ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরই হতে পারছে না লিভারপুল। একের পর এক পরাজয়ের ধাক্কায় উল্টো জর্জরিত অবস্থায় পড়ে যাচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নরা। সবশেষ তারা হেরে গেল ব্রেন্টফোর্ডের কাছে।
প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার রাতের ম্যাচে ৩-২ গোলে হেরেছে লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে এ নিয়ে টানা ৪ ম্যাচ হারল তারা।
৯ ম্যাচে ৪ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে নেমে গেছে লিভারপুল। সমান ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দশে ব্রেন্টফোর্ড। ৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল।
নিজেদের ঘরের মাঠে দাপুটে ফুটবলই খেলেছে ব্রেন্টফোর্ড। বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও গোলের জন্য মোট ১৭টি শট করে ৮টিই লক্ষ্যে রাখে তারা। বিপরীতে লিভারপুলের ১৫টি শটের মধ্যে লক্ষ্য বরাবর ছিল ৫টি।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই স্বাগতিক দলকে এগিয়ে দেন ড্যাঙ্গো আউত্তারা। এর পাঁচ মিনিট পর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মোহামেদ সালাহ। পরে ২০ মিনিটের মাথায় ফ্লোরিয়ান ভার্টজও হতাশ করলে সমতা ফেরান হয়নি লিভারপুলের।
উল্টো ম্যাচের ৪৫ মিনিটে স্কোরলাইন ২-০ করে দেন ব্রেন্টফোর্ডের জার্মান উইঙ্গার কেভিন শ্যাড। তবে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে মিলোস কার্কেজের গোলে ব্যবধান কমিয়ে বিরতিতে যায় অল রেডরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ভুল করে বসেন ভার্জিল ফন ডাইক। ডি-বক্সের মধ্যে তিনি ড্যাঙ্গোকে ফাউল করলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে ব্যবধান ৩-১ করে দেন ইগোর থিয়াগো।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া লিভারপুল বেশ কিছু জোরাল চেষ্টা চালায়। তবে তেমন সফল হয়নি। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে মোহামেদ সালাহ গোল করলে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় লিভারপুল। কিন্তু এরপর আর জালের দেখা পায়নি তারা।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়া বার্সেলোনার হাতে অবশিষ্ট লা লিগা। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্পেনের সর্বোচ্চ সম্মানজনক লিগের শিরোপা জিততে চলেছে কাতালানরা। দ্বিতীয়স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে ক্যাম্প ন্যুর ক্লাব। এরইমধ্যে বুধবার বেশ কয়েকটি সুখবর পেল বার্সা ফ্যানরা।
মৌসুমের শেষ পাঁচটি লিগ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মার্ক বার্নাল ও সেন্টার-ব্যাক আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন।
হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিল লেফট উইঙ্গার রাফিনিয়া। বার্নলে ছিলেন না অ্যাঙ্কেল চোটের কারণে। আর ক্রিস্টেনসেনের হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল।
জানা গেছে, লা লিগায় শনিবার ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচের পাওয়া যেতে পারে রাফিনিয়া ও বার্নালকে। ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তাদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। আগামী ১০ মে ক্যাম্প ন্যু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।

২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। ‘ফ্রি জোন’ বা কার্ড মুছে ফেলার মতো মানবিক ধাপের পাশাপাশি কিছু ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে ফিফা। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়কালে মুখ ঢেকে কথা বললে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের শাস্তি রেখেছে সংস্থাটি। এছাড়াও রেফারির সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ মাঠ ছাড়লে তাকেও পড়তে হবে লাল কার্ডের খড়গ।
গত মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) একটি বিশেষ সভায় প্রস্তাবিত এই দুটি সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
আইএফএবি জানিয়েছে, নিয়ম দুটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। তবে ফিফা নিশ্চিত করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপেই এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হবে।
এই দুই সিদ্ধান্তের মূলে বড় দুটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। যার একটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে। অন্যটি চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের ম্যাচে। আফকনের ফাইনালে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের জেরে মাঠ ছাড়েন সেনেগালের ফুটবলাররা। পরবর্তীতে ফল পর্যন্ত পাল্টে যায়। মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার সিদ্ধান্তক্রমে নতুন করে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
