
এমনিতেই লাকাতুরা টি গার্ডেনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি যেনো সবুজের সমারোহ। দেশের সবচেয়ে সুদৃশ্য ক্রিকেট ভেন্যুতে টেস্টের জন্য যে উইকেটটি বানানো হয়েছে, তার সঙ্গে আউটফিল্ড আলাদা করার উপায় নেই। বৃষ্টি পেয়ে আউটফিল্ড-পিচ সবুজে একাকার। এমন এক মাঠে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মানেই বড় একটা প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ন হওয়া। সেই প্রতিরোধ যুদ্ধে দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৩ উইকেট। পাকিস্তান পেসার মুহাম্মদ আব্বাস (৭-১-২২-২) এবং খুররম শেহজাদের (৭-০-৩৪-১) বোলিংয়ে প্রথম দিনের লাঞ্চ ব্রেকের সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০১/৩।
পাকিস্তানের পেস অ্যাটাক নিয়ে সে দেশের সাবেক এবং মিডিয়ার ব্যাপক সমালোচনায় পেস কম্বিনেশনে পরিবর্তন এনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এই পরিবর্তন আনতে যেয়ে বাদ দেয়া হয়েছে দলটির সবচেয়ে গতির বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। এর পেছনে কারণটা অবশ্যই প্রথম দিনের প্রথম সেশনে দিয়েছে পাকিস্তানের পরিবর্তিত পেস অ্যাটাক। মিডিয়াম পেস দিয়ে, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাটারদের চাপে ফেলতে ছোট ছোট সুইংয়ের কাজ ভালই করেছেন মুহাম্মদ আব্বাস, খুররম শেহজাদ।
দিনের প্রথম ঘন্টায় মুহাম্মদ আব্বাসের এক স্পেলে (৬-১-২০-২) বাংলাদেশ হারায় ২ উইকেট (৫৫/২)।মিরপুর টেস্টে মাহামুদুল হাসান জয়ের দুটি ইনিংসই ছিল সিঙ্গল ডিজিটের ঘরে। ৮ ও ৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি ওই টেস্টে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে করেছেন আরো বেশি হতাশ। প্রথম দিনে সকালের সেশনে টিকলেন মাত্র দুই বল। ইনিংসের প্রথম বলে এলবিডব্লুর আবেদনে বেঁচে যান জয়। আব্বাসের দ্বিতীয় ডেলিভারি ছিল শর্ট, সেই বলে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে (০)।
সাদমানের ইনজুরিতে তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক ছিল প্রত্যাশিত। ৩৪ ওডিআই, ৪৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই ওপেনারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে সিলেটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের ৩৩ মাস পর টেস্ট ঘরানায় পথচলাটা তার শুভ হয়নি। আব্বাসের ৫ম ওভারে আউটসাইড অফ ডেলিভারি ছিল মাঝারিমানের উচ্চতায়। সেই বলটিকে মিড অনের ওপর দিয়ে তুলে খেলতে যেয়ে ভুল করেছেন তাকে স্রেফ আত্মহত্যা বলাই সমীচিন। টপ এজ হয়ে বলটি আকাশে । আব্বাসের রিটার্ন ক্যাচে থেমেছেন তানজিদ হাসান তামিম (৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬)।
খুররমের সেকেন্ড স্পেলের প্রথম ওভারে মুমিনুলের ধৈর্যচ্যুতিও টেস্টে তার চরিত্রের সঙ্গে মানানসই নয়। বল বাতাসেই একটু সুইং করে ভেতরে ঢুকেছে। সামনে পা নিয়ে খেললেও বল তাঁর ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক খুঁজে নিয়েছে।ক্রস খেলতে যেয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি (৪১ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২২)। লাঞ্চ ব্রেকের সময় ব্যাটিংয়ে আছেন শান্ত ২৬ এবং মুশফিকুর রহিম ১৮ রানে।
দিনের প্রথম ঘন্টায় পাকিস্তান পেসার হাসান আলীর ইনজুরি উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টকে।
ইনিংসের অষ্টম ওভারে হাসান আলীর পঞ্চম বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ডান দিকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচটি নিতে পারেননি। উল্টো পিচের ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরে অবশ্য স্ক্যান করে মাঠে ফিরেছেন হাসান আলী।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ৭:৫০ পিএম

লেজের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করলেন ১৮০ রান। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন। মাঝেমধ্যেই তাসকিন আহমেদ-শরিফুলদের স্ট্রাইক না দিতে সিঙ্গেল নেননি। তবে হঠাৎ লিটন দাসের অসাধারণ এই ইনিংস ‘পূর্ণতা’ না পাওয়ার একটা শঙ্কাও জাগে। লিটনের ৯৯ রানের সময় অলআউট হতে পারত বাংলাদেশ। ওই পরিস্থিতিতে কি চিন্তা করছিলেন তিনি? হার্টবিট তো বেড়েই যাওয়ার কথা!
সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে উদ্ধার করা লিটন মিস করতে পারতেন সেঞ্চুরি। শতক থেকে এক রান দূরে থাকতে ১০ নম্বর ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল পড়েন এলবিড্লুর ফাঁদে। পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খানের বল লাগে শরিফুলের পায়ে আম্পায়ারের আঙুলও উঠে গেল! তবে মুহূর্তেই রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শরিফুল। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেল বলটি লেগ স্টাম্প লাইনের বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছে, ফলে বেঁচে গেলেন শরিফুল! পাশপাশি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ১২৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা লিটনও।
৭০ ওভার পুরোটাই খেলতে হয়েছে শরিফুলকে। ওই মুহূর্তে শরিফুল আউট হলে ১১ নম্বর ব্যাটার নাহিদ রানাও দ্রুত ফিরতে পারত, তাতে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হতে পারত লিটনের। তখন কি চলছিল উইকেটকিপার ব্যাটারের মনে? সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা লিটনের মুখ থেকেই শোনা যাক,
‘আমি অনেক টেনশনে ছিলাম, বিশেষ করে যখন শরিফুলের পায়ে লাগছে আরকি। আমি ওরে বারবার গিয়ে বলতেছিলাম যে সামনে খেলার জন্য কারণ ও তো অনেক লম্বা, সো ব্যাক অফ দ্য লেংথে গেলেই বলটা পায়ে লাগার চান্স বেশি। কিন্তু ও খুবই ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’
সিলেটের উইকেটে পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খানের বিপক্ষে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটারদের আগলে রাখাটা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শেষ দিকে দলের টেল-এন্ডারদের ব্যাটিং সামর্থ্যের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছিলেন না লিটন, যার কারণে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন তিনি। শেষ ব্যাটারদের সামলানোর সেই স্নায়ুচাপের মুহূর্ত নিয়ে লিটন দাস বলেন,
‘ওই যে আমি বললাম যে আমার টেল-এন্ডারগুলো তো অতটা ভালো না যে আমি কনফিডেন্স সহকারে দিয়ে দিতে পারব ছয় বলের জন্য। তাই একজনকে দিয়েছিলাম সে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছে। সো ওর পরে আমি আরও নিজে সতর্ক হয়ে গেছি যে খেলা আমারই লাগবে আর যত কম দেওয়া যায় আরকি এক-দুই বল।’
লিটনের ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ দুর্দান্ত ইনিংসই এসেছে দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে। বিশেষ করে টেস্টে দলের কঠিন পরিস্থিতি কি লিটন বাড়তি উপভোগ করেন? এমন প্রশ্নের মুখে নিজের ব্যাটিং পজিশন ও ভিন্ন ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেন এই স্টাইলিশ ব্যাটার। লিটন জানান, পরিস্থিতির ওপর তাঁর হাত না থাকলেও নিজের অর্পিত দায়িত্বটা তিনি সবসময় উপভোগ করার চেষ্টা করেন।
উইকেটের পরিস্থিতি আর ম্যাচের অবস্থান অনুযায়ী লিটনের দায়িত্বটা একেক সময় একেক রূপ নেয়, যেখানে কখনো টপ-অর্ডারের তৈরি করা ভিতে রান বাড়াতে হয়, আবার কখনো ৬০-৭০ ওভার পর পুরোনো ও টার্নিং বলের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়। বৈচিত্র্য এই দায়িত্বই উপভোগ করেন লিটন, ‘দেখবেন কোনো কোনোদিন টপঅর্ডার উপর থেকে রান করতেছে। আমি ব্যাটিং করতেছি ৬০-৭০ ওভারের সময় নামলাম উইকেটে বল ঘোরা শুরু হলো। তো আমার ক্রিকেটটাই এমন যে আমাকে নির্দিষ্ট সময়টা আসবে সে সময়টাএনজয় করে খেলা। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ কিন্তু এখানেও উপভোগের অনেক কিছু ছিল।
১৬ মে ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম রাউন্ডে দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন, শাহাদাত হোসেন দীপু, আশিকুর রহমান শিবলি। বল হাতে কারিশমা দেখিয়ে ৬ উইকেট পেয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
