৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:৫২ পিএম

নেপালে সরকার বিরোধী আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কাঠমান্ডু। কারফিউ ভেঙে ছাত্র-জনতা নেমে এসেছে রাস্তায়। কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সব ফ্লাইট আপাতত বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আগামীকাল বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের।
জানা গেছে, নেপালে ম্যাচ কাভার করতে যাওয়া সংবাদিকেরাও জামাল ভূঁইয়াদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন।
আরও পড়ুন
| ২৪ ঘণ্টা না যেতেই নতুন কোচ নিয়োগ নটিংহ্যামের |
|
তার আগে আজ বিকাল ৩টায় ছিল জাতীয় দলের ফ্লাইট। কিন্তু দুপুরের পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হওয়ায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়। সেখানে থাকা টি-স্পোর্টসের রিপোর্টার মমিন রোহনের বরাতে জানা যায়, আন্দোলনকারীরা টিম হোটেল গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
আন্দোলনকারীদের ধারণা ছিল সরকারপন্থীরা ওই হোটেলে অবস্থান করছে। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠায়। তার কিছুক্ষণ পর হোটেলের পাশের এক রাজনীতিবিদের ভবনে আগুন লাগায় তারা। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ভিডিও থেকেও বিষয়টি জানা যায়।
রোহন বলেছেন,
'আমিসহ আরো দুজন সাংবাদিক টিম হোটেলে উঠেছি। এখানকার পরিস্থিতি ভালো নয়। ফেরার ব্যাপারে বাফুফে থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমাদের পাসপোর্টের কপি তাদের কাছে জমা দিয়েছি।'
এ বিষয় জানতে কথা হয় নেপালে খেলা কাভার করতে যাওয়া মানবজমিন পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার ও বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির (বিএসপিএ) সাধারণ সম্পাদক সামন হোসেনের সঙ্গে।
আরও পড়ুন
| ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ |
|
তিনি বলেন,
'বাফুফের সাধারণ সম্পাদক (ইমরান হোসেন তুষার) আমাদের পাসপোর্টের কপি নিয়েছেন। দলের সঙ্গে কালকের ফ্লাইটে ফেরানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ দল যে কালকেই ফিরতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা এখনও পায়নি। কারণ ত্রিভুবন বিমানবন্দর সচলের কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। সময় যত গড়িয়েছে পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে। হামলা, ভাঙচুর চলছেই। ১১৪জন যাত্রী বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট আজ কাঠমান্ডুতে অবতরণ করতে পারেনি। কাল সকালে আরেকটি বিমান দলকে নিতে আসার কথা রয়েছে। ওই ফ্লাইটে আমাদের নেওয়ার জন্য চেস্টা করা হচ্ছে।'
নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যকার দুই ম্যাচের প্রীতি সিরিজ কাভার করতে কাঠমান্ডু যান সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক রুবেল। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
'ফুটবলারদের মত এখানে আমরা সাংবাদিকরাও হোটেল বন্দী। একটু পরপর এখানে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ শোনা যায়। গুমোট পরিস্থিতি চলমান।'
আরও পড়ুন
| এশিয়া কাপ শুরুর আগে সূচি নিয়ে অসন্তোষ |
|
দেশে ফেরার ব্যাপারে সাংবাদিক ওমর ফারুক বলেন,
'আগামীকাল সকাল ৯টার ফ্লাইটে জাতীয় দলকে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফেডারেশন থেকে বলা হয়েছে বিমানে নেওয়ার সুযোগ হলে আমাদেরও দেওয়া হবে এবং আমাদের সব ধরনের সাপোর্ট দেবে।'
সামগ্রিক পরিস্থিতি জানতে যোগাযোগ করলে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার টি-স্পোর্টসকে বলেন,
'আমরা সবাইকে (সাংবাদিক-ফুটবলার) নিরাপদে দেশে ফেরাতে চেষ্টা করছি। কিন্তু নেপালের অথরিটি থেকে কোন ক্লিয়ারেন্স এখনো পায়নি। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।'
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫৫ পিএম

আরেকটি ট্রফিশূন্য মৌসুম এড়াতে রিয়াল মাদ্রিদকে পাড়ি দিতে হবে দূর্গম পথ। চোট আর ছন্দহীনতায় এমনিতেই ব্যাকফুটে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনার কাছে লিগ শিরোপা প্রায় হাতছাড়া হওয়ার পর এবার তাদের লড়াই চ্যাম্পিয়নস লিগে। আর ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বিপদে পড়তে পারে রিয়াল। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে আজ স্প্যানিশ জায়ান্টদের ৬ ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখলেই নিষেধাজ্ঞার শাস্তির মুখে পড়বেন।
