
অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে আবারও সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরেছেন কুইন্টন ডি কক। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। এক বছরের বেশি সময় ধরে নেই টি-টোয়েন্টিতেও।
এক বছর পর আবারও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন ডি কক। পাকিস্তান সফরের জন্য ঘোষিত দলে আছেন তিনি। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গত বছর বার্বাডোজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিলেন। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছিল। তবে বর্তমান প্রধান কোচ শুকরি কনরাডের সঙ্গে আলোচনার পর আবারও জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
কোচ কনরাড ডি ককের প্রত্যাবর্তনকে দেখছেন দলের জন্য বিশাল স্বস্তি হিসেবে। তাঁর ভাষায়, ‘কুইন্টনের ফেরাটা আমাদের জন্য দারুণ এক প্রেরণা। সবাই জানে, সে দলের জন্য কী মানের অবদান রাখতে পারে। তার অভিজ্ঞতা, তার ক্লাস—এসব আমাদের সাদা বলের ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করবে।’
আরও পড়ুন
| দুবাইয়ে হারছে পাকিস্তান, বাবর খেলছেন গলফ |
|
ডি ককের ফিরে আসা শুধু ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং পাকিস্তান সফরে ব্যাটিং লাইনআপে বাড়াবে শক্তি। তিন ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটারদের বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে অভিজ্ঞ ডি ককের উপস্থিতি তরুণদের জন্য বড় সহায়তা হবে। ডি কক ২০২১ সালে টেস্ট থেকেও অবসর নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল বড় ধাক্কা খেয়েছে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা হাঁটুর নিচে মাংসপেশির চোটের কারণে পাকিস্তানের সফর থেকে ছিটকে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন এইডেন মার্করাম। তবে সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে আলাদা অধিনায়ক দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি দলে নেতৃত্ব দেবেন ডেভিড মিলার, আর ওয়ানডে দলে প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাবেন ম্যাথু ব্রিটসকে।
সাদা বলের ক্রিকেটে দলে ফিরেছেন আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ—জর্জ লিন্ডে, বিজর্ন ফরচুইন ও লেগস্পিনার নকাবা পিটার। তবে জাতীয় দলের চুক্তি না গ্রহণ করায় এই সিরিজে থাকছেন নেই অভিজ্ঞ স্পিনার তাবরাইজ শামসি ও পেসার আনরিখ নরকিয়া।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নিঃসন্দেহে কুইন্টন ডি কক। সামনে ভারত সফর ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি—এই সময়ে ডি ককের মতো বড় তারকার প্রত্যাবর্তনকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার তিন সংস্করণের দল
টেস্ট দল: এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ডেভিড বেডিংহ্যাম, করবিন বোশ, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, টনি ডি জর্জি, জুবায়ের হামজা, সাইমন হারমার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশভ মহারাজ (শুধু দ্বিতীয় টেস্টে), উইয়ান মুলডার, সেনুরান মুথুসামি, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, ট্রিস্টান স্টাবস, প্রেনেলান সুব্রায়েন, কাইল ভেরেইনা।
টি-টোয়েন্টি দল: ডেভিড মিলার (অধিনায়ক), করবিন বোশ, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, নান্দ্রে বার্গার, জেরাল্ড কোইটজি, কুইন্টন ডি কক, ডোনোভান ফেরেইরা, রিজা হেন্ডরিক্স, জর্জ লিন্ডে, কুয়েনা মাফাকা, লুঙ্গি এনগিডি, নকাবা পিটার, লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস, আন্দিলে সিমেলানে, লিজাড উইলিয়ামস।
ওয়ানডে দল: ম্যাথু ব্রিটস্কে (অধিনায়ক), করবিন বোশ, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, নান্দ্রে বার্গার, জেরাল্ড কোইটজি, কুইন্টন ডি কক, টনি ডি জর্জি, ডোনোভান ফেরেইরা, বিজর্ন ফরচুইন, জর্জ লিন্ডে, কুয়েনা মাফাকা, লুঙ্গি এনগিডি, নকাবা পিটার, লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস, সিনেথেমবা কেশিলে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারাতে চায় বাংলাদেশ |
|
নামিবিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি দল
ডোনোভান ফেরেইরা (অধিনায়ক), নান্দ্রে বার্গার, জেরাল্ড কোইটজি, কুইন্টন ডি কক, বিজর্ন ফরচুইন, রিজা হেন্ডরিক্স, রুবিন হারম্যান, কুয়েনা মাফাকা, রিভালদো মুনসামি, নকাবা পিটার, লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস, আন্দিলে সিমেলানে, জেসন স্মিথ, লিজাদ উইলিয়ামস।
No posts available.
