১৯ জুন ২০২৫, ৬:৪৭ পিএম
খেলা যতোই গড়িয়েছে, ততোই ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি হয়ে উঠেছে গল-এর উইকেট। তৃতীয় দিনের শেষ বেলাতেও উইকেটে ধরেনি ফাটল। স্লো উইকেটের ফাঁদেও পড়তে হয়নি ব্যাটারদের। বল পিচ করে আনইভেন বাউন্স হয়েছে, এমনটাও যায়নি দেখা। যেমনটা চেয়েছেন, সেভাবেই বল এসেছে ব্যাটে। এমন সুন্দর পিচ বোলারদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে। শান্ত-মুশফিকুরের জোড়া সেঞ্চুরির ইনিংসে ৪৯৫-কে অনেক মনে করেছেন যারা, তারাই এখন দেখছেন স্বাগতিক দলের লিড নেয়ার পূর্বাভাস। তৃতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৩৬৮/৪ সে আভাসই দিচ্ছে। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১২৭ রান। প্রথম ইনিংসে লিড নিতে তাই চতুর্থ দিনের শুরুটা তাই বাংলাদেশ বোলারদের কাছে এসিড টেস্ট।
টেস্ট ক্রিকেট এখন আর সংযমী ব্যাটিংয়ের পরীক্ষা নয়, বোলারদের উপর প্রতি আক্রমন করে স্ট্রাইক রেট বাড়িয়ে নেয়ারও খেলা। বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে সেই ফর্মুলাই বেছে নিয়েছেন লংকান ব্যাটাররা। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে ১৩৩, শেষ সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান তুলে প্রকারান্তরে তা জানিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ যেখানে ওভারপ্রতি ৩.২২ রান উঠিয়েছে স্কোরশিটে, সেখানে তৃতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কার রান রেট ৩.৯৫।
চার বোলার নিয়ে একাদশ সাজানোটা যে ভুল ছিল, তা এদিন ভালই টের পেয়েছেন কোচ ফিল সিমন্স। অনবরত ১৪০ প্লাস কিলোমিটার গতিতে বল করে, শর্ট বলের ছড়াছড়ি দিয়ে বরং প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের স্বাচ্ছন্দে রান করার পথ প্রশস্ত করেছেন পেসার নাহিদ রানা। ওভারপ্রতি ৫.০০ রান খরচ করেছেন নাহিদ রানা। বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুলের বোলিং নির্বিষ করে দিয়েছে লঙ্কান ব্যাটাররা। লাহিরু উদানাকে শিকারের বিপরীতে তার খরচা ১২৬-কে একটু বেশিই খরুচে মনে হচ্ছে। অফ স্পিনার নাঈম হাসান প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ফাঁদে ফেলতে কম চেষ্টা করেননি। নিশাঙ্কাকে শর্ট ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ফিরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করে দিয়েছিলেন। তবে মুমিনুলের হাত থেকে ফসকে পড়েছে সেই ক্যাচ। যে পার্টনারশিপ থেমে যেতে পারতো ৩৪ রানে, ক্যাচ ড্রপে সেই পার্টনারশিপ থেমেছে ১৫৭-তে। ৩৬ রানের মাথায় জীবন ফিরে পাওয়া পাথুম নিশাঙ্কা ঘরের মাঠে প্রথম এবং ক্যারিয়ারসেরা ১৮৭ রানের ইনিংস দিয়েছেন উপহার। তবে নিশাঙ্কাকে শিকার করতে না পারলেও পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভেঙেছেন নাঈম হাসান। কুইকার ডেলিভারিতে লেগ স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি ৫৪ রানের মাথায়।
ফেয়ারওয়েল টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে ৪ নম্বরে নেমে ম্যাথুউজ পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের বোলার ফিল্ডারদের গার্ড অব অনার। তবে ফেয়ারওয়েল টেস্টের আবেগ ভালই স্পর্শ করেছে এই অলরাউন্ডারকে। অকেশনাল স্পিনার মুমিনুলের টার্নিং ডেলিভারিতে ফ্রন্টফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে উইসকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ম্যাথুউজ। ৩৯ রানে থেমে গেছেন ম্যাথুউজ। দ্বিতীয় স্পেলের চতুর্থ বলে মুমিনুল দিয়েছেন ব্রেক থ্রু, ভেঙেছেন ৮৯ রানের পার্টনারশিপ।
দিনের সেরা ডেলিভারিটি অবশ্য দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেয়ে তৃতীয় ডেলিভারিতে বোকা বানিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখা পাথুম নিশাঙ্কাকে। জোড়া পায়ে ডিফেন্স করতে চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত হেনেছে হাসান মাহমুদের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারি। ৩৬ এবং ১৬৫ রানে বেঁচে যাওয়া পাথুম থেমেছেন ১৮৭ রানে। ২৫৬ বল মোকাবেলার যে ইনিংসে ২৩ টি বাউন্ডারির পাশে মেরেছেন ১টি ছক্কা।
