১৪ মার্চ ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম

সালমান আগার রান আউট নিয়ে বেশ সরব হয়ে উঠেছে ক্রিকেটাঙ্গন। এমনকি শুধু ক্রিকেটই নয় পাকিস্তানি ব্যাটারের বিতর্কিত এই রান আউট হইচই ফেলে দিয়েছে ক্রিকেটের বাইরের দুনিয়াতেও।
সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেট সমর্থকরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগার রান আউটের আলোচিত এই ঘটনা নিয়ে একটা পক্ষ আবার রসিকতা করার সুযোগও হাতছাড়া করছেন না। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ আবার এককাঠি সরেস।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে, পিন্ডি পুলিশ ম্যাচের একটি মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে বলেছে,
‘রাস্তা হোক বা খেলার মাঠ, নিরাপদ থাকতে হলে অন্যের ওপর কম, নিজের ওপর বেশি ভরসা করুন! আপনার নিজ দায়িত্ব এবং সতর্ক আচরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ম্যাচের ৩৯তম ওভারে মিরাজের বলটি সামনে খেলেন স্ট্রাইকের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। বল আসে মিরাজের দিকে, তিনি সেটি পা দিয়ে আটকান। এ সময় নন-স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান সালমান একটু এগিয়ে তাঁর ক্রিজের বাইরে চলে যান। বলটি মিরাজ ও সালমানের পায়ের কাছেই ছিল। সালমান বলটি মিরাজের হাতে দিতে একটু ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সালমান বল ধরার আগেই মিরাজ খুব দ্রুত বল নিয়ে স্টাম্পে মারেন এবং রানআউটের আবেদন করেন। সালমান ক্রিজের বাইরে থাকায় তৃতীয় আম্পায়ার তাঁকে আউট ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সালমান গ্লাভস-হেলমেট ছুড়ে ফেলে মাঠেই ক্ষোভ ঝাড়েন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ অধিনায়কের খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়েও। যদিও বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে সালমান ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ী তিনি রানআউট।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, শুধু অন্যের ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, তা কেবল খেলা নয়, দৈনন্দিন জীবনেও জরুরি। এই বার্তা ড্রাইভিং লেসনের মতোই—ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, চারপাশে সচেতন থাকুন এবং নিজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। পুলিশ জানাচ্ছে, এই মনোভাব আপনাকে এবং অন্যকে নিরাপদ রাখে।
বিতর্কিত ওই রানআউটের পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে শাস্তিও পান পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আগা। গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারায় পাকিস্তানি ব্যাটারকে তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।
No posts available.

৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) থেকে সুপার লিগ ও রেলিগেশন বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের লিগ সিঙ্গেল-লিগ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে।
মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামসহ ছয় ভেন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১১ জুন। লিগ কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসরে মোট ৬৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অপ্রত্যাশিত বাধার ক্ষেত্রে ম্যাচ সম্পন্ন করা নিশ্চিত করতে রিজার্ভ ডে রাখা হবে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটিকে চ্যাম্পিয়ন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটিকে রানার্স-আপ ঘোষণা করা হবে। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দুটি দল ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অবনমিত হবে।
লিগে অংশগ্রহণকারী ১২টি ক্লাব হলো শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে বাংলাদেশ দল। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচ।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ফলে তৃতীয় ম্যাচ হয়ে উঠেছে অঘোষিত ফাইনাল। এই ম্যাচ জয়ে রাঙাতে পারলে সিরিজ হবে লিটন দাসদের। আর কিউইরা হারলে পড়তে হবে হোয়াইটওয়াশড লজ্জায়।
বাংলাদেশ দল: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, মোহাম্মদ সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, সাইফ উদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

