৬ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

কিছু জিনিসের কোনো আর্থিক মূল্য হয় না; লিওনেল মেসি তেমনই একজন ধ্রুবতারা। আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তিকে কি শুধু টাকার অঙ্কে মাপা যায়? বার্সেলোনার সবুজ গালিচায় ‘এলএম টেন’ যখন বাঁ পায়ের জাদু দেখাতেন, পুরো স্টেডিয়ামের নিশ্বাস যেন থমকে যেত। ফুটবলের অমূল্য এই ‘রত্ন’ পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো ক্লাবে 'বিক্রি' হননি। সেই জাদুকরকে ছিনিয়ে নিতে একবার নাকি অঢেল অর্থ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব।
৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা—হ্যাঁ, এই অংকটিই খরচ করতে চেয়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়াতে। নেইমারের বিদায়ের পর বার্সেলোনা যখন দিশেহারা, তখন টাকার বস্তা নিয়ে কোনো এক ক্লাব মেসির জন্য এই অবিশ্বাস্য জাল বিছিয়েছিল। সাবেক বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে সেই অবিশ্বাস্য দিনগুলোর কথা। কে ছিল সেই রহস্যময় ক্লাব যারা রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়ে মেসিকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল?
'কাদেনা সার'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ তার সভাপতিত্বের সবচেয়ে উত্তাল সময়গুলোর একটি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০১৭ সালে নেইমারের প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) চলে যাওয়ার সেই আকস্মিক ধাক্কার পর, ক্লাবটি বেশ সতর্ক ছিল যে তাদের আরেকজন সুপারস্টারকেও হয়তো ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। ন্যু ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কীভাবে মেসিকে স্পেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি বিশাল আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বার্তোমেউ।
কীভাবে এই গুঞ্জন প্রথম ছড়িয়েছিল তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘নেইমারের প্রস্থানের কয়েক সপ্তাহ পরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, একটি ক্লাব মেসির জন্য ৪০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি) প্রস্তুত করছে—যা ছিল মেসির রিলিজ ক্লজের সমান অঙ্ক।’ এই পরিমাণ অর্থ নেইমারের জন্য দেওয়া রেকর্ড ২২ কোটি ইউরোর প্রায় দ্বিগুণ ছিল, যা বাস্তবে রূপ নিলে ইউরোপীয় ফুটবলের পুরো দৃশ্যপটই আমূল বদলে যেত।
পেপ গার্দিওলার উপস্থিতির কারণে সেই সময় মেসির সঙ্গে বারবার ম্যানচেস্টার সিটির নাম জড়িয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও, বার্তোমেউ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে ইংলিশ জায়ান্টদের হাত ছিল না। বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বিশাল অর্থের জোগান আসছিল কোনো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উৎস থেকে, যা এই রহস্যময় ক্লাবের পরিচয় নিয়ে কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বার্তোমেউ দাবি করেন, ‘একটি আরব দেশ থেকে বড় অংকের তহবিল ইউরোপের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।’ যখন তাকে এই দুঃসাহসী তহবিলের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করে বলেন, ‘এখন আর সেসবের গুরুত্ব নেই... ওটা অনেক পুরনো খবর; বহু বছর আগের কথা। ইংল্যান্ডে খুব কম ক্লাব আছে, কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত এমন ক্লাব খুব বেশি নেই, যারা এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা রাখে।’
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা মেসিকে হারানোর এই হুমকি বার্সেলোনাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছিল। বার্তোমেউ সেই সময়ের অভ্যন্তরীণ আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন কীভাবে মেসিকে কাতালুনিয়ায় ধরে রাখতে তারা তাঁর চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিলেন। এর ফলে যে চুক্তিটি হয়েছিল, তা ছিল ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল চুক্তি; যা প্রতিদ্বন্দ্বী যেকোনো ক্লাবের জন্য টক্কর দেওয়া প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল।
