৩০ ডিসেম্বর ২০২৪, ৫:২৫ পিএম

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তো বটেই, শক্তিমত্তার বিচারেও এগিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল ফরচুন বরিশাল। তবে মাঠের খেলায় আগে ব্যাট করা দুর্বার রাজশাহী দাপট দেখাল শুরু থেকেই। দুই ওপেনার অল্পে বিদায় নিলেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখালেন এনামুল হক বিজয় ইয়াসির আলি। দুজনই করলেন ফিফটি। তাদের ব্যাটে ব্যাটে চড়ে দলটি পেল বিশাল স্কোর। মাত্র ৬১ রানে ৫ উইকেট হারানো বরিশালকে পথ দেখালেন মাহমুদউল্লাহ ও ফাহিম আশরাফ। দুজনের অপরাজিত ফিফটি আসরে শুভসূচনা এনে দিল বরিশালকে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১১তম আসরের প্রথম ম্যাচে বরিশাল জিতেছে ৪ উইকেটে। রাজশাহীর করা ৩ উইকেটে ১৯৭ রান দলটি পাড়ি দিয়েছে ১১ বল হাতে রেখেই।
দিনের শুরুতে রাজশাহীকে শুরুতেই চাপে ফেলে দিয়েছিলন কাইল মায়ার্স। পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনার জিসান আলম ও মোহাম্মদ হারিস। তবে সেই চাপ ভালোভাবেই সামাল দেন এনামুল ও ইয়াসির মিলে। পাল্টা আক্রমণ শানান বরিশালের বোলারদের ওপর। পাওয়ার প্লেতে আসে ৪০ রান।
আরও পড়ুন
| মাহেদির ঘূর্ণিতে বড় জয়ে রংপুরের শুভসূচনা |
|
রিপন মন্ডলের করা সপ্তম ওভারে আসে তিন বাউন্ডারি। তার করা পরের ওভারে চার ও ছক্কা হাঁকান এনামুল। ইয়াসির তুলনামূলক আগ্রাসী হলেও এনামুল ইনিংসের মাঝপথে ধরে খেলেন। চার মেরে পঞ্চাশে পা রাখেন ৪২ বলে। তানভির ইসলামকে টানা দুই ছক্কা মেরে পরের ওভারে ফিফটি তুলে নেন ইয়াসিরও। ডানহাতি এই ব্যাটার এজন্য বল খেলেন ৩৬টি।
ফাহিম আশরাফের বলে ৫১ বলে এনামুল ৬৫ রানে আউট হলেও ইয়াসির একাই ইনিংস টেনে নেন শেষ পর্যন্ত। শেষ ওভারে রিপনকে দুই ছক্কার পাশাপাশি মারেন একটি চারও। মাত্র ৪৭ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির। ইনিংসে ৭টি বাউন্ডারির পাশাপাশি হাঁকান ৮টি ছক্কা।
রান তাড়ায় ইনিংসে প্রথম বলেই জিসানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৫ বলে ৭ রানে তাসকিন আহমেদের প্রথম শিকারে পরিণত হন বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
খানিক বাদে মায়ার্সকেও এক ডিজিটে শিকার বানান তাসকিন। হাসান মুরাদের লেগ সাইডের বাইরের বলে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। একপ্রান্ত আগলে কিছুটা লড়াই করা তাওহীদ হৃদয় ৫ চারে করেন ৩২ রান।
আরও পড়ুন
| ঝড়ো ফিফটির কৃতিত্ব মাহমুদউল্লাহকেই দিলেন ফাহিম |
|
এরপর সাতে নেমে শাহিন শাহ আফ্রিদির ১৭ বলে ২৭ রানের ক্যামিও বরিশাল শিবিরে যোগায় জয়ের আশা। তার বিদায়ের পর সপ্তম উইকেটে রাজশাহীর মুঠো থেকে বের করে নেন মাহমুদউল্লাহ ও ফাহিম। শুরুটা করেন ফাহিমই, মুরাদের এক ওভারে মারেন টানা তিন ছক্কা।
মোমেন্টাম এরপর থেকেই চলে যায় বরিশালের দিকে। একের পর এক বাজে বল করে রাজশাহীর বোলাররা তাদের কাজটা আরও সহজ করে দেন। প্রতি ওভারেই চার-ছক্কার মার চলতে থাকায় বল-রানের ব্যবধান আর চাপে ফেলতে পারেনি বরিশালকে। সেই ধারায় কঠিন সমীকরণ থেকে দলটি ম্যাচ জেতে হেসেখেলেই।
মাত্র ২৬ বলে ৪টি ছক্কা ও ৫ চারে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। নয়ে নামা ফাহিম ছিলেন আরও আগ্রাসী। মাত্র ২১ বলে করেন ৫৪ রান। ইনিংস সাজান ৭টি ছক্কা ও এক চারে।
No posts available.
