২১ অক্টোবর ২০২৫, ৯:১৪ পিএম

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে অংশ নিতে আজ বিকেলে দেশ ছেড়েছে বসুন্ধরা কিংস। শনিবার থেকে শুরু লিগের গ্রুপ পর্বের খেলা। প্রতিযোগিতার প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ান ক্লাব আল কারামাহকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ঘরোয়া লিগের অন্যতম সফল ক্লাবটি এএফসি মঞ্চে সেভাবে সফলতা পায়নি। তবে এবার কি ঘুচবে সেই আক্ষেপ? ক্লাব সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান বলছেন, ‘আশা আছে।’ তবে বাস্তবতার পথটাও যে কঠিন, সেটি তিনি স্বীকার করেছেন।
চ্যালেঞ্জ লিগে বসুন্ধরা কিংস পড়েছে ‘বি’ গ্রুপে। ২৫ অক্টোবর বসুন্ধরা কিংসের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ ওমানের ক্লাব আল সিব। ২৮ অক্টোবর লেবাননের আল আনসারের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে তারা। ৩১ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দল আল কুয়েত।
চার দলের গ্রুপ থেকে পয়েন্টের শীর্ষ দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। এই গ্রুপে থাকা আল সিবের এএফসি মঞ্চে সফলতা আছে। ২০২২ সালে ওমানের ক্লাবটি জিতেছে এএফসি কাপ। আল কুয়েত এএফসির মঞ্চে অন্যতম অভিজ্ঞ দল। এশিয়ান অঞ্চলের ভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনটি শিরোপা তাদের।
হেভিওয়েট তিন দলের গ্রুপ থেকে সেরা হওয়াটা মোটেও সহজ হবে না বসুন্ধরা কিংসের। তারপরও স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। প্রতিযোগিতার প্রিলিমিনারি রাউন্ডে আল কারামাহর বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ জেতার পর বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ কাপ জিতেছে ঢাকার জায়ান্টরা। রাকিব হাসেন, তপু বর্মণ, দরিয়েলতনদের লক্ষ্য তাই সুনিদিষ্টি- যে কোনো মূল্যে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ভালো ফল অর্জন।
দল নিয়ে আশাবাদী হলেও বাস্তবতাও জানা বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসানের। আজ নিজ অফিসে বসে টি-স্পোর্টসের এই প্রতিবেদককে বলেন,
‘সত্যিকার অর্থে এ বছর থেকে এএফসিতে ভালো কিছু করা কঠিন। ফর্মেশন পরিবর্তন হওয়ায় সেটি আরও কঠিন। আগে যেমন দক্ষিণ এশিয়া জোনের সঙ্গে খেলতাম। এখন অধিকাংশ সময় মধ্যপ্রাচ্যের দলগুলোর সঙ্গে খেলতে হবে। তৃতীয় কিংবা চতুর্থ টায়ার এখানে বিষয় না। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ধরেন ভারতের সেরা দলও হয়তো মধ্যপ্রাচ্যের তৃতীয় সারির কিংবা চতুর্থ সারির দলের চাইতে ভালো হবে না। ফলে কম্পিটিশন আগের চেয়ে অনেক বেশি।’
কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সর্বশেষ দলবদল মৌসুমে ঘর গুছিয়ে নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। মোহামেডান থেকে ইমানুয়েল সানডে, টনি, আবাহনীর রাফায়েল আগুস্তসহ কিউবা মিচেলদের মতো ফুটবলারদের দলে ভিড়িয়েছে তারা। যে কারণে কিংসের এএফসি মিশনে আশাও দেখছেন ইমরুল হাসান,
‘এ বছর কোনো মতে দলটা করেছি। ফলে আমরা যে সর্বোচ্চটা দিয়ে দল গোছাতে পেরেছি তেমনটাও না। মোটামুটি একটা ব্যালেন্স দল করেছি। তবে আশা তো থাকেই ভালো কিছু করার।’
চ্যালেঞ্জ লিগে ভালো করতে ফর্টিস এফসি থেকে তিন বিদেশি ফুটবলার ইসা জেল্লা, ওকাফোর এবং পা ওমর বাবুকে নিয়ে কুয়েতের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় বসুন্ধরা কিংস। দলের ভারসাম্য নিয়ে ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন,
‘আমরা এবার স্থানীয় এবং বিদেশী যে খেলোয়াড় নিয়েছি মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল হয়েছে। ফর্টিস থেকে তিনজন বিদেশী খেলোয়াড় নিয়েছি। সব মিলিয়ে এবার কম্বিনেশন মোটামুটি ভালো হয়েছে। আমরা আশা করছি এবার দলের কাছ থেকে ভালো কিছু পাবো।’
চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি ম্যাচে হেড কোচ ছাড়াই খেলে বসুন্ধরা কিংস। এরপর দলে যোগ দেন আর্জেন্টাইন অভিজ্ঞ কোচ মারিও গোমেজ। তার অধীনে কিংস জিতেছে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ কাপ। আবার ফেডারেশন কাপে ফর্টিস এফসির সঙ্গে ড্র করে দলটি। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম ম্যাচে পিডব্লিউডির বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
তবে সোমবার লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে সেই ফর্টিসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে লিগের প্রথম জয় তুলে নেয় ফেডারেশন কাপের ৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা। নতুন কোচ মারিও গোমেজকে নিয়ে ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসানের মন্তব্য,
‘আসলে একটা কোচকে মূল্যায়ন করতে গেলে আরও কিছু সময় প্রয়োজন। অলওভার যেটা দেখেছি বা পেয়েছি, আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে দলের সঙ্গে সে মিশে যেতে পেরেছে। দলের সব কিছু সে রপ্ত করতে পেরেছে। সে সামনের দিকে আরও ভালো কিছু দিতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’
সেই ভালোটা যদি এএফসি মঞ্চে হয়, নতুন করে যদি লেখা হয় ইতিহাস, তবে তো কথাই নেই...