বার্তোমেউ ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা যা করেছিলাম তা হলো—লিওনেল মেসি এবং তাঁর বাবার সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের রিলিজ ক্লজ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সেই সময় ক্লজটি ছিল ৪০ কোটি ইউরো যা আমরা বাড়িয়ে ৭০ কোটিতে নিয়ে যাই—এটি ছিল একটি বিশাল অংক। আর যদি আপনি রিলিজ ক্লজ বাড়ান, তবে খেলোয়াড়ের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়িয়ে দিতে হবে।’ এই পদক্ষেপটি কার্যত অন্য ক্লাবগুলোর মেসিকে পাওয়ার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত এটিই বার্সার ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল—যার ফলে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত ক্লাব থেকে ২০২১ সালে বিদায় নিতে হয় ইন্টার মায়ামি তারকাকে।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ৬:০৫ পিএম

এবারের বিশ্বকাপে ‘সি’
গ্রুপে খেলবে ব্রাজিল। ‘হেক্সা মিশনের’ গ্রুপপর্বে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হাইতি, মরক্কো
এবং স্কটল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাওয়া আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে
নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে কথা বলেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দগলাস সান্তোস। সেলেসাওদের
বিশ্বজয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘ ৯ বছর পর জাতীয় দলে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার কঠিন
লড়াই সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে এই লেফট-ব্যাকের কণ্ঠে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গ্রুপপর্বের
প্রতিপক্ষদের নিয়ে দগলাস সান্তোস বলেন, ‘মরক্কো সাম্প্রতিক সময়ে তাদের শক্তির জানান
দিয়েছে, স্কটল্যান্ডের খেলায় শারীরিক তীব্রতা অনেক বেশি আর হাইতিও মাঠে নামবে সর্বোচ্চ
অনুপ্রেরণা নিয়ে। তবে ব্রাজিল সবসময়ই শীর্ষ স্তরে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা
যদি একদম শুরু থেকে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারি, তবে গ্রুপ পর্বটা দুর্দান্তভাবে
পার করার মতো সব সামর্থ্যই আমাদের আছে।’
শৈশবে ২০০২ কোরিয়া-জাপান
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পঞ্চম শিরোপা জয়ের স্মৃতি হাতড়ে এই ডিফেন্ডার জানান, সেই সোনালী
অতীতই তাঁর মনে সেলেসাও জার্সি গায়ে জড়ানোর আজন্ম স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। এবার সেই অধরা
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী তিনি।
দগলাস যোগ করেন, ‘ব্রাজিলিয়ান
সমর্থকদের মনে সবসময়ই বিশ্বাস রাখার মতো যথেষ্ট কারণ থাকে। আমাদের দলে প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার
কোনো কমতি নেই, দলের প্রত্যেকেই বড় বড় ম্যাচে খেলে অভ্যস্ত। আমাদের লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্টে
যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে ট্রফিটা নিজেদের করে নেওয়া।’
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে
দগলাসের জায়গা পাওয়াটা এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত
হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন তার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা
করবেন, সেটি হবে পারাইবা থেকে উঠে আসা এই ফুটবলারের জন্য এক পরম বৃত্তপূরণের মুহূর্ত।
২০২৫ সালের মার্চে, রাশিয়ার
নাগরিকত্ব পান দগলাস। এরপর রাশিয়ার জাতীয় দলে অভিষেকের জন্য তাকে ডেকেও নেওয়া হয়েছিল।
তবে একই সময়ে ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ দোরিভাল জুনিয়রের করা একটি প্রাথমিক দলেও তার নাম
ছিল, যা তাকে আবারও ব্রাজিলের হয়ে খেলার নতুন আশা জোগায়। এমন পরিস্থিতিতে এই লেফট-ব্যাক
রাশিয়ার নিশ্চিত প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের
দিকে তাকিয়ে ব্রাজিলের ডাকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
দগলাস বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন,
‘রাশিয়ার প্রতি আমার মনে সবসময়ই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, কারণ এই দেশেই আমি আমার ক্যারিয়ারের একটা বড় অংশ গড়ে তুলেছি। কিন্তু ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানো সবসময়ই আমার আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাই সেটাই অগ্রাধিকার পেয়েছে। আমি বিশ্বকাপ দেখে বড় হয়েছি এবং সেলেসাওদের হয়ে খেলার স্বপ্ন বুনেছি, আর এই আবেগটাই আমার মনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।’
দগলাসের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত
প্রত্যাবর্তনটি বেশ রাজকীয়ভাবেই ঘটেছিল। চিলির বিপক্ষে
ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের
জয়ের ম্যাচে এই লেফট-ব্যাক
কেবল শুরুর একাদশেই ছিলেন না, বরং মাঠের
অন্যতম সেরা পারফর্মারও ছিলেন।
এর এক মাস পর,
প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডেও তিনি আবারও ডাক
পান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার
বিপক্ষে ব্রাজিলের ৫-০ ব্যবধানের
দাপুটে জয়ে মূল একাদশে
খেলেন। কাকতালীয়ভাবে, এই সময়ের মধ্যে
তাকে ছাড়া খেলা বাকি
দুটি ম্যাচে বলিভিয়া এবং জাপান উভয়ের
কাছেই হেরেছিল সেলেসাওরা।
জাতীয় দলে ফিরে দগলাস তার ঠান্ডা মাথার ফুটবল দিয়ে সবার প্রশংসা কুড়ান। দগলাসের বিশ্বাস, কোচ আনচেলত্তি তার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তা থেকেই এই আত্মবিশ্বাস এসেছে। দগলাস বলেন,
‘তারা আমাকে ক্লাবের হয়ে যেভাবে খেলি, ঠিক সেই স্বভাবজাত খেলাটাই খেলতে বলেছিলেন—মাঠে লড়াকু থাকা, রক্ষণে শক্ত দেয়াল তোলা এবং সুযোগ বুঝে আক্রমণে অবদান রাখা। আনচেলত্তির একটা দারুণ গুণ আছে, তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। তিনি প্রচুর কথা বলেন, কৌশলগতভাবে তিনি কী চান তা বুঝিয়ে দেন, তবে একই সঙ্গে মাঠে আমাদের নিজস্বতা নিয়ে খেলার স্বাধীনতাও দেন।’

জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। ড্র, কিংবা
হারলেও সুযোগ থাকবে। এমন ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে বসুন্ধরা কিংসের সামনে ছিল শক্তিশালী
ঢাকা আবাহনী। যাদের সামনেও ছিল শিরোপা জেতার হাতছানি। বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল)
এই অলিখিত ‘ফাইনালে’ আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করল বসুন্ধরা কিংস।
শুক্রবার লিগ শিরোপা নির্ধারণী
ম্যাচটি গড়ায় কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। যেখানে আবাহনীকে
২-০ গোলে হারায় কিংস। দুটি গোলই হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। পেনাল্টি থেকে দোরিয়েলতন
গোমেজ নাসিমেন্তো এগিয়ে দেওয়ার পর দারুণ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সোহেল রানা সিনিয়র।
এই জয়ে ১৭ ম্যাচ শেষে ৩৮ পয়েন্ট
পেয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল বসুন্ধরা কিংস। ৪ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে থাকলো আবাহনী। ১৭তম
রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন দলকে পাওয়া গেলেও রানার্সআপ নির্ধারণ হবে শেষ রাউন্ডে। কেননা এদিন
ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফর্টিস। তাদের পয়েন্ট আবাহনীর সমান ৩৪।
২০০৭ সালে পেশাদার যুগে প্রবেশ
করে বাংলাদেশের ফুটবল লিগ। এরপর থেকে সর্বোচ্চ ৬বার শিরোপা জিতেছে ঢাকা আবাহনী। সর্বোচ্চ
শিরোপা জেতার তালিকায় এখন থেকে তাদের সঙ্গে নাম থাকবে বসুন্ধরা কিংসেরও। ক্লাবটির জন্মের
পর থেকে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো লিগ শিরোপা জিতল তারা।
এদিকে বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের
জন্মের পর আর কখনও শিরোপা জেতা হয়নি ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটির। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে
লিগ শিরোপা জিতেছিল আবাহনী। এরপর আরও চারবার রানার্সআপ হলেও শিরোপা জেতা দূরের স্বপ্নই
রয়ে গেলো আকাশি-নীলদের জন্য।
আর ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে টানা
৫বার লিগ শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। গত মৌসুমে মোহামেডানের কাছে শিরোপা হারায় তারা।
এক মৌসুম বাদে লিগ ট্রফি পুনরুদ্ধার করল লাল-সাদা জার্সিধারীরা।
এদিন ৪৩ মিনিটে আবাহনী জালে
বল ঠেলে দিলেও অফসাইডের কারণে গোল পাননি কিংসের সোহেল রানা সিনিয়র। বিরতির এই অর্ধে
আবাহনীর চেয়ে দারুণ খেলেও গোলশূন্য বিরতিতে যায় কিংস।
৬২ মিনিটে এক পরিবর্তন আনে
আবাহনী। মিরাজুলের জায়গায় কোচ মারুফুল হক বদলি হিসেবে নামান ব্রুনো মাতোসকে। ব্রাজিলিয়ান
উইঙ্গার মাঠে নামার পরপরই বেশ কিছু আক্রমণ শানায় আবাহনী। ৬৫ মিনিটে এমেকার দারুণ ক্রসের
নাগাল পাননি ব্রুনো। ৬৬ মিনিটে আরও একবার এমেকার পাসের নাগাল একটুর জন্য পেলেন না ব্রুনো।
৭২ মিনিটে বক্সে ফাহিম ঢুকে