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৪ পিএম
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০৫ পিএম

ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিভার ছাপ রেখে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে গেলেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ নারী দলে একমাত্র নতুন মুখ তরুণ এই ব্যাটার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বাছাইপর্বের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। জুয়াইরিয়া ছাড়া স্কোয়াডে তেমন চমক নেই কোনো। দলের বাকি সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ অভিজ্ঞ ও অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলের আশপাশে রয়েছেন।
গত নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে জাতীয় ক্রিকেট লিগে রংপুর বিভাগের হয়ে ৭ ইনিংসে ১৮৯ রান করেছিলেন জুয়াইরিয়া। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩১.২৫! টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে মোস্ট প্রমিজিং ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেলেন তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তাকে দলে নেওয়ার পেছনের ভাবনা জানালেন নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন।
“ও (জুয়াইরিয়া) অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছে। মোটামুটি পারফর্ম করেছে। প্রিমিয়ার লিগে মোটামুটি পারফর্ম করেছে। পরে এনসিএলে ভালো পারফর্ম করেছে। রানের হিসেবে এক থেকে তিনের মধ্যে ছিল।”
“ওয়ে যেটা ইম্পরট্যান্ট, সেটা হচ্ছে গিয়ে ওর ইন্টেন্টটা ভালো। পাওয়ার প্লেতে খুব ভালো। পাওয়ার প্লেটা কাজে লাগাতে পারে ভালো। পাওয়ার প্লেটা ইউটিলাইজ করতে পারে ভালো। এইটার জন্যই আমরা ওকে নিয়েছি।”
গত বছরের জানুয়ারির পর আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেনি বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই সিরিজের দলে থাকা অভিজ্ঞ লতা মন্ডল, তাজ নেহার, মুর্শিদা খাতুনরা নেই এবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দলে।
এছাড়া গত অক্টোবরে ভারতে হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনাকে বাদ দেওয়া নিয়ে হয়েছিল তুমুল আলোচনা। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ স্পিনার নিশিতা আক্তার। কিন্তু এবার বাছাইয়ের দলে দুজনের কাউকেই রাখা হয়নি।
স্পিন বিভাগে সুলতানা খাতুন ও সানজিদা আক্তার মেঘলার সঙ্গে থাকছেন তিন অলরাউন্ডার ফাহিমা খাতুন, স্বর্ণা আক্তার ও রাবেয়া খান। পেস বিভাগে মারুফা আক্তার ও ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণার সঙ্গে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রিতু মনি।
স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রাখা হয়েছে পাঁচ ক্রিকেটার- শারমিন সুলতানা, ফারজানা ইয়াসমিন, শরিফা খাতুন, ফাতেমা জাহান সোনিয়া, হাবিবা ইসলাম পিঙ্কি।
নেপালে আগামী ১৮ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি।
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। ২০ জানুয়ারি পাপুয়া নিউগিনি, ২২ জানুয়ারি নামিবিয়ার এবং ২৪ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২৬ জানুয়ারি।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ স্কোয়াড
