
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র ৬ ওভারের সঙ্গে এবং অমিতব্যয়ী শেষ ৬ ওভার। এই ১২ ওভারে বাংলাদেশ বোলারদের খরচা ১২৩ রান! এই ১২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ কতো জানেন ? ১১৪ রান। তবে ইনিংসের মাঝের ৮ ওভারে শ্রীলঙ্কা যেখানে করেছে ৪৫ রান, সেখানে বাংলাদেশ করেছে ৫৫ রান। পাওয়ার প্লে-তে ৫৩/১-এর জবাবে ৫৯/১। শেষ ৩৬ বলে ৫৫ রানের হিসাবটাও মিলিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটাররা। একেই বলে ক্যালকুলেটিভ ব্যাটিং!
সাইফ-হৃদয়ের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ বিশেষ করে স্ট্রাইক রেট নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই দুই ব্যাটার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আদর্শ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে। তুষারাকে ওভার বোলারস হেড শটে বাউন্ডারি দিয়ে শ্রীলঙ্কা বোলারদের চোখে চোখ রেখে ব্যাটিংয়ের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন সাইফ হাসান। পরের বলে মেরেছেন মিড অনের উপর দিয়ে ছক্কা! বাকি তিনটি ছক্কার ২টি ওয়েল্লালাগেকে, একটি তুষারাকে। হাসারাঙ্গার বলে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে থেমে যাওয়ার আগে সাইফ হাসান ১৩৫.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ বলে ২ চার, ৪ ছক্কায় করেছেন ৬১ রান।
আরও পড়ুন
| শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ, সুপার ফোরে উড়ন্ত শুরু |
|
চামিরার ফুলটসে এলবিডাব্লুউতে থেমে যাওয়ার আগে ৩৭ বলে ৫৮ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছেন হৃদয় ১৫৬.৭৫ স্ট্রাইক রেটে। ৪র্থ উইকেট জুটিতে সাইফ-হৃদয় ৪৫ বলে যোগ করেছেন ৫৪ রান।
১৬৯ রান তাড়া করে ১ বল হাতে রেখে শ্রীলংকাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোর-এ দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধর এই জয়ে ব্যাটারদের ভুমিকা অবশ্যই প্রশংসিত। ইনিংসের ৫ম বলে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (০) তুষারার অফ কাটারে বোল্ড আউটে ফিরে গেছেন যখন, তখন দলের স্কোর ১/১। এমন এক পরিস্থিতিতেও আস্কিং রান তাড়া করে ব্যাটিং করেছেন সাইফ-লিটন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩৪ বলে ৫৯ রান যোগ করে তারা ম্যাচে রেখেছেন বাংলাদেশ দলকে, করেছেন অপেক্ষমান ব্যাটারদের উদ্দীপ্ত। তাদের দেখাদেখি তৃতীয় উইকেট জুটির ৪৫ বলে ৫৪, ৪র্থ জুটির ২৭ বলে ৪৫ জয়ের কক্ষপথে রেখেছে বাংলাদেশ দলকে।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির ‘রাজা’ এখন লিটন |
|
প্রথম পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩টি ডট নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল ব্যাটাররা। ফিরতি দেখায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাটারদের ডট মাত্র ৩২টি। ১৫টি চারের পাশে ছক্কা ৬টি।
এমন জয়ের পরও বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং নিয়ে ভাবা দরকার। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র ৬ এবং শেষ ৬ ওভারে বোলিং দূর্গতি নিয়ে ও আলোচনা করা দরকার। এই দুঃসহ বোলিং চিত্র'র মধ্যে শেষ পাওয়ার প্লে'তে মোস্তাফিজের ২ ওভারের স্পেলকে (২-০-১১-২) রাখতে হবে আলাদা কাতারে। মোস্তাফিজের ২ ওভার বাদ দিলে দুঃসহ ১০ ওভারে বাংলাদেশ বোলারদের খরচা ১১২, ওভারপ্রতি ১১.২০!
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র প্রথম ৬ ওভারে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৫৩/১-কে না হয় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলেন। কিন্তু শেষ ৬ ওভারে প্রতিপক্ষের স্কোর কার্ডে ৭০ রান দেয়াকে কী বলবেন ?
