
'জুড বেলিংহাম বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন।' রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসো জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচশেষে এভাবেই আরেকবার স্বরণ করিয়ে দিলেন চোট থেকে ফিরে জয়সূচক গোলে এনে দেওয়া বেলিংহামের মূল্য কতটা।
একের পর এক আক্রমণের ঢেউ তোলা রিয়াল আসল কাজটাই করতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত জুড বেলিংহামের মৌসুমের প্রথম গোলে মেলে নিস্তার। ম্যাচজুড়ে জুভেন্টাসের উপর আধিপত্য ধরে রেখে প্রাপ্য জয়টাই তুলে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গতকাল রাতে বেলিংহামের একমাত্র গোলে জুভেন্টাসকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২০২৫-২৬ মৌসুমের তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল। জুভেন্টাসের বিপক্ষে এই জয়ে নয় পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পাঁচে লস ব্লাঙ্কোসরা। তিন ম্যাচে এক হার ও বাকি দু'টিতে ড্র করে ২৫ নম্বরে জুভেন্টাস।
আরও পড়ুন
| ফ্রাঙ্কফ্রুটকে উড়িয়ে ভয়ংকর রূপে ফিরল লিভারপুল |
|
নিজেদের ডেরা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সব সূচকেই এগিয়ে ছিল রিয়াল। ৬৬ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৮টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। বিপরীতে সফরকারী জুভেন্টাসের ১৩ শটের ৪টি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য উজ্জ্বল ছিল জুভেন্টাস। রিয়ালের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া শুরুতেই দুটি দারুণ সেভ করেন। যদিও প্রথমার্ধে ১৪টি শট নিয়ে সফরকারীদের চাপে রাখে রিয়ালই। প্রধামার্ধে ব্রাহিম দিয়াজ ও চুয়ামেনি একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও জুভেন্টাস গোলরক্ষক দি গ্রেগোরিও ছিলেন দুর্দান্ত।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সেরা সুযোগটি পায় জুভেন্টাস। এদার মিলিতাওকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন দুসান ভ্লাহোভিচ। ইতালির ক্লাবটির ফরোয়ার্ডের জোরাল শট এগিয়ে এসে পা দিয়ে রুখে দেন কোর্তোয়া। সেই সেভের পরই ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে যায়।
৫৭ মিনিটে জয়সূচক গোলটি পেয়ে যায় রিয়াল। বক্সে প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, বল পেয়ে যান বেলিংহাম, কাছ থেকে জাল কাঁপাতে মোটেও ভুল করেননি ইংলিশ মিডফিল্ডার।
এ গোলের পর জুভেন্টাস আক্রমণ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সমতাসূচক গোলের দেখা পায়নি তারা। তাতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোর আগে ফুরফুরে মন নিয়েই মাঠে নামবে ভিনিসিয়াস-কিলিয়ান এমবাপেরা।
No posts available.

অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিল ইতালি। তাদের উল্টো দুঃখের অথৈ সাগরে ভাসিয়ে দিল বসনিয়া। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফের ফাইনালে টাইব্রেকারে জেনোরি গাত্তুসোর দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটল বসনিয়া।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় টাইব্রেকারে গড়ায়। যেখানে ইতালির পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তানন্তে দুটি শট মিস করায় শেষ হাসিটা হাসে বসনিয়া।
টাইব্রেকারে প্রথম শট নেন বসনিয়ার বেঞ্জামিন তাহিরভিচ। তার বাঁ-দিকে নেওয়া শট বেশ সুন্দরভাবেই জালে জড়ায়। তবে প্রথম শট নিতে এসে ইতালির পিও এসপোসিতো গড়বড় করে বসেন। বারের ওপর দিয়ে বল পাঠান তিনি।
দ্বিতীয় শটটি সেভ করতে পারেননি জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা। আর ইতালির দ্বিতীয় শট নিতে এসে টোনালি আর ভুল করেননি।
২-১ গোলে পিছিয়ে থাকার পর তৃতীয় শটে গোল কনসিভ করে ইতালি। ডান দিকে নেওয়া শট নেওয়া হলেও বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন ম্যানচেস্টার সিটি গোলকিপার।
চতুর্থ শটে এসে আবারও গোল আদায় করে বসনিয়া। তাকে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় । চতুর্থ শট দোনারুম্মা মিস করেন। আর শেষ ব্রায়ান মিস করলে স্বপ্নভঙ্গ হয় ইতালির।
এর আগে নিকোলাস ভাসিলজের
ভুলে ম্যাচের ১৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইতালি। বল রিসিভের পর তার দুর্বল ক্লিয়ারেন্স পৌঁছে
যায় নিকোলো বারেল্লার কাছে। দ্রুতই তা মইজে কিনকে পাস দেন তিনি। সুযোগের
সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেননি ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ড। দারুণ এক শটে বসনিয়ার জালে
বল জড়ান তিনি। তাতেই বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচঘড়ির ১৫ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইতালি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৭৯তম মিনিটে
তাবাকোভিচ বসনিয়াকে সমতায় ফেরান। জেকোর হেড প্রথমে রুখে দেন দোনারুম্মা। কিন্তু ফিরতি
বল পেয়ে হারিস তাবাকোভিচ সেটি জালে জড়িয়ে দেন।
এর আগে অবশ্য ৫৯ মিনিটে
মইজে কিনের জোড়া গোলের সুযোগ ছিল। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে বসনিয়ার ডি বক্সের কাছে
চলে যান ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড। গোলকিপারের সেঙ্গ ওয়ান টু পজিশনেও ছিলেন। তবে গড়বড় করে
বসেন। তার লং রেঞ্চের শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
৯০ মিনিট সমতায় থাকায় বাড়তি
সময় দেন রেফারি। সেখানেও কোনো দল এগিয়ে যেতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়।

ঔদ্ধত্য নয় তো কী! ফুটবল—যেখানে এক সেকেন্ডেই বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট। পরতে পরতে জমে ওঠে গল্প। সেই খেলাতেই প্রতিপক্ষকে ‘দুর্বল’ ভাবার সাহস দেখিয়েছিল ইতালি। যখন তখন গোল হজমের শঙ্কা, অনিশ্চয়তায় ভরা ম্যাচ—সেখানে বসিনয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার মানসিকতা কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলেই কি এই আত্মবিশ্বাস? হতে পারে। তবে এটাও সত্য, আজ্জুরিদের সোনালি দিনের সূর্য অনেকটাই অস্তমুখী। সেই বাস্তবতা যেন ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন জিয়ানলুইজি দোনারুম্মারা। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’—বিশ্বকাপের শেষ দুই আসরে জায়গা না পাওয়া দলই কিনা প্রতিপক্ষকে নিয়ে কটাক্ষে মেতে ওঠে! আর সেই প্রতিপক্ষ বসনিয়াই শেষ পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল জেন্নারো গাত্তুসোর দলকে।
গত সপ্তাহের কথা। ওয়েলস-বসনিয়া তখন প্লে অফের সেমি-ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে। পেনাল্টিতে গড়ানো ম্যাচে শেষ হাসি ছিল বিশ্বকাপে একবার খেলতে পারা বসনিয়ার। ততক্ষণে ইতালিও জেনে যায়, তাদের প্রতিপক্ষের নাম।
প্রতিপক্ষের নাম জানার পর প্রতিটি দলের আদর্শিক কাজ—ডাটা অ্যানালাইসিস, ট্যাকটিকাল বিষয় নিয়ে আলোচনা। সেখানে উল্টো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বসে ইতালি। তাদের ড্রেসিংরুম থেকে ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় বসনিয়াকে দুর্বল হিসেবেই কটাক্ষ করছে ইতালি। দলটির ডিফেন্ডার ফেদেরিকো দিমার্কোদের ‘মুষ্টিবদ্ধ হাত’ আর উচ্ছ্বাসকে বসনিয়ানরা ঔদ্ধত্য হিসেবেই দেখেছে।
এ নিয়ে রোমা ও জুভেন্টাসে খেলা সাবেক বসনিয়ান মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচ গাজ্জেত্তা দেলো স্পোর্তকে বলেছেন, ‘বসনিয়া ইতালিকে খোলা হাতে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষায় আছে।’ কথাটা হুমকির মতো মনে হলেও কাজের কাজ করেছে বসনিয়া। ম্যাচজুড়ে তারা তাতিয়ে রেখে ম্যাচ।
ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ প্লে অফ বাছাইয়ের ফাইনালের প্রথমার্ধে ১ গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে তা শোধ করে বসনিয়া। পূর্ণাঙ্গ সময় ১-১ সমতায় থাকায় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল বসনিয়া। বসনিয়া স্বাধীন হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে নিল। ইতালির মতোই ২০১৪ বিশ্বকাপে সর্বশেষ খেলেছে বলকান অঞ্চলের দেশটি।
এদিন মাঠজুড়ে আধিপত্য ছিল বসনিয়ার। ৬৫ শতাংশ বল তাদের পায়ে ছিল। ইতালির দিকে নেওয়া ৩০ শটের ১১টিই লক্ষ্যে রেখেছে। বড়সুযোগ মিস করেছে দুইটি। কর্ণার আদায় করেছে ৭টি। তারচেয়েও বড় প্রায় ৮৮ শতাংশ পাস তাদের অ্যাকুরেট ছিল। এখানে অনেকটাই পিছিয়ে ইতালি।

ভিক্টর ইয়োকেরেস ক্যারিয়ারের
সপ্তস্বর্গে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফের সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিকের পর ফাইনালেও দলের জয়ে ভূমিকা রাখলেন। আর্সেনাল স্ট্রাইকারের
শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল সুইডেন।
ঘরের মাঠে মঙ্গলবার রাতে
ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ের প্লে অফের ফাইনালে ৩-২ গোলে জিতেছে সুইডেন। ২-২ সমতায় থাকার
পর ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ইয়োকেরেস।
ম্যাচের প্রথমার্ধে তিনটি
গোল হয়। বাকি দুটি দেখা মেলে দ্বিতীয়ার্ধে। তবে ৮৮ মিনিটে ইয়োকেরেসের গোলেই স্বপ্নভঙ্গ
হয় ডেনমার্কের। এসময় সুইডেনকে তৃতীয় দফায় এগিয়ে নেন তিনি।
সুইডেনের ঘরের মাঠ স্ট্রবেরি
অ্যারিনাকে ম্যাচ ঘড়ির ১৯তম মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় সুইডেন। ৩৩তম
মিনিটে পোল্যান্ডকে সমতায় ফেরান নিকোলা জালেভস্কি। ৪৪তম মিনিটে স্বাগতিকরা আবার এগিয়ে
যায় গুস্তাফের গোলে।
২-১ গোলে পিছিয়ে থাকার
পর দ্বিতীয়াার্ধে খেলা শুরুর ৫৫তম মিনিটে স্কোরলাইন
২-২ করে ডেনমার্ক। কারোলের গোলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে অতিথিরা।। তবে ম্যাচের ৮৮তম
মিনিটে সুইডেনকে তৃতীয় দফায় এগিয়ে নেন ইয়োকেরেশ।
আরেক প্লে অফ ফাইনালে ইউরোপের
সবচেয়ে ছোট দেশ কসোভোকে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে তুরস্ক।
আরেক ম্যাচে ইতালির স্বপ্নভঙ্গ করেছে বসনিয়া।

পক্ষান্তরে ভুলটা নিকোলাস ভাসিলজেরই। বল রিসিভের পর তার দূর্বল ক্লিয়ারেন্স পৌঁছে যায় নিকোলো বারেল্লার কাছে। দ্রুতই তা মইজে কিনেকে পাস দেন তিনি। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেননি ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ড। দারুণ এক শটে বসনিয়ার জালে বল জড়ান তিনি। তাতেই বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচঘড়ির ১৫ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইতালি।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার
বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ প্লে অফ বাছাইয়ের ফাইনালের প্রথমার্ধে
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি।
প্রথমার্ধে বল পজিশনে খানিক পিছিয়ে থাকলেও একের পর এক আক্রমণ শানায় বিশ্বকাপে একবার খেলতে পারা বসনিয়া। তাদের ১৩টি শটের মধ্যেই ৪টি ছিল গোলমুখে। আর গাত্তুসোর শিষ্যরা সেখানে অনেকটা পিছিয়ে। বসনিয়ামুখে মাত্র ২টি শট নিতে পেরেছে অতিথিরা। চারটি গোল সেভ করেছেন জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা।
প্রথম গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বসনিয়া। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। তবে বার বারই তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন দোনারুম্মা। ম্যাচ ঘড়ির ২০তম মিনিটে ইতালির গোলকিপার দারুণ একটি সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। বসনিয়ার কর্নার শট সরাসরি চয়ে যায় ইভান বেসিচের কাছে। বল রিসিভের সঙ্গে সঙ্গেই বুলেট গতির শট নেন এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। তার সে শট রুখে দেন ম্যানচেস্টার সিটি গোলকিপার।
ঠিক তার তিন ৭মিনিট পরই আবারও আক্রমণে ওঠে বসনিয়া। তবে নিকোলো কাটিকের দুর্বল হেডার গ্লাভস বন্দী করতে খুব একটা হ্যাপা পোহাতে হয়নি দোনারুম্মা।
৩৮ মিনিটে ফেরার আরও একটি সুযোগ পায় বসিনিয়া। ডানপ্রান্ত ধরে আক্রমণে ওঠেন বজরকতারেভিচ। এরপর আকর্ষণীয় ক্রস পাঠান বক্সে। এরমেদিন দেমিরোভিচ সেটি হেডারে চেষ্টা করেন, কিন্তু বল পোস্টের বাইরে চলে যায়।
৪১ মিনিটে অঘটনের শিকার
হয় ইতালি। মেমিচকে ফাউল করার কারণে লাল কার্ড দেখেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। দ্বিতীয়ার্ধ
১০ জন নিয়েই খেলতে হবে ইতালিকে।

জীবন বড়ই অদ্ভুতুড়ে! কখনও শেষ বিকেলে নীড়ে ফেরা সাদা বকের দল। আজ শিশু, কাল যুবক, পরশু বয়োবৃদ্ধ। এরপর…, চির অচিনের সঙ্গে মিশে যাওয়া। যাপিত জীবনের নানা রঙ। ফুটবলেও তাই। এখানে কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোটেন ফুটবলাররা, ঝরেও পড়েন কোনো এক ভোরে। কালের পরিক্রমায় নিজ দেশের জার্সি, বুট আলমারিতে তুলে রাখতে হয় তাদের। যে মাঠে দিব্যি চষে বেড়াতেন, সেটাও হয়ে পড়ে অতীত।
লিওনেল মেসির বেলাও কী সেটা ঘটতে যাচ্ছে না? নির্মম অথচ একটি চরম সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টাইন মহামানব। বুধবার বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা ১৫ মিনিটে জাম্বিয়াকে আতিথ্য দেবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রীতি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ! আর তা যদি হয়ে থাকে এবং বিশ্বকাপের ২২তম আসর থেকে যদি ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড অবসর নেন তবে এটাই হবে দেশের মাটিতে মেসির সবশেষ ম্যাচ।
যদিও টিএনটি স্পোর্টসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা বর্তমানে হন্ডুরাস এবং সার্বিয়ার সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে ৬ জুন, আর আলবিসেলেস্তারা ইউরোপের দল সার্বিয়ার মুখোমুখি হতে পারে ৯ জুল অ্যালাবামায়। যার একটি আর্জেন্টিনার মাটিতে হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তা হলে ঘরের মাটিতে সবশেষ ম্যাচ খেলার জন্য অপেক্ষা বাড়বে মেসির।
দেশের জার্সিতে ১৮৮ ম্যাচে ১১৫ গোল করা মেসি সবশেষ মৌরাতানিয়ার বিপক্ষে ৪৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। তবে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পূর্ণশক্তির দলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৩৮ বছর বয়সী মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দেননি, তবে বাছাইপর্বে তিনি পুরোপুরি অংশ নিয়েছেন। স্কালোনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই সুপারস্টার সম্ভবত তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলবেন।
স্কালোনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যেন বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পার, যা সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ হবে। আমরা চাই সে এই অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করুক, কারণ পরে এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ খুব মিস করে খেলোয়াড়রা।”
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের পরিচিত মূল খেলোয়াড়দের নিয়েই মাঠে নামবে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে শীর্ষে থাকা দলটি এবারের বিশ্বকাপেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত।
স্কালোনি বলেন, “আমাদের পরিচিত বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই খেলবে। এটি হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা। পরে আমরা কিছু পরিবর্তন করে তরুণদেরও দেখব।”
ইতোমধ্যে তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছেন। সেই তালিকা থেকেই চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল মে মাসের শেষে ঘোষণা করা হবে। আর এ তালিকায় নিশ্চিতভাবে রয়েছে আর্জেন্টিনাকে সবশেষ বিশ্বকাপ জেতানো নায়কের নাম।