এই মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণভাগ এমনিতেই অধরাবাহিক। আলভারো আরবেলোয়ার দলের আক্রমণের দুই প্রাণভোমরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপে উভয়ই বায়ার্নের বিপক্ষে পরের লেগে দর্শক বনে যেতে পারেন।
এছাড়া জুড বেলিংহাম, আলভারো কারেরাস, ডিন হুইসেন ও অরেলিন শুয়োমেনিও নিষেধাজ্ঞার শাস্তি থেকে একটি কার্ড দূরে। রদ্রিগোও এই তালিকায় আছেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী চোটে তিনি খেলবেন না।
ইতিহাদে ম্যানচেস্টার সিটি বাধা টপকাতে রিয়ালের ত্রাদা হয়ে এসেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের নৈপুণ্যে আসে দুটি গোল। সম্প্রতি ছন্দহীনতায় থাকলেও বড় ম্যাচে এমবাপের উপস্থিতির গুরুত্ব ভালো করেই জানা আছে রিয়াল কোচের। এই বায়ার্নের বিপক্ষে সাত ম্যাচে তিনটি গোল ও এক অ্যাসিস্ট আছে ফরাসি ফরোয়ার্ডের। তাতে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে সতর্কই থাকতে হবে তাকে।
ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার রিয়াল-বায়ার্ন ম্যাচের দায়িত্বে। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সাত ম্যাচে গড়ে ৪.৪টি হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি। এর মধ্যে পিএসভি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের ম্যাচে সাতবার হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছে তাকে। প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৩.৫৬ ফাউল হয়েছে, যা প্রমাণ করে খেলোয়াড়দের কার্ড দিতে ‘প্রসিদ্ধই’ তিনি।
রিয়ালের সাম্প্রতিক ম্যাচে ক্যামাভিঙ্গা ও আর্দা গুলার-কে কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি অলিভার। চ্যাম্পিয়নস লিগের যে ম্যাচে রিয়াল ৩-৪ ব্যবধানে অলিম্পিয়াকসের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল। রিয়ালের জয়ে চার গোল এসেছিল এমবাপের সৌজন্যে।
মোট চারবার রিয়ালের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন অলিভার—চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুইবার এবং ২০২২ ইউইএফএ সুপার কাপ ফাইনালে একবার, যেখানে তিনি কোনো রিয়ালের খেলোয়াড়কে কার্ড দেখাননি।
তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কার্ড দেখানোর অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৮ সালে জুভেন্তাসের বিপক্ষে তিনি দানি কারভাহাল, মার্কেলো ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-কে কার্ড দেখান। ২০২৩ সালে ব্রাগার বিপক্ষে এডুয়ার্দো ক্যামাভিঙ্গা ও নাচো-কে সতর্ক করেছিলেন।

কোয়াড্রপল জয়ের সুযোগ ছিল আর্সেনালের। টানা দুই ম্যাচে দুই ট্রফি খুইয়ে নিজেদের চিরচিত অভ্যাসই যেন দেখিয়ে দিল মিকেল আরতেতার দল। গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লিগ কাপে হারের পর রোববার সাউদাম্পটনের সঙ্গে হেরে এফএ কাপ থেকে বিদায়। ঘরোয়া কাপে হারের ক্ষত নিয়েই এবার ইউরোপীয় মঞ্চে ভাগ্য ফেরাতে পর্তুগাল পাড়ি দিচ্ছে আর্সেনাল।
এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও স্পোর্টিং লিসবন।
লিগ কাপ এবং এফএ কাপ হাঁতছাড়া হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে চলতি মৌসুমে অপ্রতিরোধ্য আর্সেনাল। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে একটি ম্যাচেও এবার হারেনি মিকেল আরতেতার দল।
আরও পড়ুন
| বড় জয়ে ফেডারেশন কাপের রেসে ফিরল বসুন্ধরা কিংস |
|
অবশ্য পর্তুগিজ প্রতিপক্ষের মাঠে নকআউট পর্বে আর্সেনালের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পর্তুগালে ইংলিশ ক্লাবটি এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি (৪ ড্র, ২ হার)। সবশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে শেষ ষোলোর ম্যাচে পোর্তোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।
আর্সেনালের জন্য কাজটা আরও কঠিন—কারণ চোটের কারণে এই ম্যাচে থাকছেন না বুকায়ো সাকা এবং জুরি এন টিম্বার। যদিও স্বস্তির খবরও আছে—গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েস, ডেকলান রাইস এবং লেয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড লিসবনে উড়াল দেওয়ার আগে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন।