বার্ষিক র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। পুরুষদের টেস্ট এবং নারীদের ওয়ানডে—উভয় ফরম্যাটেই শীর্ষস্থান দাপট ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানকে টপকে নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে টেস্টে অপরিবর্তিত নাজমুল হোসেন শান্তদের অবস্থান।
র্যাঙ্কিংয়ের এই নতুন হিসাবে ২০২৫ সালের মে থেকে খেলা সব ম্যাচের ফলাফলকে শতভাগ এবং এর আগের দুই বছরের ফলাফলকে ৫০ শতাংশ হিসেব করা হয়েছে। নতুন এই সমীকরণে পুরুষদের টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে নারীদের ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের চেয়ে ৩৫ পয়েন্ট বেশি নিয়ে চূড়ায় অবস্থান করছে অজিরা।
পুরুষদের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ৩ রেটিং পয়েন্ট যোগ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ এখন ১৩১ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১১৯। বড় পরিবর্তন এসেছে পরের অবস্থানগুলোতে; ৭ রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে চারে স্থানে নেমে গেছে ইংল্যান্ড (১০২)। তাদের টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত (১০৪)। মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের ঠিক পরেই (পঞ্চম স্থানে) অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড।
লাল বলের ক্রিকেটে র্যাঙ্কিংয়ে বড় এক লাফ দিয়েছে পাকিস্তান (৮৯)। শ্রীলঙ্কাকে (৮৬) টপকে তারা এখন ষষ্ঠ অবস্থানে। ইংল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হারের হিসাব বাদ পড়া এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারের গুরুত্ব অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়েনি পাকিস্তানের।
নির্দিষ্ট সময়ে ন্যূনতম ৮টি ম্যাচ না খেলায় র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে আয়ারল্যান্ড। র্যাঙ্কিংয়ে পুনরায় ফিরতে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান—উভয় দলকেই আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত আরও দুটি করে টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে।
নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়টি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অস্ট্রেলিয়ার রেটিং ৪ পয়েন্ট কমলেও ১৬৩ রেটিং নিয়ে তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ১ থেকে ৪ পয়েন্টে বাড়িয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড; ১২৮ রেটিং নিয়ে তারা আছে দ্বিতীয় স্থানে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে আছে ভারত (১২৪), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) ও শ্রীলঙ্কা (৮৯)।
আইসিসির বার্ষিক এই হালনাগাদে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৬ পয়েন্ট পাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের ব্যবধান ১৩ থেকে কমে চারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে টপকে নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
গত তিন বছরে ন্যূনতম ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ না খেলায় থাইল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস আপাতত র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে। র্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে থাইল্যান্ডের একটি এবং নেদারল্যান্ডসের দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে হবে।
আইসিসি আগামী ৫ মে পুরুষ ও নারী দলের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং এবং ৭ মে পুরুষ ওয়ানডে দলের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করবে।

ক্রিকেটে এখন প্রথাগত শটের চেয়ে ইমপ্রোভাইজড বা উদ্ভাবনী শটের কদরই বেশি। আর এই শিল্পকে নিজেকে যেন অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন শামীম হোসেন। মাঠের চারদিকে উদ্ভাবনী শট খেলা এই ব্যাটার এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ওই ‘নো লুক শট’ তো রীতিমতো ভাইরাল। তবে ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন—কী নাম এই শটের?
মজার বিষয় হলো, যে শট দিয়ে নেটিজেনদের ঘুম কেড়েছেন, সেই শটের নাম খোদ শামীম নিজেও জানেন না! শটটা খেললেন তিনি, ভাইরালও হলো তার নামেই—কিন্তু সেই শটকে কী বলে ডাকবেন, তা নিয়ে খোদ দ্বিধায় আছেন শামীম।
তৃতীয় টি–টুয়েন্টির আগের দিন আজ সংবাদ সম্মেলনে আসার পরও তাঁর কাছে প্রশ্ন, ওই শটটার কি কোনো নাম আছে, থাকলেও শামীম কি তা জানেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে শটটার নাম আমি জানি না। আর এটা আমি সব সময় নেটে অনুশীলন করি। কারণ, যখন ব্যাটিংয়ে নামি, ইমপ্রোভাইজ শট খেলতে খুব পছন্দ করি।’
সোমবার চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ১৮২ রান তাড়ায় ২ ওভার হাতে রেখেই জয় পায় লিটন কুমার দাসের দল। যেখানে বড় কৃতিত্ব শামীম পাটোয়ারীর।
দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে উইকেটের চারপাশে নানা ধরণের শট খেলে ১৩ বলে ৩১ রান করেন শামীম। হৃদয়কে নিয়ে ২১ বলে ৪৯ রান যোগ করে নিশ্চিত করেন দলের জয়। ক্রিজে গিয়ে তৃতীয় বলেই ওই শট খেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। যেটিকে আসলে পুল-হুক-স্কুপের মাঝামাঝি কিছু বলা যায়। চোখের পলকে কিপারের পেছন দিয়ে সেটি ছক্কা হয়ে যায়।
বৈচিত্র্যময় সব শট খেলতে পটু শামীম ব্যাটিংয়ে নামলেই টার্গেট করেন প্রতিপক্ষের ফিল্ডিং সাজানোর ফাঁকফোকরকে, ‘আমার মূল চিন্তাধারা হলো—আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, তখন ফিল্ডিং সাজানোটা একটু অন্যরকম থাকে। সেই সুযোগটা কাজে লাগানোই আমার লক্ষ্য, আর এটাই আমার সুবিধা।’
অলরাউন্ডার হিসেবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করা শামীমকে বোলিংয়ে খুব একটা দেখা যায় না। ম্যাচে বল হাতে শামীমকে কেন দেখা যায় না—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘না, তেমন কিছু না। অধিনায়ক আমাকে সবসময়ই বল করার কথা বলেন। শুধু মাঝেসাঝে সালাউদ্দিন স্যার বল করতে দেন না। তবে অধিনায়ক আমাকে সবসময়ই বোলিং করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।’
দীর্ঘ সময় যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট বাংলাদেশের কাছে এক অমীমাংসিত ধাঁধা হয়ে ছিল, ক্রিকেটের এই সংস্করণেই এখন নিয়মিত সাফল্য আসছে। গত বছর সিরিজ জয় এসেছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ভেসে যাওয়ার পর মিরপুরে এবার শেষ ম্যাচ জিতলেই আরও একটি সিরিজ জয়ের উৎসব করবে বাংলাদেশ।
সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শামীম বলেন, ‘গত বছর আমরা অনেকগুলো টি–টুয়েন্টি সিরিজ জিততে পেরেছি। এটা আসলে আমাদের দলের মধ্যে ভালো একটা বন্ডিং তৈরি করেছে। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বকাপটা মিস করে ফেলেছি। এটা তো কিছু করার নাই। তা–ও আমরা অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত ছিলাম।’

