
অনেকের মতে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলকেই পূর্ণতা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। সোনায় মুড়িয়ে রাখার মতো ক্যারিয়ারে এই এক শিরোপাই অধরা ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকার। কাতারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ষোলোকলা পূর্ণ করেন মেসি। চাইলে তো তখনই অবসরের ঘোষণা দিতে পারতেন ইন্টার মায়ামির মহাতারকা। তবে উপভোগের মন্ত্রকে বেছে নেন সর্বজয়ী মেসি।
দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের এবারের বিশ্বসেরাদের আসরও মাতাবেন মেসি, সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের ভক্তকূল তো সেদিকেই চেয়ে আছে। ৩৮ বছর বয়সী মেসিও যে মুখিয়ে আছেন বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি ধরে রাখার অভিযানে নামতে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলতে চান রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপ নিজের ভাবনার কথা বলেন মেসি। আগামী বছরের জুনে ৩৯ এ পা দেবেন মেসি। বয়সের বিষয়টি মাথায় রেখেই বিশ্বকাপে খেলতে আশাবাদী মেসি বলেন,
‘বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়াটা অসাধারণ কিছু, এবং আমি চাই তা করতে।’
তবে এখনই সবকিছু নিশ্চিত করছেন না মেসি। শতাভাগ ফিট থেকেই দলের সঙ্গী হতে চান তিনি,
‘আমি চাই সেখানে থাকতে। জাতীয় দলকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই বিশ্বকাপে যেতে চাই। পরের বছর ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রাকমৌসুম শুরু করার সময় একদিন একদিন করে দেখব যে আমি সত্যিই শতভাগ ফিট আছি কিনা। জাতীয় দলের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতেপারছি কিনা, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।'
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারা মেসির জন্য এখনো স্বপ্নের মতোই,
‘অবশ্যই আমি খুব উত্তেজিত, কারণ এটি একটি বিশ্বকাপ। আমরা সবশেষ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। মাঠে আবার সেই শিরোপা ধরে রাখতে পারা অসাধারণ ব্যাপার হবে। জাতীয় দলের সঙ্গে খেলা সবসময়ই একটি স্বপ্ন, বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে।’
বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মেসি। আছেন দারুণ ছন্দে। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নিয়মিত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে প্রথমবারের মতো এমএলএস গোল্ডেন বুট জিতেছেন। লিগটিতে প্রতিনিয়তই করে যাচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। সবশেষ ম্যাচেও পেয়েছেন জোড়া গোল। মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নৈপুণ্যে এমএলএস কাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ন্যাশভিলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ৩–১ গোলে জিতেছে মায়ামি। ছন্দের এই ধারা বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার মিশনেই যে আছেন মেসি।
No posts available.
৮ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম
৮ মার্চ ২০২৬, ৪:১৬ পিএম
৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

এএফসি উইমেন’স এশিয়া কাপে ‘এ’ গ্রুপ থেকে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। রবিবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। ম্যাচটি ৩-৩ ব্যবধানে ড্র হয়েছে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপসেরা হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে।
‘এ’ গ্রুপের বাকি দু’দল ফিলিপাইন ও ইরান মুখোমুখি হয়েছিল ভিন্ন ম্যাচে। গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামের সে ম্যাচ জয়ে রাঙিয়েছে ফিলিপাইন। এ জয়ে সুপার এইটের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রেখেছে তারাও।
গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষ দল দক্ষিণ কোরিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে গ্রুপ ‘বি’ অথবা ‘সি’-এর তৃতীয় হওয়া দলের বিপক্ষে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘বি’-এর রানার্স-আপ দল।
রোমাঞ্চকর এই ম্যাচটি দেখেছেন ৬০ হাজার ২৭৯ জন দর্শক, যা টুর্নামেন্টের নতুন রেকর্ড। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের লড়াই দেখতে মাঠে এসেছিলেন ৪৪ হাজার ৩৭৯ জন দর্শক—যা ছিল আগের সর্বোচ্চ।
