
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচ। ক্রিস্টাল প্যালেসের চেয়ে একটু বেশিই এডভান্টেজ পাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড—এমনটা ধারণা করা হলেও রবিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে প্রথমার্ধ একান্তই নিজেদের করে নেয় এডি হাউয়ের শিষ্যরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একচেটিয়া রাজত্ব ছিল স্বাগতিকদের।
ঘরের মাঠে রোমাঞ্চকর ২-১ ব্যবধানে জয়ে স্বস্তি অল রেডস শিবিরে। স্বাগতিকদের হয়ে গোল দুটি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও ব্রেঞ্জামিন সেসকো। ক্রিস্টাল প্যালেসের গোলটি ছিল ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্সের।
লিগে একই সময় অনুষ্ঠিত হয় আরও দুটি ম্যাচ। টটেনহাম হটস্পারকে ২-১ গোলে হারায় ফুলহাম। ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হারে নটিংহাম ফরেস্ট।
ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে জয়ে ২৮ ম্যাচে ম্যান ইউনাইটেডের পয়েন্ট এখন ৫১। শীর্ষে থাকা গানারদের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে মাইকেল ক্যারিকের দল। আর দ্বিতীয়তে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। ফুলহাম ২৮ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে নবমে। ব্রাইটন সমান ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে এগারতম।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এদিন ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে ম্যান ইউনাইটেড। ডি বক্সের মধ্যে ইয়োরোকে ফাঁকি দিয়ে জনসনের কর্নার কিক দারুণ হেডারে জালে জড়ান ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স। প্রথমার্ধে এটাই ছিল একমাত্র গোল। এই অর্ধে তিনটি অন-টার্গেট শট নিয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ম্যান ইউনাইটে। দুটি অন-টার্গেট শটের একটি থেকে গোল আদায় করে ক্রিস্টাল প্যালেস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নাগালে বল পেয়ে যান ব্রায়ান এমবউমো। ক্যামেরুন ফরোয়ার্ড বল দিয়ে প্যানাল্টি বক্সে ডুকেও পড়েন। প্রতিপক্ষের রক্ষণদেয়ালের সামনে এসে গড়বড় করে বসেন। তাতে শোধ নিতে একটু বেশিই দেরি হয় ম্যান ইউনাইটেডের।
৫২ মিনটে অ্যাটাকিং মুহুর্তে কুনহাকে বক্সের ভেতর টেনে ফেলে দেন ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স। পরবর্তীতে ভিএআর চেকে ইউনাইটেডের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। আর স্পট কিকে সফলতা পান ব্রুনো ফার্নান্দেজ। দলকে সমতায় ফেরান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
কুনহাকে ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন ফরাসি ডিফেন্ডার ল্যাক্রোইক্স। মুহুর্তেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় অতিথিরা। এ সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় স্বাগতিকরা।
৬৫ মিনিটে বেঞ্জামিন সেসকোর গোলে লিড আদায় করে ম্যান ইউনাইটেড। মিডফিল্ড থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেজের বুলেট গতির লক্ষ্যস্থির উঁচু বল ক্রস হেডে ক্রিস্টাল প্যালেসের জালে জড়ান স্লোভানিয়ান স্ট্রাইকার। আজ শুরু থেকে খেলতে পাওয়ার সুযোগে লিগে অষ্টম এবং টানা তিন ম্যাচে গোল আদায় করলেন তিনি।
ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল দখলে ছিল স্বাগতিকদের। ৩৯ শতাংশ দখলে রাখে অতিথিরা। ক্রিস্টাল প্যালেসমুখে মোট ২০টি শট নিয়ে ১১টি টার্গেটে রাখে ম্যান ইউনাইটেড। বিপরীতে তিনটি অনটার্গেট শট ছিল ক্রিস্টাল প্যালেসের। বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

আল-ফেইহা এর বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর ষোলকলা পূর্ণ করে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগের ওই ম্যাচে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতলেও ‘সিআর সেভেনের’ চোটে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে সমর্থকদের। অবশ্য আল নাসরের কোচ জর্জে জেসুসের কথা কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারেন সমর্থকরা। রোনালদোর চোট তেমন গুরুতর নয় বলছেন পর্তুগিজ কোচ।
গতকাল আল-ফেইহার বিপক্ষে ম্যাচে ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারকা ফরোয়ার্ডকে বেঞ্চে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে আইস প্যাক নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ৪১ বছর বয়সেও দারুণ ফিট থাকলেও, এই বয়সে যেকোনো চোটই গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাতে শুধু ক্লাবই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপে ফিট থাকার চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন রোনালদো।
ম্যাচ শেষে আল নাসর কোচ জর্জে জেসুস বলেন, ‘সে (রোনালদো) পেশির ক্লান্তি (মাসল ফেটিগ) অনুভব করেছে। আমরা ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি, তাই তাকে বদলি করি। মেডিক্যাল বিভাগ তার অবস্থা মূল্যায়ন করবে, তবে সে যা অনুভব করেছে তা শুধু মাসল ফ্যাটিগ।’
রোনালদোর সামনে এখন কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে। আল নাসর নিশ্চিত করেছে, আগামী ৪ মার্চ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আল ওয়াসল–এর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
লিগ শিরোপার লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, এমন সময়ে দলের সেরা ফুটবলারের চোটে বড় হোঁচটই খেতে হবে আল নাসরকে। এর সঙ্গে আছে বিশ্বকাপের ঘনিয়ে আসার চিন্তা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপই রোনালদোর ‘লাস্ট ডান্স’। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষবার নেমে প্রথমবার পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানোর অপেক্ষায়ই যে আছেন রোনালদো।
অবশ্য চোট একপাশে রেখে দারুণ ছন্দেই আছেন রোনালদোর। বর্তমানে লিগে-এর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন পর্তুগাল অধিনায়ক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর গোল সংখ্যা ২১। তালিকার শীর্ষে আছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ইভান টনি। ২৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন আল আহলির ফরোয়ার্ড।
রোনালদোর পারফরম্যান্সে দারুণ ছন্দে আছে আল নাসরও। লিগে ২৪ ম্যাচে ২০ জয়ে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ক্লাবটি। সমান ম্যাচে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আল আহলি।

কুইন্সল্যান্ডে রবিনার সবুজ মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াই। অথচ ইরানের মেয়েদের মন পড়ে ছিল অন্যখানে। রণক্ষেত্র স্বদেশ। ধোঁয়া আর মৃত্যু সংবাদে ভারি আকাশ বাতাশ। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন খবরে শোকতুর গোটা দেশ। সেই শোক আর আতঙ্ক নিয়েই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলন ইরানের মেয়েরা।
রবিবার এএফসি এশিয়ান কাপের লক্ষ্যে জাহারা সালবালি ও মালেকি মোতেভালিরা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও এসবই জানা তাদের। ম্যাচ কিংবা সংবাদসম্মেলন—সব জায়গাতেই ঘুরে ফিরে ইরানের খবর, যুদ্ধের খবর। সেসব মাথায় রেখেই ফুটবলীয় যুদ্ধে নামে তারা। তবে ইরানের যাত্রা হয়েছে ৩-০ গোলে হার দিয়ে। হারের চেয়েও তাদের দৃঢ় মানসিকতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বুকে পাথরচাপা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াকে অনেকেই স্কোরলাইনের চেয়েও বড় করে দেখছেন।
লড়াইয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ২১। বিপরীতে ৬১ নম্বরে অবস্থানে ইরান। ম্যাচেও তা পরিলক্ষিত হয়েছে। ইরানের মেয়েদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে শুরু থেকেই। প্রায় ৮০ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে ছিল কোরিয়ার। ৩০টি শটের ১০টিই ছিল গোলমুখে। ৮টি কর্নার আদায় করে কোরিয়া।
কোরিয়ার বিপরীতে ইরানের গোলকিপার যেন গোল বার বাঁচাতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল বেশি। বারবার রক্ষণে চিড় ধরেছে। আক্রমণভাগেও ছিল না ধার। গোলমুখে ইরান শট নিতে পেরেছে কেবল দুটি। ২১ শতাংশ বল ছিল তাদের দখলে।
ইরান তিন গোলের একটি প্রথমার্ধে হজম করে বাকি দুইটি দ্বিতীয়ার্ধে। ৩৭তম মিনিটে ফরোয়ার্ড চো ইউ-রি কোরিয়াকে লিড এনে দেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে কিম হাই-রি ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি এবং ৭৫ মিনিটে দলের লিড তিনগুণ করেন।
এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ইরান ও কোরিয়া। তাদের গ্রুপে রয়েছে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া। ইরানের বিপক্ষে বড় জয়ে গ্রুর্পে শীর্ষে কোরিয়া।

নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বন্দ্ব থামছে না। স্প্যানিশ ফুটবলে আলোচিত এই মামলায় এবার ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা বার্সেলোনাকে বড় শাস্তি দিতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস রিয়াল মাদ্রিদের।
স্পেনের সাংবাদিক রামোন আলভারেজের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেগ্রেইরা মামলায় শাস্তিমূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও শিগগিরই তা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছে রিয়াল। তাদের ধারণা, তদন্ত এগোলে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রিয়াল সভাপতি শুরু থেকেই এ ইস্যুতে সরব। তিনি প্রকাশ্যে বার্সেলোনাকে কটাক্ষ করেছেন এবং ক্লাবের আইনজীবীরাও বার্সা সভাপতির সাক্ষ্যগ্রহণের সময় প্রশ্ন তোলেন। এমনকি যে সময়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক, সেই সময়কার অডিট প্রতিবেদন ও আর্থিক নথি দেখতে চেয়েছিল রিয়াল, যদিও তদন্তকারী বিচারক সেই আবেদন খারিজ করেন।
নেগ্রেইরা মামলায় সাবেক রেফারি কমিটির কর্মকর্তা হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে দেওয়া অর্থপ্রদানের বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে বার্সেলোনা। রিয়াল মহলের ধারণা, আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়াও এই স্বীকারোক্তিই উয়েফার শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
ইউয়েফার বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার—এক বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত—শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
তবে বার্সেলোনা সাম্প্রতিক সময়ে উয়েফার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে বলেও জানা গেছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফোরামের (ইসিএফ) সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্প থেকে সরে আসার পেছনে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। উল্লেখ্য, সুপার লিগ ইস্যুতে রিয়ালও শেষ পর্যন্ত পিছু হটে।
এই মুহূর্তে ইউয়েফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই। তবু রিয়াল মাদ্রিদের বিশ্বাস, শিগগিরই শাস্তিমূলক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে এবং নেগ্রেইরা কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে বার্সেলোনা।

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে আগামীকাল চীনের বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচ লাল সবুজের মেয়েদের। এশিয়ান কাপ সফরে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া যায় আরও এক সপ্তাহ আগে। দলের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে তিনি জানিয়েছেন সভাপতি পরিচয়ে নয়, দলের সঙ্গে আছেন একজন সমর্থক হয়ে।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়। প্রতিপক্ষ এশিয়ান কাপের ৯বারের চ্যাম্পিয়ন। নিয়মিতই যারা খেলে বিশ্বকাপে। তাদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লাল-সবুজের মেয়েদের উজ্জীবিত করতে অস্ট্রেলিয়ায় তাবিথ আউয়াল। টুর্নামেন্ট কভার করতে যাওয়া বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে আজ কথা বলেছেন তিনি। সেখানে জানিয়েছেন তিনি আশাবাদী বাংলাদেশ দল দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘চীন বিশ্বকাপেও খেলে। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আগামীকাল চীনের সঙ্গে আমরা ভালো খেলা উপহার দেব। তবে আমি প্রথমে দলের কাছে বলেছি যে এখানে আমি একজন সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছি। সিডনিতে খেলা দেখার জন্য এসেছি।’
আরও পড়ুন
| মাঠে মুখ ঢাকলেই লাল কার্ড চান ফিফা প্রেসিডেন্ট |
|
টুর্নামেন্টে কভার করতে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ২০ জন সাংবাদিক গেছেন। তাদের কথা এবং স্থানীয় বাংলাদেশি সমর্থকদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন বাফুফে সভাপতি। তিনি বলেন, ‘সিডনির প্রায় ৩০০ জন বাঙালি কিন্তু এই মাঠের দর্শক হিসেবে আসবে। যদি ফুটবলকে না ভালোবাসতাম, যদি এই দলের প্রতি আমার এরকম আস্থা-বিশ্বাস না থাকত তাহলে আমি এবং আপনারা যারা সাংবাদিক এবং দর্শকরা এসেছি এতদূর, আমরা আসতাম না।’