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার, সোবহানা মোস্তারি, ফারজানা হক, শারমিন সুপ্তা, দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন।
স্ট্যান্ডবাই: শারমিন সুলতানা, ফারজানা ইয়াসমিন, শরিফা খাতুন, ফাতেমা জাহান সোনিয়া, হাবিবা ইসলাম পিঙ্কি

২০২৫-২৬ বিজয় হাজারে ট্রফিতে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন সরফরাজ খান। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন ভারতের এই মিডলঅর্ডার ব্যাটার। যা ভেঙে দিয়েছে দেশটির লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের রেকর্ড।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে আগের রেকর্ডটি ছিল আবজিৎ কেলের। ১৯৯৫ সালে মহারাষ্ট্রের হয়ে ১৬ বলে অর্ধশতক করেছিলেন তিনি। বারোদার হয়ে তাঁর সে রেকর্ড টিকে ছিল ৯ বছর। তবে ২০২১ সালে ১৬ বলে ফিফটি হাঁকান বারোদার অলরাউন্ডার অতীত শেঠ। এবার সে রেকর্ড ভেঙে দিলেন সরফরাজ।
বৃহস্পতিবার জয়পুরে টুর্নামেন্টের এলিট গ্রুপের (সি) ম্যাচে আগে ব্যাট করে পাঞ্চাব সংগ্রহ করে ২১৬ রান। তাড়া করতে নেমে ১ রান দূরে থামে মুম্বাই।
আরও পড়ুন
| টানা ৬ ম্যাচ হারল নোয়াখালী, এটিই কি সবচেয়ে বাজে শুরু |
|
১৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা সরফরাজ এদিন থামেন ৬২ রানে। ২০ বল খেলতে পারেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা। মুম্বাইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রান তাঁর। ৩১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন ভারতের এই টেস্ট স্পেশালিস্ট।
বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ রান স্কোরার সরফরাজ। জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে মাঠে নামা এই ডান হাতি ব্যাটারের রান ৩০৩। গোয়ার বিপক্ষে তিনি সর্বোচ্চ ১৫৭ রানের ইনিংস খেলেছেন।
‘সি’ গ্রুপে মুম্বাইয়ের অবস্থান দুইয়ে। সাত ম্যাচে ৫টি জয় তাদের। শীর্ষে পাঞ্চাব। সমপরিমান ম্যাচ খেলে একটিতে হেরেছে দলটি। ২৪ পয়েন্ট তাদের।

তুমুল আগ্রহ-উদ্দীপনা ও দর্শক সমর্থন নিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট খেলতে এসে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একে একে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি।
তবে বিপিএল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড নয়। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। এখনও সেটিই বিপিএলের কোনো আসরে সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড।
এছাড়া বিপিএলের গত আসরে প্রথম ছয় ম্যাচ হেরেছিল লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিমদের ঢাকা ক্যাপিটালস। এবার একের পর এক ম্যাচ হেরে ঢাকার সঙ্গী হয়েছে নোয়াখালী। পরের ম্যাচ হেরে গেলেই সিলেটের পাশে বসবে দলটি।
উদ্বোধনী দিন চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে হেরে শুরু হয় নোয়াখালীর বিপিএল। এরপর সিলেট টাইটান্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, সিলেট টাইটান্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের কাছে হারে তারা। আর বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে ফিরতি লড়াইয়ে আবার হেরেছে নোয়াখালী।
আরও পড়ুন
