
সারা দেশে ফুটবল জাগিয়ে তুলতে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ১৮ কোটি টাকার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। মুন্সিগঞ্জের শহীদ মীর মুগ্ধ স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করে মাদারীপুর জেলা।
তারুণ্যের উৎসবের ব্যানারে নামকরণ করা হয় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পাইপলাইন শক্ত হবে।
প্রায় চার বছর পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ফের মাঠে গড়াল। অংশ নিচ্ছে ৬৪ জেলা দল। আটটি পটে বিভক্ত করা হয়েছে জেলাগুলোকে। পটগুলোর নামকরণ করা হয়েছে জুলাই শহীদদের নামানুসারে। তাদের প্রতি স্মরণ রেখেই নিজের বক্তব্য শুরু করেন তাবিথ।
আরও পড়ুন
| তাসকিনের ৪ উইকেট, ১৩৭ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের |
|
“৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশের একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। তরুণ প্রজন্ম বারে বারে বলেছে আমরা পিছিয়ে থাকব না। তারই একটা লক্ষ্য নিয়ে ফুটবলকে নতুনভাবে আমরা ঢেলে সাজাতে সক্ষম হয়েছি। তারুণ্যের উৎসবের ব্যানারে বাফুফের নবনির্বাচিত কমিটির উদ্যোগ আবার আন্তঃজেলা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে শুরু হতে যাচ্ছে।”
বাফুফের পরিকল্পনা আরও বড়। এই প্রতিযোগিতা চলার মধ্যেই মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৪ নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। সামনে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ করার কথাও শোনা গেছে। প্রতি জেলায় ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাবিথ। তাতে ঘরোয়া লিগ ও টুর্নামেন্ট শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।
“আমরা একদিকে নজর রাখতে চাচ্ছি না। আন্তঃজেলা ফুটবলের মাধ্যমে জেলাতেও লিগগুলো এবং ঘরোয়া লিগ শক্তিশালী হবে। এই লিগ গুলো থেকে যেন আন্তর্জাতিকভাবে কিছু না কিছু খেলোয়াড় বাইরে খেলার সুযোগ পায়। এরকম খেলা থেকে জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা একটা স্ট্রং পাইপলাইন নিশ্চয়ই পাব।”
আরও পড়ুন
| ক্রোয়েসকে ফিরিয়ে তাসকিনের ৪ উইকেট |
|
এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপিকে। নিজের স্বাগত বক্তব্যে এদিন তিনিও সুর মিলিয়েছেন বাফুফে সভাপতির সঙ্গে। বলেছেন এই টুর্নামেন্ট থেকে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে।
খেলাটাকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবেই এবার বড় বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছে বাফুফে। সামনে সেটি আরও বড় আকারে করার ইচ্ছার পোষণ করে তাবিথ আউয়ালের বর্তমান কমিটি।
“যেকোনো খেলা আমরা কোয়ালিটি মেইনটেইন করার জন্য করে থাকি। সেখানে অর্থনীতি অবশ্যই একটা বড় বিষয়। যে বাজেট নিয়ে আমরা প্রথমবারের মতো শুরু করেছি, চেষ্টা করব আরও বাড়ানোর জন্য।”
আরও পড়ুন
| তাসকিনের তৃতীয় শিকার কাইল ক্লেইন |
|
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছে বাফুফে। বাজেটের ১৮ কোটি টাকার মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আলাদা আলাদাভাবে ৫ কোটি করে মোট ১০ কোটি টাকা দিচ্ছে ফুটবল ফেডারেশনকে।
মুন্সিগঞ্জের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ছাড়াও ছিলেন ফেডারেশনের একাধিক সদস্য। এছাড়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সভাপতি এবং বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মুন্সিগঞ্জের বিপক্ষে মাঠে নামে মাদারীপুর জেলা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে মুন্সিগঞ্জ ২-১ গোলে হারায় মাদারীপুর জেলাকে।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সময়টা এখন চরম অস্থিরতার। টানা দ্বিতীয় মৌসুম কোনো বড় ট্রফি ছাড়াই শেষ করার পথে থাকা ক্লাবের ভেতরে এখন পরিবর্তনের জোর হাওয়া বইছে। আরও একটি ব্যর্থ মৌসুমের পর বড় পরিবর্তনের পথে লস ব্লাঙ্কোসরা। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বিদায় নিতে পারেন একঝাঁক তারকা!
