
জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়ার কিংবা সহজ জয়কে কঠিন করে জেতা পুরোনো অভ্যাস পাকিস্তানের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আজও তেমনটাই করার পথে ছিল তারা। তবে টপ অর্ডারের ব্যাটাররা আসল কাজ করে দেওয়ায় পথ হারায়নি পাকিস্তান।
শেষের সেই শঙ্কা বাদ দিলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শেষ হেসেখেলেই জিতেছে সালমান আলি আগার দল।
আজ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকে চার উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রোটিয়াদের ১৩৯ রানে বেধে ফেলার পর বাবর আজমের ফিফটিতে এক ওভার বাকি রেখেই জিতেছে পাকিস্তান। তাতে প্রথম ম্যাচ হারের পরও দারুণ প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল স্বাগতিকরা। ৪৭ বলে ৬৮ রান করা বাবর আজম হন ম্যাচসেরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের নায়ক বাবর আগের ম্যাচে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছিলেন রোহিত শর্মাকে ছাড়িয়ে। আজ আরেক ভারতীয় ব্যাটার বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ফিফটি প্লাস ইনিংসের রেকর্ড গড়লেন বাবর। টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটার আজ করেছেন ৩৭তম ফিফটি। এই সংস্করণে ৩টি সেঞ্চুরিও রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে ৪০টি ফিফটি কিংবা তার বেশি ইনিংস খেলেছেন তিনি। ছাড়িয়ে গেছেন বিরাটনকোহলির ৩৯ ফিফটি প্লাস ইনিংস। তিনে থাকা রোহিত শর্মার ৩৭টি।
লাহোরে ছোটো লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে হোঁচট খায় পাকিস্তান। ‘ডাক’ মেরে ফেরেন সায়েম আইয়ুব। পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ডাকের মালিক এখন এই ওপেনার। ৪৯ ইনিংসে ১০ ম্যাচে শূন্য রান করা সায়েম বিব্রতকর এই রেকর্ডে ছুঁয়েছেন উমর আকমলকে। পাশাপাশি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলের ব্যাটারদের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ ডাকও এখন সায়েম আয়ুবের। ২০২৫ সালে সাতবার শূন্য রানে আউট হয়ে পাকিস্তানের ব্যাটার ছাড়িয়ে গেছেন জিম্বাবুয়ের রিচার্ড এনগারাভাকে।
শুরুতে উইকেট হারালেও পথ হারায়নি পাকিস্তান। দলীয় ৪৪ রানে শাহিবজাদা ফারহান আউট হওয়ার পর বাবর আজম-সালমান আলি আগার ৭৬ রানের জুটিতে সহজ জয়ের দিকে ছুটে স্বাগতিকরা।
দলের রান যখন ১২০ অধিনায়ক আগা তখন লিজাড উইলিয়ামসের বলে আউট হন। সাজঘরে ফেরার আগে ২৬ বলে ৩৩ রান করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। স্কোরবোর্ডে ৫ রান যোগ হতে অধিনায়কের পথ ধরেন দারুণ এক ফিফটি করা বাবর। বশের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৯ চারে ৪৭ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের মালিক।
দ্রুত দুই উইকেট হারালেও জয় থেকে তখন অল্প দূরত্বে পাকিস্তান। দলীয় ১৩৩ ও ১৩৪ রানে পাকিস্তানের আরও দুটি উইকেট তুলে ম্যাচ খানিকটা জমিয়ে তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ততক্ষণে যে অনেক দেরি হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত আর কোনো ভুল না করে জয়ের বন্দরে নোঙর করে স্বাগতিকরা।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে শূন্য রান থাকতেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ব্যাটার। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তানের পেসারের পরের ডেলিভারিতেই উসমান তারিকের ক্যাচ হয়ে ফেরেন লুহান ড্রে প্রেটোরিয়াস।
তৃতীয় উইকেটে ডিওয়াল্ড ব্রিভিসকে নিয়ে ৩৬ রানের জুটি গড়েন রেজা হেনড্রিকস। এই জুটি ভাঙতেই আবার ব্যাটিং ধসের শঙ্কায় পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২২ বলে ২১ রান করা ব্রিভিস আউট হওয়ার পর এক রান করে ফেরেন ম্যাথু ব্রিটজ।
এরপর ৩৪ রানের আরেকটি জুটির পর আবারও পরপর দুই উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। অধিনায়ক ডোনোভান ফেরেইরার পর আউট হন র্জজ লিন্ডা। ১৪ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফাহিম আশরাফের বলে ক্যাচ তুলেন ফেরেইরা।
৭৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর করবিন বশের ২৩ বলে ৩০ ও আন্দিলে সিমিলেনের ১৩ রানে ধুঁকতে ধুঁকতে ১৩৯ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বল হাতে পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। দুটি করে শিকার ফাহিম আশরাফ ও উসমান তারিকের। এক উইকেট নিয়েছেন সালমান মির্যা ও মোহাম্মদ নেওয়াজ।
No posts available.

আইপিএলের পুরো মৌসুম থেকে ছিটকে পড়ার পর এবার জাতীয় দলের জার্সিতেও মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে ভারতের দুই পেসার হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপকে। ঘরের মাঠে আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের সফর থেকেও বাদ পড়তে যাচ্ছেন দুই পেসার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিসিসিআইয়ের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ম্যাচ-ফিটনেস ফিরে পেতে হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপের আরও বেশ খানিকটা সময় লাগবে। আকাশ বর্তমানে পিঠের ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল হর্ষিত রানাকে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই দুই পেসার চোটের কারণে চলতি আইপিএল-ও খেলতে পারছেন না।
বিসিসিআই-এর এক সূত্র ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘আকাশ এবং হর্ষিতের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ঠিকঠাকই চলছে, তবে মাঠে ফেরার ছাড়পত্র পাওয়ার আগে এখনো অনেকটা পথ বাকি। আফগানিস্তান বা যুক্তরাজ্য সফরের আগে তাদের ফিট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা এখন কেবল শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করছেন। এরপর জগিং, স্প্রিন্ট এবং সবশেষে 'রিটার্ন টু প্লে' (আরটিপি) প্রোটোকল অনুযায়ী স্কিল নিয়ে কাজ করবেন তারা।’
আকাশ দীপকে মূলত লাল বলের (টেস্ট) বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে দেখা হলেও, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হর্ষিত রানা নির্বাচকদের ভাবনায় বেশ ভালোভাবেই আছেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ১৪ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম ওয়ানডে বোলার ছিলেন হর্ষিত। অন্যদিকে গত বছর বার্মিংহামে 'অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার' সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিলেন আকাশ দীপ।
হর্ষিতের চেয়েও আকাশ দীপের পুরোপুরি ফিট হতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাতে আফগানিস্তান বা ইংল্যান্ড সফর নয়, আগামী আগস্টে ঘরোয়া ক্রিকেটের মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্ট 'দলীপ ট্রফি' হতে পারে তাদের মাঠে ফেরার আসল মঞ্চ।
রানার ছিটকে যাওয়া ভারতের জন্য বড় এক ধাক্কাই। সামনেই রয়েছে তাদের ১১টি সাদা বলের ম্যাচের দীর্ঘ এক সূচি। যদিও সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হর্ষিতের বদলি হিসেবে মোহাম্মদ সিরাজকে দেখা গেছে, তবে ২০২৭ বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নির্বাচকদের নজরে এখন আরও বেশ কিছু নাম রয়েছে। বিশেষ করে এবারের আইপিএলে অসাধারণ পারফর্ম করা আনশুল কাম্বোজ, মোহসিন খান এবং প্রিন্স যাদবরা যেভাবে নিজেদের উইকেট শিকারি হিসেবে প্রমাণ করেছেন, তাতে তাদের জাতীয় দলে অভিষেক বা প্রত্যাবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অবশ্য ইংল্যান্ডের মাটিতে নতুন বলের কার্যকারিতা এবং কন্ডিশন বিবেচনায় মোহাম্মদ সিরাজ ও প্রসিধ কৃষ্ণাই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন। প্রসিধের বাড়তি বাউন্স এবং সিরাজের নতুন বল সুইং করানোর ক্ষমতা তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে। এর পাশাপাশি অভিজ্ঞ মোহাম্মদ শামি নতুন বলে এখনও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। ইংল্যান্ড সফরের আগে নির্বাচকরা অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখতে চাইলে শামিও হর্ষিতের কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন।

আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে ভারত। স্কোয়াডে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইয়াস্তিকা ভাটিয়া ও স্পিনার রাধা ইয়াদব। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে গতির ঝড় তোলা পেসার নন্দনী শর্মা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল ভারত। সেই সফরের দলে ছিলেন না এই তিন ক্রিকেটার।
শনিবার মুম্বাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও প্রধান নির্বাচক অমিতা শর্মা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন।
দলে ফেরার লড়াইয়ে থাকা অলরাউন্ডার আমানজোত কৌর পিঠের চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তিনি খেলতে পারেননি। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর জানিয়েছেন, আমানজোতকে আরও চার থেকে পাঁচ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে, তার বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া কাশভী গৌতমও চোটে পড়েছেন। ডান হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁকেও পাচ্ছে না ভারত।
আমানজোত ও কাশভীর অনুপস্থিতিতে কপাল খুলেছে রাধা ইয়াদবের। গত বছর ইংল্যান্ড সফরের পর বাদ পড়লেও অভিজ্ঞ এই স্পিনারকে আবারও বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকা অনুষ্কা শর্মা ও উমা ছেত্রীর জায়গা হয়নি এই স্কোয়াডে।
হাঁটুর গুরুতর চোট কাটিয়ে দীর্ঘ সময় পর মাঠে ফিরছেন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। গত বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনি শেষবার খেলেছিলেন। অক্টোবরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় ২০ মাস পর তিনি আবারও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে যাচ্ছেন।
এদএবারের দল ঘোষণায় সবচেয়ে আলোচিত নাম নন্দনী শর্মা। সবশেষ নারী প্রিমিয়ার লিগে (ডব্লিউপিএল) দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ১৭টি উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। গুজরাট জায়ান্টসের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট শিকার ছিল এবারের আসরের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। মূলত সঠিক লাইন-লেন্থ এবং গতির বৈচিত্র্যের কারণেই নির্বাচকদের নজরে এসেছেন এই তরুণ পেসার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। ২৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া সেই সিরিজের জন্য এই একই স্কোয়াড বহাল থাকবে।
বিশ্বকাপে ভারতের মূল অভিযান শুরু হবে ১৪ জুন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে। বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। লর্ডসে ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ওয়ানডে ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও ভারত এখনো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত দল:
হারমানপ্রীত কৌর (অধিনায়ক), স্মৃতি মান্ধানা (সহ-অধিনায়ক), শেফালি ভার্মা, জেমিমাহ রদ্রিগেজ, দীপ্তি শর্মা, রিচা ঘোষ (উইকেটরক্ষক), অরুন্ধতী রেড্ডি, রেণুকা সিং, ক্রান্তি গৌড়, শ্রী চারাণী, শ্রেয়াঙ্কা পাতিল, ভারতী ফুলমালী, ইয়াস্তিকা ভাটিয়া (উইকেটরক্ষক), নন্দনী শর্মা ও রাধা ইয়াদব।

চট্টগ্রামে ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে মিরপুরে সিমিং কন্ডিশন। ম্যাচের মাঝে ৩১ মিনিট মুষলধারে বৃষ্টি সফরকারী দলকে দিয়েছে স্বস্তি। এমন আবহাওয়াটা তাঁদের কাছে হয়েছে সহায়ক। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ৪ পেসার-এক স্পিনারের কম্বিনেশনকে লাগিয়েছে তাঁরা কাজে। ৬.৩ ওভার শেষে মুষলধারে আধ ঘন্টার বৃষ্টি, মাঠ শুকিয়ে খেলা উপযোগী করে ১১৬ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হয়েছে, ২০ ওভার থেকে ১৫ ওভারে নামিয়ে আনা ম্যাচ বাংলাদেশের প্রত্যাশিত স্কোরের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির আগে ৩৯ বলে বাংলাদেশের স্কোর ৫০/৩, বৃষ্টির পর ৪৭ বলে ৭২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৭ উইকেট।
৮৬ বলের ইনিংসে ৩৯টি ডট। স্কোরিং শটের সংখ্যা ৪৭টি। যে ৪৭টি শটের মধ্যে ৯টি বাউন্ডারি, ৩টি ছক্কা। এমন এক ইনিংসে বাংলাদেশ দলের তিন ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফউদ্দিন, রিপন মণ্ডল পেয়েছেন গোল্ডেন ডাক। ৫ ব্যাটারের স্কোর ৬, ৩, ৭, ৫, ২। ডাবল ডিজিটের দেখা পেয়েছেন তিনজন। তিনটি পার্টনারশিপ ২০-এর ঘরে। যার মধ্যে ৪র্থ উইকেট জুটির ২২ বলে ২৮ সবার উপরে!
