১০ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম

বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক দাবি করেছেন, তাঁর দলে আরও একজন তরুণ খেলোয়াড় রয়েছেন যিনি লামিন ইয়ামালের সমতুল্য। অবকাশ না দিয়েই স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বার্সার প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কুবার্সি। যদিও ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে এবং বড় ম্যাচে কুর্বাসির সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নিউক্যাসেলের বিপক্ষে প্রথম লেগের আগে ফ্লিক বলেছেন,
‘আমার মতে, পাউ কুবার্সি লামিন ইয়ামালের সমতুল্য, তবে সেটা ডিফেন্সে। সে ডিফেন্সে এতই ভালো করছে যে, তার থ্রো-ইনও যেন কর্ণারের মতো। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সে এমন উচ্চমানের ফুটবল খেলতে পারে যা কল্পনাতীত।’
এসয় প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও কথা বলেন ফ্লিক। তিনি বলেছেন,
‘প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সেরা লিগ। এখানে অনেক শক্তিশালী দল আছে। তাদের অনেক দল চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়।’
পাশাপশি ফ্লিক ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার বিশেষত্বও তুলে ধরেন,
‘চ্যাম্পিয়নস লিগ আলাদা। সবাই দেখাতে চায় তারা কী করতে পারে। তারা আমাদের ওপর চাপে রাখবে, তাই আমাদের সাহসী হতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে। তাদের কনট্রা অ্যাটাকে দুর্দান্ত ।’
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২৮ পিএম
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১:২১ পিএম

তরুণ তারকা ফুটবলারদের দলে ভেড়াতে টাকার পাহাড় নিয়ে সবসময়ই প্রস্তুত সৌদি আরবের ক্লাবগুলো। দলবদলের বাজারে ঝড় তুলে ইউরোপীয় ফুটবলের আধিপত্যে ভাগ বসানোই যেন তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোটা অংকের বেতন আর রাজকীয় সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে একের পর এক বিশ্বখ্যাত তারকাকে মরুভূমিতে উড়িয়ে নিচ্ছে আল-নাসর বা আল-হিলালের মতো ক্লাবগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের রাডারে আবারও ধরা পড়েছেন বার্সেলোনার প্রাণভোমরা রাফিনিয়া।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবারও সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাবের নজরে পড়েছেন রাফিনিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরপরই নাকি রাফিনিয়াকে দলে ভেড়াতে একটি বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
গত বছরও সৌদি আরবের একটি দল রাফিনিয়াকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল। বার্সেলোনাকে প্রায় ৯ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল এবং খেলোয়াড়কেও বিপুল পরিমাণ অর্থে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়া কাতালান জায়ান্ট ক্লাবটিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত বছরের মে’তে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্সার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছিলেন রাফিনিয়া। আল-নাসর কোচ জর্জ জেসুসও তখন তাঁকে বার্সেলোনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাব ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের প্রতি তাদের আগ্রহ নতুন করে প্রকাশ করেছে। তারা রাফিনিয়ার জন্য বিডিং বা নিলামে নামতেও প্রস্তুত। অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব দেয়নি কোনো ক্লাব।
সৌদির বড় ক্লাবগুলো এই বছর তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের লিগটির কিছু ক্লাবের বেশ কয়েকজন তারকার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সামলে তারা লিগের উন্নয়ন এবং স্কোয়াড শক্তিশালী করতে শীর্ষস্থানীয় তারকাদের টেনে আনার ব্যাপারে এখনো অনড়। রাফিনিয়ার জন্য ঠিক কত বড় অংকের প্রস্তাব দেয় সৌদি ক্লাব সেটাই দেখার এখন।
এখন পর্যন্ত রাফিনিয়া নিজেকে বার্সার প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ হিসেবেই প্রমাণ করেছেন। ক্লাবেরও তাঁকে বিক্রি করার কোনো ইচ্ছা নেই। চলতি মৌসুমে একের পর এক চোটের মধ্যে দারুণ ছন্দে আছেন ২৯ বছর বয়সী তারকা। হান্সি ফ্লিকের দলের মধ্যমণি ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে ১৯ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৭টি গোল।