মাঠে ফুটবলারদের মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি আলোচনায় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকা উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। সে ঘটনায় ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, তিনি ফুটবলে এমন একটি নিয়ম চালু করতে চেয়েছেন, যার ‘প্রতিরোধমূলক প্রভাব’ থাকবে। সে লক্ষ্যেই সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টিতে সমর্থন দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলেন এবং সেটির ফল বর্ণবাদী হয়, তবে তাঁকে অবশ্যই মাঠ থেকে বের করে দিতে হবে।’

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঘুষি মারার দায়ে আর্জেন্টাইন গোলকিপার এস্তেবান আন্দ্রাদাকে ১৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) এই ঘোষণা দেয়।
গত রবিবার হুয়েস্কা-রিয়াল জারাগোজা ম্যাচের ৯৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান ৩৫ বছর বয়সী আন্দ্রাদা। তিনি মাঠ থেকে বের না হয়ে উল্টো দৌড়ে গিয়ে হুয়েস্কা অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে ঘুষি মারেন। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় ড্রেসিংরুমে নিয়ে যেতে হয় আর্জেন্টাইন গোলকিপারকে।
ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি জানিয়েছে, আন্দ্রাদাকে ঘুষি মারার অপরাধে সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচের শাস্তি এবং লাল কার্ডের জন্য আরও ১ ম্যাচ—সব মিলিয়ে মোট ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় হুয়েস্কা গোলরক্ষক দানি জিমেনেজকে ৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আর হাতাহাতির সময় প্রতিপক্ষকে লাথি মারার অপরাধে জারাগোজার দানি তাসেন্দেকে ২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে তৎকালীন ক্লাব রেকর্ড ফিতে আর্সেনালে যোগ দিয়েছিলেন মেসুত ওজিল। বিশেষ করে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে শুরুর বছরগুলোতে তার জাদুকরী সব ‘অ্যাসিস্ট’ তাকে সমর্থকদের নয়নমণি করে তুলেছিল। তবে ক্যারিয়ারের শেষদিকের বছরগুলো চোট, চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ম্লান হয়ে যায়। ক্যারিয়ারের সেই কঠিন সময় নিয়ে আবার মুখ খুললেন জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা।
কুয়ালালামপুর লিডারশিপ সামিটে আর্সেনালের সেই তিক্ত বিদায় এবং মানবিক বিষয়ে আওয়াজ তোলা নিয়ে ওজিল বেশ আবেগঘন কিছু কথা বলেছেন। ওজিল বলেন, ‘একজন তারকা হিসেবে আমার একটি কণ্ঠস্বর ছিল এবং আমি জানতাম যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আমার আওয়াজ তোলা উচিত। আমি জানতাম (সামাজিক মাধ্যমে) পোস্ট করলে আর্সেনালের সঙ্গে আমার ঝামেলা হবে। কিন্তু আমি তার তোয়াক্কা করিনি; আমি পোস্ট করেছি এবং তাতে আমি খুশি ছিলাম।’
মূলত ২০১৯ সালে একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করেন ওজিল। সেই পোস্টে তিনি চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর মুসলিমদের সমর্থনে কথা বলেছিলেন, যা চীনা কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্সেনাল দ্রুত নিজেদের ওজিলের ব্যক্তিগত মতামত থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং ক্লাবের ‘অরাজনৈতিক’ অবস্থানের ওপর জোর দেয়।
এরপর ২০২০ সালের অক্টোবরে কোচ মিকেল আর্তেতার অধীনে ওজিলকে আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ এবং ইউরোপা লিগ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা কার্যত এই ক্লাবে তাঁর অধ্যায়ের ইতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে তিনি ক্লাব ছাড়েন। এরপর ফেনারবাচ এবং ইস্তাম্বুল বাসাকশেহিরের হয়ে কিছুদিন খেলে ২০২৩ সালে অবসর ঘোষণা করেন।
মাঠে অসাধারণ সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত ওজিলকে দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাঁর মতে, নিজের বিশ্বাস বা আদর্শ নিয়ে কথা বলার কারণে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার জন্য 'সব দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল' এবং তার থেকে 'ফুটবল কেড়ে নিয়েছিল', ‘এরপর তারা আমার জন্য সব দরজা বন্ধ করে দিল। তারা আমাকে আর মাঠে নামতে দেয়নি।’
২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা সেই পরিস্থিতির মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সময়টা খুব কঠিন ছিল, কারণ আমি ফুটবল খেলাটা উপভোগ করছিলাম আর তারা আমার থেকে সেই সুযোগটাই কেড়ে নিল। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে সেই সময়ে আমার পাশে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা ছিল।’
