১৪ মার্চ ২০২৬, ২:৩৪ পিএম

প্রিমিয়ার লিগে কাল অ্যানফিল্ডে
দেখা হবে লিভারপুল ও টটেনহাম হটস্পারের। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বড় দুশ্চিন্তায়
পড়েছে দুই দলই। চোট, অসুস্থতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দলের মিলিয়ে প্রায় ১৯ খেলোয়াড়ের
মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস
লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৫–২ গোলে হারের পর কঠিন সময় পার করছে টটেনহাম।
লিগের পয়েন্ট তালিকায় দলটি এখন ষোড়শ স্থানে। অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে থাকা টটেনহামের
হাতে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। ফলে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য
বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টটেনহামের দায়িত্বপ্রাপ্ত
কোচ ইগর টিউডর জানিয়েছেন, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এই ম্যাচে থাকছেন না। মাঝ
সপ্তাহের ম্যাচে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পাওয়ায় ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও জোয়াও পালিনিয়ার খেলতে
না পারা প্রায় নিশ্চিত। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে
ডিফেন্ডার মিকি ফন দে ফেন খেলতে পারবেন না। মাঝমাঠের খেলোয়াড় ইভ বিসুমারও চোট রয়েছে
বলে জানিয়েছেন টিউডর। নতুন যোগ দেওয়া কনর গ্যালাঘার জ্বরে ভুগছেন। তবে ম্যাচের আগে
তার সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করছে দলটি।
টিউডর বলেন, ফান ডে ফেন
খেলতে পারবে না। বিসুমার সমস্যা আছে এবং গ্যালাঘারের জ্বর হয়েছে। আমরা আশা করছি সে
ঠিক হয়ে যাবে। প্রায়ই কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছে। আমার কোচিং জীবনে এমন পরিস্থিতি খুব
কমই দেখেছি।
টটেনহামের আরও বেশ কয়েকজন
খেলোয়াড় বিভিন্ন চোটের কারণে দলে নেই। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেমস ম্যাডিসন, দেজান কুলুসেভস্কি,
রদ্রিগো বেনতানকুর, মোহাম্মদ কুদুস, উইলসন ওদোবার, ডেসটিনি উদোগি, বেন ডেভিস ও লুকাস
বের্গভাল।
অন্যদিকে মৌসুমজুড়েই চোট
সমস্যায় ভুগছে লিভারপুলও। গোলরক্ষক আলিসন বেকারের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। পেশির চোটের
কারণে গত সপ্তাহে তুরস্কে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট
জানিয়েছেন, আলিসন এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন।
তবে ম্যাচের আগে তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছেন।
স্লট বলেন, আলিসন এখন পর্যন্ত
পুনর্বাসন কার্যক্রমে ছিলেন। আজ অনুশীলন আছে। দেখা যাক সে দলে যোগ দিতে পারে কি না।
আমি আশা করছি সে ফিরবে, তবে এখনো শতভাগ নিশ্চিত নই।
লিভারপুল শিবিরেও আরও কয়েকজন
খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকতে পারেন। কনর ব্র্যাডলি, ওয়াতারু এন্দো ও জিওভান্নি লেওনি পুরো
মৌসুমেই আর খেলতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ডিসেম্বরে পায়ের হাড় ভাঙা ও গোঁড়ালির
চোটে পড়া আলেক্সান্ডার ইসাক এখনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
এদিকে অসুস্থতার কারণে
মাঝ সপ্তাহে খেলতে না পারা ইতালির ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো কিয়েসা আবার অনুশীলনে ফিরতে পারেন
বলে আশা করা হচ্ছে। কোচ স্লট জানিয়েছেন, ম্যাচের আগের দিন অসুস্থ থাকলেও কয়েক দিন পেরিয়ে
যাওয়ায় এখন তার অবস্থা ভালো হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ
এই ম্যাচের আগে দুই দলেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। চোট ও অনুপস্থিতির কারণে দুই দলের সম্ভাব্য
একাদশেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২৮ পিএম

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডিক্লান রাইস। আর্সেনাল মিডফিল্ডারের মতে, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে একটি ‘স্পষ্ট’ পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল তাদের। তার দাবি, রেফারিকে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে উসকে দিয়েছিল স্বাগতিকর দলের সমর্থকরা।
এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বুধবার রাতের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্রয়ের পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হতে দেখা রাইসকে। ডি-বক্সে এভারেচি ইজে ফাউলের শিকার হওয়ার পর শুরুতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা বাতিল করেন ডাচ রেফারি ড্যানি মাকেলি। তাকে ১৩ বার রিপ্লে দেখতে দেখা যায়।
