
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) দ্বিতীয় পর্ব স্থগিত থাকলেও দল গড়ায় বসে নেই ফর্টিস এফসি। লিগ শিরোপা জেতার লক্ষ্যে মধ্যবর্তী দলবদল মৌসুমে চমক দেখিয়েছে তারা।
ভুটান প্রিমিয়ার লিগের সেরা উইঙ্গার দাওয়া টিশেরিংকে দলে ভিড়িয়েছে ফর্টিস। থিম্পু সিটি এফসির হয়ে ভুটান প্রিমিয়ার লিগের মোস্ট ভ্যালুয়েবল এই খেলোয়াড়কে লোনে দলে নিয়েছে ফর্টিস।
মঙ্গলবার ফর্টিস এফসির টিম ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা তাঁকে ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত লোনে নিয়েছি। ওই তারিখের পর লিগ শেষ হোক বা না হোক, আমি তাঁকে আর রাখতে পারব না। আমাদের ক্লাব সভাপতির (শাহিন হাসান) সঙ্গে আলোচনা করেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।'
বর্তমানে দাওয়া টিশেরিং ব্যাংককে অনুষ্ঠিত চলমান সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের হয়ে খেলছেন। সেখানে তিন ম্যাচে ৩ গোল করে নিজের ফর্ম অব্যাহত রেখেছেন।
লিগের প্রথম পর্ব শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছে ফর্টিস।
No posts available.
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম

মেক্সিকোর ক্লাব রায়াদোস দে মনতেরেইয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার পর থেকেই ফ্রি এজেন্ট সার্জিও রামোস। গত কদিন ধরে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে লা লিগার ক্লাব সেভিয়া কিনছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ডিফেন্ডার। তবে আপাতত মালিক নয় বরং ফুটবলার হয়েই সাবেক এই ক্লাবেই ফিরছেন রামোস। এমনটাই স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা এসইআর-এর একটি প্রতিবেদন।
লা লিগায় চলতি মৌসুমে ভালো অবস্থানে নেই সেভিয়া। রক্ষণভাগে বেশ ভুগছে তারা। লিগে সবশেষ মায়োর্কার বিপক্ষে চার গোল হজম করেছে সেভিয়া, এ নিয়ে মৌসুমে ক্লাবটির জালে প্রতিপক্ষ দলগুলো ৩৭বার বল পাঠাল, যা পুরো লিগে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড। তাতে রক্ষণ সমস্যা সমাধানে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে ক্লাবটি।
দলের রক্ষণভাগে এমন বেহাল দশা থেকে উদ্ধারকর্তা হিসেবে রামোসের ওপর আস্থা রাখার কথা ভাবছে সেভিয়া। কাদেনা এসইআর-এর তথ্যমতে, সেভিয়া তাদের সাবেক অধিনায়ককে ফেরানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। ৩৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার ইউরোপীয় ফুটবলে ফেরার আগ্রহ দেখালেও এখনও কোনো ক্লাব পাননি।
রামোস কেবল সেভিয়ার বোর্ডরুমে নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন না, তিনি চাইছেন মাঠেও দলকে সাহায্য করতে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে পিএসজি ছেড়ে শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর মেক্সিকোর লিগে পাড়ি জমান রামোস। মেক্সিকোর মন্টেরের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার পর থেকে একাই অনুশীলন করছেন। ইতিমধ্যেই নাকি সেভিয়া কিনতে চাওয়ার একটি উদ্দেশ্যপত্রে সই করেছেন, যা সম্পূর্ণ হতে কয়েক মাস লাগতে পারে। প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর এই প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত মালিকানা কেনার দৌড়ে এগিয়ে আছে।
রামোস যদি ইতিমধ্যেই ক্লাবের মালিক হতেন, চলমান নিয়ম অনুসারে তিনি খেলতে পারতেন না। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় ফ্রি এজেন্ট হিসেবে শীতকালীন দল বদলের মৌসুম বন্ধ হওয়ার পরও সেভিয়াতে যোগ দিতে পারেন তিনি। সেভিয়ার স্কোয়াডেও একটি খালি জায়গা রয়েছে।
মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনার সময় রামোসকে আবার খেলোয়াড় হিসেবে ফেরানোর বিষয়টি উঠলেও, তখন ক্লাব মনে করেছিল এটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নয়। তবে সাম্প্রতিক বড় ব্যবধানে হারের পর ক্লাবের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে—রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে ফেরানো হয়তো খারাপ ধারণা নয়।
দুই মৌসুম আগে এক বছরের জন্য ফ্রি ট্রান্সফারে সেভিয়ায় ফিরেছিলেন রামোস। সে সময় তিনি নিয়মিত একাদশে খেলেছেন এবং রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অবশ্য তৃতীয় দফায় সেভিয়ায় ফিরতে বাধাও আছে রামোসের। মূল বাধা হলো সেভিয়ার বেতন সীমা, যা ক্লাব ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামোস উচ্চ বেতন দাবি করবেন না, তবে লা লিগার অনুমোদন এখনও প্রয়োজন হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া দেল নিডো কারাস্কোর, স্পোর্টিং ডিরেক্টর অ্যান্টোনিও করদন এবং হেড কোচ মাতিয়াস আলমেইদার কাছে রয়েছে।