অনেকে ওজিলের এই অবস্থানকে নীতিগতভাবে সঠিক মনে করলেও, সমর্থকদের একটি অংশের মতে এটি আর্সেনালের ব্যবসায়িক স্বার্থের (বিশেষ করে চীনের লাভজনক বাজারের ক্ষেত্রে) জন্য ক্ষতিকর ছিল।
অবশ্য মাঠের সেই ‘ওজিল ম্যাজিক’ ভক্তরা আজও ভুলতে পারেননি—তাঁর সেই চোখ ধাঁধানো ‘নো-লুক পাস’ এবং খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সৃষ্টিশীলতা আজও আইকনিক হয়ে আছে। আর্সেনালের হয়ে ২৫৪ ম্যাচে ৪৪ গোল ও ৭৭টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের ‘গ্যালাক্টিকো’ দলের অন্যতম তারকা লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে ১৫৯ ম্যাচে ২৭ গোলের সঙ্গে করেছেন ৮০ অ্যাসিস্ট।

ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে হলুদ কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো থেকে খেলোয়াড়দের অহেতুক বহিষ্কার বা নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের দুটি নির্দিষ্ট ধাপের পর খেলোয়াড়দের অর্জিত একটি করে হলুদ কার্ডের রেকর্ড মুছে ফেলা হবে।
মঙ্গলবার ফিফা কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং পরবর্তীতে সংস্থাটি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের নামের পাশে থাকা একটি হলুদ কার্ড থাকলে, সেটি বাতিল হয়ে যাবে। একইভাবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আটের লড়াই শেষ হওয়ার পরও একটি হলুদ কার্ডের রেকর্ড আবারও মুছে ফেলা হবে।
উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের বৃহত্তম আসর। ৪৮টি দলের এই টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি ধাপ যোগ করা হয়েছে। আগে গ্রুপ পর্বের পর সরাসরি শেষ ১৬ বা দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হতো, কিন্তু এবার যুক্ত হয়েছে শেষ ৩২-এর লড়াই। এই বাড়তি ম্যাচের ধকল এবং খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকার ঝুঁকি কমাতে ফিফা এই ‘সাধারণ ক্ষমা’ বা নিয়ম পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে।
আগের বিশ্বকাপগুলোতে নিয়ম ছিল, টুর্নামেন্টের যেকোনো দুটি আলাদা ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে হতো। নতুন নিয়মে ফিফা দুটি 'ফ্রি জোন' বা কার্ড মুছে ফেলার ধাপ তৈরি করেছে। প্রথম ধাপ—গ্রুপ পর্বের সব খেলা শেষ হওয়ার পর। দ্বিতীয় ধাপ—কোয়ার্টার ফাইনাল (শেষ আট) শেষ হওয়ার পর।
গ্রুপ পর্বের পর কী হবে? গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের কোনো একটিতে একজন খেলোয়াড় একটি হলুদ কার্ড পেলেন। আগের নিয়মে এই কার্ডটি নকআউট পর্বেও তার নামের পাশে থেকে যেত। ফলে নকআউটের প্রথম ম্যাচে আরেকটি কার্ড পেলেই তিনি পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতেন। এখন গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়া মাত্রই ওই একটি কার্ড মুছে ফেলা হবে। নকআউট পর্ব (শেষ ৩২) থেকে তিনি একদম 'ফ্রেশ' হয়ে খেলা শুরু করবেন।
কোয়ার্টার ফাইনালের পর কী হবে? নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর (শেষ ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল) যদি কোনো খেলোয়াড় এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে যেকোনো একটিতে হলুদ কার্ড পান, তবে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর সেটি আবার মুছে ফেলা হবে। উদ্দেশ্য যাতে সেমিফাইনাল ম্যাচে কোনো খেলোয়াড় কার্ড পেয়ে ফাইনাল ম্যাচ থেকে ছিটকে না যান। এটি নিশ্চিত করে যে, ফাইনালে সব দল তাদের সেরা শক্তি নিয়েই মাঠে নামতে পারবে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খেলোয়াড় যদি একই ম্যাচে লাল কার্ড পান অথবা দুই রাউন্ডের মধ্যে নির্ধারিত সংখ্যক হলুদ কার্ড পেয়ে নিষিদ্ধ হন, তবে তাঁকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
কার্ডের নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি ফিফা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণও বাড়িয়েছে। ৪৮টি দলের জন্য মোট অর্থের পরিমাণ ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি দল এখন কমপক্ষে ১৮ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। এছাড়া টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি এবং বাছাইপর্বের সাফল্যের জন্য দেওয়া অর্থের পরিমাণও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বযজ্ঞ চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। নতুন এই নিয়মের ফলে দলগুলো তাদের সেরা তারকাদের মাঠের লড়াইয়ে আরও বেশি সময় পাবে বলে আশা করছে ফিফা।