আর্সেনালের সেরা ‘অস্ত্র’ ভিক্টর গিওকেরেস। গত মৌসুমে স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড এবার ফিরছেন চেনা আঙিনায়, তবে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে। স্পোর্টিংয়ের হয়ে ১০২ ম্যাচে ৯৭ গোল করা গিওকেরেস ভালোভাবেই জানেন দলটির শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা। আর্সেনালের আক্রমণভাগের মূল ভরসা এখন তিনিই।
নিজেদের মাঠে স্পোর্টিং রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নিয়ে তারা আর্সেনালকে আতিথ্য দেবে। এর আগে বোদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ৩ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে রুই বোরগেসের দল।
আরও পড়ুন
| কোয়ার্টার ফাইনালের হাতছানি আফঈদা-সাগরিকাদের সামনে |
|
যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে পর্তুগিজ ক্লাবগুলো ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গত ৯টি কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ের সবকটিতেই হেরেছে। তবে ২০২৩ সালে এই আর্সেনালকেই পেনাল্টিতে হারিয়ে ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল স্পোর্টিং।
বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখায় আজকের ম্যাচে স্পোর্টিংয়ের অধিনায়ক মর্টেন হিউলম্যান্ড খেলতে পারবেন না। এছাড়া চোটের কারণে জিওভানি কুয়েন্ডা ও লুইস গুইলহের্মেকে পাচ্ছে না পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়নরা। স্পোর্টিংয়ের হয়ে লুইস সুয়ারেজ আর একটি গোল করলেই ক্লাবের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ইউরোপীয় গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে রক্ষণভাগ ফাঁকি দেওয়া প্রতিপক্ষ দলের জন্য বেশ কঠিনই। গানাররা প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ গোল হজম করেছে। বিপরীতে স্পোর্টিং এই আসরে নিজেদের মাঠে খেলা ৫টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে। পর্তুগিজ কোনো ক্লাবের জন্য ১৯৯৯ সালের পর এটিই দীর্ঘতম জয়ের রেকর্ড।

আক্রমণাত্মক শুরুর পর দ্রুতই গোলের দেখা পেল বসুন্ধরা কিংস। এরপর পুরো ম্যাচে সেই ধারা বজায় রেখেছেন রাকিব-ফাহিমরা। নিয়মিত বিরতিতে গোল দিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়েছে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের খেলায় আরামবাগকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ফেডারেশন কাপে এর আগের দুই ম্যাচেই ড্র করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অবশেষে জয়ের দেখা পেল তারা। এই জয়ে তিন খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দুইয়ে কিংস। সমান ম্যাচে এখনও জয়ের দেখা পায়নি তলানিতে থাকা আরামবাগ।
বসুন্ধরা কিংসের হয়ে আজ জোড়া গোল করেছেন দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন রাকিব হোসেন, সোহেল রানা জুনিয়র ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। দুটি অ্যাসিস্ট করা ফাহিমের নামে হ্যাটট্রিক থাকতে পারত, তবে দুবার বল জালে জড়িয়েও অফসাইডে কাটা পড়েছেন জাতীয় দলের এই উইঙ্গার।
এদিন ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ভালো সুযোগ আসে বসুন্ধরা কিংসের সামনে। আক্রমণে উঠে গোলপোস্টের কাছ থেকে ক্যাটব্যাক দেওয়ার জন্য অবশ্য কাউকে খুঁজে পাননি দোরিয়েলতন।
১৪ মিনিটে সোহেল রানার থ্রু পাসে আকাশে উড়িয়ে মারেন ফাহিম। এ সময় পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় কিংস। শেষটি থেকেই দোরিয়েলতন দলকে এগিয়ে দেন। কর্নার প্রতিহতের পর ফিরতি বলে সেই কর্নারের কাছ থেকে ক্রস দেন ফাহিম। অনেকটা লাফিয়ে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
২২ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিবের ক্রস; আলতো টোকায় লিড দ্বিগুণ করেন গোলমুখের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিম। ৫ মিনিট পর আবারও রাকিবের দারুণ একটা নিচু ক্রস। তবে এবার সেটি কর্নার করে দেন আরামবাগের ডিফেন্ডার নিক্সন চাকমা।
আরও পড়ুন
| এবারই প্রথম নয়, ইউরোপের দলের বিপক্ষে আগেও খেলেছিল বাংলাদেশ |
|
