রানুচিং মারমা, রিয়া, আলফি আক্তার, প্রতিমা রানী, জবা রানী, সুরভী রানী, মামনি চাকমা, ঈশিতা ত্রিপুরা, পূর্ণিমা মারমা ও আমেনা খাতুন।
No posts available.

মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে জিতলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে হতাশই ছিল আর্জেন্টিনা। সেটি ভুলে জাম্বিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর এই ম্যাচ শেষে দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা মানুষদের ধুয়ে দিয়েছেন রদ্রিগো ডি পল।
এবারের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির দুই ম্যাচেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতার ম্যাচে ঠিক চেনা ছন্দে ছিল না তারা। তাই ওই ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে সমালোচনা হয় অনেক। নিন্দুকদের রোষানলে পড়েন লিওনেল মেসি, ডি পলরা।
সেসব ছাপিয়ে বুধবার ভোরের ম্যাচে জাম্বিয়ার জালে একে একে পাঁচ গোল করে লা আলবিসেলেস্তেরা। পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে তারা। ম্যাচে একটি করে গোল দেন মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্ডি। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে, দেশের মাঠে এটিই ছিল তাদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আরও পড়ুন
| মেসি-আলভারেজের গোলে জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা |
|
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাই তাদের প্রতি সম্মান দেখান ডি পল।
“তারা বিষয়টা উপভোগ করার চেষ্টা করে। দু’জনই এই দলের জন্য রোল মডেল। আমরা তাদের পথ অনুসরণের চেষ্টা করি। সবসময় একই মানসিকতা নিয়ে এখানে আসি- ফুটবল খেলতে, আর্জেন্টিনা কী প্রতিনিধিত্ব করে, আমাদের দেশের কাছে ফুটবলের অর্থ কী, তা রক্ষা করতে।”
“আমরা চাই মানুষ এটা বুঝুক, কারণ আমরা এমন একটি দেশের বাসিন্দা যেখানে একত্রিত হওয়ার বদলে অনেক সময় বিভাজন আর বিতর্ক তৈরি করা হয়।”
এসময় হুট করে রাজনীতির প্রসঙ্গ আনেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
“স্পষ্ট করে বলতে চাই- আমরা ফুটবলার, আমরা এখানে ফুটবল খেলতেই আসি। রাজনীতিতে আমরা জড়াই না, এসব বিষয় আমরা বুঝিও না। রাজনীতি যারা বোঝেন, তাদেরই সে কাজ করা উচিত। আমরা চাই, আমাদের বিচার হোক মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে, এর বাইরে কিছু নয়।”
“আমরা সবসময় চেষ্টা করব আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিকে সম্মান জানাতে। যে জায়গায় পৌঁছাতে আমরা এত লড়াই করেছি, সেটা মাঠেই প্রমাণ করতে। নেতৃত্বেও এই বার্তাটাই থাকা উচিত- আমরা মাঠে খেলেই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করি।”
কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলেছেন, তা জিজ্ঞেস করা হলে স্পষ্ট কিছু জানাননি ডি পল।
“আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলছি না। তবে এটুকু বলতে চাই, ভুল তথ্য ছড়ানোর চেয়ে সঠিক তথ্য জানানো ভালো। বিশ্বকাপের আর মাত্র দুই মাস বাকি, এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঐক্যবদ্ধ থাকা।”
“আমরা জিতলে সবাই জিতি, হারলে দায়টা খেলোয়াড়দেরই নিতে হয়। মাঠে যা ঘটে, তার পুরো দায়িত্ব আমাদের- ভালো বা খারাপ যাই হোক। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, কারণ সমর্থকরা আমাদের সেই প্রয়োজনীয় প্রেরণা দিয়েছিলেন।”
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী জুনে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা। এর আগে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন ইন্টার মায়ামি তারকা।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টিনায় ‘শেষবার’ মাঠে নামছেন মেসি, তবে... |
|
“এখন পর্যন্ত যা গড়ে উঠেছে, সেটাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা ন্যায্য নয়। একটি সূচনা হয়েছে, সেখান থেকে সামনে এগোতে হবে, পেছনে নয়। আবারও বলছি- আমরা ক্লাবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, যেন জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আর্জেন্টিনার জার্সির সম্মান রাখতে পারি মাঠে।”
“আমি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় টানছি না, আমরা বন্ধুর মতোই এসব নিয়ে কথা বলি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই কথাগুলো বলতে ইচ্ছে হয়েছে। জেতা কঠিন, আর শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন। আমরা যদি আমাদের অর্জন রক্ষা করতে চাই, তাহলে পুরো দেশকে একসঙ্গে থাকতে হবে।”

