
এক যুগের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবল দেখেছে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আধিপত্য। দুজনের প্রখর আলোয়, সমসাময়িক তারকারা অনেক সময়ই যেন নিভে যাওয়া প্রদীপ! দুই মহাতারকার উপস্থিতিতে একের পর এক রেকর্ড গড়লেও, অনেক সময় আড়ালেই থেকে গেছেন আরেকজন—রবার্ট লেভানদোভস্কি।
পোলিশ এই স্ট্রাইকারও ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের একজন। জিতেছেন লিগ শিরোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ট্রেবল—তবুও তাঁর নাম প্রায়ই ম্লান হয়ে যায় মেসি-রোনালদোর ছায়ায়। ঠিক যেমনটা ঘটেছে টেনিসে নোভাক জোকোভিচের সঙ্গে। রজার ফেদেরার আর রাফায়েল নাদালের বিপুল জনপ্রিয়তার মাঝে থেকেও সাফল্যের দিক থেকে সবার ওপরে উঠে এসেছেন সার্বিয়ান তারকা।
লেভানদোভস্কি ও জোকোভিচ দুজনও আবার বন্ধুও। শুধু বন্ধু নন, দুজনের মধ্যে মিল রয়েছে একাধিক বিষয়ে। তারা নিজেদের খেলায় দুই মহাতারকার পাশে থেকে মঞ্চ ভাগ করেছেন, আবার বয়স ৩৭ ও ৩৮ হয়েও এখনো সর্বোচ্চ স্তরে খেলে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষক ও ভক্তরা মনে করেন, লেভানদোভস্কি ও জোকোভিচ যদি অন্য কোনো যুগে খেলতেন তবে আরও বেশি সাফল্য পেতেন। তবে লেভানদোভস্কি বলেন, তিনি আর জোকোভিচ দুজনেই বিষয়টি ‘ভিন্নভাবে দেখেন’।
সম্প্রতি লেভানদোভস্কি এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
আমরা (জোকোভিচ) বন্ধু, মাঝে মাঝে দেখা হয়। সে খুবই মজার মানুষ এবং আমরা যোগাযোগ রাখি। এখনো বয়সে এতটা এগিয়ে গিয়েও জোকোভিচ শীর্ষ পর্যায়ে খেলছে, আর সেখানে পৌঁছাতে ও থাকতে সে অবিশ্বাস্য রকম পরিশ্রম করে।
মেসি-রোনালদোর সঙ্গে একই যুগে না খেললে, আরও বেশি কিছু অর্জন করা যেত বললেন লেভানদোভস্কি,
আমি রোনালদো আর মেসির সময়ে খেলেছি। সব সময়ই বলা যায়, গত ১৫ বছরে তারা না থাকলে হয়তো আমি আরও বেশি জিততাম। আমি বিষয়টা অন্যভাবে দেখি, আর আমার মনে হয় জোকোভিচও একইভাবে দেখে। আমার ফুটবলজীবন তাদের সঙ্গে কাটানো মানে হলো—আমি আসলে আরও বেশি অর্জন করেছি।
একটি পুরস্কার ছিল যেটি লেভানদোভস্কি রোনালদো ও মেসিকে পেছনে ফেলে জিততে পারতেন—২০২০ সালের ব্যালন ডি’অর। সে মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখকে ট্রেবল জেতাতে (চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাসহ) তিনি করেছিলেন ৫৫ গোল।
কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সেই বছর ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি। ফলে তিনি বঞ্চিত হন এমন একটি পুরস্কার থেকে, যা অনেকের মতে তার হাতেই উঠতে পারত। সে প্রসঙ্গে পোলিশ স্ট্রাইকার বলেন, ‘ব্যালন ডি’অর ছাড়া জীবনে সব জিতেছি। আমি বিশ্বাস করি, এটি জিততে পারতাম, কিন্তু আমি সেটা পরিবর্তন করতে পারি না। এই ট্রফি থাকলে আমি আলাদা ধরনের ফুটবলার বা মানুষ হতাম—এমন কোনো অনুভূতি আমার নেই।’
ফুটবলে রাজনীতি আছে সে ব্যাপারেও কথা বললেন লেভানদোভস্কি,
ফুটবলের চারপাশে অনেক কিছু আছে, কখনো কখনো রাজনীতিও থাকে—আমি বুঝি কীভাবে কাজ করে। আমি বলব না- না, আমি আর চাই না। আমি এমন মানুষ নই। কিন্তু আমি এটার স্বপ্নও দেখি না। এটা নয় যে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আমি ঘুমোতে পারি না।
গতকাল বার্সেলোনা জার্সিতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বদলি নেমে জোড়া গোল করেছেন লেভানদোভস্কি।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম

প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ সালাহ। অ্যানফিল্ডের ক্লাবের পক্ষ থেকে মিশরীয় ফরোয়ার্ড নিয়ে স্বস্তির খবরই বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই মাঠে ফিরবেন সালাহ।
শনিবার ক্রিস্টাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে সালাহ যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন অনেকের মনেই শঙ্কা জেগেছিল—লিভারপুলের জার্সিতে হয়তো শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন তিনি। গত মাসেই মিশরীয় যুবরাজ ঘোষণা দিয়েছিলেন, অ্যানফিল্ডে নয় বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে এই গ্রীষ্মেই তিনি ক্লাব ছাড়বেন।
বুধবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সালাহর পেশির চোট গুরুতর নয়। তারা আশা করছে, ক্লাব ছাড়ার আগে অন্তত একবার লাল জার্সিতে তাকে আবারও মাঠে দেখা যাবে।
