
এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার সুযোগ পেয়েছে লিটনরা। প্রত্যাশিত জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ এ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতে সিরিজ শুরু। সিলেটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৩৭ রান তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখে জয়কে বাহাবা দিতে হবে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে সব রসদেরই যোগান দিয়েছে বিসিবি। পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডকে উড়িয়ে আনাটা যে ছিল অপরিহার্য। তার শেখানো বড় শটের টেকনিক কতোটা রপ্ত করতে পেরেছে ব্যাটাররা-সেটাই ছিল কৌতুহল।
লিটন-সাইফের ব্যাটিং পাওয়ার হিটিং কোচের তত্ব প্রয়োগেরই বার্তা দিয়েছে। লিটন ১৮৬.২০ স্ট্রাইক রেটে ২৯ বলে ৬ চার, ১ ছক্কায় ৫৪ রানের হার না মানা ইনিংসে এবং সাইফ ১৮৯.৪৭ স্ট্রাইক রেটে ১ চার, ৩ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
| কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়ে তাসকিনের ‘গ্রেট ফিলিং’ |
|
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা ছিল না প্রত্যাশিত। প্রথম তিন ওভারে উইকেটহীন ২৫ রানে শঙ্কার আলামত ছিল। তবে শরিফুল (১-০-১৩-১) ও শেখ মেহেদি হাসানের (২-০-১২-০) প্রথম স্পেল থামিয়ে দিয়ে তাসকিনকে এনেই সাফল্যের মুখ দেখেছেন লিটন। তাসকিনের ১ ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১ রান খরচায় ডাচ ওপেনার গুড লেন্থ ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিলে সফরকারীদের রানের গতি যায় থেমে।
এই তাসকিন তিন স্পেল মিলিয়ে ২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট পেয়েছেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেটের ইনিংসে ডট দিয়েছেন ১৩টি। যে ৪টি উইকেটের মধ্যে ডেথ ওভারে দুটি স্লোয়ার ডেলিভারিতে।
যে ছেলেটির ২ বছর আগে থেমে গেছে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, সেই সাইফকে ফিরিয়ে আনা ছিল নির্বাচকদের বড় একটা জুয়া। সম্প্রতি গায়ানায় গ্লোবাল সুপার লিগ টি-টোয়েন্টিতে রংপুর রাইডার্সের হয়ে আদর্শ অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরা সাইফ হাসান এ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়েও করেছেন পারফর্ম।
মিডল অর্ডারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বোলিংয়েও কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারেন সাইফ হাসান, তা জানিয়ে দিয়েছেন শনিবার। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ ম্যাচে উইকেটহীন সাইফ ২ বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দেখেছেন উইকেটের মুখ (২-০-১৮-২)।
তার প্রথম ওভারের ৪র্থ বলটি ছিল ফ্লাইটেড ডেলিভারি, সেই ডেলিভারিতে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়েছেন স্কট এডওয়ার্ডস। ষষ্ঠ বলে নিদামানুরুকে হৃদয় যে রানিং ক্যাচটি নিয়েছেন, তা হাততালি পাবার দাবি রাখে। এই ম্যাচে মোস্তাফিজের ইকোনমি বোলিং (৪-০-১৯-১)ও ছিল প্রশংসিত।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে নেদারল্যান্ডকে ৩৪/১ এ আটকে রাখা, শেষ পাওয়ার প্লে-তে ৩৮-এর বেশি নিতে না দেওয়া-পরিকল্পিত বোলিংয়েরই সুফল। ১২০টি ডেলিভারির মধ্যে ৫২টি ডট দিয়ে প্রতিপক্ষকে গর্জে ওঠার সুযোগ দেয়নি এদিন বাংলাদেশ বোলাররা।
এশিয়া কাপের আদর্শ প্রস্তুতির জন্য ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫৭/১ স্কোরে বড় ব্যবধানে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে বাংলাদেশের শুরু |
|
ইনিংসের প্রথম তিন বলে পারভেজ হোসেন ইমন কী চড়াও-ই না হয়েছিলেন আরিয়ান দত্তের উপর। ৪, ৪, ৬-এই তিনটি শটের পর নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন ইমন। সেই আরিয়ান দত্তের পরের ওভারে অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে ফ্রন্ট ফুট ফাঁকা রেখে ক্রস খেলতে যেযে বোল্ড আউট হয়ে টেকনিকের ঘাটতি উন্মোচন করেছেন ইমন (৯ বলে ১৫)। তানজিদ তামিম ফিনিশার হতে পারেননি। লিটনের সাথে ৩৯ বলে ৬৬ রানের পার্টনারশিপে অবদান রাখা তানজিদ হাসান তামিম প্রিঙ্গেলকে ফুল টসে পুল করতে যেয়ে লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (২৪ বলে ২৯)।
৪ ইনিংস পর ফিফটি উদযাপন করেছেন লিটন ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে (২৬ বলে ৬ চার, ২ ছক্কায়)। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সাইফ হাসানের অল রাউন্ড পারফর্ম (২/১৮ ও ১৯বলে ৩৬*)।
