
কয়েক বছর আগে দাভিদ মালান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি যদি ফ্রি থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ডাক এলে তিনি সেটা বিবেচনা করবেন সবার আগে। কথা রেখে একই সময়ে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চললেও সাবেক ইংলিশ ব্যাটার খেলছেন বিপিএলেই। মালান মণে করেন, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে অবদান রেখেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাক পাওয়ার বেশ আগে থেকেই বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত এক নাম। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একটা সময় খেলেছেন বেশ। আর বিপিএলে তো খেলে আসছেনই। অন্য লিগের ব্যস্ততা না থাকলে সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে খেলার সুযোগ লুফে নেন আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ের এক সময়ের শীর্ষে থাকা মালান।
এই বিপিএলে শুরু থেকেই দলের সাথে থাকলেও সুযোগ পাননি একাদশে। এরপর প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন রানের দেখা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বোলার ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন মালান। “আমি বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আর বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি সব সময়ই কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে খেলার সুযোগ করে দিয়ে ক্রিকেটার হিসেবে উন্নতি করতে অবদান রেখেছে। এই সাহায্যটা না পেলে আমি আজকে যে খেলোয়াড় হয়ে উঠেছি, তা হয়ত সম্ভব হতো না।”
মালান প্রথমবার বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন ২০১৩-১৪ মৌসুমে, প্রিমিয়ার লিগে। এরপর সময়ের পরিক্রমায় ব্যাটার হিসেবে উন্নতি করে জায়গা করে নেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও পান তুমুল জনপ্রিয়তা। আইপিএলেও খেলেছেন কয়েকবার।
আর তাই শুরুর সময়ে নিজের খেলোয়াড় হিসেবে উন্নতিতে অবদান রাখা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট মালানের হৃদয়ে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে। “আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের বিশেষ একটি জায়গা আছে। আমি ১০-১১ বছর আগে প্রথম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট খেলেছি। আর সেটা পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মতো এই লিগও আমাকে ব্যাটার হিসেবে বেড়ে ওঠায়, ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে ভালো করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।”
তবে এবারের আসর নিয়ে মালানের একটা আক্ষেপ আছে। আর সেটা হল পুরো সিজনের জন্য খেলতে এসে প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে বেঞ্চে থাকা। “একসঙ্গে যখন চারটা লিগ চলছে, একই সময়ে যখন একটা লিগে পুরো আসরের জন্য চুক্তি করে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়, সেটা তো হতাশারই। বিশেষ করে, যখন আমার সামনে অন্য লিগে খেলার সুযোগ ছিল।”
No posts available.
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১৪ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ দিকে এসে যেভাবে চাচ্ছে, ঠিক সেভাবেই যেন সব পাচ্ছে পাকিস্তান। যে কারণে সুপার এইটে এখনও কোনো ম্যাচ না জিতেও টিকে আছে তাদের সেমি-ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। সেজন্য মেলাতে হবে কঠিন এক সমীকরণ।
কলম্বোতে শুক্রবার রাতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। আর এতেই বেঁচে গেছে পাকিস্তানের সেমি-ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। কারণ কিউইরা জিতলেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যেত পাকিস্তানের।
সুপার এইটের দ্বিতীয় গ্রুপে এখন বাকি একটি ম্যাচ। পাল্লেকেলেতে শনিবার সন্ধ্যায় ওই ম্যাচে লড়বে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচে জিততেই হবে পাকিস্তানের। তারা আগে ব্যাট করলে জয়ের ব্যবধান হতে হবে অন্তত ৬৪ রানের। পরে ব্যাট করলে ম্যাচ শেষ করতে হবে ১৩.৫ ওভারের মধ্যে।
গ্রুপে আপাতত তিন ম্যাচের সবকটি জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুম্বাইয়ের মাঠে খেলতে হবে তাদের। এছাড়া তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দুই নম্বরে নিউ জিল্যান্ড। এছাড়া দুই ম্যাচে পাকিস্তানের পয়েন্ট ১ ও শ্রীলঙ্কার ঝুলিতে শূন্য।
সবার আগে সুপার এইট থেকে বাদ পড়েছে শ্রীলঙ্কা। তাই শনিবার তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও কোনো লাভ হবে না। উল্টো বাদ পড়ে যাবে পাকিস্তান। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় প্রথম সেমি-ফাইনালের টিকেট পেয়ে যাবে নিউ জিল্যান্ড।
তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যদি পাকিস্তান জিতে যায়, তখন সমান ৩ পয়েন্ট হয়ে যাবে পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের। সেক্ষেত্রে হিসেবে আসবে নেট রান রেট। আপাতত +১.৩৯০ নেট রান রেট নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে কিউইরা। আর পাকিস্তানের নেট রান রেট -০.৪৬১!