ফ্রান্সের কাছে হারের হতাশা ভুলতে বেশি সময় নিল না ব্রাজিল। পরের ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে জয়ে ফিরল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
নিজেদের ঘরের মাঠে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। শেষ দিকে ৪ মিনিটে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।
ব্রাজিলের হয়ে গোল ৩টি করেন দানিলো, থিয়াগো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। ক্রোয়েশিয়ার একমাত্র গোল ফেরত দেন লুভর মায়ের।
আরও পড়ুন
| ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে কঙ্গো |
|
ম্যাচ জুড়ে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে গোলের জন্য ১১টি শট করে দাপট দেখায় ব্রাজিল। এর মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ১০ শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ক্রোয়াটরা।
ফাউলের ছড়াছড়ি দিয়ে শুরু হওয়া ম্যাচে ধীরে ধীরে গুছিয়ে নেয় দুই দল। একের পর সুযোগ তৈরি করতে থাকেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, দানিলোরা।
কম যায়নি ক্রোয়েশিয়াও, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্রাজিল গোলরক্ষকের ক্ষিপ্রতায় গোলবঞ্চিত হয় সফরকারীরা।
পরের মিনিটে ভিনিসিয়ুসের জাদু। তিনজনকে কাটিয়ে তিনি বল এগিয়ে দেন সামনে। অনায়াসে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন দানিলো।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মরিয়া চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ভাঙছিল না গোলের তালা। মনে হচ্ছিল, এক গোলেই জিতে যাবে ব্রাজিল। তখনই ৮৪ মিনিটে সমতা ফেরান মায়ের
আরও পড়ুন
| মেসি-আলভারেজের গোলে জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা |
|
ক্রোয়াটদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ডি বক্সে ফাউলের শিকার হন এন্দ্রিক। পেনাল্টি থেকে স্কোরলাইন ২-১ করেন থিয়াগো।
এর মিনিট চারেক পর এন্দ্রিকের পাস থেকে দলের তৃতীয় গোল করেন মার্টিনেল্লি। তৃপ্তির জয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

সুযোগ ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার। দেশটির হয়ে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়েও খেলেছেন এক্সেল টুয়ানজেব। কিন্তু জাতীয় দলে তিনি বেছে নিয়েছেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। তার প্রথম গোলেই এবার দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট পেল কঙ্গো।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার জন্য আন্ত:মহাদেশীয় প্লে-অফের ফাইনালে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে কঙ্গো। মেক্সিকোর মাঠে বুধবার ভোরের ম্যাচে ১০০তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেছেন টুয়ানজেব।
মূল ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দাপট দেখিয়ে খেললেও গোল করতে পারছিল না কঙ্গো। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ১০০ মিনিটে গিয়ে বার্নলির এই ডিফেন্ডারের গোলে ডেডলক ভাঙে দেশটি।
আরও পড়ুন
| ইতালিকে অভিশাপের গেরোয় বেঁধে বিশ্বকাপে বসনিয়া |
|
১৯৭৪ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলবে কঙ্গো। ৫২ বছর আগের ওই বিশ্বকাপেই প্রথমবার খেলেছিল তখনকার জাইরে নামের দেশটি। সেবার গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচই হেরে গিয়েছিল তারা। করতে পারেনি কোনো গোল।
এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে খেলবে কঙ্গো। যেখানে তাদের তিন প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান।
কঙ্গো বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ায় আফ্রিকা অঞ্চল থেকে মোট ১০টি খেলবে বৈশ্বিক আসরে। তাদের আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা বাকি ৯ দল- মরক্কো, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর, আইভরি কোস্ট, ঘানা, কেপ ভার্দে ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