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ওন্ডা সেরো’-র বরাত দিয়ে ‘মাদ্রিদ এক্সট্রা’ জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের নীতিনির্ধারকরা স্কোয়াডে বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ক্লাবটির বেশ কয়েকজন বড় নাম এবার ক্লাব ছাড়তে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
২০২৫-২৬ মৌসুমটি রিয়ালের জন্য ছিল রীতিমতো বিভীষিকা। শুরুতে জাভি আলোনসোর হাত ধরে যাত্রা শুরু হলেও মাঝপথে দায়িত্ব নেন আলভারো আরবেলোয়া। কিন্তু কোচ বদলালেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। গত আসরের মতো এবারও ট্রফিহীন থাকতে হচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। বিশেষ করে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাবের ভেতরে আলোচনা আরও গতি পেয়েছে।
কারা আছেন বিদায়ের তালিকায়? রক্ষণ থেকে আক্রমণ - সবখানেই পরিবর্তনের হাওয়া: রিয়াল মাদ্রিদ কি এক নতুন বিপ্লবের পথে? বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে নিয়ে। বায়ার্নের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ২৫ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে তাঁর মাঠ ছাড়াটা ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেশ ক্ষুব্ধ করেছে। বড় ম্যাচে তাঁর এমন খামখেয়ালি আচরণ এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাব তাঁর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছেন রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ তারকারা। বিশেষ করে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় ক্লাব অধিনায়ক ও প্রবীণ ডিফেন্ডার দানি কারভাহালের সাথে রিয়ালের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি ঘটার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রিয়ালে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং দলের প্রতি অবদান থাকলেও বয়স এবং বর্তমান ছন্দের কারণে তাঁকে বিদায় জানানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবছে রিয়াল।
রক্ষণভাগ নিয়ে রিয়ালের পরিকল্পনা বেশ ব্যাপক। লেফট-ব্যাক পজিশনে বর্তমানে আলভারো কারেরাস, ফ্রান গার্সিয়া এবং ফেরল্যান্ড মেন্ডি - এই তিন জন বিকল্প রয়েছেন। স্কোয়াডকে আরও গতিশীল ও ভারমুক্ত করতে এই তিন জনের মধ্য থেকে অন্তত একজনকে ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
সেন্টার-ব্যাক পজিশনেও কাটছাঁট চলছে। আন্তোনিও রুডিগার এবং ডেভিড আলাবা - উভয়েরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও রুডিগারকে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে কিছুটা আশাবাদী ক্লাব। তবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডেভিড আলাবার বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
রিয়ালের আক্রমণভাগেও পরিস্থিতি বেশ জটিল। লিওঁ থেকে লোনের মেয়াদ শেষে এন্দ্রিক ফিরলে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই আরও তীব্র হবে। ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো এবং গনজালো গার্সিয়ার মতো তরুণ প্রতিভারা নজরে থাকলেও আপাতত তাদের ভবিষ্যৎ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু-র বাইরেই দেখা যাচ্ছে। এন্দ্রিকের মতো একই মডেলে মাস্তানতুয়ানোকে অন্য কোনো ক্লাবে লোনে পাঠানোর কথা ভাবছে রিয়াল। অন্যদিকে, গনজালো গার্সিয়াকে স্থায়ীভাবে বিক্রি করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তাঁর স্বত্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ রিয়াল নিজেদের কাছেই রাখবে।
সব মিলিয়ে ইঙ্গিত পরিষ্কার - আগামী মৌসুমে এক শক্তিশালী ও নতুন রিয়াল মাদ্রিদ গড়ার লক্ষ্যে আমূল সংস্কারের পথে হাঁটছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ‘কোর্নেয়া’ কিনে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বার্সেলোনায় অবস্থিত কাতালান ক্লাবটি ফুটবলার তৈরির আতুড়ঘর। খেলোয়াড় তৈরির উন্নত একাডেমির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। জর্দি আলবা এবং জেরার্ড মার্তিনের মতো তারকাদের পাশাপাশি আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াও এই একাডেমিরই ফসল।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘লিওনেল মেসির আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর লক্ষ্য হলো ক্লাবের ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রকল্পটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও স্থায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় শিকড়ের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রাখা হবে।’
