বাছাইয়ে আগের দুই ম্যাচে ছিল ড্র। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শুরুতে লিড নিলেও এক পর্যায়ে ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ব্রাজিল। তবে শেষ সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে কোনোমতে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে সেলেসাওরা। ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে না পারলেও, দলের পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ দেখছেন ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র।
শুক্রবারের ম্যাচের ছয় মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। তবে ৪১ মিনিটে লুইস দিয়াজের দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরে কলম্বিয়া। এরপর জমজমাট লড়াই চললেও জয় সূচক গোলটা পেতে ব্রাজিলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে যোগ করা সময় পর্যন্ত। ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে ডি বক্সের বেশ বাইরে থেকে কোণাকুণি এক শটে গোল করে ব্যবধান গড়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
আরও পড়ুন
ব্যালন ডি'অর জেতার সেরা সুযোগ দেখছেন কেইন |
![]() |
জয়টা সহজে ধরা না দিলেও ম্যাচ শেষে দলের খেলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন দরিভাল। “পরিস্থিতি বিবেচনায় জয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ন ছিল আমাদের জন্য। দলের সব কিছু ধিরে ধিরে উন্নতি করছে। আমাদের সব যে ঠিক হয়ে গেছে তা আমি বলবো না, তবে এতটুকু বলতে পারি প্রতিটা ম্যাচেই আমাদের উন্নতি হচ্ছে।“
জয়টা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলের সবাই এখনো যে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট না, তাও জানিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। “এটা আমাদের ১৫ কিংবা ১৬ তম ম্যাচ(দরভালের অধীনে)। সব কিছুর সঙ্গে সবাই মিলে মানিয়ে নেওয়ার কাজটা করে যাচ্ছি। এখানে কেউই এখনো সব নিয়ে সন্তুষ্ট না। আমাদের এখন লক্ষ্য বিশ্বকাপ আসার আগ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উন্নতি করে যাওয়া।“
এই জয়ের পর লাতিন আমেরিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ২৬ মার্চ পরের ম্যাচ ব্রাজিল খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।
গত বছরের শেষের দিক থেকেই দানি ওলমো ও পাউ ভিক্টরের নিবন্ধন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আছে দুই পক্ষ। বেশ কিছু আইনি ঝামেলার পর বার্সেলোনা প্রক্রিয়াটি শেষ হয়েছে দাবি করলেও আরও একবার বেকে বসেছে লা লিগা। ফলে আরও একবার জটিলতা তৈরি হয়েছে এই দুজনের কাতালান ক্লাবটির হয়ে খেলা নিয়ে।
এক বিবৃতিতে লা লিগার দাবি, বার্সেলোনা কখনোই দানি ওলমো বা পাউ ভিক্টরকে স্পেনের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের (সিএসডি) সাথে নিবন্ধনের জন্য বেতনের সীমার মধ্যে জায়গা করতে পারেনি। ফলে এই দুজনের লা লিগায় নিবন্ধন অবৈধ বলেই মনে করছে তারা।
লা লিগা বার্সেলোনার এই বছরের শুরুতে করা ১০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যার ওপর ভিত্তি করে সিএসডি জানুয়ারিতে ওলমো এবং ভিক্টরকে অস্থায়ী নিবন্ধন মঞ্জুর করে। তবে লা লিগার দাবি, ক্যাম্প ন্যুর ভিআইপি আসন বিক্রি যাচাই করার জন্য অজ্ঞাত যে অডিটরকে নিয়োগ দিয়েছিল বার্সেলোনা, সেটা সঠিক ছিল না।
ওই চুক্তির অর্থের বিষয়টি গত সপ্তাহে বার্সেলোনার ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য লা লিগায় জমা দেওয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি, যা অন্য একজন অডিটর দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল।
লা লিগা আরও জানিয়েছে যে, তারা বার্সেলোনাকে তাদের খেলোয়াড়দের বার্ষিক বেতনের সীমা ১০০ মিলিয়ন ইউরো কমিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জানিয়ে দিয়েছে, যা গত ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ৪৬৩ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছিল।
ওলমো এবং ভিক্টরের নিবন্ধন বাকি মৌসুমের জন্য বাতিল করা উচিত কিনা, সেই ব্যাপারে সিএসডি আগামী ৭ এপ্রিলের আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরো ব্যাপারটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা।
“এটি আমাদের দলকে অস্থিতিশীল করার আরেকটি বাজে প্রচেষ্টা। আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়, যেহেতু তারা মাঠে আমাদের হারাতে পারে না, তাই তারা আমাদের অফিসে বসে হারাতে চায়। বার্সেলোনার সভাপতি হিসেবে আমি এসব মেনে নেব না এবং আমি ক্লাবের স্বার্থ রক্ষা করে যাব।”
ভারতের সাথে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও জয়ের দেখা মেলেনি। তবে ড্র হওয়া ওই ম্যাচের ফলাফল র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতিতে রেখেছে অবদান। ফিফার সবশেষ প্রকাশিত র্যাঙ্কিং দুই ধাপ এগিয়েছে লাল-সবুজ শিবির।
গত ২৫ মার্চের ম্যাচটির আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৫তম। এখন ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।
ভারতের শিলংয়ে হওয়া সেই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ উপহার দেয় সেরা ফুটবলের। তবে ফরোয়ার্ডদেড় ব্যর্থতায় ম্যাচটি শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে।
ম্যাচটিকে ঘিরে সবার আগ্রহ ছিল হামজা চৌধুরীর কারণে। প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই ফুটবলারের এই ম্যাচ দিয়েই হয় জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক।
ড্র হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও র্যাংকিংয়ে অবনতি হয়েছে ভারতের। এক ধাপ নেমে দেশটি এখন নেমে গেছে ১২৭তম অবস্থানে, পয়েন্ট ১১৩২.০৩।
শীর্ষে আছে যথারীতি গত মাসের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই ম্যাচেই জয় পাওয়া আর্জেন্টিনাই। স্পেন উঠে এসেছে দুইয়ে, আর ফ্রান্স নেমে গেছে তিনে। পরের দুটি অবস্থান যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলের।
অদ্ভুত আর বিতর্কিত সব ঘটনায় সংবাদের শিরোনাম হওয়াটাকেই ক্রমেই অভ্যাস বানিয়ে ফেলছেন জোসে মরিনিয়ো। এই মৌসুমে এমন কান্ডের অবতারণা কয়েকবার ঘটানোর পর এবার আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রতিপক্ষ কোচের নাক ধরে টান দিয়ে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। ফেনেরবাচ কোচ ঠিই এই কাজটাই করেছেন গালাতাসারায় কোচের সাথে।
গত বুধবার তুর্কি কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে গালাতাসারায়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় ফেনেরবাচ। এরপর মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষ কোচ ওকান বুরুকের নাক ধরে গুতো দেন। নাটকীয়ভাবে এরপর নাক ধরে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ভিক্টর ওসিমহেন দুই গোলে লিড নিয়েছিল গালাতাসারায়। এরপর সেবাস্তিয়ান ফেনেরবাচ বিরতির আগে ব্যবধান কমায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। দুউ দলের দর্শকরা মারামারিতে জড়িয়ে প্রবেশ করেন মাঠে, যা থামাতে নামতে হয় পুলিশকে।
এদিকে উভয় দলের খেলোয়াড়রাও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়ে তিনটি লাল কার্ড দেখান রেফারি, যেখানে দুজন ছিলেন গালাতাসারায়ের। আর ম্যাচ শেষ হতেই মরিনিয়ো ঘটান ওই কান্ড।
এই মৌসুমে বারবার এমন বিতর্কিত কাজ করছেন সাবেক চেলসি ও রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। গত ফেব্রুয়ারিতে, গালাতাসারায় মরিনিয়োর একটি মন্তব্যকে 'বর্ণবাদী’ বলে অভিযুক্ত করেছিল। গোলশূন্য ড্রয়ের পর তিনি বলেছিলেন, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা ‘বানরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে’।
ওই একই ম্যাচের পরে সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি রেফারির প্রতি অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া এবং তুর্কি ফুটবলে বিশৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে মরিনিয়োকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে তা নেমে আসে দুই ম্যাচে।
প্রতিপক্ষ কোচদের এভাবে আক্রমণ আগেও করেছেন মরিনিয়ো। ২০১১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকা অবস্থায় তিনি বার্সেলোনার সহকারী কোচ টিটো ভিলানোভা চোখে গুতো দিয়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।
