৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম

ফাইনালে উঠলে শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে- এমনই ছিল আকবর আলিদের জন্য সমীকরণ। কিন্তু বড় ব্যবধান তো নয়ই, জিততেও পারেনি দুরন্ত একাদশ। তাদের উড়িয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠল নাজমুল হাসান শান্তর দুর্বার একাদশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সন্ধ্যায় অদম্য কাপে দুরন্ত একাদশকে ৭ উইকেটে হারায় দুর্বার একাদশ। ১৪৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ১৭.৩ ওভারের বেশি লাগেনি হাবিবুর রহমান সোহান, মাহমুদুল হাসান জয়দের।
দুর্বারের জয়ে নিশ্চিত হয়েছে ফাইনালিস্ট দুই দল। দুই ম্যাচের দুইটিই জেতা দুর্বার খেলবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ উদ্বোধনী ম্যাচে দুরন্তকে হারানো ধুমকেতু একাদশ। তারা জিতেছে এক ম্যাচ। আর কোনো ম্যাচ না জিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করল দুরন্ত একাদশ।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি দুরন্ত। প্রথম চার ব্যাটারের সবাই হতাশ করেন। ৮ রান করতে ২২ বল খেলেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। জিসান আলম (০), জাওয়াদ আবরার (৬), আজিজুল হাকিম তামিমও (৬) অল্পে আউট হন।
পরে আরিফুল ইসলাম ও এসএম মেহেরব হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় আকবর আলির দল। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩২ বলে ৪১ রান করেন আরিফুল। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৩ বলে ৩৬ রান করেন মেহেরব। আকবরের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৩ রান।
শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ৯ বলে ১৮ রান করলে দেড়শর কাছে যায় দুরন্ত একাদশ।
৪ ওভারে ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচ করে নেন ১ উইকেট।
রান তাড়ায় শুরুতেই ঝড় তোলেন হাবিবুর রহমান সোহান। পাওয়ার প্লেতে তাণ্ডব চালিয়ে ১ চারের সঙ্গে ৫টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ১৭ বলে তিনি করেন ৩৯ রান। এরপর দ্রুতই ফিরে যান শান্ত (৯ বলে ৫)।
তবে দলের জয়ে কোনো বাধা আসতে দেননি মাহমুদুল হাসান জয় ও নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ৬৮ রানের জুটিতে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যায় দুর্বারের। দলের জয়ের খুব কাছে গিয়ে ৫১ বলে ৫৮ রান করে আউট হন জয়।
পরে নুরুল হাসান সোহান ২৮ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ১১ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
চমৎকার বোলিং করে ৩ উইকেট নেন সাকলাইন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দুরন্ত একাদশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৫ (রবিন ৮, জিসান ০, জাওয়াদ ৬, তামিম ০, আরিফুল ৪১, মেহেরব ৩৬, আকবর ১৩, অঙ্কন ১০*, সাকলাইন ১৮, রকিবুল ৫, রিপন ১; হাসান ৩.৫-১-২৭-২, খালেদ ৪-০-২৩-৪, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, আলিস ৪-০-১৪-১, তানভির ২-০-২৩-০, মিরাজ ২-০-২৪-০)
দুর্বার একাদশ: ১৭.৩ ওভারে ১৪৯/৩ (জয় ৫৮, হাবিবুর ৩৯, শান্ত ৫, নুরুল ২৮*, আফিফ ১১*; নাহিদ ৩-০-৩৫-০, রিপন ২-০-৩১-০, ইমন ১-০-১৭-০, রকিবুল ৪-০-১৭-০, সাকলাইন ৩.৩-০-২৩-৩, মেহেরব ৩-০-১৯-০, তামিম ১-০-৭-০)
ফল: দুর্বার একাদশ ৭ উইকেটে জয়ী
No posts available.