বার্সেলোনার সাবেক তারকা জর্দি আলবা ২০১২ সালে ন্যু-ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে কোর্নেয়া একাডেমিতে ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। ইলিয়ে সানচেজও এই একাডেমি থেকে উঠে এসে বার্সেলোনার ‘বি’ দলে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি এমএলএস-এর ক্লাব অস্টিন এফসিতে খেলছেন।
ইউরোপীয় কোনো ফুটবল ক্লাবের মালিকানায় এটিই মেসির প্রথম পদার্পণ হলেও, ক্লাব মালিকানায় এটি তাঁর প্রথম বিনিয়োগ নয়। তিনি উরুগুয়ের পেশাদার দল দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন ইন্টার মায়ামি ও বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ।
কোর্নেয়াতে মেসির এই বিনিয়োগ মূলত যুব ফুটবলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারেরই অংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর ২০২৫-এ চেজ স্টেডিয়ামে
অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অংশগ্রহণে প্রথম ‘মেসি কাপ’ আয়োজন করেছিলেন তিনি।

২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ লড়বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে। মিকেল আরতেতা এবং দিয়েগো সিমিওনে—উভয়ই আর্সেনাল ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে ফাইনালে তোলার জন্য নিজেদের সেরা কৌশল উজাড় করে দেবেন।
সেমিফাইনালের এই ডামাডোলের মাঝেই অপটার সুপারকম্পিউটার চালিয়েছে বিশেষ এক গাণিতিক বিশ্লেষণ। যেখানে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট এবং শিরোপাজয়ীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সুপারকম্পিউটারের এই ‘প্রিডিকশন’ অনুযায়ী, এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে আর্সেনাল। গানারদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৬.৭৫ শতাংশ।
আর্সেনালকে এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪.৬১ শতাংশ। যা আর্সেনালের একদম কাছাকাছি।
পিএসজি তালিকার তৃতীয় স্থানে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ১৯.৩৫ শতাংশ। আর সিমিওনের শিষ্যরা এবারও ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই লড়াই শুরু করবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। মাত্র ৯.২৯ শতাংশ।
শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সেমিফাইনালের দ্বৈরথগুলোতেও নির্দিষ্ট দলকে এগিয়ে রেখেছে গাণিতিক এই মডেল। আগামী ২৮ এপ্রিল হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ। যেখানে বায়ার্নের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬১.২৮ শতাংশ বলা হয়েছে। পরের দিন অর্থাৎ বুধবারের লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আর্সেনাল। পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে গানারদের জয়ের সম্ভাবনা বিশাল—প্রায় ৭৩.৪০ শতাংশ।
সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাসে আর্সেনাল এবং বায়ার্ন মিউনিখকে ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হলেও, ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। বিশেষ করে আতলেতিকোর মতো রক্ষণাত্মক কৌশলে পারদর্শী দল কিংবা পিএসজির বিধ্বংসী আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারে সব গাণিতিক হিসাব।

এশিয়ান কাপের দুটি আসরে খেলে এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে চোখ করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এবারের সাফ গড়াবে ভারতের গোয়ায়। এই টুর্নামেন্টের জন্য ক্যাম্প এবং প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে। সাফের আগে চট্টগ্রাম এরপর থাইল্যান্ডে মিলিয়ে এক মাসের ক্যাম্প করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন হবে মেয়েদের সাফ। এবার থাকছে না পাকিস্তান। ৬ দল নিয়েই হবে প্রতিযোগিতা। এই আসরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। পরপর দুটি সাফ জেতায় এবার মনিকা, মারিয়াদের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখন বাকি এক মাসের চেয়ে একটু বেশি সময়। বাংলাদেশ দল নিয়ে চার সপ্তাহের একটি অনুশীলন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে শোনা যায়।
আজ গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। সাফের আগে মেয়েদের ক্যাম্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই সপ্তাহের জন্য থাইল্যান্ড কিংবা চীনে ক্যাম্প করব। আপনারা জানেন ফিফা উইন্ডোর বাইরে দলগুলোর সঙ্গে খেলা আয়োজন করা সম্ভব না। তাই ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে যদি স্থানীয় লিগের কোনো দলের বিপক্ষেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারি সেটার আয়োজন করব। এ নিয়ে কথা হচ্ছে।’ দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান বলে জানান তিনি। তবে প্রধান কোচ পিটার বাটলারের পছন্দ থাইল্যান্ড।
দেশের বাইরে ক্যাম্প করার আগে চট্টগ্রামে ১০ দিনের একটি ক্যাম্প করার কথাও রয়েছে বলে জানান ফাহাদ করিম। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে ঢাকায় দুই দিন অনুশীলন করে দল যাওয়ার কথা দেশের বাইরে। থাইল্যান্ড কিংবা চীন, যেখানেই হোক সেখান থেকেই ক্যাম্প শেষ করে মেয়েরা সরাসরি পৌঁছাবে ভারতে। ২৫ মে টুর্নামেন্ট শুরু। বাংলাদেশ দল যাবে ২১-২২ মে।
এর আগে মার্চে বাংলাদেশ সিনিয়র নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় খেলে আসে এশিয়ান কাপ। প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে মাঠ ছাড়েন ঋতুপর্ণা চাকমারা। এ মাসে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বসে থাইল্যান্ডে। সেখানেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেননি আফঈদা খন্দকাররা, বিদায় হয়েছে তাই গ্রুপ স্টেজ থেকে। এবারই প্রথম বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করে এশিয়ান কাপে। দুটি প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও কোচ পিটার বাটলারের ওপর আস্থা রাখছে বাফুফে।

জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ চেয়ে গত ৯ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ২৫০টিরও বেশি। এটিকে খুবই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। আজ সাংবাদিকদের এমনটা বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে এরই মধ্যে নামকরা অনেকে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। এবার ফুটবল বিশ্বকাপে নাম লেখানো এল সালভাদরের এক সময়ের হেড কোচ ডেভিড ডোনিগার আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। এই তালিকায় আছেন লেবাননের সাবেক হেড কোচ মিওদ্রাগ রাদুলোভিচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারানো লেবাননের ডাগআউটে ছিলেন মন্টেনিগ্রোর এই কোচ। এছাড়াও ৬টি দেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো জার্মান কোচ অ্যান্টইন হে’র মতো হাইপ্রোফাইল কোচও আবেদন করেছেন বাফুফেতে।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে এত আবেদন দেখে কিছুটা অবাক সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও। বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমি খোঁজ নিয়েছি যে কয়টা আবেদন পড়েছে এবং আপনারা জেনে খুশি হবেন এটা অবিশ্বাস্য; ২৫০ এর অধিক আবেদন পড়েছে। আমি মনে করি এটাও কিন্তু ফুটবলের একটা অনেক বড় অর্জন; যে আমাদের জাতীয় দলের জন্য এত লোক আবেদন করেছে। আমাদের জন্য এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।’
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেছেন স্থানীয় দুই কোচ- আবাহনীর বর্তমান কোচ মারুফুল হক এবং জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। বাংলাদেশ কেমন কোচ চায়, ফুটবল পাড়ার এটা এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। ক’দিন আগে বাফুফে সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ এশিয়ান অঞ্চলের কোচ নিতে চায়। শেষ পর্যন্ত কোচ নিয়োগের বিষয়টি তিনিই দেখবেন। ফাহাদ করিম বলেন, ‘২৫০ থেকে খুব সম্ভবত ৫০ জনের একটা পুল করা হবে। তারপর অবশ্যই আমাদের সভাপতি নিজে সাক্ষাৎ নেবেন। কারণ এই পর্যায়ে সাক্ষাৎকার তিনি নিজে নেন।’