এই টুর্নামেন্টে ভালো করে সরাসরি বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক বাছাইয়ে খেলার সুযোগ থাকবে দলগুলোর সামনে। ১২ দলের মধ্যে শীর্ষ ৬দল পাবে বিশ্বকাপের টিকিট। আটে থাকলে মিলতে পারে অলিম্পিকে খেলার সুযোগ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আছে ‘বি’ গ্রুপে। চীন ছাড়াও সেখানে আছে উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান।
টুর্নামেন্টের তিনটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং গ্রুপ রানার্সআপ সরাসরি শেষ আটে জায়গা পাবে। এছাড়াও তিন গ্রুপ থেকে বেস্ট থার্ড হয়ে আরও দুটি দল যাবে শেষ আটে। বাংলাদেশ দল পাখির চোখ করছে শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচটি জিতলেও অন্তত বেস্ট থার্ড হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
হার-জিত যাই হোক প্রথম দুই ম্যাচের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ দলের জন্য। আর শেষ ম্যাচটি জয়ের জন্য নামবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘তৃতীয় ম্যাচ পর্যন্ত সবসময় আমাদের একটা সুযোগ থাকবে। আমি কথা বলেছি ফিজিওর সঙ্গে, ফিটনেস ট্রেইনারের সঙ্গে, নিউট্রিশনিস্টের সঙ্গে। সবাই কিন্তু খুব ইতিবাচক। ট্রেনিং সেশন দেখে তাদের মনে হয়েছে বাংলাদেশ ট্যাকটিক্যালি এবং ফিটনেসের দিকে চায়না বা উত্তর কোরিয়ার লেভেলেই আছে। দেখা যাক আগামীকালকের জন্য শুভ কামনা দলের প্রতি।’

বিশ্ব ফুটবলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে চান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মাঠে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বললে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে ধরে নিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট।
বর্ণবৈষম্য নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অভিযোগ ঘিরে। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগে বেনফিকার ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেন ভিনিসিয়ুস।
ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশে মন্তব্য করার সময় প্রেস্তিয়ান্নি মুখ ঢেকে কথা বলছিলেন- এই বিষয়টিই নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইউয়েফা। দ্বিতীয় লেগে প্রেস্তিয়ান্নিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।
আরও পড়ুন
| ‘ফাইট’ দিতে প্রস্তুত আফঈদারা, সামনে চীন |
|
এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মাঠে কেউ মুখ ঢেকে কথা বললে আরও কঠোর শাস্তির কথা বলেন ইনফান্তিনো। স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'কোনো খেলোয়াড় যদি মুখ ঢেকে কিছু বলে এবং তার বর্ণবাদী প্রভাব থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই বহিষ্কার করতে হবে। ধরে নিতে হবে, সে এমন কিছু বলেছে যা বলা উচিত ছিল না। তা না হলে মুখ ঢাকার প্রয়োজন হতো না।'
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কেবল প্রমাণের অপেক্ষায় বসে না থেকে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ লক্ষ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নতুন নিয়ম আনার পরিকল্পনা করছে ফিফা। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।
ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রধান নির্বাহী ও আইএফএবি সদস্য মার্ক বুলিংহাম বলেন, মাঠে মুখ ঢেকে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা খুব কম ক্ষেত্রেই থাকে, বিশেষ করে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে। তাই এটি রোধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আগামী মাসে ভ্যাঙ্কুভারে হবে ফিফা কংগ্রেস। সেখানেই এই বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
তবে শাস্তির পাশাপাশি সংস্কৃতির পরিবর্তনেও জোর দিচ্ছেন ইনফান্তিনো। তার মতে, কেউ উত্তেজনার মুহূর্তে ভুল করলে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। আন্তরিক ক্ষমা ও দায় স্বীকার করলে শাস্তির ধরনেও ভিন্নতা আসতে পারে।