৮ আগস্ট ২০২৪, ১:৩৭ পিএম

চমক জাগানিয়া এক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। দলের ফুটবলারদের শিক্ষা দিতে ভাড়া করেছেন পেশাদার পকেটমার। যাদের কাজ আর্সেনাল খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় জিনিস চুরি করে তাদের সাবধান করে তোলা।
দলের রাতের খাবারের সময় আচমকাই এমন এক কাণ্ড ঘটান আর্সেনাল কোচ। খেলোয়াড়দের খাবার দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে পকেটমাররা তাদের মোবাইল সহ প্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে নেন। বেশিরভাগ ফুটবলার তা একেবারেই আন্দেজ করতে পারেননি।
আরও পড়ুন: ৬ বছরের চুক্তিতে দানি ওলমোকে দলে ভিড়িয়েছে বার্সেলোনা
খাবার শেষ হলে আর্তেতা তাঁর ফুটবলারদের জিজ্ঞেস করেন পকেট চেক করতে। আর তখনই ফুটবলারদের বুঝতে পারেন তাদের পকেট থেকে চুরি হয়েছে কিছু জিনিস। এমন কিছুর জন্য ফুটবলাররা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
এই অপ্রত্যাশিত চর্চাটি আর্তেতা যুক্ত করেছেন মূলত সতর্কতা এবং প্রস্তুতির গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়ার জন্য।

স্প্যানিশ এই কোচ তাঁর কোচিংয়ে এমন নানা ধরণের অত্যাধুনিক চর্চা যুক্ত করতে বেশ পটু। নিয়মিত ফুটবলাররা যাতে নিজেদের উন্নতি করতে পারেন তা নিয়ে বেশ সচেতনই থাকেন আর্তেতা।
আর্সেনালে কোচ হওয়ার পর থেকে থেকেই দলটার চেহারা বদলে দিয়েছেন আর্তেতা। গত মৌসুমে তো তার দল ম্যানচেস্টার সিটির সাথে শেষ দিন পর্যন্ত লড়ে গেছে প্রিমিয়ার লিগ জেতার দৌড়ে।
No posts available.

পরিসংখ্যান আর খাতা-কলমের হিসাব—সবকিছুই রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। আর কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের হাতের তালুর মতো চিরচেনা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। একের পর এক সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে ১৫বারের শিরোপাধারীদের। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যেতে হয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে ৪ বার শট নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে রিয়াল। অন্যদিকে গোলমুখে তিনটি শট নিয়ে একটি বল জালে জড়িয়েছেন দিয়াস। প্রথমার্ধে ৪১ শতাংশ বল দখলে ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের, ৫৪ শতাংশ বায়ার্নের।
আরও পড়ুন
| পিএসজির মুখোমুখির আগে আসল সত্য জানালেন স্লট |
|
ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের কাছে ডিন হুইসেনের ব্লকে মাটিতে পড়ে যান মাইকেল ওলিসে। তবে সেখান থেকে স্পটকিক নিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার।
দুই মিনিট পর নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল। দায়োত উপামেকানোর ডান পায়ের শটের গতি আরেকটু বাড়লেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অতিথি দলের।
বায়ার্নের মুর্হুমুহু অ্যাটাকের পর পূর্ণ রিদমে ফিরতে অবশ্য সময় বেশি নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ষোড়শ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভ করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তার সেই শট রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার।
১৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় রিয়াল। এ যাত্রাতেও বাভারিয়ানদের ত্রাণকর্তা নয়্যার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়দের ডানপায়ের বুলেট গতির শট বাদিকে ঝাঁপিয়ে বারের বাইরে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান গোলকিপার।
২৫তম মিনিটে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে নয়্যারকে সামনে পান এমবাপে। তবে মিডফিল্ড থেকে পাঠানো ক্রসের গতি ছিল একটু বেশিই। যে কারণে চেষ্টা বৃথা যায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
আরও পড়ুন
| বায়ার্নের শুরুর একাদশে কেইন, রিয়ালে ভালভার্দে |
|
অসাবধানতায় অঘটন ঘটতে পারতো ২৭তম মিনিটে। গ্রানব্রি বড় ধরণের সুযোগ মিস করেছেন এসময়। আন্দ্রে লুনিনকে ব্যাকপাস দিতে চেয়েছিল থিয়াগো। সেটি এতই ধীরগতির ছিল যে গ্রানব্রির নাগালে চলে আসে। তার সে শটে জোর ছিল না। তাতে মেলেনি সাফল্য।
২৮তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। দীর্ঘসময় গোলখরায় ভোগা রিয়াল রাইট উইঙ্গার নুয়্যারকে একা পেয়েও লক্ষ্যবেদ করতে পারেননি। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভের পর ডান পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। বুলেটগতির নিচু শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লুনিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
৩২তম মিনিটে কারেরাসের লং রেঞ্জের ক্রসের সূত্র ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজায় রিয়াল। বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে চালাচালি করেন আর্দা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভালভার্দে। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে পরিকল্পনা। বরং পাল্টা আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। যদিও কেইন আটকা পড়ে রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে।
আরও পড়ুন
| ‘হুইলচেয়ারে হলেও মাঠে নামবে কেইন’ |
|
৩৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন চুয়ামেনি। সেটপিসে আবারও স্পটকিক পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে কাজে দেয়নি এই অর্জন।
৪০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গ্রানব্রির ক্রস থেকে ডান পায়ের জাদু দেখান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
কেইন কিছু জায়গা পেয়ে বল ধরে রাখেন এবং তা গ্রানব্রির কাছে পাঠান। যিনি আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পেছনে স্লাইড করেন। দিয়াস ঠিক সময়ে দৌড়ে এগিয়ে যান এবং চতুরতার সঙ্গে বলটি নিচের ডান কোণে গড়ান। তাতেই ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।

সবার হিসাব মেলে, লিভারপুলের মেলছে না। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অ্যানফিল্ডের ক্লাবের অবস্থা ঠিক এমনই। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়নস লিগেও শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে পর্দাপন। তবে নতুন মৌসুমে পা রাখতেই সব এলোমেলো।
গত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল চলতি আসরে প্রতিযোগীতা নেই। টেবিলের পঞ্চমে তাদের অবস্থান। আর চ্যাম্পিয়নস লিগে টেনে টুনে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে আর্নে স্লটের দল। এখানে এসেও নিস্তার নেই। কারণ তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।
পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টার ম্যাচের আগে কথা বলেছেন স্লট। অল রেডসদের ডাচ কোচ স্লট স্বীকার করে নিয়েছেন, মৌসুমজুড়ে তার দলের পারফরম্যান্স তেমন একটা সুবিধা মতো নয়।
মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি সত্য যে পুরো মৌসুমজুড়েই আমাদের পারফরম্যান্স আর ফলাফল বেশ ওঠানামার মধ্যে ছিল।’
দলের অবস্থা যেমনই হোক, স্লট মনে করেন, দুঃসময় এলেই ঠিকই জ্বলে ওঠে লিভারপুল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর উত্তর লুকিয়ে আছে লিভারপুলের ইতিহাসেই। কঠিন সময়ে এই দল বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরাও অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি—কয়েকবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি, আবার পড়ে গেছি।’
‘আমাদের আবার সেই মানসিকতাই দেখাতে হবে—হতাশার পর নিজেকে তুলে দাঁড় করানো এবং এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।’- যোগ করেন স্লট।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্লট স্মরণ করিয়েছেন গালাতাসারায়ের ম্যাচের কথা। তিনি বলেন, ‘এই ক্লাব অতীতেও কঠিন মুহূর্তে অসাধারণ কিছু করে দেখিয়েছে। আমরা যদি এই ম্যাচটা অ্যানফিল্ডে নিতে পারি, যেমনটা গত মৌসুমে দেখেছি, এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও—গালাতাসারায়ের বিপক্ষে—সেটাই ছিল আমাদের মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্স।’

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ফুটবল বিশ্বের দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের ম্যাচে অভিন্ন মিশন দুদলের।
রিয়ালের বিপক্ষে বাভারিয়ানদের শুরুর একাদশে ফিরেছেন বুন্দেসলিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ (৩১) গোল স্কোরার হ্যারি কেইন। জার্মান লিগে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে মাঠের বাইরে থাকা ইংলিশ অ্যাটাকার ফিরছেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে গোল্ডেন শু জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা কেইনকে নিয়ে ম্যাচের আগে বায়ার্ন অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ বলেছিলেন, আমার মনে হয়, দরকার হলে হুইলচেয়ারেও কেইন খেলবে।
রিয়াল একাদশে রয়েছেন চোট কাটিয়ে ফেরা রাইটব্যাক এদের মিলিতাও। আছেন ডিন হুইসেন, গার্সিয়া, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড ও অ্যান্টোনি রুডিগার।
মিডফিল্ডে আবারও ফিরছেন সবশেষ লা লিগায় মায়ার্কো ম্যাচে না থাকা ভালভার্দে। এই পজিশনে আছেন চুয়ামেনি ও আর্দা গুলের। অ্যাটাকিং পজিশনে কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
রিয়ালের গোলপোস্টের নিচে থাকছেন আন্দ্রে লুনিন। থিবো কোর্তোয়ার ইনজুরির কারণে লুনিন যে থাকবেন, সেটা অনুমেয় ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবশেষ যখন বায়ার্নের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল, তখন গোলপোস্টের নিচে ছিলেন লুনিন।
এ নিয়ে রেকর্ড ৪১তম বার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে রিয়াল, ৩৬ বার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দুইয়ে বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগের রেকর্ডটা অবশ্য বায়ার্নের (২৪ বার), দুইয়ে রিয়াল (২২)।
রিয়ালের শুরুর একাদশ: আন্দ্রে লুনিন, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড, রুডিগার, ডি হুইসেন, আলভারো কারেরাস, ভালভার্দে, থিয়াগো, অরেলিন চুয়ামেনি, আর্দা গুলের, কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বায়ার্নের শুরুর একাদশ: ম্যানুয়েল নয়্যার (গোলকিপার), জোসিপ স্ট্যানিসিচ, দায়োত উপামেকানো, জোনাথন তাহ কর্নাড লেইমার, আলেকসান্দার পাভলোভিচ, জশুয়া কিমিখ, লুইস দিয়াস, গ্যানাবেরি ও মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেইন।

ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে আছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে গোল্ডেন শু জয়ের দৌড়েও আছেন। গোলের পর গোল করে বায়ার্ন মিউনিখের জয়ে নিয়মিত অবদান রাখছেন। মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে ছাড়া কি মাঠে নামতে পারে বায়ার্ন। বাভারিয়ানরা যেমন ইংলিশ এই ফরোয়ার্ডকে নিয়েই মহারণে নামার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে, তেমনি নিজের সর্বস্ব দিতে প্রস্তত কেইনও।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইানালে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। স্প্যানিশ জায়ান্টদের ডেরা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সর্বশক্তি নিয়েই মাঠে নামবে বায়ার্ন, এমনটাই বলছেন জশুয়া কিমিখ। বিশেষ করে এই মৌসুমের ছন্দের তুঙ্গে থাকা হ্যারি কেইনকে রিয়ালের বিপক্ষে তাদের যেকোনো মূল্যেই চাই।
বুন্দেসলিগায় ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে বায়ার্নের ৩-২ গোলে জেতা ম্যাচে কেইনের অনুপস্থিতি চিন্তার ভাঁজ ফেলে দলটির অনেক সমর্থকদের কপালে। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘রাজা’ রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লড়াইকে সামনে রেখে কেইনকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় বায়ার্নের মেডিক্যাল টিম। অনিশ্চয়তা থাকলেও জার্মান বাভারিয়নরা তাকে পেতে মরিয়া।
কেইনের চোটের প্রসঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি এসেছে বায়ার্ন অধিনায়ক জশুয়া কিমিখের কাছ থেকে। জার্মান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমার মনে হয়, দরকার হলে হুইলচেয়ারেও কেইন খেলবে।’
কিমিখ আরও যোগ করেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, হ্যারি কেইন খেলতে পারবে। প্রয়োজনে হামাগুড়ি দিয়েও সে মাঠে নামবে।’
বায়ার্ন কোচ কেইনকে পাওয়া নিয়ে আশাবাদী আবার সতর্কও। ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, ‘কেইন যদি ফিট থাকে, তাহলে সে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’
চলতি মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ৫৩ গোল করেছেন কেইন। এরমধ্যে বুন্দেসলিগায় ২৬ ম্যাচে ৩১ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১০। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কেইনের ধারেকাছেও নেই কেউ।

