২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬:৩২ পিএম

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আসছে আসরের দুই দিনের দলবদলের প্রথম দিনে সবচেয়ে বড় চমকটা উপহার দিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। নানা বাস্তবতায় জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানকে নিবন্ধন করেছে ক্লাবটি। তারকা এই অলরাউন্ডার ডিপিএলে খেলবেন এবং সেটা বোলিং অ্যাকশন ঠিক করেই, এমনটাই বিশ্বাস রূপগঞ্জের কর্ণধার লুৎফর রহমান বাদলের।
মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) কার্যালয়ে শনিবার সাকিবকে স্কোয়াডে যুক্ত করে রূপগঞ্জ। তবে বাংলাদেশে এসে বিদায়ী টেস্ট ও বিপিএল খেলতে পারেননি সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে কয়েকটি মামলাও। এছাড়া এই মূহুর্তে বোলিং অ্যাকশনও রয়েছে নিষিদ্ধ।
তবে শনিবার রূপগঞ্জের কর্ণধার বাদল জানান, ডিপিএল খেলতে দেশে ফিরবেন সাকিব। “আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল করছি। দলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সাকিব আল হাসান। আমার সঙ্গে ওর কথা হয়েছে, আমেরিকাতে ছিল। ঘরের ছেলে ঘরে আসছে, এটাই সবচেয়ে বড় খবর।”
আরও পড়ুন
| ডিপিএলে খেলবেন সাকিব? |
|
গত বছর রুপগঞ্জের হয়েই খেলেছিলেন সাকিব। তবে এই বছর তিনি আছেন ভিন্ন বাস্তবতায়। গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের পতন সাবেক সরকারের একজন এমপি ছিলেন তিনি৷ সরকারের বিদায়ের পর তার নামে হত্যা ও চেক জালিয়াতির মামলা হয়েছে। ওই ঘটনার পর আর বাংলাদেশে খেলতে আসেননি সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
তবে রূপগঞ্জের আশা, সাকিব এবার ঠিকই দেশে ফিরবেন। “অবশ্যই আমরা আশাবাদী। সেজন্যই তো তাকে দলে নেওয়া। না হলে আমরা নেব কেন, যদি সে না খেলতে পারে। আর একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আমরা রাজনীতিবিদ সাকিবকে দলে নেইনি, খেলোয়াড় সাকিবকে নিয়েছি। সাকিব তো আমাদের দেশের সম্পদ। আমরা চাই না সে অচিরেই ঝড়ে যাক।”
দেশে এসে খেলার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সাকিব বোলিং অ্যাকশন নিয়েও আছেন সংশয়ে। গত সেপ্টেম্বরে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তার। দুই দফায় পরীক্ষা দিয়েও পারেননি উত্তীর্ণ হতে। ফলে সব ধরনের ক্রিকেটে বোলিংয়ে নিষিদ্ধ তিনি। যদিও বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিংয়েই সমস্যা নেই এতে।
No posts available.
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৫৪ পিএম

দুবাইয়ের এক হোটেলের রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটছিলেন উসমান তারিক। পেঁয়াজের তেজস্ক্রিয়ায় চোখে পানি। লম্বা সময় বসে কাটতে হয়, পিঠেও জমেছে ব্যথা—এটাই ছিল তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। শ্রমিকদের ছোট আবাসনে রাত পার, আর ভবিষ্যত ছিল অনিশ্চয়তা। সেই সময় হয়তো কল্পনা করতে পারননি একদিন এই কিচেন থেকে পৌঁছে যাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে।
ক্যামেরন গ্রিন যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যঙ্গ করে তাঁর বোলিং অ্যাকশন দেখাল, উসমান হয়তো ভাবল— ‘আবার কি শুরু!’ এক মাস আগে ইংল্যান্ডের ব্যাটার টম ব্যানটনও একই অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু মাঠের এই বিতর্ক তাঁকে বিচলিত করতে পারে না। কারণ জীবন তাঁকে ইতিমধ্যেই শিখিয়েছে— সে গ্ল্যাডিয়েটরের মতো, কঠিন সময় ও কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় লড়াই করে।
পেশোয়ারে বেড়ে ওঠা উসমান ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন সংগ্রামের মুখ। বাবার মৃত্যু এবং আর্থিক সংকট তাঁকে ছোটবেলা থেকেই বড় ঝুঁকি নিতে শিখিয়েছে। কাজের খোঁজে তিনি আফগানিস্তানের কাবুল পর্যন্ত যান। দ্য ন্যাশনালকে উসমানের জীবন সংগ্রামের কথা বলছিলেন ছোটবেলার বন্ধু হাসিব উর রহমান, ‘তুষার পড়ছিল, মেঝেতে বরফ জমেছিল, আর সে চাকরি খুঁজছিল, বিভিন্ন কোম্পানি ঘুরছিল।’
উসমান সহায়তা চেয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতি তত সহজ ছিল না। হাসিব বলেন, ‘আমি আমার বসকে বলেছিলাম ওর জন্য কোনো জায়গা বের করতে, কিন্তু তিনি রাজি হননি। বললাম, আমি যে বেতন পাচ্ছি তার একটি অংশ ওর জন্য দিতে পারেন, অন্তত ওর মন শান্ত হবে। কিন্তু সেটাও কাজ হয়নি।’
পাকিস্তানে ফিরে আসেন উসমান, কিন্তু পরে আবার দুবাই পাড়ি দেয়। সোনাপুরের শ্রমিক আবাসনে হোটেলের রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটার দিনগুলো চলতে থাকে। হাসিব বলেন, ‘পেঁয়াজ কাটা সহজ নয়; চোখে পানি চলে আসে, পিঠেও ব্যথা শুরু হয়।’
পরের চাকরি আসে গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থার ক্রয় বিভাগে। জীবিকা চলছিল, কিন্তু ক্রিকেটের আগ্রহ এখনও নিভে যায়নি। দুবাইয়ের দেইরার রাস্তার ছোট খেলার মাঠে হায়াত রিজেন্সির পাশে উসমান আবার ব্যাট-বল হাতে খেলতে শুরু করেন। তখনই ফাস্ট বোলিং ছেড়ে স্পিনে আসা। লম্বা গড়নের এই স্পিনার, যাঁকে কেউ আগে চিনতেন না, ধীরে ধীরে নিজের আবিস্কৃত বিরল অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য জুজু হয়ে ওঠে।
পিএসএলের ট্যালেন্ট হান্টে অংশ নেয়ার সুযোগ আসে উসমানের। প্রথম ছয় বলেই নির্বাচকদের নজর কাড়েন। কিন্তু চাকরির দায়ে তিনি যেতে পারেন না। তখন মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে, উদ্যম নিয়ে দুবাইয়ে চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানে ফিরে আসেন, পুরোপুরি ক্রিকেটের জন্য।
হাসিব মনে করিয়ে দেন, ‘যখন সে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে যাচ্ছিল, আমি বলেছিলাম, আমি জানি না তুমি কভাবে বাঁচবে, কারণ তুমি যে চাকরি পেয়েছ সেটা সেরা সুযোগ। কিন্তু সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল—না, আমি আর পিছনে তাকাব না। চেষ্টা করব এবং আরও কঠোর পরিশ্রম করব। আমি অবশ্যই সফল হব।’
দেশে ফিরে দিন-রাত অনুশীলন করেন উসমান। কঠোর পরিশ্রমই বদলে দিয়েছে ভাগ্য। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাফল্যের পর পাকিস্তান দলে সুযোগ পান তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচেই হ্যাটট্রিক। গত বছরে নভেম্বরে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন। তারপর তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন।
আইএলটি-টোয়েন্টির ফাইনালে ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বন্ধু হাসিব, যিনি এখন দুবাইয়ের একটি ফাইন্যান্স কোম্পানিতে হেড অফ কমপ্লায়েন্স, মাঠে বসে সব দেখেছেন। তিনি বললেন, ‘সে সবসময় পরিবারের জন্য কিছু করতে চেয়েছে। ক্রিকেট ছিল তার শেষ সুযোগ, শেষ চেষ্টা। আর সে সেটা করেছে।’
দুবাইয়ের রান্নাঘরের ছোট কিচেন থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছেছে। জীবন তাঁকে শিখিয়েছে লড়াই করতে, আর উসমান সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প এবং আবেগ—এই তিনটি তাঁকে আজ পাকিস্তানের বড় ভরসার জায়গায় নিয়ে এসেছে।

ক্রিকেট ব্যাট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। আগে যেসব ব্যাটকে ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করা হতো, এবার সেগুলোকেও নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থাটি।
ইংলিশ উইলোর (কাঠ) দাম বেড়ে যাওয়ায় অপেশাদার ও বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যাট কেনা দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। খেলাটিকে সবার জন্য আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।
এমসিসি ঘোষণা দিয়েছে, ক্রিকেট আইনের নতুন সংস্করণে মোট ৭৩টি পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা কার্যকর হবে আগামী চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে।
এবার ওপেন এজ ক্রিকেটেও ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট। আইন ৫.৮–এর অধীনে ‘ব্যাটের ধরন’ সংক্রান্ত সংশোধনে এমসিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ওপেন এজ বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট, যেগুলোকে বলা হয় টাইপ ডি ব্যাট।