গল টেস্টে ৫শ থেকে ৫ রান দূরে থেমেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। তৃতীয় দিন সকালে ১৬ বল টিকেছে বাংলাদেষের ইনিংস। যোগ করেছে ১১ রান। আসিথার বলে নাহিদ রানা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে বাংলাদেশ থেমেছে ৪৯৫-তে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সফল বোলার আসিথা পেয়েছেন ৪ উইকেট (৪/৮৬)।
ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি পিচে শ্রীলঙ্কার দুই পেসার মিলান রত্নায়েক (৩/৩৯)-আসিথা ফার্নান্দো (৪/৮৬) ছড়ি ঘুরিয়েছেন। এখন তার জবাব দেয়ার পালা বাংলাদেশের দুই পেসারের। দ্বিতীয় নতুন বলে তৃতীয় দিনের শেষ ৮ ওভার হয়েছে। এখনো নতুন চকচকে দেখাচ্ছে বলটা। চতুর্থ দিনের সকালে বলের সীম- সুইং কতোটা আদায় করতে পারে নাহিদ রানা-হাসান মাহমুদ, তার উপর নির্ভর করছে গল টেস্টের ভাগ্য।
৩১ আগস্ট ২০২৫, ৮:৩৭ এম
৩০ আগস্ট ২০২৫, ৯:৫২ পিএম
বল হাতে ২ উইকেট আর ব্যাটিংয়ে ১৯ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস। স্বপ্নের মতো এক ম্যাচ খেলেছেন সাইফ হাসান। দুর্দান্ত কামব্যাক হয়তো একেই বলে। তবে এটুকুতেই থামতে চান না সাইফ। বরং দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন, এখন মাত্র শুরু হয়েছে। ভালোর কোনো শেষ নেই তার।
২০২১ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সাইফের। দুটি ম্যাচ খেলে সেবার বাদ পড়ে যান দল থেকে।
পরে ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে তিনটি ম্যাচ অবশ্য খেলেন সাইফ। ম্যাচগুলোর আন্তর্জাতিক মর্যাদাও ছিল। তবে একই সময়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলায়, ওই আসরে কোনো দেশ তাদের মূল দল পাঠায়নি। তাই আসলে জাতীয় দলে ফেরার স্বাদ তখনও পাওয়া হয়নি সাইফের।
অবশেষে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে আবার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ২৬ বছর বয়সী অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। আর ফেরার ম্যাচটি তিনি রাঙালেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলে হজম করেন বাউন্ডারি। তবে ঘুরে দাঁড়াতে একদম সময় নেননি সাইফ। এক বলই তিনি ফিরিয়ে দেন স্কট এডওয়ার্ডসকে। ওভারের শেষ বলে তার শিকার তেজা নিদামানুরু।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ১ হাজার ৩৮০ দিন পর প্রথম উইকেটের স্বাদ পান সাইফ। এর আগে খেলা পাঁচ ম্যাচে কোনো উইকেট ছিল না তার। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও এক ওভার করলেও উইকেট পাননি তিনি।
চমৎকার বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও ঝড় তোলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। চার নম্বরে নেমে ১ চারের সঙ্গে ৩টি বিশাল ছক্কা মেরে খেলেন ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার টানা দুই ছক্কায়ই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।
এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কারে সাইফও ছিলেন সমান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ৪ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ। ম্যাচ সেরা না হলেও দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরে তৃপ্ত সাইফ।
ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেছেন, সামনে আরও ভালো পারফরম্যান্সের চেষ্টা থাকবে তার।
“অনেক দিন পর কামব্যাক হয়েছে। সুযোগটা পেয়েছি আল্লাহর রহমতে। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। কষ্ট করলে অবশ্যই ফল পাওয়া যায়। ইনশাআল্লাহ্ সামনে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।”
“ভালোর তো শেষ নেই। কেবল তো শুরু। মাত্র (দলে) আসা হলো। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। চেষ্টা করব আরও হার্ডওয়ার্ক করতে, প্রক্রিয়াটা ধরে রাখতে। ফল আপনাআপনিই চলে আসবে।”
