
নবাগত টিনএজার টম এডোজির ৯৪তম মিনিটের সমতাসূচক গোলে আর্সেনালের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করল উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স। দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও জিততে না পারায় প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে বড় সুযোগ নষ্ট করল মিকেল আরতেতার আর্সেনাল।
২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে এখনও তালিকার শীর্ষে আর্সেনাল। এক ম্যাচ বেশি খেলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাদের ব্যবধান পাঁচ পয়েন্ট।
অন্য দিকে ২৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে ওলভস। ডার্বি কাউন্টির রেকর্ড সর্বনিম্ন ১১ পয়েন্টের চেয়ে এখনও এক পয়েন্ট নিচে তারা।
বুধবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে কনকনে ঠান্ডায় ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের। শুরুতেই নতুন পাঁচ বছরের চুক্তি উদ্যাপন করলেন বুকায়ো সাকা, ক্লাবের হয়ে ১৬ ম্যাচ পর গোল পেলেন তিনি। ম্যাচের চার মিনিটেই ডেকলান রাইসের দৃষ্টিনন্দন লফটেড পাসে কাছ থেকে হেডে জাল কাঁপান সাকা।
আরও পড়ুন
| প্রথমার্ধেই ৪ গোলে গর্ডনের রেকর্ড, নিউক্যাসলের বিশাল জয় |
|
বিরতির পর ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। গ্যাব্রিয়েলের পাসে দৌড়ে এসে জোসে সাকোর ওপর দিয়ে বল তুলে দেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও, সেখানেই থামেনি ওলভস। রক্ষণে জায়গা পেয়ে বক্সের কিনারা থেকে দারুণ কার্লিং শটে প্রথম প্রিমিয়ার লিগ গোল করেন হুগো বুয়েনো।
যোগ করা সময়ে হয় নাটক। ডেভিড রায়া ক্রস ঠিকমতো ধরতে না পারলে ফিরতে বলে জোরালো শট লক্ষ্যে রাখেন ১৯ বছর বয়সী এডোজি। শটটি ক্যালাফিওরির গায়ে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে জালে ঢোকে। শুরুতে আত্মঘাতী গোল ধরা হলেও পরে গোলটি এডোজির নামে লেখা হয়।
ম্যাচ শেষে হতাশ আরতেতা বলেন, ‘ফলাফল ও ম্যাচের শেষটা- দুটো নিয়ে খুব হতাশ। দায় আমাদের। দ্বিতীয়ার্ধে এই লিগে জিততে যে মান দরকার, তার ধারেকাছেও ছিলাম না। একের পর এক মুহূর্ত হাতছাড়া হয়েছে।’
সাকাও সুর মিলিয়েছেন হতাশায়, ‘প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলায় বড় পার্থক্য ছিল। খেলার মান নেমে যাওয়ার শাস্তিই পেয়েছি। নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। উন্নতির চাবি আমাদের হাতেই।’
এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের শেষ আট ম্যাচে জয় মাত্র তিনটি- শিরোপা দৌড়ে চাপটা তাই আরও বাড়ল।
No posts available.