এই বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে রাইস বলেন,
‘এটি একটি স্পষ্ট পেনাল্টি। আর আমি জানি না কেন এটি দেওয়া হলো না। আমার মনে হয় সমর্থকরা সিদ্ধান্তটি প্রভাবিত করেছে এবং রেফারির মন পরিবর্তন করেছে।’
মেত্রোপলিতানোতে দুটি ভিএআর সিদ্ধান্ত আর্সেনালের বিপক্ষে যায়। স্ট্যান স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইস বলেন,
‘প্রথম দেখায় আমার মনে হয়েছিল, এটি যদি প্রিমিয়ার লিগ হতো, তবে তা দেওয়া হতো না কারণ বলটি মাটির খুব কাছাকাছি ছিল এবং বলটি লক্ষ্যের দিকেও যাচ্ছিল না।’
রাইস যোগ করেন,
‘চ্যাম্পিয়নস লিগে রেফারিরা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং বাঁশি বাজান। আমার মনে হয় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তারা বেশি শাস্তি দেয়। তবে কিছু যায় আসে না। আমরা আগামী সপ্তাহে মনোযোগ দিচ্ছি এবং তাদের হারাতে চাই।’

শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচের বয়স বাড়ার আগেই দোরিয়েলতন গোমেজের আত্মবিশ্বাসী শটে গোল। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ২-১ গোলের এ জয়ে শীর্ষস্থান আরও সুসংহত হলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। দিনের আরেক ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও আরামবাগ পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ২-২ গোলের ব্যবধানে শেষ হয়েছে ম্যাচটি।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে তিনটায় কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের আগে বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্ট ছিল ১৪ ম্যাচে ৩১। আজ পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে গেল দোরিয়েলতনরা।
এদিন ম্যাচঘড়ির ২৭তম মিনিটে ভাঙে ডেডলক। এর জন্য বিশ্বনাথ ঘোষই অনেকটা দায়ী। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন কিংস ডিফেন্ডার। বলটি তারই এক সতীর্থের গায়ে লেগে ফেরত আসে। এরপর নানাভাবে চেষ্টা করেন নিজের গড়া ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে। পারেননি। উল্টো সাইফুল হোসেন হালকা টোকায় পাস দেন মুজাফফরভকে। সেখান থেকে মৌসুমের ষষ্ঠ গোল আদায় করেন উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার।
প্রথমার্ধে নিজেদের আরও গুছিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায় বসুন্ধরা কিংস। সমতা কিংবা লিড আদায় করাটা দুরূহ হয়ে যাচ্ছিল তাদের জন্য। তবে যোগ করা সময়ে মোহামেডানের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন রাকিব। প্রায় তিনজনকে ড্রিবলিং করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর দেন দৃষ্টিনন্দন ক্রস। আর ফাহিম নিজের বাঁ-পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান। তাতেই হাসিমুখে বিরতিতে যায় কিংস।
বিরতির পর লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ মিস করে মোহামেডান। আরিফের দ্রুতগতির ক্রসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারেননি সৌরভ দেওয়ান। তাতে পোস্ট অরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং ৬৮তম মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস।
৬৮তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠেন ফাহিম। ঢুকে পড়েন বক্সে। চাইলে নিজেই নিতে পারতেন গোলের উদ্দেশ্যে শট। তা না করে ক্রস দেন বারের সামনে। রেসে থাকা দোরিয়েলতন ছুঁয়ালেন পা। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে ঢুকে লিগে আরও একবার ম্যাজিক দেখালেন ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকার। শেষ পর্যন্ত ২-১ স্কোরলাইন অক্ষুণ্ণ থাকে।
ম্যাচে আধিপত্য ধরে রেখে খেলে বসুন্ধরা কিংস। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল দখলে ছিল তাদের। ৪৩ শতাংশ ছিল মোহামেডানের।

তরুণ তারকা ফুটবলারদের দলে ভেড়াতে টাকার পাহাড় নিয়ে সবসময়ই প্রস্তুত সৌদি আরবের ক্লাবগুলো। দলবদলের বাজারে ঝড় তুলে ইউরোপীয় ফুটবলের আধিপত্যে ভাগ বসানোই যেন তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোটা অংকের বেতন আর রাজকীয় সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে একের পর এক বিশ্বখ্যাত তারকাকে মরুভূমিতে উড়িয়ে নিচ্ছে আল-নাসর বা আল-হিলালের মতো ক্লাবগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের রাডারে আবারও ধরা পড়েছেন বার্সেলোনার প্রাণভোমরা রাফিনিয়া।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবারও সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাবের নজরে পড়েছেন রাফিনিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরপরই নাকি রাফিনিয়াকে দলে ভেড়াতে একটি বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