সিডনিতে ম্যাচঘড়ির ১৩তম মিনিটে লিড নেওয়া দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমার্ধে হজম করে দুইটি গোল। ৩২তম মিনিটে আলাইনা কেনেডির গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর প্রধমার্ধের যোগ করা সময়ে স্যাম কের দলকে লিড এনে দেন। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই অর্থাৎ ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে স্বস্তি এনে দেন কিম সিং জি। তার ঠিক তিন মিনিট পর কিং চে রিম ৩-২ লিড এনে দেন দক্ষিণ কোরিয়াকে। এগিয়ে থেকেই ম্যাচের ৯০ মিনিটে পৌছে দ. কোরিয়া। তবে টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলে নিশ্চিত হার থেকে দলকে উদ্ধার করেন কেনেডি। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমের অষ্টম মিনিটে তাঁর গোলে ৩-৩ ব্যবধানে খেলা শেষ করতে পারে।
ম্যাচে স্বাগতিকরা নিজেদের চিরচেনা মাঠে আধিপত্য ধরে রাখে। ৫৭ শতাংশ বল তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। দক্ষিণ কোরিয়ামুখী ১৮টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখে তারা। বিপরীতে ১০টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখে কোরিয়া।
দিনের ভিন্ন ম্যাচে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখার মিশনে টানা তৃতীয় ম্যাচেও হার এড়াতে পারেনি ইরান। ফিলিপাইনের বিপক্ষে তাদের ব্যর্থতার দিনে দুই অর্ধে দুটি গোল হয়েছে। ২৯তম মিনিটে সারা সারা এগেসভিকের গোলে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় ফিলিপাইন। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৮ মিনিট আগে চান্দ্রেই ম্যাক ডানিয়েলের গোলে লিড দ্বিগুণ করে মাঠ ছাড়ে ফিলিপাইন।

বাংলাদেশের
আসল লড়াই কি শুরু তবে এখান থেকে? কারণ টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে থেকেই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত
হয়েছে বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান ম্যাচ নিয়ে। শক্তিধর উত্তর কোরিয়া ও চীনের বিপক্ষে জয়ের
আশা কেউ-ই করেনি। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় উজবেকিস্তানকে হারাবে বাংলাদেশ, এমন স্বপ্ন
দেখেছেন কোটি সমর্থক। সেই স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দিতে পারে আগামীকাল। বিকেল ৩টায় পার্থের
রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ম্যাচের আগেরদিন
তথা আজ সংবাদ সম্মেলনে আসেন দুই দলের কোচ অধিনায়ক। সেখানে বাংলাদেশকে সমীহ করেই কথা
বলেছেন উজবেকিস্তান নারী দলের কোচ কোটরিনা কুলবিতে এবং দলের খেলোয়াড় মিডোরি হোন্ডা।
তবে নিজেরা যে জয়ের জন্য মাঠে নামবেন সেটা বলতে ভুল করেননি। উজবেকিস্তান কোচের কথা,
‘আমরা আমাদের শতভাগ শক্তি দিয়ে আগামীকালকের ম্যাচের
জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা মাঠে
নামব এই ম্যাচটি জেতার
জন্য।’
বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান ম্যাচে যে জিতবে তারই সম্ভাবনা তৈরি হবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত ৭ গোল হজম করেছে, উজবেকিস্তান দুই ম্যাচে করেছে ৬ গোল। সেক্ষেত্রে বড় ব্যবধানের জয়ের লক্ষ্য থাকবে কি না জানতে চাইলে মিডোরি হোন্ডা বলেন,
‘আমাদের লক্ষ্যের কথা বললে, আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। আর গাণিতিক সমীকরণের কথা বললে, সেটা এখন বলা কঠিন কারণ অন্য গ্রুপগুলোতেও অনেক খেলা বাকি।’
বাংলাদেশকে সমীহ করে উজবেকিস্তানের এই খেলোয়াড় বলেন,
‘বাংলাদেশ সম্পর্কে আমি যা বলতে পারি তা হলো— তারা একটি গতিশীল দল। মাঠের পারফরম্যান্সে তারা বেশ বিনয়ী। আমি তাদের খেলা দেখেছি। কিছু দ্রুতগতির খেলোয়াড় আছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে। আমাদের জন্য এটি সহজ ম্যাচ হবে না। এশিয়ান কাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।’
বাংলাদেশি গোলকিপার মিলি আক্তারকে নিয়ে হোন্ডা বলেন,
‘বাংলাদেশ একটি তরুণ দল এবং তাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। তাদের গোলকিপার (মিলি) চমৎকার খেলছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে গোলপোস্টের নিচে সে খুবই সাহসী। তাঁর জন্য অনেক অভিনন্দন।’

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে টানা দুই ম্যাচে হেরে গ্রুপ পর্বে খাদের কিনারায় বাংলাদেশ। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি পিটার বাটলারের শিষ্যদের। তিন নম্বর পজিশনে থেকে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদেরও।
কাল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হিসেবি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরেছে তারা। শক্তি-সামর্থ্য বিবেচনায় এই দুই দল থেকে উজবেকরা কিছুটা সহজ প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের জন্য। তারাও চলতি টুর্নামেন্টে এখনো জয়েরমুখ দেখেনি।