মাসে ৭ হাজার ডলার বেতনে অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর টনি হেমিংকে এনেছে বিসিবি সারাদেশে স্পোর্টিং উইকেট নিশ্চিত করতে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিন্তু সিলেটের পিচকে সেই বৈশিষ্ট্যে দেখা যায়নি। বল পড়ে লো করেছে। পেস কমিয়ে পেসাররা পেয়েছেন সাফল্য। স্পিনাররাও পেয়েছেন ফেভার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপের আদর্শ অনুশীলনের জন্য যে যথার্থ মনে হয়নি সিলেটের পিচকে।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১২ এম
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

করোনা মহামারীর ঠিক আগে (২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সফরে রুবেল হোসেন খেলেছেন শেষ টেস্ট। রাওয়ালপিণ্ডিতে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে খালি হাতে থাকেননি। পেয়েছেন ৩ উইকেট (৩/১১৩)। এরপর পেস বোলার রুবেল হোসেন টেস্টে হয়ে যান ব্রাত্য। এরপরেও ১৪ মাস খেলেছেন সাদা বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ২০২১ সালের মহান স্বাধীনতা দিবসে ওয়েলিংটনে প্রিয় প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ উইকেট পেলেও অমিতব্যয়ী বোলিংয়ের অপবাদে ( ১০-০-৭০-৩) থেমে যায় ওডিআই ক্যারিয়ার। ওই সফরে অকল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও খরুচে বোলিংয়ের অপবাদ (২-০-৩৩-০)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার স্থায়ীভাবে থেমে যায় সেখানেই।
ক্যারিয়ারের শুরুতে চিনিয়েছিলেন গতি দিয়ে। স্পোর্টিং উইকেট পেলে ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৪৬ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারতেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা তার এক যুগের, ২০০৯ থেকে ২০২১। ২৭ টেস্টে ৩৬ উইকেট, ১০৪ ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট, আর ২৮ টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট। সব মিলে ১৯৩ আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক রুবেল হোসেন ঘরোয়া ক্রিকেটেও গিয়েছিলেন হারিয়ে।
২০২০ সালের পর আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেননি। খেলেননি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরেও। এর আগের বছর প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ছয় ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ৮ উইকেট।
সর্বশেষ বিপিএলের নিলামে রুবেলকে নেয়নি কোনো দল। তবে স্বীকৃত ক্রিকেটে সর্বশেষ ম্যাচ তিনি খেলেছেন তার আগের ২০২৫ সালের বিপিএলে। খুলনা টাইগার্সের হয়ে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে ওই ম্যাচ কাটিয়েছেন উইকেটহীন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথটা যখন কঠিন, তাসকিন, মোস্তাফিজ, নাহিদ রানা, শরিফুল, তানজিম হাসান সাকিব, ইবাদত, খালেদদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কুলিয়ে ওঠা যখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই বলাটাই শ্রেয়।
মাঠে নিতে পারেননি ফেয়ারওয়েল। সেই আক্ষেপটা কিছুটা লাঘব করেছেন বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অবসরের ঘোষণায়। ৩৭-এ দাঁড়িয়ে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম। তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস।’
এক যুগের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মনে রাখার মতো অনেক কিছু করেছেন রুবেল। গ্রামীণফোন পেসার হান্টের আবিস্কার রুবেলের অ্যাকশন অনেকটা শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার মতো। এই পরিচয়েই তাকে নিয়ে ক্লাব ক্রিকেটে টাগ অব ওয়্যার দেখেছি। ২০০৯ সালে মিরপুরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেকেই নিজেকে চিনিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার বোলিংয়ে (৫.৩-০-৩৩-৪) বাংলাদেশ জিতেছে ৫ উইকেটে। পুরনো বলে কারিশমা দেখিয়েছেন, শেষ ৯ বলের স্পেলে ১১ রান খরচায় তুষারা, কুলাসাকেরা, অজন্থা মেন্ডিজকে ফিরিয়ে দিয়ে মিরপুরে ক্রিকেট ভক্তদের উৎসবের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন।
নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ যখন ওডিআই সিরিজে অবতীর্ন, তার দুই দিন আগে রুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের পেছনে ফিরে তাকানোর বার্তা দিয়ে গেছেন। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ক্রিকেটে ২টি জয়ে রেখেছেন অবদান। ২০১০ সালে মিরপুরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে জয়েও নায়ক রুবেল হোসেন (৯.৩-১-২৫-৪)। ২০১৩ সালে সেই প্রিয় ভেন্যুতে করেছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং (৫.৫-০-২৬-৬)। ওডিআই ক্রিকেটে মাশরাফির সঙ্গে যৌথভাবে সেরা বোলিং ইনিংসে বসিয়েছেন রুবেল ভাগ।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে হ্যাপি নামের এক নায়িকা রুবেলের প্রাণ অতিষ্ঠ করে ফেলেছিল। ওই নায়িকার মামলায় রুবেলকে কারাবাস পর্যন্ত বরণ করতে হয়েছে। বাংলাদেশ দলের টাম্পকার্ডকে ছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল যাবে কিভাবে ? এই শঙ্কা কাটাতে বিসিবি এবং তৎকালীন সরকারের রুবেলকে দিয়েছে আইনী সহায়তা। তাতেই রুবেল জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বকাপে করেছেন বাজিমাত। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ রানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পেয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ম্যাচটা যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন স্টুয়ার্ট ব্রড এবং এন্ডারসনকে ইয়র্কারে রুবেল হোসেনের বোল্ড আউটের দশ্য দেখে অ্যাডিলেডের প্রেস বক্স থেকে দেখেছি বাংলাদেশ দলের উচ্ছ্বাস! দেখেছি পতাকা হাতে ল্যাপ অব অনার। ক্রিকেটের বৈশ্বিক কোনো আসরে বাংলাদেশের সেরা উৎসবের বিজ্ঞাপন হয়ে থাকবে রুবেল হোসেনের ওই দুটি ডেলিভারি।

কিছু ক্ষণ, নির্দিষ্ট একটি দিন কিংবা কিছু মাঠ—যা ব্যাটারদের প্রিয়, তীর্থস্থানতুল্য। যেদিন, যেসম কিংবা যে মাঠে নিপুণ চিত্রশিল্পী হয়ে ওঠেন একেকজন ব্যাটার। যতক্ষণ তার ব্যাট চলে, মনে হয় কোনো অভিজ্ঞ চিত্রশিল্পী তার ক্যানভাসে সুনিপুণ তুলির আঁচড় দিয়ে চলেছেন। দেখতে যা ভারি চমৎকার।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলের প্রিয় স্টেডিয়াম যেমন বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী। এই মাঠের বাইশগজ তার জন্য এতই পয়া, যা বিরাট কোহলিকে কিং কোহলিতে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। বেঙ্গালুরুর এই মাঠে আজ একটি কীর্তি গড়েছেন কোহলি।
বুধবার লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে খেলতে নামে বেঙ্গালুরু। ম্যাচে লখনৌকে অল্পতেই বেধে বড় জয়ের পথে দলটি। এদিন ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। তাতে টি-টোয়েন্টিতে এক ভেন্যুতে সর্বাধিক রান মালিক বনে যান তিনি।
কোহলি এখন পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর এই স্টেডিয়ামে ১০৯ ইনিংস খেলেছেন। ৪ সেঞ্চুরিতে এখানে তার রান ৩ হাজার ৭৫১ রান। সাউদাম্পটনে এরচেয়েও বেশি অর্থাৎ ১১৭ ইনিংস খেলে ৩ হাজার ৫৮৫ রান করেছিলেন জেমস ভিন্স। তার সেঞ্চুরি দুটি।
নির্দিষ্ট এক ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান সংগ্রাহকদের কাতারে সেরা পাঁচে বাংলাদেশের দুইজন মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল রয়েছেন। তিন নম্বর স্থানটি মুশফিকের। এই উইকেটকিপার ব্যাটার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়অমে ১৪০টি টি-টোয়েন্টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। যাতে তার রান সংখ্যা ৩ হাজার ৪৫৯।
পঞ্চমে থাকা তামিম ইকবাল যিনি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা এই বাঁ-হাতি ব্যাটার সিঙ্গল এক ভেন্যু অর্থাৎ হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলায় ১১০টি কুড়ি কুড়ি ম্যাচ খেলেছেন। ২ সেঞ্চুরিতে তার প্রাপ্ত রান ৩ হাজার ২৩৮ রান। চতুর্থস্থানে থাকা নামটি অ্যালেক্স হেলসের। ইংলিশ ব্যাটার নটিংহ্যামে ১০৯ ম্যাচ খেলে ৩ হাজার ২৪১ রান করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন রুবেল হোসেন। বুধবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক আবগঘন বার্তায় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার।
ফেসবুকে রুবেল রেখেন,
‘বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।’
২০০৯ সালে অভিষেক হওয়া রুবেল লাল-সবুজ জার্সিতে ১০৪ ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট শিকার করেছেন। টেস্টে ২৭ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে ৩৬ উইকেট এবং ২৮ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ২৮ উইকেট। ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেন রুবেল।
জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন রুবেল। সবশেষ ২০২৪ সালে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে তাকে মাঠে দেখা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সবশেষ স্বীকৃত ম্যাচ খেলেন রুবেল।
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে রুবেলের এক ম্যাজিকাল স্পেলে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বাংলাদেশ। অ্যাডিলেডে ইংলিশদের বিপক্ষে তাঁর ৫৩ রানে ৪ উইকেটের সেই বিধ্বংসী স্পেল বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিল।
জাতীয় দলের জার্সিতে পথচলা থেমে গেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রুবেল। বাগেরহাট এক্সপ্রেস খ্যাত এই পেসার বলেন,
‘ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস।’

বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের তিন ওয়ানডের সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী পরশু (শুক্রবার)। কিউই দলে নেই তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই। আইপিএল ও পিএসএল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে অবশ্য বিচলিত নন নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রিকেটারদের ছড়িয়ে থাকা তাদের ক্রিকেটের ভালো অবস্থার বহিঃপ্রকাশ।
ওয়ানডে সিরিজের আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াল্টার বললেন,
‘বর্তমানে আমাদের প্রায় ৫৪ জন ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন আইপিএল, পিএসএল, শ্রীলঙ্কা এবং এখানে (বাংলাদেশে) খেলছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় ইতিবাচক দিক। আমরা বিশাল সংখ্যক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছি যাতে আমাদের পুরো ক্রিকেট কাঠামো শক্তিশালী হয়, শুধু নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় নয়।’
সিরিজের ম্যাচগুলো দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে চলমান জ্বালানি সংকটে তিন ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। পুরো সিরিজই খেলতে হতে পারে তীব্র রোদে। বাংলাদেশের এই গরমকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নিউ জিল্যান্ড কোচ। সেরা তারকারা না এলেও কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ওপর আস্থা রাখছেন ওয়ালটার,
‘আমাদের এই স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে এখানে খেলে গেছে। যদিও সেটা চার দিনের ম্যাচ ছিল, কিন্তু তারা এই কন্ডিশন সম্পর্কে জানে—এটা ভালো দিক।‘
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগের দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকেরা। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে নিয়ে তাই সাবধানী সুর ওয়াল্টারে,
‘বাংলাদেশ ভালো প্রতিপক্ষ, মানসম্পন্ন দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে। আমাদের কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভিনদেশি কন্ডিশনে এমন দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জন্য বড় পাওয়া।‘
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা ঝরল ওয়াল্টারের কণ্ঠে,
‘বাংলাদেশ দলে দারুণ কিছু ফাস্ট বোলার আছে। মোস্তাফিজুর রহমান শুরু থেকেই একজন চমৎকার ফাস্ট বোলার। তাই তাদের যে শুধু স্পিন সহায়ক পিচই বানাতে হবে এমন কোনো কথা নেই, সব বিভাগেই তাদের সামর্থ্য আছে।‘
বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে। শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রাম। সব ম্যাচই শুরু হবে বেলা ১১ টায়।

সম্প্রতি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানিয়েছেন, সেই বলটি আর কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হলেই তাঁর জীবন চিরতরে বদলে যেতে পারত। এমনকি প্রাণহানির শঙ্কাও ছিল।
সেই ভয়াবহ চোট নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী স্টোকস বলেন, ‘খুবই বাজে পরিস্থিতি ছিল। তবে সত্যি বলতে, খারাপের মধ্যে এটাই বোধহয় সেরা ফলাফল। বলটা সরাসরি আমার মুখে এসে লেগেছিল। আঘাতটা যদি মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হতো কিংবা আমি যদি মাথাটা না ঘোরাতাম, তবে আজ হয়তো আমি এখানে বসে এই সাক্ষাৎকার দিতে পারতাম না।’
চোটের কারণে স্টোকসের গালের হাড় (চিকবোন) একদম ভেঙে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা ঠিক করা হয়েছে। নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘সব দিক বিবেচনা করলে আমি অনেক ভাগ্যবান। গালের হাড়ের নিচে সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। বড় ধরনের ফেসিয়াল সার্জারি করাতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমি যে সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
মাঠে ফিরবেন কবে? এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে স্টোকসের স্বাভাবিক ক্রিকেটে ফেরার সূচি প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো, তিনি এখন পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে আছেন। আগামী জুনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। সেই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে মে মাসে ডারহামের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
স্টোকস বলেন, ‘সিজন শুরুর যে পরিকল্পনা ছিল, এই চোট সব পিছিয়ে দিয়েছে। আমাকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে। এখন লক্ষ্য হলো ডারহামের হয়ে অন্তত দুটি ম্যাচ খেলে টেস্ট সামারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। ওটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ভাগ্যক্রমে আমি এখনো বেঁচে আছি এবং সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’