No posts available.
১৭ মার্চ ২০২৬, ৪:০১ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাস তিনেক। মেগা এই ইভেন্টকে সামনে রেখে চলতি মাসে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই দুই ম্যাচের জন্য গতকাল ২৬ সদস্যের ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি নেইমার জুনিয়রের।
বিশ্বকাপের আগে শেষ অ্যাসাইনমেন্টেও নেইমার দল না পাওয়ায় ব্রাজিল সমর্থকদের মনে তাই একটাই প্রশ্ন, দলের পোস্টার বয়ের বিশ্বকাপ কি তবে এখানেই শেষ?
ব্রাজিল দলে ফেরার জন্য নেইমারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে তাঁর শরীর। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি চোট এবং সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ দিনেরও বেশি মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
সবশেষ ২০২৩ এর অক্টোবরে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থেকে ফেরেন নেইমার। ২০২৪ সালের শেষদিকে আল হিলাল ছেড়ে সান্তোসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ফিটনেস নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছে। সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট এড়াতে নেইমারকে টানা ম্যাচ না খেলিয়ে বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হচ্ছে।
গত ১০ মার্চ মিরাসোল বনাম সান্তোসের ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন কোচ আনচেলত্তি। মূলত নেইমারের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স যাচাই করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচে নেইমার মাঠে নামেননি। কোচিং স্টাফরা সতর্কতামূলক বিশ্রাম হিসেবে দেখলেও ব্রাজিল কোচ এবং ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেননি।
গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তি এর আগে অনেকবারই বলেছেন, দলে সুযোগ পেতে শতভাগ ফিট থাকার কোন বিকল্প নেই। গতকাল দল ঘোষণায় নেইমারকে না রাখার কারণ হিসেবে আবারও সেটিই মনে করিয়ে দেন এই ইতালিয়ান কোচ, ‘নেইমার পুরোপুরি ফিট নয় বলেই তাকে ডাকা হয়নি।‘
দলে জায়গা না পেয়ে নিজের মনের কষ্ট চেপে রাখতে পারেননি নেইমার। আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের পর জনসমক্ষে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন এই তারকা। ব্রাজিল কোচ অবশ্য জানিয়েছেন নেইমারের সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
তবে নেইমারের ফেরাটা সহজ হবে না। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা হয়নি এই তারকার। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই কোচ আনচেলত্তির মন জয় করতে হবে নেইমারকে।
১৯ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। এর মাঝে নেইমারের হাতে সময় আছে দুই মাস। এই সময়ে সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান লিগ, কোপা দো ব্রাজিল এবং কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে অন্তত ১৬টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ফ্লাইট ধরতে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হবে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা এই তারকাকে।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেত্তি। কিন্তু সে দলে জায়গা হয়নি তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের। ভক্ত-সমর্থকেরা পুড়ছেন ক্ষোভে। আলোচনা-সমালোচনাও হচ্ছে ব্যাপক।
এর মধ্যেই মুখ খুললেন থিয়াগো সিলভা। তাঁর মতে, নেইমার ফর্মে থাকলে তাঁকে দলে না নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। টিএনটি স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকারে সিলভা বলেন, 'আমার কাছে এটা নিয়ে কোনো বিতর্কই নেই। নেইমার যদি ভালো খেলতে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই বিশ্বকাপে নিতে হবে।'
৩৯ বছর বয়সী সিলভা মনে করেন, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেইমারকে দলে রাখা বাধ্যতামূলক। এই ডিফেন্ডার বলেন,
'এখন যেভাবে সে খেলছে, তাকে দলে নিতেই হবে। এ নিয়ে কোনো তর্ক নেই।'
নেইমারের মাঠের প্রভাবও তুলে ধরেন সিলভা। তাঁর ভাষায়, 'নেইমার যখন মাঠে থাকে, প্রতিপক্ষ দলের জন্য সে আগেই একটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।'
চোট ও ফর্মহীনতার ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ব্রাজিল দলে নেইমারের উপস্থিতি অনিয়মিত। তবে সাম্প্রতিক নজরকাড়া পারফরম্যান্সে তিনি আবারও আলোচনায় ফিরেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সিলভার এই মন্তব্য ব্রাজিল দলে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য কঠিন চাপও।
বিশ্বকাপের আগে দল চূড়ান্ত করার সময় ঘনিয়ে আসায়, নেইমারকে ঘিরে এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

ব্রাজিল জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো নেইমার জুনিয়রের। সান্তোসের হয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দিলেও কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার। নিজেকে প্রমাণের মরিয়া চেষ্টার সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
দল ঘোষণার পর সাও পাওলোতে একটি ম্যাচ চলাকালীন মাইক্রোফোন হাতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন নেইমার। তিনি বলেন,