সাইফকে স্কোয়াডে ফেরানোর সময়ই প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছিলেন, দলের প্রয়োজনের সময় ২-৩ ওভার বোলিং করতে পারবেন সাইফ। তাই মিডল অর্ডারের পাশাপাশি কার্যকর অফ স্পিনার হিসেবেও বিবেচিত হয়েছেন তিনি।
লিটন কুমার দাসও জানেন সাইফের বোলিং সামর্থ্য সম্পর্কে। তাই শিশিরের কারণে রিশাদ হোসেনের বোলিং করতে সমস্যা হওয়ায় দশম ওভারে সাইফকে আক্রমণে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে লিটন নিজেই জানান সেই কথা।
“রিশাদ যখন বোলিংয়ে এলো, ততক্ষণে মাঠে শিশির পড়ে গেছে। তখন আমার মনে হয়েছে যে বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছে রিশাদের। তাই আমি সাইফকে এনেছি যেখতে যে সে কেমন বোলিং করে।”
অধিনায়কের দেখতে চাওয়া দারুণভাবে কাজে লাগান সাইফ। রিশাদের চার ওভারের মধ্যে দুই ওভারে করে দেন তিনি। যেখানে ১৮ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট। তার মতে, বিপিএল ও জিএসএল খেলে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
“আমি তৈরি ছিলাম। গত দুই বছর বিপিএল খেলেছি, জিএসএল (গ্লোবাল সুপার লিগ) খেলেছি। সেখানে বোলিংটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এমনিতে বোলিং নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করেছি। তবে অবশ্যই ম্যাচের বোলিং তো আলাদা। আমার রোল পরিষ্কার ছিল। যখনই ব্যাটিং বা বোলিংয়ে আসা হবে, চেষ্টা থাকবে দলের জন্য অবদান রাখার।”
পরে সাইফ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন জয় হাতের নাগালেই ছিল বাংলাদেশের। ৬৫ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৫ রান। চার নম্বরে নেমে এর মধ্যে ৩৬ রান একাই করেন সাইফ। যেটি তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। আগের পাঁচ ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন মাত্র ৫২ রান।
বিধ্বংসী ব্যাটিং করার পথে অধিনায়কের সঙ্গে ২৬ বলে ৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন সাইফ। পরে ব্যাটিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিটনের কাছ থেকে সাহস পাওয়ার কথা জানান তিনি।
“লিটন ভাই অনেক সাপোর্ট করছিলেন। বলছিলেন সময় নিতে। শুরুর দিকে অবশ্যই অনেক নার্ভ কাজ করে। তখন লিটন ভাই সাপোর্ট দিচ্ছিলেন। বলছিলেন যে, এক-দুইটা বল খেললে বুঝতে পারব। তো এরকম সাপোর্ট পেলে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।”
পাকিস্তানের বড় পুঁজির জবাবে অল্পেই ৫ উইকেট হারাল সংযুক্ত আরব আমিরাত৷ তবে লড়াই চালিয়ে গেলেন আসিফ খান। একের পর এক ছক্কায় তিনি খেললেন ঝড়ো ইনিংস। তবে যথেষ্ট হলো না সেটি। অনায়াস জয় পেল পাকিস্তান।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩১ রানে হারায় সালমান আলি আগার দল।
সাইম আইয়ুবের পর হাসান নাওয়াজের ঝড়ো ফিফটিতে ২০৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে আসিফ একা তাণ্ডব চালালেও ১৭৬ রানের বেশি করতে পারেনি আমিরাত।
আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে খেলা এই ত্রিদেশীয় সিরিজে পরিষ্কার ফেবারিট পাকিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালের পথেও অনেকটা এগিয়ে গেল তারা।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে রানের গতি কমতে দেননি সাইম। একের পর এক বাউন্ডারিতে পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান করে পাকিস্তান।
দলকে একশ পার করিয়ে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ১২তম ওভারে আউট হন। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ৭ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কার মারে ৩৮ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর ঝড় তোলেন হাসান নাওয়াজ। মোহাম্মদ নাওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন হাসান নাওয়াজ। যেখানে মোহাম্মদ নাওয়াজের অবদান মাত্র ১৩ রান।
