
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচ। ক্রিস্টাল প্যালেসের চেয়ে একটু বেশিই এডভান্টেজ পাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড—এমনটা ধারণা করা হলেও রবিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে প্রথমার্ধ একান্তই নিজেদের করে নেয় এডি হাউয়ের শিষ্যরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একচেটিয়া রাজত্ব ছিল স্বাগতিকদের।
ঘরের মাঠে রোমাঞ্চকর ২-১ ব্যবধানে জয়ে স্বস্তি অল রেডস শিবিরে। স্বাগতিকদের হয়ে গোল দুটি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও ব্রেঞ্জামিন সেসকো। ক্রিস্টাল প্যালেসের গোলটি ছিল ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্সের।
লিগে একই সময় অনুষ্ঠিত হয় আরও দুটি ম্যাচ। টটেনহাম হটস্পারকে ২-১ গোলে হারায় ফুলহাম। ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হারে নটিংহাম ফরেস্ট।
ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে জয়ে ২৮ ম্যাচে ম্যান ইউনাইটেডের পয়েন্ট এখন ৫১। শীর্ষে থাকা গানারদের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে মাইকেল ক্যারিকের দল। আর দ্বিতীয়তে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। ফুলহাম ২৮ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে নবমে। ব্রাইটন সমান ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে এগারতম।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এদিন ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে ম্যান ইউনাইটেড। ডি বক্সের মধ্যে ইয়োরোকে ফাঁকি দিয়ে জনসনের কর্নার কিক দারুণ হেডারে জালে জড়ান ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স। প্রথমার্ধে এটাই ছিল একমাত্র গোল। এই অর্ধে তিনটি অন-টার্গেট শট নিয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ম্যান ইউনাইটে। দুটি অন-টার্গেট শটের একটি থেকে গোল আদায় করে ক্রিস্টাল প্যালেস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নাগালে বল পেয়ে যান ব্রায়ান এমবউমো। ক্যামেরুন ফরোয়ার্ড বল দিয়ে প্যানাল্টি বক্সে ডুকেও পড়েন। প্রতিপক্ষের রক্ষণদেয়ালের সামনে এসে গড়বড় করে বসেন। তাতে শোধ নিতে একটু বেশিই দেরি হয় ম্যান ইউনাইটেডের।
৫২ মিনটে অ্যাটাকিং মুহুর্তে কুনহাকে বক্সের ভেতর টেনে ফেলে দেন ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স। পরবর্তীতে ভিএআর চেকে ইউনাইটেডের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। আর স্পট কিকে সফলতা পান ব্রুনো ফার্নান্দেজ। দলকে সমতায় ফেরান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
কুনহাকে ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন ফরাসি ডিফেন্ডার ল্যাক্রোইক্স। মুহুর্তেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় অতিথিরা। এ সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় স্বাগতিকরা।
৬৫ মিনিটে বেঞ্জামিন সেসকোর গোলে লিড আদায় করে ম্যান ইউনাইটেড। মিডফিল্ড থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেজের বুলেট গতির লক্ষ্যস্থির উঁচু বল ক্রস হেডে ক্রিস্টাল প্যালেসের জালে জড়ান স্লোভানিয়ান স্ট্রাইকার। আজ শুরু থেকে খেলতে পাওয়ার সুযোগে লিগে অষ্টম এবং টানা তিন ম্যাচে গোল আদায় করলেন তিনি।
ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল দখলে ছিল স্বাগতিকদের। ৩৯ শতাংশ দখলে রাখে অতিথিরা। ক্রিস্টাল প্যালেসমুখে মোট ২০টি শট নিয়ে ১১টি টার্গেটে রাখে ম্যান ইউনাইটেড। বিপরীতে তিনটি অনটার্গেট শট ছিল ক্রিস্টাল প্যালেসের। বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৮ এম
.jpeg)
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, একক নৈপুণ্য; সবই ছিল ম্যাচে। তবে গোলপোস্ট ছিল যেন এক তালাবদ্ধ কপাট। দুই পেনাল্টি থেকে গোল ছাড়া একাধিক চেষ্টাতেও খোলেনি। তাতেই ১-১ গোলের ড্রতে শেষ হলো চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের ফার্স্ট লেগ। আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল।
বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি গোল হয়েছে। আর্সেনানালের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দৃষ্টিনন্দন পেনাল্টিতে সমতায় ফেরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ম্যাচ ঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যভেদ করতে। অবশ্য তা হেলায় নষ্ট হয়।
১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানেন তারা।
পরের মিনিটে প্রতি আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।
৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।
৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল নেশায় হন্যি হয়ে ছুটতে থাকে আতলেতিকো। ৫৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে লরেন্তের নেওয়া ভলি বেন হোয়াইটের হাতে লাগলে জোরালো দাবি তোলে স্বাগতিকরা। মুহূর্তেই মেত্রোপলিতানোর গ্যালারি উত্তাল হয়ে ওঠে। পেনাল্টির জোরালো আপিল নাকচ করলেও মাঠের রেফারি বর্তমানে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত রায় আতলেতিকোর পক্ষেই যায়।
আতলেতিকোর হয়ে পেনাল্টি শট নেন আরভারেজ। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত প্লেসিংয়ে রায়ার ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার দশম গোল। তবে গোলের সংখ্যার চেয়েও বড় কথা—ম্যাচে সমতায় ফিরল ‘লস রোহিব্লাঙ্কোস’রা।
৬৩তম মিনিটে লিড নিতে পারতো আতলেতিকো। ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে গোলবঞ্চিত হন গ্রিজমান। লুকম্যানের স্কয়ার পাস থেকে বল পেয়েই চতুরতার সাথে চিপ করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক রায়া পরাস্ত হলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে গ্রিজমানের ভলি রক্ষণভাগে বাধা পেয়ে কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
৭৫তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি হজম করা সেই হাঙ্কোই আবারও খলনায়ক হিসেবে ধরা দেয়।বুকোয়া সাকার ক্রস রিসিভের আগেই এজেকে ফেলে দেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তাতেই বড় বাঁচা বেঁচে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ফার্স্ট লেগ।
ম্যাচে ৫২ শতাংশ বল আতলেতিকো দখলে ছিল। যদিও প্রথমার্ধে তারা পিছিয়ে ছিল। ১৮টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে তারা সিমিওনের শিষ্যরা। ১১টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রাখে গানাররা।
.jpeg)
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর রক্ষণ সামলানোর লড়াইয়ে ম্যাচটি গোলশূন্য প্রথমার্ধের দিকেই এগোচ্ছিল। তবে ৪৪তম মিনিটে আচমকা এক পেনাল্টি আশীর্বাদ হয়ে আসে আর্সেনালের জন্য। ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণের আগে ফাউলের শিকার হন ভিক্টর ইয়োকেরেস। সুইডিশ ফরোয়ার্ডের পেনাল্টিতে থেকে আদায় করা গোলেই আতলেতিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে মিকেল আরতেতার দল।
বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে মোটে একটি করে গোলমুখে শট নিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনাল। তবে বল পজিশনে এগিয়ে ছিল অতিথিরা। ৫২ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তারা।
ম্যাচঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যবেদ করতে। তা হেলায় নষ্ট হয়।
১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানলেন তারা।
পরের মিনিটে প্রতিআক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, তবে হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।
৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।
৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গেছে আর্সেনাল।

প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ সালাহ। অ্যানফিল্ডের ক্লাবের পক্ষ থেকে মিশরীয় ফরোয়ার্ড নিয়ে স্বস্তির খবরই বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই মাঠে ফিরবেন সালাহ।
শনিবার ক্রিস্টাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে সালাহ যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন অনেকের মনেই শঙ্কা জেগেছিল—লিভারপুলের জার্সিতে হয়তো শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন তিনি। গত মাসেই মিশরীয় যুবরাজ ঘোষণা দিয়েছিলেন, অ্যানফিল্ডে নয় বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে এই গ্রীষ্মেই তিনি ক্লাব ছাড়বেন।
বুধবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সালাহর পেশির চোট গুরুতর নয়। তারা আশা করছে, ক্লাব ছাড়ার আগে অন্তত একবার লাল জার্সিতে তাকে আবারও মাঠে দেখা যাবে।
আগামী রবিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে সালাহর ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে নতুন আপডেট অনুযায়ী, ৯ মে চেলসির বিপক্ষে হোম ম্যাচ কিংবা ১৭ মে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে তাকে আবারও দেখা যেতে পারে। আর মে মাসের ২৪ তারিখ ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিভারপুলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলার সুযোগ থাকছে এই কিংবদন্তির।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়া বার্সেলোনার হাতে অবশিষ্ট লা লিগা। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্পেনের সর্বোচ্চ সম্মানজনক লিগের শিরোপা জিততে চলেছে কাতালানরা। দ্বিতীয়স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে ক্যাম্প ন্যুর ক্লাব। এরইমধ্যে বুধবার বেশ কয়েকটি সুখবর পেল বার্সা ফ্যানরা।
মৌসুমের শেষ পাঁচটি লিগ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মার্ক বার্নাল ও সেন্টার-ব্যাক আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন।
হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিল লেফট উইঙ্গার রাফিনিয়া। বার্নলে ছিলেন না অ্যাঙ্কেল চোটের কারণে। আর ক্রিস্টেনসেনের হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল।
জানা গেছে, লা লিগায় শনিবার ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচের পাওয়া যেতে পারে রাফিনিয়া ও বার্নালকে। ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তাদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। আগামী ১০ মে ক্যাম্প ন্যু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।

২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। ‘ফ্রি জোন’ বা কার্ড মুছে ফেলার মতো মানবিক ধাপের পাশাপাশি কিছু ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে ফিফা। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়কালে মুখ ঢেকে কথা বললে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের শাস্তি রেখেছে সংস্থাটি। এছাড়াও রেফারির সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ মাঠ ছাড়লে তাকেও পড়তে হবে লাল কার্ডের খড়গ।
গত মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) একটি বিশেষ সভায় প্রস্তাবিত এই দুটি সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
আইএফএবি জানিয়েছে, নিয়ম দুটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। তবে ফিফা নিশ্চিত করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপেই এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হবে।
এই দুই সিদ্ধান্তের মূলে বড় দুটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। যার একটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে। অন্যটি চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের ম্যাচে। আফকনের ফাইনালে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের জেরে মাঠ ছাড়েন সেনেগালের ফুটবলাররা। পরবর্তীতে ফল পর্যন্ত পাল্টে যায়। মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার সিদ্ধান্তক্রমে নতুন করে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
মাঠে ফুটবলারদের মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি আলোচনায় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকা উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। সে ঘটনায় ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, তিনি ফুটবলে এমন একটি নিয়ম চালু করতে চেয়েছেন, যার ‘প্রতিরোধমূলক প্রভাব’ থাকবে। সে লক্ষ্যেই সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টিতে সমর্থন দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলেন এবং সেটির ফল বর্ণবাদী হয়, তবে তাঁকে অবশ্যই মাঠ থেকে বের করে দিতে হবে।’