
টানা জয়ের মধ্যে থাকা বার্সেলোনাকে প্রায় রুখেই দিয়েছিল এস্পানিওল। বল দখলের লড়াইয়ে বেশ এগিয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখাই মিলছিল না। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ চার মিনিট আগে ডেডলক ভাঙেন দানি ওলমো। শেষ দিকে আরও এক গোল করেন রবার্ট লেভানদোভস্কি। তাতে স্বস্তির তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে হান্সি ফ্লিকের দল।
শনিবার রাতে লা লিগার খেলায় এস্পানিওলের মাঠে আতিথেয়তা নেয় বার্সেলোনা। ম্যাচটি ২-০ গোলে জেতে অতিথিরা। বছরের প্রথম ম্যাচটা রাঙানোর সঙ্গে সঙ্গে লা লিগায় টানা ৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকলো কাতালুনিয়ারা।
এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরেকটু পোক্ত করল বার্সেলোনা। ১৯ খেলায় ১৬ জয়, এক ড্র এবং দুই পরাজয়ে তাদের পয়েন্ট ৪৯। এক ম্যাচ কম খেলে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আজ রাতে রিয়াল বেতিসকে আতিথেয়তা জানাবে মাদ্রিদের জায়ান্টরা। ১৮ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার পাঁচে এস্পানিওল।
এদিন নিজেদের মাঠে এস্পানিওল ২০ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায়। সতীর্থের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন রবার্তো ফের্নান্দেস। তবে গোলকিপার গার্সিয়াকে একা পেয়েও পারেননি তিনি। ২৮ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন লামিনে ইয়ামাল, দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায় বল।
৩৭ রাফিনিয়ার ফ্রি-কিকে বক্সে লাফিয়ে উঠেও ঠিক মতো হেড নিতে পারেননি ফেররান তোরেস। ২ মিনিট পর দুর্দান্ত সেভে বার্সেলোনাকে বাঁচান গার্সিয়া। এই অর্ধের যোগ করা সময়ে ইয়ামালের শট ঠেকান এস্পানিওলের গোলকিপার মার্কো দিমিত্রোভিচ।
বিরতির পর ফিরে সুযোগ তৈরি করে এস্পানিওল। তবে ৬৪ মিনিটে এস্পানিওল স্ট্রাইকার ফের্নান্দেসকে দারুণ দক্ষতায় আটকান বার্সেলোনা গোলকিপার গার্সিয়া।
৭১ মিনিটে সুযোগ হাতছাড়া করে বার্সেলোনা। গোলমুখের সামনে থেকে এরিক গার্সিয়ার শট হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন এস্পানিওল গোলকিপার। পরের মিনিটে ইয়ামালের আরেকটি প্রচেষ্টায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি পেদ্রি।
অবশেষে ৮৬ মিনিটে গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। ফের্মিন লোপেসের পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে দূরের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠান ওলমো। আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সব অনিশ্চয়তা দূর করেন লেভানদোভস্কি।
No posts available.
৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিস্ময়বালক লেনার্ট কার্ল। রোববার নিজ শহর ফ্রামার্সবাখের কাছের ছোট শহর বার্গসিনে একটি বায়ার্ন সমর্থক ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেছেন, একদিন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা তার স্বপ্ন।
সমর্থকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক এক আলাপে কার্লকে প্রশ্ন করা হয়, বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবে খেলার স্বপ্ন আছে কি না। উত্তরে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কথা বলেন।
“আমি আশা করি কথাটা এখানের ভেতরেই থাকবে। বায়ার্ন খুব বড় একটি ক্লাব, এখানে খেলাটা স্বপ্নের মতো। তবে একদিন আমি রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে চাই। ওটাই আমার স্বপ্নের ক্লাব- কিন্তু এটা যেন এখানেই থাকে।”
কিন্তু এই কথাটি আর গোপন থাকেনি। মুহূর্তেই বিষয়টি জার্মান গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কার্ল পরিবারের আগ্রহ নতুন নয়। তার পরিবারের কাছের বন্ধু ও সাংবাদিক সেবাস্টিয়ান লাইসগাংয়ের কথায় উঠে এসেছে এই তথ্য।
আরও পড়ুন
| ইনজুরি টাইমের গোলে সিটির বিপক্ষে হার এড়াল চেলসি |
|
