
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি আফগানিস্তান। এই টুর্নামেন্টে রশিদ খানের সামনে ৭০০ উইকেট নেওয়ার হাতছানি। এজন্য প্রয়োজন আর মাত্র ৪ উইকেট। তবে আফগান তারকার চোখ ৭ হাজার উইকেটে।
অনেক দিন ধরেই স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক রশিদ। প্রায় ১০ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৫১৫ ম্যাচ খেলে ৬৯৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আর মাত্র ৪ উইকেট পেলেই ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট হয়ে যাবে তার।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে তার এই মাইলফলকের প্রসঙ্গ। এর উত্তরে শুরুতে রশিদ জানান, কখনও এত দূর আসার কথা ভাবেননি তিনি।
“আমি ৯–১০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি, এর মধ্যেই শীর্ষ উইকেটশিকারি হওয়া আমার কাছে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এসেছে হয়তো ২০০৪–০৫ সালে। অনেক খেলোয়াড়ই আছেন যারা এই সংস্করণে অনেক খেলেছেন, কিন্তু আমার জন্য এটা অর্জন করা সত্যিই বিশেষ কিছু।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ জেতা নয়, রশিদ খানদের কাছে যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ |
|
“আমি কখনও আমার উইকেট গণনা করিনি। গণমাধ্যমের মাধ্যমেই এটা জানতাম, আমার ৪০০ হলো, ৫০০ হলো, ৬০০ হলো। আসলে এগুলো নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি। আমি শুধু প্রতিদিন নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, দলের জন্য ভালো পারফরম্যান্স করা আর উইকেট নেওয়াই ছিল লক্ষ্য।”
তবে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে পারা যে অনেক বড় অর্জন হবে তা জানেন রশিদ। একইসঙ্গে ৭ হাজার উইকেটের ইচ্ছার কথাও বলেন তিনি।
“৭০০ উইকেট কোনো ছোট ব্যাপার নয়। এখানে পৌঁছাতে অনেক সময় আর কঠোর পরিশ্রম লাগে। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। এই মাইলফলক ছুঁতে পেরে আমি খুব খুশি, আশা করি সাত হাজারেও পৌঁছাতে পারব (হাসি)।”
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম

প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে অবশেষে ছন্দ খুঁজে পেলেন পারভেজ হোসেন ইমন। মুলতান সুলতান্সের স্পিনারদের কচুকাটা করে একের পর এক ছক্কা হাঁকালেন লাহোর কালান্দার্সের বাংলাদেশি ওপেনার। তবে অল্পের জন্য ফিফটি করতে পারলেন না তিনি।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ম্যাচে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ২৩৬.৮৪ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন ইমন। চলতি পিএসএলে এখন পর্যন্ত এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং পায় ইমন, মোস্তাফিজুর রহমানদের নিয়ে খেলতে নামা লাহোর। মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলে ১৮ রান পেয়ে যায় দলটি। দুইটি বাউন্ডারি মারেন মোহাম্মদ নাঈম। আর বাকি দুই বলে ওয়াইডসহ ৪ দেন ইসমাইল।
প্রথম ৩ ওভারে কিছুটা গুটিয়েই ছিলেন ইমন। প্রথম ১০ বলে তিনি নেন মাত্র ৯ রান। পরে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ আক্রমণে আসতেই যেন জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুইটি ছক্কার পরে একটি চার মারেন তিনি।
এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন ফয়সাল আকরাম। বাঁহাতি এই লেগ স্পিনারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে দেন ইমন। মাত্র ১৭ বলে তিনি পৌঁছে যান ৪৪ রান।
ষষ্ঠ ওভারে ইসমাইল আক্রমণে ফিরলে আবার বড় শটের চেষ্টা করেন ইমন। তবে এবার সীমানার কাছে ধরা পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩১ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ইমন ফিরলেও ঝড় থামাননি নাঈম। তিন নম্বরে নেমে আব্দুল্লাহ শফিকও। যার সৌজন্যে মাত্র ৭ ওভারে ১২৩ রান করে ফেলেছে লাহোর। নাঈম ১৮ বলে ৪৪ ও শফিক ৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত।

প্রতি বছর এই সময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উত্তেজনায় ব্যস্ত থাকে দেশের ক্রিকেট। কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেরা ব্যাটার-বোলার কারা হবেন, সেই আলোচনা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু চলতি বছর এখনও শুরুই হয়নি ডিপিএল।
তবে বেশি দিন এই অচলাবস্থা অব্যাহত রাখতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। তাই ডিপিএল শুরুর জন্য ক্লাবগুলোকে নিয়ে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিসিডিএম।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেতরে সিসিডিএমের অফিসে আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণকারী সব ক্লাব ও অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে করা হবে ডিপিএল বিষয়ক বৈঠক।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে বিসিবি। বার্তায় বলা হয়েছে, এই বৈঠকে ডিপিএল শুরুর সূচি ও লিগ পরিচালনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সব অংশীজনদের নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি লিগ আয়োজনের আশা বিসিবির।
শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেও ফায়দা পেলেন না ফখর জামান। বহাল রইল তার নিষেধাজ্ঞা। তাই পরের দুই ম্যাচে বাঁহাতি ওপেনারকে পাবেন না মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমনরা।
পাকিস্তানের সুপার লিগের (পিএসএল) ম্যাচে বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের দায়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফখর। ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন লাহোর কালান্দার্সের ওপেনার।
আপিলের ফল পক্ষে পাননি ফখর। পিএসএলের নীতি অনুযায়ী, লেভেল থ্রি অপরাধ করায় সর্বোচ্চ শাস্তি- দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে ফখরের।
ঘটনা গত রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য করাচির প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। শেষ ওভারটি করতে আসেন হারিস রউফ। তখন তার কাছেই ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফখর।
তিন জনের ছোট্ট আলোচনা শেষে বোলিং মার্কে প্রস্তুত হন হারিস। তখন তার হাত থেকে বল নিয়ে নেন আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি। পরে আরেক আম্পায়ার শরফুদৌল্লাহ ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন তিনি।
এসময় দুই আম্পায়ার মিলে সিদ্ধান্ত নেন, বলের কন্ডিশন পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই ৫ রান পেনাল্টি করা হয় লাহোরকে। করাচির সমীকরণ নেমে আসে ৬ বলে ৯ রানে। যা সহজেই পূরণ করে ফেলে করাচি কিংস।
ম্যাচ শেষে জানা যায়, বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের অভিযোগ মূলত ফখরের বিরুদ্ধে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ম্যাচ রেফারি রোশান সিদ্ধান্ত নেন, এটি লেভেল থ্রি অপরাধ। তাই দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় বাঁহাতি ওপেনারকে।
পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিকেটাররা চাইলে ম্যাচ রেফারির শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেন। ফখর সেই সুযোগ কাজে লাগালে প্রফেসর জাভেদ মালিক, ড. মুমরাইজ নকশবন্দ ও সৈয়দ আলি নাকির টেকনিক্যাল কমিটি এটি পর্যালোচনা করেন।
সেখানেও ফখর দোষী সাব্যস্ত হন। তাই শাস্তি বাতিল হয়নি বা শাস্তির মাত্রাও কমেনি। শুক্রবার মুলতান সুলতান্স ও আগামী বৃহস্পতিবা ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলা হবে না মোস্তাফিজদের দলের অভিজ্ঞ এই ওপেনারের।

উইকেট না পেলেও নিজের প্রথম দুই ওভার দারুণই করলেন রিশাদ হোসেন। দলকে প্রায়ই ব্রেকথ্রু এনে দেওয়া বাংলাদেশি লেগ স্পিনার পরের দুই ওভারেও উইকেট পেলেন না, উল্টো অনেক বেশি রানই হজম করতে হলো তাকে। রিশাদের খরুচে দিনে হেরেছে তাঁর দল রাওয়ালপিন্ডিজও।
পিএসএল আজ কিংসের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে রিশাদ হোসেনদের রাওয়ালপিন্ডিজ। ৪ ওভারে ৩৮ রান খরচায় উইকেটের দেখা পাননি রিশাদ। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারলো রাওয়ালপিন্ডিজ।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডিজ ৬ উইকেটে ১৯৭ রান করে। ফিফটি করেন ড্যারিল মিচেল ও স্যাম বিলিংস। রান তাড়ায় পাঁচ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে করাচি। ডেভিড ওয়ার্নারের ফিফটির সঙ্গে আজম খানের ৩৪ বলে ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে হেসেখেলেই জয় তুলে নেয় করাচি।
ডেভিড ওয়ার্নার এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওপেনিং জুটিতে ২৭ রান তোলে করাচি কিংস। ১১ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ওয়াসিম। তিনে নামা সালমান আলী আগার ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ২৯।
তৃতীয় উইকেটে ওয়ার্নার-আজম খানের জুটিতেই মূলত ম্যাচ জয়ের ভিত পেয়ে যায় করাচি। তাদের ৪১ বলে ৭৬ রানের জুটিতে ছেদ ঘটে ৩৬ বলে ফিফটি করা ওয়ার্নার আউট হলে। এরপর বাকি কাজ আজম খান একাই করেন।
রিশাদ বোলিংয়ে আসেন দলীয় ৮ম ওভারে। ওই ওভারে কোনো বাউন্ডারি হজম না করে ৬ রান দেন তিনি। পরের ওভারে একটি প্রথম বলেই চার মারেন ওয়ার্নার। তবে ওভারের শেষ তিন বল ডট দিয়ে সেটা উশুল করেন রিশাদ।
তৃতীয় ওভারের রিশাদ খরচ করেন ১০ রান। শেষ ওভারে লাইন-লেংথ হারিয়ে ১৪ রান হজম করেন তিনি। চতুর্থ ডেলিভারিতে লং অন দিয়ে তাকে ছক্কা হাঁকান আজম, আর শেষ বলে চার মারেন ওয়ার্নার।
রিশাদের গড়পড়তার দিনে রাওয়াপিন্ডিজের সব বোলারই ছিলেন খরুচে। ৩.২ ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া ড্যারিল মিচেল ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১ উইকেট শিকার মোহাম্মদ আমির ও নাসিম শাহের।
এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডিজ ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন মিচেল ও বিলিংস। ৫ চার ও ৩ ছক্কা ৪১ বলে ৬৫ করেন মিচেল। চতুর্থ উইকেটে কিউই ব্যাটারের সঙ্গে ১২০ রানের জুটি গড়া বিলিংস ৮ চার ১ ছয়ে করেন ৩৫ বলে ৫৮।

জাতীয় দলে নতুন দুই কোচ নিয়োগ দিলো শ্রীলঙ্কা। রায়ান ফন নিইকার্ককে বোলিং এবং জর্ডান গ্রেগরিকে ফিল্ডিং ও স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রায়ান ফন নিইকার্ক এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের বোলিং কোচ এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে ডাচদের পারফরম্যান্সে ছিল দারুণ। নিইকার্ক দায়িত্বথাকালীন তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে নেদারল্যান্ডস। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের সব বিভাগের ফাস্ট বোলিং কার্যক্রম তদারকি করবেন তিনি।
জর্ডান গ্রেগরিকে জাতীয় ফিল্ডিং ও স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলটির বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুই কোচ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।