থাইল্যান্ডকে বাগে পেয়েও হারাতে না পারার বেদনাই কি বেশি পোড়াচ্ছে বাংলাদেশকে? ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানের সেই হারই আফসোস বাড়ানোর কথা। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-২ হার এবং চীনের কাছে আত্মসমর্পনের পরও ভালোভাবেই টিকে ছিল বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা। তবে শেষ সুযোগটাও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
থাইল্যান্ডের ননথাবুরিতে অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের এশিয়ান কাপে আজ ভিয়েতনামের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ৪৯ মিনিটে গোলকিপার মিলির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন থি থু লিন এনগুয়েন। ভাগ্য নির্ধারণ হওয়া সেই গোলের কোনো জবাব দিতে পারেনি বাংলাদেশ। তাতে শেষ হয়ে যায় ইতিহাস গড়ে আফইদা খন্দকারদের প্রতিযোগিতার শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন।
গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর শেষ ম্যাচে ড্র করলেও টিকে থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা¬। শেষ আট নিশ্চিত করতে তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকতে হতো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে তিন ম্যাচেই হেরে সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয়ে গ্রুপ ‘এ’ এর তলানীতে থেকেই শেষ করে বাংলাদেশ।
ভিয়েতনামের বিপক্ষে বল দখলে খুব একটা পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ। তবে আক্রমণভাগ ছিল ছন্নছাড়া। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট নিয়েছে তারা। বিপরীতে মোট ১০টি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রেখে একটি গোলই আদায় করে নেয় ভিয়েতনাম।
ম্যাচের ৮ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় বাংলাদেশ। উমেহলা মারমা বাঁ দিক থেকে নগুয়েন থি থুই লিনকে পরাস্ত করে বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর শটটি দ্রুত ভিয়েতনামের ডিফেন্ডার নগুয়েন থি থুং আটকে দেন।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে দারুণ আরেকটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সাগরিকা মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে একা গোলকিপারের মুখোমুখি হলেও ঠিকভাবে শট নিতে পারেননি। তার দুর্বল শটটি সহজেই রুখে দেন ভিয়েতনামের গোলরক্ষক।
এরপর ভিয়েতনাম একের পর এক আক্রমণ চালায়। ১৮ ও ২১ মিনিটে এনগুয়েন থির নেওয়া দুটি শটই ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেছে। ২৮ মিনিটে তারই একটি বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে লিড নেয় ভিয়েতনাম। প্রায় মাঝমাঠ থেকে নেওয়া একটি ফ্রি-কিকে বল ঠিকভাবে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি। তার হাত ফসকে বল পেছনে চলে গেলে ডিফেন্ডার এনগুয়েন থি ফাঁকা জালে আলতো টোকায় জড়িয়ে দেন বল।
৭০ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে আনার বড় সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। মোমিতা খাতুনের ক্রস হেডে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা বৃথা যায় সাগোরিকার। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ভিয়েতনামও। তবে ওই এক গোলই হয়ে থাকল ম্যাচের ফল নির্ধারক।