২০ মে ২০২৬, ৮:২৬ পিএম

সিলেটে সফল টেস্ট সিরিজ সমাপ্তির মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের কোচিং অধ্যায় শেষ হয়েছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। এখন থেকে এইচপি ইউনিটের মূল কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ এই কোচ। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া কিংবা দলের আশেপাশে থাকা ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করাই হবে সালাউদ্দিনের মূল কাজ।
২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর একটি সফল অভিযান শেষ করেছেন সালাউদ্দিন। এসময় নানা চড়াই-উৎরাইয়ের সাক্ষী হতে হয়েছে তাকে। বিষয়গুলো শক্ত হাতেই মোকাবিলা করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তদের কোচ। বন্ধুর এই যাত্রা নিয়ে অবশ্য তার কোনো আক্ষেপ বা আফসোস নেই।
বিদায় বেলায় সালাউদ্দিন বলেছেন,
‘পেছন থেকে সাপোর্ট করতে পারলেও, যতটুকু পারি করব, না পারলে করব না। আমি কোনো দিন বলিনি জাতীয় দলের কোচ বানাতেই হবে। আপনারাই বলেছেন, আপনারাই বানিয়েছেন। দিনশেষে আমি কোচ, যেখানে কাজ করে মজা পাব সেখানেই করব। আমি এমন একটা মানুষ, আমার কোনো আক্ষেপ নাই। আমি কখনও আক্ষেপ নিয়ে বাঁচি না।'
মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন,
'আমি বাংলাদেশ স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। ওরা এখানে ক্রিকেট খেলবে, আমি এখানেই থাকব, কাছাকাছিই থাকব। বেশি দূরে যাচ্ছি না তো।'
দায়িত্ব বদল হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে আছেন সালাউদ্দিন। তাই শিষ্যদের মিস করার মতো কিছুও দেখছেন না তিনি,
'মিস করার তেমন কিছু নেই। হয়ত ড্রেসিংরুমের ভেতরটা মিস করতে হতে পারে। সময়গুলো ভালো ছিল। কোচিং তো আমাকে করতেই হবে। ওরাও আমার কাছে আবার আসবে। টাইগার্স নেই এখন, আমার অধীনেই চলে আসবে।'
জাতীয় দলে কাজ করা এই কোচের ওপরই পরের মৌসুমের জন্য ভরসা রাখতে যাচ্ছে বিসিবি। এবারের এইচপি বিভাগে থাকছে না বয়সের মানদণ্ড। সবমিলিয়ে সাদা এবং লাল বল মিলিয়ে ক্রিকেটার থাকবেন ৩৫ জন। কোচ হিসেবে আরও থাকছেন সোহেল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবুল, রাজিন সালেহ ও তালহা জুবায়েররা। সবকিছু ঠিক থাকলে এইচপির জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে কোচের দায়িত্ব বুঝে নেবেন সালাউদ্দিনরা।
আগামী ১ জুন শুরু হতে পারে এই সিরিজের ক্যাম্প। জুন মাসের ৩ তারিখ জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এইচপি বিভাগের সঙ্গে খেলতে আসবে। এরপর ৮, ১০ এবং ১৩ জুন ওয়ানডে সিরিজ মাঠে গড়াবে বগুড়া এবং রাজশাহীতে। এরপর দুটি চারদিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।

রাজধানীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার এবং বর্বর ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন তারা।
বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ও ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিজেদের ভেডিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন।
পল্লবতীতে সাত বছরের সেই শিশু রামিসার একটি স্কেচ ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে শান্ত লিখেছেন,
‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে; ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো...জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আর দোষীদের এমন শাস্তি হোক, যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’
নৃশংস ও বর্বর এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শিশু রামিসার ছবি যুক্ত করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন,
‘মিরপুরের পল্লবীতে নি-র্ম-ম-তা-র শিকার আট বছরের (পরিবারের দেওয়া তথ্য মতে সাত বছর) শিশু রামিসা ও এই ধরণের অন্যান্য সব ঘটনায় দোষীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।'
ধ-র্ষ-ণ, নি-পী-ড়-ন ও সব ধরনের স-হিং-স-তা-র বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, সম্মান ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নি-র্ম-ম-তা-র শিকার হতে না হয়, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার।’
জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটার তাঁর ভেরিফায়েড পেজ থেকে একটি গ্রাফিকস ছবি পোস্ট করেন। তাতে লেখা, ‘আমরা...জন্য বিচার চাই।’
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়,
‘আজ সকালে খবরটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছি। ছোট্ট...নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর আশ্রয় পাওয়ার কথা ছিল...এমন ভয়ানক নিষ্ঠুরতা নয়। এই নিষ্পাপ শিশুটির জন্য দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। কোনো পরিবারকে যেন এমন কষ্ট সইতে না হয়। শিশুদের ওপর অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে তাতে লিখেছেন,
‘কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে...খবরটি শোনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মর্মন্তুদ। কোনো সমাজে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পৃথিবী প্রাপ্য, যেখানে তারা কোনো ভয় ছাড়াই বড় হতে পারবে। যেকোনো অন্যায়ের সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন...ক্ষেত্রে সেই বিচার হতে হবে অবিলম্বে। আমরা যখন...জন্য সমস্বরে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি, তখন আসুন স্পষ্টভাবে উচ্চকণ্ঠে বলি—এই ধরনের অপরাধে কঠোরতম শাস্তিই প্রাপ্য। আমরা আর কখনোই এমন কোনো ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।’
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালও এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন। তামিমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গ্রাফিকস ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘...জন্য বিচার চাই।’

পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পর দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে শান মাসুদদের টানা চার টেস্টে হারালেন নাজুমল হোসেন শান্তরা।
বাংলাদেশের এমন ঐতিহাসিক জয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে ধুয়ে দিচ্ছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। বাবর আজমদের সমালোচনা করেছেন কামরান আকমল ও ওয়াসিম আকরামরা। বিপরীতে নাহিদ রানাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এই কিংবদন্তিরা। এ তালিকায় যুক্ত হলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ।
বুধবার পাকিস্তানের এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রশিদ লতিফ বলেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
তিনি বলেন,
‘পাকিস্তানের মাটিতেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে গেছে বাংলাদেশ। তাদের আসলে দরকার ছিল আত্মবিশ্বাস। যেমন আমরা সম্প্রতি জিম্বাবুয়েকে ডেকে এনে ৩-০–তে হারিয়েছি, বাংলাদেশও পাকিস্তানকে নিজেদের মাঠে এনে তাদের দুর্বল দিক বুঝে পরিকল্পনা করে খেলেছে। তবে পাকিস্তানও ভালো লড়াই করেছে। এটা বলা যাবে না যে তারা খুব খারাপ খেলেছে। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য অনেক বড়। তারপরও কয়েকজন খেলোয়াড় চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে।’
পাকিস্তানের সাবেক এই উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান আরও বলেন,
‘বাংলাদেশ পরিকল্পনা করে খেলেছে। তারা সীমার মধ্যে থেকে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে। অনেক রানও করেছে।নতুন বল হাতে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পাকিস্তানকে অলআউট করে আজ সকালে আবার চাপ ধরে রেখেছে।’
২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়েও বাংলাদেশ একই ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে এসেছিল। এই দুই সিরিজের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ টেস্টে বাংলাদেশের কোনো জয় ছিল না (১২ হার, ১ ড্র)। এখন দুই দলের সবশেষ চার টেস্টেই জয়ী বাংলাদেশ। দেশের বাইরে সবশেষ সাত টেস্টেই হারল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই টেস্ট জিতে র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ লাফিয়ে ৭ নম্বরে উঠে গেছে বাংলাদেশ। ৭৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে ৬৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। দুই টেস্টই জেতায় ১১ রেটিং যুক্ত হয়েছে তাদের।

এবার ঘরের মাঠেও পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তদের দাপুটে পারফরম্যান্সে আরও একবার শান মাসুদদের হোয়াইটওয়াশ করল তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট গড়ল টানা ৪ টেস্ট জয়ের ইতিহাস।