আগামী রবিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে সালাহর ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে নতুন আপডেট অনুযায়ী, ৯ মে চেলসির বিপক্ষে হোম ম্যাচ কিংবা ১৭ মে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে তাকে আবারও দেখা যেতে পারে। আর মে মাসের ২৪ তারিখ ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিভারপুলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলার সুযোগ থাকছে এই কিংবদন্তির।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়া বার্সেলোনার হাতে অবশিষ্ট লা লিগা। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্পেনের সর্বোচ্চ সম্মানজনক লিগের শিরোপা জিততে চলেছে কাতালানরা। দ্বিতীয়স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে ক্যাম্প ন্যুর ক্লাব। এরইমধ্যে বুধবার বেশ কয়েকটি সুখবর পেল বার্সা ফ্যানরা।
মৌসুমের শেষ পাঁচটি লিগ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মার্ক বার্নাল ও সেন্টার-ব্যাক আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন।
হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিল লেফট উইঙ্গার রাফিনিয়া। বার্নলে ছিলেন না অ্যাঙ্কেল চোটের কারণে। আর ক্রিস্টেনসেনের হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল।
জানা গেছে, লা লিগায় শনিবার ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচের পাওয়া যেতে পারে রাফিনিয়া ও বার্নালকে। ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তাদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। আগামী ১০ মে ক্যাম্প ন্যু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।

২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। ‘ফ্রি জোন’ বা কার্ড মুছে ফেলার মতো মানবিক ধাপের পাশাপাশি কিছু ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে ফিফা। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়কালে মুখ ঢেকে কথা বললে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের শাস্তি রেখেছে সংস্থাটি। এছাড়াও রেফারির সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ মাঠ ছাড়লে তাকেও পড়তে হবে লাল কার্ডের খড়গ।
গত মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) একটি বিশেষ সভায় প্রস্তাবিত এই দুটি সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
আইএফএবি জানিয়েছে, নিয়ম দুটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। তবে ফিফা নিশ্চিত করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপেই এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হবে।
এই দুই সিদ্ধান্তের মূলে বড় দুটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। যার একটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে। অন্যটি চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের ম্যাচে। আফকনের ফাইনালে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের জেরে মাঠ ছাড়েন সেনেগালের ফুটবলাররা। পরবর্তীতে ফল পর্যন্ত পাল্টে যায়। মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার সিদ্ধান্তক্রমে নতুন করে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
মাঠে ফুটবলারদের মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি আলোচনায় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকা উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। সে ঘটনায় ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, তিনি ফুটবলে এমন একটি নিয়ম চালু করতে চেয়েছেন, যার ‘প্রতিরোধমূলক প্রভাব’ থাকবে। সে লক্ষ্যেই সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টিতে সমর্থন দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলেন এবং সেটির ফল বর্ণবাদী হয়, তবে তাঁকে অবশ্যই মাঠ থেকে বের করে দিতে হবে।’

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঘুষি মারার দায়ে আর্জেন্টাইন গোলকিপার এস্তেবান আন্দ্রাদাকে ১৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) এই ঘোষণা দেয়।
