২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ এম

ধুঁকতে থাকা বার্সেলোনার হাল ধরতে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কোচিংয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে আবার দাপট দেখাতে শুরু করে কাতালান ক্লাবটি। ট্রান্সফার মার্কেটে খুব বেশি অর্থ খরচ না করেই এখন পর্যন্ত চারটি শিরোপা এনে দিয়েছেন বার্সাকে। এই ক্লাবেই বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি রেখা টানতে চান জার্মান ‘মাস্টারমাইন্ড’।
বিদায় বলার আগে বার্সার হয়ে দুটি বড় স্বপ্ন পূরণ করতে মরিয়া ফ্লিক। একটি হলো ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট 'চ্যাম্পিয়ন্স লিগ' পুনরুদ্ধার, আর অন্যটি হলো নবরূপে সজ্জিত নান্দনিক ক্যাম্প ন্যু-এর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে বার্সাকে নেতৃত্ব দেওয়া।
বার্সার সঙ্গে ফ্লিকের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই জার্মান কোচকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিলেও সেই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ৬১ বছর বয়সী এই কোচের অধীনে বার্সা টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগা শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আছে।
ফ্লিক বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁর চুক্তি নবায়ন করার এবং এই ক্লাবেই ক্যারিয়ার শেষ করার ইচ্ছার কথা আরও একবার নিশ্চিত করেছেন। ২০১৫ সালের পর ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগোতে চান তিনি।
‘অবশ্যই, চুক্তি নবায়ন করাই আমার পরিকল্পনা’ ক্যাম্প ন্যুতে আজ সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে লা লিগা ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক এমনটাই জানান। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এটাও বলেছি যে—এবং এটি শতভাগ সত্য—এটাই আমার ক্যারিয়ারের শেষ ধাপ। বর্তমানে আমি এখানে খুব ভালো অনুভব করছি।’
২০২৩-২৪ মৌসুমে কোনো শিরোপা না পাওয়া এক বার্সেলোনা দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফ্লিক। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি দলটিকে লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপারকোপার শিরোপা এনে দেন। এই বছরেও আরেকটি সুপারকোপা জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লিগে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় লিগ শিরোপাও এখন হাতের মুঠোয়।
তবে ইউরোপীয় মঞ্চে তাদের যাত্রা কিছুটা আগেই থমকে গেছে। গতবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ইন্টার মিলানের কাছে এবং গত সপ্তাহে কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকোর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। ২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হিসেবে এই শিরোপা জেতা ফ্লিক বলেন, ‘বার্সার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আমার কাছে একটি বড় স্বপ্ন। জীবনে আমি দুটি জিনিস চাই। প্রথমত, আমরা যেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতি। আগামী বছরগুলোর জন্য আমাদের একটি ভালো দল আছে, কিন্তু দলবদলের সময় আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে—সেগুলো একদম নিখুঁত হতে হবে।’
তারপর নিজের দ্বিতীয় স্বপ্ন নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, এই স্টেডিয়াম (ক্যাম্প ন্যু) যখন পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবে, তখন আমি এখানে কোচের দায়িত্বে থাকতে চাই। আমি জানি না এটা ঠিক কবে শেষ হবে। আপনি কখনোই নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না যে (আমি তখন এখানে থাকব কি না)। সবকিছু নির্ভর করে পারফরম্যান্স আর জয়ের ওপর।’
No posts available.

প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে বেশ বিতর্কে চেলসি। ১৯১২ সালের পর এই প্রথম লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পথে কোনো গোল করতে পারল না স্টামফোর্ড ব্রিজের ক্লাব। হারের বৃত্তে বন্দী থাকা চেলসিতে এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, চেলসি ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসার (নাপিত) ম্যাচের আগেই ক্লাবের অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির অ্যাওয়ে ম্যাচের (০-৩ গোলে হার) কয়েক ঘণ্টা আগে এই তথ্য ফাঁস হয়।
কুকুরেয়ার চুল কাটার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তার হেয়ারড্রেসার লেখেন, ‘পালমার এবং জোয়াও পেদ্রো—দুজনেই চোটাক্রান্ত। আপনাদের জন্য এক্সক্লুসিভ খবর।’ পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে তথ্যটি ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ময়করভাবে সেই তথ্য শতভাগ সঠিক প্রমাণিত হয়। কোল পালমার বা জোয়াও পেদ্রো কেউই ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে নামতে পারেননি।
ম্যানেজমেন্টের ক্ষোভ ব্রাইটনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ক্লাবের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সহকারী ম্যানেজার লিয়াম রসেনিয়র নিজের ক্ষোভ লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন,
‘আমি অনেক সময় খেলোয়াড়দের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু আজকের এই পারফরম্যান্সের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
রেকর্ড ব্যর্থতা অবনমন আতঙ্কে থাকা প্রতিবেশী টটেনহ্যাম হটস্পার (২ পয়েন্ট) ছাড়া গত ৯ ম্যাচে চেলসির চেয়ে খারাপ অবস্থা আর কোনো ক্লাবের নেই। পয়েন্ট টেবিলের সাতে নেমে যাওয়া চেলসির জন্য আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়া এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মিডফিল্ডে শক্তি বাড়াতে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির দিকে নজর দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত বছর আক্রমণভাগ এবং গোলকিপার পজিশনে নজর দেওয়ার পর এবার মিডফিল্ড পুনর্গঠনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাব।
ইউনাইটেডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নটিংহাম ফরেস্টের এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ব্রাইটনের কার্লোস বালেবা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের অ্যাডাম ওয়ার্টনের নাম নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। ম্যাথিউস কুনিয়া এবং ব্রায়ান এমবিউমোর মতো প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়রা এ মৌসুমে সফল হওয়ায় এই তিনজনের প্রতি ক্লাবের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
ম্যান ইউনাইটেডের বড় সিদ্ধান্ত রিয়াল মাদ্রিদের ২৬ বছর বয়সী চুয়ামেনিকে নিয়ে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত এবং স্প্যানিশ ক্লাবটি তা আরও বাড়াতে আগ্রহী। তবে বার্নাব্যুতে কোনো ট্রফিহীন এই হতাশাজনক মৌসুম শেষ হওয়ার পর বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেলে রিয়াল তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। ২০২২ সালে মোনাকো ছাড়ার সময়ও চুয়ামেনিকে নিতে চেয়েছিল ইউনাইটেড। তখন রিয়ালকেই বেছে নিয়েছিলেন ফরাসি অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
চেলসির অপ্রত্যাশিত পতনে মাইকেল ক্যারিকের দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রেন্টফোর্ডকে হারাতে পারলে পরবর্তী চার ম্যাচ থেকে মাত্র একটি ইতিবাচক ফলাফল পেলেই দুই বছর পর ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টে ফিরবে রেড ডেভিলরা।
চুয়েমেনির দলবদলের ব্যাপারটা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। ক্যাসেমিরো এবং জেডন সানচোর মতো উচ্চ বেতনভোগী দুই খেলোয়াড়ের ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইউনাইটেডের বেতন কাঠামোতে বড় জায়গা তৈরি হবে। পাশাপাশি ১৫ জুনের ডেডলাইনের আগে বার্সেলোনা ৩ কোটি ইউরোর বিনিময়ে মার্কাস রাশফোর্ডকে কেনার সুযোগ নেয় কি না, তার ওপরও ক্লাবের পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ভর করছে।

চ্যাম্পিয়নশিপে হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করায় লিগ ওয়ানে অবনমন নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটির। ২৪ দলের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ৪৪ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ২৩তম লেস্টার। তাদের হাতে আর দুই ম্যাচ। অবনমন অঞ্চল থেকে বাঁচতে ৭ পয়েন্টের দূরত্বে রয়েছে ক্লাবটি। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও লেস্টারের পক্ষে এই ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না।
লেস্টার সিটির অবনমন নিশ্চিত হওয়ার ভীষণ চাপে কোচ গ্যারি রোয়েট। সামাজিক মাধ্যম এবং মাঠেই তাকে অপসারণের ডাক ওঠে। রোয়েট অবশ্য নিজেও বেশ হতাশ। ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টস ফুটবলে নিজের চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোয়েট বলেন,
‘এটি হতাশাজনক। আজকের ম্যাচটি আমাদের পুরো মৌসুমের পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। প্রথমার্ধে আমরা একটি ভয়াবহ ভুল করে বসি যা প্রতিপক্ষকে এগিয়ে দেয়। আমরা বারবার এমনটা করেছি। ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে যে ধরণের তাড়ণা দেখানোর কথা ছিল, তা আমরা দেখাতে পারিনি। যদিও আমরা গোল করার মতো কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলাম।’
দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে তিনি,
‘দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। গত ৫-৬টি ম্যাচে যদি আমরা এই তাড়ণা নিয়ে খেলতাম, তবে আজ আমাদের পয়েন্ট আরও বেশি হতো। আমাদের লড়াকু মানসিকতা দেখা গেছে, অনেক সুযোগও তৈরি হয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’
লেস্টারের অবনমন প্রসঙ্গে রোয়েট বলেন,
‘বড় পরিসরে দেখলে, একটি দল কেবল তিন-চারটি ম্যাচের কারণে অবনমন হয় না। বরং পুরো মৌসুমের ব্যর্থতাই এর কারণ। আমরা গোল করার প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেছি ঠিকই, সেটা একমাত্র কারণ নয়। মৌসুমে আমরা মাত্র পাঁচটি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছি, তাই দোষটা শুধু ফরোয়ার্ডদের নয়। আমরা আজকেও খুব বাজেভাবে গোল হজম করেছি।’
লেস্টারের এমন পরিস্থিতিতে রোয়েটের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ঢের। তিনি বলেন,
‘ম্যানেজার হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার সবচেয়ে হতাশাজনক সময়। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমাদের পারফরম্যান্স আরও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু সুযোগ নষ্ট করার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে।’

আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে অষ্টম সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। গত আসরের মতো এবারও প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারত একই গ্রুপে।
বুধবার ঢাকার সাফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। ড্র অনুযায়ী ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। ছয় দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান।

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্র। র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ও নেপাল শীর্ষ দুই অবস্থানে থাকায় তাদের রাখা হয়েছে দুটি আলাদা গ্রুপে। আর বাংলাদেশ রয়েছে তিন নম্বরে।
২০১০ সালে ঢাকায় প্রথম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই থেকে ভারত টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের সাফল্যে ভাগ বসায় বাংলাদেশ। গত দুটি আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লড়াই।

লিওনেল মেসি হাসছেন। ইন্টার মিয়ামির অনুশীলনে রদ্রিগো দি পলের সঙ্গে তাঁর সেই চিরচেনা হাসিমুখের ছবিই বলে দিচ্ছে, আর্জেন্টাইন জাদুকর ফুটবলকে কতটা উপভোগ করছেন। কোটি কোটি ভক্তের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—আগামী বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে ফুটবলের এই মহাতারকাকে? সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষার মাঝেই কাল সকালে এমএলএসে রিয়াল সল্ট লেকের মুখোমুখি হচ্ছে ইন্টার মিয়ামি।
বিশ্বকাপের আগে মেসির সামনে এখন সাতটি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচই এখন তাঁর জন্য প্রস্তুতির মঞ্চ। যদিও মেসি এখনো জনসমক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে ফুটবল বিশ্ব একরকম নিশ্চিত যে কাতার জয়ের পর এবার মুকুট রক্ষার মিশনেও নেতৃত্ব দেবেন এই খুদে জাদুকরই।
স্বাভাবিকভাবেই মেসি মাঠে নামা মানেই নতুন কোনো রেকর্ডের হাতছানি। এরই মধ্যে এমএলএসে ৬০ ম্যাচে ৯৪ গোলে অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট) মেসির। আর ৬টি গোল বা অ্যাসিস্ট করলেই সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
বর্তমানে এমএলএসে দ্রুততম ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ডটি সেবাস্টিয়ান জিওভিনকোর (৯৫ ম্যাচ)। মেসি যদি তাঁর বর্তমান ছন্দ ধরে রাখেন, তবে তিনি জিওভিনকোর চেয়ে প্রায় ৩০ ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ড নিজের করে নিতে পারেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর থেকে মেসি কেবল মিয়ামির খেলার মানই বাড়াননি, বরং লিগের পরিসংখ্যানের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন।
কোচ গুইলার্মো হোয়োসের অধীনে মিয়ামি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। লুইস সুয়ারেজ ও দি পলের সঙ্গে মেসির রসায়ন মিয়ামিকে লিগের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে। ফুটবল প্রেমীদের নজর এখন রিয়াল সল্ট লেকের ম্যাচে দিকে—মেসি কি রেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছে যাবেন?
বিশ্বকাপ বিরতির আগে মেসির সামনে থাকা ম্যাচগুলো হলো:
২২ এপ্রিল: রিয়াল সল্ট লেক (অ্যাওয়ে)
২৫ এপ্রিল: নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন (হোম)
২ মে: অরল্যান্ডো সিটি (হোম)
৯ মে: টরন্টো (অ্যাওয়ে)
১৩ মে: সিনসিনাটি (অ্যাওয়ে)
১৭ মে: পোর্টল্যান্ড টিম্বার্স (হোম)
২৪ মে: ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন (হোম)