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২১ পিএম
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২:১৪ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। তবে আর্নে স্লটের দল এবার কিছুটা কঠিন সমীকরণের সামনে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির কাছে ফার্স্ট লেগ ২-০ গোলে পিছিয়ে অলরেডরা।
প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) বিপক্ষে অবশ্য ফিরতি লেগে অ্যানফিল্ডে। তাতে স্বপ্ন বুনছেন অলরেড ভক্তরা। কারণ, অ্যানফিল্ডে যে কখন কখনও রূপকথার গল্প লেখা হয়, তা সবার জানা। পিএসজির বিপক্ষে পিছিয়ে থাকার পরও স্বপ্ন দেখতে ভুলছেন না ডমিনিক সোবোসলাই।
সেমিফাইনালের টিকিট কাটা—কাজটা পাহাড় ডিঙানোর মতো কঠিন হলেও আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটার ম্যাচের আগে হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, দলের জন্য প্রয়োজনে মরে যেতেও প্রস্তুত তিনি।
সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে ঘরের মাঠে লিভারপুলকে পাড়ি দিতে হবে এক বিশাল পর্বত, জিততে হবে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে। অন্যদিকে, প্রথম লেগের ২-০ ব্যবধানের জয় পিএসজিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। আজ তারা জিতলে বা ড্র করলে তো বটেই, এমনকি ১ গোলের ব্যবধানে হারলেও শেষ চারে জায়গা করে নেবে।
গত মৌসুমেও শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল, যেখানে স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে জিতে লিভারপুলকে বিদায় করে পরের রাউন্ডে উঠেছিল ফরাসি জায়ান্টরা।
লিভারপুলের সুখ স্মৃতি যে নেই সেটা কিন্তু নয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল লিভারপুল। পরের অ্যানফিল্ডে রূপকথার গল্প লিখে ৪-০ ব্যবধানে দ্বিতীয় লেগ জিতে নিশ্চিত করে ফাইনাল। সেই আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুটও পরেছিল লিভারপুল।
পিএসজির বিপক্ষে তেমনই একটা কামব্যাক চান সোবোসলাই। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন,
‘আমি মাঠে মরতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমাদের সব খেলোয়াড়ই এমনটা ভাবছে। আমরা এটা ভীষণভাবে চাই। প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের সবটুকু নিংড়ে দেব। লড়াই যদি ৯০ মিনিটের বদলে ১২০ বা ১২৫ মিনিটেও গড়ায়, আমরা হাল ছেড়ে দেব না।’
মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করা সোবোসলাই প্রতিপক্ষের শক্তিটাও জানেন। আবার এটাও বলেছেন,
‘ওদের দলে সুপারস্টার আছে। তবে মেসি, এমবাপ্পে বা নেইমারের সময়ের মতো নয়। এখন ওদের খেলার ধরন আলাদা। সিস্টেম আলাদা। আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি। ২-০ লিড নিয়ে অ্যানফিল্ডে আসছে। তাই ম্যাচটা কঠিন হবেই। তবে আমরা প্রস্তুত।’

তরুণ প্রজন্মের কাছে ফুটবলকে আরও
আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ
বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন সিরি’আর ক্লাব নাপোলির প্রেসিডেন্ট আউরেলিও দে লরেন্তিস। ভিডিও
গেম দেখে বড় হওয়া
বর্তমান প্রজন্মের কাছে ৯০ মিনিটের
বর্তমান ফুটবল ফরম্যাটটি ‘বড্ড ধীরগতির’। তাই
ম্যাচের সময় কমিয়ে আনা
এবং ফুটবল থেকে হলুদ ও
লাল কার্ড পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে মত
দিয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী এই
ফুটবল কুশলী।
নিজের বাসভবন থেকে ‘দ্য
অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দে লরেন্তিস সতর্ক করে বলেন, ফুটবল যদি আধুনিক সময়ের
মানুষের মনোযোগের পরিধির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, তবে এটি ভবিষ্যতে সমর্থক হারানোর
