
১৩ বছর আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং (৬/২৬) করেছেন পেস বোলার রুবেল হোসেন যে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ যেদিন সিরিজে ফেরার ম্যাচে অবতীর্ন, সেই ম্যাচে দর্শক রুবেল হোসেন। ম্যাচ শুরুর আগে পেয়েছেন বিসিবির সম্মাননা। দর্শকের কাতারে থেকে দেখেছেন উত্তরসূরি পেস বোলার নাহিদ রানার ঘন্টায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির তোপ। মরা পিচেও যে গতি দিয়ে, বাউন্স দিয়ে ব্যাটারদের কাবু করা যায়, নাহিদ রানার বোলিংয়ে তা দেখেছেন রুবেল।
৩৯ দিন আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পেয়েছেন প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটের দেখা ( ৭-০-২৪-৫)। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ফিরতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পেলেন ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট। ১০-১-৩২-৫, নাহিদ রানার এই বোলিংয়েই নিউ জিল্যান্ডকে ঘায়েল করেছে বাংলাদেশ। ৫০ ওভার পার করতে দেয়নি মিরাজের দল। ৭ বল হাতে রেখে নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে অল আউট করেছে বাংলাদেশ।
নাহিদ রানা ৬০টি ডেলিভারির মধ্যে ৪৩টি দিয়েছেন ডট। চার স্পেলের প্রতিটিতে পেয়েছেন উইকেট। ৫ ওভারের প্রথম স্পেলে পেয়েছেন ২ উইকেট (৫-১-১০-২)। যার মধ্যে প্রথম ডেলিভারিতে হেনরি নিকোলাসকে (২৬ বলে ১৩) ইয়র্কারে এলবিডাব্লুউতে ফিরিয়ে দেয়া প্রথম ওভারে খরচ মাত্র ১ রান। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে ইয়র্কারে উইল ইয়ংকে (৭ বলে ২) শর্ট বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা ওভারটি ছিল মেডেন উইকেট!
৪র্থ উইকেট জুটিতে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো নিক কেলি-মোহাম্মদ আব্বাসের পার্টনারশিপ (৬৬ বলে ৫৬) থামিয়েছেন নাহিদ রানা। দ্বিতীয় স্পেলের (৩-০-১০-১) তৃতীয় ডেলিভারিতে বাউন্সারে বোকা বানিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাসকে। আপার কাট করতে যেয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ আব্বাস (৩৪ বলে ১৯)। উইকেটের পেছনে অন্তত: ১০ গজ দৌড়ে ব্যাক ডাইভে অসামান্য দক্ষতায় ক্যাচটি নিয়েছেন লিটন।
তৃতীয় স্পেলে (১-০-১১-১) মার খেয়েছেন। টিকনার মেরেছেন ২টি বাউন্ডারি। তবে ওই স্পেলের প্রথম ডেলিভারিতে নাহিদ রানা পেয়েছেন উইকেট। ফক্সফোর্ট পুল করতে যেয়ে স্কোয়ার লেগে দিয়েছেন ক্যাচ (৩৫ বলে ১৫)। ক্যাচটি দারুণ তৎপরতায় নিয়েছেন হৃদয়। চতুর্থ স্পেলেও (১-০-১-১) পেয়েছেন নাহিদ রানা উইকেটের দেখা। এই স্পেলের তৃতীয় ডেলিভারিতে ইয়র্কারে লেনক্সকে বোল্ড করে পূর্ণ করেছেন নাহিদ রানা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেটে। ইনিংসে নিজের শেষ বলটিতেও উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে সেই ইয়র্কার ডেলিভারিটি মরনপন চেষ্টায় ডিফেন্স করেছেন টেল এন্ডার ন্যাথান স্মিথ।
মরা উইকেটেও যে প্রাণের ছোঁয়া এনে দিতে পারেন পেসাররা, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অন্য দুই পেসার তাসকিন (৯.৪-১-৪৬-১) এবং শরীফুল (১০-১-৩২-২) তা দেখিয়ে দিয়েছেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে ছেলেটির খেলার কথা ছিল না, ওয়ার্ম আপের সময় মোস্তাফিজুরের হালকা ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়া শরীফুল পর পর দুই ম্যাচে (২/২৭ ও ২/ ৩২)আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচের মতো নামতা গুনে দ্বিতীয় ম্যাচেও ৪২টি করে ডট দিয়েছেন এই বাঁ হাতি পেসার।
No posts available.
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২২ পিএম

নিউ জিল্যান্ড সিরিজের শুরুটা মন্দ হলেও শেষ দুটি ম্যাচ মনের মতো করে রাঙিয়েছেন নাহিদ রানা। সিরিজের তিন ওয়ানডেতে ১৩৪ রানের বিপরীতে ৮ উইকেট তোলেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। প্রথম ম্যাচে অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যর্থতার ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট নিতে পারেন নাহিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপট পরিবর্তন— একটি দুর্দান্ত ফাইফার। এরপর আজ আরও দুটি উইকেট নেন তিনি।
কিউইদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আলাদা করে নাহিদ রানার প্রশংসা করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
তিনি বলেন,
‘নাহিদ রানা দেশের জন্য অনেক বড় সম্পদ। আমরা সবাই অবশ্যই চেষ্টা করব ওর যত্ন নিতে। ও যেভাবে মেইনটেইন করছে এটা আসলে একটা টিমের জন্য অনেক অ্যাডভান্টেজ। শেষ দুই সিরিজ যেভাবে বোলিং করেছে পাশাপাশি ও যখন একটা ভালো মোমেন্টাম নিয়ে আসে, আমার কাছে মনে হয় যে, ও এটা ধারাবাহিকতায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ টিম অনেক ম্যাচ জিততে পারবে।’
একটা সময় স্পিনে নির্ভর ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। যেদিন স্পিনাররা ভালো পারফরম্যান্স করতো, সেদিন আশানুরূপ ফল পেত টিম। প্রেক্ষাপট বদলেছে। ছায়া হয়ে থাকা দেশের পেসাররা এখন নিজের আলোয় আলোকিত।
মিরাজ বলেন,
‘দেখেন আমাদের পেস ইউনিট অনেক ভালো বোলিং করছে গত দুই তিন বছর ধরে। আমরা দেশ এবং বাইরে অনেক ম্যাচ জিতেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ওদের হারিয়েছি। পেস ইউনিট অনেক ভালো ছিল আমার কাছে মনে হয়। একটা টিমের যদি পেস ইউনিট ভালো থাকে তাহলে টিমের মোমেন্টাম চেঞ্জ হয়ে যায় এবং ব্যাটসম্যানরাও যদি ফর্মে থাকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের টিমের ভিতরে এখন পেস ইউনিট এবং ব্যাটসম্যানরা যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ।’

চোট শঙ্কা ও আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বাকি অংশে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে এ তথ্য জানায় দেশীয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওডিআই শেষে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে বিসিবির মেডিকেল টিম। বোর্ড জানিয়েছে, মোস্তাফিজের কন্ডিশন আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে তার ‘স্ক্যান’ করানো হবে। এরপর তিনি বিসিবির মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া (রিহ্যাব) শুরু করবেন।
চোট শঙ্কার কারণে দেশের বাঁ-হাতি পেসারকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রত্যাহার করে নিয়েছে বোর্ড। ফলে পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আর দেখা যাবে না।
নাহিদ রানাকেও পিএসএলের জন্য ছাড়পত্র দিচ্ছে না বিসিবি। মূলত আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে তাকে প্রস্তুতির সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বোর্ড।
পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ। চারটি ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৭ উইকেট নেন জাতীয় দলের এই তরুণ ফাস্ট বোলার। মোস্তাফিজ খেলেছেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। ৫ ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যর্থতার পর বাকি দুই ম্যাচ রাঙিয়ে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে রাখল বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল লাল সবুজের দল। গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের বীরত্বে ২৬৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা নিউ জিল্যান্ড।
নিউ জিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও সিরিজ জেতার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজের ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারল তারা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ জানিয়েছেন, সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কারণ, প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয়টি অনেকটা নকআউটে পরিণত হয়। জিতলে টিকে থাকে আশা, হারলে সব শেষ।