অবশ্য বাংলাদেশের চেয়ে যোজন এগিয়ে উজবেকিস্তানও। ফিফার র্যাঙ্কিং দেখলেও সেটি বেশ স্পষ্ট—৫২ নম্বরে উজবেক, বিপরীতে ১১২ নম্বরে বাংলাদেশ। চমকপ্রদ কিছু দেখাতে পারলে নতুন ইতিহাসও হাতছানি দিচ্ছে বাটলারের দলের সামনে। পার্থে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ অবশ্য জানিয়েছেন, খেলার ফল যা-ই হোক, ভুল কম করতে চান তাঁরা। হার-জিতের চেয়ে প্রথমবার এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করেছে দল—এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আগামীকাল পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের শেষ খেলায় বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান। শিষ্যদের প্রতি বাটলারের পরামর্শ—ইতিবাচক ফুটবল খেলা। বললেন, ‘আমি মনে করি আমরা যেভাবে খেলার চেষ্টা করছি, সে বিষয়ে আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। মেয়েরা ভুল করবে ঠিকই, কিন্তু তারা নতুন কিছু করার চেষ্টা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ তারা গেম প্ল্যান অনুযায়ী খেলছে এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের কাজের ধরণ বা নিয়মগুলো মেনে চলছে।’
আরও পড়ুন
| কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে কাল উজবেকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ |
|
মনিকা চাকমাদের ভুল-শুধরে আরও বাস্তবাদী হওয়ার বার্তা বাটলারের, ‘আমি চাই না মনিকা মাঠের মাঝখানে ড্র্যাগ ফ্লিক করুক। আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তববাদী হতে হবে। তবে আমার মতে সবচেয়ে বড় কথা হলো—হার বা জিত যাই হোক না কেন, তারা যেভাবে অংশগ্রহণ করছে, যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং যেভাবে নিজেদের সামলে নিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে দারুণ লড়াই করেও ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ছিল কিছুটা খাপছাড়া—দলও হেরেছে ৫-০ গোলে। তারপরও এই বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জন্য ছিল অনেক কিছু শেখার।
সে ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দিলেন বাটলার, ‘তারা একটি চমৎকার টুর্নামেন্ট কাটিয়েছে এবং এই টুর্নামেন্ট থেকে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো মেয়েদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে উৎসাহিত করা। তারা এখান থেকে যা শিখবে তা যেন দেশে গিয়ে কাজে লাগাতে পারে, কারণ এটিই ভবিষ্যতে তাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি। যাকে অনেকেই স্বল্পভাষী হিসেবে চেনেন। সংবাদ সম্মেলনে অনেকের মতো কথার ফুলঝুরি ছোটে না তাঁর মুখ থেকে, প্রশ্নের উত্তরগুলোও আসে এক দুই বাক্যে। কিন্তু তা দিয়ে তো আর সাংবাদিকের প্রতিবেদন হয় না। যে কারণে আজ প্রশ্ন হলো আফঈদা কেন এত কম কথা বলে। অধিনায়কের সরল জবাব, ‘মনে হয় যে কথার চেয়ে আগে কাজ করা ভালো।’
আগামীকাল সোমবার ‘বি’ গ্রুপের শেষ খেলায় উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। তার আগে আজ হয়ে গেল প্রি-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্স। সেখানে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে আসেন অধিনায়কও।
বাংলাদেশ থেকে টুর্নামেন্ট কভার করতে যাওয়া একজন সাংবাদিক আফঈদাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার উত্তর দেওয়ার ধরনটা বেশ ভালো। আপনি এক কথায় বা এক লাইনে উত্তর দিতে পছন্দ করেন। এই বিষয়টা কি অনেকটা মুস্তাফিজুর রহমানের (ক্রিকেটার) মতো কি না? উনিও এমন ছোট উত্তর দিতে পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন
| ৯০০ গোলের দোরগোড়ায় মেসি |
|
উত্তরে আফঈদা খন্দকার বলেন, ‘মোস্তাফিজুর ভাই যে অবস্থানে আছেন, উনি ওনার জায়গায় সেরা। আমি উনাকে ফলো করি না। তবে হ্যাঁ, আমি ক্রিকেট খেলা সেভাবে দেখি না। আমার কাছে মনে হয় যে কথার চেয়ে কাজ আগে করা ভালো। কথা বলতে গেলে অনেক কিছু বলা যায়, কিন্তু কাজে অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না। তো কাজ করে দেখালে আর কী, কথা না বললেও চলে।’
কাল বাংলাদেশ ম্যাচটি খেলবে পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে। এর আগের দুই ম্যাচ ছিল সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে। এছাড়া প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ পেয়েছিল সিডনির জুবিলি স্টেডিয়াম। সবগুলো মাঠই দারুণ সুবিধা সম্বলিত, ছবির মতো সুন্দর মাঠ প্রশান্তিও দেয়। বাংলাদেশে থাকতে এমন কোনো মাঠে অনুশীলন করতে পারেননি আফঈদারা। যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার মাঠ দেখে অধিনায়ক আক্ষেপ করেছেন।
আজ সাংবাদিকদের আফঈদা বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি যে আমাদের যদি দেশের মাঠগুলো ভালো থাকে, তাহলে আমরা আরও ভালো প্র্যাকটিস করতে পারব, আমাদের সুবিধা হবে। আমাদের দেশে একটা ভালো মাঠের খুব প্রয়োজন... সেটি যদি খুব তাড়াতাড়ি করা হয় তবে দেশের ফুটবলের জন্য অনেক ভালো হবে।’
বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেল ৩টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশের মেয়েরা। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সোমবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে আফঈদা খন্দকারদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে কারণে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে চাইবে না তারা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
টানা দুই পরাজয়ের পর দুই দলের স্বপ্ন এখন সুতোয় ঝুলছে। একটি জয়ই সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় হওয়া দুই দল পাবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ, আপাতত সেই সুযোগের সন্ধানে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান।
বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই খেলায় চীনের বিপক্ষে ২-০ এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ৫-০ গোলে হেরেছে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটির দিকে ফিরে তাকালে, এটি আমাদের জন্য অনেকটা রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মতো ছিল, তবে ইতিবাচক অর্থে। আমরা কোন স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি তা বুঝতে সাহায্য করেছে ম্যাচটি।’
‘আমাদের কিছু ভালো মুহূর্ত এবং ভালো পারফরম্যান্স ছিল এবং আমরা সেই ইতিবাচক দিকগুলো নিচ্ছি। আগামীকাল আমরা আমাদের নিজেদের স্টাইলের খেলা খেলতে মাঠে নামব। যখন প্রয়োজন হবে তখন আমরা রক্ষণ সামলাব, তবে আমরা প্রেসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার দিকেও নজর দেব।’
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দলের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যাপারে বাটলার আশাবাদী, ‘আশা করি আমরা যে প্রস্তুতি নিয়েছি তা আমাদের ভালো অবস্থানে রাখবে। প্রতিটি দিনই শেখার দিন এবং প্রতিটি দিনই এই দলের জন্য শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। আমরা পরবর্তী ম্যাচে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামব। একইসঙ্গে আমরা জানি এটি সহজ হবে না।’
উজবেকিস্তান ম্যাচ যে বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ হবে না সেটি বলা-ই যায়। সুযোগ-সুবিধায় সব দিক থেকে তারা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এছাড়া ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের চেয়ে উজবেকিস্তান এগিয়ে ৬৩ ধাপ। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ যখন ১১২তম দেশ সেখানে উজবেকিস্তান আছে এই তালিকার ৪৯-এ। তারপরও প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক বাংলাদেশ এই ম্যাচের জন্য সেরাটা দিয়ে লড়াই করবে জানান বাটলার।
‘এই ম্যাচটি অনেকটা ‘‘ইঁদুর-বেড়াল’’ লড়াইয়ের মতো হতে পারে। উভয় দলই হয়তো শুরুতে কিছুটা সতর্কভাবে এগোবে। কিন্তু আমরা এমন দল নই যারা রক্ষণাত্মকভাবে বসে থাকতে পছন্দ করি— এটি আমাদের ধরণ নয়। আমরা আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতেই পছন্দ করি।’ বলেন বাটলার।
প্রতিযোগিতায় উজবেকিস্তান চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সমান ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে। প্রধান কোচ কত্রিনা কুলবাইট তাঁর দলের কাছ থেকে ভালো কিছুর আশায় রয়েছেন বলে জানান, ‘এই ম্যাচটি আমাদের এবং আমাদের প্রতিপক্ষ উভয়ের জন্যই নির্ণায়ক হবে। আমরা জানি এটি সহজ হবে না। বাংলাদেশ অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং খুব দ্রুতগতির দল। আমরা এই ম্যাচটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি এবং সম্ভাব্য সেরা উপায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
‘গ্রুপের সমীকরণের কথা বলতে গেলে, এটি অনুমান করা কঠিন। কারণ এখনও অনেক খেলা বাকি এবং যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। তবে আমরা যদি মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি, তবে ফলাফল অবশ্যই আসবে।’
উজবেকিস্তানের লিথুয়ানিয়ান এই কোচ জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর দল তিন পয়েন্টের জন্য লড়াই করবে এবং একটি শক্তিশালী আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে, ‘আমাদের ২৬ জন খেলোয়াড় রয়েছে যারা সবাই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। এমনকি এই টুর্নামেন্টের আগেই আমাদের একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল— প্রতিটি খেলোয়াড়কে বুঝতে হবে কোন ম্যাচে তাদের খেলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যেহেতু এটি একটি টুর্নামেন্ট ম্যাচ, তাই খেলোয়াড় পরিবর্তন সবসময়ই পরিকল্পনার অংশ। আগামীকালের ম্যাচের জন্য সবাই পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
একই সময় বিকেল ৩টায় সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে গ্রুপে অপর দুই দল উত্তর কোরিয়া এবং চীন একে অপরকে মোকাবিলা করবে। যদিও দুই দলই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।