সম্প্রতি এক পডকাস্টে লাইসগাং জানান, ২০১৮ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সেই রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলে বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন কার্ল।
“আশাফেনবুর্গ অঞ্চলে হওয়া একটি আঞ্চলিক ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে সে পরের ধাপে ওঠে। মেমিংগেনে দ্বিতীয় রাউন্ডেও সফল হয়। সেখান থেকেই তাকে মাদ্রিদে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি হয়নি।”
শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি কার্লের আলাদা টান তৈরি করেছে। তবে আপাতত বাস্তবতা ভিন্ন।
কার্ল এখনও বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় এবং ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি বহাল আছে। এই মুহূর্তে বায়ার্ন তাকে ছাড়তে আগ্রহী- এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। একইভাবে রিয়াল মাদ্রিদ থেকেও আনুষ্ঠানিক আগ্রহের খবর পাওয়া যায়নি।

শুরু থেকে একের পর এক সুযোগ পেল দুই দল। তবে কাজে লাগাতে পারল না কেউই। দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন এঙ্গেল থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নিলেন ব্রাহিম দিয়াজ। তানজানিয়াকে হারাল মরক্কো। আফকন ইতিহাসে উঠে গেল তারকা ফরোয়ার্ডের নাম।
আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে (আফকন) রোববার রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে তানজানিয়াকে ১-০ গোলে হারায় মরক্কো। জয়সূচক গোলটি আসে দিয়াজের পা থেকে। এই জয়ে সেরা আটে উঠে গেল মরক্কো। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ক্যামেরন।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির কাছ থেকে বল পেয়ে বাইলাইনের সামনে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান দিয়াজ।
চলতি আফকনে এ নিয়ে টানা চার ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মরক্কোর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোল করলেন তিনি। ১৯৭৬ সালে মরক্কোর প্রয়াত ফুটবলার আহমেদ ফারাস টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন।
এছাড়া ৪ গোল নিয়ে চলতি আফকনের গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন দিয়াজ। পেছনে পড়ে গেছেন তার সতীর্থ আইয়ুব এল কাবি ও আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ।
আগামী শুক্রবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে ক্যামেরনের মুখোমুখি হবে মরক্কো।

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে যেন খুঁজেই পাওয়া গেল না চেলসিকে। কিন্তু অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে হুট করেই আবির্ভুত হলেন এনসো ফার্নান্দেস। ম্যানচেস্টার সিটির জালে গোল করে চেলসিকে এক পয়েন্ট এনে দিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোববার রাতের ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসির ম্যাচ। ঘরের মাঠে সিটিজেনদের হয়ে একমাত্র গোল করেন টিজানি রেইন্ডার্স।
পরপর দুই ড্রয়ে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া করল পেপ গার্দিওলার দল। ২০ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে তারা। সমান ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। আর ৩১ পয়েন্ট পাওয়া চেলসির অবস্থান পঞ্চম।
টানা ব্যর্থতা ও মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় নতুন বছরের প্রথম দিন চাকরি হারান চেলসির প্রধান কোচ মারেস্কা। তাই ইতিহাদে প্রধান কোচ ছাড়াই খেলতে যায় চেলসি। আগের তিন ম্যাচের মত এদিনও তারা জিততে পারেনি।
ম্যাচের শুরুর থেকেই দাপট দেখিয়ে খেলতে থাকে ম্যান সিটি। বেশ কিছু সুযোগ পেলেও জালের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেই অপেক্ষার ইতি টানেন রেইন্ডার্স।
৪২ মিনিটে বল এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল আর্লিং হলান্ডের উদ্দেশ্যে। তবে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে পেয়ে যান রেইন্ডার্স। ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে জাল কাঁপান ডাচ মিডফিল্ডার।