ঝুঁকিতে পড়বে। নাপোলি মালিকের বিশ্বাস, প্লে-স্টেশনের মতো ডিজিটাল বিনোদনের সঙ্গে পাল্লা
দিতে হলে ফুটবলকে আরও দর্শনীয় এবং দ্রুতগতির হতে হবে। তাঁর ভাবনার মধ্যে রয়েছে ম্যাচের
সময় কমিয়ে ৫০ মিনিটের ‘ইফেক্টিভ প্লেয়িং টাইম’ করা এবং গোল করার সুযোগ বাড়াতে অফসাইড
নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা।
সময়ের পরিবর্তনের পাশাপাশি দে লরেন্তিস প্রথাগত
হলুদ ও লাল কার্ড
তুলে দিয়ে ‘সিন-বিন’ (সাময়িকভাবে
মাঠের বাইরে রাখা) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করেছেন। তাঁর মতে, এর
ফলে ফাউল করার তাৎক্ষণিক
শাস্তি আরও কার্যকর হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, এই নিয়ম চালু
হলে খেলোয়াড়রা ইচ্ছাকৃতভাবে 'ট্যাকটিক্যাল ফাউল' করে খেলার গতি
নষ্ট করতে পারবে না,
কারণ তখন মাঠেই তাদের
বড় শাস্তি ভোগ করতে হবে।
লরেন্তিস আরও যোগ করেন,
‘প্রথমত, আমি প্রতি অর্ধে
৪৫ মিনিটের পরিবর্তে ২৫ মিনিট খেলা
রাখব। তবে আপনি মাঠে
শুয়ে পড়ে অভিনেতাদের মতো
অভিনয় করতে পারবেন না! 'আহ্!'—এমনভাবে
চিৎকার করা যাবে না
যেন কতই না ব্যথা
পেয়েছেন। না—আপনাকে সঙ্গে
সঙ্গে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে! আমি আরও
যা করব—কখনও লাল
বা হলুদ কার্ড ব্যবহার
করব না। আমি বলব,
“তুমি (হলুদ কার্ডের অপরাধে)
পাঁচ মিনিটের জন্য বাইরে যাও!’
এবং ‘তুমি (লাল কার্ডের অপরাধে)
২০ মিনিটের জন্য বাইরে চলে
যাও!’
আউরেলিও দে লরেন্তিসের ক্লাব সিরি’ আতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে
রাখার চূড়ান্ত লড়াই করছে এখন। ৩২ ম্যাচে ৬৬
পয়েন্ট নিয়ে নাপোলি বর্তমানে
পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলানের চেয়ে
তারা ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে।
পয়েন্টন টেবিলে
ব্যবধান কমিয়ে আনার দিকে নজর
থাকলেও অস্থির এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
নাপোলি। ইতালিয়ান
জাতীয় দলের সঙ্গে কোচ
আন্তোনিও কন্তের নাম জড়িয়ে ক্রমাগত
গুঞ্জন ওঠায় এবং তাঁর
চুক্তির শেষ বছরে পদার্পণ
করায় ক্লাবে এক ধরনের অনিশ্চয়তা
তৈরি হয়েছে।

মাঠের লড়াইয়ের আগে শুরু হলো ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ মেট্রোপলিটানোতে হবে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের মহারণ। চ্যাম্পিয়নস লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বার্সেলোনার অনুশীলন সেশনে এক কৌতূহল উদ্দীপক দৃশ্য দেখা গেছে।
মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামের ঘাসের উচ্চতা নিয়ে ইউয়েফার ম্যাচ ডেলিগেটের কাছে অভিযোগ করেছেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে নিশ্চিত করেছে , তারা আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে কোচ তাঁর পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন এবং উয়েফা তাদের নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী সেটা শুনেছে। যদিও আতলেতিকো মাদ্রিদ মাঠের খারাপ অবস্থার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন
| অ্যানফিল্ডে প্যারিস-বিপ্লব নাকি প্রতিশোধ অলরেডদের |
|
আতলেতিকোর দাবি, মেট্রোপলিটানোর পিচ এখন আগের চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে। এমনকি এক মাস আগে যখন কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বার্সা এখানে এসেছিল, তার চেয়েও এখন ঘাস অনেক উন্নত বলছে ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ। সেই ম্যাচে প্রথম গোলের সময় বার্সা গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়ার সামনে অদ্ভুতভাবে বল লাফিয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ওই ম্যাচে বার্সাকে বিধ্বস্ত করে ৪-০ গোলের বড় জয় পায় দিয়েগো সিমিওনের ক্লাব।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মেট্রোপলিটানোতে স্টেডিয়ামের ঘাস কতটা লম্বা তা আঙুল দিয়ে নির্দেশ করে উয়েফা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছেন ফ্লিক। এই দৃশ্যটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জল্পনা শুরু হয় যে, ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের আগে মাঠের অবস্থা নিয়ে বার্সেলোনা মোটেও সন্তুষ্ট নয়।