৪১ মিনিটে সানডের পাস থেকে দোরিয়েলতন শট নিলে বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট পোস্ট ঘেঁষে। ওই মিনিটেই ফাহিমের দারুণ ক্রস খুঁজে পায়নি কাউকে। চার মিনিট পর হেডে জাল কাঁপান আরামবাগের জাহিদুল। গোলের উদযাপন করার আগেই অবশ্য ওড়ে অফসাইডের পতাকা। জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ার পর থেকে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে খেলে আরামবাগ।
বিরতির পর ৫২ মিনিটে ইমানুয়েল সানডে আরামবাগের গোলকিপার আজাদের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে ঠেলে দেন। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ৫৫ মিনিটে ফাহিমের আরও একটি নিচু ক্রসে দলকে এগিয়ে দেন দোরিয়েলতন।
৬৬ মিনিটে ফাহিমের শট ঠেকিয়ে দেন আরামবাগের গোলকিপার আজাদ। কিন্তু বল বিপদমুক্ত হয়নি। বক্সে জটলার মধ্য থেকে বটম কর্নার দিয়ে দলের স্কোরলাইন ৫-০ করেন সোহেল রানা জুনিয়র। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হ্যাটট্রিক হতে পারত দোরিয়েলতনের; কিন্তু দারুণ হেডেও গোল পাননি তিনি।
‘বি’ গ্রুপের দিনের অপর ম্যাচটি মাঠে গড়ায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। টেবিল টপার থেকে পুলিশ এফসির বিপক্ষে মাঠে নামে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব। যদিও তারা এগিয়ে গিয়ে ১-২ গোলে হেরেছে পুলিশের কাছে। এই জয়ে ৩ খেলায় এক জয় এক হারে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠেছে পুলিশ। চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনে নেমে গেছে ফর্টিস।

প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তবে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ নয়। এর আগে ইউরোপের দুটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে।
২০০১ সালে তিন মহাদেশের ১৩ দল নিয়ে সাহারা কাপ আয়োজন করে ভারত। সেই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল বসনিয়া এন্ড হার্জেগোভিনা ও এফআর যুগোস্লাভিয়। দুটো দলই ইউরোপের। বসনিয়া তো এবার ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপেই জায়গা করে নেয়। ওই টুর্নামেন্টেই কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন আলমেদিন হোতা। বসনিয়ার হয়ে ২২ ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার এখনো অপেশাদার ফুটবল ও ফুটসাল খেলে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ হারে ৪-১ গোলে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ফিরোজ মাহমুদ। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় তাঁর গোলে। যদিও পরে তা ধরে রাখতে পারেনি। যুগোস্লাভিয়া ২০০৩ সালে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো হিসেবে আবির্ভুত হয়। ২০০৬ সালে অবশ্য সার্বিয়া আর মন্টেনেগ্রো আলাদা দলে পরিণত হয়।
২৫ বছর পর বাংলাদেশ আবারও পেতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলার স্বাদ। তবে এবার ইউরোপের দলের বিপক্ষে ইউরোপের মাটিতেই খেলবেন হামজা-জামালরা। ১৯৮৭ সালে প্রথম ম্যাচ খেলা সান মারিনো এখন পর্যন্ত জয় পেয়েছে মাত্র ৩ ম্যাচে। তিনটিই লিখটেনস্টেইনের বিপক্ষে। যার দুটি ২০২৪ সালে। নেশনস লিগে প্রমোশন পেয়ে আগামী মৌসুমে তৃতীয় স্তরে খেলবে তারা। সম্প্রতি বিশ্বকাপে খেলা বসনিয়ার সঙ্গে কেবল ১-০ গোলে হেরেছে সান মারিনো। নিয়মিতই তারা খেলে ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলোর বিপক্ষে।

দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ৫ জুন ইতালির পার্শবর্তী দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক ফিফা টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচ খেলবেন হামজা-জামালরা।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সান মারিনোর মাটিতেই। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে বাংলাদেশ।
ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ঐতিহাসিক এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যেমন প্রথম কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তেমনি সান মারিনোও তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলবে কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে।
তবে ইউরোপের মাটিতে খেলার জন্য বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে তলানির দলটিকে (২১১)। বর্তমানে বাংলাদেশ এই তালিকার ১৮১তম স্থানে।