৫ জানুয়ারি ২০২৫, ৫:২৯ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ হওয়ায় দলের বড় প্রত্যাশা ছিল দুজনের ওপর। অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি দুজনই সেই দায়িত্ব সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে পুরোপুরিভাবে। ব্যাট হাতে তাদের ছন্দহীনতা ভারতের সিরিজ হারে রেখেছে বড় অবদান। সমালোচনাও তাই ধেয়ে আসছে তাদের দিক বেশ। এর মাঝেও উঠছে প্রশ্ন, অবসর নেওয়ার কি এটাই সময় দুজনেরই? কোচ গৌতম গম্ভীর মনে করেন, এই সিদ্ধান্তটা নিতে হবে রোহিত ও কোহলির নিজেদেরকেই।
সেই বাংলাদেশ সিরিজ থেকেই রানের মধ্যে না থাকা রোহিত এই সিরিজ শুরুর আগে সমালোচনায় পড়েন ছুটি নিয়ে প্রথম টেস্ট মিস করে। তবে তার জায়গায় জাসপ্রিত বুমরাহর নেতৃত্বে ভারত সেই ম্যাচ জিতে যায়। পরের তিন টেস্ট অধিনায়ক হয়ে ফিরলেও ব্যাট হাতে অচেনা রোহিত নেতা হিসেবেও ছিলেন মলিণ। আর কোহলি সিরিজে একটি সেঞ্চুরি ও কয়েকটি ভালো ইনিংস খেললেও দৃষ্টিকটুভাবে বারবার আউট হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে। তরুণ প্রতিভাবানদের বসিয়ে এই দুজনকে বয়ে নেওয়া ঠিক কিনা, এই প্রশ্ন তাই জোরেশোরেই চলছে ভারতীয় ক্রিকেটে।
৩-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে গম্ভীর এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে কিছু বলা থেকে বিরতই থেকেছেন। “আমি একজন খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে পারি না। এটা তাদের ব্যাপার। তবে হ্যাঁ, আমি যা বলতে পারি তা হল তাদের মাঝে সেই তাড়নাটা আছে। তাদের সেই নিবেদন আছে। তারা শক্ত মানসিকতার ব্যক্তি। আশা করি তারা ভারতীয় ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তবে দিন শেষে, আমরা সবাই জানি যে তারা সেই পরিকল্পনাই করুন না কেন, সেটা ভারতের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে ভালো কিছুই হবে।”
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট হতে লম্বা সময় ধরে রোহিত গত আট টেস্টে রান করেছেন মাত্র ১০.৯৩ গড়ে। এই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে ফিরলেও ব্যাটিং করেছেন ওপেনিং ছেড়ে মিদল অর্ডারে। সেখানেও সুবিধা না করতে পেরে চতুর্থ টেস্টে ফেরেন ওপেন করতে। তবে মেলেনি সাফল্য। পঞ্চম টেস্টে তাই নিজেকে দল থেকেই সরিয়ে নেন। বিপরীতে পাঁচ টেস্টই খেলা কোহলি সিরিজে সাতবার আউট হয়েছেন ২০ বা তার কম রানে। মাত্র ২৩.৭৫ গড়ে ৯ ইনিংসে নামের পাশে রয়েছে মাত্র ১৯০ রান, যা তার মাপের একজন ব্যাটারের জন্য ভীষণ বেমানানই।
গম্ভীর মনে করেন, অভিজ্ঞতা ছাপিয়ে দল থাকতে দলে সবাইকে নিয়মিত অবদান রেখে নিজেকে প্রমাণ করতেই হবে। “এটা আপনি ভালো করার জন্য কতোটা ক্ষুধার্ত, কতোটা নিবেদন দেখাচ্ছেন এবং আপনাকে নিয়ে দল কতোটা উন্নতি করতে পারছে, সেটার ব্যাপার। কারণ, শেষ পর্যন্ত কিন্তু এটা আপনারও দল নয়, আমারও নয়। এটা দেশের দল। তাই আমার কাজ হল একটা খেলোয়াড় যার অভিষেক হয়নি এবং যে ১০০টা ম্যাচ খেলে ফেলেছে, সবার প্রতিই নিরপেক্ষ থাকা।”
আগামী জুনের আগ পর্যন্ত ভারতের আর টেস্ট ম্যাচ নেই। ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সেই সিরিজের দলে ৩৮ বছর বয়সী রোহিত ও ৩৭ বছর বয়সী কোহলি থাকবেন কিনা, সেটা সময়ই বলে দেবে।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টাইটেল রেসে ইঁদুর-বিড়াল দৌড় চলছে রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যে। একবার চট্টগ্রাম শীর্ষস্থান দখলে নেয় তো পরোক্ষণে তা হয়ে যায় রংপুরের।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে সিলেটকে ১৪ রানে হারায় চট্টগ্রাম। তাতে ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর নেট রান রেটের সৌজন্যে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম। রংপুর রাইডার্স সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই ম্যাচে ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। দেশীয় ব্যাটারদের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। প্রায় ২১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন জাতীয় দলের এই ব্যাটার।
বিপিএলের ১২তম আসরে এটি সর্বোচ্চ রানের ইনিংস জয়ের। এর আগে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে রিদমে ফেরা ও নিজের ইনিংস নিয়ে কথা বলেন ২৫ বর্ষী ডান হাতি এই ব্যাটার।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জয় বলেন,
‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই তখন মনে হয়েছিল উইকেট খুবই ভালো। মারলে হয়তোবা লাগবে। তাই আমি চেষ্টা করেছি।’
এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেট ছিল জয়ের। সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীও ছিলেন তিনি। টেস্ট স্পেশালিস্ট জয় কী তবে টি-টোয়েন্টির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে জয় বলেন,
‘চেষ্টা তো থাকবেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে চেষ্টা তো থাকবেই। আমি সব জায়গায় খেলার চেষ্টা করি। এখন বিপিএল হচ্ছে তাই বিপিএলে চেষ্টা করছি ভালো করার।’
চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য থেকে ১৪ রান দূরে থামে সিলেট টাইটানস। ১৯.৪ বলে ১৮৪ রানে গুটিয়ে গেছে সিলেট। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তানভীরের বলে আউট হয়েছেন খালেদ আহমেদ। এই খালেদের ২৫ রানের ইনিংসেই খেলা কিছুটা জমিয়ে তুলেছিল সিলেট।
খালেদের ব্যাটিংটা একটা সারপ্রাইজ ছিল কিনা চট্টগ্রামের জন্য?
জয় বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই। খালেদ ভাই একটু সারপ্রাইজ করেই দিয়েছিল সবাইকে। আমাদের মেইন বোলার শরিফুল-তানভীর। ওদের কয়েকটা ভালো ছয় মেরে দিয়েছিল। একটু তো সারপ্রাইজ সবাই হয়ে গেছিল।’

সহজ লক্ষ্য—১২৯ রান। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্ম-আপ সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া সাদামাটা টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সালমান আলী আগা নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান।
বুধবার ডাম্বুলায় টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। শুরুতেই শ্রীলঙ্কার ওপর পেস আক্রমণ শানায় সালমান মির্জা ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। পাশাপাশি স্পিন বিষে ছাড়েন আবরার আহমেদ ও সাদাব খান। পেস ও স্পিন দুই সেকশন থেকে সমান ৫টি করে উইকেট নেয়া হয়। তাতেই ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা।
৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর স্বাগতিকদের হয়ে হাল ধরেন জনিথ লিয়ানাগে। তিনি সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিস খেলেন। দলের সাত ব্যাটার দুই অংকের রান নিলেও একমাত্র ইনিংস বড় করতে পারেন লঙ্কান এই ব্যাটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল চারিথ আসালাঙ্কা ও ওয়েনিন্দু হাসারাঙ্গার। দুজন ১৮ করে রান করেন। লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে সালমান মির্জার ষাড়াশি অভিযানে। সবমিলিয়ে কোটার ২০ ওভার খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৯.২ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
জবাব দিতে নেমে শাহিবজাদা ফারহান ৩৬ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে যাত্রা শুভ করেন। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও ১৮ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলেন। আর শেষটা ইতি টেনে দেন সাদাব খান। এই স্পিনার হাত ঘুরিয়ে দুই উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ বলে করেন ১৮ রান।

দুই ইনিংসে নেই কারো ফিফটি। অথচ, এমন এক ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১৯৮/৫-এর জবাবে সিলেট টাইটান্সের স্কোর ১৮৪/১০। ১৪ রানে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ের ম্যাচেও শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছিল সিলেট টাইটান্স।
চলমান বিপিএলে এ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া সর্বোচ্চ স্কোরের ম্যাচে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কী ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংই না দেখেছে দর্শক। শেষ ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম যোগ করেছে ৬৬, সেখানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিলেট টাইটান্স যোগ করেছে ৫৯ রান।
