
অনেকের মতে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলকেই পূর্ণতা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। সোনায় মুড়িয়ে রাখার মতো ক্যারিয়ারে এই এক শিরোপাই অধরা ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকার। কাতারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ষোলোকলা পূর্ণ করেন মেসি। চাইলে তো তখনই অবসরের ঘোষণা দিতে পারতেন ইন্টার মায়ামির মহাতারকা। তবে উপভোগের মন্ত্রকে বেছে নেন সর্বজয়ী মেসি।
দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের এবারের বিশ্বসেরাদের আসরও মাতাবেন মেসি, সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের ভক্তকূল তো সেদিকেই চেয়ে আছে। ৩৮ বছর বয়সী মেসিও যে মুখিয়ে আছেন বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি ধরে রাখার অভিযানে নামতে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলতে চান রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপ নিজের ভাবনার কথা বলেন মেসি। আগামী বছরের জুনে ৩৯ এ পা দেবেন মেসি। বয়সের বিষয়টি মাথায় রেখেই বিশ্বকাপে খেলতে আশাবাদী মেসি বলেন,
‘বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়াটা অসাধারণ কিছু, এবং আমি চাই তা করতে।’
তবে এখনই সবকিছু নিশ্চিত করছেন না মেসি। শতাভাগ ফিট থেকেই দলের সঙ্গী হতে চান তিনি,
‘আমি চাই সেখানে থাকতে। জাতীয় দলকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই বিশ্বকাপে যেতে চাই। পরের বছর ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রাকমৌসুম শুরু করার সময় একদিন একদিন করে দেখব যে আমি সত্যিই শতভাগ ফিট আছি কিনা। জাতীয় দলের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতেপারছি কিনা, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।'
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারা মেসির জন্য এখনো স্বপ্নের মতোই,
‘অবশ্যই আমি খুব উত্তেজিত, কারণ এটি একটি বিশ্বকাপ। আমরা সবশেষ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। মাঠে আবার সেই শিরোপা ধরে রাখতে পারা অসাধারণ ব্যাপার হবে। জাতীয় দলের সঙ্গে খেলা সবসময়ই একটি স্বপ্ন, বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে।’
বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মেসি। আছেন দারুণ ছন্দে। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নিয়মিত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে প্রথমবারের মতো এমএলএস গোল্ডেন বুট জিতেছেন। লিগটিতে প্রতিনিয়তই করে যাচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। সবশেষ ম্যাচেও পেয়েছেন জোড়া গোল। মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নৈপুণ্যে এমএলএস কাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ন্যাশভিলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ৩–১ গোলে জিতেছে মায়ামি। ছন্দের এই ধারা বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার মিশনেই যে আছেন মেসি।
No posts available.
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১:৫৫ পিএম

জুভেন্টাস ম্যাচে মুখে মারাত্মক আঘাতের ফলে সিরি’আ লিগে মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে খেলা হবে না ক্রোয়েট মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের।
সোমবার ক্রোয়েশিয়ান গণমাধ্যম ‘স্পোর্টসকে নভোস্তি’ জানিয়েছে, লুকা মদরিচের গালের হাড়ে জোড়া ফাটল ধরা পড়েছে। এসি মিলানের হয়ে তার এই মৌসুম শেষ হয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের আগে এই চোটের খবর বেশ উদ্বেগজনক হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সুরক্ষামূলক মাস্ক পরেই মাঠে নামবেন মদরিচ। তবে তার সুস্থ হতে কেমন সময় লাগবে বা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচে লোকাত্যাল্লির সঙ্গে সংঘর্ষে মুখে প্রচণ্ড আঘাত পান মদরিচ। সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় মচরিচের মুখে বরফ দেওয়া ছিল।

আরও একটি মাহেন্দ্রক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) তথা লুইস এনরিকে। ফরাসি জায়ান্টদের মতো স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ডের সামনেও অপেক্ষমান ইউরোপসেরা টুর্নামেন্ট ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। শিরোপার মঞ্চের বড় প্রতিবন্ধক—সেমিফাইনালে (ফাস্ট লেগ) আগামীকাল বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে পিএসজি।
পিএসজির ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রাঁসে বাংলাদেশ সময় রাত একটার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন পিএসজি বস এনরিকে। তার মতে, ইউরোপের সেরা দুইটি দল—পিএসজি ও বায়ার্ন। তবে পিএসজির চেয়ে কোনো দলই সেরা এবং ধারাবাহিক নয়।
এনরিকে বলেন,
‘আর্সেনাল দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটালেও বর্তমানে ইউরোপের সেরা দুটি দল হলো এই বায়ার্ন ও পিএসজি। আর ধারাবাহিকতার দিক থেকে বায়ার্ন হয়তো আমাদের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু আমরাও প্রমাণ করেছি যে, কোনো দলই আমাদের চেয়ে সেরা নয়।’
২০২৩ সালে এনরিকে কোচ হওয়ার পর এ নিয়ে টানা তিনবার সেমিফাইনালে উঠেছে পিএসজি। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর এবার তারা টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। নকআউট পর্বের আগের দুই রাউন্ডে চেলসি ও লিভারপুলকে হারিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে তারা।
এনরিকে বলেন,
‘সেমিফাইনালে ওঠাটা আনন্দের এবং আমরা এর যোগ্য। এই পর্যায়ে আসতে হলে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হয় এবং আমার মনে হয় আমাদের তা আছে। আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
গত মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পিএসজি ও বায়ার্ন তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে লিগ পর্বে বায়ার্ন ১-০ গোলে জিতেছিল। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি ২-০ গোলে জয় পায়। তবে সর্বশেষ নভেম্বরে প্যারিসের মাটিতে বায়ার্ন ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল। সর্বোপরি এনরিকে জানান, সবাই এখন প্রস্তুত।

বাংলাদেশ ফেডারেশন কাপের ‘এ’ গ্রুপে ভিন্ন দুই ম্যাচে আগামীকাল রেকর্ড শিরোপাধারী ঢাকা আবাহনীর মুখোমুখি হবে পিডব্লিউডি স্পোর্টিং ক্লাব এবং রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিপক্ষ ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচ দুটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতে আকাশী-হলুদদের প্রতিপক্ষ পিডব্লিউডি। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে টেবিলের দুইয়ে থাকা রহমতগঞ্জের মুখোমুখি হবে গ্রুপের তলানিতে থাকা ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) টানা পাঁচ জয়ে দ্বিতীয়স্থান অর্জন করা সাবেক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ফেড কাপে বেশ বেকাদায়। এখন পর্যন্ত একটি করে জয়, পরাজয় এবং হার তাদের। গত ২৫ ডিসেম্বর নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের পর ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল ব্রাদার্সের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বসে তারা। আশার দিক হচ্ছে, গত ১০ মার্চ অর্থাৎ নিজেদের সবশেষ ম্যাচে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে এখনও আশা টিকে আছে মারুফুল হকের দলের।
পিডব্লিউডি কেবল খাতা কলমে টিকে আছে। কারণ, এক গ্রুপ থেকে কেবল দুটি দলের প্লে-অফে ওঠার সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে অবস্থান পোক্ত ব্রাদার্স ইউনিয়নের। এক ড্রয়ের বিপরীতে তিন জয়ে তাদের পয়েন্ট ১০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রহমতগঞ্জ থেকে তারা পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে।
রহমতগঞ্জের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে আবাহনী। রহমতগঞ্জের পয়েন্ট ৫। ২ ড্র এবং ১ জয় তাদের। তবে আগামীকাল সহজ প্রতিপক্ষ ফকিরেরপুলের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পারলে যদি-কিন্তু ছাড়াই দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফের টিকিট কাটবে রহমতগঞ্জ।
আবাহনীর জন্য আগামীকালকের ম্যাচটি অনেকটা ডু অর ডাই। শুধু জিতলেই আশা বেঁচে থাকবে না। তাকিয়ে থাকতে হবে রহমতগঞ্জ ও ফকিরেরপুলের ম্যাচের দিকেও। টেবিলে মাত্র এক জয় এক ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট আদায় করা আবাহনী কাল পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করলে তাদের পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়াবে ৭। আর যদি রহমতগঞ্জও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করে, তাদের পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়াবে ৯। সেক্ষেত্রে জিতেও আখের লাভ কিছুই হবে না। বরং নিজেদের জয়ের পাশাপাশি রহমতগঞ্জের হার অথবা ড্র কামনা করতে হবে মারুফুল হকের দলের।

লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিফাইনালে চেলসিকে জেতানোর মূল কারিগর ছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে দলকে জেতানো এই আর্জেন্টাইন তারকার এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গতকাল ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এবং জয়সূচক গোলটি করেন এনজো।
কয়েকদিন আগেই রিয়াল মাদ্রিদের প্রশংসা করায় এনজোকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল চেলসি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। মাঠে ফিরেই অসাধারণ গোলে কড়া জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
আরও পড়ুন
| অনুশীলনে নেই নেইমার, সান্তোসে চাপা আতঙ্ক |
|
দলের নিয়মিত অধিনায়ক রিস জেমসের অনুপস্থিতিতে আর্মব্যান্ড ছিল এনজোর হাতে। চেলসির মাঝমাঠে ময়েসেস কাইসেদো ও রোমিও লাভিয়ার কিছুটা ওপরে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলছিলেন তিনি। নিজের নতুন এই পজিশনে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন, তা ম্যাচের একমাত্র গোলটি করার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়েছে। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাঁর ১৩তম গোল।
ম্যাচ শেষে চেলসির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেন প্রশংসায় ভাসালেন শিষ্য এনজোকে, ‘এনজো একজন জাত বিজয়ী। তার মধ্যে ফুটবলের দারুণ প্রতিভা ও লড়াকু মানসিকতা রয়েছে। সে দলের জন্য বিশাল এক শক্তি। তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে সব ধরনের কাজ করতে পারে। যখন খেলা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তার ভেতরের লড়াইটা দেখা যায়।’
মাঠের কৌশল নিয়ে ম্যাকফারলেন বলেন, ‘আমরা এনজোর গোল করার সক্ষমতার ওপর অনেক ভরসা করি। গত কয়েক বছরে সে বিভিন্ন পজিশনে খেলেছে। কখনও নিচে নেমে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে, আবার কখনও আক্রমণভাগে। সে বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের জন্য সবসময়ই ত্রাস। বিশেষ করে ডান দিক থেকে আক্রমণ এলে তার সঠিক সময়ে বক্সে ঢুকে পড়া এবং নিখুঁত হেডিং কৌশল সত্যিই অসাধারণ।’
ম্যাচ সেরা হওয়া এনজোর প্রশংসা করার পাশাপাশি কোচ রক্ষণভাগ নিয়ে নিজের কঠিন সিদ্ধান্তের কথাও জানান। জোরেল হাটো ফর্মে থাকা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ তোসিন আদাবায়োকে কেন খেলানো হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটি আমার জন্য অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। হাটো গত কয়েকটি ম্যাচে সেরা খেলেছে, কিন্তু প্রতিপক্ষের আকাশপথের আক্রমণ ও সেট পিস সামলানোর জন্য তোসিনই ছিল সেরা পছন্দ। সে একজন দারুণ নেতা।’
লিডস ইউনাইটেডকে হারিয়ে চেলসি এখন এফএ কাপের শিরোপার খুব কাছে। আগামী ১৬ মে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে শিরোপা লাড়াইয়ে মাঠে নামবে ব্লুজরা।

হুয়েস্কার বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর প্রতিপক্ষ অধিনায়কের মুখে সজোরে ঘুষি মারেন রিয়াল সারাগোসার এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। স্প্যানিশ ফুটবলে এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্প্যানিশ ফুটবলে এক দুর্ঘটনার ঘটালেন রিয়াল সারাগোসার গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা। গতকাল হুয়েস্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে সরাসরি ঘুষি মেরে বসেন এই আর্জেন্টাইন। এই ঘটনার পর আন্দ্রাদাকে এখন দীর্ঘমেয়াদী ও ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের এই ম্যাচটি অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ের কারণে আগে থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। খেলার প্রথমার্ধে পেনাল্টি ঠেকিয়ে সারাগোসাকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন বোকা জুনিয়র্সের সাবেক এই ফুটবলার। তবে ম্যাচের শেষ দিকে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। দলের ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার মুহূর্তে হুয়েস্কার এক ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। কিন্তু নাটকীয়তা তখনো বাকি ছিল।
আরও পড়ুন
| ঘুষি মেরে লাল কার্ড পেলেন দুই দলের গোলকিপার |
|
মাঠ ছাড়ার আগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আন্দ্রাদা তেড়ে যান হুয়েস্কা অধিনায়ক পুলিদোর দিকে, তাঁর মুখে সজোরে আঘাত করেন। এই ঘটনায় মাঠের ভেতর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। আন্দ্রাদার ঘুষিতে পুলিদোর মুখ ফুলে যায়, আঘাতটি বেশ গুরুতর ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
এই ঘটনার পর চারদিকে বইছে সমালোচনার ঝড়। রিয়াল সারাগোসার অধিনায়ক ফ্রাঞ্চো সেরানো ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ‘সারাগোসা এই ধরনের আচরণ সমর্থন করে না। যা ঘটেছে তার জন্য আমরা লজ্জিত।’ সারাগোসা কোচ ডেভিড নাভারোও এই ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে জনরোষের মুখে পড়ে মুখ খুলেছেন খোদ আন্দ্রাদা। নিজের কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এটি ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমার এমনটা করা উচিত হয়নি।’ নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এর আগে তিনি কখনোই এমন উগ্র আচরণ করেননি। স্রেফ মুহূর্তের উত্তেজনায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর গুঞ্জন, সারাগোসা কর্তৃপক্ষ হয়তো এই মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে আন্দ্রাদাকে আর মাঠে নামাবে না, এমনকি তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও বাতিল হতে পারে। লিগ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্দ্রাদাকে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা ও লম্বা সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে। ফুটবল বিশ্বে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের এমন আচরণকে কোনোভাবেই সহজভাবে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।