| ওয়াসিমের তাণ্ডবে আবারও ছারখার নোয়াখালী |
|
বিপিএলে টানা ছয় পরাজয়ের রেকর্ড অবশ্য খুব কম নয়। গত ১১ সংস্করণে ৮টি দল টানা ৬ ম্যাচ হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি টানা হারের রেকর্ড দুর্দান্ত ঢাকার, ২০২৪ সালে দশম বিপিএলে টানা ১০ ম্যাচ।
বিপিএলে টানা ৬ ম্যাচ হারের রেকর্ড যাদের
২০১২ - সিলেট রয়্যালস (শুরুর ৭ ম্যাচ)
২০১৬ - বরিশাল বুলস (মাঝে ৬ ম্যাচ)
২০২৩ - চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (মাঝে ৬ ম্যাচ)
২০২৩ - ঢাকা ডমিনেটর্স (মাঝে ৬ ম্যাচ)
২০২৩ - খুলনা টাইগার্স (মাঝে ৬ ম্যাচ)
২০২৪ - দুর্দান্ত ঢাকা (মাঝে ১০ ম্যাচ)
২০২৫ - সিলেট স্ট্রাইকার্স (মাঝে ৭ ম্যাচ)
২০২৫ - ঢাকা ক্যাপিটালস (শুরুর ৬ ম্যাচ)
২০২৬ - নোয়াখালী এক্সপ্রেস (শুরুর ৬ ম্যাচ)।

কোনোভাবেই যেন গেঁড়ো ছিঁড়তে পারছে না নোয়াখালী এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটে একের পর এক হারতে হারতে টানা ছয় ম্যাচ হেরে গেছে তারা। যার ফলে সবার আগে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায়ও দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দুপুরের ম্যাচে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নোয়াখালীর দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্যে ৬ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
পাঁচ ম্যাচে রাজশাহীর এটি চতুর্থ জয়। পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে তারা। সব ম্যাচ হেরে তলানিতে নোয়াখালী।
রান তাড়ায় শুরু থেকে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। অন্য প্রান্ত থেকে তেমন সহায়তা তিনি পাননি। আবু জায়েদ রাহির এক ওভারে দুই চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারলেও ২০ বলে ২১ রানের বেশি করতে পারেননি তানজিদ হাসান।
তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন দ্রুত। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৪৩ রানের জুটি গড়েন ওয়াসিম। চলতি বিপিএলে প্রথম খেলতে নেমে মাত্র ২৯ বলে ফিফটি করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারকুটে ওপেনার।
ফিফটি ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে কাটা পড়েন ৪টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ বলে ৬০ রান করা ওয়াসিম। এরপর মুশফিক (২২ বলে ১৯) ও ইয়াসির আলি চৌধুরি (৬ বলে ৯) ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে রাজশাহী।
তবে বিপদ আর ঘটতে দেননি রায়ান বার্ল ও এসএম মেহেরব হাসান। দুজনের ২৪ রানের জুটিতে জয়ের খুব কাছে চলে যায় রাজশাহী। শেষ পর্যন্ত ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা বার্ল।
আরও পড়ুন
| মোস্তাফিজের আইপিএল নিয়ে যা হয়েছে হতাশাজনক: আর্থার |
|
নোয়াখালীর পক্ষে ৩টি উইকেট নেন মেহেদি হাসান রানা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রয়েসয়ে ইতিবাচক শুরু করেন শাহাদাত হোসেন দীপু ও সৌম্য সরকার। দুজন মিলে ৪৮ বলে যোগ করেন ৫৭ রান। টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নেমে ২৮ বলে ৩০ রান করে আউট হন দীপু।
তিন নম্বরে নেমে দ্রুতই আউট হয়ে যান মাজ সাদাকাত। পরে মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে ২৭ বলে ৪০ রান যোগ করেন সৌম্য। বিপিএলে অষ্টম ও সব মিলিয়ে ২৩তম ফিফটি করে ৪৩ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে আউট হন বাঁহাতি ওপেনার।