দেশ-বিদেশের ফুটবলের যে কোনো খবর কাভার করতে সর্বদা সচেষ্ট দেশে খেলাধুলার একমাত্র টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস। তারা এবার মাইক, কী বোর্ড ও ক্যামেরা ছেড়ে নিজেরাই নেমে পড়বে ফুটবলের লড়াইয়ে। আসন্ন ‘কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ খেলবে টি স্পোর্টস।
মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আর্টিফিশিয়াল টার্ফে আগামী রোববার শুরু হবে দেশের প্রতিষ্ঠিত ৩২টি সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট। যেখানে ‘ডি’ গ্রুপে পড়েছে টি স্পোর্টস।
নকআউট পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪ ডট কমের মুখোমুখি হবে টি স্পোর্টস। ‘ডি’ গ্রুপের অন্য দুই দল দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন ও গ্রুপিং ড্র অনুষ্ঠান হয়। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ৩২টি সংবাদমাধ্যমকে ৮টি গ্রুপে ভাগ করা হয় সেখানে।
আরও পড়ুন
| ব্যাটে ‘এআই চিপ’ লুকানোর গুঞ্জনে জবাব দিলেন সূর্যবংশী |
|
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার আদিব বিন শহীদ। এছাড়া বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন ও সহ-সভাপতি এবং টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মুঘনিও উপস্থিত ছিলেন।
সবাইকে স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিট নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলার আহ্বান জানান বিএসজেএ সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন। ‘কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ সম্পর্কে সার্বিক ধারণা দেন টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মুঘনি।
স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার আদিব বিন শহীদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের এক বিশাল মিলনমেলা এই টুর্নামেন্ট। বিএসজেএ মিডিয়া কাপ টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। মাঝেমধ্যে আমরাও চেষ্টা করি এখানে খেলতে। সবাই অনুরোধ করব, স্পোর্টসম্যান স্পিরিট বজায় রেখে খেলবেন। টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।’
বিএসজেএ সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন, ‘প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের সঙ্গে থাকায় কুল তথা স্কয়ার টয়লেট্রিজকে ধন্যবাদ। সবাইকে আমি একটি কথাই বলতে চাই, এটি স্রেফ বিনোদনমূলক টুর্নামেন্ট। তাই কেউ অত্যধিক সিরিয়াস খেলতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হবেন না। সবাই নিরাপদে খেলুন। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ থাকবে আপনারা টুর্নামেন্টের কাভারেজ ভালোভাবে দেবেন। সবার প্রতি শুভকামনা।"
পরে ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের গ্রুপিং চূড়ান্ত হয়।
কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর গ্রুপিং
গ্রুপ ‘এ’ - এখন টিভি, দৈনিক ইনকিলাব, এটিএন নিউজ, স্টার নিউজ
গ্রুপ ‘বি’ - মাছরাঙা টিভি, দৈনিক কালবেলা, এনটিভি, এসএ টিভি
গ্রুপ ‘সি’ - ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক সমকাল, আর টিভি, দীপ্ত টিভি
গ্রুপ ‘ডি’ - জাগোনিউজ২৪, দৈনিক কালের কণ্ঠ, টি স্পোর্টস, ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি
গ্রুপ ‘ই’ - চ্যানেল আই, দ্য ডেইলি অবজার্ভার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাভিশন
গ্রুপ ‘এফ’ - দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক মানবজমিন, নিউজ২৪, ঢাকা পোস্ট
গ্রুপ ‘জি’ - দৈনিক যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বৈশাখী টিভি, বাংলানিউজ২৪
গ্রুপ ‘এইচ’ - এটিএন বাংলা, দৈনিক নয়াদিগন্ত, চ্যানেল ২৪, ক্রিকফ্রেঞ্জি

বার্সেলোনা থেকে পিএসজি—লিওনেল মেসি ও নেইমারের রসায়ন শুধু মাঠের খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে এক গভীর সখ্যতায়। আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যখন তারা একে অপরের মুখোমুখি হন, তখন বন্ধুত্ব হার মানে পেশাদারিত্বের কাছে। তবে সেই লড়াই শেষে আবারও ফুটে ওঠে তাদের হৃদয়ের টান। যেমনটি দেখা গিয়েছিল গত কোপা আমেরিকার ফাইনালে; ব্রাজিলের হারের পর মাঠেই নেইমারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন বিশ্বজয়ী মেসি।
