৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০৯ এম
শুরু থেকে উত্তর কোরিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে গোলশূন্য বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে দুই মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল হজম করল লাল সবুজের মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধেও অনেকটা সময় গোলবঞ্চিত রাখা গেল কোরিয়াকে, কিন্তু আবার দুই মিনিটে দুই গোল হজম। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হারা ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তি গোলকিপার মিলি আক্তারের অসাধারণ পারফরম্যান্স।
এএফসি এশিয়ান কাপে শুক্রবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এদিন প্রথমার্ধে হয়েছে দুই গোল। দ্বিতীয়ার্ধে হয় আরও তিনটি গোল। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চীনের সঙ্গে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে মোট ৭ গোল হজম করলো লাল সবুজের মেয়েরা। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ।
পরপর দুই ম্যাচ জিতে ‘বি’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের শীর্ষে উত্তর কোরিয়া। তারা সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এক খেলায় এক জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে চীন। আজ দুপুর ২টায় উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করবে চীনের মেয়েরা্। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে জয়ের খোঁজে তালিকার তিনে থাকা উজবেকিস্তান।
কোরিয়ার কাছে এদিন পরাজয়টা আরও বেশি হলেও হতে পারত। তবে গোলকিপার মিলি আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও অসাধারণ খেলেছেন। সমীকরণ বলছে অন্তত ৬টি পরিষ্কার গোল তিনি সেভ করেছেন। এমনকি ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনেও তিনি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যারা ৯ নম্বর দল, তাদের বিপক্ষে হার অনুমিতই ছিল। ব্যবধান আরও বড় হতে দেননি ২০ বছর বয়সী গোলকিপার মিলি।
এ ছাড়া এদিন বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখ করার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি কেউ-ই। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার আগের ম্যাচের মতোই ছিলেন নিস্প্রভ। তাঁর ভুলেই ডেডলক ভাঙে উত্তর কোরিয়া। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের নিখুঁত পাসিং ফুটবলের জবাবও ছিল না বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য।
পঞ্চম মিনিটে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় মিলি আক্তারকে। বক্সে ঢুকে হান জিং হংয়ের নেওয়া গতিময় শট ক্ষীপ্রতায় ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও পরে দেখা যায় অফসাইড ছিলেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।
১১ মিনিটে আবারও উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ ঠেকান মিলি। এবারও ফরোয়ার্ড হান জিন হংয়ের নিরাশ করেছেন বাংলাদেশ গোলকিপার। মিলির নৈপূণ্য বাদ দিলে এই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ কিছুটা ছন্নছাড়া ছিল। যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে উত্তর কোরিয়া জালের দেখা পায় ১৪ মিনিটের মাথায়। বক্সের ভেতর বল পেয়ে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড কিম কিয়ং ইয়ং। যদিও হ্যান্ডবলের কারণে এই যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। এর আগে চীনের বিপক্ষেও শুরুতে ভিএআরের কারণে গোল হজম করেও বেঁচে গিয়েছিল লাল সবুজের মেয়েরা।
২৬ মিনিটে আরও একবার ভিএআর রিভিউয়ে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। কিম সং ইয়ংয়ের কর্নার থেকে হ্যান ঝিং হংয়ের হেড ঠেকিয়ে দেন মিলি। কিন্তু মিলির ধরে রাখা বলে শট দিয়ে গোল করেন মিও ইয়ো ঝং। ৩১ মিনিটে আরও একবার জালের দেখা পায় কোরিয়া। এবার অফসাইডে থাকার কারণে গোল বাতিল হয় কোরিয়ার।
প্রথম আধা ঘন্টায় এদিন কোনো আক্রমণ শানাতে পারেননি ঋতুপর্ণা, মনিকারা। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণে গোলা সামলেছেন আফঈদা, নবিরনরা। বাংলাদেশের বক্সে কোরিয়ান মেয়েরা আতঙ্ক ছড়িয়েছেন পুরোটা সময়। দুই উইং দিয়ে একের পর এক ক্রস দিয়েছেন তারা। তাদের ফরোয়ার্ডরা প্রায় সময়ই থেকেছেন আনমার্ক।
৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ফিরে আসে বারে লেগে। পেনাল্টির আবেদন হলে এবারও ভিএআর যায় বাংলাদেশের পক্ষে। দুই মিনিট পর হান ঝিং হংয়ের শট বাঁদিকে ঝাপিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন মিলি, বলের নাগাল পাননি তিনি। বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে।
বিরতির আগেই তিন পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মাঠে নামেন স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এবং উমেহ্লা মারমা। উঠে যান শামসুন্নাহার জুনিয়র, আইরিন ও তহুরা। যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটের মাথায় মিলির দারুণ সেভ।
পরের মিনিটে পেনাল্টি পায় কোরিয়া। হান ঝিংকে বক্সে ফেলে দেন আফঈদা। পেনাল্টির বাশি বাজান রেফারি। সফল স্পটকিক নেন মিয়ং জং। দুই মিনিটের মাথায় কিম কিয়ং ইয়ংয়ের গোলে জোড়া গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় কোরিয়া। এখানেও ছিলেন ডিফেন্ডার আফঈদা, বাংলাদেশ অধিনায়ক ট্যাকলের বদলে লাফিয়ে উপরে উঠলে তাঁর পায়ের নিচ দিয়েই নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।
আগের ম্যাচেও আফঈদার ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে রক্ষণ থেকে আফঈদাকে নয়, নবিরনকে তুলে বিরতির পর উন্নতি খাতুনকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। এই ম্যাচে সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হলো ২০ বছর বয়সী উন্নতির।
৬০ মিনেটর মধ্যে পরপর দুটি সেভ করেন মিলি। খানিক পর দুই মিনিটে পরপর দুই গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ৬২ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে তৃতীয় গোল করেন চা উন ইয়ং। গোলকিপারের এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং ইয়ং।
৭০ মিনিটে মিলির অসাধারণ সেভ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান ৫-০ করেন কিম হাই ইয়ং। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে উত্তর কোরিয়া।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৯ মার্চ, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।
No posts available.
৬ মার্চ ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
৬ মার্চ ২০২৬, ৭:২১ পিএম
৬ মার্চ ২০২৬, ৫:০১ পিএম

দলবদলের বাজারে বড় ঝড় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। পিএসজি থেকে ভিতিনিয়াকে দলে ভেড়ানো কঠিন হয়ে পড়ায় এখন চেলসির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেসের দিকে চোখ পড়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।
স্প্যানিশ ট্রান্সফার মার্কেট সংবাদমাধ্যম ফিচাহেসের প্রতিবেদন, আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলে এনজোকে পেতে ১২০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে রিয়াল মাদ্রিদ।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী তারকা এনজোকে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মাঝমাঠের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচনা করছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির বিশ্বাস, এনজো দলে এলে দলের আক্রমণভাগ আরও ধারালো আরও কার্যকার হবে।
আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটে খেলার সময় থেকেই এনজো ফার্নান্দেসকে নজরে রাখছে রিয়াল মাদ্রিদের স্কাউটিং বিভাগ। মাদ্রিদের বর্তমান মাঝমাঠে ফেদেরিকা ভালভার্দে, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, ওরেলিয়াঁ চুয়ামেনিদের মতো ফুটবলার থাকলেও, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার মতো একজন নিখুঁত প্লে-মেকারের অভাব বোধ করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
অবশ্য এনজোকে দলে পাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের জন্য মোটেও সহজ হবে না। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রেকর্ড ১২ কোটি ১০ লাখ ইউরোতে চেলসিতে যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে লন্ডনের ক্লাবটির চুক্তি রয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত।
এনজোকে বর্তমানে বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই চেলসির। তবে তিনি নিজে ক্লাব ছাড়ার জোরালো ইচ্ছা প্রকাশ করলে, চেলসি আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা আছে।
স্প্যানিশ একাধিক সংবাদমাধ্যমের গুঞ্জন অনুযায়ী, এনজো ফার্নান্দেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ১২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবটি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে এটি হবে ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত দলবদল।

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে সেনেগালের কাছে হেরে শিরোপা হারানোর পরই চাকরি ছাড়ার গুঞ্জন ওঠে মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের। শেষ পর্যন্ত সরেই দাড়ালেন তিনি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে মরক্কো কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন রেগরাগুই।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ১০০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে বিদায় নিলেন মরক্কোর কোচ। সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা-কে সঙ্গে নিয়েই উপস্থিত হন রেগরাগুই। একই সঙ্গে বিদায়ী কোচকে সম্মান জানানোর অনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হয়।
মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেস, নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া হবে মোহাম্মদ উওহবিকে। গত বছর চিলিতে মরক্কোর অনূর্ধ্ব-২০ দলের বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও তিনি ছিলেন দায়িত্বে।
৫০ বছর বয়সী রেগরাগুইয়ের কোচিংয়ে ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে মরক্কো। আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের জন্য প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে আশরাফ হাকিমিরা। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস-এর ফাইনালে সেনেগালের কাছে নাটকীয় ম্যাচে ১–০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।
মরক্কোর দায়িত্ব ছাড়ার পর রেগরাগুই বলেন, ‘দলের এখন নতুন মুখ, ভিন্ন শক্তি এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির একজন কোচ প্রয়োজন। বিশ্বকাপের আগে দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও নতুন পরিকল্পনা দরকার, যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। তাই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটাও দলের এই অগ্রযাত্রারই অংশ।’
রেগরাগুই ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মরক্কোর দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪৯ ম্যাচে ৩৬ জয়, ৮ ড্র এবং মাত্র ৫ হারে নজরকাড়া রেকর্ড তৈরি করেছিলেন। এছাড়া তাঁর অধীনে জুন ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মরক্কো টানা ১৯ ম্যাচ জিতে বিশ্বরেকর্ডও গড়েছিল।
রেগরাগুই কোচ হওয়ার পর মরক্কো দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আশা ও প্রত্যাশা পারদ কেবলই বাড়ছিল। বিশ্বকাপে সাফল্য ও বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেলেও রেগরাগুইয়ের রক্ষণাত্মক খেলার ধরন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। ১৯৭৫ সালের পর থেকে কোনো মহাদেশীয় শিরোপা জিততে না পারা দলটি ঘরের মাঠে খরা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ পায়। তবে সেনেগালের কাছে ট্রফি হারানোর পর রেগারগুইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। যার শেষটা হয় গতকাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে।
মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রেগরাগুইকে একজন ‘কিংবদন্তি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোচের নেতৃত্ব, আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি শুধু খেলোয়াড়দেরই নয়, পুরো দেশ এবং বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করেছে,
‘মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে তিনি এক অবিস্মরণীয় ছাপ রেখে গেছেন। আমাদের স্বপ্ন দেখানোর জন্য এবং এত গর্বের সঙ্গে দেশের এই রঙ ধারণ করার জন্য তাকে ধন্যবাদ।’
মরক্কো আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির লক্ষ্যে এই মাসে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৭ মার্চ তারা স্পেনের মাদ্রিদে ইকুয়েডর-এর মুখোমুখি হবে। চার দিন পর ফ্রান্সের লঁসে হাকিমিরা মাঠে নামবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে গ্রুপ সি-তে মরক্কোর প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এক সমর্থকের নাৎসি স্যালুট দেওয়ার দায়ে রিয়াল মাদ্রিদকে বড় অংকের জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা। একই সঙ্গে আগামী এক বছরের জন্য স্থগিত নিষেধাজ্ঞা হিসেবে গ্যালারির একটি অংশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার বিপক্ষে শেষ ষোলো ওঠার লড়াইয়ের দ্বিতীয় লেগে ঘটনাটি ঘটে। ইউয়েফা বিষয়টিকে বর্ণবাদী এবং বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছে।
শাস্তি হিসেবে ইউয়েফার শৃঙ্খলা কমিটি রিয়াল মাদ্রিদকে ১৫ হাজার ইউরো জরিমানা করেছে। পরবর্তী ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ম্যাচে দক্ষিণ প্রান্তের নিচের গ্যালারির ৫০০টি আসন খালি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই আংশিক স্টেডিয়াম বন্ধের নির্দেশটি আপাতত এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে শাস্তিটি কার্যকর হবে।
রিয়াল ও বেনফিকার এই দ্বৈরথ আগে থেকেই উত্তপ্ত ছিল। প্রথম লেগের ম্যাচে রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর প্রেস্তিয়ান্নিকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলমান।
মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য শেষ হাসি হেসেছে রিয়াল মাদ্রিদই। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতে (অ্যাগ্রিগেটে ৩-১) শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটির।

লা লিগা প্রথমবার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশেষ ‘রেট্রো ম্যাচডে’। এই উদ্যোগে লিগের অধিকাংশ ক্লাব অতীতের বিখ্যাত ডিজাইন থেকে অনুপ্রাণিত জার্সি পরে মাঠে নামবে। তবে লিগের দুই বড় ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ এতে অংশ নিচ্ছে না।
লা লিগা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে আয়োজিত ম্যাচগুলোতে শীর্ষ দুই বিভাগের মোট ৩৮টি ক্লাবের বেশির ভাগই পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জার্সির আদলে তৈরি নতুন কিট পরে খেলবে। ম্যাচ পরিচালনায় থাকা রেফারিরাও ব্যবহার করবেন পুরোনো ধাঁচের বিশেষ ইউনিফর্ম।
তবেএই উদ্যোগে যোগ দিচ্ছে না চারটি ক্লাব—বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, গেতাফে ও রায়ো ভায়েকানো। বার্সেলোনা, গেতাফে ও রায়ো ভায়েকানো লজিস্টিক জটিলতার কথা বললেও রিয়াল মাদ্রিদ নাকি পুরো প্রকল্প থেকেই দূরত্ব বজায় রেখেছে বলে জানা গেছে।
লা লিগা কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ক্লাবগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সমর্থকদের কাছে তুলে ধরা। লা লিগার ক্লাব অফিসের পরিচালক হাইমে ব্লাঙ্কো বলেন, ‘রেট্রো ম্যাচডে আমাদের ক্লাবগুলোর ইতিহাসকে শ্রদ্ধা জানানোর একটি বিশেষ সুযোগ। এটি সমর্থকদের বিভিন্ন প্রজন্মকে আবেগের বন্ধনে যুক্ত করবে এবং ফুটবলের ঐতিহ্যকে বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত করবে।’
এই বিশেষ ম্যাচডে শুধু জার্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। টেলিভিশন সম্প্রচারেও থাকবে পুরোনো ধাঁচের গ্রাফিক্স ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, যাতে দর্শকেরা যেন অতীতের সময়ের অনুভূতি পান।‘৪২ লিগেসি, ৪২ ওয়েজ টু উইন’ শিরোনামের এই প্রচারণায় ফুটবল কিংবদন্তি, স্পনসর এবং ফুটবল জাদুঘর ‘লেজেন্ডস, দ্য হোম অব ফুটবল’ও যুক্ত থাকবে।
রেট্রো জার্সিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে ১৯ মার্চ মাদ্রিদের মার্সিডিজ–বেঞ্জ ফ্যাশন উইকে। এরপর লা লিগার ৩১তম রাউন্ড এবং সেগুন্ডা ডিভিশনের ৩৫তম রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে এসব জার্সি ব্যবহার করা হবে।
তবে লিগের দুই সবচেয়ে সফল ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ এই উদ্যোগে না থাকায় পুরো আয়োজনের প্রভাব কিছুটা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

ব্রাজিলের শীর্ষে লিগ সিরি ‘আ’র ক্লাব রেড বুল ব্রাগানিতো-এর ডিফেন্ডার গুস্তাভো মার্কুয়েস নারী রেফারিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বড় শাস্তির মুখে পড়েছেন। কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার কারণে এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে ১২ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৫,৭০০ ডলার) জরিমানাও গুনতে হয়েছে তাকে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি সাও পাওলো-এর বিপক্ষে সাও পাওলো রাজ্য লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ২–১ গোলে হারের পর ম্যাচ শেষে রেফারি ডায়ানি মুনিজ-কে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মার্কেস। তাঁর ওই মন্তব্যের জন্য ব্রাজিলের একটি ক্রীড়া আদালত গতকাল নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার শাস্তির সিদ্ধান্ত জানায়। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু সাও পাওলো স্টেট ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর জন্য প্রযোজ্য। ফলে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় খেলতে বাধা নেই তাঁর।
আরও পড়ুন
| যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফিনালিসিমা নিয়ে ইউয়েফার নতুন বার্তা |
|
ম্যাচ শেষে টিএনটি ব্রাজিলকে দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে মার্কেস বলেছিলেন, সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠা ছিল আমাদের স্বপ্ন। কিন্তু সে আমাদের ম্যাচটাই শেষ করে দিয়েছে। আমার মনে হয় এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাও পাওলো রাজ্যের ফুটবল ফেডারেশনের একজন নারীকে রেফারি করা উচিত নয়। আমরা যখন সাও পাওলো, পালমেইরাস বা করিন্থিয়ান্স-এর মতো দলের বিপক্ষে খেলি, তখন এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একজন নারীকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক নয়।’
পরে অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্যের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান ২৪ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মার্কুয়েস, ‘আমি তখন খুবই নার্ভাস ছিলাম এবং এমন কিছু কথা বলেছি যা বলা উচিত হয়নি। আমি ডায়ানির সঙ্গে কথা বলেছি এবং তার কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। তার সঙ্গে একজন নারী সহকারী রেফারিও ছিলেন, তার কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। এ ধরনের মন্তব্য করা আমার ভুল ছিল।’
মার্কুয়েস আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী এবং মা—দুজনেই আমার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাই আমি একজন মানুষ হিসেবে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে এসেছি।’
আদালতের রায়ের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি মার্কেস বা তাঁর ক্লাব রেড বুল। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ক্লাবটি চলতি মাসে তার বেতনের ৫০ শতাংশ কেটে রাখার জরিমানাও করেছে।