৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ এম

মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেই সঙ্গে তাদেরকে আর্থিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারে বসে প্রতিমন্ত্রী ফাইনাল খেলা দেখেছেন বলে জানা যায়।
শুক্রবার ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
পুরুষদের বয়সভিত্তিক সাফে বাংলাদেশের জেতা দুটি শিরোপাই এসেছে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে। অনূর্ধ্ব-১৮-তে দুইবার এবং অনূর্ধ্ব-১৯-এ একবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই হতাশা এবার মালদ্বীপে কিছুটা হলেও কাটল মোর্শেদ, সুলিভান ব্রাদার্স ও নাজমুল ফয়সালদের হাত ধরে।
No posts available.

এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়াম নিজেদের দূর্গ বানিয়ে রেখেছিল স্পোর্টিং লিসবন। ঘরের মাঠে টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ে পর্তুগালের ক্লাবটি। তবে আর্সেনালের বিপক্ষে থামল তাদের জয়রথ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গানারদের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে রুই বোরগেসের দল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় যোগ করা সময়ের গোলে কোনোমতে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রইল মিকেল আরতোর দল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে যোগ করা সময়ে গোলটি করেছেন কাই হাভার্টজ।
ঘরের মাঠে ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ্য তৈরি হয় স্পোর্টিং লিসবনের। নিজেদের অর্ধ থেকে সতীর্থের ক্রস ধরে এগিয়ে যান মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ডেভিড রায়া। আর্সেনাল গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে তা ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩তম মিনিটে
বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার শটে বল জালে পাঠান মার্তিন জুবেমেন্দি। কিন্তু ভিক্টর ইয়োকেরেশ
অফসাইডে থাকায় সে গোল বাতিল হয়। তবে যোগ করা সময়ে দলকে উৎসব এনে দেন কাই হাভার্টজ।
দুই মিনিট যোগ করা সময়ের
প্রথম মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল এনে দেন হাভার্টজ। গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ক্রস
বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি।
ম্যাচে ৫৬ শতাংশ পজেশন
রেখে গোলের জন্য সাতটি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্সেনাল। লিসবনের ১১ শটের
পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।

পরিসংখ্যান আর খাতা-কলমের হিসাব—সবকিছুই ছিল রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামও চিরচেনা, ঠিক যেন হাতের তালুর মতোই। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে ১৫বারের শিরোপাধারীদের। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে ১৫ এপ্রিল দুই দলের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে ৯ বার শট নিয়ে একটি থেকে গোল আদায় করে রিয়াল। অন্যদিকে গোলমুখে ৮টি শট নিয়ে দুটি থেকে পয়দা লুটেছে বায়ার্ন। ৪৮ শতাংশ বল দখলে ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের, ৫২ শতাংশ বায়ার্নের। বায়ার্নের বিপক্ষে সর্বশেষ ৯ ম্যাচে অপরাজিত রিয়াল। আজ সে বৃত্ত ভাঙল বাভারিয়ানরা।
আরও পড়ুন
| দিয়াসের গোলে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে বায়ার্ন |
|
আক্রমন-প্রতিআক্রমণের ম্যাচে বাস্কেটগেইমে পরিণত হয়েছিল ম্যাচ। দুই দলের গোলকিপার যেন গোল সেইভে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন ৯০ মিনিট। আন্দ্রে লুনিনকে ৫টি নিশ্চিত গোল সেইভ করেছেন। তার ক্লিয়ারেন্স সংখ্যা ২৪টি। বিপরীতে নয়্যারের ২০টি। তিনি ৯টি নিশ্চিত গোল সেভ করেছেন। বোঝাই যাচ্ছে, দুই গোলকিপার নৈপুণ্যতা না দেখালে এই ম্যাচে গোলসংখ্যা আরও বাড়তো।
বার্নাব্যুতে ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের কাছে ডিন হুইসেনের ব্লকে মাটিতে পড়ে যান মাইকেল ওলিসে। তবে সেখান থেকে স্পটকিক নিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার। দুই মিনিট পর নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল। দায়োত উপামেকানোর ডান পায়ের শটের গতি আরেকটু বাড়লেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অতিথি দলের।
বায়ার্নের মুর্হুমুহু অ্যাটাকের পর পূর্ণ রিদমে ফিরতে অবশ্য সময় বেশি নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ষোড়শ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভ করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তার সেই শট রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার।
আরও পড়ুন
| পিএসজির মুখোমুখির আগে আসল সত্য জানালেন স্লট |
|
১৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় রিয়াল। এ যাত্রাতেও বাভারিয়ানদের ত্রাণকর্তা নয়্যার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়দের ডানপায়ের বুলেট গতির শট বাদিকে ঝাঁপিয়ে বারের বাইরে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান গোলকিপার।
২৫তম মিনিটে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে নয়্যারকে সামনে পান এমবাপে। তবে মিডফিল্ড থেকে পাঠানো ক্রসের গতি ছিল একটু বেশিই। যে কারণে চেষ্টা বৃথা যায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
অসাবধানতায় অঘটন ঘটতে পারতো ২৭তম মিনিটে। গ্রানব্রি বড় ধরণের সুযোগ মিস করেছেন এসময়। আন্দ্রে লুনিনকে ব্যাকপাস দিতে চেয়েছিল থিয়াগো। সেটি এতই ধীরগতির ছিল যে গ্রানব্রির নাগালে চলে আসে। তার সে শটে জোর ছিল না। তাতে মেলেনি সাফল্য।
২৮তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। দীর্ঘসময় গোলখরায় ভোগা রিয়াল রাইট উইঙ্গার নুয়্যারকে একা পেয়েও লক্ষ্যবেদ করতে পারেননি। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভের পর ডান পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। বুলেটগতির নিচু শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লুনিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
আরও পড়ুন
| বায়ার্নের শুরুর একাদশে কেইন, রিয়ালে ভালভার্দে |
|
৩২তম মিনিটে কারেরাসের লং রেঞ্জের ক্রসের সূত্র ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজায় রিয়াল। বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে চালাচালি করেন আর্দা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভালভার্দে। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে পরিকল্পনা। বরং পাল্টা আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। যদিও কেইন আটকা পড়ে রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে।
৩৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন চুয়ামেনি। সেটপিসে আবারও স্পটকিক পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে কাজে দেয়নি এই অর্জন।
৪০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গ্রানব্রির ক্রস থেকে ডান পায়ের জাদু দেখান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
কেইন কিছু জায়গা পেয়ে বল ধরে রাখেন এবং তা গ্রানব্রির কাছে পাঠান। যিনি আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পেছনে স্লাইড করেন। দিয়াস ঠিক সময়ে দৌড়ে এগিয়ে যান এবং চতুরতার সঙ্গে বলটি নিচের ডান কোণে গড়ান। তাতেই ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।
আরও পড়ুন
| ‘হুইলচেয়ারে হলেও মাঠে নামবে কেইন’ |
|
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিড দ্বিগুণ করে বায়ার্ন। রেফারির বাঁশির মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাভারিয়ানরা।
রিয়াল সহজে বল হারালে ওলিসে ডান দিক দিয়ে দৌড়ে ভিতরে ক্রস দেন। সে ক্রস রিসিভ করা মাত্রই নিচু শটে জালে জড়ান কেইন। মৌসুমের ইংলিশ ফরোয়ার্ডের এটি ৪৯তম গোল এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১তম গোল।
৫৬তম মিনিটে নিজের গোল সংখ্যা দ্বিগুণ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন কেইন। ভালভার্দের সঙ্গে বল রিকভারিতে ছিলেন কিমিখ। সুযোগ বুঝে ছো মেরে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন কেইন। বল নিয়েই ভোঁ দৌড়। নে শট। বাধায় বিফলে যায় তা।
৬০তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র যে ভুল করলেন, তার প্রায়শ্চিত তিনি কিভাবে করবেন, সটো নিয়েই ভাবতে হবে ব্রাজিল ফরোয়ার্ডকে। নিজেদের অর্ধ থেকে পাঠানো বল রিকভার করতে ব্যর্থ হন জোনাথন তাহ। আর বল নিয়ে ওয়ান এন্ড পজিশনে পৌছেন ভিনি। নয়্যারের সামনে গড়বড় করেন বসেন মুহূর্তে। বলটি বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মানে তিনি।
আরও পড়ুন
| ভিয়েতনামের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের |
|
৬২তম মিনিটে ডিন হুইসেন ও থিয়াগোকে উঠিয়ে এদের মিলিতাও ও জুড বেলিংহামকে মাঠে নামান আরবেলোয়া। তার ঠিক মিনেট তিনেক পরই তৃতীয়বারের মতো সহজ গোল মিস করেন এমবাপে। তাহ ও লাইমারকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান তিনি। তবে শেষটা সুন্দর করতে পারনেনি মোটেও। তবে একটু চতুরতা কিংবা কয়েক গজ ডানে শট নিলেও বায়ার্নের জালে বল জড়ানোর সুযোগ ছিল।
৬৮তম মিনিটে দুইজনকে বদলি করেন ভিনসেন্ট কোম্পানি। গ্রানব্রি ও লাইমারকে তুলে জামাল মুসিয়ালা ও আলফন্সো ডেভিসকে নামান তিনি। এরপরই তাহয়ের ট্যাকেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এমবাপে। বাধায় পড়ে যেন নিজেকে দারুণভাবে ফিরে পান ফরাসি ফরোয়ার্ড। আদায় করেন গোল। সব লিগ মিলিয়ে ৬ ম্যাচ পর গোলখরা কাটালেন তিনি।