গত বছরও সৌদি আরবের একটি দল রাফিনিয়াকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল। বার্সেলোনাকে প্রায় ৯ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল এবং খেলোয়াড়কেও বিপুল পরিমাণ অর্থে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়া কাতালান জায়ান্ট ক্লাবটিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত বছরের মে’তে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্সার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছিলেন রাফিনিয়া। আল-নাসর কোচ জর্জ জেসুসও তখন তাঁকে বার্সেলোনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাব ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের প্রতি তাদের আগ্রহ নতুন করে প্রকাশ করেছে। তারা রাফিনিয়ার জন্য বিডিং বা নিলামে নামতেও প্রস্তুত। অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব দেয়নি কোনো ক্লাব।
সৌদির বড় ক্লাবগুলো এই বছর তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের লিগটির কিছু ক্লাবের বেশ কয়েকজন তারকার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সামলে তারা লিগের উন্নয়ন এবং স্কোয়াড শক্তিশালী করতে শীর্ষস্থানীয় তারকাদের টেনে আনার ব্যাপারে এখনো অনড়। রাফিনিয়ার জন্য ঠিক কত বড় অংকের প্রস্তাব দেয় সৌদি ক্লাব সেটাই দেখার এখন।
এখন পর্যন্ত রাফিনিয়া নিজেকে বার্সার প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ হিসেবেই প্রমাণ করেছেন। ক্লাবেরও তাঁকে বিক্রি করার কোনো ইচ্ছা নেই। চলতি মৌসুমে একের পর এক চোটের মধ্যে দারুণ ছন্দে আছেন ২৯ বছর বয়সী তারকা। হান্সি ফ্লিকের দলের মধ্যমণি ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে ১৯ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৭টি গোল।

দেশ-বিদেশের ফুটবলের যে কোনো খবর কাভার করতে সর্বদা সচেষ্ট দেশে খেলাধুলার একমাত্র টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস। তারা এবার মাইক, কী বোর্ড ও ক্যামেরা ছেড়ে নিজেরাই নেমে পড়বে ফুটবলের লড়াইয়ে। আসন্ন ‘কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ খেলবে টি স্পোর্টস।
মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আর্টিফিশিয়াল টার্ফে আগামী রোববার শুরু হবে দেশের প্রতিষ্ঠিত ৩২টি সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট। যেখানে ‘ডি’ গ্রুপে পড়েছে টি স্পোর্টস।
নকআউট পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪ ডট কমের মুখোমুখি হবে টি স্পোর্টস। ‘ডি’ গ্রুপের অন্য দুই দল দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন ও গ্রুপিং ড্র অনুষ্ঠান হয়। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ৩২টি সংবাদমাধ্যমকে ৮টি গ্রুপে ভাগ করা হয় সেখানে।
আরও পড়ুন
| ব্যাটে ‘এআই চিপ’ লুকানোর গুঞ্জনে জবাব দিলেন সূর্যবংশী |
|
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার আদিব বিন শহীদ। এছাড়া বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন ও সহ-সভাপতি এবং টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মুঘনিও উপস্থিত ছিলেন।
সবাইকে স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিট নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলার আহ্বান জানান বিএসজেএ সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন। ‘কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ সম্পর্কে সার্বিক ধারণা দেন টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মুঘনি।
স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার আদিব বিন শহীদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের এক বিশাল মিলনমেলা এই টুর্নামেন্ট। বিএসজেএ মিডিয়া কাপ টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। মাঝেমধ্যে আমরাও চেষ্টা করি এখানে খেলতে। সবাই অনুরোধ করব, স্পোর্টসম্যান স্পিরিট বজায় রেখে খেলবেন। টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।’