ম্যাচের আগে বলেছিলেন, লড়ে যেতে মৌসুমের সব সম্ভাব্য শিরোপার জন্য। এই অভিযানে হান্সি ফ্লিকের দল আতলেতিকো মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নিয়েছে কোপা দেল রের ফাইনালে। তাতে ভালোভাবেই টিকে গেছে দলটির ট্রেবল জয়ের আশা। তবে বার্সেলোনা কোচ বললেন, ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমান নিয়েই চিন্তায় মগ্ন তিনি।
বুধবার রাতে সেমিফাইনালেদ ফিরতি লেগে ১-০ গোলে জেতা বার্সেলোনা দুই লেগ মিলিয়ে জিতেছে ৫-৪ ব্যবধানে। তাতে তৈরি হয়েছে কোপা দেল রের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর মঞ্চ। তার আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কাতালান ক্লাবটি ২১ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রয়েছে। ২০২৫ সালে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের একমাত্র দল তারাই, যারা এখনও হারের স্বাদ পায়নি। এমন ফর্মের কারণে সমর্থকরা আশায় বুক বাধছেন ট্রেবল জয়ের।
তবে ম্যাচের পর ফ্লিক বলেছেন, আপাতত এসব বিষয় নিয়ে ভাবার পক্ষপাতী নন তিনি।
“আমি জানি সবাই আমাদের ফাইনাল নিয়ে কথা বলতে চায়, কারণ এটি একটি ক্লাসিকো। আমি এটা বুঝতে পারি। তবে আমি অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি না। আর তাই আমাদের মনযোগ দেওয়া উচিত বেতিসের দিকে, যারা লা লিগায় আমাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রতিপক্ষ।”
বার্সেলোনা লা লিগায় ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে সবার ওপরে। তিন পয়েন্ট পিছিয়ে দুইয়ে রিয়াল। লিগের বাকি আছে আর ৯ রাউন্ডের খেলা। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে ফ্লিকের দল খেলবে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে। এর মাঝে এখন যোগ হয়েছে ২৬ এপ্রিল রিয়ালের বিপক্ষে কোপা দেল রের ফাইনাল। মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকোতে এরপর লিগে মুখোমুখি হবে এই দুই দল, যা গড়ে দিতে পারে শিরোপা ভাগ্য।
দুর্দান্ত এক মৌসুমে শেষ করার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়েও নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছেন ফ্লিক।
“হ্যাঁ, আমরা একটি দুর্দান্ত মুহুর্ত পার করছি। তবে আমি এই পেশায় যথেষ্ট সময় পার করার কারণে জানি যে, এখানে কীভাবে সব কিছু চোখের পলকে বদলে যেতে পারে। তাই আমাদের মনযোগ ধরে রাখা উচিত। স্বপ্ন দেখার সুযোগ তো আছেই, তবে প্রথমে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করা উচিত এবং মনোনিবেশ করা উচিত। যাতে আমরা সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারি।”
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাগআউটে আনা হয়েছিল পরিবর্তনের সুর ধরে। তবে রুবেন আমোরিমের কোচিংয়ে দলটি নিজেদের যেন আরও হারিয়ে খুঁজছে। নটিংহাম ফরেস্টের কাছে বিব্রতকর আরেকটি হারের পর পর্তুগিজ কোচের মনে হচ্ছে, নিজেকে প্রমাণে খুব বেশি সময় পাবেন না তিনি।
গত মঙ্গলবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে অ্যান্টনি এলাঙ্গার পঞ্চম মিনিটে দেওয়া গোলে জয় পায় ফরেস্ট। লিগে এই মৌসুমে এটি ইউনাইটেডের ১৩তম পরাজয়। আর একটি হারের দেখা পেলেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের দলটি স্পর্শ করবে তাদের ২০২৩-২৪ মৌসুমে রেকর্ড ১৪ হারের তেতো অভিজ্ঞতাকে।
পয়েন্ট টেবিলে ১৩তম স্থানে নেমে যাওয়ার পর আমোরিম তাই শোনাতে পারেননি আশার কথা। “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আপনার হাতে সময় নেই। আমি অনেক সময় পাবো না। আমাদের দ্রুত ছন্দ খুঁজে পেতে হবে। এখানে মাঝে মাঝে চাপটা খুব বেশিই থাকে। আমরা ম্যাচটা শুরু করি গোল হজম করে এবং এরপর নটিংহামকে সুযোগ করে দেই রক্ষণ সামলে খেলার। তাদের কাছে ট্রানজিশন তৈরি করার জন্য আসলেই দ্রুতগতির কিছু খেলোয়াড় রয়েছে।”
এই ম্যাচে গোলের সামনে আরও একবার হতাশাজনক ছিলেন ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা। গোলের জন্য ২৪টি শট নিয়েও ঠিকানা খুঁজে পাননি তারা। এর মধ্যে আলেহান্দ্রো গার্নাচো নেন ৬টি৷ শট।
তবে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের আগলেই রেখেছেন আমোরিম৷ “সে সবকিছুই চেষ্টা করছেন। সে চেষ্টা করে গেছে। এমন কিছু দিন থাকে, যেখানে আপনি ফাইনাল থার্ডে সব ঠিক কাজ করলেও ফলটা পাবেন না। এটা হতেই পারে।”