১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ এম

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। আগের সূচিতেই চির প্রতিদ্বন্দী দেশটির বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানানোর পরও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ত্রিপক্ষীয় সভার পর এই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলল পাকিস্তান।
নিচে পাকিস্তান সরকারের পূর্ণাঙ্গ বার্তা তুলে ধরা হলো
পিসিবি, আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সারসংক্ষেপ সম্পর্কে পাকিস্তানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব শেহবাজ শরিফকে অবহিত করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে পিসিবির নিকট প্রেরিত আনুষ্ঠানিক অনুরোধসমূহ এবং শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের সমর্থনসূচক বার্তাগুলো পাকিস্তান সরকার গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করেছে। এসব যোগাযোগে সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আন্তরিক অনুভূতি ও কৃতজ্ঞতা অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, দুই দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হবে।
এই প্রেক্ষাপটে আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি মহামান্য অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় উভয় নেতা স্মরণ করেন—পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের নজির স্থাপন করে এসেছে। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি চলমান পরিস্থিতির একটি গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সমাধানের লক্ষ্যে গঠনমূলক বিবেচনার আহ্বান জানান।
বহুপাক্ষিক আলোচনায় অগ্রগতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মতামতের আলোকে, পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল আইসিসি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে।
এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ঐক্যবদ্ধ চেতনা সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের জনগণ “মেন ইন গ্রিন”-এর প্রতি আন্তরিক শুভকামনা জানাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী, আমাদের দল মাঠে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, পেশাদারিত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতিনিধিত্ব করবে।
No posts available.
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:০১ পিএম
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এম

এই সময়টাতে হয়তো টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের সুপার এইটের প্রতিপক্ষদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত থাকত বাংলাদেশ।
লিটন দাস-মোস্তাফিজুর রহমানরা এসব ভেবে এখনো হয়তো ‘যদি–তবে’র গল্পে আটকে আছেন। বিশ্বকাপ খেলতে
না পারার আক্ষেপ আর হতাশা তো সহজে লুকানো যায় না। হতাশা লুকাতে পারেননি সাইফ হাসানও।
‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
খেলতে না পেরে মানসিক কোমায় চলে গিয়েছিল দুই ক্রিকেটার’–গতকাল সাংবাদিকদের সামনে এমন
মন্তব্য করেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন। তার পরপরই
একই ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তা দেন সাইফ হাসান।
সামাজিক মাধ্যমে সাইফ লেখেন,
‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ মেহেরবান। আলহামদুলিল্লাহ। বিশ্বকাপ খেলতে না পারার সেই হৃদয়ভাঙা অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না—কারণ সেটাই ছিল আমার প্রথম বিশ্বকাপ, আজীবনের এক স্বপ্ন, যার পেছনে ছিল অসংখ্য পরিশ্রম ও ত্যাগ।’
আজ সংবাদমাধ্যমকে নিজের ওই পোস্ট নিয়ে সাইফ বলেন,
‘দেখেন সবারই কষ্ট লাগছে যারা টিমে ছিল। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই কিন্তু আমার স্ট্যাটাসটা ছিল যে আমি ওখান থেকে যেই অদম্য কাপ যেটা খেলছি। ওখান থেকে মানে একটা ভালো একটা শেপে আসছি। তো সেটা একটা স্বস্তিকর বিষয়। তাই আসলে ওই বিষয়টাই আমি শেয়ার করছি, আমার অনুভূতি শেয়ার করছি।’
বিশ্বকাপে খেলতে না পারায়,
এই টুর্নামেন্ট দেখাটাও তো যন্ত্রণার। নিরাপত্তার কারণে ভারত যেতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশের
জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয় স্কটল্যান্ডকে। স্বাভাবিকভাবেই টিভির পর্দায় এসব দেখে
হজম করা কঠিনই।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের কোনো ম্যাচই দেখেননি সাইফও। আসন্ন সিরিজের কথা মাথায় রেখেই নিজেকে চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন এই ব্যাটার,
‘সত্যি কথা বলতে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ দেখি নাই। আর নিজেকে ওইভাবে মনোবল বাড়ানোর করার চেষ্টা করছি যে একটা যেহেতু গেছে এখন চেষ্টা থাকবে সামনে যেই সিরিজগুলো আছে যদি সুযোগ পাই অবশ্যই নিজেকে মেলে ধরার আর নিজেকে একটা ভালো শেপে আনার।’
ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখতে অদম্য কাপ নামে একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরপর শুরু হচ্ছে বিসিএলও। বিশ্বকাপ না খেলে অদম্য কাপ, বিসিএল ওয়ানডে কাপ এই খেলাগুলোতে মন দেয়াটা একটু কষ্ট হয়ে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নে সাইফ বললেন, একজন পেশারদার ক্রিকেটারের পেশাদারিত্বের কথা। সবকিছু পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার কথা বললেন তিনি,
‘একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে কিন্তু আপনি যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন ওটাই আপনার জন্য ভালো। সো আমাদের চেষ্টা এটাই ছিল যত তাড়াতাড়ি আমরা মুভ অন করতে পারি। কৃতজ্ঞ যে একটা বিরতি পেয়েছিলাম, সেটাকে আমরা দারুণভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি।’

জানুয়ারির মাসসেরার তালিকা
দিয়েছে আইসিসি। তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন গত মাসে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে
রান উৎসব করা ড্যারিল মিচেল। এছাড়া মাসসেরা হওয়ার দৌড়ে জায়গা পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নায়ক জো রুট ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ী ভারতের
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
বছরের শুরুটা দারুণভাবেই করেন নিউজিল্যান্ডের তারকা ব্যাটার ড্যারিল মিচেল। তাঁর নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজে ভারতের মাটিতে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে
পড়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রাখেন মিচেল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে টানা দুটি সেঞ্চুরি
করে ৩৪ বছর বয়সী ডানহাতি এই ব্যাটার দলের সিরিজ জয়ে নেতৃত্ব দেন। পুরো সিরিজে ভারতের
বিপক্ষে চোখধাঁধানো ১৭৬ গড়ে ৩৫২ রান করে মিচেল জিতেন সিরিজসেরার পুরস্কার।
এ ছাড়া ভারতের বিপক্ষে
পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজেও দারুণ ব্যাটিং করেন ড্যারিল মিচেল। ওই সিরিজে ১৮৬.৫৬
স্ট্রাইক রেটে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১২৫ রান।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন
ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডের দারুণ প্রত্যাবর্তনের নায়ক ছিলেন জো রুট। সিরিজ
যত এগিয়েছে, ততই নিজেকে আরও মেলে ধরেছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার। প্রথম ম্যাচে
৬১ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৭৫ এবং সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংস
খেলেন তিনি। রুটের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ০–১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে
২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। মোট ২৪২ রান ও দুটি উইকেট নেওয়া রুট হন সিরিজসেরা।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর
ঠিক আগে ছন্দে ফেরেন সূর্যকুমার যাদব। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি
সিরিজে ব্যাট হাতে ছিল বিধ্বংসী পারফরম্যান্স উপহার দেন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে
ভারতের অধিনায়ক।
টানা ২৫ ম্যাচে কোনো ফিফটি
না পাওয়ার দীর্ঘ সময়ের ছন্দহীনতা কাটিয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি হাফসেঞ্চুরি
করেন সূর্যকুমার। তাঁর নেতৃত্বে ৪–১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে ভারত। পাঁচ ম্যাচে ১৯৬.৭৪