চলতি মৌসুমে এ নিয়ে মেট্রোপলিটানোতে তৃতীয়বারের মতো সফরে বার্সা। প্রথমবার তারা কোপা ডেল রে-তে ৪-০ গোলে হেরেছিল, আর দ্বিতীয়বার লেভানডফস্কির শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। গত মৌসুমেও কাতালান এখানে দুটি ম্যাচই জিতেছিল (লা লিগায় ৪-২ এবং কাপে ১-০)। কোচ ফ্লিক ভালো করেই জানেন, প্রথম লেগের মতো এই ফিরতি লেগের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে সূক্ষ্ম সব খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর। প্রথম লেগে পাউ কুবার্সির লাল কার্ড এবং পুবিলের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের পেনাল্টি না পাওয়া—সবই আতলেতিকোর পক্ষে গিয়েছিল।
সব মিলিয়ে এবার আতলেতিকো সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং সাফল্যের জন্য সবরকম কৌশল কাজে লাগাতে মরিয়া। আর এই ‘পিচ বিতর্ক’ নিশ্চিতভাবেই সেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েরই অংশ।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-০ ব্যবধানে জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে পিএসজি। স্কোরলাইন যতটা দেখাচ্ছে, লিভারপুলের অবস্থা তার চেয়েও শোচনীয় ছিল। পার্ক দেস প্রিন্সেসে পিএসজির দখলে বল ছিল ৭০ শতাংশের বেশি। রেডদের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি শট নিয়েছিলেন উসমান দেম্বেলেরা।
সুবিধাজন অবস্থানে থাকলেও প্যারিস সেন্ট জার্মেইন কোচ লুইস এনরিকে মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে ফিরতি লেগের আগে বেশ সতর্ক। এই ম্যাচটিকে একটি ‘ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। গত বছরও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে এই দুই দলের লড়াই অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে পিএসজি।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এই কোচ বলেন, ‘এটি ছিল মাত্র প্রথম ম্যাচ। আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচটি এখনও খেলতে হবে।
এনরিকে বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা সব সময়ই কঠিন। লিভারপুলের মতো দলের বিপক্ষে খেলাটা সহজ নয়। ঠিক আছে তারা পিছিয়ে, কিন্তু ম্যাচটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। আমরা জানি লিভারপুলের বিপক্ষে এমন কিছু মুহূর্ত আসবে যখন আমরা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হব।’
দুই লেগের মাঝখানের সময়ে প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের বিপক্ষে ২-০ গোলের একটি স্বস্তির জয় পেয়েছে অলরেডরা। ম্যাচে রিও এনগুমোহা এবং মোহাম্মদ সালাহ দুজনেই দুর্দান্ত দুটি গোল করেন। তবে এই ম্যাচেও খুব একটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। নিজেদের মাঠে খেলেও তাদের বল দখল ছিল মাত্র ৫৩ শতাংশ। এমনকি রক্ষণভাগে রবার্টসন, ফন ডাইক, কোনাতে এবং ফ্রিম্পংদের মতো তারকা থাকা সত্ত্বেও তারা শট নেওয়ার দিক থেকে ১৮-১৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল।
দ্বিতীয় লেগ নিয়ে এনরিকে বলেন, ‘ম্যাচটি কঠিন হতে যাচ্ছে। আপনি যদি গত বছরের ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করেন, তবে দেখবেন ফলাফল এক না হলেও প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির বিচারে প্রথম ম্যাচটি ছিল অনেকটা একই রকম।’
