
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ের পর আইসিসির কাছ থেকেও সুখবর পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, নাহিদ রানা, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমরা। র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিলেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটাররা।
যথারীতি বুধবার দুপুরে পুরুষ ক্রিকেটের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি। ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে ২৩ নম্বরে উঠেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের পর দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে ৮৭ রান করেন শান্ত। এমন ব্যাটিয়ের পর ক্যারিয়ার সেরা ৬৪৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ২৩ নম্বরে উঠেছেন তিনি। এটিই বাঁহাতি ব্যাটারের ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিং।
এছাড়া ব্যাটারদের তালিকায় ২ ধাপ এগিয়ে ২৬ নম্বরে উঠেছেন মুশফিক। দুই ইনিংসেই ফিফটি করে ১২ ধাপ এগিয়ে ৩৫ নম্বরে উঠেছেন মুমিনুল হক। তবে পিছিয়েছেন লিটন কুমার দাস (৬ ধাপ পিছিয়ে ৩৮), সাদমান ইসলাম (৪ ধাপ পিছিয়ে ৫৮)।
বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে উঠেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। আর দ্বিতীয় ইনিংসে আগুনঝরা বোলিংয়ে ৫ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা ৫ ধাপ এগিয়ে ৬৪ নম্বরে উঠেছেন।
No posts available.

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সিলেটে এই ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন আনেননি নির্বাচকেরা। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন ১৬ মে থেকে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু পরিবর্তন হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, আবহাওয়ার কারণে ভেন্যু বদল নিয়ে কিছু মহলে প্রশ্ন উঠলেও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই ম্যাচটি হবে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠ ও উইকেট প্রস্তুতির কাজ চলছে।
স্কোয়াডে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো অভিজ্ঞরা আছেন। বোলিং আক্রমণে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামদের সঙ্গে গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত নাহিদ রানা। স্পিন আক্রমণে যথারীতি থাকছেন মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। তরুণ অমিত হাসান ও তানজিদ হাসানও নিজেদের প্রমাণের অপেক্ষায় আছেন।
দ্বিতীয় টেস্টের বাংলাদেশ দল:
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসান।

২০০৫ সালের মে মাসে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক, ২০২৫ সালের নভেম্বরে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট একাদশে নাম লিখিয়ে দারুণ এক মাইলস্টোন পূর্ণ করেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলেছেন এই ক্রিকেটার।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সব খেলা সম্প্রচারে এদেশের ক্রীড়া প্রেমীদের হৃদয় জয় করে নেয়া টি-স্পোর্টস মুশফিকুর রহিমকে বিশেষভাবে স্মরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর শততম টেস্টকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের স্পোর্টস টিভি চ্যানেল এবং বিসিবির লম্বা সময়ের মিডিয়া রাইটস পার্টনার টি-স্পোর্টস নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
মুশফিকুর রহিমের স্কেচ কাঠে খোদাই করে ১০০তম টেস্টের পথে মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ার হাইলাইটস সুদৃশ্য বিশাল এক ফ্রেমে বাঁধাই করেছে টি-স্পোর্টস।
মুশফিকুর রহিমের ১০১তম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারানোর আনন্দ উদযাপন শেষে মুশফিকুর রহিমের হাতে এই স্মারকটি তুলে দিয়েছেন টি-স্পোর্টসের হেড অব রিসার্চ এন্ড ডেভেলপম্যান্ট শামীম চৌধুরী। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন টি-স্পোর্টসের ক্রীড়া সাংবাদিক রিফাত এমিল এবং রাহুল রায়। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টি-স্পোর্টসের ব্যতিক্রমধর্মী এই উপহার পেয়ে টি-স্পোর্টসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানের জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২৬’- এ অংশ নিতে বর্তমানে তুরস্কের কোনিয়াতে অবস্থান করছেন তিনি।
মঙ্গলবার ঘরের মাঠে প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক অর্জনের পরই নাজমুল হোসেন শান্তদের অভিনন্দন জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
অভিনন্দন বার্তায় আমিনুল হক বলেন, ‘মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয় আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। বিশেষ করে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের এই গৌরবময় অর্জন খেলোয়াড়দের অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল।’
অভিনন্দন বার্তায় বিশেষ করে তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার নাম উল্লেখ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট নেওয়া বাংলাদেশি পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে নেন আরও পাঁচটি। মূলত তার আগুনে বোলিংয়ে পথ হারায় অতিথিরা।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটসহ বোলারদের ম্যাজিকাল পারফরম্যান্স এবং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের গর্বিত করেছে।’
বাংলাদেশ দলের এই জয়ের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানান।

টসে জিতে বোলিং নিয়েই কি প্রথম ভুলটা করলেন শান মাসুদ? মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের ঐতিহাসিক হারের পর এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে হারের পর কোনো অজুহাত না খুঁজে ব্যর্থতার সব দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। পাশপাশি শান মাসুদের মতে, কন্ডিশন সিমিং হলেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তাঁর দল। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে বল ও ব্যাট—উভয় বিভাগেই পিছিয়ে পড়াটাকে পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
এই চরম হতাশার মাঝেও অবশ্য দুটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন মাসুদ। ব্যর্থতার গ্লানির মাঝেও দুই অভিষিক্ত ব্যাটার আজান ও ফজলের লড়াই ছিল পাকিস্তানের অধিনায়কের জন্য সান্ত্বনা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন আজান, আর দুই ইনিংসেই ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন ফজল।
টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও কন্ডিশনের সুবিধা কেন নিতে পারেননি, সে প্রসঙ্গে মাসু বলেন, ‘পেছনের কথা বলা সহজ। আমরা কন্ডিশন দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সিম বোলারদের জন্য তখন কন্ডিশন আমাদের অনুকূলেই ছিল। আমরা শুরুতে দ্রুত দুটি উইকেটও পেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম ইনিংসে আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারিনি, এমনকি ব্যাটিংয়েও আমরা পিছিয়ে ছিলাম। আমরা আরও বেশি রান করতে পারতাম। সত্যি বলতে, প্রথম ইনিংসে বল এবং ব্যাট—উভয় বিভাগেই আমাদের আরও ভালো করার প্রয়োজন ছিল।’
পাকিস্তান অধিনায়কের মতে, ব্যাটিং বিপর্যয়েই মিরপুরে পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে তাঁদের। রান তাড়ায় ১৫২ রানে পাঁচ উইকেট থেকে স্কোরবোর্ডে ১১ রান যোগ হতেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। চার বিরতির পর হঠাৎ এই ধস নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, আমার মনে হয় চা-বিরতি পর্যন্ত আমরা বেশ ভালো অবস্থানেই ছিলাম, কিন্তু বিরতির পরপরই আমরা দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলি। গেম সেন্স বা ম্যাচ বোঝার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় কিছু ব্যাটার আরও সচেতন হতে পারত। আমরা লক্ষ্যের খুব বেশি দূরে ছিলাম না, তাই তখন টিকে থাকাটাই জরুরি ছিল। আমরা ভুল সময়ে উইকেট হারিয়েছি; ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমরা আরও বিচক্ষণ হতে পারতাম।’
আগের দিন সালমান আলী আগা বলেছিলেন লক্ষ্য ২৭০-এর নিচে হলে পাকিস্তান জয়ের জন্য খেলবে পাকিস্তান। কিন্তু চা-বিরতির পর দলের হয়ে খেলতে গিয়েই তিনি আউট হয়ে গেলেন। আগা সালমানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বা আউট হওয়াকে আলাদা করে টার্নিং পয়েন্ট মানতে নারাজ মাসুদ।
নির্দিষ্ট কোনো মুহূর্তকে দায়ী না করে সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাসুদ বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি,লক্ষ্য যখন নির্ধারিত হয়েছিলতখন আমাদের মূল ভাবনা ছিলকেবল ব্যাটিং করা এবং পরিস্থিতিবুঝে আগানো। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো বলকে সম্মানদিতেই হবে এবং স্কোরিংসুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। চা-বিরতির সময় আমরা বেশভালো অবস্থানে থাকলেও জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েপড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরিহয়নি। আমাদের আলোকস্বল্পতার কথাও মাথায় রাখতে হয়েছিল; আমার মনে হয়না ওই অবস্থায় ৭৫ওভার খেলা সম্ভব ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আরটার্নিং পয়েন্টের কথা বললে, এইম্যাচে এমন অনেক মুহূর্তছিল; নির্দিষ্ট করে একটিকে দায়ী করা যাবে না। দল হিসেবে আমাদের সামগ্রিকভাবে ভুলগুলো দেখতে হবে।’