বিএসজেএ সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন, ‘প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের সঙ্গে থাকায় কুল তথা স্কয়ার টয়লেট্রিজকে ধন্যবাদ। সবাইকে আমি একটি কথাই বলতে চাই, এটি স্রেফ বিনোদনমূলক টুর্নামেন্ট। তাই কেউ অত্যধিক সিরিয়াস খেলতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হবেন না। সবাই নিরাপদে খেলুন। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ থাকবে আপনারা টুর্নামেন্টের কাভারেজ ভালোভাবে দেবেন। সবার প্রতি শুভকামনা।"
পরে ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের গ্রুপিং চূড়ান্ত হয়।
কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর গ্রুপিং
গ্রুপ ‘এ’ - এখন টিভি, দৈনিক ইনকিলাব, এটিএন নিউজ, স্টার নিউজ
গ্রুপ ‘বি’ - মাছরাঙা টিভি, দৈনিক কালবেলা, এনটিভি, এসএ টিভি
গ্রুপ ‘সি’ - ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক সমকাল, আর টিভি, দীপ্ত টিভি
গ্রুপ ‘ডি’ - জাগোনিউজ২৪, দৈনিক কালের কণ্ঠ, টি স্পোর্টস, ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি
গ্রুপ ‘ই’ - চ্যানেল আই, দ্য ডেইলি অবজার্ভার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাভিশন
গ্রুপ ‘এফ’ - দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক মানবজমিন, নিউজ২৪, ঢাকা পোস্ট
গ্রুপ ‘জি’ - দৈনিক যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বৈশাখী টিভি, বাংলানিউজ২৪
গ্রুপ ‘এইচ’ - এটিএন বাংলা, দৈনিক নয়াদিগন্ত, চ্যানেল ২৪, ক্রিকফ্রেঞ্জি

বার্সেলোনা থেকে পিএসজি—লিওনেল মেসি ও নেইমারের রসায়ন শুধু মাঠের খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে এক গভীর সখ্যতায়। আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যখন তারা একে অপরের মুখোমুখি হন, তখন বন্ধুত্ব হার মানে পেশাদারিত্বের কাছে। তবে সেই লড়াই শেষে আবারও ফুটে ওঠে তাদের হৃদয়ের টান। যেমনটি দেখা গিয়েছিল গত কোপা আমেরিকার ফাইনালে; ব্রাজিলের হারের পর মাঠেই নেইমারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন বিশ্বজয়ী মেসি।
মেসির সঙ্গে অম্ল-মধুর স্মৃতির রেশ নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন নেইমার। চোটের বাধা ডিঙিয়ে আবারও হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামতে মরিয়া সান্তোসের ফরোয়ার্ড। তাঁর স্বপ্নের গন্তব্য এখন একটাই—বিশ্বকাপের ফাইনাল, আর সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চান সময়ের সেরা ফুটবলার ও তাঁর পরম ‘বন্ধু’ মেসিকে।
আরও পড়ুন
| আতলেতিকোর মাঠ নিয়ে ইউয়েফার কাছে নালিশ আর্সেনালের |
|
ফুটবল বিশ্বের সব নজর এখন লিওনেল মেসি (৩৮) এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর (৪১) ওপর। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপই দুই কিংবদন্তির ‘লাস্ট ডান্স’। একই কথা বলা যেতে পারে নেইমারের ক্ষেত্রেও, যদিও বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু নির্ভর করছে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
নেইমার এখন নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করছেন বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে। সম্প্রতি ২০২৬ কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোস এবং আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জোর মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস'-এর সঙ্গে আলাপকালে বিশ্বকাপে খেলার তীব্র ইচ্ছার কথা লুকাননি সাবেক এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
নেইমার বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমি বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবি। প্রতিটি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ই সেখানে থাকতে চায়, আশা করি আমিও থাকতে পারব।’ যখন মেসির সঙ্গে আবারও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, নেইমার তাঁর মনের ইচ্ছা স্পষ্টভাবেই প্রকাশ করেন। সান্তোস তারকা বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের মধ্যে একটি ফাইনাল হওয়া হবে অভাবনীয়। আশা করি বিশ্বকাপে আমরা ফাইনালে পৌঁছাব এবং সেখানে মেসির মুখোমুখি হব।’
নেইমারের মূল চ্যালেঞ্জ এখন আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণার আগে নিজেকে শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় নিয়ে আসা এবং মাঠে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে আনচেলোত্তির মন জয় করা। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নেইমার যদি দলে ডাক না পান তবে সেটি পারফরম্যান্সের অভাবে নয়, বরং কেবল ফিটনেস সমস্যার কারণেই হবে।