শেষ পাওয়ার প্লে-তে বোলারদের চুল ছিঁড়ে ফেলার দশা করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালস মিডল অর্ডার শেখ মেহেদী (১২ বলে ৪ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় ৩১*)। জবাব দিতে এসে শেষ ১২ বলে ৪২ রানের টার্গেটের মুখে দাঁড়িয়েও সিলেট টাইটান্স টেল এন্ডার খালেদের বেপোরোয়া ব্যাটিং দেখেছে দর্শক (৯ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ২৫)।
১৯তম ওভারে শেখ মেহেদী চড়াও হয়েছিলেন পেস বোলার খালেদের উপর। মেরেছেন সেই ওভারে ২ চার, ১ ছক্কা, একটি ২ রান। জবাব দিতে এসে ১৯ তম ওভারে পেস বোলার শরীফুলকে খালেদ মেরেছেন ২ ছক্কা, ১ চার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলারদের বধ্যভূমি বানিয়ে ফেলা ম্যাচে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছেন সিলেট টাইটান্স পেসার খালেদ (৪-০-৫৫-০)। দলের অন্য দুই পেসার রুয়েল মিয়া (৪-০-৪১-৩) এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই (৪-০-৪৭-১)ও ছিলেন অমিতব্যয়ী। প্রশংসা প্রাপ্য শুধু বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম ( ৪-০-২৪-০)।
টানা চতুর্থ ম্যাচে ফিফটির কক্ষপথে ছিলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অ্যাডাম রশিংটন। তবে ফিফটি থেকে যখন মাত্র ১ রান দূরে, তখন রুয়েল মিয়াকে পুল করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন রশিংটন ( ৩৮ বলে ৬ চার, ১ ছক্বায় ৪৯)। এই ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রকৃত টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মাহামুদুল হাসান জয় (২১ বলে ৩ চার, ৪ ছক্বায় ৪৪)। রুয়েল মিয়াকে পর পর ২টি ছক্কা মেরে আর একটি ছক্কার শটে প্রলুব্ধ হয়ে এক্সট্রা কভারে দিয়েছেন ক্যাচ। রশিংটনের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ২য় উইকেট জুটিতে ৩৮ বলে ৬০ রানে রেখেছেন মাহামুদুল হাসান জয় বিশেষ অবদান।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫০ উঠতে ৩ উইকেট হারিয়েও ম্যাচে সিলেটকে রাখতে প্রানান্ত চেষ্টা করেছেন আফিফ। তবে বাঁ হাতি স্পিনার তানভিরের বলে এলবিডাব্লু হয়ে থেমেছেন ৪৬ রানে ( ৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কা)। এই ম্যাচে দুদলের মধ্যে ব্যবধান গড়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের পাকিস্তানি পেসার আমের জামাল (৪-০-৩৪-৪)।
সিলেটের জামাই মঈন আলী ইকোনমি বোলিংয়ে (৪-০-২৩-১) নাঈম শেখ-কে শিকার করেছেন। তবে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে বোল্ড হয়েছেন (১১ বলে ১৩)।
এই ম্যাচে ব্যবধান গড়েছে ডট বল এবং বাউন্ডারির সংখ্যা। চট্টগ্রামের (৪৩) চেয়ে ৫টি বেশি ডট করেছে সিলেট (৪৮)। চট্টগ্রামের ১৯টি বাউন্ডারির বিপরীতে ৯টি বাউন্ডারি মেরেছে সিলেট। ৩টি বেশি ছক্কা (১২টি) মেরেও তাই হেরে গেছে সিলেট।
৬ষ্ঠ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় রংপুরের সঙ্গে শীর্ষে উঠে এসেছে (৮ পয়েন্ট)। সিলেট নেমে গেছে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে (৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের সংস্করণের সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস (টিপিটি)। তাদের আয়োজনে এবার মোট ১১ জন দেশি-বিদেশি ধারাভাষ্যকার দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চারজন দেশি ধারাভাষ্যকার রয়েছেন।
ধারাভাষ্য প্যানেলে এবার যুক্ত হলো নতুন তারা। বিদেশী কণ্ঠে যুক্ত হচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার নিক কম্পটন। ৪২ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার ও বর্তমানে বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার কম্পটন স্কাই স্পোর্টস, বিবিসি এবং ইএসপিএনের মতো প্লাটফর্মে কাজ করছেন।
কিংবদন্তি ইংলিশ অলরাউন্ডার ডেনিস কম্পটন-এর নাতি নিক কম্পটন। ক্রিকেট পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটার ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কম্পটন ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। ১৬ টেস্টে ৭৭৫ রান করেছেন তিনি।
অবশ্য ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ হয়নি কম্পটনের। ২০১৮ সালের শেষে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেন তিনি। বর্তমানে ক্রিকেটে ধারাভাষ্যকার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ক্রিকেটে তাঁর বিশ্লেষণী দক্ষতা টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় বেশ পরিচিত।