গত বছর অ্যানফিল্ডে হওয়া সেই রুদ্ধশ্বাস দ্বিতীয় লেগের স্মৃতিচারণ করেন। উসমানে দেম্বেলের শুরুর দিকের গোলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফিরেছিল এবং এরপর ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়ালে দুই দলই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল।
এনরিকে আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় লেগটা একদম আলাদা ছিল। যখন তারা সারাক্ষণ চাপের (প্রেসিং) মধ্যে রাখে, তখন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের গোল করা প্রয়োজন, যার মানে তাদের ঝুঁকি নিতে হবে। এর ফলে মাঠে অনেক ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে। আমরা বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করি ঠিকই, তবে আমরা ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণেও (কাউন্টার-অ্যাটাক) বেশ দক্ষ। এটি আমাদের অন্যতম সেরা শক্তি।’

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ফিরতি লেগে মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে লিভারপুল ও পিএসজি। অ্যানফিল্ডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত একটায়। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে ঘরের মাঠে লিভারপুলকে পাড়ি দিতে হবে এক বিশাল পর্বত, জিততে হবে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে।
অন্যদিকে, প্রথম লেগের ২-০ ব্যবধানের জয় পিএসজিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। আজ তারা জিতলে বা ড্র করলে তো বটেই, এমনকি ১ গোলের ব্যবধানে হারলেও শেষ চারে জায়গা করে নেবে। গত মৌসুমেও শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল, যেখানে স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে জিতে লিভারপুলকে বিদায় করে পরের রাউন্ডে উঠেছিল ফরাসি জায়ান্টরা।
মহারণের ম্যাচে লিভারপুল শিবিরে বড় দুশ্চিন্তা ইনজুরি। নিয়মিত গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার, এন্দো ও ব্র্যাডলির সাথে নতুন করে যোগ দিয়েছেন কার্টিস জোনস। তবে কোচ স্লট আজ তার প্রিয় ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ফিরে যেতে পারেন। সালাহ ও এনগুমোহাকে দুই উইংয়ে খেলিয়ে পিএসজির শক্তিশালী ফুল-ব্যাক হাকিমি ও নুনো মেন্ডেসকে চাপে রাখাই হবে তার মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন
| অ্যানফিল্ডে প্যারিস-বিপ্লব নাকি প্রতিশোধ অলরেডদের |
|
লুইস এনরিকে তার চিরাচরিত ৪-৩-৩ ফরমেশনেই খেলাবেন দলকে। পিএসজি শিবিরে স্বস্তির খবর ব্র্যাডলি বারকোলার প্রত্যাবর্তন। লুইস এনরিকের দল গত সপ্তাহে লঁসের বিপক্ষে ম্যাচ স্থগিত হওয়ায় বাড়তি বিশ্রাম পেয়েছে। দেম্বেলে, কাভারাস্কেইয়া ও দুয়েদের গতিশীল আক্রমণভাগ আজ লিভারপুলের রক্ষণে ফাটল ধরাতে প্রস্তুত।
ইতিহাস বলছে পিএসজি সুবিধাজনক অবস্থানে, কিন্তু ফুটবল বিশ্ব জানে অ্যানফিল্ডে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। আজ কি সালাহ-উইর্টজরা নতুন কোনো রূপকথা লিখবেন, নাকি লুইস এনরিকের দলই শেষ হাসি হাসবে? উত্তর মিলবে আজ রাতেই।
লিভারপুলের সম্ভাব্য শুরুর একাদশ (৪-২-৩-১): গিওর্গি মামারদাশভিলি, জেরেমি ফ্রিম্পং, ইব্রাহিমা কোনাতে, ভার্জিল ফন ডাইক, মিলোস কেরকেজ, রায়ান গ্রাভেনবার্চ, ডোমিনিক সোবোসলাই, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, রিও এনগুমোহা, মোহাম্মদ সালাহ, হুগো একিটিকে।
পিএসজির সম্ভাব্য শুরুর একাদশ (৪-৩-৩): মাতভেই সাফোনভ, নুনো মেন্ডেস, উইলিয়ান পাচো, মার্কিনহোস, আশরাফ হাকিমি, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ওয়ারেন জাইরে-এমেরি, দেজিয়ের দুয়ে, উসমানে দেম্বেলে, খিচা কাভারাস্কেইয়া।