এই ব্যাট সর্বোচ্চ তিনটি কাঠের অংশ দিয়ে তৈরি হতে পারে। এর আগে টাইপ ডি ব্যাট শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল। কিন্তু ব্যাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার বড়দের ক্রিকেটেও এটি বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ল্যামিনেশনের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাটের সামনে থাকে ইংলিশ উইলো, আর পেছনে যুক্ত করা হয় তুলনামূলক সস্তা ও কম মানের কাঠ, যেমন কাশ্মীরি উইলো।
টাইপ এ, বি ও সি ব্যাট এক টুকরো উইলো কাঠ দিয়ে তৈরি হয় এবং পেশাদার ক্রিকেটে এগুলোই বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উইলোর বাইরে অন্য কাঠও ব্যবহার করা যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাটের মুখের পেছনের অংশে উইলোর পরিবর্তে অন্য কাঠ ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হবে।
এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,‘টাইপ ডি ব্যাটের পারফরম্যান্স সুবিধা খুবই সামান্য। নিচের স্তরের ক্রিকেটকে সাশ্রয়ী করতে যদি আমরা কিছু করতে পারি, অথচ খেলাটির স্বাভাবিক গতি ও ভারসাম্য নষ্ট না হয়, তাহলে সেটি যুক্তিসংগত পদক্ষেপ।’
এমসিসির মতে, ইংলিশ উইলোর প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটের দাম দ্রুত বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে ব্যাটের দাম নাকি প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক শীর্ষ মানের ব্যাটের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১ হাজার পাউন্ডে।
স্টুয়ার্ট বলেন, ‘পর্যাপ্ত উইলো আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই টেকসইভাবে যতটা সম্ভব গাছের কাঠ ব্যবহার করতে হবে।’
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এমসিসি বিকল্প উপকরণ দিয়েও ব্যাট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে খেলাটির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আগে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, উইলোর বদলে বাঁশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
গ্রাফাইট-ব্যাকড ব্যাটও একসময় আলোচনায় ছিল, যদিও তা ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল। নতুন সংস্করণে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকছে। যেমন—বহুদিবসীয় ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভার শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে ধরা ক্যাচের ক্ষেত্রে ‘বানি হপ’ কৌশল সীমিত করা হয়েছে।
উইকেটকিপারের গ্লাভস বল ছাড়ার আগে স্টাম্পের সামনে থাকলেও, বল ছাড়ার সময় অবশ্যই পেছনে থাকতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ট রান করলে ফিল্ডিং দল শাস্তিস্বরূপ পরবর্তী ব্যাটার নির্ধারণ করতে পারবে।
এ ছাড়া ক্রিকেট আইনের ভাষা আরও সহজ করা এবং লিঙ্গভিত্তিক শব্দ বাদ দেওয়ার কাজও সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে পিসিবিকে সরে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার কামরান আকমাল। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অবস্থান নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তানও একই ধরনের অবস্থান নেয়। তারপর আইসিসি পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়।
তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে বয়কটের বিষয়ে কোনো লিখিত বার্তা দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে কামরান বলেছেন, পিসিবির উচিত শক্ত অবস্থানে থাকা। ইউটিউব চ্যানেল গেম প্ল্যানে বলেন, ‘পিসিবির পিছু হটা উচিত নয়। আইসিসি বলছে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। কিন্তু এশিয়া কাপ যখন হাইব্রিড মডেলে হলো, তখন কি আইসিসি ঘুমাচ্ছিল? যখন ভারত বলেছিল পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলবে না, শুধু নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে—তখন কি আইসিসি ঘুমাচ্ছিল?’
আকমাল আরও প্রশ্ন তুলেছেন, উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তান অতীতে একাধিকবার ভারতে গিয়ে খেলেছে, ‘কতবার পাকিস্তান দল ভারতে খেলতে গেছে। আমি নিজেও গিয়েছি। আইসিসির এসব বিষয় তিন বছর আগেই ভাবা উচিত ছিল।’
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না হওয়াকেও রাজনৈতিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আকমাল,‘দুই দেশ বহু বছর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে না। সেটাও কি রাজনীতি নয়? তখন কি আইসিসির মনে হয়নি রাজনীতি বন্ধ করা দরকার?’
এশিয়া কাপে ভারতীয় দলের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আকমল। তাঁর দাবি, ‘এশিয়া কাপে তারা আমাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে চায়নি, এমনকি ট্রফিও গ্রহণ করেনি। তারা আমাদের অসম্মান করেছে।’
পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ পায়নি।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি পিসিবির আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সূচি অনুযায়ী সব দলকে সমান শর্তে অংশ নিতে হয়। নির্বাচিতভাবে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইসিসি আরও আশা প্রকাশ করেছে, পিসিবি যেন দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করে।

ব্যাট হাতে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেতে সময় লাগল না সোবহানা মোস্তারি, নিগার সুলতানা জ্যোতি, দিলারা আক্তার দোলাদের। বোলিংয়েও ভালো করে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেলেন মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তাররা।
মেয়েদের ক্রিকেটের র্যাঙ্কিংয়ের সবশেষ হালনাগাদ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে আইসিসি। সবচেয়ে বড় লাফটা দিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মারুফা আক্তার। র্যাঙ্কিংয়ে বাইরে থেকে ২০৬ ধাপ লাফিয়ে সেরা একশতে প্রবেশ করেছেন তরুণ পেসার।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে ৫ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন মারুফা। এক লাফে ২০৬ ধাপ এগিয়ে ৩৬৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯২ নম্বরে অবস্থান করছেন ২১ বছর বয়সী পেসার।
টুর্নামেন্টে ১৫৪ রান করে তিন ধাপ এগিয়েছেন জ্যোতি। বর্তমানে তার অবস্থান ১৯তম। বাছাইয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬২ রান করা সোবহানা মোস্তারি ১৬ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬ নম্বরে উঠেছেন। আর পাঁচ ধাপ লাফিয়ে ৬৫ নম্বরে আছেন দিলারা।
বাছাইপর্বে ১৯৫ রান করলেও বড় ধাক্কাই খেয়েছেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। ১৩ ধাপ পিছিয়ে ৪৮ নম্বরে নেমে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
বোলারদের মধ্যে মারুফা ছাড়াও এগিয়েছেন নাহিদা। ৮ ধাপ এগিয়ে ২৮ নম্বরে উঠেছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। এছাড়া তরুণ অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার ৪৩ ধাপ লাফিয়ে ৭৪ নম্বরে উঠেছেন।

মাঠের সময়টা ভালো যাচ্ছে না মোহাম্মদ রিজওয়ানের। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা হয়নি; দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে হলেন ব্যর্থ। প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে সুই নর্দানের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২ রান করে আউট হন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে সুই নর্দান গুটিয়ে যায় ১৮২ রানে। রিজওয়ান ব্যাট করতে নামেন ৫০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর। চতুর্থ উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়ে ইনিংস কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন তিনি। ৪১ বল খেলে ২২ রান করে বাঁহাতি স্পিনার দানিশ আজিজের বলে আউট হন রিজওয়ান।
এই ইনিংসের মাধ্যমে ছয় বছর পর পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরলেন রিজওয়ান। সর্বশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবরে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে খাইবার পাখতুনখোয়ার হয়ে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১২৮ রান করেছিলেন রিজওয়ান। ওই পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই তিন বছর পর টেস্ট দলে ডাক পান।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন রিজওয়ান। বিশ্বকাপের দলে ফিরতে দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে অসাধারণ কিছু করে দেখানোর। তবে সেখানেও কিছু করতে পারেননি। মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে ১০ ম্যাচে মাত্র ১৮৭ রান করেন রিজওয়ান, স্ট্রাইক রেট ছিল হতাশাজনক ১০২.৭৪। সর্বোচ্চ ইনিংস ৪১ রান।