২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪১ পিএম

লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার সেই মুহূর্ত ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডি বললে ভুল হবে না। এখনো কাতালান ক্লাবটির অনেক সমর্থকদের কাছে ক্লাবের ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের বিদায় দুঃস্বপ্নের মতো। কেন ক্লাবের সেরা ফুটবলারকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল বার্সা? এর আগে অনেকবারই এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন স্প্যানিশ ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা। এবার এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলাভাবেই জানালেন ঠিক কী ঘটেছিল মেসির সঙ্গে, কেন মেসির সঙ্গে বার্সার সভাপতি লাপোর্তার সম্পর্ক আর আগের মতো নেই।
বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট থেকে কদিন আগে পদত্যাগ করেন লাপোর্তা। ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হতে নিয়মানুযায়ী সরে দাড়ান তিনি। নির্বাচনের আগে কাতালুনিয়া রেডিও’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা মেসির বিদায়ের পেছনের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনো চুক্তিতে যেতে চায়নি ক্লাব, যা দীর্ঘমেয়াদে বার্সেলোনার ক্ষতি করতে পারে।
সিভিসি নামে একটি চুক্তিতে যেতে না চাওয়ার কারণেই নাকি মেসি ছাড়তে বাধ্য হয় বার্সা। এই চুক্তি অনুযায়ী মাঠের ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য তহবিল পেত ক্লাব কিন্তু সেই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে লাপোর্তা তা স্বীকার করেন, ‘তাকে (মেসি) নিবন্ধন করাতে আমরা সিভিসি চুক্তিতে যেতে চাইনি, কারণ আমরা মনে করেছি এটি ক্লাবের জন্য ক্ষতিকর। বার্সেলোনা খেলোয়াড়, কোচ বা সভাপতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে—তাই আমরা সেটা করতে পারিনি। সভাপতি হিসেবে এটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে।’
লাপোর্তা আরও যোগ করেন, ‘কুমান, জাভি, পিকে ও অন্যদের বিদায়ের মতো এগুলো হতাশাজনক মুহূর্ত। সময়গুলো কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা সেই ঝুঁকি নিতে পারিনি। তার চুক্তির অঙ্ক নবায়ন করলে আমাদের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে যেত—এ কারণেই সে থাকতে পারেনি।’
তারপর লাপোর্তা মেসির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রথম দফার সভাপতি থাকার সময় থেকে গড়ে ওঠা স্নেহ-ভালোবাসার স্মৃতিও তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, মানবিক দিক থেকে এই বিচ্ছেদ মোটেও সহজ ছিল না,
‘আমার প্রথম মেয়াদ থেকেই মেসি ও আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কে আমি চিনতাম। তাদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা তৈরি হয়।’
লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির ক্লাব ছাড়ার সহ খেলোয়াড়দের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও ক্লাবে সবার ওপরে রাখছেন লাপোর্তা,
‘আমরা এসব খেলোয়াড়ের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ, কিন্তু বার্সাও তাদের জন্য অনেক কিছু করেছে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে তা সম্ভব হয়নি, আর লিওর পক্ষে ক্লাবে থাকা আর সম্ভব ছিল না।’
তবে সময়ের সঙ্গে দুজনের সম্পর্কও আর আগের মতো থাকেনি বলেও জানান লাপোর্তা। তাঁর মতে,
২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের একটি ঘটনা দুজনের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়, ‘মেসির সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতো নেই। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে সে মনে করেছিল আমাদের একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত নয়।’
অবশ্য এখন সম্পর্ক কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলছেন বার্সার সদ্য সাবেক সভাপতি,
‘এরপর থেকে কিছুটা কাছাকাছি আসার চেষ্টা হয়েছে এবং আমরা আশা করি ভবিষ্যতে সেটি আরও এগোবে। সম্পর্ক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সে বার্সেলোনার কিংবদন্তি।’
বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই বার্সেলোনায় কাটিয়ে দেওয়া মেসির সব সাফল্য এসেছে ন্যু ক্যাম্পের ক্লাবটির হাত ধরে। ২০২১ সালের জুনে এই ক্লাব ছাড়ার আগে সম্ভাব্য সব দলীয় কিংবা ব্যাক্তিগত শিরোপা জিতেছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইন্টার মায়ামির মহাতারকা।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৬ পিএম

