
শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচের ফল। আসলে তা নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সফল রান তাড়ার রেকর্ড এটি। এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচ জিতে যা অর্জন করেছে ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এটি ছাড়াও আরও বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছে ভারত। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেসব রেকর্ড
৮-০
পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৮ ম্যাচের সবকটি জিতেছে ভারত। চলতি এশিয়া কাপেই তারা দুই ম্যাচ জিতেছে পরে ব্যাটিং করে।
রোববার তাড়া করা ১৭২ রানই পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই কোনো দলের বিপক্ষে রান তাড়া করে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড। এই ফরম্যাটে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মালয়েশিয়াও রান তাড়ায় ৮-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
২৪
পাকিস্তানের বোলারদের কচুকাটা করে মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন অভিষেক শর্মা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটারদের এটিই দ্রুততম ফিফটি।
আগের রেকর্ডটি অভিষেকের মেন্টর যুবরাজ সিংয়ের। ২০১২ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচে ২৯ বলে ফিফটি করেছিলেন কিংবদন্তি অলরাউন্ডার।
১০৫
রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ বলে ১০৫ রান যোগ করেন অভিষেক ও শুবমান গিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে এটিই তাদের সর্বোচ্চ জুটি। ২০১২ সালে গৌতম গম্ভীর ও অজিঙ্কা রাহানে গড়েছিলেন ৭৭ রানের জুটি।
এছাড়া সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের এর চেয়ে বড় জুটি আছে আর একটি- ২০২২ সালে বিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়ার ১১৩ রানের।
২
ভারতের দ্বিতীয় ওপেনার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিফটি করলেন অভিষেক। এর আগে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন গম্ভীর।
৬৯/০
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৬৯ রান নেন অভিষেক ও গিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর। ২০২২ সালের এশিয়া কাপে ১ উইকেটে ৬২ রান করেছিল তারা।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৫৫ রান করে পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে এটি তাদের সর্বোচ্চ। ২০১২ সালে বিনা উইকেটে ৫৪ রান করেছিল তারা।
৪৫
এদিন ৪ ওভারে ৪৫ রান খরচ করে উইকেটশূন্য থাকেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তার ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় খরুচে বোলিং। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫০ ও ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৭ রান দিয়েছিলেন বুমরাহ।
৫
রোববারের ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় ৫টি সুযোগ হাতছাড়া করে ভারত। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম এত বেশি সুযোগ হারিয়েছে তারা। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪টি ক্যাচ ছেড়েছিল ভারত।
No posts available.
২১ মে ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের আর্থিক বোনাস দিতে চেয়েছিল বিসিবি। তবে শান্ত-মুমিনুলরা হেঁটেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে। তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভের পেছনে না ছুটে ক্রিকেটাররা বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে দাবি জানিয়েছেন মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার। বোনাসের টাকার বদলে তাঁরা হোম অব ক্রিকেটে একটি আধুনিক সুইমিংপুল এবং বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন জিমনেসিয়াম তৈরির অনুরোধ করেছেন।
মিরপুরে বিসিবির অন্তর্বর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল আজ সাংবাদিকদের বলেন,
‘আমরা তৈরি ছিলাম, যদি বোনাস দেওয়া লাগত, অবশ্যই দিতাম। কারণ, তাদের এটা প্রাপ্য। কিন্তু সবার উচিত তাদের এই উদ্যোগের (বোনাস না নেওয়া) প্রশংসা করা। তারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেনি। এই সুবিধা (সুইমিং পুল) তাদের ছোট ভাইয়েরা, অনূর্ধ্ব–১৯ বা হাই পারফরম্যান্সে যাঁরা আছে, তারাও ব্যবহার করবে।’
ক্রিকেটাররা নিজেদের কথা না ভেবে ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেছেন তামিম তাতে মুগ্ধ,
'ওরা শুধু নিজেদের কথা ভাবেনি। এই সুবিধা ওদের ছোট ভাইদেরও কাজে লাগবে। বলেছি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা ইকুইপমেন্ট দিয়ে আমরা জিম করে দিব আর সামনে সুইমিংপুল করে দিব, সাথে আইস বাথ হট বাথের লেটেস্ট টেকনোলজি। বারবার আইস এনে আইস বাথ করতে হবে এমন লাগবে না। যা যা লাগবে করা হবে।'
তামিমের আশ্বাস, নির্বাচিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ সম্পন্ন করবে এই জিম ও সুইমিংপুলের কাজ,
'ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আমি খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে চাই। যতই টাকা বোর্ড দিত, ঐ টাকা হয়ত লাইফ চেঞ্জিং কিছু হতো না। তবে তারা যেটা চেয়েছে, এই সুবিধার কারণে অনেকের অনেক উন্নতি হতে পারে। এই চিন্তাকে এপ্রিশিয়েট করি। প্রক্রিয়া শুরু করে দিব। নির্বাচন জিতে যারাই আসে আমি বা যে কেউ যেন তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করে।'
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মূল নকশাতেই কিন্তু সুইমিংপুলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নানা অজুহাতে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেই সুইমিংপুল আলোর মুখ দেখেনি। মাঝে ফারুক আহমেদ বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন মিরপুরের জিমনেসিয়ামের পাশের খালি জায়গায় একটি সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পাওয়ার আগেই দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থায় বড় পরিবর্তন চলে আসে।
শেষ পর্যন্ত সেই বহুল প্রতীক্ষিত সুইমিংপুল নির্মাণ হতে যাচ্ছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিশ্চিত করেছেন, সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই এবার সুইমিংপুলটি তৈরি করবে বোর্ড। শুধু সুইমিংপুলই নয়, ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও আধুনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বর্তমান জিমনেসিয়ামের কিছু অংশ ভেঙে নতুন করে ঢেলে সাজানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

২০২৫ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলাকালীন মাঠেই আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ওপেনারের জীবন তখন চলে গিয়েছিল চরম সংকটের মুখে। উন্নত চিকিৎসায় সে যাত্রা সুস্থ হয়ে উঠলেও, সাবেক এই অধিনায়ক আর কখনোই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরেননি। সময়ের পরিক্রমায় বছরখানেক পর তামিম এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভূমিকায়। ড্রেসিংরুমের চেনা আবহ ছেড়ে তিনি এখন বোর্ড রুমের নীতিনির্ধারকের আসনে—সামলাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির গুরুদায়িত্ব।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তামিম জানালেন—কীভাবে হঠাৎ একটি হার্ট অ্যাটাক তাকে ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে ঠেলে দিল, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহ বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান ও ভবিষ্যত।
দায়িত্ব নিয়েই দেশের ক্রিকেটের হারানো গৌরব আর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তামিম। চলতি বছরের শুরুতে অ্যাড-হক কমিটির হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে এক নতুন চ্যালেঞ্জ বেছে নিয়েছেন তামিম। তামিমের জীবনের এই পটপরিবর্তনের পেছনে রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের সেই বড় ধাক্কা। জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে থাকার সময়ই এক মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতাই নাকি তাঁর পুরো ভাবনার জগৎ ও ক্যারিয়ারের দিক বদলে দিয়েছিল।
ঠিক কখন মাঠের ক্রিকেট ছেড়ে টেবিলের ওপারে (প্রশাসনে) আসার সিদ্ধান্তটা নিলেন তামিম? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
‘সত্যি বলতে, গত বছরের হার্ট অ্যাটাকটাই ছিল আমার জীবনের সেই ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তখন আমি জাতীয় দলে ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। ঠিক ওই মুহূর্তে যখন আমার হার্ট অ্যাটাক হলো, আমি ভাবলাম—ব্যাস, অনেক হয়েছে, আর নয়। হার্ট অ্যাটাকের পর আমার মনে হয়েছে ক্রিকেটে ফেরার জন্য এতটা ঝুঁকি নেওয়া আর ঠিক হবে না; কারণ আমি যদি ফিরতামও, বড়জোর আর এক বা দুই বছর খেলতে পারতাম। আমার পরিবারে সন্তানরা এখনো অনেক ছোট, আর শরীরটাও হয়তো ক্রিকেটে ফেরার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।’
২২ গজের চিরচেনা সবুজ মাঠ ছেড়ে বিসিবির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বোর্ড রুমে মানিয়ে নেওয়াটা যে সহজ নয়, তা অকপটেই স্বীকার করলেন দেশের ক্রিকেটের এই নতুন অভিভাবক। তবে ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং খেলোয়াড়ি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে ক্রিকেটারদের পুরোনো সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই তিনি এই কঠিন চ্যালেঞ্জ বেছে নিয়েছেন।
নিজের এই নতুন রূপ নিয়ে তামিম বলেন,
‘ভীষণ, ভীষণ আলাদা! তবে আমি তো এটাই চেয়েছিলাম। আমি ভেতরের সমস্যাগুলো ঠিক করতে চেয়েছিলাম। গত ১৭-১৮ বছর ধরে যখন আমি আমার সতীর্থদের সঙ্গে খেলতাম, খেলোয়াড় হিসেবে আমরা যেসব জিনিস নিয়ে সবসময় অভিযোগ করতাম—আমি ঠিক সেই সমস্যাগুলোই সমাধান করতে চাই, যেন বর্তমান ও ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের মনে আর কোনো ক্ষোভ না থাকে। আমি খুব ভালো করেই জানি, একা আমার পক্ষে সব কিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত যে, অন্তত সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মান উন্নত করার জন্য যতটুকু করা দরকার, তা আমি করতে পারব।’
তামিম আরও যোগ করেন,
‘ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং—এগুলো এখন আর আমার কাজ নয়। আমি এখন আর মাঠে নেমে ব্যাট করতে পারব না, বলও করতে পারব না। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত যে, ক্রিকেটারদের জন্য সম্ভাব্য সেরা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আমি করে দিতে পারব; যা তাদের পারফরম্যান্সকে অন্তত দুই, তিন কিংবা পাঁচ শতাংশ হলেও উন্নত করতে সাহায্য করবে। আমার লক্ষ্য এখন ঠিক এটাই।’

পাকিস্তানের অসংখ্য জয়ের সাক্ষী মুশতাক আহমেদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৪৬ উইকেটের মালিক এই কিংবদন্তি কালের পরিক্রমায় এখন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ।
২০২৪ সালে খণ্ডকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তির পর ২০২৫ সালে বিসিবির সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দায়িত্ব নেন মুশতাক। তাঁর অধীনে বাংলাদেশের স্পিন বিভাগ পেয়েছে নতুন মাত্রা। বেশ কিছু ঐতিহাসিক জয়ও এসেছে মুশতাকের দায়িত্বকালীন। যার অন্যতম পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয়।
একসময় কেবল স্পিন বোলিং দিয়েই প্রতিপক্ষকে কাবু করার চেষ্টা করতো বাংলাদেশ। তবে বদলে যাওয়া দেশের ক্রিকেটে নিজেদের চেনা ছক থেকে বের হয়ে এসেছে পেসাররা। অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতি ছড়াচ্ছেন নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামরা।
সম্প্রতি বেশ কিছু সিরিজে দেশের পেস ইউনিট বেশ দাপুটে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। তবে সিলেট টেস্টে পাল্লাটা স্পিনারদের দিকেই ভারী ছিল। নামের সুবিচার করেছেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিন উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি একাই নিয়েছেন ৬টি।
স্পিনারদের এমন সাফল্যে খুশি মুশতাক আহমেদ। তবে নিজ দেশের টানা চার টেস্টে এমন ব্যর্থতা ভীষণ পোড়াচ্ছে তাকে। সিলেট টেস্ট জয়ের পর মুশতাকের মন এতটাই খারাপ ছিল যে, স্বাগতিক দলের সঙ্গে গ্রুপ ছবি তুলতেও যাননি তিনি।
বাংলাদেশের জয়ের পর পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুশতাক বলেন,
‘অবশ্যই মিশ্র অনুভূতি আছে। পেশাদার হিসেবে আপনি যা জানেন তা খেলোয়াড়দের শেখাতে হয়। সত্যি বলতে পাকিস্তানের হারে আমি বিষণ্ণ ছিলাম।’
মন বিষণ্ণ থাকলেও নিজের প্রাপ্তি এবং কাজে সন্তুষ্ট মুশতাক। তিনি বলেন,
‘দেখেন, দুই টেস্ট জিতেছি আমরা (বাংলাদেশ)। অর্থাৎ কাজের পুরস্কার পাচ্ছি, আল্লাহ দিচ্ছেন। কিন্তু পাকিস্তান দল, যেটা আপনার দল, যে দলে খেলার কারণে বাংলাদেশ আমাকে নিয়োগ দিয়েছে...তাই আমি আজ (গতকাল) কিছুটা বিষণ্ন ছিলাম। এটা একটা সহজাত অনুভূতি, যা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আসলেই আমার মন খারাপ ছিল। আমি তো গ্রুপ ছবি তোলার জন্য নিচেও যাইনি।’
স্পিনারদের ব্যবহারের কৌশলে বাংলাদেশের এগিয়ে আছে, এমনটাই বলেন মুশতাক,
‘ঘাসের উইকেটে আপনাকে দুজন স্পিনারকে খেলতে হচ্ছে। আমি রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের সময় বলেছিলাম, এশিয়ান উইকেটে ওপরে ঘাস থাকলেও গরমে খেলার সময় ভেতরে সেই উইকেট শুষ্কই থাকে। প্রথম এক–দুই দিন বল কিছুটা নড়াচড়া করবে এবং গতি পাবে। কিন্তু ভেতর থেকে তো উইকেট শুষ্ক, ফলে স্পিনারের ভূমিকা ক্রমাগত ভালো হতে থাকে।’

সিলেটে সফল টেস্ট সিরিজ সমাপ্তির মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের কোচিং অধ্যায় শেষ হয়েছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। এখন থেকে এইচপি ইউনিটের মূল কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ এই কোচ। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া কিংবা দলের আশেপাশে থাকা ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করাই হবে সালাউদ্দিনের মূল কাজ।
২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর একটি সফল অভিযান শেষ করেছেন সালাউদ্দিন। এসময় নানা চড়াই-উৎরাইয়ের সাক্ষী হতে হয়েছে তাকে। বিষয়গুলো শক্ত হাতেই মোকাবিলা করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তদের কোচ। বন্ধুর এই যাত্রা নিয়ে অবশ্য তার কোনো আক্ষেপ বা আফসোস নেই।
বিদায় বেলায় সালাউদ্দিন বলেছেন,
‘পেছন থেকে সাপোর্ট করতে পারলেও, যতটুকু পারি করব, না পারলে করব না। আমি কোনো দিন বলিনি জাতীয় দলের কোচ বানাতেই হবে। আপনারাই বলেছেন, আপনারাই বানিয়েছেন। দিনশেষে আমি কোচ, যেখানে কাজ করে মজা পাব সেখানেই করব। আমি এমন একটা মানুষ, আমার কোনো আক্ষেপ নাই। আমি কখনও আক্ষেপ নিয়ে বাঁচি না।'
মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন,
'আমি বাংলাদেশ স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। ওরা এখানে ক্রিকেট খেলবে, আমি এখানেই থাকব, কাছাকাছিই থাকব। বেশি দূরে যাচ্ছি না তো।'
দায়িত্ব বদল হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে আছেন সালাউদ্দিন। তাই শিষ্যদের মিস করার মতো কিছুও দেখছেন না তিনি,
'মিস করার তেমন কিছু নেই। হয়ত ড্রেসিংরুমের ভেতরটা মিস করতে হতে পারে। সময়গুলো ভালো ছিল। কোচিং তো আমাকে করতেই হবে। ওরাও আমার কাছে আবার আসবে। টাইগার্স নেই এখন, আমার অধীনেই চলে আসবে।'
জাতীয় দলে কাজ করা এই কোচের ওপরই পরের মৌসুমের জন্য ভরসা রাখতে যাচ্ছে বিসিবি। এবারের এইচপি বিভাগে থাকছে না বয়সের মানদণ্ড। সবমিলিয়ে সাদা এবং লাল বল মিলিয়ে ক্রিকেটার থাকবেন ৩৫ জন। কোচ হিসেবে আরও থাকছেন সোহেল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবুল, রাজিন সালেহ ও তালহা জুবায়েররা। সবকিছু ঠিক থাকলে এইচপির জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে কোচের দায়িত্ব বুঝে নেবেন সালাউদ্দিনরা।
আগামী ১ জুন শুরু হতে পারে এই সিরিজের ক্যাম্প। জুন মাসের ৩ তারিখ জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এইচপি বিভাগের সঙ্গে খেলতে আসবে। এরপর ৮, ১০ এবং ১৩ জুন ওয়ানডে সিরিজ মাঠে গড়াবে বগুড়া এবং রাজশাহীতে। এরপর দুটি চারদিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।

রাজধানীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার এবং বর্বর ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন তারা।
বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ও ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিজেদের ভেডিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন।
পল্লবতীতে সাত বছরের সেই শিশু রামিসার একটি স্কেচ ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে শান্ত লিখেছেন,
‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে; ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো...জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আর দোষীদের এমন শাস্তি হোক, যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’
নৃশংস ও বর্বর এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শিশু রামিসার ছবি যুক্ত করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন,
‘মিরপুরের পল্লবীতে নি-র্ম-ম-তা-র শিকার আট বছরের (পরিবারের দেওয়া তথ্য মতে সাত বছর) শিশু রামিসা ও এই ধরণের অন্যান্য সব ঘটনায় দোষীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।'
ধ-র্ষ-ণ, নি-পী-ড়-ন ও সব ধরনের স-হিং-স-তা-র বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, সম্মান ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নি-র্ম-ম-তা-র শিকার হতে না হয়, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার।’
জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটার তাঁর ভেরিফায়েড পেজ থেকে একটি গ্রাফিকস ছবি পোস্ট করেন। তাতে লেখা, ‘আমরা...জন্য বিচার চাই।’
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়,
‘আজ সকালে খবরটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছি। ছোট্ট...নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর আশ্রয় পাওয়ার কথা ছিল...এমন ভয়ানক নিষ্ঠুরতা নয়। এই নিষ্পাপ শিশুটির জন্য দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। কোনো পরিবারকে যেন এমন কষ্ট সইতে না হয়। শিশুদের ওপর অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে তাতে লিখেছেন,
‘কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে...খবরটি শোনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মর্মন্তুদ। কোনো সমাজে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পৃথিবী প্রাপ্য, যেখানে তারা কোনো ভয় ছাড়াই বড় হতে পারবে। যেকোনো অন্যায়ের সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন...ক্ষেত্রে সেই বিচার হতে হবে অবিলম্বে। আমরা যখন...জন্য সমস্বরে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি, তখন আসুন স্পষ্টভাবে উচ্চকণ্ঠে বলি—এই ধরনের অপরাধে কঠোরতম শাস্তিই প্রাপ্য। আমরা আর কখনোই এমন কোনো ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।’
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালও এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন। তামিমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গ্রাফিকস ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘...জন্য বিচার চাই।’