২ চারের সঙ্গে ৬ ছক্কার ঝড় তুলে ২৬ বলে ৫৬ রান করে আউট হন হাসান নাওয়াজ। আর মোহাম্মদ নাওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৫ রান।
পরে শেষের ব্যাটাররা মিলে দলকে দুইশ পার করান।
আরব আমিরাতের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন জুনাইদ সিদ্দিকি ও সাঘির খান।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকে একবারও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি আমিরাত।
ইনিংসের ১১ ওভারের মধ্যে মাত্র ৭৬ রানে নিজেদের অর্ধেক উইকেট হারিয়ে ফেলে আমিরাত৷ সেখান থেকে ঝড় তোলেন আসিফ।
ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হয়ে ফেরত যাওয়ার আগে ৬টি চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মারেন আসিফ৷ তার ৩৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংসের সৌজন্যে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় আমিরাত
এছাড়া অভিজ্ঞ ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম খেলেন ১৮ বলে ৩৩ রানের ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন হাসান আলি।
ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩৬ রানে শেষ ইনিংস। পরে বল করতে নেমে ১৩.৩ ওভারে হেরে গেছে নেদারল্যান্ডস। ফিল্ডিংয়েও চমৎকার কিছু ক্যাচ নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই প্রথম ম্যাচ হারের পর ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের সরল স্বীকারোক্তি, তিন বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
দাপুটে জয়েই তিন ম্যাচ সিরিজটি শুরু করেছে স্বাগতিকরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে তারা জিতেছে ৮ উইকেটে। মাঝারি ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে তাদের লেগেছে মাত্র ৮১ বল। ম্যাচ জিতে বের হওয়ার সময় অব্যবহৃত ছিল ৩৯টি ডেলিভারি।
বল হাতে নেদারল্যান্ডসের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। চমৎকার বোলিংয়ে মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। এছাড়া দীর্ঘ দিন পর টি-টোয়েন্টিতে ফিরে মূল্যবান ২টি উইকেট নিয়েছেন সাইফ হাসান।
আর রান তাড়ায় অধিনায়ক লিটন কুমার দাসই অগ্রণী ভূমিকায়। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি করে ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই।
আরও পড়ুন
দাপুটে জয়ে বড় প্রাপ্তি সাইফের প্রত্যাবর্তন |
![]() |
ব্যাটিংয়েও বড় অবদান রেখেছেন সাইফ। চার নম্বরে নেমে ১ চারের সঙ্গে ৩টি বিশাল ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি।
আর ফিল্ডিংয়ে দুর্বার ছিলেন জাকের আলি অনিক, তাওহিদ হৃদয়। ডিপ স্কয়ার লেগে তো বাজপাখির মতোই একটি ক্যাচ নিয়েছেন জাকের। সব মিলিয়ে তার হাতে জমা পড়ে তিনটি ক্যাচ। আর হৃদয় ধরে দুইটি ক্যাচ।
সব দিক মিলিয়েই বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের পর অসহায় আত্মসমর্পন ছাড়া আর পথ ছিল না নেদারল্যান্ডসের। ম্যাচ শেষে সেই কথাই যেন মেনে নিলেন দলটির অধিনায়ক স্কট এডওয়ারডস।
“অবশ্যই (সিরিজে আমাদের) আদর্শ শুরু হয়নি। আমি মনে করি ম্যাক্স ও'ডাউড শুরুতে ভালো ব্যাট করেছে/ তবে মাঝখানে আমরা কিছুটা গতি হারিয়ে ফেলি। কিন্তু হ্যাঁ, কৃতিত্ব দিতে হবে বাংলাদেশের বোলার আর ব্যাটারদের- তিন বিভাগেই ওরা আমাদের পরাস্ত করেছে।”
আরও পড়ুন
কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়ে তাসকিনের ‘গ্রেট ফিলিং’ |
![]() |
এসময় ব্যাটিংয়ে জুটি গড়তে না পারার আক্ষেপের কথা বলেন ডাচ দলপতি।
“অবশ্যই। যেমন বললাম, কৃতিত্ব বাংলাদেশেরই। ওরা আমাদের চাপে রেখেছে। যখনই আমরা কোনো পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করেছি, ওরা উইকেট নিয়েছে। তাই আমরা আসলে কখনোই পুরোপুরি ছন্দে উঠতে পারিনি। আর হ্যাঁ, ১৩০ রান কখনোই এখানে যথেষ্ট ছিল না।”
এক দিন বিরতি দিয়ে সোমবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। এডওয়ার্ডসের বিশ্বাস ওই ম্যাচ দিয়েই সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তারা।