২০২৯ সালের উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল আয়োজনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এফসি বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাব জানিয়েছে, বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিল ও কাতালান সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে তারা উইয়েফার কাছে প্রাথমিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বার্সেলোনা জানায়, আয়োজক শহর হিসেবে বার্সেলোনা এবং ভেন্যু হিসেবে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুকে প্রস্তাব করেছে তারা। তবে পুরো বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং উইয়েফার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উইয়েফার নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী প্রার্থিতার উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত আবেদনটি ২০২৬ সালের জুনের শুরুতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তখন পূর্ণাঙ্গ ডসিয়ারের মাধ্যমে ফাইনাল আয়োজনের যোগ্যতা প্রমাণ করা হবে।
বার্সেলোনার ঘোষণার আগেই বার্সেলোনার কাউন্সিলের গভর্নিং কমিশন এই প্রার্থিতায় অনুমোদন দেয় এবং ‘হোস্ট সিটি এগ্রিমেন্ট’-এ সম্মতি জানায়। একই সঙ্গে কাতালান সরকারও উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানায়।
উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর উয়েফা নিশ্চিত করে যে ২০২৮ ও ২০২৯ মৌসুমের ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল আয়োজনের জন্য ১৫টি ফেডারেশন আগ্রহপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৯ সালের পুরুষদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও তালিকায় রয়েছে ক্যাম্প ন্যু।
উইয়েফার নির্বাহী কমিটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্ত আয়োজক শহর ও স্টেডিয়াম নির্বাচন করবে। সে ক্ষেত্রে বার্সেলোনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম।
ক্যাম্প ন্যুর চলমান সংস্কারকাজ ২০২৯ সালের আগেই শেষ হওয়ার কথা। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ নয়, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু হিসেবেও স্টেডিয়ামটিকে বিবেচনায় রেখেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ ছন্দে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে শুরু। এরপর শক্তিশালী ভারতকে ২-০ ব্যবধানে হারায় লাল-সবুজের মেয়েরা। পরপর দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন অর্পিতা বিশ্বাসরা।
নেপালে দলের সঙ্গে থেকে ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।
আগামীকাল লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। খেলাটি শুরু হবে বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে। নেপালের পোখারায় হতে যাওয়া খেলাটি সরাসরি দেখা যাবে ইউটিউবে।
বাংলাদেশ দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কিরন। বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় বলেন—
'বাংলাদেশ শুধু ফাইনালই খেলবে না, দেশে ফিরবে শিরোপা নিয়ে।'
কিরণ বলেন,
'বাংলাদেশ দল অনেক ভালো অবস্থানে আছে। প্রথম ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ওরা অনেক ভালো খেলেছে এবং অনেক গোল করেছে। এরপর গতকাল (সোমবার) ভারতের সঙ্গে প্রথমার্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল। তারপরও দুই গোল করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল না হলেও ভালোভাবেই মেয়েরা সামলেছে।'
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই গোলই এসেছে প্রথমার্ধে। অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপি আক্তারের নৈপুণ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। সেই জয়েই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ফাইনালের দোরগোড়ায় বরং এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ফাইনাল।
ফাইনাল নিশ্চিতের পর বুধবার নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য এক অর্থে নিয়মরক্ষার। এই ম্যাচের জয়-পরাজয়ের ওপর তেমন কিছু নির্ভর করবে না। তারপরও জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে মাঠে নামতে চায় পিটার বাটলারের দল। কিরণ বলেন,
'আগামীকাল নেপালের বিপক্ষে খেলা। আমার বিশ্বাস মেয়েরা নেপালের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই জিতবে।'
দলের ভেতরের পরিবেশ এবং মানসিক প্রস্তুতির দিকেও আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন নারী উইং চেয়ারম্যান। প্রতিদিনই তিনি দলের কাছে যাচ্ছেন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছেন, যাতে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী থাকে। কিরণের ভাষ্য,
'আমি প্রতিদিনই টিমের কাছে যাচ্ছি যাতে মেয়েরা অনুপ্রানিত হয়।'
ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখনো নিশ্চিত নয়। কাল দুপুরে ভুটানের বিপক্ষে খেলা আছে ভারতের। এরপর বিকালে নেপালের সঙ্গে ম্যাচ বাংলাদেশের। ভুটান এরই মধ্যে টুর্নামেন্টে থেকে ছিটকে গেছে। নেপাল কিংবা ভারতই ফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২-০ গোলে হারা ভুটান ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে না মনে করেন অনেকে। যে কারণে কিরনও মনে করেন ফাইনালে উঠতে পারে ভারত,
'আমার বিশ্বাস ফাইনালে বাংলাদেশ এবং ভারত যাবে। ওদের আমরা আরেকবার পাবো। এবং আমার বিশ্বাস ফাইনালে মেয়েরা অনেক ভালো খেলবে এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়েই আমরা দেশে ফিরব।'
টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভালো করায় কিরন কৃতিত্ব দিয়েছেন দল, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে।

নামে, ভারে ও অভিজ্ঞতায় আর্জেন্টিনার ফুটবলে লিওনেল মেসির তুলনা নেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার বিশ্বকাপ খরা কাটাতে আলবিসেলেস্তেদের যাত্রায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁরই। তবে আরেকটি বিশ্বকাপে মেসিকে দেখা যাবে কি না—সে প্রশ্নের কেন্দ্রে এখন বয়স।
বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি মেসি। জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির ব্যক্তিগত বিষয়। তবে ইন্টার মায়ামিতে তাঁর বর্তমান কোচ ও সাবেক সতীর্থ হাভিয়ের মাশ্চেরানো মনে করেন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় মেসি এখনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মাশ্চেরানো জানান, স্কালোনি মেসির জন্য দরজা খোলা রেখেছেন। দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। সবুজ সংকেত মিললে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে দলে নিতে কোনো দ্বিধা থাকবে না। কারণ ১০ নম্বর পজিশনে মেসি এখনো আর্জেন্টিনার জন্য প্রতীকী ও প্রভাবশালী উপস্থিতি।
৩৮ বছর বয়সী মেসি কি তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে পারেন—এমন প্রশ্নে মাশ্চেরানোর উত্তর,
“হ্যাঁ, কেন নয়?”
খেলোয়াড় হিসেবে মেসির শারীরিক অবস্থান কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাশ্চেরানো বলেন,
“আমি খেলোয়াড়দের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তারা কেমন অনুভব করছে। নিজের শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, সেটা খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো কেউ জানে না।”
বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন,
“আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই যাবে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় খেলছে এবং দলে আছে অসাধারণ সব ফুটবলার।”
বিশ্বকাপের মূল পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইতিমধ্যে মেসির দখলে—২৬ ম্যাচ। সেই সংখ্যাটা আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে তাঁর সামনে। পাশাপাশি বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যাও, যা বর্তমানে ১৯৬।
২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা রক্ষার অংশ হওয়া নিয়ে আগেও নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন মেসি। সে সময় তিনি বলেছিলেন,
“আমি আশা করি সেখানে থাকতে পারব। আগেও বলেছি, আমি থাকতে চাই। সবচেয়ে খারাপ হলেও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখব—তবু সেটা বিশেষ হবে। বিশ্বকাপ সবার জন্যই বিশেষ, বিশেষ করে আমাদের জন্য।”
স্কালোনির সঙ্গে সম্পর্ক ও আলোচনা প্রসঙ্গে মেসির ভাষ্য,
“আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। সে আমাকে বোঝে। আমরা সবকিছু নিয়েই আলোচনা করি। সে সবসময় বলে—যেকোনো ভূমিকায় হলেও আমাকে সেখানে দেখতে চায়। আমাদের মধ্যে গভীর বিশ্বাসের সম্পর্ক আছে।”

রাশিয়ার ওপর ফুটবলের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দেওয়ায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী মাতভি বিদনি ইনফান্তিনোর মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে ফিফা ও ইউয়েফা। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপ, ইউরো ২০২৪ এবং আগামী জুনে ২০২৬ বিশ্বকাপ-কোনোটিতেই অংশ নিতে পারেনি রাশিয়া।
সম্প্রতি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেন,
‘এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল আনেনি এবং এতে আরও হতাশা ও ঘৃণা তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের অন্য দেশে রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা খেলতে পারলে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
জবাবে ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন,
‘ইনফান্তিনোর বক্তব্য বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাঁর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার হামলায় ৬৫০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় ক্রীড়াবিদ ও কোচ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শতাধিক ফুটবলার।’
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফেরার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বিদনি। তিনি বলেন,
‘যুদ্ধ কোনো রাজনীতি নয়, এটি একটি অপরাধ। রাশিয়াই খেলাধুলাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।’
নিষেধাজ্ঞার পরও রাশিয়া পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁরা ফিফা বা উয়েফার অনুমতি ছাড়াই পশ্চিমা দেশের বাইরে কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলেছে।
এর আগেও রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির সমালোচনা করেছিল ইউক্রেন। যদিও নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও মার্চে শীতকালীন প্যারালিম্পিকে অংশ নিতে পারছে না দুই দেশের অ্যাথলেটরা।