
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবশেষ কুড়ি কুড়ি ফরম্যাটে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে ৮ উইকেটে জয় পায় আফগানিস্তান। সার্বিক দিক থেকেও লিটন দাসদের চেয়ে এগিয়ে রশিদ খানরা। ক্রিকেটের স্বল্প ওভারের খেলায় ১২ বারের দেখায় ৭বার জয় আনন্দ উপভোগ করেছে আফগানরা। আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় জয় কঠিন হলে আত্মবিশ্বাস মুশতাক।
তিনি বলেন,
‘‘আফগানদের বিপক্ষে জয় তোলা কঠিন। রশিদদের মতো স্পিনাররা ১৫–২০ বছর ধরে খেলছে, অভিজ্ঞতায় তারা এগিয়ে। তার মানে এই নয় আমরা পিছিয়ে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের স্পিনাররাই মাঝের ওভারে বেশি ম্যাচ জিতিয়েছে এবং আমাদের ইকোনমি রেটে সেরা এক বা দুইয়ের মধ্যে। আমাদের শক্তি মাঝের ওভারের স্পিন আক্রমণ, সেটিই কাজে লাগাতে হবে।’’
আরও পড়ুন
| রিশাদের ‘বাজে ফর্ম’ নিয়ে মুশতাকের ব্যাখ্যা |
|
এসময় আফগানদের বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজিতে খেলার ব্যাপারটিও সামনে আনলেন মুশতাক। ফ্রাঞ্চাইজিতে খেলার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ আফগানরা। মুশতাক বলেন,
‘‘একটা জিনিস মনে রাখবেন, আপনি চাইলে বিছানা কিনতে পারবেন কিন্তু ঘুম কিনতে পারবেন না। ঠিক সেভাবে আপনি চাইলেও অভিজ্ঞতা কিনতে পারবেন না। অভিজ্ঞতা আসে খেলার মাধ্যমে। তারা অনেক লিগ খেলে বলে এগিয়ে। তবে বাংলাদেশও কম ভালো করছে না। কিন্তু আইসিসি বা এসিসি টুর্নামেন্টে আরও উন্নতি করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।’’
No posts available.
১৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম
১৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৩০ পিএম

বাংলাদেশের ইনিংসের ৫.৪তম ওভারে ঘটেছে বড় ধরণের ইনজুরির ঘটনা। পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমকে লিটন দাস কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরেছেন। ওই বাউন্ডারি বাঁচাতে যেয়ে বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েছেন ফিল্ডার হুসেইন তালাত। বাউন্ডারি রোপ পেরিয়ে ভিআইপি গ্যালারির দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খান তিনি। বিসিবির মিডিয়া রিলিজ বলছে, আঘাতটা লেগেছে তার সোলডারে, তাই সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন পড়েছে। তাই অ্যাম্বুলেস যোগে সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
কেনো এমন হলো ? এটাই প্রশ্ন।
এরশাদ সরকারের আমলে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ফুটবল এবং অ্যাথলেটিক্স খেলার কথা মাথায় রেখে। ১৯৮৮ সালে ফুটবল দিয়ে অভিষেক হওয়া এই স্টেডিয়ামটিতে ১৯৯৩ সালে সাফ গেমসকে সামনে রেখে বসেছে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক। সে কারণে ২০০৫ সালে আয়তকার এই স্টেডিয়ামটিকে ক্রিকেট ভেন্যুতে রূপান্তরে বিসিবিকে পড়তে হয়েছে সমস্যায়। পূর্ব গ্যালারি এবং পশ্চিম প্রান্তের ভিআইপি গ্যালারির ফেন্সিং ভেঙ্গে স্কোয়ার লেগ, এবং কভার পজিশনে মাঠের আয়তন আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী বানাতে হয়েছে। মূল স্টেডিয়ামের কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন এনে এই দুই পজিশনে গ্যালারির দুটি ধাপও ভেঙ্গে ফেলতে হয়েছে। তারপরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য ব্যবহৃত ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর পিচ থেকে বাউন্ডারি রোপের দূরত্ব দেশের অন্যসব ক্রিকেট ভেন্যুর তুলনায় ছোট।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের কিউটের বদিউল আলম খোকন অবশ্য বলেছেন আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী বাউন্ডারি রোপ থেকে দেয়ালের দূরত্ব রাখা হয়েছে-
‘ আইসিসির শর্ত অনুযায়ী বাউন্ডারি রোপ থেকে গ্যালারির দেয়ালের দূরত্ব ১০ ফুট থাকতে হবে। সেই হিসাব করে এই ম্যাচে সেন্টার উইকেট থেকে কভার পজিশনে মাঠের দূরত্ব ৬৮ মিটার রেখে বাউন্ডারি রোপ থেকে ফেন্সিংয়ের দূরত্ব ২.৭৪ মিটার রাখা হয়েছে।’
আইসিসির শর্ত অনুযায়ী সেন্টার উইকেট থেকে কভার-স্কোয়ার লেগে বাউন্ডারির দূরত্ব ৬০ মিটার রাখলেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেখানে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মাঠের আয়তন সেখানে লং অন-লং অফে ৭০ মিটার, পূর্ব দিকে স্কয়ার লেগ-কভার পজিশনে ৬৪ মিটার, পশ্চিম প্রান্তে কভার-স্কোয়ার লেগে সেখানে ৬৮ মিটার। অর্থাৎ যে পজিশনে তালাত ইনজুরিতে পড়েছেন, সেই পজিশনে মাঠ ৮ মিটার ছোট করলেও আইসিসির আপত্তি থাকতো না। আর যদি মাঠের এই পজিশনের আকার ছোট না করা যায়, তাহলে দুই টিমের দুই ড্রেসিং রুমের পাশে থাকা ফেন্সিং ওয়াল ভেঙ্গে ফেলাটাই উত্তম। তা না হলে ভবিষ্যতে হুসেইন তালাতের মতো ইনজুরিতে পড়তে পারেন আরও কেউ কেউ।