মোহামেডানকে হারিয়ে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ ওভারে গিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। পাঁচ ম্যাচের সবকটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তারা। প্রথম পরাজয়ে দুইয়ে নেমে গেছে মোহামেডান।
মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তার ১০৭ বলে ৯৯ রানের সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন ৫২ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ৪৯ রানের ইনিংস খেললে ৬ উইকেটে ৩০৩ রান করে মোহামেডান। আবু হাশিম নেন ৪ উইকেট।
রান তাড়ায় চমৎকার সেঞ্চুরি করেন শাহাদাত। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১২৩ বলে ১১৮ রান। এছাড়া আকবর আলি ৩০ বলে ৪০ ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী ২১ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললে শেষ ওভারে গিয়ে জিতে যায় প্রাইম ব্যাংক। সাইফ উদ্দিন নেন ৪ উইকেট।
আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
পরপর দুই ম্যাচ হেরে যাত্রা শুরুর পর টানা তৃতীয় জয় পেল আবাহনী লিমিটেড। মিরপুরে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ৬ উইকেটে হারাল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২০৯ রান করতে পারে বসুন্ধরা। জবাবে ৩৯.২ ওভারে জিতে যায় আবাহনী।
পাঁচ ম্যাচে তিন জয়ে টেবিলের তিন নম্বরে আবাহনী। সমান ম্যাচে দুই জয়ে বসুন্ধরার অবস্থান নবম।
বসুন্ধরার পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এছাড়া নাহিদুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৯ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন তরুণ পেসার রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ।
রান তাড়ায় আবাহনীর হয়ে ৩ চার, ৫ ছক্কায় দলের সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এছাড়া ৫৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির রহমান। জাকের আলি অনিকের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান।
মিঠুনের ৮ ছক্কার তাণ্ডব
ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৬ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলেছেন ঢাকা লেপার্ডসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। এছাড়া মইন খানের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৯ রান।
এই দুজনের পাশাপাশি ইফতেখার হোসেন ইফতি ৫১ রানের ইনিংস খেলে ৩৫১ রানের পুঁজি পায় ঢাকা লেপার্ডস। জবাবে মাত্র ২৩১ রানের গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। গোলাম কিবরিয়া শাকিল করেন সর্বোচ্চ ৫১ রান। ১২০ রানের জিতে যায় লেপার্ডস।
পাঁচ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে লেপার্ডস।
শিবলির সেঞ্চুরি, রূপগঞ্জের বিশাল জয়
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২০৫ রানে হারিয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৫৪ রান করে রূপগঞ্জ। জবাবে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় গুলশান।
পাঁচ ম্যাচে রূপগঞ্জের এটি তৃতীয় জয়। গুলশান জিতেছে এক ম্যাচ।
রূপগঞ্জের পক্ষে ১৩০ বলে ১১৯ রানের ইনিংস খেলেন আশিকুর রহমান শিবলি। এর আগে এক ম্যাচে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এবার পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ।
এছাড়া রবিউল ইসলাম রবি ৭৩ বলে ৬৫ ও সামিউর বশির রাতুল ৩০ বলে করেন ৪৭ রান।
গুলশানের পক্ষে ৬৫ বলে ৬১ রান করেন শাহরিয়ার সাকিব। নাসুম আহমেদ ৩২ রানে নেন ৪ উইকেট।
সাকলাইনের ৬ উইকেট
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। জবাবে মাত্র ৩৯.৩ ওভারে জিতে যায় সিটি ক্লাব।
এটি তাদের তৃতীয় জয়। এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি রূপগঞ্জ টাইগার্স।
