৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ এম

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এসে শেষ হয়।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নেতৃত্বে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন এই র্যালিতে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের খেলোয়াড় এবং সংগঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ র্যালিটিকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে।
র্যালি শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী সকলকে ধন্যবাদ জানান।
“খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং মানুষের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করে। একটি মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে মাঠের বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে কোনো বিভেদ নেই। প্রতিমন্ত্রী দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ক্রীড়াবান্ধব দেশ গঠনের উদাত্ত আহ্বান জানান। সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভার অন্বেষণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখা।
পরিশেষে ক্রীড়া দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচিতেও সংশ্লিষ্ট সকলকে সক্রিয় থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ এম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩২ এম
১ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৮ পিএম
৩১ মার্চ ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিকল্প ভেন্যুর প্রয়োজনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজে হাত দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে পর্যটন কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯.২৫ একর খাস জমি দখলে নিয়ে নেয় নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিশাল এই জায়গাটি বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে, মাঠোন্নায়ন করে একটি অস্থায়ী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ১টি আউটার ক্রিকেট মাঠ এবং ১টি অনুশীলন মাঠ তৈরির পাশাপাশি স্টিল স্ট্রাকচারের প্লেয়ার্স ড্রেসিংরুম, প্যাভিলিয়ন নির্মাণসহ আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করেছে বিসিবি।
তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এতো বড় ক্রিকেট স্থাপনার দখল নিয়েছিল বিসিবি, সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্সকে বিবেচনা করেনি আইসিসি। এমনকি এই জায়গাটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দও নিতে পারেনি বিসিবি। তবে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের ৮টি ওডিআই, ৮টি টি-টোয়েন্টি, ১৪টি ইয়ুথ ওডিআই এবং ১টি ইয়ুথ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে হয়েছে ৯টি ম্যাচ। এই স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ২টি মাঠ থাকায় প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট জাতীয় লিগের নিয়মিত ভেন্যু এখন এটি।
২০১৭ সালের মার্চে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে ৭৬৮ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৪৯.২৫ একর জায়গামাত্র ১ লাখ ১ হাজার টাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা দলিল করে হস্তান্তর করে। এতো বড় জায়গা নামমাত্র মূল্যে পেয়ে এখানে পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এনএসসি। দক্ষিণ দিকে সমুদ্র সৈকত এবং ঝাউ বনের অবস্থান আছে বলেই প্রস্তাবিত ফুটবল এবং ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নকশায় দক্ষিণ পাশটি গ্যালারিহীন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সে কারণেই স্টেডিয়াম দুটির ধারণক্ষমতা মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম এবং ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের চেয়ে কম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্লাড লাইট, জায়ান্ট স্ত্রিন, চেয়ারসহ আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন ২২ হাজার আসনবিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ২১ হাজার আসনবিশিষ্ট ১টি ফুটবল স্টেডিয়াম, একটি অনুশীলন মাঠ, ১টি ইনডোর স্টেডিয়াম, ১৪তলা ৫তারা হোটেল, একটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনে ১ হাজার ৯শত ২১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্প তৈরি করে এনএসসি। ২০২১ সালে এই প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই করে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছে ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্ল্যানিং এবং প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড নামের ২টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। পরামর্শক এই দুটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে এনএসসি খরচ করেছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
পরবর্তীতে সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তি পেয়ে কক্সবাজারের ট্যুরিজমকে আকর্ষণীয় করতে ২০২৩ সালে সাম্পানের আদলে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের নকশা অনুমোদন করে প্রাক্কলিত ব্যয়ও নির্ধারণ করেছে এনএসসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ। যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয়কে ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) দিয়েছে তারা। তবে পরবর্তীতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজে অগ্রগতি হয়নি। নকশায় পরিবর্তন এনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএসসির বিশ্বস্ত একটি সূত্র।
কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ক্রিকেট প্যাভিলিয়ন এবং ড্রেসিংরুমের অবস্থা এখন করুণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নতুন করে অস্থায়ী প্যাভিলিয় নির্মাণের পক্ষে নয় এনএসসি কিংবা বিসিবি। এই অস্থায়ী গ্যালারি উপড়ে ফেলে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণকাজে হাত দিতে চায় এনএসসি।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে এতো বড় জায়গাটির মালিকানা যখন এনএসসি'র, তখন এই জায়গায় দেশের একমাত্র পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গত ৩ এপ্রিল কক্সবাজার পরিদর্শণকালে প্রস্তাবিত ক্রীড়া কমপ্লক্সের যাবতীয় তুলে ধরেছে এনএসসির পরিকল্পনাও উন্নয়ন বিভাগ।
কক্সবাজার ক্রিকেট ভেন্যু পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-
‘কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত। আমরা ভাবছি কীভাবে স্পোর্টস ট্যুরিজমের মাধ্যমে এই খ্যাতিকে কাজে লাগানো যায়। পৃথিবীর অনেক দেশে দর্শক গ্যালারি ছাড়াও মাঠে বা গ্লাসের ভেতরে বসে খেলা উপভোগ করে। কক্সবাজারের এমন সুন্দর পরিবেশে উন্নত স্টেডিয়ামের আদলে কিছু পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম নিয়ে বিগত সময়ে বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে যে রশি টানাটানি ছিল, তা আর হবে না। বর্তমানে কক্সবাজারের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফেরানো কঠিন। তবে আমরা এই কঠিন কাজকে সহজ করার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’
আগের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হলে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করতে হবে। তারপর ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের অনুমোদন নিয়ে একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবে এনএসসি। বর্তমান সরকারের আমলেই দেশের একমাত্র ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে এনএসসি। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যৌথ স্বাগতিক বাংলাদেশ, তা মাথায় রেখেই কক্সবাজারের লাবনি পয়েন্টে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে অংশ নিতে ভারতের হিমাচল প্রদেশের শিমলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ যুব টেবিল টেনিস দল। আজ সোমবার দেশ ছেড়েছে দলটি। নয়াদিল্লী হয়ে শিমলায় পৌঁছাবেন খই খই মারমারা।
৩০তম এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বাছাইপর্ব হিসেবে আগামী ৮ থেকে ১১ এপ্রিল ভারতের শিমলায় হবে এই প্রতিযোগিতা।
বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে স্বাগতিক ভারতসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বালক ও বালিকা বিভাগে সিঙ্গেলস, ডাবলস, মিক্সড ডাবলস এবং টিমস ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (বিটিটিএফ)-এর সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেটের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিমলায় যাচ্ছে। দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও বিটিটিএফের দ্বিতীয় সহ-সভাপতি তাহমিনা তারমিন বিনু। কোচ হিসেবে থাকছেন বিকেএসপির ধনঞ্জয় শীল তীর্থ এবং আইটিটিএফ লেভেল-২ কোচ রিগ্যান বড়ুয়া।
বাংলাদেশ যুব দলের অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের খেলোয়াড়রা হলেন— মো. নাফিজ ইকবাল (অধিনায়ক), আবুল হাসেম হাসিব, মো. তাহমিদুর রহমান সাকিব ও মো. জয় ইসলাম।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দলের খেলোয়াড়রা হলেন— খই খই সাই মারমা (অধিনায়ক), রেশমী তনচংগ্যা, ঐশী রহমান ও নুসরাত জাহান।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দলের খেলোয়াড়রা হলেন— মো. শাহীন আহম্মেদ (অধিনায়ক), মো. মিদুল রহমান, তামজিদুুল ইসলাম পরশ ও রাব্বি ইসলাম।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দলের খেলোয়াড়রা হলেন— মোছাম্মত রাফিয়া চৌধুরী (অধিনায়ক), জান্নাত ইসলাম রোজা, মোসাম্মদ জান্নাতুল রোজা ও সাবিহা আক্তার পাপিয়া।
যুব দলের মোট ১৬ জন টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের মধ্যে ১২ জনই বিকেএসপির বর্তমান এবং ২ জন সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ সেনা বাহিনী এবং ১ জন গ্রিন টেবিল টেনিসকে প্রতিনিধিত্ব করছে। বাকি ২ জনের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ও ১ জন রংপুর টেবিল টেনিস সংস্থার।
দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন, 'প্রতিযোগিতার প্রসপেক্টাস হাতে পাওয়ার আগেই আমরা দল নির্বাচন করে বিকেএসপিতে ৩৩ দিনের একটি নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করেছি। গত বছর কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে বাংলাদেশ ৭টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করলেও প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ না হওয়ায় এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। তবে এবার আমরা কোয়ালিফাইং নিয়ে খুবই আশাবাদী।'
তিনি আরও বলেন, 'এবারের সাউথ এশিয়ান জুনিয়র আমাদের কয়েকজন শীর্ষ খেলোয়াড়ের জন্য শেষ টুর্নামেন্ট। আমরা বিশ্বাস করি, তারা তাদের শেষ আসরটিকে স্মরণীয় করে দেশের জন্য সম্মানজনক ফলাফল বয়ে আনবে।'

আগামী ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ব্যাপকভাবে উদ্বোধন করবেন ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সিলেট সফর করেন। সফরের সময় প্রতিমন্ত্রী সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক রাহাত শামস প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আঞ্চলিক ক্রিকেট আয়োজনের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। ক্রিকেট কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য পাশের মাঠ, খেলোয়াড়দের জন্য ডরমিটরি ও সুইমিং পুল, এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ সুবিধা নির্মাণসহ অতিরিক্ত অবকাঠামোর প্রয়োজনের বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জোর দিয়ে বলেন, ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ উদ্যোগের সফলতার জন্য সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তিনি বিশেষভাবে কয়েকটি অগ্রাধিকারসূচি তুলে ধরেন। এরমধ্যে আছে স্থানীয় মাঠগুলোকে সারাবছর খেলার উপযোগী করা, সমন্বিত বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা, সবুজ গ্যালারির অবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন নিশ্চিত করা।
পাশপাশি দর্শক সুবিধা বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপরও জোর দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে বাইরের গ্যালারিতে যেন ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা যায়।

বাংলাদেশে এসেছেন গলফের বিশ্বখ্যাত কোচ স্লোভেনিয়ার ইউরোস গ্রেগরিচ। ঢাকায় আজ সকালে পা রেখেই দিনভর সিদ্দিকুর রহমানদের ক্লাস নিয়েছেন।
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের আয়োজনে বাংলাদেশ গলফ একাডেমীতে শুরু হয়েছে চারদিন ব্যাপী স্থানীয় কোচদের ট্রেনিং প্রোগ্রাম ‘টেকনিক্যাল কোর্স ফর কোচেস ইন গলফ’। এই প্রোগ্রামে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশের স্থানীয় কোচদের মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে অংশ নিচ্ছেন দেশের তারকা গলফাররাও।
এই ট্রেনিং প্রোগ্রামে সস্ত্রীক অংশ নিয়েছেন দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। দেশীয় কোচরা যাতে নতুন গলফার তৈরিতে আরও পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং তাদের শেখার প্রক্রিয়ায় ঘাটতি না রাখতে বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন প্রথমবারের মতো এমন অভিনব আয়োজন করে।
এমন আয়োজনে ট্রেনার হিসেবে অংশ নিতে পেরে বেশ খুশি স্লোভেনিয়ার কোচ ইউরোস গ্রেগরিচ,
‘আমি অনেক দেশেই এমন ট্রেনিং করিয়েছি। এটা খুবই দরকারী। এতে কোচদের দক্ষতা বাড়বে। আমি বাংলাদেশে এমন একটি আয়োজনের ট্রেনার হতে পেরে খুবই খুশি।’
সকালে উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের (বিজিএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রাজ্জাক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজিএফের জেনারেল সেক্রেটারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাঈদ সিদ্দিকী, জয়েন্ট সেক্রেটারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ বি এম শেফাউল কবির। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ডিরেক্টর মো. আমিনুল আহসান, বাংলাদেশ গলফ একাডেমীর ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল তোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রাজ্জাক বলেন,
‘বাংলাদেশে আমরা প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করছি। গলফ খেলতে শারীরিক এবং মানসিক দুই বিষয়েই দক্ষ হতে হয়। যারা নতুন গলফার তৈরি করবেন, তাদের শেখানোর মধ্যে যাতে কোনো রকম ঘাটতি না থাকে সে কারণেই এমন ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এটা আমাদের গলফে দারুন কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।’
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের জেনারেল সাঈদ সিদ্দিকী বলেন,
‘দেশের গলফের উন্নতি করতে হলে সবার আগে কোচদের মান উন্নয়ন করতে হবে, কেননা তারাই তো গলফ শেখান। আমার বিশ্বাস এই ট্রেনিং আমাদের স্থানীয় কোচদের আরও বেশি দক্ষ করে তুলবে। আর স্থানীয় কোচরা যত দক্ষ হবেন আমরা তত দক্ষ গলফার পাবো।’
বাংলাদেশের তারকা গলফার সিদ্দিকুর রহমান এই কোর্স থেকে অনেক কিছু শিখতে আশাবাদী,
‘আমি কোচ নই, তারপরও মনে করি এমন ট্রেনিংয়ের দরকার আছে। শেখার তো কোনো শেষ নেই। আমার লক্ষ যতদিন পারি গলফ খেলা চালিয়ে যাবো। আমার বিশ্বাস, এই কোর্স থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবো।’
বাংলাদেশ জাতীয় গলফ দলের কোচ নাদিম হোসেন বলেন,
‘আমরা স্থানীয় কোচরা খুবই ভাগ্যবান, সে কারণেই এমন বড় একজন ট্রেনারের কাছে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। চার দিনের এই ট্রেনিং আমাদের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে দেবে। আশা করছি, এখান থেকে আমরা অনেক নতুন কিছু শিখবো, যা নতুন গলফার তৈরিতে কাজে লাগাতে পারবো।’
চারদিনের এই প্রোগ্রামের প্রথম দিন গতকাল পরিচিত পর্ব শেষে কোচদের দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তাত্ত্বিক এবং বাস্তবধর্মী দুই বিষয়েই দেখিয়ে দিয়েছেন গ্রেগরি। সকাল নয়টা থেকে শুরু করে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চলে ক্লাস।

বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। সচিবালয়ে আজ দুপুরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়ে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রস্তাবিত স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে চীনের বিনিয়োগ এবং ভলিবল, আর্চারি ও শুটিংয়ের মতো ইভেন্টগুলোতে দক্ষ চীনা কোচ ও উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূতকে জানান, বর্তমান সরকার ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি সকল ক্রীড়া ইভেন্টকে সমানভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ক্রীড়া ভাতা এবং ডিজিটাল ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী চীনের জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলকে বাংলাদেশে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং বাংলাদেশের উদীয়মান স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিতে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের ডিজিটাল ক্রীড়া উদ্যোগ ও খেলোয়াড়দের মাসিক ভাতার কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাশপাশি চীনের জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, নিয়মিত ক্রীড়া সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের এই খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।