
নাহিদ-তাইজুলদের সম্মিলিত বোলিং আক্রমণে ২৩২ রানে পাকিস্তানকে থামিয়েছে বাংলাদেশ। ৪৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছে স্বাগতিকেরা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৭৮ রান।
৮ উইকেটে ২০৬ রানে চা বিরতিতে গিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ দুই উইকেট নিতে বাংলাদেশের লেগেছে ২.৪ ওভার। তাইজুল ইসলামকে টানা তিনটি ছক্কা মেরে ব্যবধান কিছুটা কমিয়েছেন সাজিদ খান। তবে পরের ওভারে নাহিদ রানাকে একটি চার মেরে পরের বলেই ফিরতে হয়েছে।
টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের চেয়ে লেজের ব্যাটাররাই স্কোরে ভালো রান যোগ করেছে পাকিস্তানের। হাসান আলী ১৮, নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাজিদ ২৮ বলে ৩৪, খুররম শাহজাদ করেছেন ১০ রান।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়েছিলেন বাবর আজম। নাহিদের দারুণ এক গতির বলে ছোঁ মেরে স্বাগতিকদের দারুণ ব্রেক থ্রু এনে দেয়। সাবলীল ব্যাট করতে থাকা বাবরকে ৮৪ বলে ৬৮ রানে ফেরান এই স্পিড স্টার। সৌদ শাকিল (৮), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩), সালমান আলী আগা (২১) তিনজনই হয়েছেন ব্যর্থ।
বাংলাদেশের নাহিদ রানা ও তাইজুল নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ নেন ২টি করে। পেস ও স্পিন ৫টি করে—সমান ভাগ-ভাটোয়ারাই করেছেন তাঁরা।
No posts available.

বিশ্ব ক্রিকেটে বাবর আজম অন্যতম সেরা ব্যাটার হলেও নাহিদ রানা যেন তার সামনে এক গোলকধাঁধার নাম। যার গতি আর বাউন্সের সামনে বারবারই খেই হারিয়ে ফেলছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত লাল বলের ক্রিকেটে নাহিদের ৩৯টি বল খেলে বাবর রান করতে পেরেছেন মাত্র ২২। তিন-তিনবার আউট হওয়ায় বাংলাদেশের এই তরুণের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটারের ব্যাটিং গড় এখন অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৭.৩৩! রাওয়ালপিন্ডি থেকে সিলেট—সব মাঠেই বাবরের সামনে যেন এক চেনা ধাঁধার নাম নাহিদ।
নাহিদের সামনে বারবার পরাস্ত হওয়ার পর বাবর আজম নিজেই জানিয়েছেন, বাংলাদেশি এই তরুণের শক্তির জায়গা ঠিক কোথায়। একই সাথে এই ডানহাতি ফাস্ট বোলারের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি। প্রশংসাও করেছেন মন খুলে। পাকিস্তানি এই ব্যাটারের মতে, টেস্ট ক্রিকেটে এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা পেসারদের একজন নাহিদ।
নাহিদের ভূয়সী প্রশংসা করে বাবর বলেন,
‘বর্তমানে লাল বলের ক্রিকেটে দ্রুততম বোলারদের মধ্যে একজন নাহিদ রানা। সে খুব ভালো করছে। আমার মনে হয় সে খুবই প্রতিভাবান এবং গতিই তার প্রধান শক্তির জায়গা। সে দুর্দান্ত এবং বোলিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণও বেশ ভালো। দিন দিন সে নিজের বোলিংয়ে উন্নতি করছে। ওর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল।’
বাবর আরও যোগ করেন, ‘নাহিদ খুব মেধাবী ক্রিকেটার। তার দারুণ গতি আছে। সে নিয়মিত উন্নতি করছে, সামনে আরও ভালো করবে। সত্যি বলতে (সিলেটের) পিচ ভালো ছিল, আমাদের বোলাররাও ভালো করেছে। তবে ব্যাটার হিসেবে আমরা আরও দায়িত্ব নিতে পারতাম।’
এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র তিন ম্যাচে নাহিদ রানার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই আউট হয়েছেন বাবর। তবে নিজের কোনো দুর্বলতা মানতে নারাজ সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক।
নাহিদের বিপক্ষে আলাদা কোনো অস্বস্তি আছে কি না—এমন প্রশ্নে বাবর আজম বলেন,
‘আমি তেমনটা মনে করি না। তবে লাল বলের ক্রিকেটে সে (নাহিদ) বর্তমানে অন্যতম সেরা একজন পেস বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো দলের বিপক্ষে খেললেই ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করা বোলারদের মুখোমুখি হতে হয়। আপনাকে সেই পরিস্থিতি সামলানো জানতে হবে। আমি সবসময়ই আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করি।’

আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে ১৪ ইনিংসে ৩১ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক সনাৎ জয়াসুরিয়া। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তাঁর সেই রেকর্ড ১৮ বছর পর ভেঙে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার কুপার কোনালি।
ক্যারিয়ারে প্রথম আইপিএলে নাম লিখিয়ে একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে যাচ্ছেন ২২ বছর বয়সী ব্যাটিং অলরাউন্ডার কোনালি। পাঞ্জাব কিংসের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তাতে তাঁর ছক্কার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২।
রবিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ২২ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন কোনালি। যাতে ছিল তিনটি করে ছক্কা ও চার। ঝোড়ো এই ইনিংসের সুবাদে জয়াসুরিয়ার রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি।
আসরে ১৬২.৫৪ স্ট্রাইক রেটে এখন পর্যন্ত কনোলির ব্যাট থেকে এসেছে ৪৭৩ রান। দুটি ফিফটির পাশে সেঞ্চুরি একটি। এই মাসের শুরুতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৫৯ বলে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।

টেস্টে বাবর আজমকে আউট করাটা রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন নাহিদ রানা। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে যে গল্পের শুরু হয়েছিল, সিলেট টেস্টেও তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন বাংলাদেশি তরুণ। ঢাকা টেস্টে অনুপস্থিত থাকা বাবর সিলেটে ফিরতেই তাকে আবারও চেনা ছকে পরাস্ত করলেন নাহিদ।
সিলেট টেস্টের আগে বাবরের বিরুদ্ধে নাহিদ বোলিং করেছিলেন আরও দুইবার, ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে। সেবার সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে অল্পতেই ফিরিয়েছিলেন দেশের এই ডানহাতি পেসার।
সফরের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও বাবরকে নিজের শিকার বানান নাহিদ। পাকিস্তানের মাটিতে সেই সিরিজে নাহিদ রানা মাত্র ২৪টি বল করতে পেরেছিলেন বাবরকে, তাতেই আউট করেন দুইবার।
রাওয়ালপিন্ডির সেই চেনা গল্পটাই এবার ঘরের মাঠে নতুন করে লিখলেন নাহিদ। ঢাকা টেস্টে অনুপস্থিত থাকা বাবরকে সিলেট টেস্টে ফিরতেই দারুণভাবে চেপে ধরেন তিনি। দ্বিতীয় দিনে বাবর যখন ফিফটি পেরিয়ে আরও সামনে ছুটছিলেন, ঠিক তখনই নাহিদের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ব্যক্তিগত ৬৮ রানেই পাকিস্তানি এই তারকাকে থামিয়ে দেন নাহিদ।
সব মিলিয়ে তিন টেস্টে নাহিদের ৩৯ বল খেলে বাবর রান করতে পেরেছেন মাত্র ২২। তিন-তিনবার আউট হওয়ায় বাংলাদেশের এই তরুণের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটারের ব্যাটিং গড় এখন অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৭.৩৩!
এরকম বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানদের আউট করার রোমাঞ্চটাও এমনিতে বেশি থাকার কথা। তবে নাহিদকে মনে হলো এটা নিয়ে একদমই নির্লিপ্ত। বাংলাদেশি পেসার বলেন,
‘আসলে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে আউট করতেই মজা লাগে। কারণ প্রত্যেকটি উইকেটই আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটা ব্যাটসম্যানকে বলে বলে আউট করতে পারবেন না যে, এই ব্যাটসম্যানটা ভালো ব্যাটসম্যান কিংবা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় নাম… কখনও বলে বলে আউট করতে পারবেন না। আমি শুধু আমার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি যে কীভাবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে দলকে সহায়তা করা যায়।’
বারবার একজন বিশ্বসেরা ব্যাটারকে বাইশগজ ছাড়া করার পেছনে নিজের চেষ্টা ও বৈচিত্র্যই মূল ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন নাহিদ।
বাংলাদেশের এই তরুণ ফাস্ট বোলার বলেন,
‘কোয়ালিটি ব্যাটসম্যানকে কোয়ালিটি বোলিং করতে হয়… কিংবা যে কোনো ব্যাটসম্যানকে বোলিং করেন, আপনার পেসে কিংবা স্কিলে ভিন্ন কিছু একটু এলে ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়ে। আমি শুধু চেষ্টা করছি, কাজে লেগে গেছে।’

পাকিস্তান টেস্ট একাদশে ফিরেছেন বাবর আজম। এই পাকিস্তান সেনসেশনের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাটিং শক্তিটা বেড়ে যাওয়ারই কথা সফরকারী দলের। সে কারণে ২৭৮ স্কোর পুঁজি নিয়ে প্রথম ইনিংসে লিড নেয়ার পক্ষে একদিন আগেও বাজি ধরার সাহস পাননি অনেকে। অথচ, এই পুঁজি পেয়েই বাংলাদেশ বোলাররা এই চ্যালেঞ্জ ভালই নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে তাসকিন-মিরাজের স্পেলে পাকিস্তানকে বড় ঝাঁকুনি দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে তাইজুল এবং টি ব্রেকের পর ১০ বলের এক স্পেলে নাহিদ রানার স্পেলে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অল আউট করে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১১০/৩। শান্ত ১৩ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। ধীরগতির আউটফিল্ডে রান তোলার কষ্টের দুদিন শেষে বাংলাদেশ ১৫৬ রানে এগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। চতুর্থ ইনিংসের পরীক্ষাটা ক্রমেই বড় হচ্ছে পাকিস্তানের।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিনের ৩ ওভারের এক স্পেলের ( ৩-১-১০-২) পাশে অফ স্পিনার মিরাজের প্রথম স্পেলে (৭-২-১৪-২ ) ৭৪ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম দিন শেষে ২২ রানে উইকেটহীন পাকিস্তানের স্কোর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ৯৬/৪। ব্যাটিংয়ে আছেন বাবর আজম ৩৭ এবং সালমান আগা ৬ রানে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তান ১৮২ রানে পিছিয়ে আছে।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টায় ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। দারুণ একটি ঘন্টায় পাকিস্তানের তিন ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। এই দিনটিতে তাসকিনের ৩ ওভারের স্পেলের (৩-১-১০-২) পাশে মিরাজের ২ বলে ৩৯ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান তিন টপ অর্ডারকে।
প্রথম ব্রেক থ্রু'র জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এদিন মাত্র ৯ বল। দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার গতির। তাসকিনের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারি ড্রাইভ করতে যেয়ে বোকা বনে গেছেন আবদুল্লাহ ফজল (৯)। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ফার্স্ট স্লিপের ক্যাচটি নিয়েছেন লিটন।
তাসকিন পরের ওভারেও পেয়েছেন উইকেট। তাসকিনের লেট সুইং অন সাইডে ঘোরাতে যেয়ে শর্ট লেগে ব্যাট-প্যাড ক্যাচে বন্দি হয়েছেন মিরপুর টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস (১৩)।
শরীফুলের চেঞ্জে বোলিং করতে এসে শান মাসুদ-বাবর আজমের মধ্যে বোঝাপড়ায় ৩৮ রানের জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর দ্বিতীয় ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে দাঁড়ানো বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১ রান)।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায়ও মিরাজ সফল। নিজের চতুর্থ ওভারে পেয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট। সৌদ শাকিলকে (২৮ বলে ৮) সুইপ শট খেলতে প্রলুব্ধ করে এই মিডল অর্ডারকে উইকেটের পেছনে শিকারে পরিণত করেছেন অফ স্পিনার মিরাজ।
দ্বিতীয় সেশনে ১১০ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। দিনের দ্বিতীয় সেশনে প্রথম ব্রেক থ্রু দিয়েছেন নাহিদ রানা। বড় পার্টনারশিপের পথে এগিয়ে যাওয়া বাবর আজম-সালমান আগার পার্টনারশিপ বিচ্ছিন্ন করেছেন তিনি। নাহিদ রানাকে ফ্লিক করতে যেয়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়েছেন পাকিস্তানের ইনিংসে একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিয়ান বাবর আজম (৮৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৬৮)। এই সেশনে অবশিষ্ট ৩টি উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল। তাঁর ৬ ওভারে একে একে ফিরে গেছেন সালমান আগা (৫৫ বলে ২১), রিজওয়ান (২৭ বলে ১৩) এবং হাসান আলী (১৮)।
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে নাহিদ রানার ইনসুইং ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে বোকার মতো বোল্ড হয়েছিলেন রিজওয়ান। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেও করেছেন বোকামি। তাইজুলের গুড লেন্থের আর্ম বল ডিফেন্স করতে যেয়ে ব্যর্থ রিজওয়ানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক খুঁজে বল স্ট্যাম্পে আঘাত হেনেছে।
টি ব্রেকের পর পাকিস্তান শেষ ২টি পার্টনারশিপে যোগ করতে পেরেছে ২৬ রান। নাহিদ রানার ১০ বলের স্পেলে খুররম শেহহজাত শর্ট লেগে (১০ বলে ১০) দিয়েছেন ক্যাচ। স্লিপে সাজিদ খানকে (২৮ বলে ৩৮) বন্দি করেছেন মুমিনুল।
প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দিনের ৪র্থ ওভারে ডেব্যুটেন্ট তানজিদ হাসান তামিম খুররম শেহজাদকে আগে-ভাগে ব্যাকফুটে খেলতে যেয়ে গালিতে দিয়েছেন ক্যাচ (৭ বলে ৪)।
মুমিনুলকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৬ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহামুদুল হাসান জয়। মিরপুর টেস্টে ৮ও ৫ রানে থেমে যাওয়া ওপেনার মাহামুদুল হাসান জয় আব্বাসকে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৬ষ্ঠ টেষ্ট ফিফটি উদযাপনের ইনিংসটি লম্বা করতে পারেননি। সেই আব্বাসের পরের ওভারে লেগ সাইডে ঘোরাতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে দিয়েছেন ক্যাচ (৬৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৫২)। দিনের অন্তিম মুহূর্তে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন মুমিনুল। খুররম শেহজাদের ৫ম স্ট্যাম্প বরাবর শার্ট বলে থার্ডম্যান দিয়ে খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন মুমিনুল (৬০ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩০)।

প্রথম সেশনের ধারাবাহিকতা ধরে দ্বিতীয় সেশনেও চমৎকার বোলিং করল বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদুতে এখন লিডের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলল স্বাগতিকরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান। বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ৭২ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
দিনের প্রথম সেশনে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় সেশনে রানের গতি কিছুটা বাড়িয়ে ১১০ রানে ঠিক ৪ উইকেটই হারিয়েছে শান মাসুদের দল।
৪ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির পর খেলতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিলেন বাবর আজম ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে গড়ে তুলেছিলেন ৬৩ রানের জুটি।
দারুণ ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ পেরিয়ে প্রায় ৪১ মাস ও ৩০ ইনিংস পর সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়েছিলেন বাবর আজম। তবে নাহিদ রানার বলে আলগা শটে ক্যাচ আউট হন ৬৮ রান করে।
এরপর তাইজুল শো। বাবরের জুটির সঙ্গী সালমানকে ফেরান তিনি প্রথমে। ২১ রানের বেশি করতে পারেননি সালমান। পরে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ব্যাট-প্যাড হয়ে বোল্ড হন ১৩ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ান।
হাসান আলি বড় শট খেলতে গিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে ক্যাচ আউট হলে আরও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সেশনের শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণ করে ২২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন সাজিদ খান ও খুররাম শাহজাদ।