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৮ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানে জিতেছিল তারা। এ নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার অনন্য কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এমন অবিস্মরণীয় জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তানি কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। অন্যদিকে শান মাসুদদের এমন নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার কামরান আকমল।
১০৪ টেস্টে ৪১৪ উইকেট নেওয়া সাবেক বাঁহাতি পেসার ওয়াসিম আকরাম বলেন,
‘অলরাউন্ড বা কমপ্লিট ক্রিকেট খেলার জন্য পুরো কৃতিত্ব বাংলাদেশেরই প্রাপ্য।’
ক্রিকেটের দীর্ঘতম এই সংস্করণে (টেস্ট) বাংলাদেশ যে অভাবনীয় উন্নতি করেছে, সেটিও যোগ করেন সুলতান অব সুইং। ওয়াসিম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দল একসময় ধীরগতির এবং নিচু বাউন্সের টার্নিং পিচ তৈরির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু তারা এখন মানসম্মত এবং স্পোর্টিং টেস্ট উইকেট প্রস্তুত করছে, যা তাদের ফাস্ট বোলারদের দারুণভাবে সাহায্য করছে।
পাকিস্তানের এই সাবেক পেস তারকা আরও বলেন,
‘বাংলাদেশের পেস আক্রমণ গতি এবং লাইনে বজায় রাখা শৃঙ্খলার মাধ্যমে পাকিস্তানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে দিয়েছিল। দলটি এখন বিশ্বের যেকোনো শীর্ষসারির টেস্ট দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
বাংলাদেশের তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার প্রশংসা করতে ভোলেননি আকরাম। নাহিদ রানাকে এক ‘অসাধারণ প্রতিভা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,
‘এই তরুণের বোলিং দেখাটা সত্যিই চোখ জুড়ানো এক অভিজ্ঞতা ছিল।’
পাকিস্তানের এমন ভরাডুবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে কামরান আকমল বলেন,
‘বাংলাদেশের কাছে আমরা টানা চার ম্যাচ হেরেছি। তারা আমাদের কন্ডিশনে আমাদের হোয়াইটওয়াশ করে গেছে, এখন আমাদের মাটিতেও হারাল। খুবই আফসোসের কথা! তারা দেখিয়ে দিয়েছে আমরা এখন কোথায় আছি। আমরা ওদের চেয়ে কোনো অংশেই ভালো নই। বরং ওদের চেয়ে আমরা অনেক বাজে দল। তারা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।’

জয়ের জন্য শেষ ওভারে লাগত ৭ রান। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের প্রথম ডেলিভারিতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। সাকলাইনের পরের তিন বল থেকে তিন রান নেওয়ার পর শেষ দুই বলে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের লক্ষ্য দাড়ায় ৪ রান। পঞ্চম ডেলিভারিতে চার মেরে সব নাটকীয়তার ইতি টেনে বসুন্ধরার জয় নিশ্চিত করেন ইরফান হোসেন।
ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) আজ সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ১ উইকেটে জিতেছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৩১ রান করে সিটি। ফিফটি করেন শাকিল হোসেন ও সাকলাইন। এরপর রান তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও স্নায়ুর পরীক্ষা দিয়ে ১ বল হাতে রেখেই জয় পায় বসুন্ধরা।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে টসে জিতে সিটিকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে ১০০ রান তোলার আগেই ছয় ব্যাটারকে হারায় সিটি। উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন টপ-অর্ডারের চার ব্যাটার। একটা পর্যায়ে ১৪৮ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। তবে সাত নম্বরে নামা শাকিল হোসেন ও ১১ নম্বর ব্যাটার সাকলাইনের নৈপুণ্যে দুইশো পার করেন সিটি।
শাকিল অপরাজিত ছিলেন ৬৯ বলে ৬৭ রানে। আর ৫ ছক্কা ও ২ চারে ২৮ বলে ৫২* করেন সাকলাইন। বসুন্ধরার হয়ে বল হাতে নাহিদুল ইসলাম ও সানজামুল ইসলাম।
রান তাড়ায় শুরুতে থেকেই উইকেট হারাতে থাকে বসুন্ধরা। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ফিফটি করেন ইমরানুজ্জামান। দলীয় ৯৯ রানে এই ওপেনারও ফিরেন ১০২ বলে ৬১ করে। ১৩৫ রানে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটলে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন বিপ্লব। অষ্টম উইকেটে তাদের ৫৭ রানের জুটি ভাঙলে আবার বিপদে পড়ে বসুন্ধরা। ৩৮ বলে ৪৬ করা জিয়াউর এলবিড্লু হয়ে ফিরেন সাকলাইনের বলে। এরপর শেষ ওভারে বিপ্লব (৫২ বলে ৫৬) আউট হলেও জয়ের বাকি কাজটা সারেন ইরফান। সিটির হয়ে সফলতম বোলার ৬৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুম।