৬ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৫৮ পিএম

টি-টিয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ার প্লে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভারেই খেই হারিয়ে ফেলে, যেখান থেকে বের হওয়া আর সম্ভব হয়নি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও মানছেন, সর্বনাশ হয়েছে পাওয়ার প্লেতেই।
বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভালোই। আর্শদ্বীপ সিংকে চার মেরে রানের খাতা খুললেও প্রথম ওভারেই আউট হন অভিজ্ঞ লিটন দাস। বাংলাদেশের চাপ বাড়িয়ে এরপর ছয় ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৯। বিপরীতে রান তাড়ায় ছয় ওভারে ভারত করে ৭১ রান। দুই দলের পার্থক্য এখানেই ম্যাচে।
ম্যাচের পর শান্ত বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাট করতে পারেনি তার দল। “আমার মনে হয় আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় ওভার খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমরা সেখানে ভালো করতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা। মনে হচ্ছিল আমাদের খুব বেশি পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু পরের ম্যাচে আমাদের সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে।”
পাওয়ার প্লেতে ধীরগতির ব্যাটিং করা বাংলাদেশ পুরো ইনিংসেই বজায় রাখে একই ধারা। ১০৮ স্ট্রাইক রেটে ১ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ রান করেন শান্ত। আর সর্বোচ্চ ৩৫ করা মেহেদি হাসান মিরাজ বল খেলেন ৩২টি। অতিরিক্ত ডট বলের কারণে রান বের করার জন্য বড় শটের বিকল্প ছিল না। আর তা করতে গিয়েই হয় বিপত্তি। মাত্র ১২৭ রানেই শেষ হয় ইনিংস, যা ভারত পাড়ি দেয় দ্বাদশ ওভারেই।
শান্ত তাই ব্যাটারদের তাগিদ দিয়েছেন ডট বল কম খেলে রানের চাকা সচল রাখার। “আমাদের স্ট্রাইক রোটেটিংয়ে মনোযোগ দিতে হবে, টি-টোয়েন্টি শুধু মেরে খেলার বিষয় নয়। হাতে উইকেট থাকলে আমরা ভালো স্কোর করতে পারি। আমরা খুব বেশি রান করতে পারিনি। রিশাদ ভালো বোলিং করেছে এবং ফিজও ভালো ছিল, কিন্তু আমাদের বোর্ডে যথেষ্ট রান ছিল না।”
No posts available.
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরাজয়ের মুখ থেকে স্বস্তির জয় আর সবশেষটিতে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ। মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাই জিতলেও খুব একটা নিরাপদ অবস্থায় নেই পাকিস্তান। সামনের ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে তাদের ভাগ্য।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে বুধবার বিকেলে নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ এটিই তাদের শেষ ম্যাচ। সুপার এইটের টিকেট পেতে ম্যাচটিতে পরাজয় এড়াতে হবে সালমান আলি আগার দলের।
এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের সবকটি জিতে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার এইট নিশ্চিত হয়েছে শুধু ভারতের। দ্বিতীয় দল হিসেবে সেরা আটের ওঠার দৌড়ে এখন পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র।
এরই মধ্যে ৪ ম্যাচ খেলে ২ জয়ে আপাতত পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে আছে যুক্তরাষ্ট্র। তিন ম্যাচে তাদের সমান জয় নিয়ে নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় তিনে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন
| ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল পিএসজি |
|
এবার কলম্বোতে নামিবিয়ার বিপক্ষে পরাজয় এড়াতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যাবে পাকিস্তান। গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় ও টুর্নামেন্টের শেষ দল হিসেবে পেয়ে যাবে সুপার এইটের টিকেট।
তবে হেরে গেলেই বেজে যাবে বিদায়ঘণ্টা। কারণ এরই মধ্যে নেট রান রেটে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে পাকিস্তান। ম্যাচ হারলে আরও ধাক্কা লাগবে নেট রান রেটে। তখন তিন নম্বরে থেকেই বিদায় নিতে হবে তাদের।
এমনিতে শক্তি-সামর্থ্যে নামিবিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়েই আছে পাকিস্তান। তবে গত বিশ্বকাপে আইসিসির আরেক সহযোগী সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার তাই নামিবিয়ার বিপক্ষে বাড়তি সতর্কতাই হয়তো নেবে মাইক হেসনের দল।
সুপার এইটের টিকেট নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিজেদের একাদশে ৩টি পরিবর্তন আনতে পারে পাকিস্তান। বাদ পড়তে পারেন বাবর আজম, শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাদের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন খাওয়াজা নাফে, ফাখার জামান, নাসিম শাহরা।
পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম/খাওয়াজা নাফে, শাদাব খান/ফাখার জামান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ
নামিবিয়ার সম্ভাব্য একাদশ: ইয়ান ফ্রাইলিংক, লরেন স্টিনকেম্প, ইয়ান নিকোল লফটি-ইটোন, গেরহার্ড এরাসমাস (অধিনায়ক), জেজে স্মিট, জেন গ্রিন (উইকেটরক্ষক), ডায়লান লেচার, রুবেন ট্রাম্পলম্যান, উইলেম মাইবার্গ, বার্নার্ড স্কোলজ, জ্যাক ব্রাসেল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন বর্জন করেছিলেন যারা, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তবে টেকনোক্রেট কোটায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ এখনই ভেঙ্গে দেয়ার পক্ষে নন তিনি। যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই অবস্থান জেনে বিকল্প উপায়ে গঠণতন্ত্রের ত্রুটি বিচ্যুতি বের করে বিসিবিতে বেশ কিছু পরিচালক পদ শুণ্য করতে মাঠে নেমেছেন বিসিবির বাইরে থাকা একদল ক্রীড়া সংগঠক।
নির্বাচিত বোর্ডের উপর সরকারের হস্তক্ষেপ আইসিসি মেনে নিবে না। এমন কিছু হলে বিসিবির উপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞাদেশ আসতে পারে। নিকট অতীতে শ্রীলঙ্কার সেই দৃষ্টান্তটি যেনো বাংলাদেশকে পেতে না হয়, সে কারণেই সতর্ক ক্রীড়া প্রশাসন। আইনি প্রক্রিয়ায় বিসিবি সভাপতিসহ ক্যাটাগরি-১ এর ১০ পরিচালকের পদ শুণ্য করার পথে হাঁটছে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা ক'জন ক্রীড়া সংগঠক।
বিসিবির বিদ্যমান গঠণতন্ত্রের ৯.১ এর (ক) ও (খ) ধারায় আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি মনোনয়নের শর্ত পালন না করে ক্যাটাগরি-১ থেকে পছন্দের কাউন্সিলর তালিকা নিশ্চিত করতে গঠণতন্ত্র পরিপন্থি পথ বেছে নেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। জেলাও বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার স্বাক্ষরকৃত ফরমে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিসিবিতে জমা পড়া ৫৩ জন কাউন্সিলের কাউন্সিলরশিপ বাতিল করে জেলাও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহের এডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের চিঠি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয়/জেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাবর দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত ১৮ সেপ্টেম্বর। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর এ ধরণের নির্দেশের বিধান নেই বিসিবির গঠণতন্ত্রে। সে কারণেই গত ২১ সেপ্টেম্বর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট মামলা দায়ের করেছিলেন টাঙ্গাইল, লক্ষীপুর ও গোপালগঞ্জের তিন কাউন্সিলর প্রত্যাশী।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ পরিষদে কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে বিসিবি সভাপতির ওই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই আদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ স্থগিত করেন। এই আদেশেই বিসিবি নির্বাচন সম্পন্ন করে জেলাও বিভাগ থেকে পছন্দের পরিচালক বেছে নিয়েছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে মামলাটি যেহেতু নিষ্পত্তি হয়নি এবং সেহেতু এই মামলা পুনরুজ্জীবিত করে আদালত থেকে ক্যাটাগরি-১ এ নির্বাচিত পরিচালকদের পদ শুণ্য করার আদেশের প্রত্যাশায় এখন বিরোধীরা।
হাইকোর্টের আপীল বিভাগেএই মামলার রায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিপক্ষে গেলে আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাজমুল আবেদিন ফাহিমসহ ক্যাটাগরি-১ এর ১০ পরিচালক পদ শুণ্য হবে। চাইলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটার দুটি পদও শুণ্য করতে পারবেন এই সংস্থার চেয়ারম্যান।
আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের (১৯৯৬-২০০১) শেষ দিকে অর্থাৎ ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিসিবির সংরশাধিত গঠনতন্ত্রে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন না নিয়েই পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করে সেই নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। ২০০২ সালের আগষ্ট মাসে হাইকোর্টে একটি রিট মামলায় বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। ওই রিট মামলা থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বিসিবির নির্বাচন বর্জনকারী সংগঠকরা।
আগষ্ট বিপ্লবের পর নির্বাচিত সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ বিসিবি পরিচালনা পরিষদের অধিকাংশ দেশত্যাগ করায় অন্তবর্তীকালীন সরকার আমলে এক তৃতীয়াংশ পরিচালকের উপস্থিতি দিয়ে কোরাম পূর্ণ করে বিসিবির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিসিবির পরিচালনা পরিষদে বড় শুণ্যতা এবার দেখা গেলে গঠণতন্ত্রের ১৪.২.১ (গ) ধারা অনুযায়ী সে সব পদে নির্বাচন আয়োজন করে বিএনপি ঘরানার যোগ্য এবং দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের বিসিবিতে আনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনকে বিতর্কিত করায় নির্বাচন বর্জনকারীদের তোপের মুখে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অপসারণে আইনি উপায়ও খুঁজছেন তাঁরা। গঠণতন্ত্রের ১৫.২ ধারা অনুযায়ী পর পর ৩টি সভায় অনুপস্থিত থাকলে পরিচালক পদ শুণ্য হবে, বিসিবি সভাপতি এবার পরিবারকে সময় দিতে অস্ট্রেলিয়া সফরের মেয়াদ দীর্ঘ হলে এই আইনকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন বিরোধীপক্ষ। দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন বলে পরিচালকদের লিখিত বার্তা অবশ্য দিয়ে গেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে এখন চারদিক থেকে তাকে অপসারনে যে চাপ, সেই চ্যালেঞ্জটা কী নিতে ঢাকায় দ্রুত ফিরবেন বিসিবি সভাপতি ? বিদেশে অবস্থানকালে ভার্চুয়াল সভায় বোর্ড সভায় অংশ নিবেন সভাপতি, এমনটা মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক। পরিস্থিতির মুখে বিসিবির সভা আয়োজনও কঠিন হয়ে পড়ার কথা।
তাহলে কী সভাপতি পদ থেকে বিদায়ের ঘণ্টা ধ্বনী বাজছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। তাঁর বিদায়ের ক্ষণ গননা কী শুরু হয়ে গেছে ? না, আইসিসি থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে এই পদে থেকে যাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দেশের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সরকার গঠন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার স্ব স্ব মন্ত্রানালয়ের দায়িত্ব বন্টন করেছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহনে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার গুঞ্জন উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিএনপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক।
সাফ জয়ী এই অধিনায়ককে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছে। বিসিবির নির্বাচনে প্রার্থীতা দিয়ে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মীর শাহে আলম নব নির্বাচিত সরকারের প্রতিমন্ত্রী। বিসিবির নির্বাচনে বিএনপি ঘরানার সংগঠকদের সংগঠনের অন্যতম নেতা ইশরাক হোসেনও হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে শুরু থেকে অবৈধ বলে আসছেন তারা। সে কারণেই নব নির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পরিষদের মেয়াদপূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্ন চলে যাওয়ায় তাঁর পদ হারানোর শঙ্কাও দেখছে অনেকে। তবে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে কৌশলে ক্রিকেট বোর্ড পূণর্গঠনের কথা ভাবছেন আমিনুল হক। মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহনের পর রাতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি- ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।’ অর্থাৎ বিসিবির বিষয়ে আইসিসির নিয়মের মধ্যে থেকে এগোতে চান ক্রীড়াঙ্গনের নুতন অভিভাবক।

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) আবার ফিরছে জামাইকা। নতুন মালিকানায় চলতি বছর থেকেই মাঠে নামবে নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিংসমেন স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজ কিনেছে জামাইকার ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব- এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সিপিএল কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হলেও কিংসমেন পরিচালনা করেন মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাকিস্তানি উদ্যোক্তা ফাওয়াদ সারওয়ার। জ্যামাইকার ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার আগে চলতি বছরের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজিও কিনেছে কিংসমেন।
সিপিএলের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জ্যামাইকা তালাওয়াজ সর্বশেষ দুই মৌসুমে অংশ নেয়নি। আগের মালিক ক্রিস পারসাদ ২০২৩ সালের শেষ দিকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিক্রি করে দেন। তার অভিযোগ ছিল, জ্যামাইকা সরকারের পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়া।
এরপর তিনি অ্যান্টিগায় নতুন একটি দলের স্বত্ব কেনেন, যা পরে অ্যান্টিগা এন্ড বারবুডা ফ্যালকনস নামে খেলতে শুরু করে।
গত বছর জামাইকার ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার জন্য জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠান জিএমআর গ্রুপের সঙ্গে অনেক দূর আলোচনা এগিয়ে নিয়েছিল আয়োজকরা। এমনকি সিপিএল ফাইনালে প্রতিনিধি দলও পাঠিয়েছিল জিএমআর। তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তি হয়নি।
এবার লিগ কর্তৃপক্ষ জানাল, জ্যামাইকা ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে কিংসমেন। এক বিবৃতিতে ফাওয়াদ বলেন, জামাইকায় সিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রত্যাবর্তন দেশটির অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং ক্রিকেট, সংস্কৃতি ও ‘স্পোর্টেইনমেন্ট’-এর বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে জামাইকার অবস্থান আরও শক্ত করবে।
এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগের নতুন দুটি দলের একটি কেনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন সারওয়ার। সেই দলটির নাম রাখা হচ্ছে হায়দরাবাদ হাউস্টন কিংসমেন। যুক্তরাষ্ট্রের মাইনর লিগ ক্রিকেটে তার আরেক দল শিকাগো কিংসমেন।
তবে জ্যামাইকার নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
সিপিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে চারটি ম্যাচ হবে। ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো সিপিএলের ম্যাচ ফিরছে এই ভেন্যুতে। ২০২৬ সালের আসর শুরু হবে আগস্টের শুরুতে, চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

টুর্নামেন্টের বিচারে ম্যাচটি ছিল ডেড-রাবার, ছিল না বাড়তি কোনো গুরুত্ব। তবে গ্যালারি দেখে বোঝার উপায় নেই বিশ্বকাপ থেকে আগেই ছিটকে গেছে নেপাল ও স্কটল্যান্ড। ম্যাচজুড়ে দলকে সমর্থন করে গেলেন দুই দলের দর্শকরা। যেখানে শেষ পর্যন্ত জিতে ১২ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল নেপাল।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভরা গ্যালারির সামনে স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারায় নেপাল। ১৭১ রানের লক্ষ্যে ৪ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২ বছরের মধ্যে এটিই তাদের প্রথম জয়। ২০১৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে দুই ম্যাচ জিতেছিল নেপাল। পরে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে জয়হীন থেকেই দেশে ফেরে তারা। এবার স্কটিশদের বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই ফিরবে নেপালি দর্শকরা।
অপেক্ষার অবসান ঘটানো জয়ের মূল কারিগর দিপেন্দ্র সিং আইরি। চার নম্বরে নেমে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৩ বলে ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন নেপালের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। যা নেপালকে এনে দেয় রোমাঞ্চকর জয়। আইরিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
লক্ষ্য তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে ৭৪ রান যোগ করেন কুশল ভুর্তেল ও আসিফ শেখ। ভুর্তেল ৩৩ বলে ৪৩ ও আসিফ ২৭ বলে ৩৩ রান করে আউট হওয়ার পর কমে আসে রানের গতি। একশর আগে রোহিত পাউডেলও (১৪ বলে ১৬) ফিরে যান।
জয়ের জন্য ৪০ বলে বাকি থাকে ৭৩ রান। তখন জুটি বাধেন আইরি ও গুলশান ঝা। দুজন মিলে মাত্র ৩৬ বলেই নিয়ে নেন প্রয়োজনীয় ৭৩ রান। ১ চারের সঙ্গে ২ ছক্কায় ১৭ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন গুলশান। তিনিই মারেন ম্যাচ উইনিং বাউন্ডারি।
আইরির বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৪ চারের সঙ্গে ৩টি চমৎকার ছক্কা। সব মিলিয়ে ২১৭.৩৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেন তিনি। আর চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ১৬৯ রান নিয়ে ব্যাটারদের তালিকায় আইরি এখন দুই নম্বরে।
স্কটল্যান্ডের পক্ষে ৩টি উইকেটই নেন মাইকেল লিস্ক।
এর আগে স্কটিশদের লড়াকু পুজির কারিগর মাইকেল জোন্স। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে ৭১ রান করেন ২৮ বছর বয়সী ওপেনার। আর কোনো ব্যাটার ৩০ রানও করতে পারেননি।
নেপালের হয়ে মাত্র ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন সোম্পাল কামি। নন্দন যাদব নেন ২ উইকেট।