এবারের বিপিএলে দেশি ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় আছেন ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’ খ্যাত আতহার আলী খান। তাঁর সঙ্গে ধারাভাষ্য আছেন শামীম চৌধুরী, সমন্বয় ঘোষ ও মাজহার উদ্দিন অমি।
বিদেশীদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনুস ও রমিজ রাজা। রমিজ রাজা এর আগেও বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেও ওয়াকার ইউনিসের জন্য এটি প্রথম। এছাড়া ধারাভাষ্য প্যানেলে আছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ফারভেজ মাহরুফ। মাঝে ওয়াকার ইউনুস বাংলাদেশ ছাড়লে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন গফ যোগ দেন।

ঘরের মাঠে আবার হারল সিলেট টাইটান্স। রংপুর রাইডার্সের কাছে হারের পরের ম্যাচেই জয়ে ফিরল চট্টগ্রাম রয়্যালস। একইসঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ফিরে পেল বিসিবি পরিচালিত দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে সিলেটকে ১৪ রানে হারায় চট্টগ্রাম। চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ৫ উইকেটে ১৯৮ রানে থামে চট্টগ্রাম। জবাবে ১৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি সিলেট।
ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর নেট রান রেটের সৌজন্যে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম। রংপুর রাইডার্স সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে। আর সাত ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে সিলেট।
রান তাড়ায় শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি সিলেট। দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ২৪ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তৌফিক খান তুষার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আমির জামালের বলে বড় ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান তুষার। ওই ওভারেই ক্রিজে গিয়ে প্রথম বল ছক্কায় ওড়ান রনি তালুকদার। তবে ওভারের শেষ বলেই তাকে চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন জামাল।
এরপর কমে আসে রানের গতি। তিন নম্বরে ফিফটির সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি আফিফ। ৩৩ বলে ৪৬ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটার। বেশি কিছু করতে পারেননি মইন আলি (১৩) ও আজমতউল্লাহ (১৮) ওমরজাই।
পরে ইথান ব্রুকস আশা দেখান। কিন্তু ১০ বলে ২০ রান করে ফিরে যান ইংলিশ তরুণ। আট নম্বরে নামা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও তেমন কিছু করতে পারেননি।
শেষ দিকে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা আনেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ইনিংসে ৩টি ছক্কা মারেন সিলেটের পেসার। তবে তার ৯ বলে ২৫ রানে পরাজয়ের ব্যবধান ছাড়া আর কোনো ফায়দা হয়নি।
চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ উইকেট নেন জামাল। শরিফুল ইসলামের শিকার ২টি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬০ রান।
ফিফটির আগেই অবশ্য ফিরে যান ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারা জয়। মাত্র ১ রানের জন্য টানা চতুর্থ ফিফটি করতে পারেননি রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৯ রান। পরে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলি (৮ বলে ১৩) তেমন কিছু করতে পারেননি।
তবে ফিনিশিংটা দুর্দান্ত করেন মেহেদি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আমির জামালকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ১৭ বলে ৩৯ রান। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে নেই মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় খেলতে নেমে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-১, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমরজাই ৪-০-৪৭-১)
সিলেট টাইটান্স: ১৯.৪ ওভারে ১৮৪ (তুষার ২৩, ইমন ২, আফিফ ৪৬, রনি ৬, মইন ১৩, ওমরজাই ১৮, ব্রুকস ২০, মিরাজ ১৭, খালেদ ২৫, নাসুম ০, রুয়েল ০*; শরিফুল ৪-০-৩৯-২, রনি ৪-০-৩৫-১, মেহেদি ৪-০-৩০-০, জামাল ৪-০-৩৪-৪, নাওয়াজ ১-০-৮-১, তানভির ২.৪-০-৩৮-২)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ১৪ রানে জয়ী