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দলটিকে ১১৪ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেছে ২৭৪/১০! শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া পিচে এই স্কোর প্রত্যাশিতই। ৪৮ ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হওয়া পাকিস্তান কীভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে এতোটা ঘুরে দাঁড়ালো ? এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ওপেনিং ব্যাটার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪), সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেট জুটির ৭৮ বলে ১০৩, ৪র্থ উইকেট জুটির ১১৫ বলে ১১৯ রান বড় পুঁজির সহায়ক হয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৮৩/০, ওভারপ্রতি রান ৮.৩০। তাসকিন এবং নাহিদ রানার অমিতব্যয়ী প্রথম স্পেলের কারনেই শুরুতে ছিল বাংলাদেশের ছন্দহীন। ২ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটহী তাসকিনের খরচা ২০, নাহিদ রানা সেখানে উইকেটহীন ৩ ওভারে খরচা করেছে ৩২।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের ছড়াছড়িতে পাকিস্তান ব্যাটারদের আঁতকে দিয়েছেন দীর্ঘদেহী তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে নামতা গুনে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে শিকার করেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতির বোলার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রূপে দেখা যায়নি নাহিদ রানাকে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলটি তার খরুচে (৩-০-৩২-০)। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
যেভাবে পাকিস্তান ইনিংস শুরু করেছে, তাতে তিনশ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস কিন্তু ছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রানের গতিটা সেই কক্ষপথেই ছিল। তবে রিশাদের শেষ স্পেলের (১.৩-০-৫-২) সঙ্গে মোস্তাফিজের শেষ স্পেলে (২-০-৮-১) পাকিস্তানকে ২৭৪-এ থামিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছড়িয়েছে আতঙ্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১),নাহিদ রানা (১০-০-৫৯-১), মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। ব্যতিক্রম ছিলেন অফ স্পিনার মিরাজ (১০-২-৩৪-২) এবং লেগ স্পিনার রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল মাজ সাদাকাতের ওডিআই অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের সেই অভিষেক ইনিংসের অতৃপ্তি ঘোঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে টি-২০ আমেজে ব্যাটিং করেছেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাত তাসকিনের এক ওভারে মেরেছেন ২টি ছক্কা। যার মধ্যে একটি নো বলে পুল শটে ছক্কা! নাহিদ রানার প্রথম ওভারে লং অনের উপর দিয়ে তার ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার।
৩১ বলে অভিষেক ফিফটি উদযাপন করেছেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৮৫/০, তখন মাজ সাদাকাতের ৬৩। মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে যেয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ, ততোক্ষণ ৪৬ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন তিনি ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে।
৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৪র্থ উইকেট জুটিতে রিজওয়ানের সাথে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া সালমান আগা-কে কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজকে টাইমড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের যে দৃষ্টান্তটি এখনো শ্রীলঙ্কা সমর্থকদের চোখে গেম অব স্পিরিটের পরিপন্থি, সেই ছবিটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরাজ। ৩৯তম ওভারের ৪র্থ বলে মিরাজকে পাঞ্চ করেছিলেন রিজওয়ান। সেই বলটি ফলো থ্রুতে ধরতে যখন চেষ্টা করেছেন বোলার মিরাজ, তখন পপিন ক্রিজের বাইরে এসে বলটি নন স্ট্রাইক এন্ডের ব্যাটার সালমান আগা মিরাজের ফিল্ডিংয়ে বাধা তৈরি করতে অপচেষ্টা করেছেন। প্রথম ব্যাট দিয়ে বলটি থামাতে চেয়েছেন, পরে মিরাজের সঙ্গে বলটি ধরতে দিয়েছেন পাল্লা। কিন্তু তার সব অপচেষ্টা হয়েছে বিফল। বলটি ডেড হওয়ার আগে মিরাজ অন্ডার আর্ম থ্রো-তে রান আউটে হতভম্ব করেছেন সালমান আগাকে (৬২ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৬৪)। টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনাও এটিকে বৈধ রান আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।তবে এই আউট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সালমান আগা। মিরাজের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে তাকে, লিটনকে উদ্দেশ্য করেও কিছু একটা বলতে দেখা গেছে সালমান আগাকে। মিরাজও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নিজের ভুলে আউট হয়েও ক্রোধ প্রকাশ করতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপের সামনে ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেছেন!