গত রবিবার হুয়েস্কা-রিয়াল জারাগোজা ম্যাচের ৯৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান ৩৫ বছর বয়সী আন্দ্রাদা। তিনি মাঠ থেকে বের না হয়ে উল্টো দৌড়ে গিয়ে হুয়েস্কা অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে ঘুষি মারেন। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় ড্রেসিংরুমে নিয়ে যেতে হয় আর্জেন্টাইন গোলকিপারকে।
ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি জানিয়েছে, আন্দ্রাদাকে ঘুষি মারার অপরাধে সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচের শাস্তি এবং লাল কার্ডের জন্য আরও ১ ম্যাচ—সব মিলিয়ে মোট ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় হুয়েস্কা গোলরক্ষক দানি জিমেনেজকে ৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আর হাতাহাতির সময় প্রতিপক্ষকে লাথি মারার অপরাধে জারাগোজার দানি তাসেন্দেকে ২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে তৎকালীন ক্লাব রেকর্ড ফিতে আর্সেনালে যোগ দিয়েছিলেন মেসুত ওজিল। বিশেষ করে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে শুরুর বছরগুলোতে তার জাদুকরী সব ‘অ্যাসিস্ট’ তাকে সমর্থকদের নয়নমণি করে তুলেছিল। তবে ক্যারিয়ারের শেষদিকের বছরগুলো চোট, চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ম্লান হয়ে যায়। ক্যারিয়ারের সেই কঠিন সময় নিয়ে আবার মুখ খুললেন জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা।
কুয়ালালামপুর লিডারশিপ সামিটে আর্সেনালের সেই তিক্ত বিদায় এবং মানবিক বিষয়ে আওয়াজ তোলা নিয়ে ওজিল বেশ আবেগঘন কিছু কথা বলেছেন। ওজিল বলেন, ‘একজন তারকা হিসেবে আমার একটি কণ্ঠস্বর ছিল এবং আমি জানতাম যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আমার আওয়াজ তোলা উচিত। আমি জানতাম (সামাজিক মাধ্যমে) পোস্ট করলে আর্সেনালের সঙ্গে আমার ঝামেলা হবে। কিন্তু আমি তার তোয়াক্কা করিনি; আমি পোস্ট করেছি এবং তাতে আমি খুশি ছিলাম।’
মূলত ২০১৯ সালে একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করেন ওজিল। সেই পোস্টে তিনি চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর মুসলিমদের সমর্থনে কথা বলেছিলেন, যা চীনা কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্সেনাল দ্রুত নিজেদের ওজিলের ব্যক্তিগত মতামত থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং ক্লাবের ‘অরাজনৈতিক’ অবস্থানের ওপর জোর দেয়।
এরপর ২০২০ সালের অক্টোবরে কোচ মিকেল আর্তেতার অধীনে ওজিলকে আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ এবং ইউরোপা লিগ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা কার্যত এই ক্লাবে তাঁর অধ্যায়ের ইতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে তিনি ক্লাব ছাড়েন। এরপর ফেনারবাচ এবং ইস্তাম্বুল বাসাকশেহিরের হয়ে কিছুদিন খেলে ২০২৩ সালে অবসর ঘোষণা করেন।
মাঠে অসাধারণ সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত ওজিলকে দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাঁর মতে, নিজের বিশ্বাস বা আদর্শ নিয়ে কথা বলার কারণে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার জন্য 'সব দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল' এবং তার থেকে 'ফুটবল কেড়ে নিয়েছিল', ‘এরপর তারা আমার জন্য সব দরজা বন্ধ করে দিল। তারা আমাকে আর মাঠে নামতে দেয়নি।’
২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা সেই পরিস্থিতির মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সময়টা খুব কঠিন ছিল, কারণ আমি ফুটবল খেলাটা উপভোগ করছিলাম আর তারা আমার থেকে সেই সুযোগটাই কেড়ে নিল। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে সেই সময়ে আমার পাশে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা ছিল।’
অনেকে ওজিলের এই অবস্থানকে নীতিগতভাবে সঠিক মনে করলেও, সমর্থকদের একটি অংশের মতে এটি আর্সেনালের ব্যবসায়িক স্বার্থের (বিশেষ করে চীনের লাভজনক বাজারের ক্ষেত্রে) জন্য ক্ষতিকর ছিল।
অবশ্য মাঠের সেই ‘ওজিল ম্যাজিক’ ভক্তরা আজও ভুলতে পারেননি—তাঁর সেই চোখ ধাঁধানো ‘নো-লুক পাস’ এবং খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সৃষ্টিশীলতা আজও আইকনিক হয়ে আছে। আর্সেনালের হয়ে ২৫৪ ম্যাচে ৪৪ গোল ও ৭৭টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের ‘গ্যালাক্টিকো’ দলের অন্যতম তারকা লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে ১৫৯ ম্যাচে ২৭ গোলের সঙ্গে করেছেন ৮০ অ্যাসিস্ট।