
নিরাপত্তার কারণে নিজেদের ঘরের মাঠে খেলার বাস্তবতা নেই নিকট ভবিষ্যতে। লম্বা সময়ের জন্য তাই দেশের বাইরে হোম ভেন্যু বেছে নিল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করেছে আবু ধাবি ক্রিকেট অ্যান্ড স্পোর্টস হাবের (এডিসিএসএইচ) সাথে। ফলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের হবে দেশটির সব ধরনের খেলা।
চুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তান এ এবং জাতীয় বয়সভিত্তিক ম্যাচের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হোস্ট হিসেবে রাখবে এবং অনুশীলন সুযোগ-সুবিধা পাবে আবুধাবিতে। আফগানিস্তান জাতীয় দলের দ্বিপাক্ষিক সব সিরিজও হবে এখানেই।
এসিবি, এডিসিএসএইচ, এবং আবুধাবি স্পোর্টস কাউন্সিলের (এডিএসসি) এর মধ্যে আলোচনার পরে এই ঘোষণাটি এসেছে, যেখানে তিন পক্ষ মিলে ‘বিশ্ব মঞ্চে আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের জন্য ক্রিকেটের সুযোগগুলো সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি’ নিশ্চিত করেছে।’
আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনো দলই সেখানে গিয়ে খেলতে রাজি হয়নি। ফলে লম্বা সময় ধরে আফগানিস্তান জাতীয় দল তাদের হোম ভেন্যু হিসেবে ভারতে ব্যবহার করেছে- দেরাদুন, লখনউ এবং গ্রেটার নইডাকে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও খেলেছে দ্বিপাক্ষিক হোম সিরিজ।
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ১০:১৯ এম

কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগোর মতো তারকাদের অনুপস্থিতিও দমাতে পারল না রিয়াল মাদ্রিদকে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথমার্ধের ফেদেরিকো ভালভার্দের বিধ্বংসী হ্যাটট্রিকে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচের শুরুটা ম্যানচেস্টার সিটি মন্দ করেনি, কিন্তু ২০ মিনিটের মাথায় গোলকিপার থিবো কোর্তোয়ার লম্বা পাস সিটির রক্ষণভাগের নিকো ও’রাইলি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পান ফেদেরিকো ভালভার্দে। গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে কাটিয়ে বল জালে জড়ান এই উরুগুয়েন মিডফিল্ডার।
সাত মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভালভার্দে। ডি-বক্সের ভেতর নিচু শটে দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করেন তিনি। তবে সবচেয়ে দর্শনীয় ছিল তাঁর হ্যাটট্রিকে পূর্ণ করা গোলটি। ৪২ মিনিটে মার্ক গেহির মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার ভলিতে বল জালে পাঠান রিয়াল অধিনায়ক।
ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ হতে পারত। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বক্সের ভেতর দোন্নারুম্মা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। তবে ভিনিসিয়ুসের দুর্বল শটটি বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন ইতালিয়ান গোলকিপার।
সিটির হয়ে গোল শোধের চেষ্টা করেও কোর্তোয়ার কাছে বারবার বাধা পেয়েছেন ও’রাইলিরা। বিশেষ করে থিয়াগোর পা থেকে ও’রাইলি বল কেড়ে নিয়ে শট করলেও কোর্তোয়া অবিশ্বাস্যভাবে পা দিয়ে প্রতিহত করেন।
মঙ্গলবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে যদি সিটিকে টিকে থাকতে হয়, তবে গার্দিওলাকে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে হবে। তবে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, বার্নাব্যুর রাতটি আবারও তার সাক্ষী হয়ে থাকল।
লেভারকুসেনে ড্র নিয়ে ফিরল আর্সেনাল
এর আগে রাতের আরেক ম্যাচে বায়ার লেভারকুসেনের মাঠ বে এরিনাতে ১-১ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে গানারদের হার বাঁচান সাবেক লেভারকুসেন তারকা কাই হাভার্টজ। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রবার্ট আনড্রিখের গোলে লিড নিয়েছিল জার্মান ক্লাবটি।
প্রথম লেগের ড্রয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকল আর্সেনাল। শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে এমিরেটস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার লেভারকুসেনকে আতিথ্য দেবে মিকেল আর্তেতার দল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান। বুধবার ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
দোনিয়ামালি বলেন,
‘এই দুর্নীতিবাজ সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারব না।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ। বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে এই বিষয়টি সামনে এনেছে দোনিয়ামালি।
তিনি বলেন,
“গত ৮–৯ মাসে আমাদের ওপর দুইটি যুদ্ধ চাপানো হয়েছে এবং হাজার হাজার নাগরিক নিহত হয়েছে। এই অবস্থায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। যদি হোস্ট দেশ অন্য কোনো দেশ হতো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিতভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাত এবং ভেন্যুটি পরিবর্তন করত।”
একইদিন ফিফা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাতের মধ্যেও ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই ইরানের। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আরও জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প ইরান দলের অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন।
ইনফান্তিনোর আশ্বস্ত করার পরই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ। তার মন্তব্য ছিল,
'একদিকে আমাদের শিশুদের হত্যা করে ১৬০ জনকে শহীদ করবেন, আমাদের মেয়েদের অপহরণ করবেন। এ পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হতে পারি?’