সৌদি প্রো লিগে আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে আল নাসরের ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ৮৯ মিনিটে বদলি হওয়ার পর সাইডবেঞ্চে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। যা তার নতুন কোনো ইনজুরির শঙ্কা জাগিয়ে তোলে।
রোনালদোকে নিয়ে অবশ্য শঙ্কার কিছুই নেই। বুধবার আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আল নাসর ম্যানেজার হোর্হে জেসুস জানিয়েছেন, ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকে পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন রোনালেদো। অসুস্থ বোধ করা সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যায় সে।
কোচের মতে, বিরতির সময় রোনালদোর পেটে মোচড় দিচ্ছিল। তবুও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে ফেরেন। অস্বস্তি নিয়েই লড়াই চালিয়ে যান। তবে বদলি হওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি সরাসরি ড্রেসিংরুমে যান এবং সেখানে গিয়ে বমি করেন।
জেসুস বলেন,
‘দুই অর্ধেকের মাঝখানে সে পেটে ব্যাথা অনুভব করছিল। সে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে এবং চালিয়ে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছিল, কিন্তু ড্রেসিংরুমে ঢোকার পর সে বমি করেছে।’
যদিও ঘটনাটি উদ্বেগজনক ছিল, তবে এই সমস্যার কারণে তাকে খুব বেশি দিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের জয় উদযাপন করে একটি ইতিবাচক বার্তা শেয়ার করেন এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
৩৯ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফিরেছেন যা তাকে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে রেখেছিল। এ মাসের শুরুর দিকে আল-নাজমার বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি নিজের প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছিলেন। আল হিলালের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা আল নাসরের লক্ষ্য এখন এই ছন্দ ধরে রাখা। শিরোপা জয়ের পথে রোনালদোর সুস্থতা দলের জন্য মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।

রিয়াল
মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ধ্রুপদী লড়াইয়ে জয় পাওয়ার পর কেইনের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি ফাইনালে প্রতিপক্ষ পিএসজিকে একরকম হুঁশিয়ারিই দিলেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ড। কেইনের দাবি, বিশ্ব ফুটবলের যেকোনো শক্তিকেই ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তাঁর দল।
নিজেদের
মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে গতকাল ৪-৩ গোলে ও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে রিয়ালকে হারায় বায়ার্ন। বাভারিয়ানদের হয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি আসে কেইনের নৈপুণ্যে। আলভারো আলবেরোয়ার দলকে ছিটকে দেওয়ার পথে হ্যারি কেইন এই মৌসুমে নিজের ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বায়ার্নের হয়ে প্রথম মৌসুমেই গোলের ‘হাফ-সেঞ্চুরি’ করলেন তিনি।
জার্মান
জায়ান্টরা যেভাবে রিয়ালের মতো দলকে স্তব্ধ করে সেমিফাইনালে উঠেছে, তা দেখে কেইন এখন শিরোপা জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচ শেষে ‘টিএনটি স্পোর্টস’-কে কেইন বলেন, ‘রিয়ালের মতো দলকে যখন আপনি চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে হারাবেন, তখন আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী হতে বাধ্য। আমরা সারা বছর ধরেই এই পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা বলেছি। এখন সময় হলো নিজেদের আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার।‘
সেমি
ফাইনালে প্রতিপক্ষ পিএসজির উদ্দেশ্যে যথেষ্ট সম্মান রেখেই কেইন বলেন, ‘আমরা জানি পিএসজি ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমরা যদি আমাদের সেরা ফুটবলটা খেলতে পারি, তবে বিশ্বের যেকোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি। সেমিফাইনালে জেতার জন্য আমাদের সেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলাটাই খেলতে হবে।’
কেইনের
জন্য রাতটি ছিল ইতিহাস গড়ারও। ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড আর্লিং হল্যান্ডকে ছুঁয়ে এখন ইউরোপ শাসন করছেন তিনি। ২০২২-২৩ মৌসুমে আর্লিং হল্যান্ডের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের কোনো ক্লাবের হয়ে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন কেইন।
এছাড়া
৯৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ লিগে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। কেইনের আগে ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার টম ওয়ারিং গোলের হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। কেইন তাঁর এই অবিস্মরণীয় উচ্চতায় পৌঁছাতে সময় নিয়েছেন মাত্র ৪২টি ম্যাচ।
টানা
৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল করে আরও একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ২০০৭-০৮ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে স্টিভেন জেরাড টানা ৫ ম্যাচে গোল করে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ১৮ বছর পর কেইন সেই রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি করলেন।’
শ্বাসরূদ্ধকর
ম্যাচে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে রেফারিকে রীতিমতো শূলে চড়ান রিয়ালে খেলোয়াড় ও কোচ। রেফারিং নিয়ে কেইনের প্রতিক্রিয়া ছিল সোজাসাপ্টা, ‘পুরো ম্যাচে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গিয়েছিল, তবে নিয়ম তো নিয়মই। ওটা (কামাভিঙ্গার কার্ড) একদম পরিষ্কার হলুদ কার্ড ছিল। আমার ক্যারিয়ারেও এমন দু-একবার হয়েছে যা আমাকে ভোগান্তি দিয়েছে। রেফারিকে সেখানে সিদ্ধান্ত নিতেই হতো এবং আজ সেই সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে এসেছে।‘
চ্যাম্পিয়নস
লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর বায়ার্ন মিউনিখের নজর এখন ঘরোয়া ফুটবলের দিকে, যেখানে তারা ইতিহাস গড়ার খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে। বায়ার্ন এই সপ্তাহান্তেই স্টুটগার্টের বিপক্ষে জয় পেলেই বুন্দেসলিগা শিরোপা নিজেদের করে নিতে পারে। এছাড়া ডিএফবি-পোকাল (জার্মান কাপ) সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে এক হাই-ভোল্টেজ লড়াই তাদের অপেক্ষায়।
বায়ার্নে
নিজের স্বপ্নিল যাত্রা নিয়ে হ্যারি কেইন বলেন, ‘আমাদের সামনে এই সপ্তাহেই লিগ জেতার সুযোগ আছে। আশা করি আমরা সেটা করতে পারব। এছাড়া কাপের সেমিফাইনাল তো আছেই। সামনে অনেক বড় বড় ম্যাচ এবং আমাদের অনেক কিছু জেতার বাকি।’

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন। স্পেনের এই কোচ জানিয়েছেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব তাঁর ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা তিনি মেনে নেবেন। তবে কামাভিঙ্গার লাল কার্ড এবং জামাল মুসিয়ালাকে ট্যাকল করার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সময়ক্ষেপণ করায় রিয়ালের বিপর্যয় নেমে আসে।
ইউসিএলের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে প্রথমার্ধ পর্যন্ত আশা বাঁচিয়ে রাখে রিয়াল। তবে চূড়ান্ত বিপর্যয় নেমে আসে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে। জামাল মুসিয়ালাকে ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সময়ক্ষেপনের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।
ইউরোপে ট্রফি জেতার স্বপ্ন যখন শেষ রিয়ালের; লা লিগায় সেই ট্রফি জিততে আরও কঠিন এবং অবিশ্বাস্য কিছু ঘটতে হবে। লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়াল যদি বাকি ৭ ম্যাচে অবিশ্বাস্য কিছু করতে না পারে, তবে এই শতাব্দীতে পঞ্চমবারের মতো ট্রফিশূন্য মৌসুম পার করতে হবে তাদের।
সার্বিক অবস্থায় আরবেলোয়ার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। স্পেনের এই কোচ বলেন, ‘ক্লাব আমার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আমি তা মেনে নেব। আমি মনেপ্রাণে একজন রিয়াল মাদ্রিদ ভক্ত। নিজের চেয়েও এই ক্লাব, খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের আমি অনেক বেশি ভালোবাসি।’
‘যখন আমি এই দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন আমার লক্ষ্য নিজেকে একজন ভালো কোচ হিসেবে প্রমাণ করা ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে থাকা এবং ক্লাবকে সাহায্য করা। কোচ হিসেবে আমার শেষ দিন পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব।’-যোগ করেন তিনি।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পিছিয়ে থাকার পর আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে রিয়াল মাদ্রিদ যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছে। প্রথমার্ধে ৫ গোলের থ্রিলারে তিনটি গোল ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের। আরবেলোয়া জানিয়েছেন, দলকে জেতাতে যত প্রচেষ্টা সবই তিনি এবং তার দল করেছে।