তাই নেট রান রেটে নিউ জিল্যান্ডকে টপকে যেতে হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অন্তত ৬৪ রানের জিততে হবে পাকিস্তানের। এছাড়া পরে ব্যাট করলে ১৩.১ ওভারের মধ্যে ম্যাচ জিততে হবে তাদের। এই সমীকরণ মেলাতে পারলে কলম্বোতে প্রথম সেমি-ফাইনাল খেলবে দলটি।
পাকিস্তান যদি সেমি-ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচটি হবে কলকাতার মাঠে। পাকিস্তান সেরা চারে উঠলে, ম্যাচটি হবে কলম্বোতে। প্রথম সেমি-ফাইনালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভারত অথবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর দ্বিতীয়টিতে সম্ভাব্য লড়াই ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার।

পাকিস্তানের প্রার্থনা বুঝি শুনলো বিধাতা। সালমান আলী আগাদের কাছ থেকে তো একটা ধন্যবাদ পেতেই পারে হ্যারি ব্রুকরা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চর এক জয়ে জমে ক্ষীর হলো সেমি ফাইনালের ওঠার লড়াই। আজ কিউইদের হারিয়ে নিজেরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের শেষ চারে যাওয়ার আশাও যে বাঁচিয়ে রাখল ইংল্যান্ড।
কলম্বোতে আজ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চার উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান করে কিউইরা। জবাবে ৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন উইল জ্যাকস। বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ১৮ বলে ৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক বনে গেছেন তিনি।
শেষ তিন ওভারে ইংল্যান্ডের লাগতো ৪৩ রান। গ্লেন ফিলিপসের চতুর্থ আর ইনিংসের ১৮তম ওভার থেকে তারা তোলে ২২ রান। তাতে সমীকরণ দাড়ায় দুই ওভারে ২১। এরপর মিচেল সেন্টনার ১৬ রান দিলে সেখানেই ছিটকে যায় নিউ জিল্যান্ড। শেষ ওভারে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন জ্যাকস। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ৭ বলে ১৯ করা রেহান আহমেদ।
এই জয়ে সুপার এইটে গ্রুপ দুইয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমি ফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত হলো ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ডকে তাকিয়ে থাকতে হবে আগামীকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচটির দিকে। তিন ম্যাচে এক জয় এক হার ও একটিতে ফল না হওয়ায় নিউ জিল্যান্ডের পয়েন্ট ৩, পয়েন্ট টেবিলের তাদের অবস্থান দুই। আর কিউদের বিপক্ষে বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যাওয়া পাকিস্তান এক পয়েন্ট নিয়ে আছে তিন নম্বরে।
নেট রান রেটে অনেকটাই পিছিয়ে পাকিস্তান। মিচেল সেন্টনারের দলের রান রেট ১.৩৯০। অন্যদিকে পাকিস্তানের রান রেট -০.৪৬১। তাতে শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হবে বাবর আজম-আগাদের।
রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার আউট হলে স্কোর হয় ২/২। সল্টের উইকেট নেন ম্যাট হেনরি আর বাটলারের উইকেট নেন লকি ফার্গুসন। এরপর ধস ঠেকান হ্যারি ব্রুক-জ্যাকব বেথেল। তবে তৃতীয় উইকেটে তাদের ৪৮ রানের জুটি শেষ হতেই আবার দু’দফা হোঁচট খায় ইংল্যান্ড। ৮ রানের ব্যবধানে দুই সেট বেটার আউট হন। গ্লেন ফিলিপসের শিকার ২৪ বলে ২৬ করা হ্যারি ব্রুক। আর ১৬ বলে ২১ করা বেথেলের উইকেটটি নেন রাচিন রাবীন্দ্রো।
১৪.৩ ওভারে ইংল্যান্ডের রান যখন ১০০, ২৪ রান করে আউট হন স্যাম কারান। শেষ পাঁচ ওভারে তাদের লক্ষ্য দাড়ায় ৫৯। দলীয় ১১৭ রানে টম বেন্টনকে হারিয়ে আরও বিপাকে পড়ে ইংলিশরা। জয়ের থেকে তখনো তারা ৪৩ রানের দূরত্যে, বল বাকি ১৯।
এরপরই ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব ঘটে উইল জ্যাকস-রেহান আহমেদ জুটির। সপ্তম উইকেটে তাদের ৪৪ রানের জুটিই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয় ইংল্যান্ডকে।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন রাচিন রবীন্দ্র। চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে এই অলরাউন্ডার নিয়েছেন ৩ উইকেট।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা ছিল দারুণ। টিম সাইফোর্ট-ফিন অ্যালেনের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৬৪ রান। ২৫ বলে ৩৫ করা সাইফোর্টকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন আদিল রাশিদ। স্কোরবোর্ডে দুই রান যোগ হতে পরের ওভারেই ফিরেন আরেক ওপেনার অ্যালেন। উইল জ্যাকসের শিকার হওয়ার আগে ডানহাতি ব্যাটার করেন ১৯ বলে ২৯।