স্ট্রাইক রেটে ২৪২ রান করে তিনি হন সিরিজসেরা খেলোয়াড়।
সিরিজের সবচেয়ে দারুণ ইনিংসটি
আসে দ্বিতীয় ম্যাচে। ওই ম্যাচে তাঁর ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংসের নৈপুণ্যে মাত্র ১৫.২
ওভারেই নিউজিল্যান্ডের ২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয় ভারত। টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে
ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া এটি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রাঞ্চাইজি লিগের বড় অংশের মালিকানাই এখন ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে। তাই অনেক লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি না হওয়া যেন এক অলিখিত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দ্য হান্ড্রেডেও যদি পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের দেখা না যায়, তবে তা দুঃখজনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইংলিশ তারকা হ্যারি ব্রুক।
আগামী ১১ ও ১২ মার্চ হবে হান্ড্রেডের নিলাম। নিলামের জন্য পাকিস্তানের ৬৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিলামে ৪টি ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিবেচনায় নিচ্ছে না। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এর আগে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ। যেখানে পাকিস্তানিদের পক্ষে ব্যাট ধরেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক ব্রুক বলেন।
“পাকিস্তান বহু বছর ধরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে। তাদের দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। হান্ড্রেডে তাদের কাউকে না দেখা গেলে সেটা দুঃখজনক হবে।”
হান্ড্রেডের ৮ দলের মধ্যে ৪টি- ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ ও সানরাইজার্স লিডস- আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ড্রাফটে না ডাকার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
| আফগানিস্তানে গিয়েই কাজ করতে হবে রশিদ-নবীদের নতুন কোচের |
|
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভনও শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, ক্রিকেটে জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় এবং খেলোয়াড়দের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পাওয়া উচিত।
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। নিরাপত্তার অজুহাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ২০০৯ সাল থেকেই আইপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
একই ধারা দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটি-টোয়েন্টি লিগেও। সেখানে সব দলই আইপিএল মালিকানাধীন হওয়ার ফলে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় খেলেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগে এমআই লন্ডন ও সাউদার্ন ব্রেভের মালিকানাধীন দলগুলো চার মৌসুমে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার নেয়নি।
হান্ড্রেডের বাকি চার দল- বার্মিংহাম ফিনিক্স, লন্ডন স্পিরিট, নর্দান সুপারচার্জার্স এবং ট্রেন্ট রকেটসে এখনও কোনো ভারতীয় বিনিয়োগ আসেনি, তাই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য এই দলগুলোই এখন একমাত্র ভরসা।

জনাথন ট্রটের বিদায়ের পর নতুন কোচের জন্য নতুন নিয়ম করতে যাচ্ছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। তাদের ইচ্ছা, জাতীয় দলের পরবর্তী প্রধান কোচ ও বিদেশি সাপোর্ট স্টাফরা খেলা না থাকার সময়ে অফ-সিজনে আফগানিস্তানেই অবস্থান করবে ও ঘরোয়া ক্রিকেট পর্যবেক্ষণ করবে।
ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নাসিব খান।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে আফগানিস্তানের সঙ্গে জনাথন ট্রটের ৪ বছরের সম্পর্কের। তার বিদায়ের পরই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে আফগান বোর্ড।
নাসিব জানান, নতুন চুক্তিতেই শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে- প্রধান কোচ ও অন্য বিদেশি কোচদের ‘ডিউটি স্টেশন’ হবে আফগানিস্তান।
“আমরা চাই, জাতীয় দলের কোচরা ঘনিষ্ঠভাবে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট ও স্থানীয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। যখন কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ থাকবে না, তখন দলটির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে তারা কাজ করবেন।”
আরও পড়ুন
| বিদায় বেলায় ওমানের ওপর জ্বালা মেটাল অস্ট্রেলিয়া |
|
আসন্ন শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগেই নতুন কোচের নাম ঘোষণা করতে চায় বোর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে মার্চের মাঝামাঝি দুবাই ও শারজাহতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা সাদা বলের সিরিজ।
খসড়া সূচি অনুযায়ী, ১৩ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।
নাসিব জানিয়েছেন, এরই মধ্যে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে গিয়েছে। সেজন্য তিন কোচকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের সাক্ষাৎকারও সম্পন্ন। এদের মধ্যে দুজন দক্ষিণ আফ্রিকার ও একজন এশিয়ান।
তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নাম প্রকাশ করতে চাননি নাসিব। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগেই আফগানিস্তান পাবে তাদের নতুন প্রধান কোচ।

প্রথম তিন ম্যাচের দুটি হেরে দলের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল আগেই। ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে সেই ঝালই যেন তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডাম জাম্পার লেগ স্পিনের জাদুতে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১০৪ রানে গুটিয়ে তারা পেয়েছে ৯ উইকেটের সহজ জয়।
দলের জয়ে বড় অবদান রেখে মাত্র ২১ রানে ৪ উইকেট নেন জাম্পা। একইসঙ্গে ৩টি রেকর্ডে উঠেছে তার নাম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে ৪ বার এক ম্যাচে ৪ বা এর বেশি নিলেন জাম্পা।বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৪ উইকেটের রেকর্ড এটি।
তিনবার করে ৪ উইকেট নিয়ে এতদিন জাম্পার সঙ্গে ছিলেন সাকিব আল হাসান, রশিদ খান, আনরিক নরকিয়া ও সাঈদ আজমল। এবার তাদের ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন জাম্পা।
আরও পড়ুন
| ১৪ বছর পর সঙ্গী পেল বাংলাদেশ |
|
এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় দুইয়ে বসেছেন জাম্পা। তার নামের পাশে এখন ৪৪ উইকেট। আফগানিস্তানের রশিদ খানকে (৪৩) টপকে গেছেন তিনি। সামনে শুধু সাকিব আল হাসান (৫০)।
এর বাইরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ সেরার রেকর্ডেও এখন দুইয়ে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার। ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন জাম্পা। ক্রিস গেইল, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও শেন ওয়াটসন জিতেছেন ৫ বার করে।
ম্যাচ সেরার পুরস্কারে সবার ওপরে ভারতের ব্যাটিং গ্রেট বিরাট কোহলি- ৮ বার।
এত এত অর্জন ও রেকর্ডের পরও মনে আনন্দ নেই জাম্পার। ম্যাচ সেরার পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি উল্টো বললেন, এত বাজে অনুভূতি কখনও হয়নি।
“সত্যি বলতে, একদম শূন্য লাগছে। উইকেট না পাওয়ার চেয়ে অবশ্যই পাওয়া ভালো। তবে চার উইকেট পাওয়ার পর আমার সবচেয়ে বাজে অনুভূতি হয়তো এটিই। কালকেই দেশের পথে উড়াল দিচ্ছি, সত্যি বলতে এরকম কিছু তো ভাবনায়ও ছিল না। কাজেই এই অনুভূতি বলার মতো নয়।”
আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বড় ধাক্কা খায় তারা। আর শ্রীলঙ্কার কাছেও হেরে গেলে শেষই হয়ে যায় সুপার এইট খেলার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত তাই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়।
কোনোভাবেই এমন ফল মানতে পারছেন না জাম্পা।
আরও পড়ুন
| বিদায় বেলায় ওমানের ওপর জ্বালা মেটাল অস্ট্রেলিয়া |
|
“গত তিন দিন ধরে আসলে ভাবছি এই তিন বিশ্বকাপ আমাদের কেমন গেল… বিশেষ করে, বিশ্বকাপের মাঝের সময়টায় আমরা যেমন খেলেছি। আমরা সম্ভবত (র্যাঙ্কিংয়ের) দুই বা তিন নম্বর দল, ভারতের পরই।”
“দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে সবসময়ই আমরা ভারতের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছি। কখনও তারা আমাদেরকে হারায়, কখনও আমরা তাদেরকে। কাজেই দল হিসেবে আমরা ভালো। সেখানে এরকম ফলাফল….আসলে বোধগম্য নয়।”