প্রতিপক্ষের ৭ উইকেটের মধ্যে একাই ৬টি নেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩৭ রান খরচ করেন তিনি।
রূপগঞ্জের পক্ষে ১৪৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদুল হাসান লিমন। এছাড়া আব্দুল মজিদ ৮৫ বলে ৫২ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ৩৭ বলে করেন ৫০ রান।
রান তাড়ায় ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৫ বলে ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাদিকুর রহমান। এছাড়া এনামুল হক এনামের ব্যাট থেকে আসে ১ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৫ বলে ৯০ রান।
গাজী গ্রুপকে হারাল অগ্রণী ব্যাংক
পিকেএসপিতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। প্রীতম কুমারের ৬২ বলে ৭২ রানের সৌজন্যে ২৫২ রানের পুঁজি পায় গাজী গ্রুপ। জবাবে ৪৮.৫ ওভারে জিতে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
শুভাগত হোম ৬৭ বলে ৭৮ রান করে আউট হন। নাসির হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৭৯ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ম্যাচ সেরাও হন নাসির। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন আরিফ আহমেদ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তফসিল প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন বিসিবি নির্বাচন হবে।
নির্বাচনে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-১ থেকে ১০ জন, ক্যাটাগরি-২ থেকে ১২ জন এবং ক্যাটাগরি-৩ থেকে ১ জন পরিচালক পদের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বিকেল ৪টায় মিরপুরের বিসিবি কার্যালয় ও বোর্ডের ওয়েবসাইটে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকার ওপর ১৮ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আপত্তি গ্রহণ করা হবে এবং ১৯ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আপত্তির ওপর শুনানি হবে। একই দিন বিকেল ৫টায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা আগামী ২০ ও ২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মিরপুর বিসিবি কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসারের কক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকার (অফেরতযোগ্য) বিনিময়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। সংগৃহীত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ২১ ও ২২ মে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে।
২৩ মে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপীল গ্রহণ ও শুনানি হবে ২৪ মে। সেদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপীল গ্রহণ এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে এবং একই দিন বেলা ২টায় প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পোস্টাল বা ই-ব্যালটের ব্যবস্থা রয়েছে। ২৫ মে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের রেজিস্টার্ড ই-মেইল থেকে নির্দিষ্ট ই-মেইল আইডিতে (bcbec2026@gmail.com) আবেদন করতে হবে। তারপর ১ জুন থেকে ৬ জুনের মধ্যে ভোটারদের বর্তমান ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট এবং নির্ধারিত ই-মেইলে ই-ব্যালট প্রেরণ করা হবে। পূরণকৃত পোস্টাল ও ই-ব্যালট আগামী ৭ জুন দুপুর ১টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয়ে বা নির্ধারিত ই-মেইলে পৌঁছাতে হবে, এর পরে প্রাপ্ত কোনো ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আগামী ৭ জুন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি বোর্ড রুমে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে ওই দিনই সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
১৬ মে ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম

ব্যাটারদের ব্যর্থতার মিছিলে শক্ত হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন লিটন কুমার দাস। লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে লড়াকু ব্যাটিংয়ে তিনি পেলেন সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া। কিন্তু বাকিদের হতাশায় বেশি বড় হলো না পুঁজি। তাই দিন শেষে এগিয়েই রইল পাকিস্তান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনে লিটনের সেঞ্চুরির পরও ২৭৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। পরে ৬ ওভারের জন্য ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান করেছে পাকিস্তান।
প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে পরের সেশনে ২৮ ওভার খেলে মাত্র ৬৭ রান করতে আরও ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা। শেষ সেশনে ২৩ ওভার খেলে বাকি ৪ উইকেটে ১১০ রান করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশকে আড়াইশ পার করানোর কারিগর লিটন। একপর্যায়ে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে বাকি ৪ উইকেটে তারা করে আরও ১৬২ রান। যেখানে লিটনের একার অবদান ১২৪ রান।
টেস্ট ক্যারিয়ারে লিটনের এটি ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি হয়ে গেল ৩টি। এই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটারের একটির বেশি সেঞ্চুরি নেই।
মেঘাচ্ছন্ন সকালে কয়েনভাগ্য পাশে পান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাবর আজমকে ফেরানোর পাশাপাশি মোট তিন পরিবর্তন নিয়ে আগে ফিল্ডিং নেন তিনি। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে প্রথম দিনই বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়েছে বোলাররা।
সাদমান ইসলামের চোটে এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তানজিদ হাসান তামিমের। বাংলাদেশের ১০৯তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিজাত সংস্করণে খেলতে নেমে শুরুটা ইতিবাচক করেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি তিনি।
অন্য প্রান্তে শুরুতেই ফেরেন আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ইনিংসের প্রথম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের দ্বিতীয় বলে আরও একবার খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ২২ টেস্টের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৮ বার শূন্য রানে ফিরলেন তরুণ এই ওপেনার।
পরে মুমিনুল হককে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তামিম। ইতিবাচক ব্যাটিং করে প্রতি ওভারে গড়ে চারের বেশি রান নিতে থাকেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে বেশিক্ষণ টানতে পারেনি এই জুটি। আব্বাসের শর্ট বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন তামিম।
অভিষেক ইনিংসে ৩ চারে ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর মুমিনুল বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শাহিন শাহ আফ্রিদির জায়গায় একাদশে ফিরে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন খুররাম। আগের পাঁচ ইনিংসেই ফিফটি করা মুমিনুল এদিন ৪১ বলে করতে পারেন ২২ রান।
সেশনের বাকি অংশে আর বিপদ ঘটতে দেননি শান্ত ও মুশফিক। শান্ত ৫১ বলে ২৬ ও মুশফিক ৩১ বলে ১৮ রানে দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু করেন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর একদমই সুবিধা করতে পারেননি তারা দুজন।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান মুশফিক। সাজিদ খানের অফ স্পিন তার গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটকিপারের হাতে গেলেও আউট দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই ১৮ রানে বেঁচে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার।
তবে বেশিক্ষণ তিনি টিকতে পারেননি। খুররাম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন ২৩ রান করা মুশফিক। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি তার। রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্টাম্প হালকা ছুঁয়ে যেত বল। অর্থাৎ আম্পায়ার্স কল।