“হ্যাঁ, অবশ্যই (ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস আছে)। কিছু জিনিস আছে যা (হোটেলে) ফিরে গিয়ে আমাদের দেখা লাগবে। তবে হ্যাঁ, যেমনটা বললেন, এটা তিন ম্যাচের সিরিজ। আমাদের পরের ম্যাচে আরও ভালোভাবে ফিরতে হবে।”
এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার সুযোগ পেয়েছে লিটনরা। প্রত্যাশিত জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ এ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতে সিরিজ শুরু। সিলেটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৩৭ রান তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখে জয়কে বাহাবা দিতে হবে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে সব রসদেরই যোগান দিয়েছে বিসিবি। পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডকে উড়িয়ে আনাটা যে ছিল অপরিহার্য। তার শেখানো বড় শটের টেকনিক কতোটা রপ্ত করতে পেরেছে ব্যাটাররা-সেটাই ছিল কৌতুহল।
লিটন-সাইফের ব্যাটিং পাওয়ার হিটিং কোচের তত্ব প্রয়োগেরই বার্তা দিয়েছে। লিটন ১৮৬.২০ স্ট্রাইক রেটে ২৯ বলে ৬ চার, ১ ছক্কায় ৫৪ রানের হার না মানা ইনিংসে এবং সাইফ ১৮৯.৪৭ স্ট্রাইক রেটে ১ চার, ৩ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়ে তাসকিনের ‘গ্রেট ফিলিং’ |
![]() |
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা ছিল না প্রত্যাশিত। প্রথম তিন ওভারে উইকেটহীন ২৫ রানে শঙ্কার আলামত ছিল। তবে শরিফুল (১-০-১৩-১) ও শেখ মেহেদি হাসানের (২-০-১২-০) প্রথম স্পেল থামিয়ে দিয়ে তাসকিনকে এনেই সাফল্যের মুখ দেখেছেন লিটন। তাসকিনের ১ ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১ রান খরচায় ডাচ ওপেনার গুড লেন্থ ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিলে সফরকারীদের রানের গতি যায় থেমে।
এই তাসকিন তিন স্পেল মিলিয়ে ২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট পেয়েছেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেটের ইনিংসে ডট দিয়েছেন ১৩টি। যে ৪টি উইকেটের মধ্যে ডেথ ওভারে দুটি স্লোয়ার ডেলিভারিতে।
যে ছেলেটির ২ বছর আগে থেমে গেছে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, সেই সাইফকে ফিরিয়ে আনা ছিল নির্বাচকদের বড় একটা জুয়া। সম্প্রতি গায়ানায় গ্লোবাল সুপার লিগ টি-টোয়েন্টিতে রংপুর রাইডার্সের হয়ে আদর্শ অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরা সাইফ হাসান এ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়েও করেছেন পারফর্ম।
মিডল অর্ডারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বোলিংয়েও কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারেন সাইফ হাসান, তা জানিয়ে দিয়েছেন শনিবার। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ ম্যাচে উইকেটহীন সাইফ ২ বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দেখেছেন উইকেটের মুখ (২-০-১৮-২)।
তার প্রথম ওভারের ৪র্থ বলটি ছিল ফ্লাইটেড ডেলিভারি, সেই ডেলিভারিতে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়েছেন স্কট এডওয়ার্ডস। ষষ্ঠ বলে নিদামানুরুকে হৃদয় যে রানিং ক্যাচটি নিয়েছেন, তা হাততালি পাবার দাবি রাখে। এই ম্যাচে মোস্তাফিজের ইকোনমি বোলিং (৪-০-১৯-১)ও ছিল প্রশংসিত।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে নেদারল্যান্ডকে ৩৪/১ এ আটকে রাখা, শেষ পাওয়ার প্লে-তে ৩৮-এর বেশি নিতে না দেওয়া-পরিকল্পিত বোলিংয়েরই সুফল। ১২০টি ডেলিভারির মধ্যে ৫২টি ডট দিয়ে প্রতিপক্ষকে গর্জে ওঠার সুযোগ দেয়নি এদিন বাংলাদেশ বোলাররা।
এশিয়া কাপের আদর্শ প্রস্তুতির জন্য ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫৭/১ স্কোরে বড় ব্যবধানে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে বাংলাদেশের শুরু |
![]() |