পড়লে তাঁকে বাধা দিয়ে পেনাল্টি হজম করেন আবাহনী অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু। বাম দিকের
টপ কর্নার দিয়ে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে দেন দোরিয়েলতন। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের লিগের
১৮তম গোলে শিরোপার সুবাস পেতে থাকলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।
৭৬ মিনিটে ব্রুনো মাতোসের শট
ধরে ফেলেন শ্রাবন। পরের মিনিটে শিরোপা নিশ্চিত করা গোলটি করলেন কিংসের সোহেলে রানা।
ছোট সোহেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে বা পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন
সিনিয়র সোহেল।
৮১ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ হয়নি
মিতুলের দৃঢ়তায়। ডান দিক দিয়ে উপরে উঠে পোস্টেই শট নেন সাদ উদ্দিন। সেটি আটকে দেন মিতুল,
দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ছোট বক্সের মধ্য থেকে ইমনের শট প্রতিহত হয় আবাহনী রক্ষণে। ৮৫ মিনিটে
এমেকার ডান পায়ের শট বেরিয়ে যায় একটু উপরে দিয়ে। গো করা ৮ মিনিটেও আর হার এড়াতে পারেনি
আবাহনী। ২-০ ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে কিংস।
দিনের অন্য ম্যাচে রহমতগঞ্জ
১-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডানকে। আরামবাগের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জিতেছে পুলিশ এফসি।

মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর এবার ব্যবসায়িক জগতেও ইতিহাস
গড়লেন স্যার ডেভিড বেকহ্যাম। ব্রিটেনের ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ
হিসেবে নাম লেখালেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা।
২০২৬ সালের সানডে টাইমস রিচ লিস্ট অনুযায়ী, বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়া
বেকহ্যাম দম্পতির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১.১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার)।
২০২৫ সালের তালিকায় এই দম্পতির সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড। এ বছর এক লাফে
তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুনেরও বেশি।
বেকহ্যামের সম্পদের এই বিশাল উত্থান ঘটেছে ফুটবল ক্লাব ইন্টার
মায়ামিতে তাঁর মালিকানার ফলে। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাবটির সহ-মালিক ও প্রেসিডেন্ট
হিসেবে রয়েছেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক। ২০২৮ সাল পর্যন্ত লিওনেল মেসিকে মায়ামিতে চুক্তিবদ্ধ
করার পর ক্লাবটিতে বেকহ্যামের শেয়ার মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে।
এছাড়া অ্যাডিডাস এবং হুগো বসের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের দূত
হিসেবেও বিপুল অর্থ আয় করছেন বেকহ্যাম। তাঁর স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের নিজস্ব ফ্যাশন
ব্রান্ডের বার্ষিক আয় এবার ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
সানডে টাইমসের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াবিদদের এই তালিকায় বেকহ্যামের
অবস্থান দুই নম্বরে। শীর্ষে রয়েছেন সাবেক ফর্মুলা ওয়ান প্রধান নির্বাহী বার্নি একলেস্টোনের
পরিবার। তাদের মোট সম্পদের মূল্য ২ বিলিয়ন পাউন্ড।
বেকহ্যামের ঠিক পেছনেই তিন নম্বরে রয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক ও
প্রোমোটর ব্যারি হার্ন এবং এডি হার্ন দম্পতি। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১.০৩৫
বিলিয়ন পাউন্ড।
তালিকায় যৌথভাবে দশম স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের
বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও সাবেক ব্রিটিশ টেনিস তারকা স্যার অ্যান্ডি মারি। এই
দুজনের সম্পদের পরিমাণ ১১০ মিলিয়ন পাউন্ড।

শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই বিশ্বকাপ
ফুটবলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২৭ জোড়া বাবা-ছেলে দেখা গেছে, যারা খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে
নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই তালিকায় বিশ্বখ্যাত সব নাম রয়েছে। এদের মধ্যে
কেউ জন্মেছেন এক দেশে, বড় হয়েছেন আরেক দেশে, খেলেছেন অন্য দেশে।
ইতালির সিজার মালদিনি ও
পাওলো মালদিনি, ফ্রান্সের জঁ ও ইউরি জর্কায়েফ, উরুগুয়ের পাবলো ও ডিয়েগো ফোরলান, স্পেনের
মিগুয়েল আনহেল ও জাবি আলোনসো, ব্রাজিলের মাজিনহো ও থিয়াগো (থিয়াগো স্পেনের হয়ে খেলেন),
ডেনমার্কের গোলরক্ষক জুটি পিটার ও ক্যাসপার স্মাইকেল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাউডিও ও জিওভান্নি
রেইনা আছেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাবা-ছেলে জুটির তালিকায়।
তালিকায়
আরও রয়েছেন, চা-বুম কুন ও চা-দু রি, মিগুয়েল রেইনা ও পেপে রেইনা, লোদজিমিয়ের্জ স্মলারেক
ও এবি স্মলারেক এবং ফ্রান্সের লিলিয়ান ও মার্কাস থুরাম।
আরেকটি মজার তথ্য হলো,
হোসে ভান্তোলরাকে নিয়ে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে তিনি মেক্সিকোর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, অথচ তার
বাবা মার্তি ভান্তোলরা ১৯৩০ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন স্পেনের হয়ে।
বাবা-ছেলের এই তালিকায়
সাফল্যের বিচারে অনন্য হয়ে আছেন ফরাসি তারকা লিলিয়ান ও মার্কাস থুরাম। এই জুটির উভয়েই
বিশ্বকাপের পদক জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। বাবা লিলিয়ান
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে জিতেছিলেন সোনালি ট্রফি (স্বর্ণপদক), আর ছেলে মার্কাস থুরাম
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জিতেছেন সিলভার মেডেল বা রৌপ্যপদক।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম
বাবা-ছেলে হলেন মেক্সিকোর লুইস ও মারিও পেরেজ। লুইস খেলেছিলেন ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে।
আর ছেলে মারিও খেলেছিলেন ১৯৫০ সালের আসরে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সাপোর্টার হিসেবে নাম লিখিয়েছে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)। জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া অঞ্চলের ‘অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট সাপোর্টার’ হিসেবে কাজ করবে এই তহবিল। বৃহস্পতিবার ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পিআইএফ।
এই অংশীদারিত্বের অধীনে পিআইএফ-এর সঙ্গে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানও যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে গেমস ও ই-স্পোর্টসের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘স্যাভি গেমস গ্রুপ’ এবং সৌদি আরবের বিনোদন ও ক্রীড়া প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কেন্দ্র ‘কিদিয়াহ সিটি’। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলাকালীন এই টুর্নামেন্টে ভক্তদের জন্য উদ্ভাবনী অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।
নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে পিআইএফ ফিফার তৃতীয় স্তরের অর্থাৎ আঞ্চলিক পর্যায়ের অংশীদার হিসেবে যুক্ত হলো।
তবে চুক্তিমূল্য প্রকাশ করা হয়নি।
ফিফার স্পন্সরশিপের শীর্ষ স্তরে রয়েছে অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা ও ভিসার মতো প্রতিষ্ঠান, যেখানে ২০২৪ সাল থেকে যুক্ত হয়েছে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকো। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।
পিআইএফ-এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-সাইয়াদ বলেন, ‘পিআইএফ বিশ্বজুড়ে খেলাধুলায় নিজেদের পদচিহ্ন বিস্তৃত করে চলেছে এবং ফুটবল এই প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।‘
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর পরবর্তী ২০২৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক
দেশ মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন।
এরপর ২০৩৪ সংস্করণে
এককভাবে বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব।
ফিফার সঙ্গে এই নতুন চুক্তি ফুটবলে সৌদির আধিপত্য শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা
হচ্ছে।
সম্প্রতি পিআইএফ তাদের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন বিনিয়োগ কৌশল ঘোষণা করেছে। এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তারা ‘লিভ গলফ’-এর মতো কিছু প্রকল্পে অর্থায়ন কমিয়ে ফুটবল ও বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে মনোযোগ দিচ্ছে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে
যাওয়া বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে সৌদি আরব। ১৫ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের
অভিযান শুরু হবে। এরপর ২১ জুন স্পেন এবং ২৭ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে সৌদি
আরব।