আরবেলোয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় দলকে জেতানোর জন্য আমি সাধ্যমতো সবকিছুই করেছি। আমি প্রতিদিন আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করি।’
এতসবের পরও যদি আরবেলোয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাতে কিছু তার যা আসে না। বরং তিনি চান, সবসময় রিয়াল ভালো কিছু করুক। আরবেলোয়া বলেন, ‘ক্লাবের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাব, তবে এই মুহূর্তে আমি তা নিয়ে ভাবছি না। এটা সম্পূর্ণ ক্লাবের সিদ্ধান্ত। আমি ক্লাবেরই একজন মানুষ এবং আমার একমাত্র চাওয়া হলো রিয়াল মাদ্রিদ জিতুক—কোচ যেই থাকুক না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না।’
পরবর্তীতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই জানিয়ে আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘আমি যখন থেকে এই দায়িত্ব পালন করছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত হইনি। আমার খেলোয়াড়দের জেতানোর জন্য প্রতিদিন আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি বলেই আমার বিশ্বাস।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর রিয়ালের দায়িত্ব নেন আরবেলোয়া। তার অধীনে ২১ ম্যাচে ১৩ জয়ের বিপরীতে ৭টি ম্যাচ হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, এরমধ্যে মামলার ঝামেলায় জড়ালেন লিওনেল মেসি। গত বছরের একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ না নেওয়ায় বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির দাবি তুলে ফ্লোরিডার একটি সংস্থা মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেসির খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে না নামায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মিলিয়ন ডলার লোকসানের মুখে পড়েছে।
মায়ামিভিত্তিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান (ভিআইডি) এই মামলার বাদী। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত বছরের অক্টোবরে ভেনিজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকো—এই দুই দলের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে তাদের প্রায় ৭০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির শর্ত ছিল, চোটে না থাকলে মেসিকে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে থাকতে হবে।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মেসি খেলেননি। আয়োজকদের দাবি, এতে চুক্তির চরম লঙ্ঘন হয়েছে। মেসি মাঠের লড়াইয়ে অংশ না নিয়ে একটি প্রাইভেট সুইটে (ভিআইপি বক্স) বসে খেলা উপভোগ করেছেন। আয়োজকদের দাবি, ইন্টার মায়ামি তারকার এই অনুপস্থিতি তাদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। বিপুল পরিমাণ টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে এবং বড় বড় বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের চুক্তি বাতিল করে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বড় অংকের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় পরের দিন। ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও তার পরের দিনই ইন্টার মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামেন মেসি এবং জোড়া গোল করেন। আয়োজকদের দাবি, পরের দিনই জোড়া গোল করা প্রমাণ করে যে মেসি খেলার জন্য শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট ছিলেন, তবুও তিনি প্রীতি ম্যাচটিতে অংশ নেননি।
পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মেসি মাঠে নেমেছিলেন এবং ৬-০ গোলের বড় জয়ে দুটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন। কিন্তু আয়োজক সংস্থা ‘ভিআইডি’-র দাবি, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তারা ১০ লাখ ডলারেরও (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বেশি লোকসান গুনেছে।