মেহেদী তাজের সেই মন্তব্যের পরই ইরান রাষ্ট্রীয়ভাবে জানিয়ে দেয় ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না দেশটির ফুটবলাররা।
সূচি
অনুযায়ী, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে ইরান। যেখানে
তাদের সঙ্গী বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড।
ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে—দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে
ও একটি সিয়াটলে। ইরান
ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দলই যদি
নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে আগামী
৩ জুলাই শেষ ৩২-এর
লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে হওয়ার কথা
তাদের। তার আগেই বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় ইরান।
ইরানের অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপে কপাল খুলে যেতে পারে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। র্যাঙ্কিং বিবেচনায় এই দুই দেশের যে কোনো একদল খেলবে ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের দু’টি প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন নেইমার। ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে সান্তোসের তারকা ফুটবলারকে প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখেন কার্লো আনচেলোত্তি। তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আগে নেইমারের চোটে পড়া তো অলিখিত নিয়ম। এবারও সেই নিয়মের বত্যয় ঘটেনি।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ ও ‘ইউওএল’ এ খবর জানিয়েছে মাংসপেশিতে আবারও চোট পেয়েছেন নেইমার। আজ মিরাসলের বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচে খেলতে পারেনি ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ন ছিল নেইমারের জন্য। কারণ সেলেসাওদের কোচ আনচেলোত্তি এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন যে সান্তোসের তারকাকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা যাবে কি না।
বিশেষ এই ম্যাচটিতে খেলতে না পারায় নেইমারের ওপর চটেছেন সমর্থকদের একটি অংশ। একের পর এক চোট এমনিতে নিজের ওপরই বিরক্ত পিএসজির ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা, এরমধ্যে সমালোচনা নেইমারের গায়ে অনেকটা কাঁটা গায়ে নুনের ছিটার মতোই লাগল।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আজ একটি ভিডিও পোস্ট করেন নেইমার। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি মিরাসোলের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার কারণে যে সমালোচনার শিকার হয়েছেন তা নিয়ে মতামত জানান। নেইমার বলেন, তিনি নিজের প্রতি সমালোচনা বুঝতে পারছেন না, তবে নিশ্চিত যে তিনি যা কিছু করবেন, তার সমালোচকরা তা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ করবেন।
নেইমার বলেন,
‘আমি যদি চোট নিয়ে খেলি, আমি দোষী। আমি যদি নিজের কথা ভাবি, আমি দোষী। আমি যদি নিজেকে সামলাই, আমি দোষী। আমি যদি ব্যথার মধ্যে খেলি, তাও আমিই খারাপ।’
নিজের জীবন নিয়ে নেইমার যেন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত। ভিডি বার্তায় নেইমারের কণ্ঠে ছিল রাগ, অভিমান,
‘আমি হওয়া সত্যিই কঠিন… সবাইকে সন্তুষ্ট করা খুব কঠিন।’
নেইমার সবশেষ ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর ধারাবাহিক চোটের কারণে আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। এই মৌসুমে সান্তোসের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলে ২টি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার।

ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইরানকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেন এই বলে যে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকলেও তা বিশ্বকাপে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
ফিফা প্রেসিডেন্ট আশার বাণী শুনালেও ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ।
১১ জুন থেকে শুরু বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যাচ রয়েছে প্রধান হোস্ট যুক্তরাষ্ট্রে। যেখানে গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচ রয়েছে। শঙ্কাটা দ্বিগুণ তাতে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে মিনাব শহরে একটি স্কুলে বোমা হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছে ইরান। এই হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিকে মেহদি বলেন, ‘আমেরিকার রাষ্ট্রপতি দুটি টুইটে আমাদের খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে লিখেছেন…এবং যদি অস্ট্রেলিয়া তা না করে, তাহলে তিনি সেটা করবেন। তিনি মিনাবে আমাদের শিশুদের হত্যা করে ১৬০ জনকে শহীদ করেছেন, আর এখন আমাদের মেয়েদের অপহরণ করছেন। এ পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হতে পারি?’
বিশ্বকাপের পাশাপাশি এএফসি উইমেন’স এশিয়া কাপে ইরানের পাঁচ নারী ফুটবলারের আশ্রয় গ্রহণ এবং জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন মেহেদি। তার মতে, ইরানের নারী ফুটবলারদের অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের আগে অপহরণ করা হয়েছে।
মেহেদি তাজ দাবি করেন, পাঁচ নারী খেলোয়াড়কে অপহরণ করা হয়েছে এবং দলকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের সময় বাধা দেওয়া হয়েছে, ‘খেলার পর দুঃখজনকভাবে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমরা যে সংবাদ পেয়েছি, সে অনুযায়ী, হোটেল থেকে এক বা দুজন খেলোয়াড়কে বের করে নিয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে আসা ইরান নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, আশ্রয় চাওয়া এক সদস্য তার সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল ইরানের নারী ফুটবল দল। এর ঠিক আগে একজন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এর আগে আরও পাঁচজন খেলোয়াড় একইভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গেয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন ইরানের ৫ ফুটবলার। তাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবামাধ্যমে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন তারা। দেশে ফিরলে নিপীড়নের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন ইরানের ঐ পাঁচ খেলোয়াড়।
আরও পড়ুন
| ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর বৈঠক, ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সুখবর |
|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সিডনি বিমানবন্দরে প্রতিটি খেলোয়াড়কে দল থেকে আলাদা করে ব্যক্তিগতভাবে ভাবার সময় দেওয়া হয়েছিল। অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ফুটবলারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব ছিল।
বার্ক পার্লামেন্টে বলেন, ওই সদস্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করায় বাকি সদস্যদের অবস্থান জানাজানি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশ্রয়প্রার্থী বাকি সদস্যদের সেফ হাউস থেকে সরিয়ে অন্য গোপন স্থানে নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এবং আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরান নারী ফুটবল দলের অবশিষ্ট সদস্যরা আজ সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। ইরানের আকাশসীমা বর্তমানে বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে তারা তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া সাতজনের ভবিষ্যৎ এখন অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।