এমন একটা ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫ ওভার পার করতে পারেনি, থেমেছে ১০২-এ। তারপরও তিন অঙ্কের নাগাল পেয়েছে বাংলাদেশ পুরো সিরিজ জুড়ে ধারাবাহিক ফর্মে থাকা তাওহিদ হৃদয়ের (২৪ বলে ৩ চার, ২ ছক্কায় ৩৩) কল্যানে।
৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ওপেনার সাইফ হাসান ছিলেন ব্যর্থ, ২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও সেই হতাশার বৃত্তে সাইফ। লিনক্সের প্রথম বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে মিড অফে দিয়েছেন ক্যাচ সাইফ হাসান ( ১১ বলে ১৬)।
আর এক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হতাশ করেছেন। প্রথম ম্যাচে ২৫ বলে ২০ রানে সমালোচিত তানজিদ সিরিজের শেষ ম্যাচে ন্যাথান স্মিথকে ক্রস খেলতে যেয়ে বোল্ড হয়েছেন ( ১০ বলে ৬)। স্মিথের পরের ডেলিভারিতে পারভেজ হোসেন ইমন আপার কাট করতে যেয়ে দিয়েছেন থার্ডম্যানে ক্যাচ (১ বলে ০)।
ক্লার্কসনের প্রথম বলে ডিপ মিড উইকেটে থেমেছেন হৃদয় নিউ জিল্যান্ড ফিল্ডার রবীনসনের দুর্দান্ত ডাইর্ভিং ক্যাচে। শুধু এই একটি ক্যাচই নয়, পরের বৈধ ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রবীনসনের লো ক্যাচে থেমেছেন সাইফউদ্দিন।
এই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ড ফিল্ডারদের চোখ ধাঁধানো এই ২টি ক্যাচ ছাড়াও ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ থেকে কুইক থ্রো পেয়ে উইকেট কিপার ক্লেভারের ত্বরিৎ অ্যাকশনে রিশাদের রান আউট কাঁটা পড়াটাও ছিল কিউই ফিল্ডিংয়ের আদর্শ ডিসপ্লে।
প্রথম ওভারে মার খাওয়া (১-০-১১-০) কিউই অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার ইস সোধি দ্বিতীয় স্পেলে (২-০-১১-১) ছিলেন সফল। ক্লার্কসন (২-০-৯-৩) এবং শেষ ২ বলে ইয়র্কারে শরীফুল-রিপন মণ্ডলের উইকেট শিকারী বেন সিয়ার্সের (২.২-০-১২-২) বলে ধুঁকেছে বাংলাদেশ।
তিন দিন আগে চট্টগ্রামে শামীম পাটোয়ারীর নো লুক শট নিয়ে সে কি স্তুতি ? ১৩ বলে ৩১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে দারুণ ফিনিশার এই ব্যাটারের দিকে শনিবার চোখ ছিল মিরপুর স্টেডিয়ামে হাজির ১৭-১৮ হাজার দর্শকের। অথচ, টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে শামীম পাটোয়ারির সেই ব্যাটিং বীরত্ব অনুপস্থিত। লেগ স্পিনার ইস সোধিকে রিভার্স সুইপ করতে যেযে ডিপ মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ। ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ব্যাটিং ধসের শুরুটা সেই থেকে। শেষ ৬ উইকেট পড়েছে মাত্র ১৬ রানে! এই ৬ উইকেটের স্থায়ীত্ব মাত্র ১৭ বল।
১০৩ রানের চ্যালেঞ্জ নিউ জিল্যান্ডকে দিয়েও কিন্তু জয়ের স্বপ্ন দেখেছে বাংলাদেশ দল। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে নিজের দুই ওভারে (২-০-৪-৩) তিন কিউই ব্যাটারকে ফিরিয়ে স্বপ্ন দেখিয়েছেন বাঁ হাতি পেসার শরীফুল। ব্রেক না দিয়ে বোলিং কোটার শেষ ওভারে জ্যাকবস-ফক্সফোর্টের চওড়া ব্যাটে ৩ বাউন্ডারি খেয়ে হতাশ শরীফুল, সেই হতাশাটাই আচ্ছন্ন করেছে বাংলাদেশ দলকে। স্কোরশিটে ৩৩ উঠতে ৪ উইকেট হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের শঙ্কা ভর করেছে যাদের, অবিচ্ছিন্ন ৫ম উইকেট জুটির ৪০ বলে ৭০ রানে তাঁরাই কি না ২০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতে ১-১ এ সমতায় শেষ করেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ১২তম ওভারে লেগ স্পিনার বেভন জ্যাকবসের ঝড় দেখেছে দর্শক। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে রিশাদকে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কায় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ফিফটির দেখা পেয়েছেন জ্যাকবস ( ২৯ বলে ফিফটি)। রিশাদের পরের ২ বলে জ্যাকবস মেরেছেন বাউন্ডারি এবং উইনিং শটটি ছক্কা। হার না মানা ৩১ বলে ৬২ রানের ইনিংসে ৫ চারের পাশে ৩ ছক্কায় ৬২ রানে ফিনিশার এই জ্যাকবসই। অথচ, ৪৫ রানের মাথায় তাঁকে রিটার্ন ক্যাচে ফিরিয়ে দেয়ার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদী।
৭০ বলের ইনিংসে ২০টির বেশি ডট দিতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। খেয়েছে ৮ চার, ৪ ছক্কা।

বৃষ্টিভেজা দিনে শুরু থেকেই প্রায় ভরে উঠল গ্যালারি। মাঝে বৃষ্টির সময় তারা খুঁজে নিলেন আশ্রয়। এর আগে-পরে স্লোগানে স্লোগানে গ্যালারি মাতালেন দর্শকরা। কিন্তু তাদের আনন্দের উপলক্ষ দিতে পারল না বাংলাদেশ। হতশ্রী ব্যাটিং-বোলিংয়ে হেরে গেল স্বাগতিকরা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ১১.৪ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় সফরকারীরা।
এই জয়ে ১-১ ব্যবধানে সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি করল দুই দল। মাঝে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি পরিত্যক্ত হয়।
অল্প পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ওভারে কেটেনি ক্লার্স ও ড্যান ক্লেভারকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার। দুই ব্যাটারই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে খেলেছিলেন পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস।
নিজের পরের ওভারে ফিরে প্রথম বলেই চমৎকার ডেলিভারিতে টিম রবিনসনকে বোল্ড করেন শরিফুল। তখন পর্যন্ত একাই দলকে এগিয়ে নিতে থাকা রবিনসন ১৪ বলে করেন ২৩ রান।
এরপর মেহেদি হাসানের বলে নিক কেলি (৫ বলে ১) বোল্ড হয়ে ফিরলে আরও জমে ওঠে ম্যাচ। তবে বাংলাদেশকে আর আনন্দের সুযোগ দেননি বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। দুজন মিলে মাত্র ৪০ বলে ৭১ রানের জুটি দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।
৫ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কা মেরে ৩১ বলে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জ্যাকবস। এটিই তার প্রথম ফিফটি। ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন ফক্সক্রফট।
৩ ওভারে ১৯ রান খরচ করে ৩ উইকেট নেন শরিফুল।
এর আগে ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে দারুণ দুটি বাউন্ডারি মেরে ১২ রান নেন সাইফ হাসান। তবে চতুর্থ ওভারে অভিষিক্ত জেডেন লেনক্স আক্রমণে আসতেই আউট হয়ে যান তিনি। ছক্কার খোঁজে হাওয়ায় ভাসিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন ১১ বলে ১৬ রান করা ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চম বোলার হিসেবে অভিষেকে প্রথম বলে উইকেট পেলেন লেনক্স। আর নিউ জিল্যান্ডের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। আগের দুজনও (লকি ফার্গুসন ও কোল ম্যাকঙ্কি) করেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই।
এরপর পঞ্চম ওভারে জোড়া আঘাত করেন এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা বেন সিয়ার্স। ক্রস ব্যাটে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হন ১০ বলে ৬ রান করা তানজিদ হাসান তামিম। পরের বলে আপার কাট করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমন।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দেন লিটন। বৃষ্টি নামার আগে পাল্টা আক্রমণে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এছাড়া তার সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ৫ বলে ২ রান করা তাওহিদ হৃদয়।
সপ্তম ওভারে বৃষ্টি নামলে লম্বা সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় খেলা। প্রায় ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট অপেক্ষার পর ৫ ওভার করে কমিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় আবার খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়াররা।
নতুন করে খেলা শুরুর পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন। জশ ক্লার্কসনের বলে ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়ে সুইপার কাভারে ক্যাচ দেন ১৭ বলে ২৬ রান করা লিটন।
পরে ইশ সোধির বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন শামীম হোসেন। পরের ওভারে ক্লার্কসনের পরপর দুই বলে হৃদয় (২৪ বলে ৩৩) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফিরে গেলে ৮৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে কোনোমতে একশ পার করলেও পুরো ১৫ ওভার খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ওভারে প্রথম দুই বলে বোল্ড হন শরিফুল ইসলাম ও রিপন মন্ডল। ৬ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন শেখ মেহেদি হাসান।
নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে ২ ওভারে ৯ রানে ৩ উইকেট নেন ক্লার্কসন। এছাড়া বেন সিয়ার্স ও নাথান স্মিথের শিকার ২টি করে উইকেট।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ রান। প্রথম বলে ফিরে গেলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে পরের তিন ওভারে ৮ রান নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুললেন সুলতানা খাতুন। সমীকরণ দাঁড়াল ২ বলে ৬ রানে। সেটি আর মেলাতে পারলেন না সুলতানা। খুব কাছে গিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা নারী দলের কাছে ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে কম ব্যবধানে পরাজয়ের রেকর্ড।
বৃষ্টিতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর শুরু হলে ৯ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৮৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে দারুণ লড়াই করলেও ৬ উইকেটে ৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রতিটি জিতে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল শ্রীলঙ্কা।
৯ ওভারে ৮৮ রানের লক্ষ্যে প্রথম ওভারে জোড়া চার মেরে দেন দিলারা আক্তার দোলা। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তরুণ ওপেনার। পরের ওভারেই তাকে ড্রেসিং রুমের পথ দেখান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু।
আরেক ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতাও ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২ চারে ১১ বলে ১৫ রান করে ফেরেন জয়িতা। তিন নম্বরে নেমে সোবহানা মোস্তারিও ইতিবাচক ব্যাটিং করলে ৬ ওভারের মধ্যে ৫০ রান করে ফেলে বাংলাদেশ।
মিথালি অযোধ্যার বলে বড় শটের চেষ্টায় আউট হয়ে যান সোবহানা। ১টি করে চার-ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২১ রান। এরপর দায়িত্ব পড়ে জ্যোতির কাঁধে। দায়িত্বশীল ব্যাটে তিনি দলকে এগিয়ে নেন জয়ের পথে।
শেষ দিকে গিয়ে কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণে জ্যোতি ফেরার পর চেষ্টা করেন সুলতানা। কিন্তু জয়ের জন্য তা যথেষ্ট হয়নি।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন সুগন্ধিকা কুমারি ও চামারি আতাপাত্তু।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন আতাপাত্তু ও ইমেশা দুলানি। ৪ চারে ১০ বলে ১৯ রান করেন দুলানি। শেষ বলে রান আউট হওয়া আতাপাত্তুর ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ বলে ৪১ রান।
এছাড়া শেষ দিকে কাভিশা দিলহারি করেন ৭ বলে ১৫ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে ২ ওভারে মাত্র ৮ রানে ৩ উইকেট নেন সুলতানা।