২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। তাহলে কী প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প পাকিস্তানের ? এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ( রাত ৮টা ১৫ মিনিট) খেলা পুনরায় শুরু হয়নি। ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভে গেছে।

বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দারুণ শুরু করে পাকিস্তান। এরমধ্যে ষষ্ঠ ওভারে বাধে বিপত্তি। লিটন দাসের চার থামাতে গিয়ে কাঁধে চোট পান পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হুসাইন তালাত। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তালাতের চোট নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। মাঠেই দলের মেডিকেল স্টাফ তাকে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। প্রাথমিক মূল্যায়নের পর, তাকে বিস্তারিত পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর পরের ওভারেই বৃষ্টি আর বজ্রপাতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ৬.৩ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ২৭ রান করেছে বাংলাদেশ।
ঘটনা বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের। অফ-স্টাম্পের একটু বাইরে গুড লেন্থের মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিটি লিটন দারুণভাবে অফ-সাইডে পাঞ্চ করলেন। কাভার থেকে সেটা চার হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য ছোটেন পাকিস্তানি ফিল্ডার হুসাইন তালাত। ছুটে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের কাছ থেকে ফ্লিট করে বলটি ভেতরে টেনে পাঠান, তবে শেষ পর্যন্ত সেটা চার হয়ে যায়। বরং তালাত নিজে গুরুতর আহত হন।
বল মাঠের ভিতরে পাঠানোর পর নিজেকে সামলাতে পারেননি তালাত। বাউন্ডারি লাইনের কাছে থাকা গ্যালারির দেওয়ালে আঘাত লাগার পরে ঘুড়ে পড়ে যান। মাথায় ও ঘাড়ে বাজেভাবে আঘাত পান ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার। ম্যাচ রেফারি, ফিজিও ও মেডিকেল টিম দ্রুত তালাতের কাছে পৌছান। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় তিনি উঠতেও পারছিলেন না।
পরে তালাতকে স্ট্রেচারে করে স্টেডিয়ামের মূল গেটে নেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এরপর সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পিসিবি জানিয়েছে, চোটের প্রকৃতি এবং মাত্রা চিকিৎসকেরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে নির্ধারণ করবেন।

পরপর তিন উইকেট পতনের পর সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল পাকিস্তান। জমে যাওয়া এই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারছিল না বাংলাদেশের বোলাররা। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় বিতর্কিত এক ঘটনা। আউট হয়ে যান সালমান। আর এই আউট নিয়েই এখন যত আলোচনা-সমালোচনা।
বাংলাদেশ–পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডের ৩৯তম ওভারের ঘটনা। চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে এগোচ্ছেন সালমান-রিজওয়ান। ব্যাটিংয়ে রিজওয়ান, বোলার ছিলেন মিরাজ। ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে সোজাসুজি খেলেন রিজওয়ান। বল পা দিয়ে থামান মিরাজ। বল তখনো পুরোপুরি থামেনি, হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করেন নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান, তবে এ সময় তিনি পপিং ক্রিজের বাইরে ছিলেন।
প্রথমে মনে হচ্ছিল ক্রিজের ভেতরে ঢুকতে চাচ্ছেন সালমান। এরপর একই সময়ে সালমান–মিরাজ দুজনে বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই সেটি আগে তুলে নেন, এরপর আন্ডার আর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। আম্পায়ার তানভীর আহমেদের কাছে রানআউটের আবেদনও করেন। তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্ত যাওয়ার আগেই মিরাজকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান।
Crucial moment! Mehidy Hasan Miraz removes Salman Agha with a brilliant run-out. ⚡🏏#BCB #Cricket #Bangladesh #Pakistan #ODI pic.twitter.com/N0inKkZVwz
— Bangladesh Cricket (@BCBtigers) March 13, 2026
নিয়ম অনুযায়ী সালামানের আউট নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। সেটা ভালোভাবেই জানা ছিল সালমানেরও। আইন টিভি আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা একবার রিপ্লে দেখেই সেই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দেন। রাগে ফুঁসতে থাকা সালমান ড্রেসিংরুমের দিকে ফেরার পথে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে কিছু একটা ইঙ্গিত করেন। ৬২ বলে ৬৪ করা ডানহাতি ব্যাটারকে ফিরতে হলো অন্যরকম এক আউটের শিকার হয়ে।
ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা এবং খেলার নৈতিকতা/স্পিরিট দুটি আলাদা বিষয়। সালমান সহজেই ক্রিজে ফিরে আসতে পারত। কিন্তু অসচেতনতা বা বল নিয়ে ফিল্ডারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ‘দয়া’ দেখানোই কাল হয়ে দাড়ালো সালমানের জন্য।
ক্ষুব্ধ সালমান আগা ড্রেসিংরুমের পথে বাউন্ডারি সীমানা পার হওয়ার মুহূর্তে গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে মারেন। তবে বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।
সালমান-রিজওয়ানের এই জুটি ভাঙার পর পথ হারায় পাকিস্তানও। ৩৮.৪ ওভারে ২৩১ থেকে ৪৭.৩ ওভারে অলআউট হয় সফরকারীরা।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতার প্রভাব ক্রিকেটেও স্পষ্ট। বাংলাদেশ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার বড় কারণ ছিল এটি। এর মধ্যে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইটরাইডার্সের ছেড়ে দেওয়া।
আইপিএলে দল পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতের সংবাদমাধ্যমে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ানোয় কলকাতার ওপর সমালোচনা ও চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
মোস্তাফিজের মতো এবার আবরার আহমেদকে দলে ভিড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার-মুখে সানরাইজার্স লিডস। দ্য হান্ড্রেডে আইপিএল স্বত্বাধিকারীদের চারটি দল রয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল—ভারতীয় মালিকদের এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কিনবে না।
এ ব্যাপারে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও (ইসিবি) স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছিল, দ্য হান্ড্রেডে এমন কোনো কিছু হবে না। সমালোচনা করেছিলেন সাবেক ক্রিকেটাররাও। গতকাল নিলামে পাকিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার আবরারকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে ভেড়ায় সানরাইজার্স লিডস।
আবরারকে দলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্রে আক্রোশের মুখে পড়েছে সানরাইজার্স। এনডিটিভির প্রতিবেদন, বিতর্কের মধ্যেই দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ডেড দেখায়। বেশ কিছুক্ষণ উধাও হলেও এখন দেখা যাচ্ছে তাদের অ্যাকাউন্ট। তবে অনেক্ষণ ধরে নেই কোনো পোস্ট।
এর মাধ্যমে ভারতীয় মালিকানাধীন কোনো দলের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো জায়গা পান পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার। তবে সিদ্ধান্তটি ভালোভাবে নেননি অনেক ভারতীয় সমর্থক। দুই দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের একজন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তাঁরা। দলটির মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করে নানা সমালোচনাও ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় দলটির সহমালিক কাভিয়া মারানকেও কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ আবার ভারতের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে একই মালিকানার দল হায়দরাবাদকে বর্জনের ডাকও দেন। বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই হঠাৎ করে লিডসের সানরাইজার্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়ে যায়। সেখানে প্রবেশ করতে গেলে একটি বার্তা দেখা যায়—নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে হিসাবটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই নিলামে পাকিস্তানের আরেক রহস্য স্পিনার উসমান তারিককে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় বার্মিংহামের ফিনিক্স। তবে এই দলের সঙ্গে ভারতের কোনো লিগ বা ফ্র্যাঞ্চাইজির সরাসরি সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে পাকিস্তানের কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটার নিলামে কোনো দল পাননি। তাঁদের মধ্যে আছেন পেসার হারিস রউফ, অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুব ও লেগ স্পিনার শাদাব খান। পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি অবশ্য নিলামের আগেই নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
নারীদের নিলামেও পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার—ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবাল—কোনো দল পাননি।
বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ১ লাখ পাউন্ডে দলে নেয় বার্মিংহাম ফিনিক্স। এই নিলামে দিনের সবচেয়ে বড় দর ওঠে সাসেক্সের অলরাউন্ডার জেমস কোলসের জন্য। তাঁকে ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় লন্ডন স্পিরিট।