আগের ম্যাচে জিতলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিলেন না লিওনেল স্কালোনি। কোচের সেই অতৃপ্তি মেটাতে বেশি সময় নিলেন না লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজরা। জাম্বিয়াকে উড়িয়ে মাঠ ছাড়ল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বুয়েন্স আয়ার্সে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে হওয়া ম্যাচে জাম্বিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। একটি করে গোল পেয়েছেন আলভারেজ, মেসি, নিকোলাস ওতামেন্ডি ও ভ্যালেন্টিন বার্কো। অন্যটি আত্মঘাতী।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপের আগে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ। বৈশ্বিক ওই টুর্নামেন্টের আগে অবশ্য আরও ২টি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করছে আর্জেন্টিনা।
এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ২টি ম্যাচই জিতল আর্জেন্টিনা। এর আগের ম্যাচে মৌরিতানিয়াকে ২-১ গোলে হারায় তারা। তবে ওই ম্যাচে দলের খেলায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি স্কালোনি।
আরও পড়ুন
| ইতালিকে অভিশাপের গেরোয় বেঁধে বিশ্বকাপে বসনিয়া |
|
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জাম্বিয়াকে কোনো সুযোগই দেয়নি আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে প্রায় ৭৬ শতাংশ বলের দখল রাখে তারা নিজেদের কাছে। গোলের জন্য ৯টি শট করে ৫টি রাখে লক্ষ্য বরাবর।
প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় মাত্র ৪ মিনিট। শুরুতে দলকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। বিরতিতে যাওয়ার আগে চমৎকার কারিকুরিতে দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। অ্যাসিস্ট করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার।
আর্জেন্টিনার হয়ে এটি মেসির ১১৬তম গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের সংখ্যায় তার সামনে শুধু ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ১৪৩ গোল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই তৃতীয় গোলের দেখা পেয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন থিয়াগো আলমাদা। পেনাল্টির বাঁশি বাজানো হলে নিখুঁত শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ওতামেন্ডি।
আরও পড়ুন
| ইতালির ঔদ্ধত্যের জবাব মাঠেই দিয়েছে বসনিয়া |
|
৬৫ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেন এনজো ফার্নান্দেস। তবে তার বাঁকানো শট ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন জাম্বিয়া গোলরক্ষক। ৩ মিনিট পর আলমাদার শট থামানোর চেষ্টায় নিজেদের জালে প্রবেশ করান ডমিনিক চান্ডা।
হালি পূরণের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকেও তুলে নেন স্কালোনি। একাদশে করেন কয়েকটি পরিবর্তন। পরে ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ২১ বছর বয়সী বার্কো। একইসঙ্গে নিশ্চিত হয় দলের বড় জয়।

অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিল ইতালি। তাদের উল্টো দুঃখের অথৈ সাগরে ভাসিয়ে দিল বসনিয়া। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফের ফাইনালে টাইব্রেকারে জেনোরি গাত্তুসোর দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটল বসনিয়া।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় টাইব্রেকারে গড়ায়। যেখানে ইতালির পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তানন্তে দুটি শট মিস করায় শেষ হাসিটা হাসে বসনিয়া।
টাইব্রেকারে প্রথম শট নেন বসনিয়ার বেঞ্জামিন তাহিরভিচ। তার বাঁ-দিকে নেওয়া শট বেশ সুন্দরভাবেই জালে জড়ায়। তবে প্রথম শট নিতে এসে ইতালির পিও এসপোসিতো গড়বড় করে বসেন। বারের ওপর দিয়ে বল পাঠান তিনি।
দ্বিতীয় শটটি সেভ করতে পারেননি জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা। আর ইতালির দ্বিতীয় শট নিতে এসে টোনালি আর ভুল করেননি।
২-১ গোলে পিছিয়ে থাকার পর তৃতীয় শটে গোল কনসিভ করে ইতালি। ডান দিকে নেওয়া শট নেওয়া হলেও বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন ম্যানচেস্টার সিটি গোলকিপার।
চতুর্থ শটে এসে আবারও গোল আদায় করে বসনিয়া। তাকে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় । চতুর্থ শট দোনারুম্মা মিস করেন। আর শেষ ব্রায়ান মিস করলে স্বপ্নভঙ্গ হয় ইতালির।
এর আগে নিকোলাস ভাসিলজের
ভুলে ম্যাচের ১৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইতালি। বল রিসিভের পর তার দুর্বল ক্লিয়ারেন্স পৌঁছে
যায় নিকোলো বারেল্লার কাছে। দ্রুতই তা মইজে কিনকে পাস দেন তিনি। সুযোগের
সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেননি ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ড। দারুণ এক শটে বসনিয়ার জালে
বল জড়ান তিনি। তাতেই বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচঘড়ির ১৫ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইতালি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৭৯তম মিনিটে
তাবাকোভিচ বসনিয়াকে সমতায় ফেরান। জেকোর হেড প্রথমে রুখে দেন দোনারুম্মা। কিন্তু ফিরতি
বল পেয়ে হারিস তাবাকোভিচ সেটি জালে জড়িয়ে দেন।
এর আগে অবশ্য ৫৯ মিনিটে
মইজে কিনের জোড়া গোলের সুযোগ ছিল। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে বসনিয়ার ডি বক্সের কাছে
চলে যান ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড। গোলকিপারের সেঙ্গ ওয়ান টু পজিশনেও ছিলেন। তবে গড়বড় করে
বসেন। তার লং রেঞ্চের শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
৯০ মিনিট সমতায় থাকায় বাড়তি
সময় দেন রেফারি। সেখানেও কোনো দল এগিয়ে যেতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়।