পাকিস্তানের এই দল নিয়ে ১৫ টেস্টের মধ্যে ১১টিতেই পরাজয়—এমন লজ্জাজনক পরিসংখ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও আত্মোপলব্ধির কথা জানিয়েছেন মাসুদ, ‘নিজের ভবিষ্যৎ ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেনআমি এই পরিসংখ্যান মেনে নিচ্ছি। আমি কখনোই কাউকে দোষারোপ করার খেলায় বিশ্বাস করি না; আমি নিজে এই ব্যর্থতার দায় নিচ্ছি। আমার সমস্ত প্রচেষ্টা থাকে আমরা কী ভালো করছি এবং একটি ভালো টেস্ট দল হয়ে উঠতে আমাদের আর কী কী উন্নতি প্রয়োজন—সেদিকে। দল নির্বাচন হোক, আমার ব্যাটিং পজিশন হোক বা দল সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়—আমার একমাত্র লক্ষ্য থাকে কীভাবে পাকিস্তান দলের উন্নতি সম্ভব।’
হেরে যাওয়া ম্যাচে আজান ফয়সালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, ‘এই ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজলে এই দুইজনের পারফরম্যান্স সবার উপরে থাকবে। প্রথম ইনিংসে তারা অসাধারণ খেলেছে, বিশেষ করে মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও আজান যেভাবে লড়েছে। আব্দুল্লাহ তো টেস্ট শুরু হওয়ার আগের রাত পর্যন্ত জানত না যে সে খেলছে। এমনকি আজ সকালেও অনুশীলনের সময় সে মাথায় চোট পেয়েছিল। তবুও তারা মাঠে নেমে যথেষ্ট পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে তারা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে। আরও বেশি টেস্ট খেললে তারা আরও অভিজ্ঞ হবে, তবে এই ম্যাচে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শট সিলেকশন ছিল এক কথায় অনন্য।’

সালমান আলী আগার মন্তব্যের সময়সীমা ২৪ ঘণ্টায়ও পেরোয়নি। এরইমধ্যে পাকিস্তান অলরাউন্ডারের চ্যালেঞ্জ বলে কয়েই উৎরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পঞ্চম দিনের শুরুতে দ্রুত রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ২৪০ রানে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৭ রানের। রান তাড়ায় নেমে ১০৪ রান দূরে থামে পাকিস্তান। দেশের মাটিতে এই প্রথম সাদা পোশাকের খেলায় শান মাসুদদের হারাল বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিন শেষে জেতার জন্য পঞ্চম দিনে ২৬০ রান নিরাপদ মনে করেছিলেন সালমান। অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার সুরে বলেছিলেন—বাংলাদেশ এই রান লক্ষ্য হিসেবে অতিথিদের দেওয়ার সাহস দেখাবে না। কিন্তু পঞ্চম দিনে ঠিকই সাহসী কাজটাই করে বসেন শান্ত। তার এই সিদ্ধান্তে ফল এসেছে বাংলাদেশের পক্ষে।
সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নাজমুলের মনে বইছে প্রশান্তির হাওয়া। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন সে কথাই। আর চ্যালেঞ্জ নেওয়া এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেছেন, মাঝে মধ্যে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নতুন পথ বাতলে দেয়।
নাজমুল বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা সকাল থেকে ক্লিয়ার ছিলাম আমরা কি করতে চাই। আমাদের ইচ্ছা ছিল আরও ১৫-২০ টা রান করার। কিন্তু মাঝে মধ্যে আমার মনে হয় যে এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি । এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পেছনে কারণ হলো আমাদের বোলিং অ্যাটাক। এই ইনিংসে মিরাজ যেভাবে স্টার্ট দিয়েছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিল, সেখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া গেছে ।’
প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন ফাইফারের দেখা। আর তাসকিন বাজিমাত না করলেও ছিলেন ধারাবাহিক। মিডল ওভারগুলোতে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি ছিল দেখার মতো। হাত ঘুরিয়ে বাংলাদেশি অভিজ্ঞ স্পিনার নিয়েছেন চার উইকেট।
নাজমুল বলেন, ‘তাইজুল ভাই মিডল ওভারে দারুণ বোলিং করেছেন। স্পেশালি এই ইনিংসে তাসকিন এবং রানার ওই স্পেলটা অসাধারণ েছিল । চার-পাঁচজন বোলারের অংশগ্রহণ ছিল। বিশেষ করে তাসকিন এবং রানার স্পেল অসাধারণ ছিল।’
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি (১০১) করা নাজমুল দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়েছেন ৮৭ রান করে। এক টেস্টে তৃতীয়বারের মতো জোড়া সেঞ্চুরি না পেলেও ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়কই। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চোখে–মুখে আনন্দের ঝলক নিয়ে বললেন, ‘খুব খুশি। সবাই যেভাবে খেলেছে, তাতে গর্বিত আমি। কয়েক মাস আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা ধীরে ধীরে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করছি, এটাই সব সময় চেয়েছিলাম।’