মিরাজ বলেন,
‘আমরা অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে যাই, নকআউট যে খেলাগুলো হয় বিশেষ করে। সেখানে হারলেই বাদ। তাই আমি মেন্টালি ওভাবে জিনিসটা নিয়েছি। যেহেতু প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচ যদি হেরে যাই তবে সিরিজ হেরে যাব। তাই এটা আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ যে, এটা যদি জিততে পারি তাহলে হয়তো আরেকটা সুযোগ তৈরি হবে।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয় নিয়ে মিরাজ বলেন,
‘অবশ্যই ভালো লাগছে টানা তিনটা সিরিজ জিতেছি এবং আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতছে এটাই অনেক বড় অর্জন আমার কাছে।’
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির (১০৫) সঙ্গে লিটন দাসের ৭৬ রান। এরপর বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমানের ফাইফার। আজ মিরাজও ছিলেন প্রাণবন্ত। ৮.৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৬ রান খরচায় দুই উইকেট তোলেন বাংলাদেশ দলপতি। সে সঙ্গে নাহিদ রানাও নিয়েছেন দুই উইকেট। অর্থাৎ দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও দেখা গেছে সিরিজের শেষ ম্যাচে।
মিরাজ বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই, শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমরা ওর কাছ থেকে এরকমই আশা করি। লিটন দাসও দারুণ খেলেছে। মোস্তাফিজসহ প্রত্যেকটা প্লেয়ার অনেক অভিজ্ঞ। তারা দেশের জন্য অনেক দিন খেলেছে এবং আমার কাছে মনে হয়, পারফরম্যান্স শো করার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। দিনশেষে দলের রেজাল্টটাই আসল।’

দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জিতেছে স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজুর রহমান ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রেখেছেন বড় অবদান।
প্রথম ম্যাচ হেরেও বাকি দুইটি জিতে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কিছু রেকর্ডও লেখা হয়েছে নতুন করে।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক সব রেকর্ড
১৩
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। মাঝের সময়ে টানা পাঁচ সিরিজ হেরেছে তারা। এর আগে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে কিউইদের হোয়াইটওয়াশড করেছিল তারা।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
প্রায় ১১ বছর পর প্রথম ম্যাচ হেরেও সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ প্রথম ওয়ানডে হারের পরও সিরিজ জিতেছিল তারা। এছাড়া ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একই কৃতিত্ব দেখায় তারা।
মিরাজের হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ৩টি সিরিজ জিতলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বে গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
টানা ৩ ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশি অধিনায়ক
হাবিবুল বাশার সুমন (২০০৭)
সাকিব আল হাসান (২০০৯)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৪-১৬) (টানা ৬ সিরিজ)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৮)
তামিম ইকবাল (২০২১-২২) (টানা ৫ সিরিজ)
মেহেদী হাসান মিরাজ (২০২৫-২৬)
শান্ত-লিটন জুটির রেকর্ড
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটি গড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।
শান্তই সেরা
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৯ ওয়ানডে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিতে ৩৮৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিউইদের বিপক্ষে তার গড় ৫৫.৪৮ ও স্ট্রাইক রেট ৮৪.৬৮।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত ৩৫০ রান করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শান্তর গড় ও স্ট্রাইক রেট সবার ওপরে।
অনন্য মোস্তাফিজ
শান্তর সেঞ্চুরির পর ৫ উইকেট নিয়ে বাকি কাজ সারেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডেতে এটি তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট।
বাঁহাতি এই পেসারের অভিষেকের পর ওয়ানডেতে আর কোনো বোলার এর চেয়ে বেশি ৫ উইকেট নিতে পারেননি। তার সমান ৬টি ৫ উইকেট আছে রশিদ খান ও মোহাম্মদ শামির।
আরও মোস্তাফিজনামা
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট আছে শুধু বিশ্বের ৫ জন পেস বোলারের। তারা হলেন- ওয়াকার ইউনিস (১৩), ব্রেট লি (৯), মিচেল স্টার্ক (৯), লাসিথ মালিঙ্গা (৮) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭)।
বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে তার সামনে শুধুই মিচেল স্টার্ক।
নাহিদের অর্জন
তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন নাহিদ রানা। এ নিয়ে পরপর দুই সিরিজে তার হাতেই উঠল সিরিজ সেরার পুরস্কার।
বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে একাধিকবার সিরিজ সেরা হলেন নাহিদ। তার আগের দুজন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও আব্দুর রাজ্জাক।

ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ এক গল্প লিখল বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হেরে গেলেও বাকি দুইটিতে জিতে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে রাখল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। একইসঙ্গে ১১ বছরের পুরোনো এক সুখস্মৃতিও মনে করাল তারা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারায় বাংলাদেশ। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজের ট্রফিও নিজেদের করে নেয় মিরাজের দল।
আগে ব্যাট করে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে ২৬৫ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোস্তাফিজুর রহমানের জবাব খুঁজে পায়নি কিউই ব্যাটাররা। একাদশে ফেরার ম্যাচে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি অভিজ্ঞ পেসার।
এর ফলে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও সিরিজ জেতার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজের ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারল তারা।
এ নিয়ে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল মিরাজের দল।
বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে টানা তিন সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন মিরাজ। আগের চার জন- হাবিবুল বাশার সুমন, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা (দুইবার) ও তামিম ইকবাল।
এছাড়া নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় ১৩ বছর পর আবার ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল তারা।
সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ের রান তাড়ায় কখনোই সে অর্থে সুবিধা করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। শুরুতেই চমৎকার এক বাউন্সারে হেনরি নিকোলসকে ফেরান একাদশে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান।

পরে নিক কেলিকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন উইল ইয়াং। তবে এই জুটিকে ৪৬ রানের বেশি যেতে দেননি নাহিদ রানা। ১৪৬ কিমি. প্রতি ঘণ্টার ডেলিভারিতে ইয়াংকে কট বিহাইন্ড করেন তরুণ পেসার।
বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক টম ল্যাথাম। মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আবার কেলির ব্যাটে সওয়ার হয় নিউ জিল্যান্ড। তবে ফিফটির পর আর টিকতে পারেননি কেলি। ৮০ বলে ৫৯ রান করে মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। পরে মোহাম্মদ আব্বাসকে ফেরান শরিফুল ইসলাম।
নতুন স্পেলে ফিরে ১৪৮.৬ কিমি. প্রতি ঘণ্টার নিখুঁত ইয়র্কারে জশ ক্লার্কসনকে ফেরান নাহিদ। পরপর দুই ওভারে নাথান স্মিথ ও জেডেন লেনক্সকে ফিরিয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন মোস্তাফিজ।
শর্ট মিড উইকেটে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে স্মিথের চমৎকার ক্যাচ নেন মিরাজ। আর লাফিয়ে উঠে লেনক্সের ক্যাচ নেন হৃদয়।
পরে চমৎকার ডেলিভারিতে উইল ও'রোককে বোল্ড করে ২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথম ও সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ৫ উইকেট পূর্ণ করেন মোস্তাফিজ।
ওয়ানডে ক্রিকেটে পেসারদের মধ্যে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট আছে শুধু ৫ জনের- ওয়াকার ইউনিস (১৩), ব্রেট লি (৯), মিচেল স্টার্ক (৯), লাসিথ মালিঙ্গা (৮) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭)।