৭৪তম মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ডান পাশ থেকে সুযোগ খুঁজে বের করেন এবং পেছনের পোস্টের দিকে নিচু ক্রস পাঠান। এমবাপে সেখানে অপেক্ষা করে ছিলেন এবং বাঁ-পায়ের জাদুতে বল জালে জড়িয়ে দেন। যদিও নয়্যার চেষ্টা করেছিলেন।এবার আর বুন্দেসলিগা জায়ান্টদের বাঁচাতে পারেননি তিনি।
যোগ করা সমেয়র প্রথম মিনিটে কর্নার আদায় করে রিয়াল। দুরুহ কোণ থেকে নেওয়া আলেকজান্ডার আর্নল্ডের হাওয়ায় বাসানো সে শট কোনো কাজে আসেনি। বরং লিড বড় করার সযোগ পেয়ে বসে বায়ার্ন। কাউন্টার অ্যাটাকে যান মুসিয়ালা ও দিয়াস। মুসিয়ালা পা ছোঁয়ালেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ম্যাচ শেষ করতে পারত ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।

পরিসংখ্যান আর খাতা-কলমের হিসাব—সবকিছুই রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। আর কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের হাতের তালুর মতো চিরচেনা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। একের পর এক সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে ১৫বারের শিরোপাধারীদের। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যেতে হয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে ৪ বার শট নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে রিয়াল। অন্যদিকে গোলমুখে তিনটি শট নিয়ে একটি বল জালে জড়িয়েছেন দিয়াস। প্রথমার্ধে ৪১ শতাংশ বল দখলে ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের, ৫৪ শতাংশ বায়ার্নের।
আরও পড়ুন
| পিএসজির মুখোমুখির আগে আসল সত্য জানালেন স্লট |
|
ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের কাছে ডিন হুইসেনের ব্লকে মাটিতে পড়ে যান মাইকেল ওলিসে। তবে সেখান থেকে স্পটকিক নিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার।
দুই মিনিট পর নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল। দায়োত উপামেকানোর ডান পায়ের শটের গতি আরেকটু বাড়লেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অতিথি দলের।
বায়ার্নের মুর্হুমুহু অ্যাটাকের পর পূর্ণ রিদমে ফিরতে অবশ্য সময় বেশি নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ষোড়শ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভ করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তার সেই শট রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার।
১৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় রিয়াল। এ যাত্রাতেও বাভারিয়ানদের ত্রাণকর্তা নয়্যার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়দের ডানপায়ের বুলেট গতির শট বাদিকে ঝাঁপিয়ে বারের বাইরে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান গোলকিপার।
২৫তম মিনিটে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে নয়্যারকে সামনে পান এমবাপে। তবে মিডফিল্ড থেকে পাঠানো ক্রসের গতি ছিল একটু বেশিই। যে কারণে চেষ্টা বৃথা যায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
আরও পড়ুন
| বায়ার্নের শুরুর একাদশে কেইন, রিয়ালে ভালভার্দে |
|
অসাবধানতায় অঘটন ঘটতে পারতো ২৭তম মিনিটে। গ্রানব্রি বড় ধরণের সুযোগ মিস করেছেন এসময়। আন্দ্রে লুনিনকে ব্যাকপাস দিতে চেয়েছিল থিয়াগো। সেটি এতই ধীরগতির ছিল যে গ্রানব্রির নাগালে চলে আসে। তার সে শটে জোর ছিল না। তাতে মেলেনি সাফল্য।
২৮তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। দীর্ঘসময় গোলখরায় ভোগা রিয়াল রাইট উইঙ্গার নুয়্যারকে একা পেয়েও লক্ষ্যবেদ করতে পারেননি। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভের পর ডান পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। বুলেটগতির নিচু শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লুনিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
৩২তম মিনিটে কারেরাসের লং রেঞ্জের ক্রসের সূত্র ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজায় রিয়াল। বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে চালাচালি করেন আর্দা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভালভার্দে। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে পরিকল্পনা। বরং পাল্টা আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। যদিও কেইন আটকা পড়ে রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে।
আরও পড়ুন
| ‘হুইলচেয়ারে হলেও মাঠে নামবে কেইন’ |
|
৩৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন চুয়ামেনি। সেটপিসে আবারও স্পটকিক পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে কাজে দেয়নি এই অর্জন।
৪০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গ্রানব্রির ক্রস থেকে ডান পায়ের জাদু দেখান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