ইনিংসের প্রথম তিন বলে পারভেজ হোসেন ইমন কী চড়াও-ই না হয়েছিলেন আরিয়ান দত্তের উপর। ৪, ৪, ৬-এই তিনটি শটের পর নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন ইমন। সেই আরিয়ান দত্তের পরের ওভারে অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে ফ্রন্ট ফুট ফাঁকা রেখে ক্রস খেলতে যেযে বোল্ড আউট হয়ে টেকনিকের ঘাটতি উন্মোচন করেছেন ইমন (৯ বলে ১৫)। তানজিদ তামিম ফিনিশার হতে পারেননি। লিটনের সাথে ৩৯ বলে ৬৬ রানের পার্টনারশিপে অবদান রাখা তানজিদ হাসান তামিম প্রিঙ্গেলকে ফুল টসে পুল করতে যেয়ে লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (২৪ বলে ২৯)।
৪ ইনিংস পর ফিফটি উদযাপন করেছেন লিটন ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে (২৬ বলে ৬ চার, ২ ছক্কায়)। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সাইফ হাসানের অল রাউন্ড পারফর্ম (২/১৮ ও ১৯বলে ৩৬*)।
মাসে ৭ হাজার ডলার বেতনে অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর টনি হেমিংকে এনেছে বিসিবি সারাদেশে স্পোর্টিং উইকেট নিশ্চিত করতে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিন্তু সিলেটের পিচকে সেই বৈশিষ্ট্যে দেখা যায়নি। বল পড়ে লো করেছে। পেস কমিয়ে পেসাররা পেয়েছেন সাফল্য। স্পিনাররাও পেয়েছেন ফেভার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপের আদর্শ অনুশীলনের জন্য যে যথার্থ মনে হয়নি সিলেটের পিচকে।
চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই উইকেট নিলেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারেও প্রথম বলেই সাফল্য পেলেন অভিজ্ঞ পেসার। নিজের বাকি দুই ওভারেও একটি করে শিকার ধরে নেদারল্যান্ডসকে বেশি দূর যেতে দিলেন না তিনি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছন্দময় পথচলায় ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কারও তাই উঠল তাসকিনের হাতে। আর এমন পারফরম্যান্সের পর চওড়া হাসিতে ৩০ বছর বয়সী পেসার বললেন, পরিশ্রমের ফল পেয়ে গ্রেট ফিলিং হচ্ছে তার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। লিটন কুমার দাস ও সাইফ হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৯ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে ব্যাটারদের জন্য ম্যাচটি সাজিয়ে দেন মূলত বোলাররা। বিশেষ করে তাসকিন। ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন ৩০ বছর বয়সী পেসার। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে ৩ বা এর বেশি উইকেট পেলেন তিনি।
আরও পড়ুন
২৬ বলে ফিফটি করে সাকিবের পাশে লিটন |
![]() |
আর সব মিলিয়ে সবশেষ ৬ ম্যাচে তাসকিনের শিকার ১৫ উইকেট। এমন দুর্দান্ত পথচলায় ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সেই পুরস্কার গ্রহণ করে জানিয়েছেন নিজের তাৎক্ষণিক অনুভূতির কথা।
“এমন ম্যাচ কাটানো সবসময়ই গ্রেট ফিলিং। বিশেষ করে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই যদি এমন হয়। এছাড়া চোটে পড়ার পর আমি রিদম ফিরে পেতে সমস্যা হচ্ছিল। দিনে দিনে এটি ভালো হচ্ছে এখন। এটি নিয়ে কাজ করছি। প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।”
“গত কয়েক সপ্তাহ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আর কঠোর পরিশ্রম নিশ্চিতভাবেই একসময় ফল বয়ে আনবে। সেটিই এখন পেলাম।”
আরও পড়ুন
লিটনের উত্তাল ব্যাটে বাংলাদেশের ঝড়ো সূচনা |
![]() |
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় ম্যাচ। এর কিছুক্ষণ পর থেকে মাঠে দেখা যায় শিশিরের উপদ্রব। স্পিনারদের জন্য বল ধরাই ছিল বেশ কঠিন। পেসারদের জন্যও সহজ ছিল না কাজ। এর মাঝেও দারুণ বোলিংয়ের রহস্য জানান তাসকিন।
“উইকেট খুব ভালো ব্যাটিংয়ের জন্য। মাঠে শিশিরেরও প্রভাব ছিল। এসব মাথায় রেখে আমি নিজের প্রক্রিয়া ঠিক রেখেছি। এর সঙ্গে কিছু বৈচিত্র কাজে লাগিয়েছি।”
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৮ দিন আগে
৮ দিন আগে
১০ দিন আগে
১০ দিন আগে
১০ দিন আগে
১১ দিন আগে
১১ দিন আগে