নবীর ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ৩৫ রান। কিন্তু আর কেউ তেমন কিছু করতে না পারায় কোনোমতে দেড়শ পার করে নোয়াখালী।
নোয়াখালীর পক্ষে ২টি উইকেট নেন রিপন মন্ডল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৫১/৫ (দীপু ৩০, সৌম্য ৫৯, সাদাকাত ৭, নবী ৩৫, হায়দার ৩*, অঙ্কন ১০, জাকের ১*; বিনুরা ৪-০-৩০-১, মেহেরব ৪-০-২১-০, সাকিব ৪-০-৪৩-০, রিপন ৪-০-২৭-২, বার্ল ১-০-৮-০, শান্ত ১-০-১-১, মুরাদ ২-০-২০-১)
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৯ ওভারে ১৫২/৬ (তামিম ২১, ওয়াসিম ৬০, শান্ত ১, মুশফিক ১৯, বার্ল ১৯*, ইয়াসির ৯, মেহেরব ৮, সাকিব ১*; হাসান ৪-১-৩৬-১, নবী ৪-০-২৬-১, রাহি ১-০-১৬-০, রানা ৪-০-২৫-৩, জহির ৪-০-২৮-০, সাদাকাত ২-০-১১-০)
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৪ উইকেটে জয়ী

১৫ জানুয়ারি শুরু আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের দুইজন। আম্পায়ার হিসেবে থাকছেন মাসুদুর রহমান মুকুল এবং ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিয়ামুর রশিদ রাহুল।
বিশ্বকাপের জন্য আজ ম্যাচ অফিশিয়ালদের তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ১৩টি দেশের মোট ১৭ জন আম্পায়ার ও চারজন ম্যাচ রেফারি দায়িত্ব পালন করবেন এবারের বিশ্বকাপে।
আম্পায়ারদের তালিকায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে থেকে আছেন দুজন। তাদের একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ফস্টার মুতিজওয়া, যিনি জিম্বাবুয়ের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২১টি ম্যাচ খেলেছেন। তার সঙ্গে থাকছেন একই দেশের আইকনো চাবি।
অভিজ্ঞ আম্পায়ারদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটার ডেইটন বাটলার এবং ইংল্যান্ডের গ্রাহাম লয়েড।
টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকছেন ইংল্যান্ডের ডিন কসকার, ভারতের প্রকাশ ভাট, শ্রীলঙ্কার গ্রেম ল্যাব্রুয় এবং বাংলাদেশের নিয়ামুর রহমান।
যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৭ জানুয়ারি, প্রতিপক্ষ প্রতিবেশি ভারত। তিনদিন পর নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচ তামিমদের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। ২৩ জানুয়ারি মাঠে গড়াবে ওই ম্যাচ।
আম্পায়ার: আহমাদ শাহ দুররানি (আফগানিস্তান), আইডান সিভার (আয়ারল্যান্ড), কোরি ব্ল্যাক (নিউজিল্যান্ড), ডেইটন বাটলার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ),ফয়সাল আফ্রিদি (পাকিস্তান), ফস্টার মুতিজওয়া (জিম্বাবুয়ে), গ্রাহাম লয়েড (ইংল্যান্ড), ইকনো চাবি (জিম্বাবুয়ে), লুবাবালো গকুমা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
মাসুদুর রহমান মুকুল (বাংলাদেশ), নীতিন বাথি (নেদারল্যান্ডস), প্রগীথ রামবুকওয়েলা (শ্রীলঙ্কা), রাসেল ওয়ারেন (ইংল্যান্ড), শন হেইগ (নিউজিল্যান্ড), শন ক্রেগ (অস্ট্রেলিয়া), বীরেন্দ্র শর্মা (ভারত), জাহিদ বাসারাথ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
ম্যাচ রেফারি:
ডিন কসকার (ইংল্যান্ড), শ্রীলঙ্কার গ্রেম ল্যাব্রুয় (শ্রীলঙ্কা), নিয়ামুর রশিদ রাহুল (বাংলাদেশ), প্রকাশ ভাট (ভারত)