এই আর্থিক ক্ষতির পেছনে একটি বড় কারণ ছিল ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন। টিকিট বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচটি শিকাগো থেকে ফোর্ট লডারডেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শিকাগোর কঠোর অভিবাসন নীতিকে দায়ী করলেও স্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেন, টিকিটের চাহিদা কম থাকায় ভেন্যু বদলানো হয়েছে। আয়োজক সংস্থাটির আরও অভিযোগ, এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ভবিষ্যতে চীনে ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। এই আইনি লড়াই নিয়ে মেসি কিংবা এএফএ-র পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেসিকে ঘিরে এমন আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। গত মাসেই মেজোর লিগ সকার (এমএলএস) এবং ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস একটি মামলার সমঝোতা করেছে। সেখানেও অভিযোগ ছিল—মেসি, সুয়ারেজ এবং বুসকেটসদের দেখার আশায় টিকিট কাটলেও শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে নামেননি।
আইনি লড়াইয়ের মধ্যে মাঠের পারফরম্যান্সে মেসি এখনও অপ্রতিরোধ্য। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬ ম্যাচে করেছেন ৮৩টি গোল। রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর হাত ধরেই ক্লাবটি লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপের শিরোপা জিতেছে। ফুটবলবিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ‘লাস্ট ডান্স’ দেখার জন্য।

ফুটবল রত্ন তৈরিতে ব্রাজিলের জুড়ি মেলা ভার। ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলপাগল দেশটির তরুণ প্রতিভার দিকে সবসময়ই নজর থাকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। তেমন স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার চোখ পড়েছে ব্রাজিলের পরবর্তী ‘হীরা’র দিকে। শুধু কাতালান ক্লাবটিই নয় তাকে পেতে রীতিমতো ত্রিমুখী লড়াই শুরু হয়েছে!
ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরানের বিস্ময় বালক—এদুয়ার্দো কনসেইসাও। পালমেইরাস একাডেমির এই ১৬ বছর বয়সী তরুণ তুর্কিকে দলে ভেড়াতে কাড়াকাড়ি শুরু করেছে ইউরোপের জায়ান্টরা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর খবর অনুযায়ী, এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে বার্সেলোনা।
এন্ড্রিক, এস্তেভাও কিংবা রায়ানের মতো প্রতিভাদের হাতছাড়া করার ভুল আর দ্বিতীয়বার করতে চায় না বার্সা। তাই কনসেইসাওয়ের ক্ষেত্রে ন্যু ক্যাম্পের ক্লাবটি আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছে। সাম্প্রতিক 'কোপিনিয়া' টুর্নামেন্টে আলো ছড়ানোর আগে থেকেই বার্সেলোনার স্কাউটদের নজরে ছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ের প্রতিনিধি এবং পালমেইরাস কর্তৃপক্ষের সাথে বার্সার সুসম্পর্ক এই আলোচনাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে।
কনসেইসাওয়ের রিলিজ ক্লজ রাখা হয়েছে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তবে পালমেইরাস প্রায় অর্ধেক দামে, অর্থাৎ ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে চুক্তি করতে রাজি হতে পারে। কিন্তু পথটা বার্সার জন্য অতটা সহজ নয়। ম্যানচেস্টার সিটি ইতোমধ্যে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে, যা এখন পর্যন্ত পালমেইরাসের কাছে আসা সর্বোচ্চ প্রস্তাব। পাশাপাশি চেলসির মালিকানাধীন 'ব্লু-কো' গ্রুপও তাদের প্রথম প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কেন তাঁকে নিয়ে এত উন্মাদনা? মাত্র ১৬ বছর বয়সেই কনসেইসাও বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রাজিলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন তিনি। আসরের 'সেরা খেলোয়াড়' হওয়ার দৌড়েও তিনি সবার আগে। ইতোমধ্যে তাঁর নামের পাশে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট যোগ হয়েছে। পালমেইরাস তাঁকে ‘বিশেষ’ প্রতিভা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তাঁর খেলার ধরন অনেকটা এস্তেভাওয়ের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
কোপিনিয়া টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে ৪ গোল আর ৩ অ্যাসিস্ট—পরিসংখ্যান কিন্তু তাঁর প্রতিভার পুরোটা বলছে না। মাঠে খেলার গতিপ্রকৃতি বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। পাশপাশি ড্রিবলিংয়ে দক্ষতাও এক কথায় অবিশ্বাস্য। নিজের সম্পর্কে কনসেইসাও বলেন, ‘আমি ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি এবং ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পছন্দ করি।’