এরপর কেবল গ্লেন ফিলিপসই কেবল খেলেছেন বলার মতো ইনিংস। তাঁর ৪ চার ও ১ ছয়ে ২৮ বলে ৩৯ রানই ছিল নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের সর্বোচ্চ। ১২ ওভারে ১০৬ করা নিউ জিল্যান্ড পরের আট ওভার থেকে তোলে ৫৩ রান।
বল হাতে সমান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন আদিল রাশিদ, উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ।

কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে নিউ জিল্যান্ড। এই ম্যাচে শেষেই দেশে ফিরবেন কিউই পেসার ম্যাট হেনরি।
সন্তান জন্মের সময় পরিবারের পাশে থাকতে বিশ্বকাপ ছেড়ে দেশে ফিরছেন হেনরি। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের জন্য পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন এই তারকা পেসার।
এক বিবৃতিতে নিউ জিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার বলেন,
‘ম্যাট ও হলির জন্য এটি খুবই আনন্দের মুহূর্ত। তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ সময়। আমরা সবাই তাদের জন্য শুভকামনা জানাই।‘
নিউ জিল্যান্ড সেমি-ফাইনালে উঠলে হেনরিকে আবার দলে পাওয়ার আশা দেখছেন কোচ,
‘এখনও অনেক কিছু নির্ভর করছে সামনে কী হয় তার ওপর। আশা করছি দলের জন্য এবং ম্যাটের জন্য সবকিছু অনুকূলে যাবে, এবং টুর্নামেন্টের শেষ দিকে আমরা তাকে আবার মাঠে দেখতে পাব।‘
আজ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করবে নিউ জিল্যান্ড। তবে হেরে গেলে কাল তাকিয়ে থাকতে হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ওপর।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কিউইদের যৌথ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হেনরি। পাঁচ ইনিংসে নিয়েছেন ৬ উইকেট, ইকোনমি রেট ৭.৩৮।
এর আগে গ্রুপ পর্বে আরেক পেসার লকি ফার্গুসনও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেননি। পরে দলে ফিরে ২৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার এইটের ম্যাচে খেলেছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে খাদের কিনারায় চলে যায় ভারত। এরপর জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আবার সেমি ফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে ফিরে সূর্যকুমার যাদবের দল। আগামী রোববার ওয়েন্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নিয়েছে। তবে বৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো কারণে খেলার ফল না হলেই শেষ হয়ে যাবে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান।
ভারত প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেলেও পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় জয় তুলে ঘুরে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুপার এইট শুরু করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয় দিয়ে, পরে প্রোটিয়াদের কাছে বিশাল ব্যবধানে হারে ক্যারিবিয়রা।
সেমিফাইনালের সমীকরণ বেশ সহজ—ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে যে দল জিতবে, তারা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠবে। তবে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গেলে বা পরিত্যক্ত হলে পরিস্থিতি জটিল হবে। সুপার এইট পর্বে দুই ম্যাচ করে খেলে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—উভয়েরই সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে রান রেটে এগিয়ে থাকার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। বর্তমানে ভারতের নেট রান রেট -০.১০০, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের +১.৭৯১।
ভারতের সমর্থকদের জন্য সুখবর হলো—রোববার কলকাতায় আকাশ পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, আর ম্যাচ শুরুর সময় তা নেমে আসবে প্রায় ২৫–২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই। ফলে ম্যাচটি নির্বিঘ্নে শেষ হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। ইতিবাচক এই আবহাওয়ার পূর্বাভাস ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল–এর জন্য বড় স্বস্তির খবরই বটে। আর বৃষ্টি হলেও ইডেন গার্ডেন্স–এর আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পুরো ম্যাচ ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা কমই।
এই ম্যাচে সন্ধ্যার পর শিশিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিশির পড়লে বল ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়, যা বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই টস জেতা দল কৃত্তিম আলোয় লক্ষ্য তাড়া করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এই গ্রুপের অন্য দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচের ফলাফল সরাসরি সেমির সমীকরণে বড় প্রভাব না ফেললেও—ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা—তিন দলেরই গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ আছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল সেমিফাইনালে অন্য গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হবে।
এদিকে ভারতের ব্যাটার তিলক ভার্মা জানিয়েছেন, শুরুতেই উইকেট পড়লেও দল তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং কৌশল থেকে সরে আসবে না। তার মতে, এই মানসিকতা প্রতিপক্ষ বোলারদের মধ্যে ভীতি তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটাররা সম্মিলিতভাবে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৪ উইকেটে ২৫৬ রান তোলে। এরপর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭২ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিলক বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে রান করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। পরিস্থিতি যাই হোক, পাওয়ারপ্লেতে তিন–চারটি উইকেট পড়ে গেলেও আমরা একই ছন্দে ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই করেছি।’ এবার একই পরিকল্পনায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা সফল হতে পারে কি না সেটাই দেখার।

অভিষেক শর্মাকে পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমিরের 'স্লগার' বলা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সেই মন্তব্যের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জবাব দিয়েছেন সাবেক ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শুরুর দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন অভিষেক। তারপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমির বলেন, ‘অভিষেকের ব্যাটিংয়ে রক্ষণাত্মক কোনো দিক নেই, সে শুধু একজন স্লগার।‘ পাকিস্তানের বিপক্ষেও রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন অভিষেক। তারপরই ভারতের এই ওপেনারকে নিয়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
ছন্দ হারালেও অভিষেকের ওপর আস্থা রেখেছিল ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট। গতকাল সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩০ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সমালোচনার জবাব দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাতে’ অভিষেককে নিয়ে আজ অশ্বিন বলেন,
‘মোহাম্মদ আমিরের একটি ভিডিও দেখেছি, যেখানে সে অভিষেককে স্লগার বলেছে। তাঁর খেলা নিয়ে যে কেউ সমালোচনা করতে পারে, কিন্তু তাকে স্লগার বলা ঠিক নয়। বর্তমান ক্রিকেটে তার ব্যাট সুইং অন্যতম সেরা।‘
অশ্বিন আরও বলেন,
‘আমরা সবাই জানি, যুবরাজ সিং তাঁর মেন্টর। অভিষেকের ব্যাট সুইং যুবরাজের চেয়েও ভালো হতে পারে। যখনই সে বল ঠিকমতো টাইমিং করে, বল অনেক দূরে যায়। এজন্য অনেকে তাকে স্লগার ভাবতে পারেন। তাঁর একমাত্র অপরাধ হলো প্রতি বলেই আগ্রাসী মনোভাব দেখানো।‘
এদিকে ভারতের সাবেক কিংবদন্তি ব্যাটার সুনিল গাভাস্কার অভিষেকের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন,
‘আমরা জানি অভিষেক কতটা ভালো ব্যাটার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ৫৫ রানের ইনিংস দিয়ে সে সমালোচকদের জবাব দিয়েছে।‘
গাভাস্কার যোগ করেন,
‘সে ইনিংস শুরুতে একটু সময় নিয়েছে। অফ স্পিনারের বিপক্ষে ঝুঁকি নেয়নি, শান্ত ও পরিকল্পিতভাবে খেলেছে। এমনকি একটি ডিফেন্সিভ শটও খেলেছে—যা দেখে আমি অবাক হয়েছি, কারণ সাধারণত তাকে এমন খেলতে দেখা যায় না।‘