মুশফিক ফেরার আগে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন শান্ত। আব্বাসের চমৎকার আউটসুইং ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হন ৭৪ বলে ২৯ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক। বামে নিচু হয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে শাহজাদের শর্ট বলে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো অযথা পুল শট খেলে ফাইন লেগ সীমানায় ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন ও তাইজুল। দুজন মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েন ৬০ রানের জুটি। যেখানে তাইজুলের অবদান শুধু ১৬ রান। লিটনের ফিফটির কিছুক্ষণ আগে সাজিদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তাইজুল।
এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আবার লড়াই শুরু করেন লিটন। ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি পূরণ করে কিছুটা মনোসংযোগ হারান তিনি। তাতেই ঘটতে পারত বিপদ। তবে পাকিস্তানের ভুল সিদ্ধান্তে বেঁচে যান লিটন।
ইনিংসের ৬১তম ওভারে শাহজাদের পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে বল যায় উইকেটকিপারের হাতে। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই বেঁচে যান লিটন। পরে করেন চমৎকার এক সেঞ্চুরি।
তাসকিনের সঙ্গে লিটনের জুটিতে আসে ৩৮ রান। শাহজাদের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ৭ রান করা তাসকিন। পরে শরিফুলকে নিয়ে এগোতে থাকেন লিটন। পরিস্থিতি বুঝে ওভারের চতুর্থ, পঞ্চম বা শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে বেশিরভাগ সময় স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন তিনি।
শাহজাদের বলে বাউন্ডারি মেরেই পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। শতক ছোঁয়ার ঠিক পরের বলে পুল শট করে ছক্কা মেরে নিজের অভিপ্রায়ও পরিষ্কার করে দেন লিটন। এরপর ইতিবাচক ব্যাটিংয়েই দলকে এগিয়ে নেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত হাসান আলির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন লিটন। সব মিলিয়ে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১৫৯ বলে তিনি খেলেন ১২৬ রানের ইনিংস। যা বাংলাদেশকে পাইয়ে দেন আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি।
আর শরিফুল অপরাজিত থাকেন ১২ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে শাহজাদ ৪ ও আব্বাস নেন ৩ উইকেট।
শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে দলের বিপদ ঘটতে দেননি পাকিস্তানের দুই তরুণ ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল। আজান ১৩ ও ফজল ৮ রানে নতুন দিনের খেলা শুরু করবেন।

মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ের রিপ্লেটা সিলেটে দেখা যায়নি। মিরপুর টেস্টে প্রথম দিন নির্বিঘ্নে পাড়ি দিয়ে দ্বিতীয় দিনে টেনে নিয়েছে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস। ৪১৩ রানে থেমেছে বাংলাদেশ সেই ম্যাচে। সেখানে সিলেট টেস্টে প্রথম দিন পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। খেলেছে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৪০.১ ওভার কম! থেমেছে ২৭৮ রানে। প্রথম দিনের শেষ আধ ঘন্টা পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি নির্বিঘ্নে পাড়ি দিয়ে ৬ ওভারে করেছে ২১ রান। পাকিস্তান এখনো প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে আছে ২৫৭ রানে।
বাংলাদেশ ব্যাটারদের আত্মাহুতির মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন লিটন দাস (১২৬)। তাঁর ব্যাটিং এবং ৭ম থেকে ৯ম উইকেট জুটিতে যথাক্রমে ৬০, ৩৮,৬৪ রানে নেতৃত্ব দেয়ায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস টেনে নিতে পেরেছে ৭৭ ওভার পর্যন্ত।
