ফুটবল

'আনলাইকলি ড্রিবল ডন' সার্জিও রামোস

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১১ মে ২০২৬, ৩:০৯ পিএম

news-details

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩১ দিন বাকি। বিশ্বকাপে জ্বরে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। ঠিক এই সময়ে ফিফা তাদের স্মৃতিভাণ্ডার থেকে তুলে আনল এমন এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান, যা ফুটবলপ্রেমীদের নতুন করে তর্কে মেতে ওঠার রসদ জুগিয়েছে। আজকের গল্পের নায়ক কোনো প্রথাগত ড্রিবলিং জাদুকর নন, বরং স্পেনের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী- সার্জিও রামোস।


গল্পটা ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের। জোহানেসবার্গে সেই সোনালী ট্রফি জয়ের পথে স্পেন যেন এক অভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছিল। রামোস তখন খেলতেন রাইট-ব্যাক হিসেবে। রক্ষণে তিনি কতটা ভয়ংকর ছিলেন, তার প্রমাণ মেলে এক অনন্য রেকর্ডে—পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছিল মাত্র দুটি। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স, ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে মাত্র দুই গোল হজমের যে রেকর্ড গড়েছিল, রামোসরা তাতে ভাগ বসিয়েছিলেন।


কিন্তু ২০১০ বিশ্বকাপে রামোস কেবল রক্ষণের দেয়াল হয়েই থাকেননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক 'আনলাইকলি ড্রিবল ডন'। মাঠের পরিসংখ্যান বলছে, সেবার রামোস অবিশ্বাস্যভাবে ৩১টি ড্রিবল সম্পন্ন করেছিলেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, মেসি, ইনিয়েস্তা বা রোবেনের মতো জাদুকরদের ছাপিয়ে সেবার রামোসই ছিলেন তালিকার শীর্ষে!


সেই তালিকায় রামোসের পেছনে ছিলেন লুকাস পোডলস্কি (২৭), আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (২৬)। এমনকি সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি এবং ডেভিড ভিয়া (উভয়েই ২৫) কিংবা ডাচ উইঙ্গার আরিয়েন রোবেনও (২৪) রামোসের সেই ড্রিবলিং ঝড়ের কাছে নতিস্বীকার করেছিলেন। রক্ষণ সামলে একজন ডিফেন্ডার কীভাবে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করে দিতে পারেন, রামোস ছিলেন তার উদাহরণ।


পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে ড্রিবলিংয়ের ব্যাটন অবশ্য পুরোপুরে চলে গেছে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে। ২০১৪ সালে লিওনেল মেসি, ২০১৮ সালে ইডেন হ্যাজার্ড আর ২০২২ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপে ছিলেন ড্রিবলিংয়ের রাজা। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার হয়েও রামোস যা করেছেন—একজন ডিফেন্ডার হিসেবে অসাধারণ কীর্তি।


২০২৬ বিশ্বকাপের এই ক্ষণগণনায় ফিফা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, ফুটবল মানেই অনিশ্চয়তা। আর একজন কট্টর রক্ষনভাগের খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন টুর্নামেন্টের সেরা ড্রিবলার। 

No posts available.

bottom-logo