মেসির সঙ্গে অম্ল-মধুর স্মৃতির রেশ নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন নেইমার। চোটের বাধা ডিঙিয়ে আবারও হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামতে মরিয়া সান্তোসের ফরোয়ার্ড। তাঁর স্বপ্নের গন্তব্য এখন একটাই—বিশ্বকাপের ফাইনাল, আর সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চান সময়ের সেরা ফুটবলার ও তাঁর পরম ‘বন্ধু’ মেসিকে।
আরও পড়ুন
| আতলেতিকোর মাঠ নিয়ে ইউয়েফার কাছে নালিশ আর্সেনালের |
|
ফুটবল বিশ্বের সব নজর এখন লিওনেল মেসি (৩৮) এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর (৪১) ওপর। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপই দুই কিংবদন্তির ‘লাস্ট ডান্স’। একই কথা বলা যেতে পারে নেইমারের ক্ষেত্রেও, যদিও বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু নির্ভর করছে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
নেইমার এখন নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করছেন বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে। সম্প্রতি ২০২৬ কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোস এবং আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জোর মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস'-এর সঙ্গে আলাপকালে বিশ্বকাপে খেলার তীব্র ইচ্ছার কথা লুকাননি সাবেক এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
নেইমার বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমি বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবি। প্রতিটি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ই সেখানে থাকতে চায়, আশা করি আমিও থাকতে পারব।’ যখন মেসির সঙ্গে আবারও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, নেইমার তাঁর মনের ইচ্ছা স্পষ্টভাবেই প্রকাশ করেন। সান্তোস তারকা বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের মধ্যে একটি ফাইনাল হওয়া হবে অভাবনীয়। আশা করি বিশ্বকাপে আমরা ফাইনালে পৌঁছাব এবং সেখানে মেসির মুখোমুখি হব।’
নেইমারের মূল চ্যালেঞ্জ এখন আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণার আগে নিজেকে শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় নিয়ে আসা এবং মাঠে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে আনচেলোত্তির মন জয় করা। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নেইমার যদি দলে ডাক না পান তবে সেটি পারফরম্যান্সের অভাবে নয়, বরং কেবল ফিটনেস সমস্যার কারণেই হবে।

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ ব্যবধানে। এই ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে নামার আগে ঘাস নিয়ে ইউয়েফার কাছে অদ্ভুত এক অভিযোগ জমা দিয়েছিল আর্সেনাল।
গানার্সদের দাবি ছিল, মেত্রোপলিতানোতে তাদের খেলার গতি কমিয়ে দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠের ঘাস বড় রাখা হয়েছে। বুধবার রাতে ম্যাচ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে আর্সেনালের ব্যাকরুম স্টাফরা মাঠের কর্মকর্তাদের সাথে তর্কেও জড়ান।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ঘাসের উচ্চতা ২১ থেকে ৩০ মিলিমিটারের মধ্যে হতে হবে। গানার্সদের আপত্তির মুখে ঘাস মেপে দেখা যায় উচ্চতা ২৬ মিলিমিটার, যা ইউয়েফার নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ।
মেত্রোপলিতানোর পিচ নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের অসন্তষ্টি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বার্সেলোনা এবং টটেনহ্যামও এই মাঠের পিচ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিল।
গতকাল রাতে মাঠের পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত ছিল। ৪৪ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেসকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ডেভিড হাঙ্কো। রেফারি দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এরপর ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বদলি হিসেবে নামা এবারিচি এজেকে বক্সের ভেতর ফেলে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডার ডেভিড হাঙ্কো। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা, ‘আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ কারণ এজের ওপর হওয়া ফাউলটির পেনাল্টি যেভাবে বাতিল করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিএআর তখনই হস্তক্ষেপ করতে পারে যখন রেফারির সিদ্ধান্তে সুস্পষ্ট ভুল থাকে, কিন্তু এখানে তেমন কিছুই ছিল না। এই একটা সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে এই ধরণের ভুল কাম্য নয়।‘
আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল। আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়।

পেশাদার ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য প্রতিটি ম্যাচে অন্তত একজন করে ক্লাবের নিজস্ব (একাডেমির) তরুণ খেলোয়াড় মাঠে রাখা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ফিফা। গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফিফা কাউন্সিল একমত হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী এক বছরের মধ্যে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
মূলত যেসব ক্লাব কেবল চড়া দামে কেনা বা বিদেশি প্রতিভার ওপর নির্ভর করে চলে, তাদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা তরুণদের খেলার সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফিফা জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি নিয়ম কার্যকর করা যাতে প্রতিটি সিনিয়র ক্লাব দলের জন্য অনূর্ধ্ব-২০ বা অনূর্ধ্ব-২১ ক্যাটাগরির অন্তত একজন ‘হোমগ্রোন’ খেলোয়াড়কে পুরো সময় মাঠে রাখা বাধ্যতামূলক হয়।
বর্তমান নিয়মের সঙ্গে পার্থক্য
এই নতুন নিয়মটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ বর্তমানের অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ জনের স্কোয়াডে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিজস্ব একাডেমির খেলোয়াড় রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তাদের মূল একাদশে রাখা বা খেলানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
উদাহরণস্বরূপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি ক্লাবের সর্বোচ্চ ২৫ জনের স্কোয়াডে অন্তত ৮ জন 'স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত' খেলোয়াড় থাকতে হয়। উয়েফার সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় যদি নিজ ক্লাবে বা ওই দেশেরই অন্য কোনো ক্লাবে অন্তত তিনটি পূর্ণ মৌসুম কাটায়, তবেই তাকে ‘স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত’ খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ফিফার প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, তাদের শুধু স্কোয়াডে রাখলেই চলবে না, পুরো ৯০ মিনিট একজনকে মাঠের খেলায় রাখতেই হবে।
ক্লাব এবং দলবদল বাজারের ওপর প্রভাব
এই নিয়ম চালু হলে খেলোয়াড় কেনাবেচার কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ক্লাবগুলো তখন নিজেদের একাডেমিতে তরুণ প্রতিভা তৈরি এবং তাদের ধরে রাখার ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেবে। লিভারপুল কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের মতো যেসব ক্লাব বিদেশি তারকাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। অন্যদিকে বার্সেলোনা বা বেনফিকার মতো দলগুলো, যারা নিয়মিত অনূর্ধ্ব-২১ হোমগ্রোন খেলোয়াড় মাঠে নামায়, তারা খুব সহজেই এই নিয়মের সঙে মানিয়ে নিতে পারবে। এর ফলে দলবদল বাজারেও পরিবর্তন আসবে; যেহেতু এই নিয়ম মানতে ‘ঘরের ছেলেদের’ গুরুত্ব বাড়বে, তাই বাজারে তাদের দাম বা মূল্যও অনেক বেড়ে যাবে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনেকে এই উদ্যোগকে তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিকল্প হিসেবে অনেকে যেকোনো বয়সের হোমগ্রোন খেলোয়াড় রাখার নমনীয় প্রস্তাব দিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের সভায় বিভিন্ন কনফেডারেশনের সভাপতিরা শুরুতে এই ধারণাকে সমর্থন দিলেও, সামনে এটি নিয়ে আরও ব্যাপক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার একটি প্রধান অংশ হবে 'হোমগ্রোন' শব্দটির একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা, কারণ বর্তমানে একেক লিগে এর সংজ্ঞা একেক রকম।