পাকিস্তানের দুই পেসার মুহাম্মদ আব্বাস এবং খুররম শেহজাদের মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে এলোমেলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাটারদের আত্মাহুতির প্রবণতায় নামতা গুনে টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনে পড়েছে ৩টি করে উইকেট। শেষ সেশনের প্রথম ৭০ মিনিটে হাসান আলী-সাজিদ খানের বোলিংয়ে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৪ উইকেট।
দিনের প্রথম সেশনে ১০১ রান যোগ করে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৩ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে সমসংখ্যক উইকেট হারিয়ে যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল মাত্র ৬৭ রান। শেষ সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে বাংলাদেশ ১১০ রান।
এমনিতেই লাকাতুরা টি গার্ডেনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি যেনো সবুজের সমারোহ। দেশের সবচেয়ে সুদৃশ্য ক্রিকেট ভেন্যুতে টেস্টের জন্য যে উইকেটটি বানানো হয়েছে, তার সঙ্গে আউটফিল্ড আলাদা করার উপায় নেই। বৃষ্টি পেয়ে আউটফিল্ড-পিচ সবুজে একাকার। এমন এক মাঠে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মানেই বড় একটা প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ন হওয়া। সেই প্রতিরোধ যুদ্ধে দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৩ উইকেট। পাকিস্তান পেসার মুহাম্মদ আব্বাস (৭-১-২২-২) এবং খুররম শেহজাদের (৭-০-৩৪-১) বোলিংয়ে প্রথম দিনের লাঞ্চ ব্রেকের সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০১/৩।
পাকিস্তানের পেস অ্যাটাক নিয়ে সে দেশের সাবেক এবং মিডিয়ার ব্যাপক সমালোচনায় পেস কম্বিনেশনে পরিবর্তন এনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এই পরিবর্তন আনতে যেয়ে বাদ দেয়া হয়েছে দলটির সবচেয়ে গতির বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। এর পেছনে কারণটা অবশ্যই প্রথম দিনের প্রথম সেশনে দিয়েছে পাকিস্তানের পরিবর্তিত পেস অ্যাটাক। মিডিয়াম পেস দিয়ে, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাটারদের চাপে ফেলতে ছোট ছোট সুইংয়ের কাজ ভালই করেছেন মুহাম্মদ আব্বাস, খুররম শেহজাদ।
দিনের প্রথম ঘন্টায় মুহাম্মদ আব্বাসের এক স্পেলে (৬-১-২০-২) বাংলাদেশ হারায় ২ উইকেট (৫৫/২)।মিরপুর টেস্টে মাহামুদুল হাসান জয়ের দুটি ইনিংসই ছিল সিঙ্গল ডিজিটের ঘরে। ৮ ও ৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি ওই টেস্টে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে করেছেন আরো বেশি হতাশ। প্রথম দিনে সকালের সেশনে টিকলেন মাত্র দুই বল। ইনিংসের প্রথম বলে এলবিডব্লুর আবেদনে বেঁচে যান জয়। আব্বাসের দ্বিতীয় ডেলিভারি ছিল শর্ট, সেই বলে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে (০)।
সাদমানের ইনজুরিতে তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক ছিল প্রত্যাশিত। ৩৪ ওডিআই, ৪৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই ওপেনারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে সিলেটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের ৩৩ মাস পর টেস্ট ঘরানায় পথচলাটা তার শুভ হয়নি। আব্বাসের ৫ম ওভারে আউটসাইড অফ ডেলিভারি ছিল মাঝারিমানের উচ্চতায়। সেই বলটিকে মিড অনের ওপর দিয়ে তুলে খেলতে যেয়ে ভুল করেছেন তাকে স্রেফ আত্মহত্যা বলাই সমীচিন। টপ এজ হয়ে বলটি আকাশে । আব্বাসের রিটার্ন ক্যাচে থেমেছেন তানজিদ হাসান তামিম (৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬)।
খুররমের সেকেন্ড স্পেলের প্রথম ওভারে মুমিনুলের ধৈর্যচ্যুতিও টেস্টে তার চরিত্রের সঙ্গে মানানসই নয়। বল বাতাসেই একটু সুইং করে ভেতরে ঢুকেছে। সামনে পা নিয়ে খেললেও বল তাঁর ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক খুঁজে নিয়েছে।ক্রস খেলতে যেয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি (৪১ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২২)।