‘আমি আজ কথা বলব, কারণ আমি আর চুপ থাকতে পারছি না।এটা স্বাভাবিক যে, দলে সুযোগ না হওয়ায় আমি হতাশ ও ব্যথিত।‘
তবে বাদ পড়লেও ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন যে এখনও ফিকে হয়ে যায়নি, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নেইমার।
‘লক্ষ্য এখনো অটুট আছে। প্রতিদিনের অনুশীলন আর প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোচ্ছি। আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাবই। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা এখনো বাকি।‘
মাঠে নামার জন্য নেইমার ব্যাকুল হলেও কোচ আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র নামের ভারে কাউকে দলে নেবেন না তিনি। সান্তোসের হয়ে গত দুই ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করলেও কোচের চোখে নেইমার এখনো পুরোপুরি ফিট নন।
সংবাদ সম্মেলনে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন,
‘আমি কেন তাকে ডাকিনি? কারণ সে এখনো ১০০ শতাংশ ফিট নয়। আমার এমন খেলোয়াড় প্রয়োজন যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ সক্ষম। নেইমারকে খেলা চালিয়ে যেতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে সে এখন বিশ্বমঞ্চে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।‘
২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে নেইমারের হাতে সময় আছে মাত্র দুই মাস। আগামী ১৯ মে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। এই সময়ে সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান লিগ, কোপা দো ব্রাজিল এবং কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে অন্তত ১৬টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন নেইমার। এই তারকার জন্য প্রতিটি ম্যাচই হবে জাতীয় দলে ফেরার একেকটি ‘অডিশন’।

ফুটবলকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার সার্জিও রোমেরো। সোমবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ তাঁর অবসরের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
গত বছর আর্জেন্টিনোস জুনিয়রসের হয়ে কোপা আর্জেন্টিনায় নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী রোমেরো। শৈশবের রেসিং ক্লাবে ব্যাক-আপ গোলকিপার হিসেবে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে রোমেরোর উত্থান। দিয়াগো ম্যারাডোনার হাত ধরে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া এই গোলকিপার আর্জেন্টিনার হয়ে রেকর্ড ৯৬টি ম্যাচ খেলেছেন।
আরও পড়ুন
| যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক ইরান |
|
রোমেরোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় লিওনেল মেসিদের সেই দলের। ২০১৮ বিশ্বকাপেও রোমেরোর খেলার কথা থাকলেও চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ছিটকে যান তিনি।
২০০৬ সালে রেসিংয়ের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা রোমেরো ইউরোপে পাড়ি জমান ডাচ ক্লাব এজেড আলকমারের হয়ে, যেখানে ২০০৯ সালে লিগ শিরোপা জেতেন। তারপর সাম্পদোরিয়া ও মোনাকো হয়ে ২০১৫ সালে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে মূলত ব্যাক-আপ গোলকিপার হলেও ২০১৭ সালে রেড ডেভিলদের ইউরোপা লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে সব মিলিয়ে ৩৭১টি ম্যাচ খেলেছেন রোমেরো।
ফুটবল থেকে অবসর নিলেও মাঠ ছাড়ছেন না রোমেরো। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ফেদে ক্রিস্তোফানেল্লির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই তাকে ডাগআউটে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিজেদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোয় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ইরান। এ নিয়ে ইতিমধ্যে ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে আগ্রহী নয়। মঙ্গলবার মেক্সিকোয় অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাদের। 'যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আমাদের দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন বলে জানান, তাহলে আমরা সেখানে ভ্রমণ করব না,' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় আয়োজনের বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন
| চার গোলকিপারকেই হারিয়ে চরম সংকটে বায়ার্ন |
|
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউ জিল্যান্ড, মিশর ও বেলজিয়াম। সূচি অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা ইরানের। একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও খেলার কথা রয়েছে তাদের। আর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে হওয়ার কথা।
সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানের বেস ক্যাম্প হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে অ্যারিজোনার টাকসন শহর।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে, তবে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়াই ভালো। তার এ মন্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। দেশটি স্পষ্ট করে দেয়, কোনোভাবেই তাদের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য আশ্বস্ত করেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অবস্থান কিছুটা অনিশ্চয়তার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়েছে এখন ক্রীড়াঙ্গনেও।