এরপর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া চেষ্টা চালায় সিটি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দুইবারের চেষ্টায় বল জালে জড়ান এনসো ফার্নান্দেস। তার শট প্রথম ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন সিটি গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা। ফিরতি শটে চেলসিকে আনন্দে ভাসান আর্জেন্টাইন তারকা।

আনপ্রিডেক্টবল হয়ে পড়েছে প্রিমিয়ার লিগ। বড়-ছোট কিংবা তারকা ঠাসা দল নিয়েও স্বস্তিতে থাকার জো নেই ক্লাবগুলোর। অন্তত রবিবার রাতের বেশ কয়েকটি ম্যাচ পর্যালোচনায় তা আর স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।
পয়েন্ট টেবিলে তলানিতে থাকা লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে পেরে ওঠেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১-১ ব্যবধানে শেষ হওয়া ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রুবেন আমোরিমের দলের। ফুলহামের মাঠে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। ২-২ ব্যবধানে মিমাংসা হয়েছে নাটকীয় এই ম্যাচ। টটেনহ্যাম-সান্ডারল্যান্ড মধ্যকার ম্যাচটিও নিষ্পত্তি হয়েছে ১-১ সমতায়।
নিউক্যাসেলের ঘরের মাঠে গিয়ে পয়েন্ট খুইয়ে এসেছে ক্রাস্টেল প্যালেসের কাছে। অলিভার গ্লাসনারের দল ২-০ গোলে হেরেছে এডি হাউয়ের শিষ্যদের কাছে। ব্রেন্টফোর্ড-এভারটন ম্যাচ হয়েছে হাইস্কোরিং। ৬ গোলের ম্যাচের ৪টিই ছিল স্বাগতিক এভারটনের বিপক্ষে।
রাত সাড়ে এগারটায় শুরু হয়েছে ম্যানসিটি-চেলসি ম্যাচ। এই ম্যাচের ফলের পর পয়েন্ট টেবিলে আলোকপাত করা সহজ হবে। তবে সিটি যদি চেলসির বিপক্ষে জিতে, তারপরও আর্সেনাল থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে থাকবে পেপ গার্দিওলার দল। হারলে আখের লাভ অ্যাস্টল ভিলার।
উনাই এমেরির দল দ্বিতীয়তে উঠার বড় সুযোগ পাবে। ফুলহামের সঙ্গে ড্র করাতে আর্নে স্লটের দলের বর্তমান পয়েন্ট ৩৪। সমান ২০ ম্যাচে ভিলা পার্কের দলের অর্জন ৪২। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ৪৮।
এই মুর্হূতে তালিকায় ব্রেন্টফোর্ড সপ্তমে।অষ্টমে সান্ডারল্যান্ড এবং নিউক্যাসেল নবম স্থানে। সমান ২০ ম্যাচ করে খেলা ব্রেন্টফোর্ড ও সান্ডারল্যান্ডের পয়েন্ট ৩০। নিউ ক্যাসেলের ২৯।
আবারও ‘ড্র’ লিভারপুলের: গত ম্যাচে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল অল রেডসরা। রেসে টিকে থাকার ম্যাচে আজ ক্যারাভেন কটেজে নাটকীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় লিভারপুলকে।
১৭ মিনিটে উইলসনের গোলে এগিয়ে যায় ফুলহাম। দ্বিতীয়ার্ধে (৫৭ মিনিট) ফ্লোরিয়ান ভির্টজ দলকে সমতায় ফেরান। বাকি গোল দুটো হয়েছে ৯০ মিনিট শেষে, যোগ করা সময়ে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কোডি গোকপোর গোলে লিড নেয় সফরকারিরা। সপ্তম মিনিটে রেডের গোলে নিশ্চিত হার এড়ায় ফুলহাম।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দলেরও ‘ড্র’ ভাগ্য: অ্যালান্ড রোডে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে তিন মিনিটে। ৬২ থেকে ৬৫ মিনেট— এসময় গোল হয়েছে দুটি। লিডসের হয়ে গোলটি করেন ব্রেন্ডন অ্যান্ডারসন এবং ইউনাইটেডের হয়ে কুনহা।
ম্যাচ ঘড়ির ৬২ মিনিটে লিড নেয় লিডস। বাঁ পায়ের জাদুতে ম্যান ইউনাইটেডের জালে লক্ষ্যবেদ করেন ব্রেন্ডন অ্যান্ডারসন। প্রিমিয়ার লিগে এটি তৃতীয় গোল যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ডের।
এগিয়ে থেকে স্বস্তিতে থাকতে পারেনি ম্যান ইউনাইটেড। তবে মিনিট তিনেকের মাথায় ম্যান ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরান কুনহা। মিডফিল্ড থেকে বল রিসিভ করে সোজা ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রাজিল লেফট উইঙ্গার। লিডসের দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে জালে জড়ান বল।
জেমস পার্ক ছিল নিউ ক্যাসেলের দখলে: ঘরের মাঠ। হাতের তালুর মতো চিরচেনা। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে এডি হাউয়ের শিষ্যরা। সুযোগ বুঝে লিগে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায় করে নেন স্বাগতিকরা।
নিউ ক্যাসেলের হয়ে গোল দুটি করেন গুইমারেস ও মালিক থিয়াও।

লা লিগায় আগের রাতে এস্পানিওলকে হারিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে নিজেদের সাত পয়েন্ট উচ্চতায় নিয়ে যায় বার্সেলোনা। তারপরও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি রিয়াল। আজ রিয়াল বেতিসকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বার্সা থেকে দুরুত্ব কমালো লস ব্লাঙ্কোসরা।
রবিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধে একটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে বাকি পাঁচটি গোল হয়েছে। আসরে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড গঞ্জালো গার্সিয়া।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙে ২০ মিনিটে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর মাদ্রিদকে এগিয়ে নেন গার্সিয়া। ফ্রি-কিকে বলটি ব্যাক পোস্টের দিকে পাঠান রদ্রিগো। আগেই অবস্থান নেওয়া গার্সিয়া দারুণ হেডারে জালে পাঠান বল। প্রথমার্ধে একাধিক চেষ্টা চালালেও ১-০ গোলে সন্তুষ্টি নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লিড দ্বিগুণ করেন গঞ্জালো। ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস প্রথমে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন স্পেন ফরোয়ার্ড। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচের কর্ণারে জালে বল পাঠান। তাতেই স্বস্তি বিরাজ করে গ্যালারিজুড়ে। খেলা দেখতে মাঠে আসা কিলিয়ান এমবাপে এক্রোবেটিক শট দেখে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন। চোটের কারণে দলের বাইরে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড ছাড়াও মাঠে উপস্থিত ছিলেন ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড ও এদার মিলিতাও।
৫৬ মিনিটে লিড তিনগুণ করে রিয়াল। এই গোলটিও আসে রদ্রিগোর সহায়তায়। দূরের কর্নার থেকে আউটসুইং স্টাইলে বল ক্রস করেন রদ্রিগো। তা রাউল আসেনসিও দারুণ হেডারে জালে লক্ষ্যবেদ করেন। তাতেই ৩-০ লিড আদায় করে স্বাগতিক দল।
রিয়ালের তৃতীয় গোলের পর একটি শোধ করে অতিথি দল। ভ্যালেসের লং পাস নিয়ন্ত্রণে নেন রুইবাল। এরপর হার্নান্দেসসে পাস দেন। রাউল আসেনসিওর পরিস্থিতি সামলাতে পারতেন, কিন্তু বল গড়িয়ে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের দিকে চলে যায়। সুযোগ কাজে লাগান হার্নান্দেস। থিবো কোর্তোয়াকে কাটিয়ে জোরালো শটে জাল কাঁপান। একই সঙ্গে বেটিসকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান।
৭৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উঠিয়ে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোকে নামানো হয়। একই সময় উঠিয়ে নেওয়া হয় ম্যাচের অন্যতম নায়ক রদ্রিগোকেও। আরদা গুলের নামেন তার পরিবর্তে। এরপরই আসল ম্যাজিক দেখান তুর্কী মিডফিল্ডার।
৮২ মিনিটে গঞ্জালোকে দারুণ এক পাস দেন দেন। বক্সের কয়েকগজ দূরে থাকা সে পাস ব্যাকহিলে শট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। লা লিগায় ২১ বর্ষী স্পেন তরুণের এটি পঞ্চম গোল। আর মৌসুমে প্রথম হ্যাটট্রিক।
আদতে এখানে ম্যাচ হয়ে গেছে ভাবলে ভুল হবে। যোগ করা সময়েও অতিথিদের জালে আরও একবার বল জালে জড়ায় রিয়াল। গঞ্জালোর বদলি হিসেবে নেমে ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া দলের হয়ে শেষ গোলটি করেন।
৫-১ ফলের মতোই ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল রিয়ালের। ৬১ শতাংশ বল তাদের দখলে ছিল। ১৯টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখে জাবি আলোনসোর শিষ্যরা। বিপরীতে ১৩টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে বেতিস। অতিথিরা বড় সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে মাত্র ১টি। বিপরীতে পাঁচটি সুযোগ তৈরি করে রিয়াল।