বাঁহাতি এই পেসারের অভিষেকের পর ওয়ানডেতে আর কোনো বোলার এর চেয়ে বেশি ৫ উইকেট নিতে পারেননি। তার সমান ৬টি ৫ উইকেট আছে রশিদ খান ও মোহাম্মদ শামির।
এরপর কিছুটা লড়াই করেন ডিন ফক্সক্রফট। পাল্টা আক্রমণে চলতি সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন তিনি। ১১ রানে নাহিদের বলে তার ক্যাচ ছেড়েছিলেন লিটন কুমার দাস। জীবন পেয়ে শেষ দিকে একাই চেষ্টা করেন ফক্সক্রফট।

শেষ পর্যন্ত ৭ ছক্কায় ৭২ বলে ৭৫ রান করে আউট হন ফক্সক্রফট। আর নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
এর আগে টানা তৃতীয়বারের মতো টস হারেন মিরাজ। সফরকারীদের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমে তিন ওভারের মধ্যে দুই ওপেনারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রানের খাতাই খুলতে পারেননি সাইফ হাসান। মাত্র ১ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম।
শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। নবম ওভারে উইল ও'রোকের তৃতীয় শিকার হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ১৮ রান করা সৌম্য। তামিমের মতোই শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিতে ভেতরের কানায় লেগে বোল্ড হন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
মাত্র ৩২ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। দুজন মিলে তাড়াহুড়ো না করে রয়েসয়ে এগিয়ে নেন দলকে। শুরুতে রানের জন্য একদমই তাড়া দেখাননি তারা। ধীরে ধীরে রান করতে থাকেন দুজন।
১০০ রান করতে বাংলাদেশ খেলে ২৫ ওভার। পরে বাড়তে থাকে রানের গতি। দ্বিতীয় পানি পানের বিরতি পর্যন্ত ৩০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৩৫ রান। সেখান থেকে পরের ২০ ওভারে তারা করে আরও ১৩০ রান।
৪ চার, ১ ছক্কায় ৭০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে এটি তার চতুর্থ পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস।
শান্তর কিছুক্ষণ পর ফিফটির দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটান লিটন। ২ চারে ৭১ বলে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি করেন তিনি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর ১৯ ইনিংস ও ৯১৭ দিন পর ওয়ানডেতে ফিফটির স্বাদ পেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
দলের স্কোর দুইশর কাছে গিয়ে ভাঙে শান্ত ও লিটনের জুটি। দুজন মিলে যোগ করেন ১৬০ রান। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন লিটন।
সঙ্গী হারালেও লক্ষ্যে অবিচল থাকেন শান্ত। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৯ চার, ২ ছক্কায় ১১৪ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রামের মাঠেই নিজের সবশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। জেডেন লেনক্সের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অন সীমানায় ধরা পড়েন তিনি। ১১৯ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৫ রান। এর মধ্যে ৩৪ রানই তিনি করে পুল শটে। আর অন ড্রাইভে আসে আরও ২৮ রান।
পরে ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নেন তাওহিদ হৃদয় ও মিরাজ। ১৮ বলে ২২ রান করেন মিরাজ। আর ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়।
নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ও'রোক। এছাড়া বেন লিস্টার ও লেনক্সের শিকার ২টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সাইফ ০, তামিম ১, সৌম্য ১৮, শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩*, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভির ০, মোস্তাফিজ ৩*; ও'রোক ৭-১-৩২-৩, স্মিথ ৯-০-৫০-০, লিস্টার ১০-০-৬২-২, আব্বাস ৫-০-১৬-০, ক্লার্কসন ৩-০-১৯-০, লেনক্স ১০-০-৫০-২, ফক্সক্রফট ৬-০-৩৫-১)
নিউ জিল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (নিকোলস ৪, কেলি ৫৯, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, আব্বাস ২৫, ফক্সক্রফট ৭৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও'রোক ১, লিস্টার ২; শরিফুল ৭-০-১৯-১, মোস্তাফিজ ৯-২-৪৩-৫, নাহিদ ১০-১-৩৭-২, তানভির ১০-০-৭০-০, মিরাজ ৮.৫-০-৩৬-২)
ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত
ম্যান অব দা সিরিজ: নাহিদ রানা