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম

নতুন স্পেলে বোলিংয়ে ফিরে দ্বিতীয় বলেই রিচি বেরিংটনকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙলেন জেসন হোল্ডার। একইসঙ্গে পূর্ণ করলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একশ উইকেট আর বসে গেলেন সাকিব আল হাসান, লাসিথ মালিঙ্গাদের পাশে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের একশ উইকেট পূর্ণ করেছেন হোল্ডার। এদিন ৩০ রানে তার শিকার ৩টি উইকেট। ১৪তম ওভারে তার শততম শিকার হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন বেরিংটন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একশ উইকেট নেওয়ার আগেই টেস্ট ও ওয়ানডেতে উইকেটের সেঞ্চুরি করেছেন হোল্ডার। ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই একশ উইকেট নেওয়া বিশ্বের ষষ্ঠ বোলার ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার।
হোল্ডারের আগে তিন সংস্করণেই একশ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা, টিম সাউদি, সাকিব আল হাসান, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
প্রায় ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৬৯ টেস্টে ১৬২ উইকেট, ১৩৮ ওয়ানডেতে ১৫৯ উইকেট ও ৮৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০১টি উইকেট নিয়েছেন হোল্ডার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ডের শুরুটা হলো হার দিয়ে। ইডেন গার্ডেনে এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে নিরাপত্তাজনীত কারণে ভারতে খেলতে রাজি না হওয়া বাংলাদেশের পরিবর্তে হঠাৎ বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যাওয়া স্কটিশরা আজ ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে নুন্যতম লড়াইও করতে পারেনি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্কটল্যান্ড হেরেছে ৩৫ রানে। শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা উইন্ডিজরা শিমরন হেটমায়ারের ৩৬ বলে ৬৪ রানের বিধংসী ইনিংসে ২০ ওভাররে পাঁচ উইকেটে ১৮২ রান তোলে। এরপর পাঁচ উইকেট নেওয়া রোমারিও শেফার্ডের তোপে ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় স্কটল্যান্ড।
রান তাড়ায় ১৬ ওভার শেষেও জয়ের আশা কিছুটা টিকে ছিল স্কটল্যান্ডের। ২৪ বলে তাদের লাগতো ৫১ রান। তবে ১৭তম ওভারে অনেকটা একাই ম্যাচ করে দেন শেফার্ড। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক আসে ডানহাতি পেসারের নৈপুণ্যে। নিজের তৃতীয় ওভারে একে একে চার স্কটিশ ব্যাটারকে ফেরান তিনি।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় সর্বোচ্চ ২৪ বলে ৪২ করেন স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। ৩৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলা দলের হাল ধরেছিলেন তিনি। টম ব্রুসকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রানের জুটি। তাদের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ বলে ৩৫ করেন ব্রুস।
শেফার্ডের পাঁচ উইকেটের সঙ্গে তিনটি উইকেট নেন জেসন হোল্ডার। অবশ্য ম্যাচ সেরা হন বিধংসী ফিফটি করা হেটমায়ার।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল শম্বুক গতির। ক্যারিয়দের ইনিংসকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করা যেতে পারে। ১০ ওভারের প্রথমাংশ ছিল শম্বুক গতির। আর পরের ১০ ওভারে রান উঠেছে মুড়িমুড়কির মতো। ইনিংসের অর্ধেক ওভার পর ক্যারিবিয়দের সংগ্রহ দাড়ায় ৬৬/২। ব্র্যান্ডন কিং-শাই হোপের ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি শেষ হয় ২২ বলে ১৯ করা অধিনায়ক হোপ ফিরলে। স্কোরবোর্ডে ৪ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফিরেন আরেক ওপেনার কিংও। ৩১ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার করেন ৩০ বলে ৩৫।
এরপরই শুরু শিমরন হেটমায়ার ঝড়। স্কটিশ বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান এই ব্যাটার। ফিফটি তুলতে হাঁকিয়েছেন ছয়টি ছক্কা, একটি চার। ২২ বলে ফিফটি করে গড়েন রেকর্ড। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড এখন ২৯ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটারের। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৬৪ করে আউট হন হেটমায়ার। তৃতীয় উইকেটে রোভমান পাওয়েলের সঙ্গে তাঁর ৩৭ বলে ৮২ রানের জুটি বড় রানের ভিত গড়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
শেষদিকে শেরফেন রাদারফোর্ড খেলেন ১৩ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস। ১৪ বলে ২৪ করেন রোভমান পাওয়েল।
বল হাতে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়া ব্র্যাড কুরি স্কটল্যান্ডের সফলতম বোলার। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন সাফিয়ান শরিফ। ডানহাতি পেসারের চার ওভার থেকে ৪৬ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
‘সি’ গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরের ম্যাচ বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হবে ইতালির।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই আলো ছড়ালেন রোমারিও শেফার্ড। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার চমৎকার বোলিংয়ে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ক্যারিবিয়ানরা।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শনিবার বিকেলে স্কটিশদের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের ১৭তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেছেন শেফার্ড। সব কিছু ঠিক থাকলে ম্যাচটি খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে নানান ঘটনাপ্রবাহে তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের শিকার স্কটল্যান্ড।
১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াইড ইয়র্কার ডেলিভারিতে ম্যাট ক্রসকে ক্যাচ আউট করেন শেফার্ড। পরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন মাইকেল লিস্ক। আর হ্যাটট্রিক বলে ওলিভার ডেভিডসনকে বোল্ড করে দেন শেফার্ড।
ওই ওভারে শেষ বলে সাফিয়ান শরিফকেও ফেরান ৩১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। পাঁচ বলে চার উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্ণ হয় শেফার্ডের ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে ২০ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শেফার্ডের এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে শেফার্ডের এটি দশম হ্যাটট্রিক। ৯ জন বোলার মিলে করেছেন এই ১০টি হ্যাটট্রিক। প্যাট কামিন্সের একা রয়েছে জোড়া হ্যাটট্রিকের কীর্তি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একাধিক হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ বোলার শেফার্ড। তার আগে লাসিথ মালিঙ্গা, টিম সাউদি ও কামিন্সের আছে একাধিক হ্যাটট্রিক।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে পাকিস্তান। শেষ দুই ওভারে অসম্ভব মনে হওয়া সমীকরণ উল্টে দিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফাহিম আশরাফ। তাতে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন ফাহিম ও পাকিস্তান।
ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত আসে ১৯তম ওভারে। সেই ওভারে ফাহিম আশরাফ একাই করেন ২৪ রান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ওভারে কোনো পাকিস্তানি ব্যাটারের করা সর্বোচ্চ রানের যৌথ রেকর্ড এটি। চাপের মধ্যে এমন বিধ্বংসী ব্যাটিং পাকিস্তানের জয়ের পথ খুলে দেয়।
শেষ ১২ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগে কখনো শেষ দুই ওভারে এত রান তুলে জয় পায়নি পাকিস্তান। সেই দিক থেকেও ম্যাচটি হয়ে থাকে ঐতিহাসিক। কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত মাথায় ব্যাটিং করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ফাহিম।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও রেকর্ডে নাম লেখান ফাহিম। আট নম্বর বা তার নিচে নেমে ব্যাট করতে আসা কোনো ব্যাটসম্যানের মধ্যে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রান তাড়ায় ফাহিমের ইনিংসটি এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ। নিচের সারিতে নেমে এমন কার্যকর ইনিংস বিশ্বকাপের মঞ্চে বিরলই বলা যায়।
ফিল্ডিংয়েও ছিল পাকিস্তানের দাপট। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে পাকিস্তান নেয় ৯টি ক্যাচ। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে পাকিস্তানের নেওয়া সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড এটি। ধারাবাহিক ক্যাচ নেওয়ার ফলে প্রতিপক্ষের ইনিংস চাপে পড়ে এবং ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ পায় পাকিস্তান।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই জয় শুধু পয়েন্ট টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ নয়, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও বড় প্রাপ্তি পাকিস্তানের জন্য। সহজ জয়ের ইঙ্গিত দিয়ে মাঝে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে নেদারল্যান্ডস। শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ২৯ রান, নেই সাত উইকেট। ব্যাটিংয়ে লেজের শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ।
বড় টুর্নামেন্টে ডাচদের জায়ান্ট কিলিংয়ের ভালো অভ্যাসও রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল বলে কথা। সহজ ম্যাচ হেরে যাওয়া কিংবা কঠিন ম্যাচ সহজে জেতা—পুরোনো বদ অভ্যাস তাদের! সেই দৃশ্য আবারও রোমন্থন। ফাহিমের তাণ্ডবে ৩ বল বাকি থাকতেই কঠিন ম্যাচটা ৩ উইকেটে জিতে নিল পাকিস্তান!
ধ্বংসস্তুপ থেকে পাকিস্তানকে টেনে তোলেন ৮ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা ফাহিম। ১১ বলে ২৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন তিনি।

আইসিসির টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি অঘটনের জন্ম দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আরও একবার চমক উপহার দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল ডাচরা। পাকিস্তানকে প্রায় বাগে পেয়েও শেষ পর্যন্ত জয়বঞ্চিত হয়েছে তারা। এমন হার হজম কঠিনই। তাই তো ম্যাচ শেষে নেদারল্যান্ডে পেসার পল ফন মিকেরেন কাছে মনে হয়েছে, পাকিস্তান জেতেনি বরং তারাই হেরেছে।
শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসকে ১৪৭ রানে আটকে রান তাড়ায় একটা সময় পাকিস্তানের লাগত ৯ ওভারে ৫০, হাতে ৮ উইকেট। বাবর আজম ও সাহিবজাদা ফারহানের মতো ব্যাটার উইকেটে থাকায় হেসেখেলে জয় পাওয়ার কথা পাকিস্তানের। তবে দলটা যে পাকিস্তান। একপর্যায়ে অননুমেয় দলটির শেষ ২ ওভারে লাগতো ২৯ রান। হাতে মাত্র ৩ উইকেট। ক্রিজে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ।
ম্যাচ প্রায় মুঠোবন্দি নেদারল্যান্ডের। শেষ পর্যন্ত কলম্বোতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৪৭ রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জিতেছে সালমান আলী আগার দল। ৭ রানে জীবন পাওয়ার পর মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ফাহিম আশরাফ।
জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার হতাশ ফন মিকেরেন। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ফাস্ট বোলার বলেন,
‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আজ পাকিস্তান ম্যাচটি জেতেনি, আমরা নিজেদের বিপক্ষেই হেরে গেছি। আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। বিশ্বকাপের এমন ম্যাচগুলো খুব সূক্ষ্ম ব্যবধানে নির্ধারিত হয়, কখনো একটি বলই পার্থক্য গড়ে দেয়। এই মুহূর্তে অনুভূতিটা অবশ্যই খুব হতাশার।’
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নেদারল্যান্ডস ১২.১ ওভারেই ১০০ রান তোলে। তবে এরপর খেই হারায় তারা। জয়ের জন্য যথেষ্ট রান তুলতে না পেরেও দলের লড়াই করার মানসিকতায় মুগ্ধ ফন মিকেরেন,
‘আমি ছেলেদের নিয়ে খুব গর্বিত। হয়তো আমরা স্কোরবোর্ডে চাওয়া অনুযায়ী রান তুলতে পারিনি, কিন্তু পাকিস্তানের দারুণ শুরুর পর যেভাবে আমরা ম্যাচে ফিরে এসেছি, তা দেখায় দলের মধ্যে আমরা যে সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি—এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।’
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পরের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। মঙ্গলবার একই ভেন্যুতেই গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলবে আগার দল। আর দিল্লিতে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া।