১৪ জুন ২০২৫, ৭:২১ পিএম
নিজের আন্তুর্জাতিক ক্যারিয়ার পরে দেখেছেন কাছ থেকে, আর আগে মাঠের বাইরে থেকেও সাক্ষী জাতীয় দলের একের পর এক হতাশার গল্পের। বারবার শিরোপার খুব কাছে গিয়ে খালি হাতে ফেরার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেমেছিল দক্ষিন আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই লড়াইয়ে বারদুয়েক হোঁচট খেলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছেড়েছে টেম্বা বাভুমার দল। প্রোটিয়াস অধিনায়ক মনে করেন, এবার ভাগ্য তাদের সহায় হয়েছিল বলেই মিলেছে সাফল্য।
সেই ১৯৯৮ সালে মিনি বিশ্বকাপ (বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর থেকে ২৭ বছরে দলটি আইসিসি ইভেন্টে সেমিফাইনাল-ফাইনাল খেলেছে এর আগে ২০ বার। প্রতিবারই তুমুল সম্ভাবনা জাগিয়েও তারা পারেনি শেষ হাসি হাসতে। এবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এসেছিল টানা সাত ম্যাচ জিতে। এরপরও ছিল শঙ্কা। তবে সেটা উড়িয়ে দিয়ে ৫ উইকেটের জয়ে শিরোপা খরা কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার।
আরও পড়ুন
| যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে বাভুমারা, মানছেন কামিন্স |
|
রান তাড়ায় চোট নিয়ে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা বাভুমা ম্যাচের পর জানালেন উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া।
“শেষ কয়েকটা দিন ছিল অসাধারণ। কিছু কিছু সময়ে তো মনে হচ্ছিল আমরা যেন দক্ষিণ আফ্রিকাতেই খেলছি। আমরা কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, জয়ের বিশ্বাস নিয়ে এখানে এসেছিলাম। যদিও অনেকেই আমাদের নিয়ে সন্দিহান ছিল। ভালো খেলতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। আমরা বারবার সাফল্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি, আবার হতাশাও পেয়েছি। এবার সৌভাগ্য আমাদের সাথে ছিল। আশা করি এই জয় দিয়ে আরও অনেক কিছুর সূচনা হতে যাচ্ছে।”
ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন পেসার কাগিসো রাবাদা ও ওপেনার এইডেন মার্করাম। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নেওয়া রাবাদা দাঁড়াতেই দেননি অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে। আর প্রথম ইনিংসে ডাক মারা মার্করাম রান তাড়ায় উপহার দেন ১৩৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস বললেও কমই বলা হবে।
আরও পড়ুন
| অবশেষে দ.আফ্রিকার ‘চোকার্স’ ট্যাগ মুক্তির আনন্দ |
|
দুজনের জন্যই বাড়তি প্রশংসা বরাদ্দ বাভুমার।
“কাগিসো রাবাদা আমাদের এই দলের বড় শক্তি। কয়েক দিন আগে আমি 'হল অব ফেম'-এর নতুন সদস্যদের তালিকা দেখছিলাম। আমার বিশ্বাস, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তার নামও সেখানে চলে যাবে। আর এইডেন মার্করামও অসাধারণ ছিল। দলে তার জায়গা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু তার যে মানসিক দৃঢ়তা আছে, সেটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। রাবাদা আর এইডেন দুজনেই দলের হার না মানা মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করেছে।”
বারবার হতাশ হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য দেশ হিসেবে জয়ের মাহাত্ব কেমন, সেটাও অনুধাবন করতে পারছেন বাভুমা।
“যত বিভক্তই হই না কেন, এটা আমাদের জন্য, আমাদের গোটা জাতির জন্য একটা সুযোগ এক হওয়ার। এই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আমরা সবাই একসাথে মিলেমিশেই এই সাফল্য উদযাপন করব।”
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম

পরপর দুই ম্যাচে নর্থ জোনকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল সেন্ট্রাল জোন। মিরপুরে মঙ্গলবারের ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর নর্থ জোনকে ৫ উইকেটে হারায় সাইফ হাসান, নাঈম শেখদের সেন্ট্রাল জোন।
অথচ টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে রীতিমতো উড়ছিল শান্তর নর্থ জোন। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের হারিয়ে ফাইনালের টিকেট পায় সেন্ট্রাল জোন। এবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও লড়াই করতে পারল না নর্থ জোন।
তাওহিদ হৃদয়ের লড়াকু ৯৬ রানের সৌজন্যে ২৩৮ রানের পুঁজি পায় নর্থ জোন। জবাবে সাইফ, নাঈমের ঝড়ো জুটিতে অনায়াসে ম্যাচ জিতে নেয় সেন্ট্রাল।
বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয় নর্থ জোন। এবার তাদের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল সেন্ট্রাল জোন।
রান তাড়ায় এদিন আর ঝড় তুলতে পারেননি জিসান আলম। ষষ্ঠ ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ১৭ বলে ১৪ রান করা তরুণ ওপেনার। তবে দলের ওপর আর চাপ আসতে দেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান।
দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে ১৪১ বলে গড়ে তোলেন ১৬৪ রানের জুটি। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, দুজনের জুটিতেই জিতে যাবে সেন্ট্রাল জোন। কিন্তু আশা জাগিয়েও সেঞ্চুরি করতে পারেননি দুজনের কেউই।
রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ বলে ৭৮ রান করা নাঈম। পরে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৮ বলে ৮৭ রান করা সাইফকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরি না পেলেও দুজনই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেন।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৮ বলে ৬) ও ইরফান শুক্কুরও পরে (১৩ বলে ১৪) আউট হয়ে যান৷ তবে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে মাহফিজুল ইসলাম রবিন (২৪ বলে ১৮) দলের শিরোপা নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন।
২টি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি নর্থ জোন। জ্বরের কারণে খেলতে পারেননি লিটন কুমার দাস। তার জায়গায় একাদশে ফেরার সুযোগ পেয়ে আবার হতাশ করেন হাবিবুর রহমান সোহান (১৭ বলে ৫)।
আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ভালো শুরু করলেও ইনিংস টানতে পারেননি। ৪ চারে ২২ বলে ২৩ রান করে আউট হন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামলে ৫২ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়।
সাইফ হাসানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন ৫১ বলে ৩৫ রান করা শান্ত। পাঁচ নম্বরে নেমে এসএম মেহেরব হাসানও (৩৮ বলে ২৮) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একই ওভারে আকবর আলিকে (৩ বলে ০) ফেরান রকিবুল হাসান।
পরে একাই দলকে টেনে নেন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানের সঙ্গে তিনি যোগ করেন ৬৩ রান। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা সাব্বির এদিন ৪৩ বলে করেন ২৪ রান। রয়েসয়ে শুরু করা হৃদয় ফিফটি করেন ৬৯ বলে।
সাব্বিরের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন হৃদয়। একইসঙ্গে জাগে তার সেঞ্চুরির আশা। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে একদমই সমর্থন পাননি মিডল-অর্ডার এই ব্যাটার। রিশাদ হোসেন ১৮ বলে ১৬ রান করে আউট হন।
ইনিংসের শেষ ওভারে সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে ছিলেন হৃদয়। উইকেট ছিল একটিই। রিপন মন্ডলের প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি হৃদয়। তৃতীয় বলে তিনি এলবিডব্লিউ হওয়ায় আর সেঞ্চুরি হয়নি। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯৮ বলে করেন ৯৬ রান।
৪১ রানে ৪ উইকেট নেন রিপন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও রকিবুল হাসানের শিকার ২টি করে উইকেট।

আরও একটি আইসিসির ইভেন্টে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা আছেন বেশ চাপে। বাবর আজম-সালমান আলী আগাদের হতাশার পারফরম্যান্সে ক্ষুদ্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শাস্তির সিদ্ধান্তও নেয়। পাকিস্তানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, প্রত্যেক ক্রিকেটারকে গুনতে হবে ৫০ হাজার পাকিস্তানি রুপি। তবে ক্রিকেটারদের এমন শাস্তিও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন শহিদ আফ্রিদি। বাজে পারফরম্যান্সের জন্য আরও কঠিন শাস্তি চান সাবেক এই ক্রিকেটার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে হারের পরই নাকি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় দলটির ক্রিকেট বোর্ড। এরপর সুপার এইট থেকে সেমি ফাইনালের টিকিট কাটতে না পেরে ঘরে ফেরার পর তো আর্থিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় আগাদের। এ নিয়ে টানা চারবার আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের এমন ভরাডুবির জন্য আফ্রিদির মতে যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও বেশি হওয়া উচিত। এমনকি শুধু জরিমানা নয়, পাশাপাশি আফ্রিদি চান কিছু ক্রিকেটারদের শাস্তিস্বরুপ অন্তত দুই বছর দলের বাইরে রাখা উচিত।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভিকে আফ্রিদি বলেন,
‘এটি সিদ্ধান্ত বোঝা কঠিন। এটি সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা। এটা তো সামান্য অর্থ। ৫০ লাখ দিয়ে তুমি কী করবে? এটা তো শাস্তি বলে মনে হয় না।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন,
‘যারা জাতীয় দলের জন্য বাজে পারফরম্যান্স করেছে তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠানো উচিত এবং এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের কমপক্ষে ২ বছর দলের জন্য খেলা উচিত নয়। যারা খেলতে ব্যর্থ, তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠাও। আমার মনে হয় এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা অন্তত দুই বছর দলের হয়ে না খেলুক। এটুকুই যথেষ্ট।’
এদিকে, পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ আমিরও। আগার নেতৃত্বাধীন দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক এই পেসার বলেন,
‘আমি আমার খোলাখুলি মত দিচ্ছি। বাকিটা ছেড়ে দাও। আমরা আসলে ট্যালেন্টই নেই। যারা এখন খেলছে, তারা ট্যালেন্ট নয়।’
আমির আরও বলেন,
‘যখন কোনো দল আমাদের দেশে হোম সিরিজ খেলতে আসে, তারা তাদের মূল দল পাঠায় না। এটা দেখলে বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়। যদি তারা মনে করে, হ্যাঁ, এটা একটি দল, তবে তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তারা সব নতুনদের নিয়েই তাদের দল পাঠায়। যদি নিউজিল্যান্ড ভারত যায়, পুরো দল নিয়েই যাবে। ইংল্যান্ড যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। ঠিক তেমনি, তারা যদি আমাদের দেশে আসে, তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তাই বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়।’
জরিমানা নিয়ে এখন পর্যন্ত পিসিবি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ক্রিকেটার ছাড়াও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও তীব্র সমালোচনার মুখে আছে। দল নির্বাচন, পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে দলটির সাবেক অনেক ক্রিকেটারই ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফিরছে মুলতান সুলতান্স। নতুন মৌসুমে অভিষেক হতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ নিজেদের নাম বদলে নিচ্ছে মুলতানের নামে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার পিএসএলের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির এই ঘোষণা দেন। এসময় তার পাশে ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিইও ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার গোহার শাহ।
এই বিষয়ে গত সপ্তাহেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নাসির। মুলতান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, সুখবর আসছে।’ অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
নাসির জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন গোহর শাহ। এককালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে সম্মত হওয়ায় আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। ফলে দলটির নতুন নাম হচ্ছে মুলতান সুলতান্স।
নাম বদলের ফির বাইরেও নতুন মালিক সিডি ভেঞ্চারস বার্ষিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে উন্নীত করতে রাজি হয়েছে। নাসিরের ভাষ্য, পিএসএলের পরিসরে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে মুলতান সুলতান্স নামটির আলাদা মূল্য রয়েছে।
গত মাসে আগের মালিক আলি তারিন লিজ নবায়ন না করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিলামে ওঠে। সর্বোচ্চ ২৪৫ কোটি রুপি বার্ষিক ফিতে সেটি কিনে নেয় ওয়ালি টেকনোলজিস। পরে তারা দলটিকে রাওয়ালপিন্ডিতে সরিয়ে নিয়ে ‘পিন্ডিজ’ নাম দেয়।
এতে আট মৌসুমের পথচলার পর কার্যত পিএসএল থেকে মুলতান সুলতান্সের বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল। তবে মালিকানা নিয়ে জটিলতা এবং নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর স্ট্যালিয়নজ ফ্র্যাঞ্চাইজির ৯৮ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় সিডি ভেঞ্চারস।
নতুন মালিকানার প্রতিনিধি হিসেবে গোহর শাহ সিইওর দায়িত্ব নেন। পিএসএলের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হায়দ্রাবাদ কিংসমেন।

মুম্বাইয়ের গর্জন থামাতে চান স্যাম কারান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছেন ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার।
আজ মুম্বাইয়ে অনুশীলনের আগে কারান বলেন, ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখতেন, তার একটি ছিল ভারতে ভারতের বিপক্ষে খেলা,
‘শ্রীলঙ্কা থেকে মুম্বাইয়ে উড়ে আসার সময় ভাবছিলাম, ছোটবেলায় কী স্বপ্ন দেখতাম। ভারতের বিপক্ষে ভারতে খেলাটা নিশ্চয়ই তার একটি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা।’
সেমিফাইনালটি হবে ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক সমর্থকদের উপস্থিতিতে গ্যালারি থাকবে সরব—এমনটাই প্রত্যাশা ইংল্যান্ড শিবিরের। তবে সেটিকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন কারান। বললেন,
‘স্টেডিয়াম খুব জোরে গর্জে উঠবে। এটাকে রোমাঞ্চকর সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। যদি গ্যালারি নীরব হয়ে যায়, বুঝতে হবে ইংল্যান্ড ভালো করছে—আমরা সেটাই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।’
চলমান আসরে ইংল্যান্ড দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নিয়মিত খেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। ফলে ভারতীয় দর্শকদের আবেগঘন সমর্থনের সঙ্গে তারা পরিচিত। কারানের মতে, সেই অভিজ্ঞতাই কাজে দেবে। কারন বলেন,
‘আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ভারতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এখানে খেলতে খেলতে আপনি শব্দকে উপেক্ষা করতে শিখে যান। অবশ্যই পরিবেশটা উপভোগ্য। অনেক তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলার।’
কারান আশা করছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হবে যাতে গ্যালারি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়,
‘আশা করি স্টেডিয়ামটা নীরব হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই খুব জোরে সমর্থন থাকবে। দুইটি দুর্দান্ত দল মুখোমুখি হচ্ছে। গত চার–পাঁচ সপ্তাহের পরিশ্রম আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আশা করি, আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে ফাইনালের পথে যেতে পারব।’
সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের উত্তপ্ত পরিবেশেই বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। তবে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে স্বাগতিকদের গ্যালারি স্তব্ধ করেই ফাইনালে উঠতে চায় তারা।

আগামীকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মাড়ে গড়াবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ। আর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
কুড়ি কুড়ি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ কারা পরিচালনা করবেন, জানিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি। মঙ্গলবার দু’টি সেমিফাইনালের ম্যাচ রেফারি এবং আম্পায়ারদের নাম জানিয়েছে তারা।
বুধবার ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচে মাঠের দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং অ্যালেক্স হোয়ার্থ। কলকাতায় তৃতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন। চতুর্থ আম্পায়ার রড ট্যাকার। ম্যাচ রেফারি জ্যাভগল শ্রীনাথ।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন ক্রিস গাফানি এবং আলাউদ্দিন পালেকর। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার যথাক্রমে অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টক ও পল রাইফেল। ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন অ্যান্ডি পাইক্রফট। এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হ্যান্ডশেক বিতর্কে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
২০২৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেও গাফানি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর আলাউদ্দিন এ বারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দু’টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসাবে ছিলেন। ভারত-নেদারল্যান্ডস ম্যাচেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন।