
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেত্তি। কিন্তু সে দলে জায়গা হয়নি তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের। ভক্ত-সমর্থকেরা পুড়ছেন ক্ষোভে। আলোচনা-সমালোচনাও হচ্ছে ব্যাপক।
এর মধ্যেই মুখ খুললেন থিয়াগো সিলভা। তাঁর মতে, নেইমার ফর্মে থাকলে তাঁকে দলে না নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। টিএনটি স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকারে সিলভা বলেন, 'আমার কাছে এটা নিয়ে কোনো বিতর্কই নেই। নেইমার যদি ভালো খেলতে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই বিশ্বকাপে নিতে হবে।'
৩৯ বছর বয়সী সিলভা মনে করেন, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেইমারকে দলে রাখা বাধ্যতামূলক। এই ডিফেন্ডার বলেন,
'এখন যেভাবে সে খেলছে, তাকে দলে নিতেই হবে। এ নিয়ে কোনো তর্ক নেই।'
নেইমারের মাঠের প্রভাবও তুলে ধরেন সিলভা। তাঁর ভাষায়, 'নেইমার যখন মাঠে থাকে, প্রতিপক্ষ দলের জন্য সে আগেই একটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।'
চোট ও ফর্মহীনতার ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ব্রাজিল দলে নেইমারের উপস্থিতি অনিয়মিত। তবে সাম্প্রতিক নজরকাড়া পারফরম্যান্সে তিনি আবারও আলোচনায় ফিরেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সিলভার এই মন্তব্য ব্রাজিল দলে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য কঠিন চাপও।
বিশ্বকাপের আগে দল চূড়ান্ত করার সময় ঘনিয়ে আসায়, নেইমারকে ঘিরে এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
No posts available.
১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ এম
১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৩২ এম
১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪ এম

নেপালের নারী ফুটবল লিগ খেলতে গেছেন বাংলাদেশের সানজিদা আক্তার। সেখানে ললিতপুরের ক্লাব জাপা এফসির হয়ে মাঠ মাতাবেন বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। মঙ্গলবার নেপালে পৌঁছেছেন দুটি সাফজয়ী এই ফুটবলার।
এর আগে ভারত ও ভুটানের নারী ফুটবল লিগে খেলেছেন সানজিদা। ভারতের ইস্টবেঙ্গলের প্রথম বিদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে খেলে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। এবার বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে সানজিদা সুযোগ পেলেন নেপাল লিগে।
নেপালের লিগে সাফল্য পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সানজিদা বলেন, ‘আশা করি ভালো পারফরম্যান্স করে দলকে সাফল্য এনে দিতে পারব। ভুটান ও ভারতের লিগে খেলেছি। নেপালের লিগে খেলার এই প্রথম অভিজ্ঞতা হবে।'
সবশেষ বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে পুলিশ এফসির হেয়ে খেলেন সানজিদা। তার ভুটানের লিগ খেলে আসেন এই উইঙ্গার। এবার নেপালে পারিশ্রমিক ভুটান লিগ থেকে বেশি বলে জানান তিনি।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখা তো হলোই না, উল্টো আরেকবার লজ্জার পরাজয় মেনে নিতে হলো চেলসিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দুই লেগে পিএসজির (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিল ব্লুজরা।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মঙ্গলবার রাতে চেলসিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। প্রথম লেগে চেলসির পরাজয় ছিল ৫-২ গোলের। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ ব্যবধানে ফরাসি ক্লাবটির কাছে হেরেছে লিয়াম রোসেনিয়রের দল।
আরও পড়ুন
| নেইমারকে দলে নিতেই হবে, কোনো বিতর্ক নেই, বলছেন সিলভা |
|
এদিন ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে খিচিভা কাভারেৎস্খেলিয়ার গোলে লিড নেয় পিএসজি। ৯ মিনিট পর ব্রাডলি বারকোলার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অতিথিরা। আর ৬২ মিনিটে চেলসির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সেনি মায়ুলু।
ঘুরে দাঁড়াতে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই মাঠে নামে চেলসি। প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাতে শুরু থেকে মরিয়া হয়ে ওঠে দলটি। তবে বল পজেশন ধরে রেখে খেলার শুরুর খানিক পরই চেলসি শিবিরে বড় আঘাত হানে পিএসজি। ব্যবধান আরও বাড়লেও দমে যায়নি ব্লুজরা। ম্যাচে মোট ১৮টি শট নেয় তারা। যার মধ্যে ৯টি ছিল অন টার্গেটে। কিন্তু মোট ৮ শটের ৫টি লক্ষ্যে রেখে তিন গোল আদায় করে নেয় অতিথিরা। আর বিফলে যায় চেলসির মোট ১৮ শট।
শেষ আটে শিরোপাধারী পিএসজি খেলবে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাই কিংবা লিভারপুলের বিপক্ষে। আজ রাতে দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডে মুখোমুখি হবে দুই দল। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে তুরস্ক থেকে ১-০ গোলে হেরে আসে অল রেডরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ঐতিহাসিক যাত্রা থামলো বোদো/গ্লিমটের। নরওয়ের ক্লাবটির রূপকথা থামিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ আটে উঠেছে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং লিসবন।
শেষ ষোলোর ম্যাচে মঙ্গলবার রাতে বোদো/গ্লিমটকে দ্বিতীয় লেগে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হরিয়েছে স্পোর্টিং লিসবন। কেউ-ই একের অধিক গোল পাননি, দলীয় প্রচেষ্টাতেই নরওয়ের ক্লাবটিকে বিধ্বস্ত করেছে তারা। প্রথমার্ধে এক গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে আরও ২ গোল। দুই লেগ মিলে ম্যাচ যখন ৩-৩ সমতায়, খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আরও দুই গোল হজম করে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় বোদো/গ্লিমট।
বোদো/গ্লিমট এই মৌসুমে তাদের দেশ থেকে অভিষেকে নকআউট পর্যায়ে ওঠা প্রথম দল। প্লে‑অফে গতবারের ফাইনালিস্ট ইন্টার মিলানকে হারায় তারা। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা জেগেছিল যখন ঘরের মাঠে ক্লাবটি স্পোর্টিং লিসবনকে উড়িয়ে দেয় ৩-০ গোলে। কিন্তু বড় ব্যবধানে হেরে আসা সেই দলটিই এদিন নিজেদের ঘরের মাঠে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে নরওয়েজিয়ানদের।

২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে মরক্কোকে। দুই মাস আগে এই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। এবার ফল পাল্টে মরক্কোকে শিরোপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
গত ১৮ জানুয়ারি ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে পরাজিত করে সেনেগাল। ঘটনাবহুল সেই ফাইনালের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। এরপর প্রায় ১৭ মিনিটের বিলম্ব। পেনাল্টির প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান সেনেগালের ফুটবলাররা। পরে তারা মাঠে ফিরে এলেও পেনাল্টি মিস করেন ব্রাহিম দিয়াজ।
এরপর অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের পেপ গুইয়ের গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। তবে দুই মাস পরে এসে আফ্রিকার ফুটবলের শাসক সংস্থা এখন সেই ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। সিএএফ এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘সেনেগাল ‘ফাইনাল ম্যাচটি বাতিল’ ঘোষণা করেছে এবং ফাইনালের ফলাফল মরক্কোর পক্ষে ৩-০ রেকর্ড করা হলো।’

পরের রাউন্ডে যেতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনাল লেগে দারুণ কিছু করতে হতো প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটিকে। এমন ম্যাচে শুরুটা আশাজাগানিয়া ছিল আকাশি-নীলদের। কিন্তু বের্নার্দো সিলভার এক ভুলের মাশুল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখা হলো না পেপ গার্দিওলার দলের। প্রথম লেগের পর দ্বিতীয় লেগেও রিয়ালের কাছে হেরেছে ইংলিশ জায়ান্টরা।
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ফাইনাল লেগে নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদে রিয়ালকে আতিথেয়তা দেয় ম্যানসিটি। খেলায় ২-১ গোলের জয় পেয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। দুই লেগ মিলে ৫-১ গোলের এগ্রিগেটে প্রতিযোগিতার ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা উঠেছে শেষ আটে। এ নিয়ে সবশেষ পাঁচ মৌসুমের চারবার সিটিজেনদের প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় করে দিল রিয়াল মাদ্রিদ।
আরও পড়ুন
| নেইমারকে দলে নিতেই হবে, কোনো বিতর্ক নেই, বলছেন সিলভা |
|
এদিন রিয়াল মাদ্রিদকে পেনাল্টি থেকে লিড এনে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যানসিটির হয়ে সমতায় ফেরানো গোলটি করেন আর্লিং হলান্ড। এরপর ব্রাজিলিয়ান তারকার আরেকটি গোলে ইংল্যান্ড থেকে জয় নিয়ে ফেরে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।
সিটির আক্রমণাত্ম শুরুর পর ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগ প্রথম তৈরি করে রিয়াল। ১৭ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলে শট নেন ভিনিসিয়ুস। পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ভিনির ফিরতি শটে বল লাগে বের্নার্দো সিলভার হাতে। পেনাল্টির আবেদন করে রিয়ালের খেলোয়াড়রা। ভিএআরে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। একই সঙ্গে ম্যানসিটি অধিনায়ক সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সফল স্পটকিকে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস।
খেলার ২৪ মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান ভিনিসিয়ুস। বক্সের ভেতরে নেওয়া তাঁর শট অবশ্য লক্ষ্যে থাকেনি। পরের মিনিটে হলান্ডের শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। বেশ কিছু সুযোগ হারানোর পর ৪১ মিনিটে হলান্ডের গোলে সমতা টানে ম্যানসিটি।
বিরতির পর ১০ জনের দল নিয়ে পাহাড় টপকানোর মতো কিছু করতে হতো ম্যানসিটিকে। কিন্তু রিয়ালের রক্ষণদেয়াল টপকানো সম্ভব হয়নি তাদের। উল্টো শেষ আরেক গোল হজম করে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়ার সঙ্গে হারের তেতো স্বাদও নিতে হয় স্বাগতিকদের।