বড় এক হোঁচটই খেল নিউ জিল্যান্ড। ‘ব্ল্যাক ক্যাপসদের’ টেস্ট অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার অন্তত এক মাসের জন্য ছিটকে গেলেন। স্ক্যান রিপোর্টে ‘গ্রেড থ্রি এসিএল’ ইনজুরি ধরা পড়েছে তার কাঁধে।
স্যান্টনার এবারের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলছিলেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসেন এবং শুক্রবার সকালে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখান। এরপর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) নিশ্চিত করেছে, তাকে অন্তত এক মাস বিশ্রাম ও পুনর্বাসনে থাকতে হবে।
গত ২৩ এপ্রিল চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ফিল্ডিং করার সময় স্যান্টনার তাঁর বাম কাঁধে চোট পান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ব্যক্তিগত কারণে ম্যানেজমেন্টের কাছে বাড়তি ছুটি নেওয়ায় দেরিতে মুম্বাই শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৪৪ রানে ১ উইকেট নিলেও পরে আর ব্যাটিং করতে নামেননি, তার বদলে শার্দুল ঠাকুর মাঠে নামেন।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই ইনজুরির কারণে স্যান্টনার মে মাসের শেষে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট এবং জুনের শুরুতে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে কি না, তা পরে জানানো হবে।’
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করবে নিউ জিল্যান্ড। আইপিএলে ব্যস্ত থাকার কারণে স্যান্টনার নিউজিল্যান্ডের চলমান বাংলাদেশ সফর থেকেও বিরতি নিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের আইপিএল নিলামে ২ কোটি রুপিতে স্যান্টনারকে দলে নিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং এ বছরও তাকে ধরে রাখা হয়। গত মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ৭.৯২ ইকোনমি রেটে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তার নেতৃত্বেই নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায়। বিশ্বকাপে ১৪২.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১২০ রান করার পাশাপাশি ২ উইকেট শিকার করেন। এ বছর মুম্বাইয়ের হয়ে ২ ইনিংসে ২৬ রান করার পাশাপাশি ৮.৯২ ইকোনমি রেটে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
মে-জুনে চারটি টেস্ট মিস করলেও ধারণা করা হচ্ছে, জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে আবারও নিউজিল্যান্ড দলে ফিরবেন স্যান্টনার।