আরও পড়ুন
| শানাকার ৬ ছক্কার ঝড়, মুস্তাফিজ-মেহেদির চমৎকার বোলিং |
|
১৫ তম ওভারে বাঁ হাতি স্পিনার নাসুমের খরচা ১৭, ১৬তম ওভারে পেসার তাসকিনের ১৪, ১৮তম ওভারে শরিফুলের ১৮ এবং ২০তম ওভারে তাসকিনের ১০ রান খরচা তো এশিয়া কাপের সুপার ফোর-এর উদ্বোধনী ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ দলকে ফেলে দিয়েছে। ১২০টি ডেলিভারির মধ্যে ৪৫টি ডট দিয়েও শ্রীলঙ্কাকে দেড়শ'র নীচে থামাতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কা স্কোর টেনে নিয়েছে ১৬৮/৭ পর্যন্ত। তা সম্ভব হয়েছে শানাকা, কুশল মেন্ডিজের ছক্কার বাহাদুরিতে। ৭৫টি স্কোরিং শটের মধ্যে ৯টি চার এর পাশে ১১টি ছক্কা মেরেছে শ্রীলঙ্কা ব্যাটাররা। যার মধ্যে শানাকার ছক্কার সংখ্যা ৬টি! এই শানাকা বড্ড বেপোরোয়া ব্যাটিং করেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ ফিফটি উদযাপন করেছেন ৩০ বলে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটিকে টেনে নিয়েছেন ৩৭ বলে ৬৪ রান পর্যন্ত। হার না মানা ইনিংসে ৩টি চারের পাশে মেরেছেন ৬টি ছক্কা! ৫ম উইকেট জুটিতে ২৭ বলে ৫৭ রানে দিয়েছেন এই লংকান ব্যাটার নেতৃত্ব। যে পার্টনারশিপে শানাকার অবদান ৩৫ রান এসেছে মাত্র ১৫ বলে!
ম্যাচের শেষ ওভারেটিও জমিয়ে দিয়েছিলেন মিডিয়াম পেস বোলার শানাকা। জাকের আলী অনিককে শ্লোয়ার অফ কাটারে বোল্ড এবং শর্ট বলে শেখ মেহেদীকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে অবিশ্বাস্য 'টাই' এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন শানাকা।
আরও পড়ুন
| এশিয়া কাপ বয়কটের দ্বারপ্রান্তে ছিল পাকিস্তান |
|
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে এদিন ব্যতিক্রম ছিলেন বাঁ হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ উইনিং বোলিংয়ের (৩/২৮) পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও নামতা গুনে ৩ উইকেট (৩-০-২০-৩)। প্রথম স্পেলে কুশল পেরেরাকে শিকারের বিপরীতে তার খরচ ২ ওভারে ৯ রান! শেষ পাওয়ার প্লেতে ২ ওভারের স্পেলটি তার ২-০-১১-২! মোস্তাফিজের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে আসালাঙ্কা মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পরও বাঁচতে পারেননি। হৃদয়ের হাত থেকে ক্যাচ ফসকে যাওয়ার পর সেই হৃদয়ের থ্রো-তে রান আউট আসালাঙ্কা (১২ বলে ১ চার, ১ ছক্কায় ২১)। ওই ওভারের চতুর্থ বলে কামিন্দু মেন্ডিজকে ধাঁধায় ফেলেছেন মোস্তাফিজ। অনায়াসে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন যে বোলার, সেই মোস্তাফিজ ১০৬.৪ কিলোমিটার গতির বোলিংয়ে বোকা বানিয়েছেন কামিন্দু মেন্ডিজকে। উইকেটের পেছনে স্কাই ক্যাচ দিয়েছেন কামিন্দু (১)। ওই ওভারের ৬ষ্ঠ বলটিও দিয়েছিলেন শ্লোয়ার, লং অনে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন হাসারাঙ্গা (২)। শামীম পাটোয়ারি এবং হৃদয় ক্যাচ ড্রপ না করলে রশিদ খান (১৭৩ উইকেট), টিম সাউদি (১৬৪ উইকেট) এবং ইস সোধির (১৫০ উইকেট) পর টোয়েন্টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চতুর্থ বোলার হিসেবে শনিবার রাতেই দেড়শ' উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁতে পারতেন। এমনকি সাকিবকে (১৪৯ উইকেট)ও যেতে পারতেন ছাড়িয়ে। সাকিবকে স্পর্শ করে (১৪৯ উইকেট) থেমেছেন এদিন মোস্তাফিজ। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এদিন উইকেট সংগ্রহে সাকিবকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলেও ব্যাটিংয়ে কিন্তু সাকিবকে ( ১২৯ ম্যাচে ২৫৫১)ছাড়িয়ে এখন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক লিটন দাস (১১৪ ম্যাচে ২৫৫৬)।
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
১২ মার্চ ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় এক নারীর সঙ্গে অসাদাচরণের অভিযোগ ওঠে সালমান মির্জার বিরুদ্ধে। তবে পাকিস্তানি এই পেসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে অভিযোগ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান মির্জার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছিল। এছাড়া সেখানে আরও দাবি করা হয়, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে জরিমানাও করেছিল। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মির্জা এবং এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সালমান মির্জার পাঠানো আইনি নোটিশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, পিসিবি তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যকে বিদ্বেষপূর্ণ, মনগড়া ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, মির্জার ওপর কোনো জরিমানাও আরোপ করা হয়নি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই খবরটি প্রকাশ করায় মির্জা, পিসিবি এবং পুরো পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এছাড়া ওই প্রতিবেদনে বাঁহাতি এই পেসারকে অসম্মানজনক ও অপেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা জনসাধারণ ও ক্রিকেট মহলের চোখে তার মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যথাযথ যাচাই ছাড়া বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করে তারা পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।
১৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা মির্জা নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম রক্ষার জন্য আইনি প্রতিকার চাইছেন।
সালমান মির্জা দৃঢ়ভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং প্রকাশ্যে প্রতিবেদনটির সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানি ফাস্ট বোলারের ভাষায় এটি দায়িত্বহীন কাজ যে যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন,
‘মিডিয়ায় একটি অবাস্তব খবর প্রচারিত হচ্ছে এবং আমি এই ধরনের সস্তা সাংবাদিকতা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। কোনো মিডিয়া হাউস যাচাই না করা কোনো খবর সম্প্রচার করতে পারবে না।’
পিসিবিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। বোর্ড সাংবাদিকের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, বিষয়টি সমাধান না হলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

বিবিসি স্পোর্টসের সংবাদে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বৈকি। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য হানড্রেডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে টুর্নামেন্টে আইপিএল সংশ্লিষ্ট ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। সেটিই হওয়ার পথে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হওয়া নিলামে এখন পর্যন্ত আইপিএল সংশ্লিষ্ট চার ফ্রাঞ্চাইজির কোনোটি থেকে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নাম ডাকা হয়নি। দেশটি থেকে কেবল উসমান তারিক ও আবরার আহমেদের প্রতি আগ্রহ দেখানো হয়েছে।
এক লাখ পাউন্ডের ভিত্তিমূল্যে থাকা উসমান বিক্রি হন ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে। তাকে কিনেছে বার্মিংহ্যাম ফিনিক্স। আর আবরার ডাক পেয়েছৈন সানরাইজার্স লিডসে। তাকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে কেনা হয়েছে।
এর আগে নাম উঠেছিল হারিস রউফ ও শাদাব খানদের নাম। তাদের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ। আর নিলাম শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।
গত দুই বছরে ৪৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৭৮ উইকেট নিয়েছেন উসমান। গড়ে ১৬ রান প্রতি উইকেট এবং প্রতি বল ১.১৫ রান দেন তিনি। তার অনন্য বোলিং অ্যাকশন নতুন বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা ব্যাটসম্যানদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারেন।

ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের নিলামের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন বাংলাদেশের
২৩ ক্রিকেটার। ফাইনাল তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলেন কেবল মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ
হোসেন। বৈশ্বিক নামি-দামি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলা বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে
বেশ আগ্রহ ছিল সমর্থকদের। তবে নিলামে বাংলাদেশের লেগ স্পিনারকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ
করেনি কোনো দল।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি
লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হয় দ্য হানড্রেডের নিলাম। যেখানে স্পিনারদের
ক্যাটাগরিতে ওঠে রিশাদের নাম। কিন্তু তাকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত
অবিক্রিতই থেকে যান রিশাদ।
দ্য হান্ড্রেডের নিলামের
রিশাদের ভিত্তিমূল্য ধরা হয় ৭৫ হাজার পাউন্ড। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ১২
লাখ ৫০ টাকা।
রিশাদের সঙ্গে স্পিনার ক্যাটাগরিতে নাম ওঠে জাফের চৌহান, উসমান তারিক এবং আকিল হোসেনের। এখন পর্যন্ত হানড্রেডে সর্বোচ্চ অর্থে বিক্রি হয়েছেন ২১ বছর বয়সী জেমস কোলেস। তিন লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে থাকা দলে ভেড়ায় লন্ডন স্পিরিট।

২০১৫ সালের পর দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারল পাকিস্তান। বুধবার মিরপুরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে শাহিন আফ্রিদিদের এই হার নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা শূল্যে চড়াচ্ছেন নির্বাচক, কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে। যার সর্বশেষ সংযোজন বাসিত আলি।
সাবেক এই ক্রিকেটার এতটাই ক্ষেপেছেন যে, রীতিমতো পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টকে গুলি করা উচিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন,
“প্রথমেই গুলি করা উচিত সেই মানুষটিকে, যে ব্যাটসম্যানদের বলেছিল প্রথম দশ ওভারে অন্তত ৬০ রান করতে। মনে হয় সে কখনো মাঠে ক্রিকেট খেলেনি, শুধু কাগজে পরিকল্পনা লিখে দেয়। এখানকার পরিস্থিতি কি সে দেখেনি? বাংলাদেশে যে বড় বড় দলও হেরে যায়, সেটাও কি জানত না?”
পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কামরান আকমলের কাছে শাহিন আফ্রিদিদের দলকে ক্লাবের দল মনে হয়েছে। তিনি বলেন,
“মনে হচ্ছিল এক দল আন্তর্জাতিক মানের আর অন্য দলটা যেন বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন করতে নামা কোনো ক্লাব দল। আমি বাসিত আলিকে ফোন করেছিলাম, কিন্তু কী বলব বুঝতে পারছিলাম না।”
সমালোচনা সেখানেই থামাননি তিনি। তার ভাষায়,
“আল্লাহর কসম, এমন ব্যাটিং ক্লাব ক্রিকেটেও দেখা যায় না। ক্লাবের ক্রিকেটাররাও এত খারাপ ব্যাটিং করে না।”
বাসিত আলি মনে করেন, এই ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় একটি সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন,
“তরুণদের সময় দিতে হবে—এই বিতর্ক এখন শেষ করা উচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে নতুন খেলোয়াড় আসে, সে প্রস্তুত হয়েই আসে এবং প্রভাব ফেলে। আমাদের ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে, এটি কোনো স্থানীয় ক্লাবের মাঠ নয়, আন্তর্জাতিক মানের বড় ভেন্যু।”
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চারজন নতুন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দুজনই। বাসিত আলির মতে,
“নতুন খেলোয়াড় এক বা দু’জন করে আনা উচিত, একসঙ্গে চারজনকে নামানো ঠিক নয়।”
আকমল মনে করেন, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ অবস্থান খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। তিনি বলেন,
“ঘরের মাঠে দুর্বল দলের বিপক্ষে জিতে পয়েন্ট বাড়ানো যায়, কিন্তু বিদেশে গেলে বাস্তবতা দেখা যায়।”

নিউ জিল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট প্লাংকেট শিল্ডে আলো ছড়ালেন বাঁহাতি পেসার থমাস ও'কনর। দুর্দান্ত বোলিং করে নিজের বাবার ২৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিলেন ওটাগোর এই পেসার। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি নিলেন ১৩ উইকেট।
ইডেন পার্কের আউটার ওভালে বুধবার শেষ হওয়া ম্যাচে অকল্যান্ডকে একাই গুঁড়িয়ে দেন থমাস। এই টুর্নামেন্টের ১৯৯৯ সালের সংস্করণে ওটাগোর বিপক্ষেই ১২ উইকেট নিয়েছিলেন থমাসের বাবা ও নিউ জিল্যান্ডের সাবেক পেসার শেইন ও'কনর।
চমৎকার বোলিং করে অকল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৫৮ রানে ৭ উইকেট নেন থমাস। পরে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৭ রানে তিনি নেন ৬ উইকেট। সব মিলিয়ে ৮৫ রানে ১৩ উইকেট নিয়ে ওটাগোর ৯ উইকেটের জয়ের নায়ক ২১ বছর বয়সী পেসার।
১৯৯৯ সালের তৎকালীন শেল ট্রফির (বর্তমান প্লাংকেট শিল্ড) ম্যাচে অকল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শেইন। পরে দ্বিতীয়বার তার শিকার ৬৪ রানে ৬ উইকেট। শেইনের এমন বোলিংয়ের পর ম্যাচটি ৬ উইকেটে জিতেছিল ওটাগো।
মজার ব্যাপার হলো, শেইনের ওই কীর্তির সময় জন্মই হয়নি থমাসের। ২০০৪ সালে জন্মগ্রহণ করা সেই পেসার এবার ভেঙে দিলেন বাবার রেকর্ড। দুই ম্যাচেই আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন নিউ জিল্যান্ডের বিখ্যাত আম্পায়ার বিলি বাউডেন।
ম্যাচে নেওয়া ১৩ উইকেট ওটাগোর হয়ে সব মিলিয়ে সপ্তম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। আর ১৯৮৯-৯০ মৌসুমের পর এটিই সেরা বোলিং।