লাঞ্চ ব্রেকের পরের ঘন্টাটি ছিল দুর্যোগপূর্ণ। এই ঘন্টায় খুররম শেহজাদ ( ২-০-৫-২) এবং মুহাম্মদ আব্বাসের (৫-২-৪-১) দুটি স্পেলে স্কোরশিটে মাত্র ১৬ রান যোগ করে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৩ উইকেট। তিনটি উইকেটই দিয়ে এসেছেন শান্ত, মুশফিক, মিরাজ। লাঞ্চের পর আধ ঘন্টার প্রতিরোধ ভেঙ্গেছে শান্ত'র দ্বিধা-দ্বন্দ্বে নেয়া হাফ হার্টেড শটে। মুহাম্মদ আব্বাসের আউটসাইড অফ ডেলিভারি খেলব, কি খেলব না করতে করতে শেষ মুহূর্তে খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত (৭৪ বলে ৩ বাউন্ডারি, ২৯ রান)। তার ৪ ওভার পর খুররম শেহজাদের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে লেগ সাইডে খেলতে যেয়ে ব্যাট-বলের সংযোগ ঘটাতে পারেননি মুশফিক। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। আম্পায়ার্স কলে এলবিডাব্লুউতে থেমেছেন তিনি (৬৪ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৩)। টি ব্রেকের আগের ওভারে খুররম শেহজাদের শর্ট বলে মাথা না ঝুঁকিয়ে হুক করতে যেয়ে ডিপ ফাইন লেগে ধরা পড়েছেন মিরাজ (৬ বলে ৪)।
১০৬ থেকে ১১৬-এই ১০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বেসামাল বাংলাদেশ দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন লিটন-তাইজুল।
লিটন-তাইজুলের ৭ম উইকেট জুটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে ৬০ রানে। অফ স্পিনার সাজিদ খানের বলে লেট কাট করতে যেয়ে তাইজুল বোল্ড আউট হয়েছেন (৪০ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৬ রান)। খুররম শেহজাদকে লফটেড খেলতে যেয়ে স্লিপে দিয়েছেন তাসকিন ক্যাচ (১৩ বলে ৭)।
টি-ব্রেকের পর ৯৩ বলে ফিফটি উদযাপনের পর ৫২ রানের মাথায় খুররম শেহজাদের বলে কট বিহাইন্ড থেকে বেঁচে গেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক রিভিউ আপীল না নেওয়ায়। এর পর আর ভুল করেননি। ৭৬ থেকে সেঞ্চুরি, এই ২৪ রান করেছেন ঝটপট। মেরেছেন ৫ চার, ১ ছক্কা। খুররম শেহজাদের শর্ট পিচ ডেলিভারিতে দর্শনীয় সুইপে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছক্কায় শুরু এই ঝড়। পরের ওভারে সাজিদ খানকে মেরেছেন ২টি বাউন্ডারি। তার পরের ওভারে খুররমকে ২টি বাউন্ডারি। ৯৯-এ এসে মোটেও বিচলিত হননি। ৭১তম ওভারের ২য় বলে খুররম শেহজাদকে দিনের সেরা শট কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৫৩ বলে ১৩ চার, ১ ছক্কায় শোভিত সেঞ্চুরির শেষ ৫০টি রান এসেছে ওয়ানডে স্টাইলে, ৬০ বলে। যে ৬০ টি বলের মধ্যে ৯টিকে বাউন্ডারি, একটিকে ছক্কায় পরিণত করেছেন লিটন দাস।
টেল এ্রন্ডার পার্টনারদের উপর ভরসা রাখতে না পেরে সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের স্কোর দ্রুত বাড়িয়ে নিতে ঝুঁকিপূর্ণ শটে মনোনিবেশ করেছিলেন লিটন। খুররম শেহজাদকে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে প্রকারান্তরে সে কথাই জানিয়ে দিয়েছেন লিটন। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি লিটন। হাসান আলীর বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন লিটন (১৫৯ বলে ১৬ চার, ২ ছক্কায় ১২৬)। ৭৯.২৪ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিংয়ে নিজের ইতিবাচক মানসিকতার কথাই জানিয়ে দিয়েছেন লিটন দাস।
শাহিন শাহ আফ্রিদির পরিবর্তে টেস্ট খেলতে নেমে খুররম শেহজাদ ছিলেন এদিন সফল বোলার (১৭-১-৮১-৪)। মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারী পেস বোলার মুহাম্মদ আব্বাস পেয়েছেন ৩ উইকেট (১৬-৩-৪৫-৩)। রিটার্ন ক্যাচ নিতে যেয়ে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পুনরায় খেলতে এসে আর এক পেসার হাসান আলী পেয়েছেন ২ উইকেট ( ১১.৫-১-৪৯-২)।