কেইন কিছু জায়গা পেয়ে বল ধরে রাখেন এবং তা গ্রানব্রির কাছে পাঠান। যিনি আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পেছনে স্লাইড করেন। দিয়াস ঠিক সময়ে দৌড়ে এগিয়ে যান এবং চতুরতার সঙ্গে বলটি নিচের ডান কোণে গড়ান। তাতেই ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।

সবার হিসাব মেলে, লিভারপুলের মেলছে না। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অ্যানফিল্ডের ক্লাবের অবস্থা ঠিক এমনই। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়নস লিগেও শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে পর্দাপন। তবে নতুন মৌসুমে পা রাখতেই সব এলোমেলো।
গত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল চলতি আসরে প্রতিযোগীতা নেই। টেবিলের পঞ্চমে তাদের অবস্থান। আর চ্যাম্পিয়নস লিগে টেনে টুনে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে আর্নে স্লটের দল। এখানে এসেও নিস্তার নেই। কারণ তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।
পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টার ম্যাচের আগে কথা বলেছেন স্লট। অল রেডসদের ডাচ কোচ স্লট স্বীকার করে নিয়েছেন, মৌসুমজুড়ে তার দলের পারফরম্যান্স তেমন একটা সুবিধা মতো নয়।
মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি সত্য যে পুরো মৌসুমজুড়েই আমাদের পারফরম্যান্স আর ফলাফল বেশ ওঠানামার মধ্যে ছিল।’
দলের অবস্থা যেমনই হোক, স্লট মনে করেন, দুঃসময় এলেই ঠিকই জ্বলে ওঠে লিভারপুল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর উত্তর লুকিয়ে আছে লিভারপুলের ইতিহাসেই। কঠিন সময়ে এই দল বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরাও অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি—কয়েকবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি, আবার পড়ে গেছি।’
‘আমাদের আবার সেই মানসিকতাই দেখাতে হবে—হতাশার পর নিজেকে তুলে দাঁড় করানো এবং এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।’- যোগ করেন স্লট।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্লট স্মরণ করিয়েছেন গালাতাসারায়ের ম্যাচের কথা। তিনি বলেন, ‘এই ক্লাব অতীতেও কঠিন মুহূর্তে অসাধারণ কিছু করে দেখিয়েছে। আমরা যদি এই ম্যাচটা অ্যানফিল্ডে নিতে পারি, যেমনটা গত মৌসুমে দেখেছি, এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও—গালাতাসারায়ের বিপক্ষে—সেটাই ছিল আমাদের মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্স।’

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ফুটবল বিশ্বের দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের ম্যাচে অভিন্ন মিশন দুদলের।
রিয়ালের বিপক্ষে বাভারিয়ানদের শুরুর একাদশে ফিরেছেন বুন্দেসলিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ (৩১) গোল স্কোরার হ্যারি কেইন। জার্মান লিগে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে মাঠের বাইরে থাকা ইংলিশ অ্যাটাকার ফিরছেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে গোল্ডেন শু জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা কেইনকে নিয়ে ম্যাচের আগে বায়ার্ন অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ বলেছিলেন, আমার মনে হয়, দরকার হলে হুইলচেয়ারেও কেইন খেলবে।
রিয়াল একাদশে রয়েছেন চোট কাটিয়ে ফেরা রাইটব্যাক এদের মিলিতাও। আছেন ডিন হুইসেন, গার্সিয়া, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড ও অ্যান্টোনি রুডিগার।
মিডফিল্ডে আবারও ফিরছেন সবশেষ লা লিগায় মায়ার্কো ম্যাচে না থাকা ভালভার্দে। এই পজিশনে আছেন চুয়ামেনি ও আর্দা গুলের। অ্যাটাকিং পজিশনে কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
রিয়ালের গোলপোস্টের নিচে থাকছেন আন্দ্রে লুনিন। থিবো কোর্তোয়ার ইনজুরির কারণে লুনিন যে থাকবেন, সেটা অনুমেয় ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবশেষ যখন বায়ার্নের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল, তখন গোলপোস্টের নিচে ছিলেন লুনিন।
এ নিয়ে রেকর্ড ৪১তম বার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে রিয়াল, ৩৬ বার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দুইয়ে বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগের রেকর্ডটা অবশ্য বায়ার্নের (২৪ বার), দুইয়ে রিয়াল (২২)।
রিয়ালের শুরুর একাদশ: আন্দ্রে লুনিন, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড, রুডিগার, ডি হুইসেন, আলভারো কারেরাস, ভালভার্দে, থিয়াগো, অরেলিন চুয়ামেনি, আর্দা গুলের, কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বায়ার্নের শুরুর একাদশ: ম্যানুয়েল নয়্যার (গোলকিপার), জোসিপ স্ট্যানিসিচ, দায়োত উপামেকানো, জোনাথন তাহ কর্নাড লেইমার, আলেকসান্দার পাভলোভিচ, জশুয়া কিমিখ, লুইস দিয়াস, গ্যানাবেরি ও মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেইন।