
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীনে ফুটবল বিশ্বকাপ সরাসরি দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ফিফার সঙ্গে দেশ দুটির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েক কোটি ফুটবল অনুরাগী প্রিয় দলের খেলা স্বাচ্ছন্দ্যে দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদন, ভারতে সম্প্রচার স্বত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকা রিলায়েন্স ও ডিজনির যৌথ উদ্যোগ ফিফাকে মাত্র দুই কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা এই পরিমাণ অর্থ গ্রহণে রাজি নয়। সূত্রমতে, ফিফা আরও বড় অংকের প্রস্তাব আশা করছে। এর আগে সনি গ্রুপও ফিফার সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তারা কোনো প্রস্তাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতে গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় রিলায়েন্সের মিডিয়া শাখা প্রায় ছয় কোটি ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। এবার ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা শুরুতে ১০ কোটি ডলার চেয়েছিল। কিন্তু রিলায়েন্স-ডিজনি জোট মনে করছে, এবারের বিশ্বকাপ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে, তাই সময়ের পার্থক্যের কারণে ভারতে খেলাগুলো মধ্যরাতের পর সম্প্রচারিত হবে। এতে দর্শকসংখ্যা কম হতে পারে ভেবে তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ফুটবল দর্শক থাকা সত্ত্বেও চীনে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির খবর পাওয়া যায়নি। অথচ ২০২২ বিশ্বকাপে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোট দর্শক ঘণ্টার প্রায় অর্ধেকই এসেছিল চীন থেকে। সাধারণত বিশ্বকাপের অনেক আগে থেকেই চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি প্রচার ও বিজ্ঞাপন কার্যক্রম শুরু করে দেয়। কিন্তু এবার টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকি থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বের ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলে তারা ইতিমধ্যে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। তবে ভারত ও চীনে মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে আলোচনা এখনো চলছে এবং গোপনীয়তার স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বাজারে ক্রিকেটের মতো ফুটবল এখনো বড় বাণিজ্যিক মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে না। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাবে বিজ্ঞাপন বাজারে মন্দা দেখা দেওয়ায় সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
No posts available.
৫ মে ২০২৬, ৮:৫১ পিএম

অনেক নাটকীয়তা আর বছরের পর বছর অপেক্ষার পর কিলিয়ান এমবাপেকে বরণ করে নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর অনেকেই ভেবে রেখেছিলেন, ফরাসি ফরোয়ার্ডের আগমনে বুঝি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আকাশে নতুন এক নক্ষত্রের উদয় হলো। তবে ফুটবলের অনিশ্চয়তা এমবাপেকে এখন এমন এক জায়গায় দাঁড় করাবে তা হয়তো কেউ ভাবেনি। রিয়াল থেকে এমবাপের বিদায়ের দাবিতে রীতিমতো পিটিশন করল একদল সমর্থক। অনলাইনে যে পিটিশনের স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ।
চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও এমবাপে এখন আলোচনার কেন্দ্রে মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে। এল ক্লাসিকোর মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সতীর্থরা যখন ঘাম ঝরাচ্ছেন, তখন এমবাপ্পের প্রমোদতরীতে বিলাসী ছুটি কাটানোর ছবি মাদ্রিদ সমর্থকদের রাগের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।
আরও পড়ুন
| লিভারপুলের ডাগআউটে অস্বস্তি, বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা |
|
এমবাপেকে নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো একের পর এক প্রতিবেদন সমর্থকদের ক্ষোভের মাত্রা ক্রমশই বাড়াচ্ছে। ২৭ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড নাকি অনুশীলন সেশনের সময় কোচ আলভারো আরবেলোয়ার স্টাফদের একজনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুশীলনের একটি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করা সেই সহকারীর প্রতি রাগান্বিত হয়ে আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন এমবাপে।
মাঠে অবশ্য নিয়মিতই গোলের দেখা পাচ্ছেন এমবাপে। তবে পিএসজি থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে আসার পর গত দুই মৌসুমে এমবাপে বা রিয়াল মাদ্রিদ কোনো বড় ট্রফি জিততে না পারায় সমর্থকরা বেশ ক্ষুব্ধ। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির প্রায় ১০ লাখেরও বেশি ভক্ত এমবাপের ক্লাব ছাড়ার দাবিতে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।
অনলাইনে 'এমবাপ্পে আউট' দাবিতে একটি পিটিশন চালু করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘মাদ্রিদিস্তাস, আপনাদের আওয়াজ তুলুন। যদি মনে করেন পরিবর্তন দরকার, তবে চুপ থাকবেন না—এই পিটিশনে স্বাক্ষর করুন এবং ক্লাবের ভবিষ্যতের জন্য যা সেরা তার পক্ষে দাঁড়ান’। এখন পর্যন্ত এই পিটিশনে ১১ লাখ ৮৬ হাজার স্বাক্ষর জমা পড়েছে।
অবশ্য এই কঠিন সময়েও রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আরবেলোয়া শিষ্যের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের পর তিনি জানান, এমবাপে ক্লাবের প্রটোকল মেনেই চলেছেন। আরবেলোয়া বলেন, ‘চোটে থাকা খেলোয়াড়দের যাবতীয় পরিকল্পনা সবসময় রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল স্টাফদের তত্ত্বাবধানে থাকে; তারাই ঠিক করেন কখন খেলোয়াড়দের ভালদেবেবাসে আসতে হবে আর কখন হবে না। ছুটির সময়ে এমবাপে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের মতো তাঁর যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন।’
যদিও ফরাসি সংবাদমাধ্যম 'লেকিপ'-এর মতে, ছুটি ক্লাব অনুমোদিত হোক বা না হোক, সেটি এমবাপের সতীর্থদের বিরক্তি কমাতে পারেনি। ক্লাবের ভেতরের অনেকেই মৌসুমের এমন সংকটময় সময়ে এমবাপ্পের বিচক্ষণতার অভাব দেখে হতাশ হয়েছেন। ফরাসি এই সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পিএসজি থেকে আসার পর থেকেই মাদ্রিদে এমবাপ্পে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক ‘অস্থির’ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে এমবাপেকে।

২০২৪-২৫ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল চলতি মৌসুমে বেশ বেকাদায়। ৩৫ ম্যাচে ১৭ জয় ও ৭ ড্রয়ে পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে অবস্থান অল রেডসদের। এমতবস্থায় অ্যানফিল্ডের ক্লাবের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের (এফএসজি) প্রধান হেনরি জানিয়েছেন, নিম্মমুখী ফলে সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
লিভারপুলের কঠিন এই সময়ে আয়াক্স থেকে আগ্রহ দেখানো হয় আর্নে স্লটের প্রতি। যদিও ডাচ ক্লাবের সেই প্রস্তাব তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করেছেন নেদারল্যান্ডসের ম্যানেজার। তাতে অনেকেই মনে করছেন, ফল যাই হোক, আপাতত স্লটের প্রতি বিশ্বাস লিভারপুলের। তবে ক্লাব মালিকানাধীন এফএসজি প্রধানের কথায় স্পষ্ট—ক্লাব ম্যানেজারের প্রতি একেবারেই সন্তুষ্ট নয় তারা।
হেনরি বলেন, ‘প্রথম ২৫ ম্যাচে রেডসদের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। আমার মনে পড়ে, আমরা যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৭–০ গোলে হারাচ্ছিলাম, তখন মাথার ওপর দিয়ে একটি বিমান উড়ে যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘এফএসজি নিপাত যাক!’
লিভারপুলের মালিকানায় এফএসজি-র ১৬ বছরের ইতিহাসে হেনরি মাত্র দুজন কোচকে বরখাস্ত করেছেন। রয় হডসন, যিনি ২০১০ সালের অক্টোবরে ক্লাবটি অধিগ্রহণের মাত্র কয়েক মাস আগে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁকে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ব্রেন্ডন রজার্স ২০১৩–১৪ মৌসুমে লিভারপুলকে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে গেলেও পরের মৌসুমে দলটি ষষ্ঠ স্থানে নেমে যায়। ২০১৫ সালের গ্রীষ্মে রজার্সকে বরখাস্ত করার প্রলোভন হেনরি সংবরণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অক্টোবরে গিয়ে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এবার কি তবে আর্নে স্লটের ভাগ্যে এমন কোনো পরিণতি ঘটতে যাচ্ছে? অবশ্য সেটা সময় উত্তর দেবে।

ইউরোপিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে বড় লড়াইয়ের আগে স্বস্তির খবর পেল আর্সেনাল। প্রধান কোচ মিকেল আরতেতা নিশ্চিত করেছেন, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ খেলতে প্রস্তুত আছেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও কাই হাভার্টজ।
আতলেতিকোর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে আর্সেনাল। সেই ম্যাচে ৫৭ মিনিট খেলেছিলেন ওডেগার্ড। তবে হ্যাভার্টজ ছিলেন না ওই ম্যাচে। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি।
এবার দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে দুজনের ফেরার সুখবর দিয়েছেন আরতেতা।
“(মার্টিন) ওডেগার্ড ও (কাই) হাভার্টজ- দুজনই স্কোয়াডে আছে। তারা খেলার জন্য প্রস্তুত। এটা আমাদের জন্য দারুণ খবর। এই পর্যায়ে ভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলার মতো বিকল্প দরকার হয়। শুরুর একাদশে হোক বা বেঞ্চ থেকে।”
ইনজুরির কারণে এবারের মৌসুমটা খুব মসৃণ যায়নি ওডেগার্ডের। প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন মাত্র ২২ ম্যাচ। অন্যদিকে হাঁটুর চোটে চার মাস বাইরে থাকার পর ফিরে এসে পেশির সমস্যায় ভুগছেন হাভার্টজও।
ওডেগার্ড ও হাভার্টজের চোটে অস্বস্তিতে পড়লেও, ইতিবাচক দিকও আছে আর্সেনালের। দলের তারকা উইঙ্গার বুকায়ো সাকা ফিরেছেন দারুণ ছন্দে। প্রথম লেগে অনুপস্থিত থাকলেও ফুলহ্যামের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে মাত্র ৪৫ মিনিটে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
সাকাকে নিয়ে তাই আত্মবিশ্বাসী আর্সেনাল কোচ।
“এটাই আমরা চাই এই পর্যায়ে। শুধু ফিট থাকলেই হবে না, খেলোয়াড়দের সেরা ছন্দেও থাকতে হবে, যাতে তারা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।”
আতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি আর্সেনালের জন্য ইতিহাসের দিক থেকেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ২০০৬ সালের পর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠার আশায় রয়েছে আর্সেনাল। আর ২০১৬ সালের পর আবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে আতলেতিকো।
গত অক্টোবরে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছিল আর্সেনাল। তবে সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে আবার ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। এবার ওডেগার্ড ও হাভার্টজকে নিয়ে আবার জয়ের জন্য নামবে আরতেতার শিষ্যরা।

এপ্রিলের মাঝামাঝিতে লা লিগায় সেলতা ভিগোর বিপক্ষে পেশির চোটে পড়েন লামিন ইয়ামাল। এরপরই শোনা যায়, মৌসুম শেষ স্পেন ফরোয়ার্ডের। বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলোতেও ইয়ামালের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয় শঙ্কা। তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আশা করছেন, বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বার্সেলোনা উইঙ্গার।
বার্সেলোনায় ইতোমধ্যে অনুশীলনে ফিরেছেন ইয়ামাল। ইনজুরি কাটিয়ে সেরে ওঠার পথে এটি তার জন্য অনেক বড় একটি অগ্রগতি। আসন্ন বিশ্বকাপ ঘিরে নিজ ক্যাম্পে নিয়মমাফিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড।
ইয়ামালের মাঠে ফেরা নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা সের’র তথ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনাতেই ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার অংশ হিসেবে অনুশীলনে ফিরেছেন ইয়ামাল। ক্লাবের ট্রেনিং কমপ্লেক্সে তিনি এখন মাঠে একা অনুশীলন করছেন। এর আগে পুনর্বাসনের প্রথম দিকে তিনি শুধু জিমেই কাজ করছিলেন। গত ২২ এপ্রিল তার বাম পায়ের বাইসেপস ফেমোরিসে আংশিক মাংসপেশি ছিঁড়ে যায়।
বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচারের বদলে রক্ষণশীল চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেয়। লা লিগার বাকি ম্যাচগুলোতে ইয়ামালকে আর মাঠে দেখা যাবে না। তবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সামনে রেখে তার মাঠে ফেরার এই খবরটি স্পেনের জাতীয় দল এবং এই তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, টুর্নামেন্টের আগে ইয়ামাল যদি চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পান, তবে তিনি স্পেনের পরিকল্পনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন। মৌসুমের শেষ দিকে চোটে পড়া খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। কারণ আমরা জানি এই ধরনের ম্যাচে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রুপ পর্বে খেলা আর শেষ ৩২, শেষ ১৬ বা কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচে খেলা এক নয়। আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়ের পরিস্থিতি আলাদা করে মূল্যায়ন করব, কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো।’

আগামী ৫ জুন সান মারিনোর সঙ্গে তাদেরই মাঠে একটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এবারই প্রথম ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে লাল সবুজের জার্সিধারীরা। ওই ম্যাচের জন মুখিয়ে আছেন বসুন্ধরা কিংসের জাতীয় দলের তারকা উইঙ্গার রাকিব হোসেন।
আজ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফেডারেশন কাপের কোয়ালিফায়ার্স ম্যাচে ব্রাদার্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে রাকিবের দল। ম্যাচ শেষে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। ম্যাচ ছাপিয়ে উঠে আসে সান মারিনো ম্যাচের প্রসঙ্গ। ওই ম্যাচের জন্য কতটা মুখিয়ে আছেন জানতে চাইলে রাকিব বলেন, 'সবাই উজ্জীবিত, কারণ এবার ম্যাচ ইউরোপে। ওরা কিন্তু ইউরোপের দল; বড় বড় টিমের সঙ্গে খেলে। পর্তুগাল, জার্মানি, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ খেলে সবসময়। তো আমরা ওদের সঙ্গে খেলতে পারবো, খেলবো, এজন্য সব খেলোয়াড়ই উজ্জীবিত।'
এদিন ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারায় বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে রাকিবের গোলে লিড নেয় প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ডানপ্রান্ত ধরে আক্রমণ ওঠা সাদ উদ্দিনের বাড়ানো বলে কোনাকুনি শটে জালে বল জড়ান রাকিব। দুরূহ কোন থেকে দারুণ এই গোল নিয়ে ২৮ বছর বয়সী তারকা বলেন, 'আমি যখন বলটা পাই, তখন দেখি গোলকিপার (ইসহাক আকন্দ) ফার্স্ট বার ছেড়ে দিয়েছে, ও ভাবছিল হয়ত আমি ক্রস দেব। কিন্তু আমি ওইখানে শুট করি এবং গোল হয়।'
রাকিবের পর জোড়া গোল করেন দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। একবার জাল কাঁপান সাব্বির হোসেন।
বসুন্ধরা কিংস এরই মধ্যে জিতে নিয়েছে চ্যালেঞ্জ কাপ শিরোপা। লিগ শিরোপা জেতার দৌড়েও এগিয়ে আছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। এবার ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা লাল-সাদাদের সামনে ঘরোয়া ট্রেবল জেতার হাতছানি।
এর আগেও ঘরোয়া ট্রেবল জেতার রেকর্ড রয়েছে কিংসের। এবারও দল দারুণ কীর্তি গড়ার সামনে। রাকিবরাও তার জন্য প্রস্তুত, 'বসুন্ধরা কিংস সবসময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই ফুটবল খেলে। আমরা ইতিমধ্যে একটা ট্রফি জিতেছি। এখন লিগেও আমরা টপে আছি, ফেডারেশন কাপেও ফাইনালে আছি। আমরা যদি ওই দুইটা ট্রফি জিততে পারি তাহলে কিন্তু আমাদের ট্রেবল হবে। আমরা একবার ট্রেবল জিতেছি। এবারও ট্রেবল জেতার জন্য ক্লাব কর্মকর্তারা এবং আমরা খেলোয়াড়েরা সবাই একতাবদ্ধ।'
ফেডারেশন কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস উঠলেও তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ এখনো হয়নি। কুমিল্লায় এলিমিনেটর ম্যাচে আজ মোহামেডান ৩-০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে। তবে ফাইনালে উঠতে হলে মোহামেডানকে কোয়ালিফায়ার্স-২ ম্যাচে হারাতে হবে ব্রাদার্সকে।